ভাঙনে কুতুবদিয়ায় বাড়ছে ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা, আতঙ্কে উপকূলবাসী

ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় সাগরের ভাঙন ও জোয়ারের পানিতে প্রতিবছরই বসতভিটা হারাচ্ছেন শত শত মানুষ। বর্ষা মৌসুম এলেই তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দেয় নতুন আতঙ্ক। অকার্যকর জিও ব্যাগ ও ভাঙাচোরা বেড়িবাঁধের কারণে ভাঙন রোধ সম্ভব না হওয়ায় দিন দিন ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে সাগরভাঙনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য বসতভিটা বিলীন হয়েছে। সরকারি হিসাবের চেয়েও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ বলে দাবি স্থানীয়দের। একসময় স্বচ্ছল থাকা অনেক পরিবার এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

গত বছর আলী আকবর ও বড়ঘোপ ইউনিয়নের মুস্তফা, বদর উদ্দিন, মো. বাবুল, আব্দুল গফুর, জাহাঙ্গীর আলম, ফরিদ আলম, গোলাম মোস্তফা ও মোক্তার আহমেদসহ অনেকেই ভিটেমাটি হারিয়ে ভূমিহীন হয়েছেন। চলতি বর্ষায় একই এলাকার আব্দুল কাদের, আব্দু শুক্কুর, রুবেল, জসিম উদ্দিন, নুরুল হোছাইন, আমির হোছাইন, আবুল হোছাইন ও শাহাবুদ্দিনসহ প্রায় শতাধিক পরিবার নতুন করে ভাঙনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। একই পরিস্থিতি উত্তর ধূরুং, দক্ষিণ ধূরুং, কৈয়ারবিল ও লেমশীখালী ইউনিয়নেও।

ভুক্তভোগী মোস্তফা বেগম (৬০) বলেন, ‘সাগর আমার সব কেড়ে নিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে অন্যের আশ্রয়ে আছি। নিজের কোনো ঘর নেই, নেই কোনো ঠিকানা। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা চাই।’

আরেক ভুক্তভোগী আব্বাস উদ্দিন বলেন, দুই বছর আগে একবার ভিটেমাটি হারিয়েছিলেন। অনেক কষ্টে নতুন করে ঘর তুললেও এবার সেটিও সাগরে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহিদ উদ্দিন ছোটন বলেন, ইতোমধ্যে ১৫ থেকে ২০টি বসতবাড়ি সাগরগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কথা থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ সরবরাহের পাশাপাশি কুতুবদিয়াকে রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সাগরভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।




ইয়ামালের সাফল্য চাই, তবে ফাইনালে থামানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে: মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক : নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আয়োজিত ফিফার ‘ফ্যানাটিক ফেস্ট’ যেন পরিণত হয়েছিল ফুটবলের এক মহা উৎসবে। সংবাদ সম্মেলন, আনুষ্ঠানিক ফটোসেশন ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে জমে ওঠা এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে নিয়ে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির মন্তব্য।

বার্সেলোনার এই তরুণ ফুটবলারের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ইয়ামাল ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। শৈশবে ইয়ামালের সঙ্গে তোলা নিজের সেই বহুল আলোচিত ছবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখন ছবিটি আরও বিশেষ মনে হয়। সামনে ইয়ামালের ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে প্রশংসার পাশাপাশি ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও মনে করিয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। হাসিমুখে মেসি বলেন, ‘আমি চাই ইয়ামাল অনেক সাফল্য অর্জন করুক। কিন্তু এই ফাইনালে তাকে থামাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাড়তি চাপের বিষয়েও কথা বলেন মেসি। তাঁর মতে, ফুটবলকে উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্যারিয়ারে জয়ের চেয়ে হার থেকেই তিনি বেশি শিক্ষা পেয়েছেন, আর সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও পরিণত করেছে।

ফিফার আয়োজনে নিউইয়র্কের জাভিটস সেন্টারে সকাল থেকেই ছিল হাজারো সমর্থকের ভিড়। আর্জেন্টিনা ও স্পেন দুই দেশের সমর্থকেরাই প্রিয় তারকাদের একনজর দেখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি, গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস, স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ও অধিনায়ক রদ্রি। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ, হলিউড অভিনেতা কেভিন হার্ট এবং বাস্কেটবল তারকা কেভিন ডুরান্ট।

অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তে স্কালোনি ও দে লা ফুয়েন্তের করমর্দন, মেসি ও রদ্রির শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিশ্বকাপ ট্রফির সামনে দুই দলের তারকাদের একসঙ্গে তোলা ছবি যেন মনে করিয়ে দিল ফাইনালের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ের আগে ফুটবল আসলে বিশ্বের মানুষকে একত্রিত করারই সবচেয়ে বড় উৎসব।




হাফটাইম শো কতোটা দীর্ঘ হচ্ছে?

ক্রীড়া ডেস্ক : ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা নামতে চলেছে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন এই ফাইনাল ঘিরে।

তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এবারের ফাইনাল আলোচনায় রয়েছে একটি ভিন্ন কারণে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে আয়োজন করা হচ্ছে ফিফার আনুষ্ঠানিক হাফটাইম শো বা বিরতিকালীন সংগীতানুষ্ঠান। গ্লোবাল সিটিজেনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই নতুন ফরম্যাটটি ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠবে বলে আশা করছে ফিফা।

এবারের এই জমকালো আয়োজনে পারফর্ম করবেন ক্রিস মার্টিন, জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা, বিটিএস এবং শাকিরার মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা। সংগীতানুষ্ঠানটি নিয়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও সময়সীমা নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছিল যে, এবারের হাফটাইম শো হতে পারে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দীর্ঘ। তবে শেষ পর্যন্ত ফিফা জানিয়েছে, পুরো বিরতির সময়সীমা আগের মতোই ১৭ মিনিট থাকবে, যার মধ্যে মূল সংগীতানুষ্ঠানটি হবে মাত্র ১১ মিনিটের।

অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এর আগে তো বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচে সংগীত পরিবেশনা দেখা গেছে, তাহলে একে কেন প্রথম আনুষ্ঠানিক শো বলা হচ্ছে? এর উত্তর হলো, এর আগে মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে মানার পারফরম্যান্সটি ছিল মূলত মেক্সিকো সিটির বিদায়ী সংবর্ধনার অংশ। কিন্তু এবারের ফাইনালের এই অনুষ্ঠানটি বিশেষভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে ফিফার নিজস্ব ব্র্যান্ডিংয়ে, যা সরাসরি বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে জায়গা করে নিতে যাচ্ছে। ফুটবল ও বিনোদনের এই মিলনমেলা আজ খেলাটিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।




ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী হলেন যারা

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের ২০২৪ সালের সেরা চলচ্চিত্র ও কলাকুশলীদের নাম ঘোষণা করেছে দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। শনিবার (১৮ জুলাই) নয়াদিল্লিতে ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৪’-এর বিজয়ীদের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

সেরা অভিনেতার পুরস্কার যৌথভাবে জিতেছেন প্রবীণ মালয়ালম তারকা মামুট্টি ও বলিউড অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান। অন্যদিকে ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ইয়ামি গৌতম।

চলচ্চিত্র নির্মাতা জয়রাজের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের জুরি বোর্ড বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করে বিজয়ীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। হরর ঘরানার মালয়ালম সিনেমা ‘ব্রহ্মযুগম’-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য মামুট্টি এবং স্পোর্টস ড্রামা ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমার জন্য কার্তিক আরিয়ান যৌথভাবে সেরা অভিনেতার গৌরব অর্জন করেন। এটি কার্তিক আরিয়ান ও ইয়ামি গৌতমের ক্যারিয়ারের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অভিনয়ের পাশাপাশি ইয়ামি অভিনীত ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমাটি সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সম্মাননাও লাভ করেছে।

ঘোষিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরির মধ্যে ‘ভক্ষক’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সঞ্জয় মিশ্র সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন। ‘অমরন’ সিনেমার জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছেন রাজকুমার পেরিয়াসামি। এ ছাড়া ‘স্বাতন্ত্র্য বীর সাভারকর’ সিনেমার মাধ্যমে সেরা নবাগত পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন অভিনেতা ও নির্মাতা রণদীপ হুদা।

ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি)- ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সার্টিফাইড বা অনুমোদিত চলচ্চিত্রগুলো এবারের পুরস্কারের জন্য বিবেচিত করেছে। ফিচার ও নন-ফিচার মিলিয়ে মোট ৪৩টি শাখায় এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও ভারতের এই রাষ্ট্রীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ঘোষণা চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।




কুয়েতের তেল শোধনাগারে ইরানের ভয়াবহ হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় একের পর এক আঘাত হানছে ইরান। এবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার। হামলায় স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, দেশটির তেল খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় একাধিক দফায় হামলা চালিয়েছে ইরানের বাহিনী। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কুনার বরাতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থাপনাটি খালি করে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কুয়েত দমকল বাহিনী জানিয়েছে, সকালে হামলার পর দুটি জায়গায় আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। প্রথম ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর সময় আহতদের দ্রুত সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাজের সময় শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানে টানা সাত রাত ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী যদি হামলা চালিয়ে যায় তাহলে ইরান পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে।
শুক্রবার রাতের হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এভাবে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরান শুধু পাল্টা আঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা পূর্ণ যুদ্ধে নামব। সেক্ষেত্রে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না।




ঢাকায় আরও ৫০ স্পটে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক লাইট চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর আরও ৫০টি স্পটে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকটিতে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ ছাড়া রাজধানীতে আরও অন্তত ৫০টি পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সূত্র : বাসস




মিরপুর প্রেসক্লাবে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত নাম ঘোষণা- সভাপতি হিসেবে এস এম বদরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোঃ শিহাব উদ্দিন নির্বাচিত এবং তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্মদিন উদযাপন

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মিরপুর প্রেসক্লাবে জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হয়। এবং কমিটি গঠন শেষে ক্লাবের সম্মানিত প্রধান উপদেষ্টা ও দৈনিক পাঞ্জেরীর সম্পাদক তালুকদার রুমী, সম্মানিত উপদেষ্টা মোঃ সালমান ফারসি এবং সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টুটুলের জন্মদিন একসঙ্গে উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও খবর বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন মোল্লা, উপদেষ্টা ও মাতৃ জগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান এবং উপদেষ্টা মোঃ মাহবুবুর রহমান খান সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত মিরপুর প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা করেন।

ঘোষিত কমিটিতে *সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন এস এম বদরুল আলম* , *সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোঃ শিহাব উদ্দিন* এবং *সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মোঃ শফিকুল ইসলাম সাইমন*। এছাড়া কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে মোঃ রাহাত খান, এস এম ইসলাম উকিল ও মাইনুল ইসলাম পলাশ; সহ-সভাপতি হিসেবে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম টুটুল, মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, শাহিনুজ্জামান ও শফিকুল ইসলাম রাজু; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোঃ সাইফুল ইসলাম, সুমন খান, মুন্না, মঞ্জুর আহমেদ ও জিএস জয়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে এম এ গাফফার, এম এ মালেক, ডালিয়া মির্জা, রিয়া মনি, দুলাল হোসেনসহ অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম। তিনি বলেন,
“মিরপুর প্রেসক্লাব শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাগত উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। আমাদের সম্মানিত প্রধান উপদেষ্টা তালুকদার রুমী, উপদেষ্টা সালমান ফারসি এবং সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টুটুলের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করছি। একই সঙ্গে নবগঠিত কমিটির সবাইকে নিয়ে আমরা মিরপুর প্রেসক্লাবকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।”

সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন,
“আমাদের প্রধান উপদেষ্টা তালুকদার রুমী সবসময় সাংবাদিকদের অভিভাবক হিসেবে পাশে থেকেছেন। তাঁর দিকনির্দেশনা মিরপুর প্রেসক্লাবকে আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে উপদেষ্টা সালমান ফারসি ও সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টুটুলের অবদানও অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁদের জন্মদিনে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই এবং নবগঠিত কমিটির মাধ্যমে সাংবাদিকদের কল্যাণে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করছি।”

