সব বিভাগেই বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের সব বিভাগেই বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে শিলাবৃষ্টিও। বৃহস্পতিবার এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানিয়েছেন, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।




আগামীকাল হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ আগামীকাল শুক্রবার হজ ফ্লাইট-২০২৬ এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বর্ধিত ফ্লাইট সিডিউল ও হ্রাসকৃত বিমান ভাড়ায় হজ ব্যবস্থাপনার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হজ ফ্লাইট ২০২৬-এর উদ্বোধন করবেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালন করবেন ৭৮ হাজার ৫০০ জন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় ৪১৯জন যাত্রী নিয়ে শুরু হবে হজের প্রথম ফ্লাইট।

এ উপলক্ষে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে চলছে সব শেষ প্রস্তুতি। এবার কমানো হয়েছে টিকিট মূল্য।

গতবারের তুলনায় ১২ হাজার টাকা কমে টিকিট কিনতে পারছেন হজযাত্রীরা। এরই মধ্যে সৌদি আরব পৌঁছেছে ১৭১ জনের মেডিকেল টিম।




বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিট ব্যুরোর সদস্য কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর স্মরণে শোকসভা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের আপসহীন বিপ্লবী নেতা কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর শোকসভা আগামীকাল ১৭ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার, বিকাল ৪টায়, ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। শোকসভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শোকসভা আয়োজক জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি ব্রিগেঃ জেনাঃ (অবঃ) ডাঃ এম. জাহাঙ্গীর হোসেন। শোকসভা সফল করতে সর্বস্তরের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সকল গণতান্ত্রিক ব্যক্তি, শক্তি ও সংগঠনের নেতা-কর্মি-দরদি-সমর্থকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হলো।

উল্লেখ্য, কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল) ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-এ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিট ব্যুরোর সদস্য। তিনি ১৯৫১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানার পদ্মা পাড়ের ফারাকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুর রহিম রেলওয়েতে কর্মরত ছিলেন এবং মা আমেনা খাতুন ছিলেন গৃহিনী। তিনি ৫ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে বড় বোনের পর দ্বিতীয় এবং ভাইদের মধ্যে বড় ছিলেন। তিনি দৌলতপুর মহসিন স্কুল থেকে ১৯৬৭ সালে মেট্রিক এবং ১৯৬৯ সালে বিএল কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন। ১৯৬৯-৭০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবস্থায় পার্টি বিপ্লব অগ্রসর করার লক্ষ্যে ব্যক্তিগত সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার মোহ ত্যাগ করে সার্বক্ষণিক বিপ্লবী কর্মি হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। এ সময়টা দক্ষিণ এশিয়া ও পাকিস্তানের রাজনীতিতে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার যেমন মুখোমুখি অবস্থান ছিলো, তেমনই বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল বিরোধী গণআন্দোলন-গণসংগ্রাম ও বিপ্লবের ছিল উত্তাল সময়। এ সময়ে বিশ্বের পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এবং নয়াঔপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী দেশগুলোতে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব তথা বিশ্ববিপ্লবকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত তীব্রতর হয়ে উঠে।

সমাজাতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৫৩ সালে কমরেড স্ট্যালিনের মৃত্যু এবং ১৯৫৪ সালে সংশোধনবাদী ক্রুশ্চেভ চক্র ক্ষমতাসীন হয়ে ১৯৫৬-এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬০-এর দশকে ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ সংশোধনবাদ সামনে আনা হলে এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহাবিতর্ক শুরু হয়। প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল) এই মহাবিতর্কে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) বিকল্প বিপ্লবী ধারার পক্ষে থাকেন। তিনি ১৯৬৮-৬৯-এর গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে খুলনায় মন্ত্রী সবুর খানের বাড়ী ঘেরাও কর্মসূচির রূপকার ও নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সভ্যপদ লাভ করেন। ১৯৭০-৭১ সালে পার্টির খুলনা জেলা কমিটির নবীন ও সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭১ সালের বিপ্লবী যুদ্ধে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চীন ঘেরাও নীতির প্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার ভারতের সাথে যুক্ত হয়ে ১৯৬২-এর চীন-ভারত যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ১৯৬৫ সালে ভারতকে দিয়ে পাক-ভারত যুদ্ধ সংঘটিত করে। এতে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬৬ সালে আওয়ামীলীগকে দিয়ে ৬-দফার আন্দোলন প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানকে দ্বিখন্ডিত করার পরিকল্পনায় অগ্রসর হয়। এ সময়ে প্রতিপক্ষ সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদও বসে থাকে না। এ প্রেক্ষিতে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে যুদ্ধ শুরু হয়।

