প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ব্যয় সংকোচনের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবার বাজেট পরবর্তী নৈশভোজও বাতিল করা হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

প্রতিবছর বাজেট পাসের দিন রাতে সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে নৈশভোজ হয়ে থাকে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতাসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নিয়ে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে প্রতিবছর ব্যয় হয়েছিল গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের বাইরেও দেখা গেছে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করা হয়েছে। যেমন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই খাতে খরচ হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবার সরবরাহ করতো। বিগত সরকারের সময়ে এই বিশাল অঙ্কের টাকা এখনো বাকি রয়ে গেছে, যা বর্তমান সরকারকেই পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করতে হচ্ছে।’

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন।

আজ সংসদে বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবি নিষ্পত্তি করে বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় বাজেট সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে আপ্যায়ন ভাতা কাটছাঁট করেছেন। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ টাকা।’

‘এ ছাড়াও দুই ঈদে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।’

এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা তারেক রহমান সকাল পৌনে ১০ টায় সংসদে আসেন। প্রথম থেকে তিনি অধিবেশন কক্ষে অবস্থান করেন। বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াসহআইন প্রণয়ন কার্যাবলিতে অংশ নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী দাপ্তরিক কাজ সেরেছেন এবং জরুরি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সই করেছেন।’




ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের ক্ষত কাটতে না কাটতেই শক্তিশালী পরাঘাত, রাস্তায় মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পর আবারও বড় ধরনের পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে। এ সময় আতঙ্কিত  বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। গত সপ্তাহের ওই বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে এখন চরম মানবিক সংকট বিরাজ করছে।

গত সোমবার ভোরে আঘাত হানা ওই পরাঘাতের তীব্রতা ছিল ৪ দশমিক ৬। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। অবশ্য কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে, এর তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ১। রাজধানী কারাকাস ও বিধ্বস্ত বন্দরনগরী লা গুইরা এ সময় কেঁপে ওঠে। লা গুইরার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নেতা হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এই পরাঘাতে নতুন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে মাটির কম্পন আর ভূমিকম্পের সতর্কসংকেত শুনে কারাকাস ও লা গুইরার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কারাকাসের এল হাতিলো এলাকার বাসিন্দা আমারেলিস মেন্দোজা বলেন, ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। কাঁপুনিতে হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে যায়। আগের অন্য পরাঘাতগুলো টের না পেলেও আজকের কম্পনটি গত বুধবারের ভূমিকম্পের মতোই শক্তিশালী মনে হয়েছে।’

এই পরাঘাতে রাজধানীর আলতামিরা ও সান বার্নার্দিনো এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়শিবির ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছিল। নতুন করে ভবনধসের ভয়ে অনেকে অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে বা ফুটপাতে তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটাচ্ছেন।

বারবার পরাঘাতে কারাকাস মেট্রোর অবকাঠামো ইতিমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোর আরও ক্ষতির আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু লাইন আবারও বন্ধ করে দিয়েছে।

সান বার্নার্দিনোতে গত সপ্তাহের ভূমিকম্পে ২২ ইউনিটের ‘রিটা’ অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। সোমবারের কম্পনের পর সেখানে উদ্ধারকাজ প্রায় দেড় ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়।

নতুন সপ্তাহ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর কিছু দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। তবে মানবিক সংকট গভীর হওয়ায় পার্ক ও গণচত্বরগুলোয় আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার লাশের ব্যাগ দেবে বলে জানিয়েছে। তবে তারা আশা করছে, নিহতের সংখ্যা যেন এত বেশি না হয়।

ভেনেজুয়েলায় নিযুক্ত জাতিসংঘের সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোল্লা দেল তিন্দারো সরকারি তথ্যের বাইরে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি বলেন, ‘নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে জানানো তথ্যের চেয়ে নিশ্চিতভাবেই বেশি হবে।’

তিন্দারো আরও বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মনেপ্রাণে আশা করছি, নিহতের সংখ্যা যেন ওই সংখ্যার (১০ হাজার) চেয়ে কম হয়।’

আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তার প্রশংসাও করেন তিন্দারো। তিনি জানান, ২৭টি দেশ থেকে ২ হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ১৬০টির বেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর উদ্ধারকাজে পাঠানো হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার দুটি প্রধান বন্দরের একটি মেরামত করেছে মার্কিন নৌবাহিনী (ইউএস মেরিনস)। এখন সেখান দিয়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘লা গুইরা বন্দরটি সচল হয়েছে। সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ফোর্ট লডারডেল বন্দরটি ব্যবহার করছে।’

কারাকাস ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আসা কয়েক শ বাস্তুচ্যুত পরিবার রাজধানীর পূর্ব দিকের ২০০ একর আয়তনের ‘পার্কে দেল এস্তে’ পার্কে আশ্রয় নিয়েছে।

কারাকাসের বেলো ক্যাম্পো এলাকার বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী কাতিউস্কা আসুয়াজে চার সন্তান নিয়ে ঘর ছেড়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেকোনো কিছুর চেয়ে জীবনের দাম বেশি।’

আসুয়াজো আরও বলেন, ‘ছাদের একটি পলেস্তারা আগেই খসে পড়েছিল। আমরা চাচ্ছিলাম না মাথার ওপর বাড়িটি ধসে পড়ুক। তাই চলে এসেছি।’

কারাকাসের পশ্চিমে ৩৬ বছর বয়সী মারিউরি পেরেজ ও ৪০ বছর বয়সী জাইমে ব্লাঙ্কোর ঘরটি ধসে পড়েছে। তাঁদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।

পেরেজ বলেন, ‘আমাদের এখন একটি তাঁবু বা ঘুমানোর জন্য অন্তত একটি গদি প্রয়োজন। প্রতিবেশীরা আমাদের খাবার দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের ঘুমানোর কোনো জায়গা নেই।’

গত বুধবার দেশটিতে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ তীব্রতার জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশি–বিদেশি উদ্ধারকর্মীরা যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত ব্যক্তিদের খুঁজছিলেন, ঠিক তখনই নতুন করে পরাঘাতটি অনুভূত হলো।

গত রোববার লা গুইরা রাজ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তি ও তাঁর কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে কিছুটা আশার আলো দেখা দেয়।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমরা আজকেও জীবিত মানুষ উদ্ধার করেছি। তাই এই উদ্ধার তৎপরতা বন্ধ হবে না।’

তবে জীবিত মানুষ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এল সালভাদর থেকে আসা এক উদ্ধারকর্মী এএফপিকে বলেন, ‘এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে হয়তো কেবল লাশই পাওয়া যাবে। তবে আমরা আশা ছাড়ছি না। ভাগ্য ভালো থাকলে হয়তো কাউকে জীবিতও পেতে পারি।’

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৫ হাজার ৩৪ জন আহত হয়েছেন। প্রায় ৮০০ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজে ধীরগতি ও পূর্বপ্রস্তুতির অভাব নিয়ে সরকারের সমালোচনা হচ্ছে।

উদ্ধারকাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ। এর মধ্যে লাখ লাখ মানুষ স্যানিটেশনসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।




চিপস খেয়ে ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ, দোকান বন্ধ করল ভ্রাম্যমাণ আদালত

ডেস্ক নিউজ : বাগেরহাটের রামপালে অনুমোদনহীন চিপস খেয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষার্থী ও এক অভিভাবক অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনিরাপদ খাদ্যপণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন মন্ডলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং দোকান সিলগালা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বড়দূর্গাপুর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের ওই দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি।

এর আগে গতকাল সোমবার দুপুরে বড় দূর্গাপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাশে থাকা মনোরঞ্জন মন্ডলের দোকান থেকে খোলা চিপস কিনে খায়। এতে ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের চিপসগুলো ডিটারজেন্টের প্যাকেট সদৃশ্য মোড়কে বিক্রি করা হচ্ছিল। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেটে ব্যথা, বমি ও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলে তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকরা রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রস্থ মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যায়। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

