ভুয়া সনদ থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য? বিতর্কের কেন্দ্রে বিআরটিসি কর্মকর্তা জামিল হোসেন
বিশেষ প্রতিবেদক: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ফ্যাসিবাদী আমলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হলেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এ এখনও বহাল রয়েছে বিতর্কিত একাধিক কর্মকর্তা। তাদেরই একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বিআরটিসির কর্মকর্তা মো. জামিল হোসেন।

ভুয়া শিক্ষা সনদে চাকরি গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, অবৈধ অর্থ উপার্জন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তা সম্প্রতি আবারও লাভজনক চট্টগ্রাম বাস ডিপোতে পদায়ন হওয়ায় বিআরটিসির অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চট্টগ্রামে পুনর্বাসন :
গত ১৭ জুন বিআরটিসির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) দীনেশ সরকার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জামিল হোসেনকে চট্টগ্রাম বাস ডিপোতে বদলি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই বদলি সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ নয়; বরং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি এই লাভজনক ডিপোতে পদায়ন নিশ্চিত করেছেন।
বিআরটিসির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য, গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য উদ্বেগজনক।
‘লিকুর ভাগ্নে’ পরিচয়ে ক্ষমতার বলয় : অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজেকে গোপালগঞ্জের সন্তান এবং শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক বিশেষ সহকারী ‘লিকু’র ভাগ্নে হিসেবে পরিচয় দিতেন জামিল হোসেন। এই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন বিআরটিসিতে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র বলছে, চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, তবে বিআরটিসির বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।
ভুয়া ভাউচার, চাঁদাবাজি ও ওয়াইফাই কেলেঙ্কারি :
বিভিন্ন ডিপোতে দায়িত্ব পালনকালে জামিল হোসেনের বিরুদ্ধে গাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মেরামতের কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং অতিরঞ্জিত ব্যয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে ট্রিপপ্রতি এক হাজার টাকা করে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, এসি বাসে যাত্রীদের জন্য ওয়াইফাই সুবিধা চালুর নামে বিল উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ বাসে এ সুবিধা কখনও চালু করা হয়নি।
নিম্নমানের কাজে সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগ : বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোতে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিম্নমানেরভাবে সম্পন্ন করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে জামিল হোসেনের বিরুদ্ধে। ডিপোর একাধিক সূত্রের দাবি, এসব কাজে ব্যাপক অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ ও বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তাকে বরিশাল থেকে গোপালগঞ্জের বাগডিভূতে বদলি করা হয়। তবে কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও লাভজনক চট্টগ্রাম ডিপোতে তার পদায়ন নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অবৈধ সম্পদের পাহাড় ?
বিআরটিসির একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, চাকরি জীবনে সীমিত বেতন-ভাতার বাইরে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন জামিল হোসেন। নিজ এলাকায় তিনি একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দুদকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষোভ : বিআরটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের অভিযোগ, গণঅভ্যুত্থানের পরও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন কৌশলে প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বজায় রেখেছেন। তাদের মতে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে এখনও প্রশাসনের একটি অংশকে প্রভাবিত করা হচ্ছে।
একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়ার কথা, তারাই এখন ভালো পোস্টিং পাচ্ছেন। এতে সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।”
বক্তব্য পাওয়া যায়নি :
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে জামিল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে বিআরটিসির সংশ্লিষ্ট মহলে দাবি উঠেছে, জামিল হোসেনের চাকরির সনদ, সম্পদের উৎস, বদলি প্রক্রিয়া এবং দায়িত্ব পালনকালীন আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হোক। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মনপুরায় জেলের জালে রাজা ইলিশ, দাম ৯ হাজার টাকা
ডেস্ক নিউজ : ভোলার মনপুরার মেঘনায় ফের জেলের জালে ধরা পড়ল রাজা ইলিশ। মাছটির ওজন দুই কেজি চারশত গ্রাম। রাজা ইলিশ মাছটি নিলামে ৯ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের মমিন তালুকদারের মৎস্য আড়তে বিক্রি করা হয়।
মৎস্য আড়তের মালিক মমিন তালুকদার জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের জেলে ইসমাইল মাঝিসহ সঙ্গীয় জেলেরা রামনেওয়াজ সংলগ্ন মেঘনায় মাছ শিকার করছিল। এই সময় জালে অন্যান্য ছোট ইলিশের সঙ্গে রাজা ইলিশটি ধরা পড়ে। এই উপকূলের জেলে ও মৎস্য আড়তদাররা বড় সাইজের ইলিশকে রাজা মাছ বলে।
রামেওয়াজ মৎস্য ঘাটের ব্যাপারী মো. নাহিদ জানান, তিনিসহ অন্যান্য ব্যাপারীর উপস্থিতিতে মাছটি মমিন তালুকদারের মৎস্য আড়তের বাক্সে নিলামে তোলা হয়। পরে সর্বোচ্ছ দাম ৯ হাজার ৩০০ টাকায় মাছটি ক্রয় করেন মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়তদার মমিন তালুকদার।
মৎস্য ব্যবসায়ী ও রাজা মাছটি ক্রয় করা মৎস্য আড়তদার মমিন তালুকদার জানান, বরিশাল ও ঢাকার পাইকারি আড়তে বড় সাইজের ইলিশের চাহিদা বেশি। তিনি নিজে আড়তদার ও ঢাকায় মাছ চালান করেন। মঙ্গলবার ঢাকার লঞ্চে অন্যান্য মাছের সাথে রাজা ইলিশ মাছটি ঢাকার যাত্রাবাড়ি মাছের আড়তে পাঠাবেন। তিনি আরও বেশি দামে মাছটি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল বনিক জানান, মেঘনায় বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে এইটা জেলেদের জন্য সুখবর। সামনে বর্ষায় বৃষ্টিপাত বাড়লে আরও বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়বে বলে তিনি আশাবাদী।
জার্মানিতে গোলাগুলিতে পাঁচজন নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় স্টেড শহরে গোলাগুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। আজ সোমবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর জার্মানির স্টেড শহরের একটি যুবকল্যাণ কেন্দ্রে গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এই গোলাগুলিতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এসময় তারা অভিযুক্ত হামলাকারীসহ দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।
বর্তমানে এলাকাটি নিরাপদ এবং জনসাধারণের জন্য কোনো হুমকি নেই। জনসাধারণকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেছে বলে সিএনএনকে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় কাউন্সিলর কার্স্টেন ব্রোকেলম্যান বলেন, ‘যেখানে গোলাগুলির ঘটনাটি ঘটেছে, তার ঠিক পাশেই শহর কর্তৃপক্ষ একটি দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করে।’
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা স্বস্তি পেয়েছি যে আমাদের দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মী ও শিশুরা সবাই নিরাপদ ও সুস্থ আছে এবং এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তাদের সেবার জন্য আমি পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
ব্রোকেলম্যান বলেন, ‘একই সাথে এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার এবং তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল।’
