বরিশালে যাত্রী বাহী বাস থেকে জাটকা উদ্ধার

শান্ত ইসলাম, বরিশাল ব্যুরোঃ গত কাল বেলা ১০:৩০ এর দিকে বিভাগীয় কমিশনার এর কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি যাত্রী বাহী বাস থেকে বিপুল পরিমাণ জাটকা আটক করা হয়েছে। এন এস আই এর তথ্যের ভিত্তিতে ও তাদের মাধ্যমে যাত্রী বাহী বাসে এই অবৈধ মাছ তোলার সময় আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়। পরে বরিশাল সদর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা দের খবর দিলে তারা ধ্রুত ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে মাজিস্ট্রেট এর মাধ্যমে বরিশালের বিভিন্ন এতিম খানায় ও বৃদ্ধাশ্রম এ এ সকল জাটকা বিতরন করা হয়।
জাটকা নিধন সারা বছর ব্যাপী নিষিদ্ধ। কিন্তু অসাধু জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা মিলে একটি শক্ত সিন্ডিকেট তৈরি করে সারা দেশে এসকল জাটকা মাস স্বীকার করে ছড়িয়ে দিচ্ছে রাজধানী সহ বিভিন্ন জেলায়।
বরিশাল সদর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা জনাব জামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন জেলেরা সচেতন না হলে কোনো ক্রমেই এই জাটকা নিধন বন্ধ করা সম্ভব না। তাছাড়া জনগনের ও সচেতন ভাবে সহযোগিতা করা দরকার। তারা যদি জাটকা না কিনে তাহলেই জাটকা মাছ স্বীকার বন্ধ হতে পারে বলে মনে করেন।



আসন্ন নির্বাচনে ভোটার সচেতনতা বাড়াতে লালমনিরহাটে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে লালমনিরহাটে জেলা ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জেলা মডেল মসজিদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান।
ইসলামী ফাউন্ডেশন লালমনিরহাটের উপ-পরিচালক রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ফাউন্ডেশনের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মোঃ আব্দুল হামিদ খান এবং ইসলামী ফাউন্ডেশন রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোস্তফা মনসুর আলম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমামগণ।
সম্মেলনে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং আদিতমারী মারকাজুল কুরআন মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জয়নুল আবেদীন।
বক্তারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের নৈতিক দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটাধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে ইমাম ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ইসলামী ফাউন্ডেশন লালমনিরহাটের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতে যোগ দিলেন মৎস্যজীবী দল নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পটুয়াখালীর বাউফলে এক কলস দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দল নেতা মো. জালাল হাওলাদার। তিনি বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সহ-সভাপতি ছিলেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোশারফ হোসেন লিটন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পটুয়াখালী-২ আসনে দশ দলীয় ঐক্য জোটের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদের উঠান বৈঠকে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন তিনি।

যোগদান অনুষ্ঠানে মো. জালাল হাওলাদার বলেন, দলের নেতাদের অবহেলা ও মানসিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর দলের দুর্দিনে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। ভেবেছিলাম এখন একজন অভিভাবক পাব, যার আশ্রয়ে রাজনীতি করব। কিন্তু যাকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি সে ধরনের অভিভাবক নন। তিনি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে ব্যস্ত। আমাদের খোঁজখবর নেন না, বরং যারা বিগত ১৭ বছর আমাদের ওপর হামলা-মামলা ও নির্যাতন চালিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেই চলাফেরা করছেন। এ কারণেই আমি জামায়াতে যোগ দিয়েছি। আগামী দিনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করব।”

এ সময় বগা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য আবুল কালাম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য এস এম আমিনুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল খান, বগা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক শরীফসহ প্রায় তিন শতাধিক বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থক জামায়াতে যোগ দেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-২ আসনের দশ দলীয় জোটের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি নবাগতদের হাতে উপহার হিসেবে জমজম কূপের পানি ও সৌদি আরবের খেজুর তুলে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. তসলিম তালুকদার বলেন, কেউ যদি দলীয় পদ-পদবীতে থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




ঐতিহ্যবাহী গুনিয়াউক দরবার শরীফের বার্ষিক ওরশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুনিয়াউক দরবার শরীফের বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জানা যায় প্রতিবছরের ন্যায় এবার ও ৩ দিন ব্যাপী এ ওরশ মোবারক চলমান থাকবে।

