দেশের ২০ অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ২০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সোমবার দুপুর ২টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর নৌযান চালকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার পাশাপাশি ঝড়ো আবহাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।




এবারের বাজেট হবে বাস্তবমুখী, সব মানুষের জন্য আনবে স্বস্তি: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এবারের বাজেট হবে সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী। সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি আনবে এবারের বাজেট।

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন)-এর ১৮তম কার্যদিবসে নিজের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে ৬১ পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহারের পর পণ্যের দাম স্বাভাবিক আছে। এবারই প্রথম বাজেট ঘোষণার পর কোন নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। প্রস্তাবিত এ বাজেটকে তিনি ‘জীবনবান্ধব’ বাজেট আখ্যা দেন।

তিনি বলেন, দেশের নানামুখী সংকটকে অস্বীকারও করতে চাই না, আবার অযুহাতও বানাতে চাই না। অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গিয়েছিল। দেশে এখন একটি গণতান্ত্রিক অবস্থা তৈরি হয়েছে। অতীতের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগোতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু বিষয়ে ঐকমত্য ও কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও জনগণের মধ্যে আমরা আশার সঞ্চার করতে পেরেছি৷ যদিও আমরা সংসদে যতটা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছি, এর চেয়ে বেশি অতীত নিয়ে কথা বলেছি। তবে জনগণ চায় ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।

তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণের কারণেই আমরা সংসদে এসে দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারছি৷ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বিপুল বিদেশি ঋণের বোঝা চাপিয়েছে বিগত সরকার। এ বোঝা জনগণকে অনেক বছর টানতে হবে।

‘ঋণ নয়, উৎপাদন হবে বিনিয়োগ নির্ভর। এমন একটি দেশ গড়তে চাই, তরুণরা যেনো নিজেই নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে’, যোগ করেন তিনি।




নবম পে স্কেল: জুলাই থেকেই কার্যকর হতে পারে নতুন মূল বেতন

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশীত নতুন বেতনকাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়ন হতে পারে। এর মধ্যে আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন স্কেলে সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

জানা যায়, চলতি সপ্তাহেই পে কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন কমিটি শুরুতে তিন ধাপে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল।

সুপারিশ অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে কমিশনের সুপারিশ করা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জুলাই বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব ছিল। তবে এভাবে পে-স্কেল কার্যকর করতে গেলে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

অনেক কর্মচারীর ক্ষেত্রে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে বর্তমান মূল বেতন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে নতুন বেতনকাঠামোর ৫০ শতাংশ কার্যকর করলেও প্রকৃত বেতন বাড়বে খুব সামান্য। কারও কারও মোট বেতন কমেও যেতে পারে।

এ নিয়ে সরকারি কর্মচারীরা আপত্তি জানালে বাস্তবায়ন কমিটি পরিকল্পনা পরিবর্তন করে। এখন আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন ভাতা কার্যকরের সুপারিশ করা হচ্ছে।

একটি সূত্র বলছে, সরকারের আর্থিক সংগতি থাকলে নতুন বেতন কাঠামো একবারেই বাস্তবায়ন করত। তবে তিন ধাপের বদলে দুই ধাপে করতে পারলেও ভালো। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের রাজস্ব সংগ্রহে মনোযোগ দিতে হবে।

এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।

এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।

সূত্র জানায়, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর পৃথক বেতনকাঠামোর প্রতিবেদনও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন শুধু প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা।




প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আজ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র’ থেকে একযোগে দেশের ২৯ হাজারেরও বেশি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

রোববার (২৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রতিজন শিশুকে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণে সম্পৃক্ত করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের শিক্ষাঙ্গনে এই নতুন সবুজায়ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর আওতায় আগামী ৫ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শেরে বাংলা নগরের ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে’ আয়োজিত মূল অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী দুপুর ২টায় মাধ্যমিক পর্যায়ের মোট ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসা রয়েছে।

এ কর্মসূচি সোমবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে তা দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিবছর প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার টাকা করে বিশেষ জলবায়ু সচেতনতা অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। এ বছর কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১টি ফলদ বৃক্ষ, ১টি বনজ বৃক্ষ ও ১টি ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পর্দায় সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট এলাকার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে সরাসরি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।

অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক হবে এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পাবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আজ প্রতিটি ক্যাম্পাসে জলবায়ু বিষয়ক ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে এদিন একই মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’-এর জাতীয় পর্যায়ের তরুণ উদ্ভাবকদের তৈরি স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রদর্শনীর স্টল পরিদর্শন এবং সেরা উদ্ভাবকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, আয়োজনটি সফল করতে রোববার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের মূল ভ্যেনু ও প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।




বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন

ডেস্ক নিউজঃ বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেয়ায় আশার আলো দেখা দিলেও পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেয়া হয়।

এর আগে তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।
দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।



২০২৬ বিশ্বকাপ কার? সুপারকম্পিউটারের চাঞ্চল্যকর হিসাব-নিকাশ

ক্রীড়া ডেস্কঃ প্রায় ১৭ দিন ও ৭২ ম্যাচের শ্বাসরুদ্ধকর সব লড়াইয়ের পর শেষ হলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের খেলা। ৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ৩২ দলে এসে ঠেকেছে। শেষ বত্রিশের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হওয়ায় টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপগুলোর সম্ভাব্য লড়াইয়ের চিত্রও অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে। ফলে এখনকার হিসাব-নিকাশ আগের তুলনায় আরও বাস্তবসম্মত ও স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছে সম্ভাব্য ম্যাচআপগুলো নিয়ে।

যেমন নকআউটের প্রথম ম্যাচের ফলের অনুমান ঠিকঠাক মিলে গেছে। ক্রীড়া পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান ‘অপটা অ্যানালিস্টের’ সুপারকম্পিউটার রাউন্ড অব থার্টি টুর প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কানাডার জয়ের কথা বলেছিল। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। এবার জেনে নিতে পারেন অপটার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসারে এবার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি কোন দুই দলের।

সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস, শেষ বত্রিশ থেকে শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ফ্রান্সের—৮১.৫ শতাংশ। এ ছাড়া কিলিয়ান এমবাপ্পেদের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫৮.৩ শতাংশ, সেমিফাইনালে ৪২.৭ শতাংশ এবং ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ২৮.৪ শতাংশ। আর ফাইনালে জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনায়?—১৮.৭ শতাংশ। এটিও সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ফ্রান্স শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বের অন্যান্য ধাপে পার হওয়ার ক্ষেত্রে বেশি এগিয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। রাউন্ড অব থার্টি টুতে কেপ ভার্দেকে পাওয়া আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোর পথে সবচেয়ে বেশি ‘নিরাপদ’—জেতার সম্ভাবনা ৮৯.২ শতাংশ। শুধু তা–ই নয়, কোয়ার্টার ফাইনাল (৭০.৫%), সেমিফাইনাল (৪৯.৬%) এবং ফাইনালে (৩০%) ওঠার সম্ভাবনার দিক থেকেও সবার ওপরে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাই। অর্থাৎ সুপারকম্পিউটার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার পাল্লা ফ্রান্সের চেয়েও ভারী, যদিও ট্রফি ছোঁয়ার চূড়ান্ত মুহূর্তে কিছুটা এগিয়ে ফরাসিরাই।

তালিকার তৃতীয় স্থানে আছে স্পেন, যাদের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ১৩.৫ শতাংশ। হ্যারি কেইনদের ইংল্যান্ড ৯.৭ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে আছে চতুর্থ স্থানে, আর নেইমার–ভিনিসিয়ুসদের ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৬.৫ শতাংশ।

আরও কিছু দলেরও সম্ভাবনা খুব কম নয়। অপটার সুপারকম্পিউটার বলছে, নেদারল্যান্ডসের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৫.১ শতাংশ, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের ৪.৭ শতাংশ এবং জার্মানির ৪.৪ শতাংশ। এ ছাড়া এখনো লড়াইয়ে টিকে থাকা কলম্বিয়া (৩.২%), আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে (৩%), স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র (২.৫%) ও সুইজারল্যান্ড (২.২%) যেকোনো মুহূর্তে সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

অন্যদিকে তিন স্বাগতিক দেশের অন্যতম মেক্সিকোর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ১.৮ শতাংশ। গত আসরের চমক মরক্কো এবং সোনালি প্রজন্মের বেলজিয়ামের সম্ভাবনা সমান ১.৬ শতাংশ। আর এশিয়ান পরাশক্তি জাপানের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ।

তবে মনে রাখতে হবে, অপটার এই পূর্বাভাস কেবলই গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত হিসাব। ফুটবল মাঠে ৯০ মিনিটে অনেক কিছুই হতে পারে।




হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ : গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ১ হাজার ৫৭ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৬ শিশুর। এই হিসাব গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে।

আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৯ জন। মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৭১২ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৮৯ শিশু। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৬৫ শিশু। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে দুইজন এবং ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯৯ হাজার ২০৭ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৭১০ শিশুর। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজার ৯১৭ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮২ হাজার ৮৪৪ শিশু। আর সুস্থ হয়ে ৭৯ হাজার ১৫২ শিশু হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে।