এদিকে পুলিশ সতর্ক করেছে, ঘটনাটি সম্পর্কে যাচাইবিহীন তথ্য অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে এবং জনগণকে কোনো গুজব না ছড়াতে অনুরোধ করেছে। কারণ এটি তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
হামবুর্গ থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার (২৭ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত স্টেড প্রায় ৫০,০০০ মানুষের একটি ঐতিহাসিক শহর।
জার্মানিতে গণগুলিবর্ষণের ঘটনা বিরল। দেশটিতে বন্দুক মালিকানার কঠোর আইন রয়েছে এবং এর জন্য লাইসেন্স আবশ্যক। বন্দুক রাখার অনুমতি পেতে হলে বাসিন্দাদের নিজেদের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়, একটি প্রশিক্ষণ কোর্স ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় এবং অস্ত্র রাখার প্রয়োজনীয়তাও প্রমাণ করতে হয়।
জার্মান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ৮৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটিতে প্রায় ৯ লাখ ২৯ হাজার মানুষের কাছে ৩০ লাখের বেশি বন্দুক রয়েছে।
জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল
ক্রীড়া ডেস্ক : অবশেষে যোগ করা সময়ের ১১তম মিনিটে বাজল রেফারির শেষ বাঁশি। জাপানকে ২–১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষােলোয় উঠে গেল ব্রাজিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫৬ মিনিটে সমতা আনে কার্লো আনচেলত্তির দল। হেডে গোল করেন কাসেমিরো।
প্রথমার্ধে ব্রাজিল ছিল অনেকটাই ছন্নছাড়া। গোলও হজম করে জাপানের কাছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যায় অন্য এক ব্রাজিলকে। জাপানকে পাত্তাই দেয়নি এবার। শেষ পর্যন্ত দাপুটে খেলেই জাপানের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল।
এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির। বিদায় হয়ে গেছে এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের।
প্রথমার্ধে জাপানের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের পর আক্রমণ করতে থাকে ব্রাজিল এবং শেষ পর্যন্ত ফলও পেয়েছে। কাসেমিরোর হেডে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে মিডফিল্ডে দানিলোর ভুল পাস কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠেন সানো। কাসেমিরোকে সহজেই পেছনে ফেলে বল নিয়ে বক্সের বাইরে প্রায় ২০ গজ বল দূর থেকে জোরালো শটে গোলরক্ষক আলিসনকে পরাস্ত করেন তিনি। সেটিই ছিল জাপানের একমাত্র অন-টার্গেট শট, কিন্তু সেটাই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।
প্রথমার্ধে বল দখল ও আক্রমণে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও তাদের পারফরম্যান্স ছিল নিষ্প্রভ। বিশেষ করে মধ্যমাঠে জাপানের আধিপত্যের কাছে বারবার চাপে পড়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
ব্রাজিলের দুটি অন-টার্গেট শটই সহজেই রুখে দেন জাপানের গোলরক্ষক সুজুকি। অন্যদিকে, জাপান তাদের একমাত্র সুযোগটি নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায়।
জাপানের প্রথম গোলের সময় আংশিকভাবে দায়ী ছিলেন কাসেমিরো। কয়েক মিনিট আগেই সহজ একটি সুযোগও হাতছাড়া করেছিলেন তিনি। তবে এবার আর কোনো ভুল করেননি ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।
৫৬ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলের দারুণ সুবিধা নিয়ে ফাঁকা পোস্টে শক্তিশালী হেডে জাল কাঁপান কাসেমিরো। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ এই গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় ব্রাজিল (১-১)।
চার মিনিট পর এগিয়ে যেতে পারতো ব্রাজিল। কিন্তু ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে।
বিশ্বকাপের যে তিন ম্যাচে হয়েছে সবচেয়ে বেশি দর্শক
ক্রীড়া ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের আয়োজক হলেই দর্শকের রেকর্ড যেন অবধারিত। সর্বশেষ ১৯৯৪ বিশ্বকাপে এমনটা দেখা গেছে। এবারও তা–ই। সর্বোচ্চ দর্শকের নতুন রেকর্ড হয়েছে।
এই আসর শেষ হওয়ার আগে হয়তো নতুন উচ্চতায় চলে যাবে। মজা করে কেউ কেউ বলতে পারেন, বিশ্বকাপে ভবিষ্যতে দর্শকের রেকর্ড ভাঙতে আবারও হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকেই আয়োজক হতে হবে!