অসুস্থরা হলেন প্রাপ্তি অধিকারী (১০), তুফান শেখ (১৩), রাজদীপ (১০), আখিরা (১১), লামিয়া (১১), জান্নাতুল (১০), আরহী মন্ডল (৫), রাহুল মন্ডল (৮), সৃষ্টী বিশ্বাস (১০), ফাতেমা আক্তার (৮), আমবিকা (৬) ও প্রোভাতী (১০), দীপিকা হালদার (অভিভাবক ২৮)। তাদের মধ্যে জান্নাতুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

মৈত্রী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাকিব রেজোয়ান জানান, ‘খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনকে মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। গুরুতর এক শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

রামপাল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার খবরে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রশাসনের সহযোগিতায় দোকানটি সিলগালা করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদেরকে বাইরের খাবার খাওয়ানোর ব্যাপারে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।




জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : হারারেতে একমাত্র টেস্টে দ্বিতীয় দিনে ২৭০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করেছিল বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার ৯ ওভার ব্যাট করে ওপেনার সাদমান ইসলামকে হারিয়ে এক উইকেটে ৪০ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে দুই সেশনও টিকতে পারল না টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস এবং ৮৫ রানের ব্যবধানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

দিনের শুরুতে আজ দ্বিতীয় ওভারেই হারাতে হয় দ্বিতীয় উইকেট। আগের দিনের সংগ্রহে মাত্র এক রান যোগ করেই সাজঘরের পথ ধরেন মাহমুদুল হাসান জয়। পরে দলের হয়ে কোনো ব্যাটারই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তাওহীদ হৃদয়, অমিত হাসানরা দ্বিতীয় ইনিংসেও রানের দেখা পাননি।

দুই ওভার পরেই মুমিনুল হককে ফেরান ব্লেসিং মুজারাবানি। স্লিপে ব্র্যাড ইভান্সের দুর্দান্ত এক ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক করা এই ব্যাটার। দিনের চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করান মুজারাবানি। বলের লাইনে না গিয়ে ড্রাইভ খেলতে যান মুমিনুল, কিন্তু ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল উঠে যায় তৃতীয় স্লিপের দিকে। মুমিনুল ফিরে যান ১৩ রান করে। এতে ৪৬ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। এদিন তারাও বড় রান করতে ব্যর্থ। শেষ দিকে কোনো ব্যাটারই দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট না করায় ইনিংস ব্যবধানে হারতে হয় বাংলাদেশকে।




‘আমি হয়রানির শিকার, সরকারের সহযোগিতা চাই’

বিনোদন ডেস্ক : সম্প্রতি এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা কমল পাটেকার। ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তাকে হয়রানি করতে মাঝরাতে তার বাসায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। এই ঘটনাটি বিনোদন পাড়াসহ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

গত রোববার (১৮ জুন) রাতে কমল পাটেকারের আকস্মিক পুলিশি অভিযানের ঘটনাটি ঘটে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই একদল পুলিশ অভিনেতার বাসভবনে কড়া নাড়ে। তল্লাশির নামে গভীর রাতে তার পরিবারকে চরম মানসিক হেনস্তা ও আতঙ্কের মধ্যে ফেলা হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, তার নামে নাকি জুলাইয়ের একটি মামলায় সদ্য নাম যুক্ত হয়েছে যাত্রাবাড়ি থানায়। তবে এর বেশি বিস্তারিত জানা যায়নি।

এই ঘটনায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিনেতা কমল বলেন, ‘আমি কখনোই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। সবসময় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলতাম। শুটিং আর এফডিসি ব্যতীত আমাকে কেউ কখনও দেখেনি। ৫ আগস্টের পর প্রধান উপদেষ্টা দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর নির্বাচন হয়ে নতুন সরকার এসেছে। এতদিনে কখনও হয়রানির শিকার হয়নি। আমি যদি জুলাই বিরোধী হতাম তাহলে এতদিনে মামলা হয়নি কেন? কিন্তু হুট করে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে কেউ একজন জুলাইয়ের সময়ের একটি মামলায় নাকি আমার নাম অজ্ঞাত হিসেবে যুক্ত করেছেন। আমি নাকি জুলাইয়ের বিপক্ষে ছিলাম। কে বা কারা দিয়েছেন তা এখনও জানি না। মামলার কথা শুনে আমি আকাশ থেকে পড়লাম। কারণ, কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না যে, আমি জুলাইয়ের বিপক্ষে ছিলাম। তাছাড়া এতদিন পর এসে নির্বাচনের দুই দিন আগে নাম যুক্ত হওয়াকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছি। আমি সরকারের সহযোগিতা চাই। এর সুস্থ তদন্তের দাবি করছি। আমাকে হয়রানি করতে এবং নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে রাখতে কেউ ষড়যন্ত্র করছে।’

