২২ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামকে ঘিরে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। ঠিকাদার, বিভাগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি এবং একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিল পরিশোধ এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিভিন্ন প্রকল্পে কার্যাদেশ প্রদান, কাজের পরিমাপ, বিল প্রস্তুত, অনুমোদন এবং চেক ছাড়ের মতো ধাপগুলোতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন দাবি করা হয়। তাদের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী সরাসরি অর্থ গ্রহণ না করলেও অধীনস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কমিশন আদায়ের একটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বিল দ্রুত ছাড় করাতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। যদিও এসব অভিযোগের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) খাতের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিল পরিশোধ, নিম্নমানের কাজ গ্রহণ এবং কিছু ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২২ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই ধরনের অনিয়ম বর্তমান সময়েও অব্যাহত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হাসপাতাল-২, ইন্টার্নি ছাত্র হোস্টেল, স্টাফ কোয়ার্টার, জরুরি বিভাগ, সিসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, বহির্বিভাগ (ওপিডি), পানি সরবরাহ ও স্যুয়ারেজ লাইনের সংস্কারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নকাজে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া হলেও কয়েকটি প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের গুণগত মান যথাযথভাবে তদারকি করা হয়নি। এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ছাদের পলেস্তারা খসে রোগী আহত হওয়ার ঘটনাও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল কোটেশন প্রক্রিয়াতেও সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের কিছু ফিনিশিং কাজ এবং বিল পরিশোধ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সের দাবি, অগ্রিম বিল ছাড়ের পর অতিরিক্ত কমিশন দাবি করা হয়েছে।

কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় নির্বাহী প্রকৌশলীকে অফিসে পাওয়া যায় না। তবে নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে সহযোগিতা দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কমিশন না দিলে বিল, ফাইল বা অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিলম্ব করা হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, টেন্ডার, বিল বা প্রকল্প-সংক্রান্ত কোনো পর্যায়ে তিনি আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন না। তাঁর নাম ব্যবহার করে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কমিশন আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও অভিযোগগুলোর তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পরও দীর্ঘ সময় নীরবতা বজায় থাকায় প্রশাসনিক জবাবদিহি ও সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি অর্থ ব্যয়, কাজের মান এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। তাদের দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো প্রয়োজন। তাদের ভাষায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।




বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব বেসরকারি খাতে গেলে সমাধান নাকি নতুন দুর্ভোগ?

ডেস্ক নিউজঃ খাতা কলমে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও লোডশেডিং কমেনি। দিনের পর দিন বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রিতে বাড়ছে ভর্তুকির পরিমাণও। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৬৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া বিলের চাপ।

সব মিলিয়ে নানামুখী সংকটে দেশের বিদ্যুৎ খাত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার যে ১৫টি খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে তার একটি বিদ্যুৎ। যেখানে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা।

কিন্তু এরপরও চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া লাগতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে এবার বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ- বিতরণ ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, উৎপাদন ও পাইকারি সরবরাহ সরকারের হাতে থাকলেও খুচরা পর্যায়ে গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছানো এবং এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বেসরকারি কোম্পানিকে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির কথাও জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।

কিন্তু বিদ্যুৎ বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব ব্যক্তিখাতে ছেড়ে দেওয়ার এই আলোচনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দায়িত্ব বদলালেই কি বিদ্যুৎ খাতে অব্যবস্থাপনার সমাধান মিলবে, নাকি নতুন করে বাড়বে গ্রাহকের বিল আর ভোগান্তি? এমন প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দায়িত্ব দিলেই যে বিদ্যুৎ খাতের অস্থিরতা কমে আসবে, এটি মনে করেন না জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা। বরং এর ফলে বিদ্যুতের দাম আরও বাড়তে পারে বলেই মত তাদের।

বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, বিদ্যুৎ খাতে সরকারের নীতিগত দুর্বলতার কারণেই গত ১৫ বছরে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও লোডশেডিং কমেনি। এক্ষেত্রে, বিতরণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়ার থেকে এই খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শক্তিশালী করা এবং জবাবদিহি জরুরি বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিদ্যুৎমন্ত্রী অবশ্য বলছেন, লাভক্ষতির হিসাব মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘ভর্তুকি যেটা দিচ্ছি, সেটাও সাধারণ মানুষের টাকা, আবার বিদ্যুতের দাম বাড়লে সেটাও দিচ্ছে ওই গ্রাহকই, দুই জায়গায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত। এই পরিস্থিতি ঠিক করতেই সরকার চিন্তাভাবনা করছে’।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
অব্যবস্থাপনা, ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা এবং বিশাল অঙ্কের আর্থিক লোকসানের মধ্য দিয়ে যাওয়া দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের আলোচনা নতুন নয়।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যায়ে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা এবং আমদানি প্রবণতা দুটোই বেড়েছে। এবার বিদ্যুতের খুচরা বিতরণ ব্যবস্থাপনাও বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া যায় কি না, এই আলোচনা সামনে আনলো সরকার।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, বিদ্যুৎ ও তেলের মতো রাষ্ট্রীয় কৌশলগত উপাদান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া কতটা যৌক্তিক হবে? এছাড়া আর্থিক চাপ কমাতে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর এবং সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে বা শিল্প খাতে এর প্রভাব কেমন হতে পারে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দেড় দশকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের চিত্রটি ছিল মূলত অপরিকল্পিত মেগা প্রকল্প আর আমদানি নির্ভরতার এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

বিশেষ করে, কুইক রেন্টালের নামে যত্রতত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং অলস বসিয়ে রেখে হাজার কোটি টাকার ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধের সংস্কৃতি পুরো অর্থনীতিতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ‘দেশের জ্বালানি খাতে ভয়াবহ জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে। যা উত্তরণে সরকারের নিয়ন্ত্রণ জরুরি।’

তার মতে, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা ঠিক না করে বেসরকারিকরণে বরং গ্রাহকের ব্যয় আরও বাড়বে। এক্ষেত্রে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দামের প্রসঙ্গ টানছেন এই বিশেষজ্ঞ।

অধ্যাপক বলেন, ‘পুরোপুরি বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণ কখনই সম্ভব হয়নি। বরং প্রাইভেটাইজেশনের চাপে রেগুলেটরি কালচারও ধ্বংস হয়ে গেছে’।

এছাড়া জ্বালানির মতো রাষ্ট্রীয় কৌশলগত উপাদান বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে গেলে সার্বভৌম বিপন্ন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসির ক্ষমতা ও কর্মকাণ্ড নিয়েও আপত্তি রয়েছে অনেক বিশেষজ্ঞের।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘বিইআরসির ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে নির্বাহী আদেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হচ্ছে, রেগুলেটরি সিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছে। এখন পুরো সেক্টর পুনর্গঠন না করে যদি বেসরকারি হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে বড়ো ধরনের সর্বনাশ হবে। এর ফলে সরকারও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়বে’।

অবশ্য ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বেসরকারিকরণের কিছু সুফলও রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ।

তাদের মতে, বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে সরকারি দীর্ঘসূত্রিতা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমতে পারে। এর পাশাপাশি সিস্টেম লস ও বকেয়া আদায়ও দ্রুত হতে পারে। যুক্তরাজ্য, ভারত ও তুরস্ক এই মডেলে সফল হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে।

কিন্তু এক্ষেত্রে শর্ত একটাই— শক্তিশালী, স্বাধীন ও দাঁত-নখওয়ালা রেগুলেটর। তাই বেসরকারি খাতে না দিয়ে বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শক্তিশালী করে কীভাবে বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করা যায়, সরকারকে সেই পথে হাঁটতে বলছেন তারা।

অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘প্রতি মুহূর্তে এই সেক্টরে ফৌজদারি কর্মকাণ্ড ঘটছে- সরকার নিজে বলছে চুরি হচ্ছে। কোনো একটা অপরাধের শাস্তি, কোনো রেগুলেটরি বডি দিয়েছে? যেসব দেশের উদাহরণ সরকার দিচ্ছে, সেখানে রেগুলেটরি ব্যবস্থাপনা এতটা নিষ্ক্রিয় নয়’।

এ বিষয়ে একমত বুয়েটের অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরীও। তিনি বলেন, ‘ডেসকো, পিজিসিবির শেয়ার সরকারের হাতেও আছে, মার্কেটেও ছাড়া হয়েছে। এতে কী উন্নতি হয়েছে, তার আলোচনা প্রয়োজন। প্রাইভেটে গেলেই বড় পরিবর্তন আসবে- এটা ঠিক না’।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে লুটপাটের উদাহরণ দিচ্ছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকে লুটপাটের পর আমানতকারীর টাকা সরকারকে ফেরত দিতে হচ্ছে, বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে পারে’।

বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে যেসব শঙ্কা
বিদ্যুতের বিতরণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ দেখছেন এই খাতের বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, বেসরকারি কোম্পানির মূল লক্ষ্য মুনাফা। তারা যদি কোনো অঞ্চলের একচেটিয়া দায়িত্ব পায়, তাহলে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে। এছাড়া বিদ্যুৎ পাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের বৈষম্য তৈরি হতে পারে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ।

তারা বলছেন, পাহাড়ি, দুর্গম বা কম জনবহুল এলাকায় বিদ্যুৎ দিতে খরচ বেশি, মুনাফা কম। ফলে বেসরকারি কোম্পানি সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহ নাও দেখাতে পারে।

সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাকে বেসরকারিকরণ করা হলে সেখানে কর্মরতদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষের শঙ্কাও রয়েছে।

এছাড়া, বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারিকরণের নামে কুইক রেন্টালের মতো অস্বচ্ছ চুক্তি করা হলে বিদ্যুৎ খাত জিম্মি করার সুযোগও তৈরি হতে পারে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, কাঠামোগত সমস্যার সমাধান না করে শুধু দায়িত্ব হস্তান্তর করলে রাষ্ট্রের আর্থিক চাপ কমবে না।

তিনি বলেন, ‘আগে চুক্তিগুলো রিভাইস করা দরকার। নীতিগত দুর্বলতা দূর না করে শুধু বিতরণ বেসরকারি খাতে দিলে লাভ হবে না’।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের যে-সব দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারিকরণ হয়েছে, সেখানে প্রথম কাজ ছিল শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। যাতে গ্রাহক হয়রানি এবং অন্যায় মূল্যবৃদ্ধি কঠোরভাবে দমন করা যায়।

আবার বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিইআরসির ক্ষমতা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। রেগুলেটর দুর্বল রেখে বাজার ছেড়ে দিলে তেলের মতো বিদ্যুতের দামও নিয়ন্ত্রণহীন হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন উপদেষ্টা।

যে যুক্তি দিচ্ছে সরকার
বর্তমানে সব উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে বিইআরসি নির্ধারিত দামে ছয়টি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবি।

সমস্যা হলো, পিডিবি যে দামে বিদ্যুৎ কেনে, তার চেয়ে কম দামে বিক্রি করে। যে লোকসান ভর্তুকির মাধ্যমে পুষিয়ে দেয় সরকার।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ খাতে ৬৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া বিলের দায় নিয়েই যাত্রা শুরু করেছে বর্তমান সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এমনকি জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও বেসরকারি খাতে দেওয়ার কথা সরকার ভাবছে বলেও জানান মন্ত্রী।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলছেন, ‘ডিস্ট্রিবিউশনটা আমরা প্রাইভেট করতে চাই এবং প্রাইম মিনিস্টার হ্যাজ গিভেন মি কনসেন্ট, ইউ গো অ্যাহেড।’

এক্ষেত্রে কয়েকটি যুক্তি দিচ্ছেন মন্ত্রী। তার মতে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দায়িত্ব দিলে দক্ষতা বাড়বে, বিল আদায় নিশ্চিত হবে, যা সহায়ক হবে এই খাতে সরকারের ভর্তুকির বোঝা কমাতে।

উদাহরণ হিসেবে ভারতের মুম্বাইয়ে রিলায়েন্স ও দিল্লিতে আদানির মডেলের কথা টেনেছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘কলকাতায় গোয়েঙ্কারা চালাচ্ছে, বোম্বেতে রিলায়েন্স চালাচ্ছে, দিল্লিতে আদানি- দে আর রানিং ভেরি ওয়েল, তো আমাদের কোম্পানিরা কেন পারবেনা চালাতে?’

বিতরণ ব্যবস্থাপনা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হলে বিদ্যুৎ বিল আরও বাড়বে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিল তো এমনিতেই বাড়াতে হবে, আমরা ১৭ টাকায় কিনে আট টাকায় বিক্রি করছি- সরকার আর কত ভর্তুকি দিতে পারবে?’