দরবার শরীফের পীরসাহেব শাহ সৈয়দ আব্দুল আওয়াল বুলবুল চিশতী আল ক্বাদেরী বলেন ২৯/৩০/৩১ জানুয়ারি ২৬ ইং ১৫/১৬/১৭ মাঘ ১৪৩২ বাংলা রোজ বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার ধারাবাহিক ভাবে ওরশের কার্যক্রম চলবে।

উল্লেখ্য যে সৈয়দ আব্দুস সামাদ চিশতী (র:) এবং উনার বড় সাহেবজাদা শাহ সুফি সৈয়দ আবুল কালাম বাবুল চিশতী আল হোসািনী (র:) এর বংশধরেরা আশেকান মুরিদানদের বিভিন্ন তালিমের মাধ্যমে দেশবরেণ্য উলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে দুনিয়া ও আখেরাতের সওয়াব হাসিলের জন্য মুলত এ ওরশ মোবারক পরিচালনা করে আসছেন।
হাজার হাজার আশেকান মুরিদান এমন কি নওমুসলিমরা ও দল মত নির্বিশেষে এ ওরশ মোবারকে অংশ গ্রহণ করে বলে জনশ্রুতি আছে।

৩ দিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠানে ধারাবাহিক ভাবে প্রথম দিন সৈয়দ আব্দুল মুকিত বকুল সাহেব দ্বিতীয় দিন সৈয়দ সাদী চিশতী আল হোসাইনী সাহেব এবং তৃতীয় ও সমাপনী দিন সৈয়দ আব্দুল আওয়াল বুলবুল চিশতী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন বলে ওরশ কমিটির সভাপতি প্রতিবেদককে জানান।

বিশ্ব মুসলিমের ক্রান্তিলগ্নে মুসলিম উম্মাহর দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি ও বিশ্বশান্তির জন্য বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে ওরশের সমাপ্তি হবে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেন৷




ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহত্তর টঙ্গী প্রেস ক্লাবের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে

মোঃলিমন হোসেন: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহত্তর টঙ্গী প্রেস ক্লাবের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। টঙ্গী পূর্ব থানা রোডস্থ ক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পূর্ব মেট্রো থানা বিএনপির সভাপতি জনাব সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন। প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন টঙ্গী পূর্ব মেট্রো থানা যুবদলের আহ্বায়ক জনাব আকবর হোসেন ফারুক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম সাথী, ও আলোর মিছিল শিক্ষা পরিবারের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আখতার হোসেন, সভাপতিত্ব করেন, বৃহত্তর টঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর মোল্লা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সহ-সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ আল-হাতেম এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বৃহত্তর টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ তরিকুল ইসলাম তারেক।



টাঙ্গাইলে পোড়াবাড়ীতে কৃষক দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়া ও মাহমুদুল হাসানের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া

মুক্তার হাসান, টাঙ্গাইল: বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক আপসহীন দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার ও সাবেক মন্ত্রী মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মাহমুদুল হাসানের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের পোড়াবাড়ী বাজারে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

 

দোয়া মাহফিলে সদর উপজেলা কৃষক দলের সদস্য রমজান আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব শামিমুর রহমান খান শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক এসএম কাউসার আহমেদ, সচিব সদস্য সচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রফিক প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা কৃষকদলের সদস্য নজরুল ইসলাম, মনির হোসেন ও আব্দুল্লাহ আজিজ মণ্ডল।

 

মিলাদ মাহফিল শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের ধানের শীষের কান্ডারী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর জন্য ভোট প্রার্থনা করা হয়। আগামী ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ধানের শেষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দরা।



ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীরব ভোটারই নির্ধারণ করবে লালমনিরহাট-০২ এর ভাগ্য

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-০২ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা ক্রমেই তুঙ্গে উঠছে।

তিস্তা পাড়ের মানুষের কাছে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অনুপস্থিত থাকায় শূন্য হয়ে পড়া ভোট ব্যাংক দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিভিন্ন দল।

এ পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ও নতুন রাজনৈতিক দল জনতার দলসহ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক নিজেদের দিকে টানতে কৌশলগত প্রচারণা চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একাধিক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় নেতাকে দলে টানার মাধ্যমে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তার বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