মিথ্যা ষড়যন্ত্রের বিচার চেয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনও শুটিং ছাড়া ঘর ছাড়া ছিলাম না। কিন্তু গত দুই দিন ধরে বাড়িতে ঘুমাতে পারছি না। আল্লাহর কাছে বিচার চাই এই নোংরামির। বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলব- আপনি বিষয়টা দেখবেন। আমাদের মতো সাধারণ শিল্পীদের মিথ্যা হয়রানি করে কেউ ফায়দা নিচ্ছে। আপনার সহযোগিতা কামনা করছি। আমার ক্যারিয়ারে দাগ নেই।’

দীর্ঘ সময় ধরে সমিতির বিভিন্ন পদে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেছেন কমল পাটেকর। পাঁচ বার কোষাধ্যক্ষ এবং একবার দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আসন্ন শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আরমান-মুক্তি পরিষদ থেকে কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচনে লড়ছেন।

আমৃত্য অভিনয় চালিয়ে যেতে চান কমল। বিদেশে বিলাসী জীবন কাটানোর সুযোগ পেয়েও অভিনয় ভালোবেসে নিজ দেশেই থেকে চান তিনি। কিন্তু শেষ জীবনে এসে শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষার নির্বাচনে অংশ নিয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন কমল। সেসঙ্গে শিল্পীদের পাশে চেয়েছেন তিনি।

সহশিল্পীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই অপমানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিনোদন জগতের তারকারা। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন নোংরা খেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, দুই বাংলার জনপ্রিয় খল অভিনেতা কমল পাটেকার। আশির দশকে শুরু তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার। অভিনেতা কমল এ পর্যন্ত কাজ করেছেন ২ হাজারেরও অধিক সিনেমায়। তার অভিনীত কয়েকটি সিনেমা বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় আছে।




সওজে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ: অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া, ঠিকাদার নির্বাচন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সময় তিনি একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

এ বিষয়ে মো. আব্দুল হান্নান নামে একজন ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি নিজেকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিয়মিত ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কক্সবাজার সড়ক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণে অস্বাভাবিক হিসাব দেখানোর মাধ্যমে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে আরও দাবি করা হয়, উপকূলীয় ও পর্যটন এলাকার সড়ক উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের কিছু অংশ প্রকৃত কাজের সঙ্গে মিল না রেখে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ছাড় করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাজশাহী জোনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকার সময় মো. মনিরুজ্জামান কয়েকজন নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই গোষ্ঠীর বাইরে থাকা অনেক ঠিকাদার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিলেও কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার মুখে পড়তেন।

মুন্সিগঞ্জ সড়ক বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নিয়েও অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পে বড় অঙ্কের টাকা খরচ দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় কাজের মান সন্তোষজনক ছিল না। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই কিছু সড়কে ক্ষতি দেখা দেয় এবং জনগণ ভোগান্তিতে পড়ে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুর জোনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ‘আমিনুল ইসলাম কনস্ট্রাকশন’সহ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সরকারি ক্রয় নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে এমন কিছু শর্ত তৈরি করা হতো, যাতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পায়।

বর্তমান দায়িত্বে থেকেও প্রকল্প অনুমোদন, কারিগরি বিষয় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন ছাড়া ফাইল অনুমোদন না করার অভিযোগ উঠেছে মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার একটি ব্যবস্থা চালু ছিল।