প্রতিবিপ্লবী এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী যুদ্ধ গড়ে তোলা হয়। দেশব্যাপী বিপ্লবী যুদ্ধকে অগ্রসর করার প্রেক্ষিতে ‘গণমুক্তি ফৌজ (PLA-Peoples Liberation Army)’ গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিপ্লবী সেনাবাহিনী, গেরিলা স্কোয়াড, ঘাঁটি এলাকা, মৌসুমি ঘাঁটি এলাকা ইত্যাদি গড়ে তুলে বিপ্লবী যুদ্ধকে অগ্রসর করা হয়। খুলনা জেলার বিভিন্ন লড়াইতে গুরুত্বপূর্ণ ও নেতৃত্বকারী ভূমিকা পালন করেন কমরেড রউফ। এ সময়ে ২৬ নভেম্বর ১৯৭১ সালে কমরেড রউফ গুলিতে আহত হন। আহত হয়ে প্যারালাইজড অবস্থায় তাকে স্ট্রেচারে করে চলাচল করতে হতো। এ সময়ে এলাকার পতন না হওয়া পর্যন্ত তিনি নৌকায়, পায়ে পায়ে স্ট্রেচারে করে বিভিন্ন অঞ্চলে বিপ্লবী সেনাবাহিনীর সাথেই থাকতেন। বাংলাদেশ হওয়ার পর ১৯৭২ সালে কমরেড রউফকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়। তাঁর চিকিৎসায় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। চিকিৎসায় কমরেড আব্দুর রউফ জীবনে বেঁচে গেলেও তাঁর নিম্নাঙ্গ অর্থাৎ মেরুদন্ডের নীচের অংশ দুই পা অকার্যকর হয়ে যায়। তখন থেকে তিনি পায়ে ভর করে চলাফেরা করতে পারতেন না। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং ক্রাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করতেন। কোলকাতা থেকে ফিরে আসার পর তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে চলেন। ফিরে আসার পর প্রথমে খুলনা জেলার সাথে যুক্ত হন।

বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনে মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামে তিনি উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর আন্তর্জাতিকতাবাদী লাইনের পক্ষে কমরেড রউফ দৃঢ় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনে সামরিক শাসক মার্কিনের দালাল জিয়াউর রহমান সরকারকে মোহাম্মাদ তোয়হা’র নেতৃত্বে সাম্যবাদী দল ‘দেশপ্রেমিক সরকার’ এবং ইদ্রিস লোহানী-সত্য মৈত্রী’র নেতৃত্বে বিসিপি (এম-এল)’র ‘জাতীয় সরকার’ হিসেবে বক্তব্য প্রদান করে। এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) বাংলাদেশ একটি নয়াঔপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্র এবং জিয়াউর রহমানকে মার্কিনের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে পাটির্র মূল্যায়ন উর্ধ্বে তুলে ধরা হয়। এ প্রেক্ষিতে কমরেড রউফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৭ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রদত্ত সংশোধনবাদী ‘তিন বিশ্ব তত্ত্ব’-এর বিরুদ্ধে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পার্টির তুলে ধরা মার্কসবাদ-লেনিনবাদী লাইনকে প্রতিষ্ঠায় তিনি নেতৃত্বকারী ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৩ সালে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ পার্টি কংগ্রেসে পার্টির তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে মাও সেতুং চিন্তাধারা বাদ দিয়ে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, পার্টির সামরিক লাইন উন্নত করতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা গ্রহণ এবং কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য হিসেবে কমরেড রউফ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত বিশেষ কংগ্রেসে মাও সেতুং চিন্তাধারার মূল্যায়ন ও এর স্বরূপ উন্মোচনে কমরেড আবদুল হক-এর সাথে তিনি অনন্য ভূমিকা গ্রহণ পালন করেন।