ফলে লালমনিরহাট-০২ আসনে এবারের নির্বাচনী ফলাফল অতীতের সব হিসাব-নিকাশ বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আসনের পরিচিতি:

লালমনিরহাট-০২ সংসদীয় আসনটি কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে ১৬টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৭৯ জন। দীর্ঘদিন এ আসনটি জাতীয় পার্টির প্রার্থী মজিবুর রহমান মাস্টারের দখলে ছিল।

২০১৪ সাল থেকে মহাজোট প্রার্থী নুরুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী রোকনুদ্দিন বাবুল ধানের শীষ প্রতীকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন। স্বাধীনতার পর একবার বিএনপি এই আসনে বিজয়ী হলেও এরপর আর জয় পায়নি।

ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

এবারের নির্বাচনে লালমনিরহাট-০২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রোকনুজ্জামান বাবুলকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শরিক জামায়াতে ইসলামীর শক্ত প্রার্থী ফিরোজ হায়দার লাভলু এবং নতুন রাজনৈতিক দল জনতার দলের চেয়ারম্যান, সাবেক সাতবারের এমপি মজিবুর রহমান মাস্টারের পুত্র ব্রিগেডিয়ার (অব.) শামীম কামালকে।

তবে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় দলের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে বিরোধিতার ঘোষণা দিয়েছে, যা বাবুলের বিজয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

জামায়াত প্রার্থীর জনপ্রিয়তা:

জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ফিরোজ হায়দার লাভলু এলাকায় সুপরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। বন্যা-খরা, বিয়ে, জানাজা ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি, এতিম ও অসহায় শিশুদের পড়ালেখার খরচ বহন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

দিনরাত গণসংযোগে ব্যস্ত এই প্রার্থীর বিজয়ের ব্যাপারে তার সমর্থকরা আশাবাদী।

জনতার দলের হিসাব:

সাবেক এমপি মজিবুর রহমান মাস্টারের দ্বিতীয় পুত্র, নবগঠিত রাজনৈতিক দল জনতার দলের প্রধান ব্রিগেডিয়ার শামীম কামাল রাজনীতিতে নতুন হলেও পিতার দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে পুঁজি করে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার ভোট, জাতীয় পার্টির ভোট এবং সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক নিজের দিকে টানতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। সব সমীকরণ অনুকূলে এলে তিনি বিজয়ের পথে এগিয়ে থাকবেন বলে তার সমর্থকদের ধারণা।

অন্যান্য প্রার্থী এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মাহফুজুর রহমানও নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে লালমনিরহাট-০২ আসনে এবারের নির্বাচন যে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও চমকপ্রদ হতে যাচ্ছে, তা বলাই যায়।




ভূমিকম্প ছাড়াই ধসে পড়ার ঝুকিতে নোয়াখালী জেলা কারাগার- ৮ বছর কেটে গেলেও এখনো ডিজাইন ই ফাইনাল হয়নি। সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিবের হস্তক্ষেপের পরেও নেয়া হয়নি কার্যকর ব্যবস্থা। কর্তৃপক্ষ কি শত শত মানুষের প্রাণহানীর অপেক্ষায় রয়েছে- প্রশ্ন নোয়াখালীবাসীর।

এসএম বদরুল আলমঃ নোয়াখালীতে ভূমিকম্পের আতঙ্ক নতুন নয়। নতুন আতঙ্ক হচ্ছে—ভূমিকম্প ছাড়াই ধসে পড়তে পারে এমন ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। আর সেই তালিকার সবচেয়ে ভয়াবহ নাম—নোয়াখালী জেলা কারাগার। যেখানে প্রতিদিন রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকেন ৮২৩ জন বন্দি, ডিউটিতে থাকেন কারারক্ষীরা, আসেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতা—সবার মাথার ওপর ঝুলছে ভঙ্গুর ভবনের নিঃশব্দ হুমকি। দেয়ালে ফাটল, বেরিয়ে থাকা মরিচাধরা রড, ছাদ থেকে ঢালাই-সহ প্লাস্টার খসে পড়া, ভাঙা গ্রিল, ঘুণে ধরা কাঠ—এগুলো শুধু “জীর্ণ দশা” নয়; সংশ্লিষ্টদের ভাষায় এগুলো দুর্ঘটনার পূর্বাভাস। বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই কারাগারের ভেতরের প্রধান সড়ক ডুবে যায়, জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, সাক্ষাতের ঘরও জরাজীর্ণ। আর ভূমিকম্পের কম্পন ঘন ঘন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক আরও তীব্র—কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটা বড় কম্পন লাগবে কেন? ভবন কি ভূমিকম্প ছাড়াই ধসে পড়তে পারে না?