সওজের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, কিছু কর্মকর্তার কারণে অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি উন্নয়ন কাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন গবেষণায় সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে দরপত্র, বিল অনুমোদন এবং কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। গবেষকদের মতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে বড় প্রকল্পগুলোতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন কর্মকর্তা জানান, মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ কমিশনে রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তার সম্পদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে মো. মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে ফোন কেটে দেন। পরে আবার যোগাযোগ করা হলে পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সওজের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুদকের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ: সুনামগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরব অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সুনামগঞ্জ জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে “গ্রীন কনস্ট্রাকশন” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী উজ্জল মিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একচেটিয়া কাজ বাগিয়ে নেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও পূর্ববর্তী শাসনামলে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী একটি চক্র সক্রিয় থেকে যায়, যার মাধ্যমে জেলার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল গ্রীন কনস্ট্রাকশন—এমনটাই দাবি করছেন একাধিক ঠিকাদার ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মচারী।

টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ :
স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, অধিকাংশ দরপত্রে কার্যত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ছিল না। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।

কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, দরপত্রে অংশ নিতে গেলে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে “ম্যানেজড টেন্ডার” ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকাংশ কাজ এককভাবে গ্রীন কনস্ট্রাকশনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা।

নিম্নমানের কাজ ও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ :
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণ দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।

পানি সরবরাহ লাইন, টিউবওয়েল স্থাপন, পাইপলাইন নির্মাণ এবং স্যানিটেশন প্রকল্পের বেশ কিছু কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই অকেজো হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। তাদের দাবি, “কাগজে-কলমে কাজ শেষ হলেও বাস্তবে অনেক স্থানে কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের।”

প্রভাবশালী চক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ : সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে সমন্বয়ে এসব অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের প্রভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকেনি।

তদন্তের দাবি জোরালো :
স্থানীয় সচেতন মহল, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের একটি বড় চিত্র সামনে আসতে পারে।

তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান বা স্বত্বাধিকারীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো এখনো তদন্তসাপেক্ষ এবং কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর ১০ বছর কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এ সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন হাসানুল হক ইনু।

এদিন, দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর ১০ মিনিট পর ২১১ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয়। ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়েন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দ্বিতীয় সদস্য বিচারক শাহরিয়ার কবীর। সাক্ষীদের কিছু বিবরণ ও তথ্যপ্রমাণের দিক তুলে ধরেন প্রথম সদস্য মঞ্জুরুল বাছিদ। রায়ের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

রায়ে নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের তিন নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের ছয় নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ষড়যন্ত্রের সাত নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক, দুই, চার, পাঁচ ও আট নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

৩০ বছরের সাজা হলেও সব সাজা একসঙ্গে চলবে বিধায় তাকে ১০ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।

এর আগে গত ২২ জুন রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়। ৩৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রের সঙ্গে রয়েছে এক হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র।

এছাড়া রয়েছে তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও ডকুমেন্ট। এ মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে হাসানুল হক ইনুকে।

আটটি অভিযোগে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, ১৪ দলীয় জোট সরকারের অংশীদার জাসদের সভাপতি হিসেবে তার ঊর্ধ্বতন অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশনা, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলন দমনের নির্দেশনার পর ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে চাক্ষুষ সাক্ষী তিনজন, বিশেষজ্ঞ দু’জন, ভুক্তভোগী পরিবারের একজন, জব্দতালিকা সাক্ষী দু’জন, জেলার সাক্ষী একজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা একজন। এছাড়া ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা হয় ২০ সিরিজ ও বস্তু প্রদর্শনী পাঁচটি।

প্রসিকিউশনের আনা আট অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী-জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন হাসানুল হক ইনু। ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া সভায়ও অংশ নেন তিনি। ১৪ দলীয় জোটের ওই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত তথা নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনা কার্যকরেও ভূমিকা রাখেন জাসদের এই সভাপতি। এছাড়া ২০ জুলাই দুপুরে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়নসহ ব্যবস্থা নিতে ফোনে নির্দেশ দেন। তার এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশসহ ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়েন তৎকালীন এসপি। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ।

