মনপুরায় কোস্টগার্ড ও মৎস্য অফিসের যৌথ অভিযান

ডেস্ক নিউজ : ভোলার মনপুরায় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় যৌথ অভিযান চালিয়ে বাংলাবাজারের একটি দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি এবং কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। জব্দকৃত এই জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ লক্ষ টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় জব্দ করা ৭ লাখ টাকার জাল নদীরপাড়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

এর আগে গতকাল বুধবার রাত ৯টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের অধীনস্থ মনপুরা কন্টিনজেন্ট এবং উপজেলা মৎস্য অফিসের একটি যৌথ দল উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, মনপুরার বাংলাবাজার মাকসুদ এন্টারপ্রাইজে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল মজুদ করে স্থানীয় জেলেদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে— এমন সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে সেখানে আকস্মিক যৌথ অভিযান চালানো হয়। তল্লাশিকালে মাকসুদ এন্টারপ্রাইজ থেকে ১০০ পিস ক্ষতিকারক চায়না দুয়ারি জাল এবং প্রায় ২ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ লাখ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে অভিযান পরিচালনাকারী দল।

এই বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল বনিক বলেন, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল নদী এবং সমুদ্রের মৎস্য সম্পদের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ। এই ক্ষতিকর জালে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণী নির্বিচারে আটকে মারা পড়ে, যা আমাদের জলজ জীববৈচিত্র্যের চরম ক্ষতি করছে। দেশের মৎস্য সম্পদ ও মা মাছ রক্ষায় মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডের এই ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কোস্টগার্ড সর্বদা তৎপর রয়েছে।অভিযান শেষে জব্দকৃত এই বিশাল পরিমাণের অবৈধ জালগুলো গতকাল জুন বিকেল সাড়ে ৫টায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।




লক্ষ্মীপুরে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহত বেড়ে ৫

ডেস্ক নিউজঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে মা ও দুই মেয়ের পর ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা গেছেন মেঝ মেয়েও। এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন ঘাতক যুবকেরও মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই নৃশংস ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায়  ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সায়মা আক্তার (২১), মেঝ মেয়ে কলেজ  শিক্ষার্থী ইকরা আক্তার (১৮) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)।

এ ঘটনায় সন্দেভাজন এক যুবককে গণপিটুনি দিলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের ৬/৭ জন সদস্য আহত হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে শাহীনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। দুপুরে দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের হামলায় শাহীনুর ও তার তিন মেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে শাহীনুর, সায়মা, ইকরা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়। তাদের মধ্যে মা ও তিন মেয়ে মারা গেছেন। গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন যুবককে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। অভিযুক্ত সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। হাসপাতালে নেওয়ার পর সে যুবকও মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত লোকজন ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন। নিহত পরিবারের সঙ্গে সন্দেভাজন যুবকের কোনো সম্পর্ক ছিলো কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যতটুকু জানি সে ভ্রমমাণ ফল বিক্রেতা ছিলেন।

ঘটনার পরপরই লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আবু তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্ত চলছে। কী কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




বজ্রপাতে ময়মনসিংহে কলেজ শিক্ষার্থীসহ নিহত ২

ডেস্ক নিউজ : ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় বজ্রপাতে কলেজ শিক্ষার্থীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যার এই ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। নিহতরা হলেন- স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী তুলি ও আব্দুল খালেক।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের দেবগ্রামে পুকুর পাড়ে বসে মোবাইলে কথা বলার সময় বজ্রপাতে ওই শিক্ষার্থীর আহত হন। তাকে চিকিৎসার জন্য ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বজ্রপাতে নিহত তুলি ফুলবাড়ীয়া সরকারি মহিলা কলেজের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

অন্যদিকে, কালাদহ গ্রামের নিচপাড়ায় একই সময়ে বজ্রপাতে আ. খালেক নামের এক কৃষক নিহত হয়েছে। আছরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বাড়িতে আসার সময় ওই কৃষক বজ্রপাতে আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান জানান, বজ্রপাতে নিহতের বিষয়টি শুনেছি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বিপৎসীমার কাছাকাছি তিস্তার পানি, খুলে দেওয়া হয়েছে সব জলকপাট

ডেস্ক নিউজ : বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে বেলা তিনটায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এখানে পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।

লালমনিরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার গণমাধ্যমকে জানান, গত এক-দুই দিনের ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে তিস্তাপারের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব অঞ্চলের জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এ দিকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের সব জলকপাট সার্বক্ষণিক খুলে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।




মুক্তিপণ দাবির পর পুকুরে মিলল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মরদেহ

ডেস্ক নিউজ : টাঙ্গাইলের সখিপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর সেঁজুতি নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির পরিবার দাবি করেছে, তাকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সখিপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুর থেকে সেঁজুতির (৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফালু চন্দ্র মালু ও শোভা চন্দ্র দম্পতির মেয়ে এবং স্থানীয় আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেল ৪টার পর থেকে সেঁজুতি নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে শনিবার রাতেই সখিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, গতকাল রোববার রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের কাছে ফোন ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে সেঁজুতিকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই উপজেলা পরিষদের পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।

শিশুটির রহস্যজনক মৃত্যু এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সখিপুরজুড়ে উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন পুকুরে একটি শিশুর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মেয়ের মৃত্যুতে শোকাহত বাবা ফালু চন্দ্র মালু বলেন, ‘আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

মা শোভা চন্দ্র কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সন্তানের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হোক। আমার ছোট্ট মেয়েটিকে কে বা কারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’

এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. আহমেদ আযম খান নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকলে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সখিপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বন্যার আতঙ্কে হাজারো মানুষ

ডেস্ক নিউজ : উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রধান নদী ধরলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও এখনও সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রোববার (২১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের চরসোনাইকাজী এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ধরলা নদীর পানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ধরলা নদীর তালুক শিমুলবাড়ী (ফুলবাড়ী ধরলা সেতু) পয়েন্টে পানির উচ্চতা সামান্য কমেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদ-নদী পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এ এলাকায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

রোববার সকাল ৬টায় তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৭৮ মিটার, যা সকাল ৯টায় কমে ২৯ দশমিক ৭৫ মিটারে নেমে আসে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার।

বিকেল ৩টায় শিমুলবাড়ী পয়েন্ট পানি সমতল ২৯ দশমিক ৬৮ মিটার, (বিপদসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার) যা বিপদসীমার ১১৯ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হঠাৎ ধরলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কখনও বাড়ছে আবার কখনও কমছে। তবে গতকালের চেয়ে রোববার বারোমাসিয়া নদীর পানি কমে যাওয়ায় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পাট ও ভুট্টা ক্ষেতের পানি নেমে যাচ্ছে বলে জানান কৃষকরা।

ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ধরলা নদীর তীরবর্তী চরসোনাইকাজী এলাকার বাসিন্দা জহুরুল হক ও ওবায়দুল হক জানান, গত চার দিন ধরে নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আমন ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই এলাকার কৃষক জরিতুল্লা আলী বলেন, ধরলার পানি বৃদ্ধির কারণে আমার আমনের বীজতলা ও পাটক্ষেত ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে গেছে। বীজতলা নষ্ট হয়ে গেলে আমন চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া পানি আরও বাড়লে বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে বর্তমানে সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তাই তাৎক্ষণিক বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।




দোকানের দেয়াল কেটে কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট

ডেস্ক নিউজ : রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টি এলাকার একটি জুয়েলার্সের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা দেয়াল কেটে দোকানে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ এবং ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা ও নগদ অর্থ নিয়েছে বলে দাবি করেছেন মালিকপক্ষ।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার দিবাগত রাতের মধ্যে কোনো এক সময় সাহেববাজার এলাকার ‘স্বর্ণা হোটেলের নিচতলায় অবস্থিত ‘কারুশ্রী জুয়েলার্সে’ এই চুরির ঘটনা ঘটে।

এদিকে দুর্ধর্ষ এই চুরির ঘটনার প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে স্বর্ণ উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজশাহীর জুয়েলার্স ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