এমসিসির আজীবন সদস্যপদ লাভ তামিম ইকবালের

ক্রীড়া ডেস্ক : একসময় ব্যাট হাতে লর্ডসে সেঞ্চুরি করে অনার্স বোর্ডে নাম তুলেছিলেন তামিম ইকবাল। প্রায় ১৬ বছর পর সেই ঐতিহাসিক মাঠেই পেলেন আরও একটি বিশেষ সম্মান। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি এবার মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) আজীবন সম্মানী সদস্যপদ লাভ করেছেন।

১৭৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এমসিসি ক্রিকেটের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ক্রিকেটের আইন সংরক্ষণ ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডেরও মালিক এই ক্লাব।

এমসিসির তথ্য অনুযায়ী, তামিম বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ সদস্যপদ পেলেন। এর আগে ২০০৩ সালে সাবেক বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এবং ২০২৩ সালে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এই স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন।

এবার তামিমের সঙ্গে আজীবন সম্মানী সদস্যপদ পেয়েছেন ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটার চেতেশ্বর পূজারা, নিউজিল্যান্ড নারী ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি সোফি ডিভাইন ও সুজি বেটস এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার মেলানি জোন্স।

২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে লর্ডসে দারুণ এক সেঞ্চুরি করে তামিম নিজের নাম তুলে নিয়েছিলেন অনার্স বোর্ডে। একই সফরে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডেও করেছিলেন শতক। সেই অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ পরবর্তীতে ক্রিকেটের মর্যাদাপূর্ণ প্রকাশনা ‘উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাক’-এর বর্ষসেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন নির্বাচিত হন তিনি।

নতুন পাঁচ আজীবন সম্মানী সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে এমসিসির প্রধান নির্বাহী ও সচিব রব লসন বলেন, পাঁচজন অসামান্য ক্রিকেটারকে আমাদের নতুন আজীবন সম্মানী সদস্য হিসেবে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। খেলার প্রতি তাদের আজীবন নিবেদনের জন্য তারা প্রত্যেকেই এই স্বীকৃতির যোগ্য। আগামী বছরগুলোতে এমসিসি সদস্য হিসেবে লর্ডসে তাদের স্বাগত জানাতে আমরা উন্মুখ হয়ে আছি।




ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, অতীতের সব রেকর্ড ভাঙার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে শত শত মানুষের মৃত্যুর পর এবার পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোও ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মুখে পড়েছে। পোল্যান্ড, চেকিয়া (চেক প্রজাতন্ত্র) ও স্লোভাকিয়ায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে, ফ্রান্সে তাপপ্রবাহে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার (২৮ জুন) ইউরোপজুড়ে অন্তত ১৯ কোটি ১০ লাখ মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার মধ্যে ছিলেন। জার্মানি, চেকিয়া, পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিতে চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পোল্যান্ডে ১৯২১ সালে রেকর্ড হওয়া সর্বোচ্চ ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড রোববার (২৮ জুন) ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশটির সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা নাগরিকদের মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে সূর্যের তাপ এড়িয়ে চলা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম না করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা ও টুপি ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে। তাপ থেকে মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে বিভিন্ন শহরে পানির ফোয়ারা বা ‘ওয়াটার কার্টেন’ স্থাপন করা হয়েছে।

চেক হাইড্রোমেটিওরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, দেশটিতে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশ খানিকটা বেশি হতে পারে বলে তারা ধারণা করছে।

চেকিয়ায় শনিবারই ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, যা দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ। রাতভর দেশটির ১০০টিরও বেশি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির নিচে নামেনি। তবে আবহাওয়া দপ্তরের মতে, রোববার (২৮ জুন) পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, শনিবারের (২৭ জুন) রেকর্ড নিশ্চিতভাবেই আবারও ভেঙে যাবে। একই সঙ্গে রোববার রাতেও ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ রাতের নতুন রেকর্ড গড়তে পারে দেশটি।

জার্মানিতেও শনিবার (২৭ জুন) রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনির বাউটজেন এলাকায় রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বার্লিনের বাসিন্দাদের তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে শনিবার (২৭ জুন) জলকামান ব্যবহার করে পানি ছিটিয়েছে পুলিশ। একই ব্যবস্থা রোববারও চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জার্মানির রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা ডয়চে বান সপ্তাহের শেষে অতি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।

স্লোভাকিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এরই মধ্যে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। ২০০৭ সালে দেশটির সর্বোচ্চ ৪০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড রোববার বা সোমবার (২৯ জুন) ভেঙে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮৭১ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম স্লোভাকিয়ায় টানা তিন দিন ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে।

ডেনমার্কেও শনিবার (২৭ জুন) ১৮৭৪ সালে তাপমাত্রা পরিমাপ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। এটি দেশটির ওডেন্স শহরের উত্তরের একটি এলাকায় পরিমাপ করা হয়।