১৯৯০-৯১ সালে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনে সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় যে মহাবিপর্যয় সৃষ্টি করা হয় তা মোকাবেলায় কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে নির্ধারিত সময়ের এক বছর এগিয়ে এনে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম পার্টি কংগ্রেসে পার্টির নেতৃত্বে সকল রূপের সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ভিত্তিতে পার্টি লাইনে সংগঠন-সংগ্রাম পরিচালনার যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় তা কার্যকরী করতে ৮ম কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত হয়। কমরেড আবদুল হক-এর জীবদ্দশায় কমরেড আব্দুর রউফ পার্টির ৮ম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৫ সালে কমরেড আবদুল হক-এর মৃত্যুকে তাৎপর্যমন্ডিত করাসহ বাংলাদেশে বিসিপি’র ট্রটস্কিবাদী অবস্থান থেকে সংশোধনবাদের স্বরূপ উন্মোচন করে মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামকে সফল পরিণতিতে নেওয়া হয়। কমরেড আব্দুর রউফ-এর নেতৃত্বে ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত পার্টির ৯ম পার্টি কংগ্রেসে পার্টির সামরিক লাইনে সশস্ত্র সংগ্রাম ও বিপ্লবী যুদ্ধের সাথে গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থানের সার্থক সমন্বয় সাধনের প্রেক্ষিতে সামরিক লাইন উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৯ম কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে অব্যাহত থাকেন। শারীরিক কারণে ২০০৬ এবং ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত দশম ও একাদশ কংগ্রেসে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে না থাকলেও কার্যত তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর তাত্ত্বিক নেতা।

কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর মৃত্যুতে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর কেন্দ্রীয় কমিটি গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তাঁর অসমাপ্ত বিপ্লবী দায়িত্ব পালনে দীপ্ত শপথ গ্রহণ করছে। তাঁর মৃত্যুতে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দিপুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী আন্দোলনের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হলো। একই সাথে দেশের শ্রমিক-কৃষক-জনগণ হারালো তাদের অকৃত্রিম বন্ধু ও বিপ্লবী নেতাকে । কমরেড মুকুল ছিলেন দৃঢ়, সাহসী, নীতিনিষ্ঠ, প্রখর ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী আপসহীন কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা। তিনি সর্বদা দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদী দর্শন এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে ভিত্তি করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতেন। কমরেড আবদুল হক-এর মৃত্যুর পর কমরেড রউফ ছিলেন এ দেশের কমিউনিস্ট বিপ্লবের অবিসংবাদিত তাত্ত্বিক নেতা। সদালাপি, সদা হাস্যমুখ এবং সৎ চরিত্রের অধিকারী এ মহান বিপ্লবী শ্রমিক-কৃষক-জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে পার্টি ও বিপ্লবের স্বার্থকে সর্বদা অগ্রাধিকার দিয়েছেন। জনগণের প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং সহযোদ্ধাদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ছিলো কমরেড আব্দুর রউফ-এর জীবনের অন্যতম সুমহান বৈশিষ্ট্য। কমরেড আব্দুর রউফ-এর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত বিপ্লবী দায়িত্ব পালনে আজ প্রয়োজন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অগ্রসর করা।




প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন আজ

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ পদক তুলে দেবেন তিনি।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৪ ব্যক্তি হলেন- মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো-মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।