৫৩ বছরের পুরোনো কাঠামো, ভেতরে ৮২৩ বন্দি—ঝুঁকির ভেতরেই জীবন
কারাগারটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৭ সালে মাইজদি কোর্ট এলাকায়। পরে ১৯৭২ সালে বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, ৫৩ বছরে উল্লেখযোগ্য সংস্কার বা আধুনিকায়ন হয়নি। মোট জমি ৩৬ একর, পেরিমিটার ওয়ালের ভেতরে ৮.৫০ একর, বাইরে ২৭.৫০ একর। সরেজমিনে কারাগারের ভেতর-বাইরে দেখা যায় একাধিক ভবনে ফাটল, ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়া, রড বেরিয়ে থাকা। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই এখনো বন্দি ও কারারক্ষীদের বসবাস। জেল সুপার আবদুল বারেক জানিয়েছেন— বৃষ্টি হলেই পানি ভেতরে জমে যায়, বন্দিদের ফ্লোর ডুবে যায়, ঝুঁকি নিয়েই থাকতে হয় বন্দি ও কারারক্ষীদের। স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ইমাম উদ্দিন বলছেন, সাক্ষাতের জায়গাসহ সামগ্রিক অবস্থা এতটাই জীর্ণ যে সেটা চোখেই ধরা পড়ে—এ অবস্থাকে তিনি “অত্যন্ত জরাজীর্ণ” বলে উল্লেখ করেন।

ডিসেম্বর ২০২৩ ভূমিকম্পঃ বজরা ভবন ‘রেড অ্যালার্ট’—তবু থেমে যায় গতি
ডিসেম্বর ২০২৩-এর ভূমিকম্পে কারাগারের বজরা ভবনে নতুন করে বহু ফাটল তৈরি হয়। বীম, ছাদ ও লোড বেয়ারিং দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। গণপূর্ত বিভাগ দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বন্দি অন্যত্র সরানোর চিঠি দেয়। ঝুঁকি বিবেচনায় ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ ভবনের ২য় ও ৩য় তলা খালি করা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ—এত বড় সতর্ক সংকেতের পরও সামগ্রিক পুনঃনির্মাণ/ আধুনিকীকরণের কাজ আবার আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতায় আটকে পড়ে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একটা ভবন খালি করলেই কি দায় শেষ? পুরো কারাগার তো একই ঝুঁকিতে!

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পর্যবেক্ষণঃ “ভবন ভঙ্গুর, কিছু অংশ দেবে যাচ্ছে”
২৬-০৫-২০২৫ তারিখের পরিদর্শন প্রতিবেদনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উল্লেখ করেন—কারাগারের ভবনগুলো ভঙ্গুর ও ঝুঁকিপূর্ণ; কয়েকটি ভবনের একটা বড় অংশ ইতিমধ্যে মাটির নিচে দেবে যাচ্ছে বলেও দেখা গেছে। বারবার জানানো সত্ত্বেও এখনো কারাগার পুনঃনির্মাণ সংক্রান্ত দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছেনা—এ কথাও প্রতিবেদনে উঠে আসে। প্রতিবেদনটি মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব এর কাছে পাঠানো হয়। যতোদুর জানা গেছে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও এখনো কারো টনক নড়ছেনা।

জুন ২০২৫ঃ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর রিপোর্ট—“সামান্য ভূমিকম্পেও ধসে পড়ার সম্ভাবনা”
জুন ২০২৫-এ নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর পরিদর্শন প্রতিবেদনে বজরা, বেলাভূমি, সৈকতসহ কয়েকটি ভবনে দেয়াল-বীমে ফাটল, ছাদ থেকে ঢালাই খসে পড়ে রড দৃশ্যমান, ভাঙা গ্রিলে নিরাপত্তা ঝুঁকি—সবকিছু বিস্তারিত উল্লেখ করে সতর্ক করা হয়: সামান্য ভূমিকম্পে ভবনগুলো ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং যে কোনো সময় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটতে পারে। প্রতিবেদনে রেট্রোফিটিং/ বিশেষ মেরামতের সুপারিশ থাকলেও বাস্তবতা হচ্ছে—এগুলো ব্যয়বহুল, এবং নতুন কারাগার নির্মাণের আগে সাময়িক সমাধান মাত্র।