উপদেষ্টা মোঃ জাকির হোসেন মোল্লা বলেন,
“তালুকদার রুমীর নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা সাংবাদিক সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ কর্মময় জীবন কামনা করছি। পাশাপাশি সালমান ফারসি ও নজরুল ইসলাম টুটুলের প্রতিও রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা।”

উপদেষ্টা খান সেলিম রহমান বলেন,
“মিরপুর প্রেসক্লাব আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে সম্মানিত প্রধান উপদেষ্টা তালুকদার রুমীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। আমরা তিনজনেরই সুস্থ, সুন্দর ও সফল জীবন কামনা করি।”

উপদেষ্টা মোঃ মাহবুবুর রহমান খান বলেন,
“এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করে। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আমরা আশা করছি।”

সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার মোঃ রাহাত খান বলেন,
“তালুকদার রুমী সাংবাদিকদের জন্য একজন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব। তাঁর মতো অভিজ্ঞ মানুষের পরামর্শ আমাদের চলার পথে অনুপ্রেরণা জোগায়।”

সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইনুল ইসলাম পলাশ বলেন,
“আজকের এই আয়োজন আমাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের প্রতীক। জন্মদিনের তিনজন গুণী ব্যক্তিত্বের জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।”

সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টুটুল জন্মদিনের শুভেচ্ছার জন্য উপস্থিত সকল সাংবাদিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,
“আপনাদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মিরপুর প্রেসক্লাব পরিবার সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকুক—এটাই আমার প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে মিরপুর এলাকার প্রায় দেড়শ থেকে দুই শতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। কেক কাটা, ফুলেল শুভেচ্ছা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পুরো অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। বিশেষ করে মিরপুর প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা তালুকদার রুমী দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক সমাজের কল্যাণে তাঁর অবদান, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বের জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পেশাগত সফলতা কামনা করেন উপস্থিত সবাই।

একই সঙ্গে সম্মানিত উপদেষ্টা মোঃ সালমান ফারসি এবং সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টুটুলের জন্মদিনও আন্তরিক ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করা হয়। উপস্থিত সাংবাদিকরা তাঁদের সাংবাদিকতা, সংগঠন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।

সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টুটুল জন্মদিনের শুভেচ্ছার জন্য উপস্থিত সকল সাংবাদিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,
“আপনাদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মিরপুর প্রেসক্লাব পরিবার সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকুক—এটাই আমার প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিন গুণী ব্যক্তিত্বের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং তাঁদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। উপস্থিত সাংবাদিকরা করতালির মাধ্যমে তাঁদের সম্মান জানান এবং সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

সবশেষে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ও উপস্থিত সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে মিরপুর প্রেসক্লাবকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সাংবাদিকবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, পেশাগত নৈতিকতা ও ঐক্যের মাধ্যমে মিরপুর প্রেসক্লাব ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




বদলির পরও দায়িত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দফতরের উপপরিচালক উম্মে হাবিবা, টেন্ডার কারসাজি ও আর্থিক অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দফতরের উপপরিচালক (উপসচিব) উম্মে হাবিবার বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, সরকারি অর্থের অপচয়, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গঠন এবং অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সম্প্রতি বস্ত্র অধিদফতরের পরিচালক পদে বদলি করা হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও তিনি আগের কর্মস্থল ছাড়েননি বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং বদলির আদেশ বাতিল করতে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ১৬ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উম্মে হাবিবাকে বস্ত্র অধিদফতরের পরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে তাকে ২২ জুনের মধ্যে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে ওই দিন বিকেল থেকেই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য হবেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরও তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দফতরেই দায়িত্ব পালন করছেন। এ অবস্থায় তার বদলির আদেশ বাতিলের জন্য বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে যোগাযোগ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, উম্মে হাবিবা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময়ের স্বাস্থ্য সচিব জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে তাকে দেখা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ এবং আন্দোলন করেছিলেন। তবে সে সময় তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হলেও পরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দফতরের উপপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই তিনি দফতরের টেন্ডার, কোটেশন, কেনাকাটা এবং প্রচার-প্রচারণা সংক্রান্ত প্রায় সব কার্যক্রম নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এসব কাজে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা ঠিকাদাররা নিয়ম মেনেও কাজ পান না বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত প্রতিযোগিতাকে উপেক্ষা করে বেশি দামে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সরকারের লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দফতরের প্রিন্টিং ও প্রচার-প্রচারণার বেশিরভাগ কাজ দেওয়া হয়েছে রায়আন প্রিন্টার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে। অন্যদিকে টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও ভিডিও নির্মাণের কাজ নিয়মিতভাবে দেওয়া হয়েছে রবিন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কাছে। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার ও কোটেশন প্রক্রিয়ায় নানা কৌশল অবলম্বন করে এসব প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো।