পুলিশ ও মালিকপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, পাশাপাশি অবস্থিত আফিয়া জুয়েলার্স ও কারুশ্রী জুয়েলার্সের মধ্যে সংযোগকারী দেয়াল কেটে চোরেরা কারুশ্রী জুয়েলার্সে প্রবেশ করে। এর আগে তারা আফিয়া জুয়েলার্সের তালা খুলে ভেতরে ঢোকে। পরে দুই দোকানের মাঝের দেয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার, রুপার অলংকার ও নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। আফিয়া জুয়েলার্সে কোনো মালামাল না থাকায় সেখান থেকে কিছু নেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছেন।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম অপু বলেন, প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ এবং ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা ও নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত রাজশাহীর সব জুয়েলার্সের দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।




গুলিতে আহত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ কাইল্লা পলাশ মারা গেছেন

ডেস্ক নিউজঃ রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’।

শুক্রবার (২০ জুন) রাত ১টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পলাশের বাবার নাম ইউনুস খান। তার বাড়ি রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায়। তিনি যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলায় দণ্ডিত ছিলেন।

পলাশ এক মাস আগে কারাগার থেকে মুক্তি পান।

গত ১২ জুন জুমার নামাজের পর রামপুরা ব্রিজ-সংলগ্ন একরামুন্নেছা বালক উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে পলাশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, জুমার নামাজ পড়ে নিজ বাসভবনের নিচে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন পলাশ। এ সময় আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। পরপর তাকে দুই রাউন্ড গুলি করা হলে এক রাউন্ড গুলি তার মাথা ভেদ করে বের হয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।




দুপুরে অভাবের সংসারে ঝগড়া, বিকেলে একসঙ্গে ঝুলছিল স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ

ডেস্ক নিউজ : নাটোরের একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে নাটোর সদরের ঢালান এলাকার একটি বাসা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

উভয় পরিবারের কারো কোন অভিযোগ না থাকায় পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই সুরতহাল রিপোর্ট শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে নিহত স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে নাটোর সদরের ঢালান এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে অটোরিকশা চালক রাকিব হোসেনের (২২) সঙ্গে একই এলাকার আজিজুল ইসলামের মেয়ে লিজা খাতুনের (২১) দুবছর আগে বিয়ে হয়। বনিবনা না হওয়ায় তাদের ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। পরে দুপক্ষের সমঝোতায় আবার তারা সংসার শুরু করেন। শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে রাকিব হোসেন বাড়ি ফিরে স্ত্রী লিজা খাতুনের সঙ্গে নিজের ঘরেই অবস্থান করছিলেন।

এ সময় পরিবারের অভাব অনটন নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলেও দুজন ঘরের মধ্যেই অবস্থান করেন। বিকেলে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হলে ঘরের দরজা-জানালার ফাঁকা দিয়ে দেখতে পান দুজনের মরদেহ কক্ষের সিলিংয়ে থাকা টিনে বাঁশের সঙ্গে এক ওড়নায় ঝুলে আছে। নাটোর থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙ্গে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

নাটোর থানার ওসি মো. মুনসুর রহমান শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলেন ৫ অপহৃত জেলে

ডেস্ক নিউজ : সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে অপহরণের তিন দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন পাঁচ জেলে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে বনদস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত এক জেলেকে বুধবার সকালে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মুক্তিপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের হানিফ, জাকির, শাহিন ও আকুব্বর এবং রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৩০)।

অপহৃত জেলেদের মহাজন রামপাল উপজেলার মোস্তাফিজুর রহমান বুধবার দুপুরে জানান, গত ১৩ জুন রাতে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচর এলাকার লইট্রাখালী খালে মাছ ধরার সময় বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা জেলে বহরে হামলা চালায়। এ সময় পাঁচটি ট্রলার থেকে পাঁচ জেলেকে অপহরণ করে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি জানান, অপহরণের পর জেলেদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। বিশেষ করে শরিফুল ইসলামকে বেদম মারধর করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকা হিসেবে মোট দুই লাখ টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মুক্তিপণ পরিশোধ করা হলে মঙ্গলবার গভীর রাতে বনদস্যুরা তাদের ছেড়ে দেয়।

মুক্তি পাওয়ার পর গুরুতর আহত শরিফুল ইসলামকে বুধবার সকালে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বন কর্মকর্তা জানান, লইট্রাখালী এলাকায় পাঁচ জেলে অপহরণ এবং মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি তারা বুধবার সকালে জানতে পেরেছেন।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজীব আল রশিদ জানান, বনদস্যুদের মারধরে এক জেলে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। তবে পাঁচ জেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।