সেটার কারণও আছে। এবারের কথাই ধরুন। যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যু স্টেডিয়াম ১১টি। সব কটি স্টেডিয়ামই বেসবল, রাগবির পাশাপাশি বড় কনসার্ট মাথায় রেখে বানানো।
কোনো স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই ৬৪ হাজারের নিচে আসন নেই। তাতে এক দিনে যুক্তরাষ্ট্রে তিন–চারটি ম্যাচ হলে বিশ্বকাপে এক দিনে দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড ভেঙে যাওয়াই তো স্বাভাবিক।
ফিফার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৫ জুন ভেঙে গেছে একক কোনো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ মোট দর্শক উপস্থিতির পুরোনো রেকর্ডটি। ওই দিন পর্যন্ত স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকের সংখ্যা ছিল ৩৬ লাখ ৫ হাজার ৩৫৭ জন।
তার পর থেকে এই সংখ্যাটি প্রতিনিয়ত আরও বাড়ছে। এর আগে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৮ জন দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড হয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে ৩২ বছর আগের সেই বিশ্বকাপটিও অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই যুক্তরাষ্ট্রেই।
এখন পর্যন্ত ফিফার যা হিসাব, তাতে দেখা যাচ্ছে, গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে মোট ৪৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৯ জন মানুষ স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছেন। গড়ে স্টেডিয়ামগুলোর ৯৯.৭ শতাংশ আসনই পূর্ণ ছিল দর্শকে। গ্রুপ পর্বে গড়ে প্রতি ম্যাচে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ৬৪ হাজার ৫০৮ জন দর্শক।
ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বের ২১০টি দেশ থেকে আসা সমর্থকেরা এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো সরাসরি মাঠে বসে উপভোগ করেছেন। একই সঙ্গে আরও একটি রেকর্ড গড়েছে এবারের বিশ্বকাপ।
২৫ জুন বিশ্বকাপের ইতিহাসে একক কোনো দিনে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড হয়েছে। ওই এক দিনেই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগ করেছেন ৪ লাখ ২৬ হাজার ৮৩৪ জন দর্শক। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত আটটি ভিন্ন ম্যাচে স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতির সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
গ্রুপ পর্ব শেষে এখন চলছে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে নকআউট লড়াই। আসুন জেনে নিই, গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে বেশি দর্শক উপস্থিতির ম্যাচ ছিল কোনগুলো?
দর্শক উপস্থিতিতে শীর্ষ তিন ম্যাচ:
দর্শক উপস্থিতির তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে তিনটি ম্যাচ। সেই তিনটি ম্যাচই আবার অনুষ্ঠিত হয়েছে একই স্টেডিয়ামে। আজতেকা! লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম।
এবার বিশ্বকাপে আসনসংখ্যার বিচারেও এটি বৃহত্তম। মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা (উদ্বোধনী ম্যাচ), উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র–মেক্সিকো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই স্টেডিয়ামে। এই তিনটি ম্যাচের প্রতিটিতে দর্শক উপস্থিতি রেকর্ড ৮০ হাজার ৮২৪ জন।
এক ধাপ পেছনেই আছে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ব্রাজিল বনাম মরক্কো ম্যাচ। ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শক গ্যালারিতে বসে দেখেন এই ম্যাচ।
সবচেয়ে কম দর্শকের ম্যাচ কোনটি
সবচেয়ে কম টিকিট বিক্রি বা দর্শক উপস্থিতির দিক থেকে তালিকার তলানিতে টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ঘানা ও পানামার মধ্যে ম্যাচটি। আফ্রিকান দলটির ১-০ গোলের জয়ের এই ম্যাচে দর্শক উপস্থিতি ছিল ৪২ হাজার ৯৪২ জন।
অবশ্য এই স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতাই মাত্র ৪৩ হাজার! চলতি বিশ্বকাপে এটাই সবচেয়ে কম দর্শক উপস্থিতির ম্যাচ।
বিটিভিতে প্রথম জানাজা, বনানীতে দাফন
বিনোদন ডেস্ক : বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন)। জানাজা শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এরপর বনানী কবরস্থানে গুণী এই শিল্পীকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
আজ সোমবার মুস্তাফা মনোয়ারের ছেলে সাদাত মনোয়ার বলেন, ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদ থেকে গোসল সেরে দুপুর ১২ টায় মরহুমের নিজ বাসভবনে আনা হয়েছে। এখানে বিকেল পর্যন্ত মরদেহ থাকবে। তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শ্রদ্ধা জানানোর পর স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।