এ বিষয়ে কয়েকটি টেন্ডারের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আইডি নম্বর ১২৩৯৭৭৩-এর টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল তিথি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং। প্রতিষ্ঠানটি ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৫৪৪ টাকার দরপত্র জমা দিলেও তাদের বাদ দিয়ে পঞ্চম সর্বনিম্ন দরদাতা রায়আন ট্রেডার্সকে ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৬৬১ টাকায় কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

একইভাবে আইডি নম্বর ১২৩৯৭৩৪-এর টেন্ডারে একুশে মিডিয়া ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯২ টাকার সর্বনিম্ন দর দিলেও তাদের পরিবর্তে চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতা রায়আন ট্রেডার্সকে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ১০২ টাকায় কাজ দেওয়া হয়।

আবার আইডি নম্বর ১১৮৮৩৫৯-এর টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল খন্দকার এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা রায়আন ট্রেডার্সের অনুকূলে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, শুধু টেন্ডার কারসাজিই নয়, অনেক ক্ষেত্রে যথাযথভাবে পণ্য বা সেবা গ্রহণ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও মাঠপর্যায়ে কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। এসব অনিয়মে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করেছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগ আরও রয়েছে, উম্মে হাবিবা দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করতেন। ঢাকাসহ চারটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কেউ আপত্তি জানালে চাকরি হারানোর ভয়, বেতন বন্ধের হুমকি কিংবা দুর্ব্যবহারের মুখে পড়তে হতো। ইতোমধ্যে তার অনিয়মের প্রতিবাদ করায় দুই কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, উম্মে হাবিবা নিজেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে নিজের অবস্থান শক্ত রাখার চেষ্টা করতেন। এমনকি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখেন—এ ধরনের কথাও তিনি বিভিন্ন মহলে প্রচার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না।

দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, একজন বিতর্কিত কর্মকর্তার কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নষ্ট হয়েছে, কর্মপরিবেশে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং চেইন অব কমান্ড দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দফতরের ভাবমূর্তি ও সংস্কার কার্যক্রম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন সচিবের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। মো. রাকিবুল আলম খান স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, উম্মে হাবিবা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সুনাম নষ্ট হয়েছে এবং একক সিদ্ধান্তে দফতর পরিচালনার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উপদেষ্টার দফতরের একজন কর্মকর্তাকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিজের অনুকূলে রাখার চেষ্টা করতেন উম্মে হাবিবা। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।




অবশেষে উঠে এল জিয়াউর রহমানের পলাতক খুনিকে গ্রেপ্তারের রুদ্ধশ্বাস অভিযানের গল্প

ডেস্ক নিউজঃ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা সাবেক মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিজের আসল পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি। মূলত মেয়ের কর্মস্থলের সূত্র ধরে এবং নাকের নিচে থাকা একটি জন্মদাগের ওপর ভিত্তি করে বুধবার (১৫ জুলাই) গভীর রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন অধরা থাকা এই আসামিকে ধরতে তার মেয়ের কর্মস্থলের তথ্যটি প্রথম সূত্র হিসেবে কাজ করে। তার মেয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক মাস ধরে মেয়ের গতিবিধি ও কর্মস্থল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে গোয়েন্দারা বনানী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাড়ি চিহ্নিত করেন। ছদ্মবেশে বাড়িটি নজরদারিতে রাখার পর মোজাফফরের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি পুরোনো ক্লু—নাকের ঠিক নিচে থাকা একটি আঁচিল বা কালো দাগ—শনাক্তকরণের প্রধান ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

