আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে স্কেলের গেজেট

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন হবে।

জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সেই ধাপ ঠিক করবে মন্ত্রিসভা। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট জারি হতে পারে। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেভাবেই হোক ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নতুন পে স্কেলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আরও দুই থেকে তিন দিন সচিব কমিটি কারিগরি কিছু দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করবে। এর পর সচিব কমিটির সুপারিশ চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠবে। মন্ত্রিসভায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) জন্য তা যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। এর পর প্রধানমন্ত্রী সারসংক্ষেপ অনুমোদন করলে গেজেট জারি হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে বাস্তবায়ন কমিটি তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল। এর পর সুপারিশ ছিল দুই ধাপে বাস্তবায়নের। সর্বশেষ গতকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। কারণ, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়। সে অনুযায়ী সরকার এই অর্থ কীভাবে জোগান দেবে, সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন সচিব কমিটির সদস্যরা।

বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি চাকরিজীবীদের প্রায় ১১ বছর ধরে বেতন বাড়েনি। তাই নতুন পে স্কেলে যেন কারও বঞ্চনা বা ক্ষোভ না থাকে, সে জন্য ভালোভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ জন্য আরও দুই থেকে তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগস্টের শুরুতে গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। তিনি বলেন, বাড়তি বেতন-ভাতা দেওয়ার সঙ্গে অনেক অর্থের সংশ্লেষ রয়েছে। এর সঙ্গে সরকারের সক্ষমতার বিষয় আছে। তাই নতুন পে স্কেল কয় ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে সচিব কমিটি কোনো মতামত দেবে না। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

জানা যায়, নতুন বেতন কাঠামোয় শুধু মূল বেতন নয়; বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও রয়েছে। এসব সুবিধার বিষয়ে একাধিক এসআরও (বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ) জারি করতে হবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার কমিটির বৈঠক শেষে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত এসআরও এবং বিধিবিধানের খসড়া তৈরি করতে বলা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিগত পে স্কেলের চিত্র তুলে ধরতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কমিটির নির্দেশনার আলোকে কাজ করছেন।




‘আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হতে পারে সোনম ওয়াংচুকের’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লাদাখের সমাজকর্মী, শিক্ষা সংস্কারক ও পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে ১৯ দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন করছেন তিনি।

বুধবার দায়ের করা এক আবেদনের শুনানিতে বৃহস্পতিবার আদালত বলেন, সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রতিটি নাগরিকের জীবন মূল্যবান এবং তা রক্ষায় কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত।

আবেদনে বলা হয়, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক অনশন না ভাঙলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার মৃত্যু হতে পারে। এতে অভিযোগ করা হয়, সরকার পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন নয়। অনশনের পর থেকে তার ওজন সাড়ে ৮ কেজি কমেছে। একই সঙ্গে রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রাও কমে গেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, তাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন ও খনিজ, প্রয়োজনে তরল আকারে, সরবরাহ করা উচিত। এতে উল্লেখ করা হয়, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা নাগরিকের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে ওয়াংচুকের মৃত্যু হলে তা দেশের জন্য এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় ধরনের লজ্জার বিষয় হবে।

শুনানিতে আদালত জানতে চান, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য কেন নিরবচ্ছিন্ন সরকারি তদারকি নেই। জবাবে সরকারপক্ষ জানায়, প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে সব সময় সরকারি চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না, কখনও বেসরকারি চিকিৎসকরাও দায়িত্ব পালন করেন।

এ সময় আদালত নির্দেশ দেন, ওয়াংচুক যেন প্রতিদিন সরকারি চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পান এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালত বলেন, প্রয়োজন হলে ওষুধও দিতে হবে। প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।

