বিএনপি নেতার ভাইয়ের মারধরে চিকিৎসক আহত, ডাক্তারদের কর্মবিরতি

ডেস্ক নিউজ : নারায়গ‌ঞ্জের আড়াইহাজা‌রে এক বিএন‌পি নেতার ভাইয়ের বিরু‌দ্ধে উপ‌জেলা স্বাস্থ‌্য কম‌প্লে‌ক্সের এক চি‌কিৎসক‌কে মারধ‌রের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবা‌দে স্বাস্থ‌্য কম‌প্লে‌ক্সের চি‌কিৎসকরা জরুরি বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের সব ধরনের চিকিৎসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রা‌খেন।

পরে প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলে পুনরায় চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার অভিযুক্ত বিল্লাল হো‌সেন আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার ছোট ভাই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চামুরকান্দি এলাকার ফিরোজা বেগম পেটব্যথার চিকিৎসা নিতে জরুরি বিভাগে আসেন। দায়িত্বরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামাল প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীর স্বামী বিল্লাল হোসেনকে একটি ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনে আনতে বলেন।

বিল্লাল হোসেন ইনজেকশন কিনে এনে সেটি প্রয়োগ করার অনুরোধ করেন। তবে ওই সময় জরুরি বিভাগে অন্য এক গুরুতর রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছিলেন আব্দুল্লাহ আল কামাল। এ কার‌ণে ইন‌জেকশন পুশ কর‌তে তার দেরি হয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিল্লাল হোসেন ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন আব্দুল্লাহ আল কামালের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর ক‌রেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মী চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।

পরবর্তীতে এই ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগ চালু রেখে হাসপাতালের বহির্বিভাগসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

খবর পেয়ে আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুর রহমান ও আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবজেল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে চিকিৎসাসেবা শুরু করেন।

অভিযোগের বিষ‌য়ে জানতে চাইলে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া বলেন, তারা আমার ভাইয়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। এই ডাক্তারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমার ভাই তাকে মারধর করেনি।

আড়াইহাজার থানার ওসি সবজেল হোসেন বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদকে জানানো হয়েছে। তিনি টেলিফোনে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।




গোসল করতে পুকুরে নেমে প্রাণ গেল ৩ শিশুর

ডেস্ক নিউজ : নরসিংদীর মনোহরদীতে পুকুরে গোসল করতে নামার পর পানিতে ডুবে তিন কন্যা শিশু নিহত হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের চর-আহমদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো খিদিরপুর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে ফাতেমা (৮), তার ফুপাতো বোন ও একই এলাকার তুহিন মিয়ার মেয়ে আয়েশা ওরফে আশামনি (১২) এবং তাদের খালা ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকার মুফাচ্ছের ওরফে শুক্কুর আলীর মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৩)।

নিহতের স্বজনরা জানান, বিকেলে বাড়ির পাশেই একটি পুকুরে গোসল করতে নামে তিন শিশু। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিন শিশু পানির ওপর ভেসে না উঠলে বাড়ির এক ছোট শিশু বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়।

মনোহরদী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, নিহতদের মধ্যে দুইজন স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী এবং একজন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাদের অকালমৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




এআই দিয়ে ৩০ পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পণ্যের মূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে। ভবিষ্যতে ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর করা যায়।

তিনি বলেন, ‘এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।’

আজ শুক্রবার বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে। এর ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।’

পণ্যের মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজারব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তবে, সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।’




হাবিপ্রবির ৬ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার, ৬০ জনকে শাস্তি

ডেস্ক নিউজ : দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) দুইটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলার ঘটনায় ৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার এবং ৬০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর হাবিপ্রবির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. খাদেমুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে গতকাল বুধবার রাতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।’

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ২১ মে শহীদ আবরার ফাহাদ আবাসিক হল এবং নূর হোসেন আবাসিক হলে অবস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৭তম বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

আজীবন বহিষ্কার হওয়া ৬ শিক্ষার্থী হলেন অ্যাগ্রিকালচার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নাইমুর রহমান দুর্জয়, অর্থনীতি বিভাগের সাকির মাহমুদ, ইংরেজি বিভাগের আসিফ হোসেন, ফুড অ্যান্ড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আসাদুজ্জামান সাগর, ইসিই বিভাগের সৌরভ আহমেদ এবং হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের তাসরিয়াফ ইসলাম প্রান্তিক।

এ ছাড়া ৮ জন শিক্ষার্থীকে ৬ মাসের জন্য আবাসিক হল থেকে বহিষ্কারসহ ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এক সেমিস্টার একাডেমিক কার্যক্রম ও হল থেকে বহিষ্কার এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করার সুপারিশ করা হয়েছে ৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

অস্ত্র হাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি সাধনের দায়ে ৪৬ শিক্ষার্থীকে দুই সেমিস্টার একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধসহ আজীবন হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও তাদের অভিমতের ভিত্তিতে এ শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখা হয়েছে।’