বিদ্যুতের সরবরাহ, চুরি ঠেকানো এবং বিল আদায় কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়াতে বেসরকারি খাত ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে বলেই মনে করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো চেষ্টা করলাম, সরকার নিজেই কোম্পানি পলিসিতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম চালালো, কই খুব একটা তো লাভ হলো না। তাই আমরা বেসরকারি খাতে এই দায়িত্ব দেওয়া যায় কিনা ভাবছি, যাতে মানুষ সেবাটা ঠিক মতো পায়’।

এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কথাও জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও তেলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই পদক্ষেপ যে এখনই বাস্তবায়ন হয়ে যাচ্ছে বিষয়টি এমন নয়। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে ভাবছি, স্টাডি করছি যে কীভাবে বিষয়টিকে যৌক্তিক করা যায়।’




দুপুর ১টার মধ্যে দেশের তিন অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের তিন জেলার ওপর দিয়ে আজ দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এ কথা জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

তাই এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : প্রায় আড়াই দশক পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের সফরের পর এই প্রথম সেখানে দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজে অংশ নেবে টাইগাররা। শুক্রবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ঢাকা ছেড়েছে বাংলাদেশ দল।

সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ায় একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সফরকারীরা। এরপর ১৩ আগস্ট ডারউইনে মাঠে গড়াবে প্রথম টেস্ট। দুই ম্যাচের এই সিরিজের শেষ লড়াই শুরু হবে ২২ আগস্ট, ম্যাকাইয়ে।

যদিও বহুল প্রতীক্ষিত এই সফরের আগে দুঃসংবাদ পেয়েছে বাংলাদেশ শিবির। সাইড স্ট্রেনের চোটে আক্রান্ত হওয়ায় পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন গতিময় পেসার নাহিদ রানা। তার অনুপস্থিতি বাংলাদেশের পেস আক্রমণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রথম টেস্টের দলে নেই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান লিটন দাস এবং বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামও। দুজনই চোট থেকে সেরে ওঠার পথে রয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে তাদের মাঠে দেখা যেতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। সেই লড়াইয়ে একমাত্র জয়ের স্মৃতি ২০১৭ সালে মিরপুরে। অন্য পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হার মানতে হয়েছে টাইগারদের। তাই দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এবার অতীতের হতাশা পেছনে ফেলে নতুন অধ্যায় রচনার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।




সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪-৫ বছরেই অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চার ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তা অনুধাবন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই স্বীকার করছি যে, অনেক সমস্যা আছে। সরকার নিশ্চয়ই এতটুকু প্রমাণ করতে পেরেছে যে, আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের বয়স এখনো ছয় মাস হয়নি। এর মধ্যেই আমরা কয়েক দফা বৈঠক করেছি। প্রথমে আপনাদের সঙ্গে বসেছি, পরে ফোরামের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। সেক্টরভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি।’

আগের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেগুলোর অনেকগুলোরই সমাধান হয়েছে। আজকের বৈঠকেও নতুন কিছু সমস্যার কথা উঠে এসেছে। সেগুলো নিয়েও সরকার কাজ করবে।

তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবে সরকার।

তাঁর ভাষায়, ‘আমরা যত বেশি বসতে পারব, তত বেশি আপনাদের সমস্যাগুলো জানতে পারব এবং সেগুলোর সমাধান করতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনা হলে কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়। এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ২১টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি সাতটি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ সময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রূপরেখাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




তীব্র গরমে কর্মঘণ্টা হারানোর শঙ্কা, দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে ঢাকা

ডেস্ক নিউজ : দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরম গরমের কারণে কর্মঘণ্টা হারানোর দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে ঢাকা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হলে আগামী কয়েক দশকে এই সংকট বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