২০১৭ থেকে ২০২৫: কাগজে কাগজে ৮ বছর—ডিজাইনই ফাইনাল নয়!
নোয়াখালী জেলা কারাগার পুনঃনির্মাণ/আধুনিকীকরণ নিয়ে উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৭ সাল থেকে। ২০১৮ সালে পরিদর্শন ও নকশা চূড়ান্তকরণের কাজ হয়। ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এ গণপূর্ত অধিদপ্তর একটি খসড়া প্রাক্কলন/ প্রস্তাব তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠায়। এরপরও অভিযোগ বছরের পর বছর কেটে গেছে; কোথাও সভা, কোথাও চিঠি, কোথাও সংশোধন—কিন্তু মাঠে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এমনকি সাম্প্রতিক সভায় মাস্টারপ্লান সংশোধনের সিদ্ধান্ত, অনুমোদন-প্রতিস্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও চলেছে—তবু ডিজাইন ফাইনাল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি বলেই স্থানীয়দের অভিযোগ। নোয়াখালীবাসীর প্রশ্ন তাই আরও ধারালো—কর্তৃপক্ষ কি শত শত মানুষের প্রাণহানীর অপেক্ষায় রয়েছে? কারাগার তো শুধু ভবন নয়—এটা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, মানবিক দায়, আইন-শৃঙ্খলা—সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত।

“শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের জেলা” কারাগারকে ঘিরে আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি
নোয়াখালীতে পুরোনো/ পরিত্যক্ত ঘোষিত বহু স্থাপনা ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে—এ নিয়ে আগেও উদ্বেগ উঠেছে। কিন্তু সবচেয়ে স্পর্শকাতর অবস্থান কারাগারকে ঘিরে—কারণ এখানে মানুষ ইচ্ছেমতো বের হতে পারে না। বিপদে দ্রুত ইভাকুয়েশনও সহজ নয়। ফলে কারাগারের ঝুঁকি মানেই সম্ভাব্য ম্যাস ক্যাজুয়ালটি এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা সংকট।

এখনই করণীয়: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ভেঙে দ্রুত ডিপিপি, দ্রুত অনুমোদন
স্থানীয় নাগরিক সমাজের বক্তব্য একটাই—প্রস্তাব নয়, বাস্তব পদক্ষেপ। বিশেষ করে— প্রকল্পটি “ফাইল-ভ্রমণ” থেকে বের করে জরুরি অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে চূড়ান্ত করা, ডিজাইন চুড়ান্ত করে দ্রুত ডিপিপি প্রণয়ন সম্পন্ন করা, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সময়ক্ষেপণ না করে বিশেষ টাস্কফোর্স/ ফাস্ট ট্র্যাক ব্যবস্থা নেওয়া, ডিপিপি পাশ না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির ভবনে অস্থায়ী ঝুঁকি-নিয়ন্ত্রণ, সীমিত ব্যবহার ও জরুরি মেরামত/সাপোর্ট ব্যবস্থা, কারাগারের ভেতর-বাইরে জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক কার্যকর ড্রেনেজ ও উঁচু করণের ব্যবস্থা।

নোয়াখালী জেলা কারাগার এখন কেবল একটি পুরোনো স্থাপনা নয়, এটি এক নিঃশব্দ অ্যালার্ম। প্রতিদিন ৮২৩ বন্দির জীবন, কারারক্ষীদের নিরাপত্তা এবং একটি জেলার আইন-শৃঙ্খলার ভার এই ঝুঁকির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একটা দুর্ঘটনার পর আর কোন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হবে না। নোয়াখালীবাসীর দাবি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত ডিপিপি প্রণয়ন ও অনুমোদন, এবং পুনঃনির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে এখনই দৃশ্যমান পদক্ষেপ। কারণ— ভূমিকম্প নয়, অবহেলাই যেন সবচেয়ে বড় কম্পন।