এছাড়া জুলাই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা নামানো, হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি ছুড়ে হত্যা, বোম্বিং, আটক-নির্যাতনের ষড়যন্ত্র কিংবা পরিকল্পনাসহ সব ধরনের উসকানি দিয়ে শেখ হাসিনাকে নির্দেশনা দিতেন ইনু। একইসঙ্গে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করেন তিনি। এছাড়া ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া জোটের আরেকটি সভায় উপস্থিত ছিলেন ইনু। সেখানেও নানান উসকানি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন। ফলে এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারের হত্যাকাণ্ড আর নির্যাতনকে বৈধতা দেন এই আসামি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের একদিন আগে তথা ৪ আগস্ট কারফিউ জারি করে গুলি ছুড়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যাসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন ইনু।




সিলেটে পৌঁছালো কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর মরদেহ

ডেস্ক নিউজঃ কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের ৫ প্রবাসীর মরদেহ সিলেটে কফিনবন্দি হয়ে পৌঁছায়। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে মঙ্গলবার সকালে ওসমানী বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল পৌণে সাতটার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটটি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। নিহতদের স্বজনরা আগে থেকেই বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। কফিনগুলো বের হয়ে আসার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

বিমানবন্দরে স্বজনদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতদেহ হস্তান্তর করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এসময় তাদের হাতে চেকও তুলে দেওয়া হয়।

বিমানবন্দর থেকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো রওয়ানা দেয় কানাইঘাটের গাছবাড়ি এলাকায় নিহতদের গ্রামের বাড়িতে। সেখানে যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এর আগে, গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা।

নিহতরা হলেন, ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ।




বিআরটিএ উত্তরা ফিটনেস শাখায় অনিয়মের অভিযোগ, আলোচনায় মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলম

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ (উত্তরা-দিয়াবাড়ি) কার্যালয়ের ফিটনেস শাখাকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং অনিয়মের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলম-এর নাম। একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেছেন, ফিটনেস শাখার নানা অনিয়মের ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে ফাইল বারবার ফেরত দেওয়া হয়, অযৌক্তিক জটিলতা সৃষ্টি করা হয় এবং সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিলে একই কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যায়।

একাধিক পরিবহন মালিকের দাবি, সরকারি ফির বাইরে এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। তাদের অভিযোগ, এই পুরো প্রক্রিয়া এমনভাবে পরিচালিত হয় যে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা শেষ পর্যন্ত দালালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন। পরিবহন মালিক আজম, মালেক, আব্দুল গনি ও সামাদসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ফিটনেস শাখার কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন থাকলেও কার্যকর পরিবর্তন আসেনি। তাদের দাবি, কার্যালয়ের ভেতর ও বাইরে দালালদের প্রকাশ্য তৎপরতা থাকলেও তা বন্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন মালিক বলেন, “নিয়ম মেনে গেলে কাজ হয় না। কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যায়।” আরও অভিযোগ রয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত কিছু যানবাহনও অর্থের বিনিময়ে ফিটনেস সনদ পাচ্ছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা ঘটলে তা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে।

একাধিক সেবাগ্রহীতা সরাসরি মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলম-এর নাম উল্লেখ করে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ফিটনেস শাখার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর তদন্ত হয়নি। তবে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কায়সার আলম বলেন, “আমি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। আর মোবাইলে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।”

অতীতেও বিআরটিএতে ফিটনেস সনদ, দালালচক্র ও ঘুষের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৬ সালের গণশুনানি, ২০১৮ সালের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ২০২২ সালের পরিদর্শন ছাড়াই ফিটনেস সনদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথাও জানা যায়।

দূরপাল্লার পরিবহন মালিক, স্থানীয় পরিবহন উদ্যোক্তা ও চালকদের দাবি, ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ কার্যালয়ের ফিটনেস শাখার কার্যক্রম, বিশেষ করে সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ এবং মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। তাদের মতে, বিআরটিএ সদর দপ্তর, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

এ বিষয়ে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শফিকুজ্জামান ভূইয়া বলেন, “আমরা সব অভিযোগ আমলে নিয়ে কাজ করছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”