‘বসবাসযোগ্য ভবিষ্যৎ: দক্ষিণ এশিয়ার শহরে চরম তাপের মধ্যে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি সুরক্ষার উপায়’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় তাপপ্রবাহের কারণে যে পরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হবে, তা প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ। এটি ওই সময় রাজধানীর মোট বার্ষিক কর্মঘণ্টার প্রায় ৩ শতাংশের সমান। অর্থাৎ প্রচণ্ড গরম শুধু মানুষের কর্মক্ষমতাই কমিয়ে দিচ্ছে না, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ২০৫০ সালে এই ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭ লাখ ৮ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ। আর ২০৮০ সালে কর্মঘণ্টা হারানোর পরিমাণ বেড়ে হবে প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমান। তখন তাপজনিত কারণে মোট কর্মঘণ্টা হারানোর হার ৭ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার আটটি বড় শহরের তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এসব শহরের মধ্যে রয়েছে ঢাকা, নয়াদিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই, আহমেদাবাদ, সুরাট ও বারানসি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০৩০ সালে কলকাতায় প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার এবং নয়াদিল্লিতে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই দুই শহরের তুলনায় ঢাকার ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও তাপপ্রবাহের প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশের অর্থনীতিতে আনুমানিক ১৩০ কোটি থেকে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় শূন্য দশমিক ৩ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের সমান। বিশেষ করে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠলে এই ক্ষতির মাত্রা আরও দ্রুত বাড়তে থাকে।

বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় যে তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে, তা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র। ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের ৭০ কোটির বেশি মানুষ এমন অঞ্চলে বসবাস করেন, যেখানে বছরে অন্তত একদিন বাইরের তাপমাত্রা মানুষের সহনক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে। আবার প্রায় ১২ কোটি মানুষ প্রতিবছর অন্তত এক মাস ধরে চরম তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হন। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি কর্মক্ষমতা ও জীবিকার ওপরও গুরুতর প্রভাব পড়ছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ইতিবাচক উদ্যোগেরও প্রশংসা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, পানিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি এবং উন্নত কর্মপরিবেশে বিনিয়োগের জন্য ২০১৬ সালে চালু হওয়া ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশে ২৭০টির বেশি কারখানা আন্তর্জাতিক লিড সনদ অর্জন করেছে। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের পোশাক খাতের রপ্তানিতে সর্বোচ্চ ৬৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ভারতের আহমেদাবাদের ‘হিট অ্যাকশন প্ল্যান’-এর কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সমন্বিত প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং স্থানীয় প্রস্তুতির মাধ্যমে সেখানে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় প্রতি ১ ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে প্রায় ৫০ ডলারের সমপরিমাণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়।

এদিকে, জার্মান গবেষণা ও নীতি পরামর্শ প্রতিষ্ঠান অ্যাডেলফি গ্লোবালের পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কৃষি ও নির্মাণ খাতের শ্রমিকেরা বছরে গড়ে প্রায় ২৩ দশমিক ৭৫ কর্মদিবসের সমপরিমাণ কাজ হারাতে পারেন। বর্তমানে এই দুই খাতে কর্মঘণ্টা হারানোর হার ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন, কারণ তাঁদের অধিকাংশেরই স্বাস্থ্যবিমা, বেতনসহ ছুটি কিংবা আয়ের নিরাপত্তা নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, চরম তাপপ্রবাহ শুধু অর্থনীতি নয়, দেশের সামাজিক বাস্তবতাকেও নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কর্মঘণ্টা কমে যাওয়া, উৎপাদনশীলতা হ্রাস, স্বাস্থ্য ব্যয় বৃদ্ধি এবং আয় কমে যাওয়ার ফলে দারিদ্র্যের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতায় শ্রমিক সুরক্ষা, তাপসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।




বিশ্ববাজারে এক দিনেই তেলের দাম বেড়েছে ১ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম শুক্রবার এক দিনেই ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার বা ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানের হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি তেলের ট্যাংকার ঘুরিয়ে দেওয়ার খবরে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে তেলের বাজার গত মার্চের পর সবচেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধির রেকর্ড করেছে।

শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০.১২ ডলারে এবং ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে ৮৪.৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। শুধু জুলাই মাসেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২১ শতাংশ বেড়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘গেলবার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’-এর মতে, হরমুজের মতো গুরুত্বপূর্ণ পথে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এখনও প্রবল। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের বাণিজ্যিক মজুত ২০১৮ সালের পর এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইরানের ‘ফারস নিউজ’ জানিয়েছে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস সম্প্রতি দুটি ট্যাংকার আটকে দিয়েছে এবং আরও চারটি পথ বদলাতে বাধ্য হয়েছে। শুক্রবার মাত্র দুটি বড় ক্রুড ক্যারিয়ার প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হুমকি দিচ্ছে। এর জেরে ওই অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে জোট গঠনের চেষ্টা করছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার ২৯টি পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে।

হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব তেহরান প্রত্যাখ্যান করলেও ওমানের সাথে তাদের আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও সংঘাত বাড়ছে। শুক্রবার ইউক্রেনের সেনাবাহিনী রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে হামলার কারণে সুয়েজ খালের জাহাজ চলাচলও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এসব সংকটের মাঝেও কাজাখস্তান দীর্ঘ সময় পর জর্জিয়ার বাতুমি বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়ীরা এখন যুদ্ধের চেয়ে জাহাজ চলাচলের তথ্যের ওপর বেশি নজর রাখছেন। মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদন ২ শতাংশ কমলেও রপ্তানি টানা দ্বিতীয় মাসের মতো রেকর্ড গড়েছে। অন্যদিকে, দাম বাড়ায় মে মাসে তেলের বৈশ্বিক চাহিদা সাড়ে ৩ শতাংশ কমেছে। রয়টার্সের এক জরিপে বলা হয়েছে, চলতি বছর তেলের দাম আরও বাড়বে এবং ২০২৬ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম হবে ৮৫.২২ ডলার।




অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে সৌদির সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেফতার ১৪ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে এক সপ্তাহে ১৪ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে সৌদি আরব। এ সময় গ্রেফতার হওয়া ১২ হাজার ৬১৩ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৩ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট ১৪ হাজার ১৫৪ জন প্রবাসীকে আটক করা হয়।

গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৭ হাজার ১০৩ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৬৫৪ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৩৯৭ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও ১ হাজার ৪১৮ জনকে এবং বেআইনিভাবে দেশ ত্যাগের চেষ্টার সময় ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ৩০ হাজার ৬৭৯ জন ব্যক্তি আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৯০৩ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার ৪২৪ জনকে দেশে ফেরার আগে ভ্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা, আশ্রয় বা পরিবহন সুবিধা দিলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বসবাস এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক সেখানে কর্মরত রয়েছেন।




সোনারগাঁয়ে দুই হাসপাতালকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুটি বেসরকারি হাসপাতালকে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে গুরুতর ত্রুটির কারণে একটি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সিলগালা করা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাঁচপুর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইরুজ তাসনিম।

ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে রয়েল স্পেশালিস্ট হাসপাতাল এবং মেডি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে দেখা যায়, উভয় প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি। এছাড়া মেডিকেল বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ না করে অপরিকল্পিতভাবে ফেলা হচ্ছিল। প্যাথলজি ল্যাবেও প্রয়োজনীয় মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি, যা রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এসব অনিয়মের দায়ে রয়েল স্পেশালিস্ট হাসপাতালকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মেডি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময়ই জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়। এছাড়া মেডি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে গুরুতর অনিয়ম শনাক্ত হওয়ায় সেটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইরুজ তাসনিম বলেন, জনগণের নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে চলবে। অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি হলেন কাজী সালাহউদ্দিন

ক্রীড়া ডেস্ক : টানা পঞ্চমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

শনিবার ভুটানের থিম্পুতে আয়োজিত সাফের কংগ্রেসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংস্থাটির সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের এই সাবেক তারকা ফুটবলার।

জানা যায়, সাফের কার্যনির্বাহী কমিটির এই নির্বাচনে সভাপতি পদে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন কাজী সালাউদ্দিন। ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো ভোটাভুটি ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে কংগ্রেস।

সাফের গঠনতন্ত্রের ২৪.২ ধারা অনুযায়ী, কোনো পদের বিপরীতে প্রার্থীর সংখ্যা যদি শূন্য পদের সমান বা কম হয়, তবে কংগ্রেসের অনুমোদনে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। সেই ধারা বলেই আগামী এক মেয়াদের জন্য নিজের চেয়ার সুরক্ষিত করেছেন ৭১ বছর বয়সী এই ক্রীড়া সংগঠক।

২০০৯ সাল থেকে টানা সাফের সভাপতির পদটি নিজের দখলে রেখেছেন কাজী সালাউদ্দিন। তবে বয়সজনিত কারণে এবার তার প্রার্থিতা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু গত বছর শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সংস্থার এক বিশেষ সাধারণ সভায় গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ৭০ বছরের বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়। মূলত এই সংশোধনের মাধ্যমেই আবারও সাফের সর্বময় কর্তার আসনে বসার সুযোগ পেলেন সালাউদ্দিন।