ভূমিকম্পের ছায়া নোয়াখালীতে: পরিত্যক্ত শতাধিক ভবন রয়ে গেছে চরম ঝুঁকিতে

এসএম বদরুল আলমঃ নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি ভবন এখন ভয়াবহ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রিখটার স্কেলে ৬ থেকে ৭ মাত্রার একটি মাঝারি কিংবা শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হলে জেলা সদর মাইজদী, চৌমুহনী, বসুরহাট ও সোনাইমুড়ী-চাটখিল এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় অবস্থিত পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে নির্মিত এসব স্থাপনা দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এখন কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভবনগুলোর ফাউন্ডেশন দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অনেক ভবনের দেয়াল ও কাঠামোতে স্পষ্ট ফাটল দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ফাটল কেবল অবহেলার চিহ্ন নয়, বরং আসন্ন বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস।

প্রশাসনিক সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসনের আওতায় ইতোমধ্যে শতাধিক ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকার পুরনো জেলা কারাগার, সদর ফায়ার স্টেশন, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ভবন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তর, জেলা দায়রা জজের বাসভবন, নোয়াখালী সরকারি কলেজ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল সালাম হল ও টিচার্স ট্রেনিং ভবনসহ আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা।

অভিযোগ উঠেছে, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হলেও এসব ভবনের অনেকগুলোতে এখনো নিয়মিতভাবে বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এসব ভবনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণ করছেন। ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভবনের অধিকাংশই দুর্বল ও পুরনো ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত হওয়ায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও ধসে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু সরকারি দপ্তরই নয়, নোয়াখালী জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবনও একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নোয়াখালীর প্রাচীন জেলা কারাগার। প্রায় ৭০ বছরেরও বেশি আগে নির্মিত এই ভবনটি ভূমিকম্প ছাড়াই যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকলেও এর আশপাশে মানুষের চলাচল থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে নোয়াখালী জেলায় ঘটতে পারে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। তাঁদের মতে, বড় ধরনের প্রাণহানির আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার কিংবা অপসারণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপই পারে হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করতে। জেলার সর্বস্তরের মানুষ এখন সেই দায়িত্বশীল পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।




লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে টিআর-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম: তদন্ত দাবি স্থানীয়দের

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টিআর,কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির অধীনে বাস্তবায়িত প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া। প্রকল্পের কোথাও অর্ধেক বা সিকিভাগ এবং কোথাও কাজ না করেই বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করেছে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।  তাছাড়া কিছু কিছু প্রকল্প আছে কেবল কাগজে-কলমে। বাস্তবে কাজের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি। প্রকল্পের কাজে তদারকির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারাও এই অনিয়মের সাথে জড়িত। তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে এসব প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র।

সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে জানা যায়, প্রতি অর্থবছরে টিআর ও কাবিটা-কাবিখা সংস্কার কর্মসূচির অধীনে গ্রামীণ পর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নগদ টাকা ও খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয় সরকার। এসব বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হয়। এ কাজের তদারকি করেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। কিন্তু তদারককারী ও বাস্তবায়নকারীদের গড়িমসিতে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ হয়েছে শুধু কাগজে কলমে ।

বাংলাদেশ সরকারের হাতে গোনা কয়েকটি দপ্তরের মধ্যে সরকারের উন্নয়নের ভাবমূর্তি নির্ভর করে যেসব দপ্তর তার মধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর।

পিআইও মাজহানুর রহমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ  একটি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়ে এই উপজেলায় যোগদানের পর অনিয়ম করেই যাচ্ছেন।

জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১ম ও ২য় এবং তৃতীয় কিস্তিতে টিআর,,কাবিখা-কাবিটা  প্রকল্পের আওতায় যে সকল প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যার  বেশিরভাগ  প্রকল্পে কাজ হয়েছে নামমাত্র ।