বাংলাদেশকে ২ কোটি ১৯ লাখ হাম-রুবেলার টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের শিশুদের জন্য ২ কোটি ১৯ লাখের বেশি হাম-রুবেলার জরুরি টিকা দেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইউনিসেফের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করছে। এই কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ১৯ লাখের বেশি টিকা প্রদান করা হবে, যা পাঁচ বছরের কম বয়সী ১ কোটি ২০ লাখ শিশুকে সুরক্ষা দেবে।

এই উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজির প্রতিফলন। বিদেশে রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ-উভয় দেশকেই নিরাপদ রাখে, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং সংক্রামক রোগ থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখে।




জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

ডেস্ক নিউজঃ সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও তিনি জানান।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ৫টি জেলার (খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী) জনসাধারণকে ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। এই ই-হেলথ কার্ড ইলেকট্রনিক রোগী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার জন্যই আমরা কিছু না কিছু রেখেছি। শ্রমিক হোক, কৃষক হোক, দিনমজুর হোক, খেটে খাওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হোক, প্রত্যেকের জন্য আমরা কিছু না কিছু রেখেছি।

তারেক রহমান বলেন, দেশ পরিচালনার জন্য বিএনপিকে বিগত নির্বাচনে এদেশের মানুষ বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করেছে। এই দলের কমিটমেন্ট হচ্ছে দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। সেজন্যই আমাদের ম্যানিফেস্টোতে শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য যেরকম পলিসি গ্রহণ করেছি, একইভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। যাতে তারা ধীরে ধীরে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারে। সেজন্য আমরা বিভিন্ন রকম পলিসি গ্রহণ করেছি। এমনকি বিভিন্ন রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।  সেটা বাস্তবায়নের কাজও আমরা শুরু করে দিয়েছি।




দেশের বাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ডেস্ক নিউজঃ দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করেছে। 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ৯ এপ্রিল সংগঠনটি স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেসময় প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ দফা দাম বেড়েছে এবং ২৩ দফা কমেছে।

এর আগে, গত বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয়ের মধ্যে ৬৪ বার বাড়ানো ও ২৯ বার কমানো হয়েছিল।




বিলাসবহুল হোটেলে সাজানো ফাঁদ: ভুয়া ঐতিহাসিক নিদর্শনে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠলো কৃষকলীগ নেতা মাকসুদ–সোহেলের বিরুদ্ধে

এসএম বদরুল আলমঃ দেশজুড়ে নীরবে বিস্তার ঘটেছে এক ভয়ংকর প্রতারণা সাম্রাজ্যের—যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগের দুই প্রভাবশালী নেতা মাকসুদুল ইসলাম ও মাজারুল ইসলাম সোহেল। “প্রাচীন পিলার ও কয়েন” নামের এক অভিনব প্রতারণার ফাঁদ পেতে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে তাদের নেতৃত্বাধীন একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রতারণা নয়—বরং সুপরিকল্পিত, উচ্চপর্যায়ের টার্গেটিং ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশল প্রয়োগ করে গড়ে তোলা একটি শক্তিশালী অপরাধচক্র।

বিলাসবহুল ফাঁদে ‘ঐতিহাসিক সম্পদ’ নাটক : সোহেলের নেতৃত্বে পরিচালিত চক্রটি সাধারণ ধাতব বস্তু, পাথর কিংবা সিলিন্ডার আকৃতির জিনিসকে বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কৃত্রিমভাবে “প্রাচীন” রূপ দিত। প্যাটিনা, দাগ, ক্ষয়—সবকিছু নিখুঁতভাবে সাজিয়ে এগুলোকে দুর্লভ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। এরপর শুরু হতো মূল খেলা—ঢাকার পাঁচতারকা হোটেলের লাউঞ্জ, কনফারেন্স রুম কিংবা অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজন করা হতো ব্যক্তিগত প্রদর্শনী। নিজেকে “বিশেষজ্ঞ” পরিচয়ে উপস্থাপন করে সম্ভ্রান্ত ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের সামনে তৈরি করা হতো এক ধরনের বিশ্বাসযোগ্যতার আবহ। “গোপন বিনিয়োগ সুযোগ”, “আন্তর্জাতিক কালেক্টরদের চাহিদা”—এমন সব গল্পে মোহিত করে কোটি কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন করা হতো।

কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ : ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে—
প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. এস বি ইকবালের কাছ থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা, ডজলেন গ্রুপের আরিফের কাছ থেকে প্রায় ১৬ কোটি টাকা এবং সিবিএম গ্রুপের জয়নাল ওরফে জামান সাহেবের কাছ থেকে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা।
এ তালিকা এখানেই শেষ নয়—অভিযোগ রয়েছে, আরও বহু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, যার প্রকৃত পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
লেনদেন শেষে প্রতারকেরা হঠাৎ করেই গা ঢাকা দিত অথবা ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে সময়ক্ষেপণ করত। পরবর্তীতে পরীক্ষাগারে যাচাই করে দেখা গেছে—এসব তথাকথিত “প্রাচীন নিদর্শন” আসলে সম্পূর্ণ ভুয়া।

দেশজুড়ে বিস্তৃত প্রতারণা নেটওয়ার্ক : ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন শতাধিক মানুষ। উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী, এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও রেহাই পাননি এই সুসংগঠিত প্রতারণা থেকে।

জমি জালিয়াতিতেও জড়িত একই সিন্ডিকেট ? অন্যদিকে, একই চক্রের আরেক মুখ—মাকসুদুল ইসলাম—ইতোমধ্যে জমি জালিয়াতির মামলায় কারাগারে। মিরপুরের বাউনিয়া এলাকায় এক ব্যক্তির জমি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।

সিআইডি তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে বিচারক মাকসুদুল ইসলামসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি—অর্থ প্রতারণা ও জমি জালিয়াতি, এই দুই অপরাধই একই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে।

প্রমাণের পাহাড়, তবুও প্রশ্ন—কখন হবে বিচার ? ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যে ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, রশিদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কথোপকথন, প্রদর্শিত বস্তু এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। তবুও এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের দৃশ্যমান আইনি অগ্রগতি না থাকায় প্রশ্ন উঠছে—এই শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে আদৌ কি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা :
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, “প্রাচীন” দাবি করা যেকোনো বস্তু যাচাই ছাড়া কেনা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া এসব দাবির কোনো ভিত্তি নেই। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের আওতায় পড়ে—যার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

আস্থার সংকটে সমাজ :
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সিন্ডিকেট কেবল অর্থ লুটেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি সমাজে আস্থার গভীর সংকট তৈরি করছে। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে যদি এ ধরনের প্রতারণা বারবার পার পেয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

শেষ কথা : “দুর্লভ সম্পদ”, “গোপন বিনিয়োগ”, “অস্বাভাবিক লাভ”—এসব শব্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ংকর প্রতারণা। সংশ্লিষ্টরা তাই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—যাচাই ছাড়া কোনো বড় বিনিয়োগ নয়, আর সন্দেহজনক প্রস্তাব দেখলেই সতর্ক থাকুন। এখন দেখার বিষয়—শত কোটি টাকার এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার জাল ভেদ করে সত্য কতদূর সামনে আসে, আর বিচার কতটা নিশ্চিত হয়।




শ্রমিকলীগ থেকে ‘বিএনপি ঘরানা’: পরিচয় বদল, নির্যাতন-দখলদারিত্বের অভিযোগ আরও ভয়ঙ্কর

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ভবনের নিচতলায় ভয়ঙ্কর এক ‘টর্চার সেল’ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকলীগের সাবেক নেতা মাজহার, আক্তার ও শফিক গং-এর বিরুদ্ধে—যারা বর্তমানে নিজেদের ‘বিএনপি ঘরানার’ পরিচয়ে নতুন করে সক্রিয় হয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক পোস্ট ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রমিক সংগঠনের নামে বরাদ্দকৃত নিচতলার কার্যালয়টি দখল করে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