আদালতের নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ওয়াংচুক বলেন, অনশনে থাকলেও তার শারীরিক অবস্থা এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো উদ্যোগ না আসা পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি ততটা খারাপ নয়। দুর্বলতা থাকলেও এখনও হাঁটতে পারছি। শুধু অনশন ভাঙার আহ্বান না জানিয়ে ২০ জুলাই বিপুল সংখ্যক মানুষকে যন্তর মন্তরে এসে সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ওয়াংচুক।

গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় চলচ্চিত্র থ্রি ইডিয়টস-এ আমির খান অভিনীত ফুনশুখ ওয়াংড়ু চরিত্রটি সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছিল।




সমবায় অধিদপ্তরে অতিরিক্ত নিবন্ধক নবীরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গড়ে শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সমবায় সমিতির নিবন্ধন, তদারকি, আইনগত সহায়তা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা সমবায় অধিদপ্তরের। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠতে থাকায় অধিদপ্তরটির কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব অনিয়মের কারণে সাধারণ সমবায়ী ও সেবাগ্রহীতারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এমন অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) মো. নবীরুল ইসলাম। ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে চাকরিতে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরিজীবনের শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অধিদপ্তরের ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বদলি, পদোন্নতি, সমিতির নিবন্ধন, লাইসেন্স অনুমোদন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সুবিধা আদায় করে আসছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় নবীরুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটার অপব্যবহার করেছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি সমবায় অধিদপ্তরে যোগদানের আগে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) কর্মরত ছিলেন এবং সেখানে দায়িত্ব পালনরত এক কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিসিএস পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপে অনিয়মের আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে তার বাবা মৃত মো. সহিদুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেখিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০০১ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে বিষয়টি তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে ২০০২ সালের ১৫ জুন তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে তিনি সেই জটিলতা কাটিয়ে আবার চাকরিতে বহাল হন।

এছাড়া ২০১১ সালে সিরাজগঞ্জে উপ-নিবন্ধক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সিরাজগঞ্জ কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের ছয় শতক জমি বিক্রির ঘটনায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত ও মামলার মুখোমুখি হলেও সেই তথ্য গোপন রেখেই তিনি পরবর্তীতে পদোন্নতি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে নবীরুল ইসলাম অধিদপ্তরে প্রভাব বিস্তার করেন। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ, সমিতির নিবন্ধন ও লাইসেন্স অনুমোদনের নামে অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সময়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখেই তিনি অতিরিক্ত নিবন্ধক পদে পদোন্নতি নিয়েছেন।

সমবায় অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, নবীরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে একাধিক অভিযোগ ও তথ্য জমা থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০১২ সালে রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বন্ধক রাখা জমির ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ করে দিয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা পাইয়ে দেন নবীরুল ইসলাম। এতে সমবায় অধিদপ্তর এবং সরকারের সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই সময়ের বিভাগীয় যুগ্ম নিবন্ধক অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এছাড়াও বিভিন্ন সমবায় সমিতির নিবন্ধন, পরিদর্শন, তদন্ত প্রতিবেদন, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় অধিদপ্তরের স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ সমবায়ীরা ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো.নবীরুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগের জন্য কল করা হলে রিসিভ করেননি।




মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবিতে ৫০০ জনের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মিয়ানমারের উপকূলে দুটি সন্দেহভাজন নৌকাডুবির ঘটনায় ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ জাতিসংঘ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, সম্প্রতি মিয়ানমারের উপকূলে ৫০০ জনের বেশি আরোহী বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে যেতে পারে বলে প্রাপ্ত প্রতিবেদন থেকে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, নৌকা দুটি জুনের শেষ দিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। আরোহীদের বেশিরভাগই ছিলেন দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা।

তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকেও যাত্রা করেছিলেন বলে জানা গেছে। এসব শিবিরে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ২৫০ জন আরোহী নিয়ে যাত্রা করা একটি নৌকার সঙ্গে কিছুক্ষণের মধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অন্যদিকে প্রায় ২৮০ জন আরোহী বহনকারী আরেকটি নৌকা গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানায়, ঘটনাগুলো এবং হতাহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও সম্ভাব্য প্রাণহানির ব্যাপকতায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