সরজমিনে দেখা যায়, গত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে তৃতীয় কিস্তিতে কাবিটা কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার ১ নং ভোটমারী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের খান্নুন এর বাড়ী হইতে নুরইসলাম মাষ্টারের বাড়ী পযন্ত ১০০ মিটার রাস্তা এইচবিবি করন কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩ লক্ষ টাকা। প্রকল্পটি শুধু কাগজে কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।  বাস্তবে কোন কাজ করা হয়নি। তবে মজার বিষয় হচ্ছে ওই প্রকল্প স্থানে পুর্বের এইচবিবি করন কাজ করাই ছিলো। পুর্বের করা প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা আত্মসাত করার পায়তারা করেছিলো প্রকল্পের সংঙ্গে সংশ্লিষ্টরা । ২ নং মদাতী ইউনিয়নে টিআর কর্মসূচীর আওতায় পরিত্যাক্ত একটি প্রতিষ্ঠান ৩ নং ওয়ার্ডের  তালুক শাখাতী হযরত আলী রাহমাহতুল্লাহ হাফিজিয়া মাদরাসা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। সেখানে কাজ হয়েছে নামমাত্র। মজার বিষয় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ওই একই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে তালুক শাখাতী হযরত আলী (রাঃ) কওমী মাদরাসা নাম দিয়ে প্রকল্পের বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা।কাজ হয়েছে নামমাত্র। ওই প্রকল্পের সভাপতির দেয়া তথ্যমতে প্রতিষ্ঠানটি পরিত্যাক্ত। একই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে হেতেনের বাড়ীর তিপুতি হইতে ব্রাক্ষণপাড়া কালীমন্দির পযন্ত ৪৩০ মিটার রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা যার কোন কাজই করা হয়নি কিন্ত বিল উত্তোলন হয়েছে। গোড়ল ইউনিয়নের গোড়ল দাখিল মাদরাসা উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫শত টাকা, কাজ করা হয়েছে ১০ টি টিন ও ৬ টি চিকন সিরি দিয়ে একটি চালা। বাকী টাকা প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের পকেটে। একই ইউনিয়নের গোড়ল ৮ নং ওয়ার্ডের ভাল্লাটারী হতে সিএমএস স্কুল পযন্ত ৭৫০ মিটার রাস্তায় মাটি কাটা বরাদ্দ ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৮শত টাকা। বরাদ্দের টাকা উত্তোলন হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। চলবলা ইউনিয়ন পরিষদের গেট নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয় ৪ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের সভাপতি মর্জিনা বেগম এবং অত্র ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করেছেন কিন্তু প্রকল্পের কাজ করেছেন আংশিক । কাকিনা ৩ নং ওয়ার্ডের কাজীর হাট ওয়াব্দা বাধ লোকমানের বাড়ী হতে বেলালের বাড়ী পযন্ত ৩৫০ মিটার রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩  লক্ষ ৫০ হাজার ২শত ৫৮ টাকা। কাজ হয়েছে নামমাত্র। তবুও উত্তোলন হয়েছে বরাদ্দের পুরো টাকা।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দেয়া তথ্য মতে,

চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রথম কিস্তিতে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে টিআর প্রকল্প-৫৩ টি, কাবিখা প্রকল্প-২৪টি এবং কাবিটা প্রকল্প-৪২টির কাজ চলমান রয়েছে।

এসকল প্রকল্পের কাজের শেষ সময় ছিল ৩১ ডিসেম্বর। তবে এ রিপোর্ট লেখা পযন্ত অনেক প্রকল্পের কাজ আজও রয়েছে কাগজে কলমে।

এ বিষয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা  মাজহানুর রহমান বলেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের সকল প্রকল্পের কাজ দেখে বিল প্রদান করা হয়েছে।

ভোটমারী ৮ নং ওয়ার্ডের একটি এইচবিবি করণ পুর্বের করা কাজ দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় এবং বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনও করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই প্রকল্পের কাজ করা হবে। অপরদিকে মদাতী ইউনিয়নের পরিত্যাক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন নাম দেখিয়ে পর পর দুইবার বরাদ্দ কিভাবে পায়? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পরিত্যাক্ত প্রতিষ্ঠানটির ভিন্ন ভিন্ন নাম দেখিয়ে বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, নাম পরিবর্তন করে বরাদ্দ অবশ্যই পেতে পারে তবে কাজ করেছে আবার করবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান বলেন, “আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি, প্রকল্পের বিষয় আমি সঠিক বলতে পারবো না। তবে যেসকল প্রকল্পের কাজ হয়নি সেই সকল প্রকল্পের তথ্যগুলো দিলে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।