ঠাকুরগাঁওয়ের নিখোঁজ চার শিক্ষার্থী সিলেট থেকে উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ : ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নিখোঁজ চার শিক্ষার্থীকে সিলেট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঠাকুরগাঁও সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস আজ বুধবার বিকেলে তাদের উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের সাবাজপুর এলাকার বাসিন্দা মানিক চন্দ্রের মেয়ে শ্রীমতি খুশি, একই এলাকার বাঙ্কু দেবনাথের মেয়ে শ্রীমতি মলিকা, রমেশ দেবনাথের মেয়ে রিতু দেবনাথ, এবং আকালু দেবনাথের মেয়ে সেজুতি রানী দেবনাথ। তারা সবাই সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

খুশি, মলিকা ও রিতু দশম শ্রেণির এবং সেজুতি রানী দেবনাথ অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চার শিক্ষার্থী একসঙ্গে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বালিয়াডাঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস বলেন, ‘বুধবার দুপুরে সিলেটের একটি বাস কাউন্টারে বাসের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় চার শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সিলেটের গোয়াইনঘাট যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল।’

তিনি আরও জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশ তাদের সন্ধানে কাজ করে। নিখোঁজ হওয়ার পর চার শিক্ষার্থী প্রথমে ঢাকায় যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা একটি মানবপাচার চক্রের খপ্পরে পড়েছিল। ওই চক্রটি প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিল বলে আমরা ধারণা করছি। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছি। উদ্ধার হওয়া চার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মানবপাচার চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




চিপস খেয়ে ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ, দোকান বন্ধ করল ভ্রাম্যমাণ আদালত

ডেস্ক নিউজ : বাগেরহাটের রামপালে অনুমোদনহীন চিপস খেয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষার্থী ও এক অভিভাবক অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনিরাপদ খাদ্যপণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন মন্ডলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং দোকান সিলগালা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বড়দূর্গাপুর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের ওই দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি।

এর আগে গতকাল সোমবার দুপুরে বড় দূর্গাপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাশে থাকা মনোরঞ্জন মন্ডলের দোকান থেকে খোলা চিপস কিনে খায়। এতে ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের চিপসগুলো ডিটারজেন্টের প্যাকেট সদৃশ্য মোড়কে বিক্রি করা হচ্ছিল। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেটে ব্যথা, বমি ও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলে তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকরা রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রস্থ মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যায়। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

অসুস্থরা হলেন প্রাপ্তি অধিকারী (১০), তুফান শেখ (১৩), রাজদীপ (১০), আখিরা (১১), লামিয়া (১১), জান্নাতুল (১০), আরহী মন্ডল (৫), রাহুল মন্ডল (৮), সৃষ্টী বিশ্বাস (১০), ফাতেমা আক্তার (৮), আমবিকা (৬) ও প্রোভাতী (১০), দীপিকা হালদার (অভিভাবক ২৮)। তাদের মধ্যে জান্নাতুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

মৈত্রী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাকিব রেজোয়ান জানান, ‘খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনকে মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। গুরুতর এক শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

রামপাল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার খবরে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রশাসনের সহযোগিতায় দোকানটি সিলগালা করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদেরকে বাইরের খাবার খাওয়ানোর ব্যাপারে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।




মনপুরায় জেলের জালে রাজা ইলিশ, দাম ৯ হাজার টাকা

ডেস্ক নিউজ : ভোলার মনপুরার মেঘনায় ফের জেলের জালে ধরা পড়ল রাজা ইলিশ। মাছটির ওজন দুই কেজি চারশত গ্রাম। রাজা ইলিশ মাছটি নিলামে ৯ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের মমিন তালুকদারের মৎস্য আড়তে বিক্রি করা হয়।

মৎস্য আড়তের মালিক মমিন তালুকদার জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের জেলে ইসমাইল মাঝিসহ সঙ্গীয় জেলেরা রামনেওয়াজ সংলগ্ন মেঘনায় মাছ শিকার করছিল। এই সময় জালে অন্যান্য ছোট ইলিশের সঙ্গে রাজা ইলিশটি ধরা পড়ে। এই উপকূলের জেলে ও মৎস্য আড়তদাররা বড় সাইজের ইলিশকে রাজা মাছ বলে।

রামেওয়াজ মৎস্য ঘাটের ব্যাপারী মো. নাহিদ জানান, তিনিসহ অন্যান্য ব্যাপারীর উপস্থিতিতে মাছটি মমিন তালুকদারের মৎস্য আড়তের বাক্সে নিলামে তোলা হয়। পরে সর্বোচ্ছ দাম ৯ হাজার ৩০০ টাকায় মাছটি ক্রয় করেন মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়তদার মমিন তালুকদার।

মৎস্য ব্যবসায়ী ও রাজা মাছটি ক্রয় করা মৎস্য আড়তদার মমিন তালুকদার জানান, বরিশাল ও ঢাকার পাইকারি আড়তে বড় সাইজের ইলিশের চাহিদা বেশি। তিনি নিজে আড়তদার ও ঢাকায় মাছ চালান করেন। মঙ্গলবার ঢাকার লঞ্চে অন্যান্য মাছের সাথে রাজা ইলিশ মাছটি ঢাকার যাত্রাবাড়ি মাছের আড়তে পাঠাবেন। তিনি আরও বেশি দামে মাছটি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী।

এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল বনিক জানান, মেঘনায় বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে এইটা জেলেদের জন্য সুখবর। সামনে বর্ষায় বৃষ্টিপাত বাড়লে আরও বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়বে বলে তিনি আশাবাদী।




গোপালগঞ্জে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করলেন ডা. জিয়াউদ্দিন

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা) ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার আজ রোববার গোপালগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন, দেশের ৬–৫৯ মাস বয়সী ২ কোটিরও বেশি শিশুকে আজ সারাদেশে বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এই কর্মসূচি শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের অন্যতম সফল জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ।

ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, অপুষ্টিজনিত জটিলতা কমাতে সহায়তা করে, দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতিজনিত রাতকানা ও অন্যান্য চোখের সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করে। একই সঙ্গে এটি শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তার মতে, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪–২৫ সালের পরিকল্পিত হাম টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হওয়ায় অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়, যা বর্তমান প্রাদুর্ভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি এবং সামগ্রিক অপুষ্টি গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এ কারণে চলমান জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

গোপালগঞ্জ প্রসঙ্গে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, তার মূল্যায়নে, স্বাধীনতার পর থেকে, বিশেষ করে গত দেড় দশকে, গোপালগঞ্জের মানুষ একদল দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবের মধ্যে ছিলেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই নেটওয়ার্কের অবসান ঘটে এবং এখন গোপালগঞ্জের মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ, স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং নিজেদের উদ্যোগে উন্নয়নের সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই নতুন পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. কে. এম. বাবর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউনিসেফের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিবৃন্দ, স্বাস্থ্যকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনগণ।




পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রেকর্ড ১৬ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ : কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনায় এবার আগেকার সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। মিলেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। এছাড়াও মিলেছে বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার।

শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার সকাল থেকে শুরু হয় টাকা গণনা। প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা গণনা ধরে যা চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ বলেন, ‘সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গণনা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে।’

জানা গেছে, শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে তালা খোলা হয়। একে একে ৪৩টি বড় বস্তায় ভরা হয় টাকা। এরপর টাকা গণনার জন্য বস্তাগুলো মসজিদের দোতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বস্তা থেকে টাকা মেঝেতে ঢেলে দেওয়ার পর শুরু হয় অর্থ গণনার কাজ। যেখানে অংশ নেন পাগলা মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসার ১০৬ জন ও আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন ছাত্র। তাদের সঙ্গে দিনভর টাকা গণনা করেন রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা, পাগলা মসজিদের ৩৫ জন স্টাফ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ১৯ জন স্টাফ। গণনা শেষে রাত সাড়ে ৮টায় চূড়ান্ত টাকার পরিমাণ ঘোষণা করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ।

টাকা খোলা থেকে শুরু করে ব্যাংকে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সময় সশরীর মাঠে ছিলেন জেলা প্রশাসনের ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র‍্যাব সদস্য ও ২০ জন আনসার সদস্য।

জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদের প্রতি মানুষের এক গভীর আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। যার প্রতিফলন দেখা যায় এই দানবাক্সগুলোয়। মানুষের এই আমানত অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এ ছাড়া মানুষের দান করা বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও রুপা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সম্পূর্ণ নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

সোহানা নাসরিন আরও বলেন, এই দানের টাকা কোনো ব্যক্তিগত খাতে ব্যবহারের সুযোগ নেই। জমা করা এই বিশাল অর্থ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়ন ও পরিচালনায় অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্র ও জটিল রোগে আক্রান্ত মুমূর্ষু মানুষের চিকিৎসায় এবং কল্যাণে এই তহবিল থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা করা হয়ে থাকে।

 ্উল্লেখ্য, ৬ মাস আগের গণনায় মসজিদের ১৩ দানবাক্সে পাওয়া যায় প্রায় ১১ কোটি সাড়ে ৭৮ লাখ টাকা।




মা ও তিন মেয়ে খুন: লক্ষ্মীপুরে জানাজা শেষে লাশ নেওয়া হল কুমিল্লায়

ডেস্ক নিউজ : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভাড়া বাসায় হত্যার শিকার মা ও তিন মেয়ের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীরপাড় সড়কে এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, জানাজার নামাজ শেষে নিহত শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেঝো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফার মরদেহ নিয়ে স্বজনরা কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। তাদের জানাজায় রায়পুরের বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করে।

পুলিশ জানায়, জানাজায় নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। পরে লাশগুলো কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, চারজনকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমটি গঠন করা হয়েছে। গুরুত্বের সহকারে ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌর শহরের নদীর পাড় এলাকা ভাড়া বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করে এক যুবক। পরে ওই যুবক অন্তর মজুমদার (২৮) জনগণ গণপিটুনি দিলে সেও মারা যান।