জাতিসংঘের সংস্থা দুটি উল্লেখ করে, নৌযাত্রাগুলো নিয়মিত নৌ-চলাচলের মৌসুমের বাইরে হয়েছিল। এসময় সমুদ্রের পরিস্থিতি সাধারণত আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ থাকে।

এ ছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলজুড়ে ভারী বৃষ্টি ও বন্যা সমুদ্রপথে যাত্রার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, তথ্যগুলো সত্য হলে এ বছরের শুরু থেকে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ বা নিহত বলে ধারণা করা প্রায় ৩০০ জনের তালিকায় আরও বহু মানুষের নাম যুক্ত হবে। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

হতাশার সুযোগ নিচ্ছে পাচারকারী চক্র

এএফপি জানিয়েছে, উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশায় প্রতিবছরই বহু রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। তারা সাধারণত মানবপাচারকারী চক্রের পরিচালিত জরাজীর্ণ নৌকায় ভ্রমণ করেন।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উত্তর ভারত মহাসাগরে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার চেষ্টা করা ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ৯০০ জন নিখোঁজ হন বা মারা যান।

বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই সমাধানের অভাবের ভয়াবহ প্রভাব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানায়, মিয়ানমারে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে সীমিত সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধার কারণে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার খোঁজে আরও বেশি মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় নামছেন।

সংস্থা দুটি আরও বলেছে, এসব ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে যে, নিরাপত্তার খোঁজে থাকা মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে মানবপাচার ও অবৈধভাবে মানুষ পারাপারকারী চক্রগুলো এখনও সক্রিয় রয়েছে।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর সমুদ্রে নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, আশ্রয় ও সুরক্ষা নিশ্চিত এবং মানবপাচার ও অবৈধভাবে মানুষ পারাপারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

একইসঙ্গে বহু বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ‘উল্লেখযোগ্য উদারতার’ প্রশংসা করেছে সংস্থা দুটি।

তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, শরণার্থী ও আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।




যেভাবে ট্রাম্পকে বিশেষ বার্তা দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ এবার ইরানের রাজধানী তেহরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কফিনে শায়িত একটি বিশালাকার পোস্টার উন্মোচন করা হয়েছে। সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণার মাত্র কয়েকদিন পরই এই পদক্ষেপ নিল ইরান।

তেহরানের প্রাণকেন্দ্র এঙ্গেল্যাব স্কয়ারে টানানো এই বিশালাকার বিলবোর্ডটিতে দেখা যাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিথর দেহ একটি কফিনে পড়ে রয়েছে। শুধু তাই নয়, গ্রাফিক্সের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা এই লাশের চারপাশে ‘কিল ট্রাম্প’স্লোগান সংবলিত বিভিন্ন বার্তা লেখা রয়েছে।

গত ৯ জুলাই ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় তিন মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ সামরিক হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ইরান। খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি এই হত্যাকাণ্ডের চরম প্রতিশোধ নেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।




অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ দেশের নারী শিক্ষায় মা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তিনি যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আমাদের মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ফ্রি করেছিলেন। আমরা অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একই সঙ্গে প্রাইমারিতে যেরকম স্টাইপেন দিচ্ছি, একইভাবে উচ্চ শিক্ষায় যারা ভালো রেজাল্ট করবে সেই সব মেয়েদের আমরা স্কলারশিপ দেব। 

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও শিক্ষার উন্নয়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার থেকে পর্যায়ক্রমিকভাবে বাংলাদেশের প্রাইমারি স্কুলের প্রথম শ্রেণি থেকে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিশুকে নতুন স্কুল ড্রেস দেব ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা মিডডে মিলের ওপর কাজ করছি। যেন বাচ্চারা আরো ভালো খাবার খেতে পারে।