এদিকে ফ্রান্সে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে মৃত্যুর হিসাব শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ২৪ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত আগের মাসগুলোর তুলনায় অতিরিক্ত এক হাজার মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা এখনো প্রাথমিক ও শেষ পর্যন্ত তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মানুষের নিজ নিজ বাড়িতে। বিশেষ করে, রাজধানী প্যারিস ও এর আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত ইল-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলে এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। মৃতদের অধিকাংশের বয়স ৬৫ বছরের বেশি হলেও অপেক্ষাকৃত কম বয়সীরাও এই তাপপ্রবাহের শিকার হয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই পরিস্থিতি বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে একাকী ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন মানুষের প্রতি সংহতি ও সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এবং ডানপন্থি লে রিপাবলিকাঁ দলের সংসদ সদস্য ফিলিপ জুভাঁ বলেছেন, ফ্রান্সে শেষ পর্যন্ত তাপপ্রবাহে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, এমনও হতে পারে যে এখনো অনেক মানুষ নিজেদের বাড়িতে অচেতন অবস্থায় কিংবা মারা গেছেন, কিন্তু আগামী সপ্তাহের আগে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বলেছেন, আগামী কয়েক দিন দেশটির হাসপাতাল ও জরুরি সেবাগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে। গ্রিনস পার্টির নেতা মেরিন টঁদেলিয়ে বলেছেন, এত বিপুল মৃত্যুর কারণ পুরোপুরি তদন্ত করে সামনে আনতে হবে এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানিয়েছেন, তাপপ্রবাহের সবচেয়ে ভয়াবহ সময়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা ১ লাখ ২২ হাজারেরও বেশি জরুরি কলের সাড়া দিয়েছে।

স্পেনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২১ জুন) থেকে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পর্যন্ত অন্তত ৩২৭ জনের মৃত্যু তাপপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

অন্যদিকে, উত্তর ফ্রান্সের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়া আঘাত হেনেছে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। জরুরি সেবা কর্মীরা সড়কে উপড়ে পড়া গাছ সরানো এবং প্লাবিত বাড়িগুলোতে উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন।

আইন এলাকায় বজ্রপাতের কারণে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে লাওঁ শহরের একটি ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকালে ৬০ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না।

এদিকে, বেলজিয়ামেও ভয়াবহ ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। দেশটির রাজধানী ব্রাসেলসের উপকণ্ঠে একটি গাছ গাড়ির ওপর ভেঙে পড়লে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।




১৯০ কিলোমিটার দূর থেকে মিগ-২৯ বিধ্বস্ত করলো রুশ সু-৩৫!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের পোলতাভা অঞ্চলে ইউক্রেনের মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে রাশিয়ার সু-৩৫এস। ১৯০ কিলোমিটার দূর থেকে মিগ-২৯ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে রুশ যুদ্ধবিমান সু-৩৫। এত দূর থেকে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত করার এমন দাবিতে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ডিফেন্স সিকিউরিটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬-২৭ জুন রাতের ওই সংঘর্ষটি হয়। আধুনিক সামরিক বিমান চলাচলের ইতিহাসে ফাইটার-টু-ফাইটার ভূপাতিতের ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম রেকর্ড হতে পারে।

এদিকে, পোলতাভা অঞ্চলে যুদ্ধ মিশনের সময় একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ। তবে তারা জানিয়েছে, বিমানের পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন এবং প্রাণে বেঁচে যান।

রাশিয়াপন্থী সামরিক সূত্র এবং একাধিক উন্মুক্ত গোয়েন্দা বিশ্লেষকের দাবি, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত বেলগোরোদ অঞ্চলের আকাশসীমা থেকে একটি সু-৩৫এস যুদ্ধবিমান আর-৩৭এম (R-37M) দূরপাল্লার (এয়ার টু এয়ার) নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে। এতে ইউক্রেনের মিগ-২৯ বিমানটিকে ভূপাতিত হয়।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বেলগোরোদের পশ্চিমাংশ থেকে পোলতাভা অঞ্চলের ভেলিকা বাহাচকা বা শিশাকি এলাকার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর সরলরৈখিক দূরত্ব প্রায় ১৮৫ থেকে ১৯০ কিলোমিটার, যা এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই ঘটনা দেখায় যে রাশিয়া এখন গভীর নিরাপদ আকাশসীমায় নিজেদের যুদ্ধবিমান রেখে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, স্থলভিত্তিক রাডার এবং সুরক্ষিত ডেটা লিংকের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্কভিত্তিক যুদ্ধ কৌশল ব্যবহার করছে।

তাদের মতে, আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে রাশিয়া ইউক্রেনের পুরোনো মিগ-২৯ ও সু-২৭ যুদ্ধবহরের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে, যেগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো ভিডিও বা ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশিত হয়নি, যা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে যে বিমানটি আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রেই ভূপাতিত হয়েছে। ফলে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।