তিনি আরও জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ প্রথমে নেওয়া হবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে। সেখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিটিভি থেকে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে মরদেহ নিয়ে আসা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এখানেই রাখা হবে।
শহীদ মিনার থেকে মরদেহ নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে, সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হবে। জানাজা শেষে মরদেহ আধা ঘণ্টার জন্য নেওয়া হবে তার প্রিয় কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। দীর্ঘদিন সেখানে শিক্ষকতা করায় তার সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা যেন শেষ বিদায় জানাতে পারেন, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চারুকলার আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামীকাল বিকেলের মধ্যে বনানী কবরস্থানে তাকে চিরশায়িত করা হবে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের অপেক্ষায় গেদে সীমান্তের ব্যবসায়ীরা
ডেস্ক নিউজঃ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার এই কার্যক্রম চালুর পর পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত চেকপোস্টে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। প্রতীক্ষিত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার ব্যবসায়ী ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের স্বজনেরা। একই ধরনের স্বস্তির আমেজ লক্ষ্য করা গেছে নদীয়া জেলার গেদে স্থল সীমান্তেও।
একটা সময় দিনে কয়েক হাজার বাংলাদেশি পর্যটক আসতেন ভারতে। কিন্তু গত দু বছরে শুধু মেডিকেল ভিসা চালু থাকায় সেই সংখ্যাটা কয়েকগুণ কমে যায়। এ অবস্থায় হিলি কিংবা গেদে-দুই সীমান্তের ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত কঠিন সময় পার করেছেন। ব্যবসায় মন্দার কারণে বিকল্প আয়ের পথ বেছে নিতে হয়েছে অনেককে।
এবার পুনরায় টুরিস্ট ভিসা চালুর সিদ্ধান্তে এক দিকে যেমন পুনরায় বাংলাদেশ থেকে পর্যটক আসার সংখ্যা বাড়বে, তেমনি উভয় সীমান্ত এলাকার ব্যাবসা, বাণিজ্যের উন্নতি ঘটবে বলে প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।
ভারতের হিলি সীমান্তের ব্যবসায়ী অংশুমান সাহা বলেন, ‘টুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় আশা করা যাচ্ছে, ব্যাবসার পরিস্থিতির আগের থেকে অনেকটাই ভালো হবে। আগে প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৭০০ থেকে ৮০০ মানুষ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করত। বিগত দুই বছর ধরে ভারত শুধু বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ভিসা দিচ্ছিল। যার ফলে এই সংখ্যাটা কমে এসেছিল মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ এর মধ্যে। আমার প্রত্যাশা, এর ফলে আমাদের জেলার সীমান্ত এলাকায় ব্যাবসা-বাণিজ্য আবার পুনরায় উন্নতি ঘটবে।’
বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলা থেকে ভারতে চিকিৎসা করতে আসা সাদিয়া নামে এক বাংলাদেশি তরুণী বলেন, ‘এটা আমাদের কাছে একটা অনেক ভালো লাগার বিষয়। কারণ, আমরা দীর্ঘ দুই বছর পর টুরিস্ট ভিসা চালু হতে চলেছে। আমি নিজেও মেডিকেল ভিসা নিয়ে চিকিৎসা করার জন্য ভারতে প্রবেশ করেছিলাম। ব্যাঙ্গালোরে চিকিৎসা করিয়ে এবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। আশা করি, সামনের বার যখন আসবো, তখন মেডিকেল ভিসা নয়, সরাসরি ট্রাভেল ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারব।’
বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের মালিক দীনবন্ধু হালদার জানান, ‘দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হবে। আর্থিক দিক দিয়ে এই স্থল বন্দরের উন্নতি হবে। কারণ গত দুই বছর ধরে এটা স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। তাছাড়া ভিসা কম হওয়ার কারণে চিকিৎসা পরিষেবা থেকেও বাংলাদেশিরা বঞ্চিত হচ্ছিল। টুরিস্ট ভিসা চালু হলো, আশা করা হচ্ছে অন্য ভিসাও চালু হবে।’
কর্ণফুলী টানেলে আয়ের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যয়: সেতুমন্ত্রী
দেশের ২০ অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস
আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ২০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সোমবার দুপুর ২টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর নৌযান চালকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার পাশাপাশি ঝড়ো আবহাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।