লিফট অপারেটরকে নির্যাতনের অভিযোগ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, সকাল প্রায় ১০টার দিকে ভবনের নিচতলায় লিফট অপারেটর মিজান নামে এক কর্মচারীকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তার চিৎকারে অন্যান্য কর্মচারীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় আহত মিজান বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পূর্বেও একাধিক নির্যাতনের অভিযোগ : ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে আজিজুল ইসলাম, মজিবুর রহমান, নুরুল আলম ও আক্কাস হোসেনসহ আরও অনেক কর্মচারী একই ধরনের মারধর ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

শ্রমিকলীগ থেকে ‘হাইব্রিড বিএনপি’—পরিচয় বদলের অভিযোগ : অভিযোগ রয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শ্রমিকলীগের ব্যানারে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। সেই সময় সংগঠনটিকে ব্যবহার করে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, দখলদারিত্ব ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও ওঠে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তারা হঠাৎ করেই ‘বিএনপি ঘরানার’ পরিচয়ে নতুন কমিটি নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মচারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, “পরিচয় বদলালেও চরিত্র বদলায়নি—বরং আগের চেয়েও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

অফিসের বাইরে কর্মস্থল, কিন্তু প্রভাব মতিঝিলে : অভিযোগ অনুযায়ী, মাজহারের বর্তমান কর্মস্থল বরিশালে হলেও তিনি নিয়মিত মতিঝিল অফিসে অবস্থান করেন। একইভাবে তার সহযোগী শফিকুল ইসলামের কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জ হলেও তিনিও নিয়মিত মতিঝিলে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ। এদের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য এবং দখলদারিত্বের মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন কর্মচারীরা।

কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন :
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কীভাবে এমন ‘টর্চার সেল’ গড়ে ওঠে? কেন প্রশাসন নীরব?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী দাবি করেন, “উচ্চপর্যায়ের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তার ছত্রছায়া থাকায় তারা এতদিন ধরে পার পেয়ে যাচ্ছে।”

ভয় আর আতঙ্কে মুখ খুলতে নারাজ কর্মচারীরা : টর্চার সেলের আতঙ্কে অধিকাংশ কর্মচারী প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি নন। তবে তাদের দাবি—এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।




নতুন তালিকায় ভিসা ছাড়াই ৩৬ দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

ডেস্ক নিউজঃ বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই ধাপ পিছিয়ে এখন ৯৫তম। আগের তালিকায় দেশের অবস্থান ছিল ৯৩তম। নতুন এই সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা এখন আগাম ভিসা ছাড়াই ৩৬টি দেশে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

সম্প্রতি হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত বৈশ্বিক পাসপোর্ট র‌্যাংকিংয়ে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের জন্য ভিসামুক্ত বা সহজ ভ্রমণ সুবিধার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- বার্বাডোজ, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ, কোমোরোস, কুক দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মাইক্রোনেশিয়া ও মন্টসেরাট।

এছাড়াও রয়েছে- নেপাল, নিউই, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস, গাম্বিয়া, তিমুর-লেস্তে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, টুভালু এবং ভানুয়াতু।

এর মধ্যে কিছু দেশ ও অঞ্চলে অন-অ্যারাইভাল ভিসা, অর্থাৎ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভিসা নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। আবার কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে ভ্রমণের আগে ই-ভিসা নিতে হবে।

অপরদিকে আগের তালিকার মতো নতুন তালিকাতেও সিঙ্গাপুর শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সূচক অনুযায়ী, তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন। চতুর্থ অবস্থানে আছে- বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন এবং সুইজারল্যান্ড। এছাড়া পঞ্চম স্থানে রয়েছে- অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা ও পর্তুগাল। ষষ্ঠ অবস্থানে আছে হাঙ্গেরি, মালয়েশিয়া, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।