শিক্ষকদের প্রতি শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের মানুষ করার কারিগর আপনারা। তাই খেয়াল রাখতে হবে কোনো শিশু যেন নির্দয় হয়ে বেড়ে না ওঠে সেটি প্রাণী হোক বা পশু-পাখির প্রতি হোক। কারো প্রতি যেন তারা নির্দয় না হয়। তাই শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলবেন আপনারা। দেশ গড়তে মানবিক সৈনিক দরকার । আর এই মানবিক সৈনিক আপনারা গড়ে তুলবেন। আর শিশুরা মানবিক মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠলে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সূচনা বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য শিশু শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

এ সময় দেশ জুড়ে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে পদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের মাঝেই খুদে শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে ‘মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’ এর পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় শিশুদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিথি সারিতে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া তাদের প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমরা প্রতি বছর বর্ষাকালে একটি করে গাছ লাগাবে। গাছটা ও বড় হবে, সঙ্গে তোমরাও বড় হবে। গাছই হবে তোমাদের বন্ধু । গাছের নিচে বসে ক্লান্তি দূর হবে, শান্তি পাবে।

স্কুল পরিষ্কার রাখতে শিশুদের প্রতি আহ্বান শিশুদের নিজেদের স্কুল পরিষ্কার রাখতে ও ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে একে অপরকে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির অধীনে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্ৰে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর স্থাপিত স্টল পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এর আগে সেখানে একটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ‘গ্রিন স্কুল’ বা সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন তিনি।




২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত, ১০ সরকারি বিল পাস

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শেষ হয়েছে।

বুধবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশন সমাপনী সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

এই অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত বর্তমান বিএনপি সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

গত ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন।

গত ৭ জুন থেকে ২৬ কার্যদিবস অধিবেশন চলার পর আজ ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়। বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা ১৪টি কার্যদিবসে মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট স্থায়ী হয় যাতে ৩১৬ জন সংসদ-সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া ১০টি সরকারি বিল পাস হয়েছে।

কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী ৭১৫টি নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৪টি গৃহীত হয় এবং ২২টি নোটিশের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ৭১ (ক) বিধি অনুযায়ী ১২৫ টি দুই মিনিটের নোটিশ আলোচিত হয়েছে। ১৩১ বিধি অনুযায়ী ৪টি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আলোচনা ও নিষ্পত্তি হয়েছে।

এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য ২৭৮টি প্রশ্ন জমা পড়ে যার মধ্যে ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্ন জমা পড়ে এবং ৩ হাজার ৪৭৪টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। এ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিসহ মোট ১১টি কমিটি গঠিত হয়েছে এবং কার্য উপদেষ্টা কমিটি পুনর্গঠিত হয়েছে।




ঘনীভূত হতে পারে লঘুচাপ, সমুদ্র বন্দরে সতর্ক সংকেত

ডেস্ক নিউজঃ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রবন্দরসমূহ এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের ৪ সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য জানায়।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও শক্তিশালী বা ঘনীভূত হতে পারে। লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ মাঠেই ব্যানার নিয়ে মার্টিনেজ-জিওভানিরা

ক্রীড়া ডেস্কঃ ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখার পর আলবিসেলেস্তে ফুটবলাররা দর্শকদের সামনে উল্লাসে মেতে ওঠেন।

এ সময় তারা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, যাতে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর তাদের মালিকানার দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। এর মধ্যে দিয়ে তারা দ্বীপপুঞ্জটির ওপর আর্জেন্টিনার সেই ঐতিহাসিক সার্বভৌমত্বের দাবিটি আবারও বিশ্বের বুকে তুলে ধরলো। যা ১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে এক সশস্ত্র যুদ্ধের মূল কারণ ছিল।

ব্যানারটি সেই ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে, যা ব্রিটেনে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ’ এবং আর্জেন্টিনায় ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৪৪ বছর আগে ৭৪ দিনব্যাপী এক সংঘাত হয়েছিল। সেই সংঘাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশসহ মোট ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও জিওভানি লো সেলসো হাসিমুখে ব্যানারটি উঁচিয়ে ধরেন এবং গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছিল, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। বিশ্বকাপে রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে প্রশ্ন ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের ম্যাচের সময় ইরানি-আমেরিকানরা বিপ্লব-পূর্ববর্তী পতাকা উড়িয়েছিল, যা তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। অবশ্য সেই ম্যাচগুলো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল।