বুধবার গভীর রাতে চূড়ান্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবির একটি চৌকস দল সাধারণ পোশাকে ওই বাসায় গিয়ে কড়া নাড়ে। দরজা খোলার পর গোয়েন্দারা সরাসরি কোনো অভিযান বা গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি না দেখিয়ে নিজেদের মেয়ের অফিসের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। এত রাতে অফিসের লোকজন আসায় ভেতর থেকে সন্দেহ নিয়ে এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি এগিয়ে আসেন এবং রাতে আসার কারণ জানতে চান।

ডিবির কর্মকর্তারা তখন কৌশলগতভাবে ওই ব্যক্তির চেহারা পর্যবেক্ষণ করেন এবং বাড়ির অল্প আলোতেই তার নাকের নিচে থাকা সেই পরিচিত জন্মদাগটি দেখতে পান। অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘মুরব্বি, আমরা তো আপনাকে চিনি না, আপনি কে? আমরা যার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, তার সঙ্গে দেখা করতে দিন।’ সরল বিশ্বাসে ওই ব্যক্তি উত্তর দেন, ‘আমি মোজাফফর, মেয়ের বাবা।’ নিজের মুখে এ কথা স্বীকার করার সঙ্গে সঙ্গেই এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে ডিবির দল তাকে হাতকড়া পরায়।

মামলার নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থান এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মেজর মোজাফফর। আক্রমণের রাতে তিনি ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন সরাসরি রাষ্ট্রপতির কক্ষের দিকে অগ্রসর হন। মোজাফফরই সশরীরে রাষ্ট্রপতিকে কক্ষের বাইরে এনে শনাক্ত করেন এবং ঠান্ডা মাথায় সরাসরি গুলি চালান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পরপরই মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোনে ইংরেজিতে একটি ঐতিহাসিক সংক্ষিপ্ত বার্তা দেন—‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’।

১৯৮১ সালের ৩১ মে সরকারি বাহিনী পুনরায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে এবং মেজর জেনারেল মঞ্জুর নিহত হলে মোজাফফর বুঝতে পারেন তার বাঁচার কোনো পথ নেই। পরবর্তীতে সামরিক আদালতে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হলেও মোজাফফর এবং তার সহযোগী মেজর এস এম খালেদ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে অবস্থানকালে তিনি নিজের আসল পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলেন। সম্পূর্ণ নতুন ছদ্মনাম ধারণ করে এবং চেহারা ও বেশভূষায় পরিবর্তন এনে তিনি সেখানে থাকতেন। কল ট্র্যাকিং এড়াতে পুরোনো চেনা পরিমণ্ডল ও পারিবারিক যোগাযোগের সব সূত্রও তিনি বিচ্ছিন্ন করেছিলেন। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালের দিকে তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করেন। কেবল ভারতেই নয়, ভুয়া নাগরিকত্ব ও জাল নথির সাহায্যে পাসপোর্ট তৈরি করে তিনি বিশ্বের একাধিক দেশ সফর করেছেন। এ কারণেই ইন্টারপোল বা বাংলাদেশের গোয়েন্দারা দীর্ঘ সময় তার আসল নামে কোনো হদিস পাননি।

জীবনের শেষভাগে এসে তিনি অত্যন্ত গোপনে বাংলাদেশে ফেরেন এবং রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকা বনানী ডিওএইচএসে বসবাস শুরু করেন। সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে এলাকাটি পরিচিত হলেও, সেখানে তিনি নিজেকে রাজনীতিবিমুখ এক বয়োবৃদ্ধ সাধারণ নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ফলে প্রতিবেশীদেরও সন্দেহ করার কোনো কারণ ছিল না।

গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, মোজাফফর হোসেন একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। এ কারণে প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে এবং তাদের নিজস্ব বিচারিক প্রক্রিয়ার (জুডিশিয়াল প্রসেস) অধীনে হস্তান্তর করা হয়েছে।




সন্ধ্যার মধ্যে আট অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের আটটি অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

একইসঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপের প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত পৃথক এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।