এছাড়াও কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পথ সুগম করার পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছিল, মালভিনাসের জন্য, দিয়েগোর জন্য এবং মেসির শেষটির জন্য।

আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল বলেছেন, আমরা বুঝি যে এটি এমন একটি ফুটবল ম্যাচ যার গুরুত্ব খেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়; এটি দিয়েগো যা করেছিলেন তার স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। আমরা মালভিনাস যুদ্ধের বীরদের নিয়ে গান গাই, মূলত তাদের স্মরণ করার জন্য; তবে আমাদের বুঝতে হবে যে এটি একটি ফুটবল ম্যাচ এবং মালভিনাস প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনার জায়গা অন্য। অতীতে যা ঘটেছিল তা ছিল এক নৃশংস ঘটনা এবং আমরা সবসময়ই শহীদদের কথা স্মরণ করি, কিন্তু এখন আমাদের লক্ষ্য হলো এই ম্যাচটি জিতে ফাইনালে ওঠা।

ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে “রাজনৈতিক, আপত্তিকর অথবা বৈষম্যমূলক প্রকৃতির ব্যানার, পতাকা, লিফলেট, পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী” বহন বা প্রদর্শন নিষিদ্ধ।




ইংল্যান্ডকে কাদিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টা স্টেডিয়ামে হ্যারি কেইন-বেলিংহামদের রুখে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লিওনেল মেসির দল। নিউ জার্সিতে আগামী রবিবার রাতে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে তারা।

এর আগে ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও হার মানেনি আর্জেন্টিনা। এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত সমতাসূচক গোলের তিন মিনিট পরই লাউতারো মার্তিনেজের হেডে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় বর্তমান আলবিসেলেস্তেরা। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে খেলার চেয়ে মারামারি বেশি হয়েছে। শরীরী লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে আসে গতি। ৪৭ মিনিটেই হুলিয়ান আলভারেজের জোরালো শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে ইংল্যান্ডকে রক্ষা করেন জর্ডান পিকফোর্ড। এরপর দুই দলই একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। ৫৫ মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডেকলান রাইসের শুরু করা আক্রমণে মরগান রজার্স ডানপ্রান্ত থেকে দারুণ ক্রস তুলে দেন। নাহুয়েল মোলিনাকে ফাঁকি দিয়ে অ্যান্থনি গর্ডন নিখুঁত ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

গোল হজমের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডকে নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে লিওনেল স্কালোনির দল। ৬৯ মিনিটে নিকোলাস গনসালেসের শক্তিশালী হেড অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন পিকফোর্ড।

৭৩ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণের ধার আরও বাড়ান স্কালোনি। সেই পরিবর্তনের ফলও মেলে দ্রুত। ৭৬ মিনিটে ডি পলের ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। মুহূর্ত পর আরেকটি হেডও ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড।

ক্রমাগত চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণ। ৮৫ মিনিটে মেসির নেওয়া শর্ট কর্নার থেকে ফের বল পেয়ে ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন এনজো ফার্নান্দেজ। অসাধারণ সেই গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। সমতায় ফেরার পরও থামেনি আর্জেন্টিনার আক্রমণ। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রসে জন স্টোনস ও রিস জেমসের মাঝখান থেকে উঠে আসা লাউতারো মার্তিনেজ শক্তিশালী হেডে জাল খুঁজে নিলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা।

বাকি সময়ে মরিয়া চেষ্টা করেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড। শেষ বাঁশি বাজতেই টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও শেষ সাত মিনিটে দুই গোল হজম করে আবারও শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায় থমাস টুখেলের দলের।