১৯০ কিলোমিটার দূর থেকে মিগ-২৯ বিধ্বস্ত করলো রুশ সু-৩৫!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের পোলতাভা অঞ্চলে ইউক্রেনের মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে রাশিয়ার সু-৩৫এস। ১৯০ কিলোমিটার দূর থেকে মিগ-২৯ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে রুশ যুদ্ধবিমান সু-৩৫। এত দূর থেকে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত করার এমন দাবিতে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ডিফেন্স সিকিউরিটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬-২৭ জুন রাতের ওই সংঘর্ষটি হয়। আধুনিক সামরিক বিমান চলাচলের ইতিহাসে ফাইটার-টু-ফাইটার ভূপাতিতের ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম রেকর্ড হতে পারে।

এদিকে, পোলতাভা অঞ্চলে যুদ্ধ মিশনের সময় একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ। তবে তারা জানিয়েছে, বিমানের পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন এবং প্রাণে বেঁচে যান।

রাশিয়াপন্থী সামরিক সূত্র এবং একাধিক উন্মুক্ত গোয়েন্দা বিশ্লেষকের দাবি, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত বেলগোরোদ অঞ্চলের আকাশসীমা থেকে একটি সু-৩৫এস যুদ্ধবিমান আর-৩৭এম (R-37M) দূরপাল্লার (এয়ার টু এয়ার) নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে। এতে ইউক্রেনের মিগ-২৯ বিমানটিকে ভূপাতিত হয়।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বেলগোরোদের পশ্চিমাংশ থেকে পোলতাভা অঞ্চলের ভেলিকা বাহাচকা বা শিশাকি এলাকার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর সরলরৈখিক দূরত্ব প্রায় ১৮৫ থেকে ১৯০ কিলোমিটার, যা এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই ঘটনা দেখায় যে রাশিয়া এখন গভীর নিরাপদ আকাশসীমায় নিজেদের যুদ্ধবিমান রেখে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, স্থলভিত্তিক রাডার এবং সুরক্ষিত ডেটা লিংকের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্কভিত্তিক যুদ্ধ কৌশল ব্যবহার করছে।

তাদের মতে, আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে রাশিয়া ইউক্রেনের পুরোনো মিগ-২৯ ও সু-২৭ যুদ্ধবহরের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে, যেগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো ভিডিও বা ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশিত হয়নি, যা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে যে বিমানটি আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রেই ভূপাতিত হয়েছে। ফলে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।




গোপালগঞ্জে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করলেন ডা. জিয়াউদ্দিন

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা) ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার আজ রোববার গোপালগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন, দেশের ৬–৫৯ মাস বয়সী ২ কোটিরও বেশি শিশুকে আজ সারাদেশে বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এই কর্মসূচি শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের অন্যতম সফল জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ।

ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, অপুষ্টিজনিত জটিলতা কমাতে সহায়তা করে, দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতিজনিত রাতকানা ও অন্যান্য চোখের সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করে। একই সঙ্গে এটি শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তার মতে, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪–২৫ সালের পরিকল্পিত হাম টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হওয়ায় অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়, যা বর্তমান প্রাদুর্ভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি এবং সামগ্রিক অপুষ্টি গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এ কারণে চলমান জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

গোপালগঞ্জ প্রসঙ্গে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, তার মূল্যায়নে, স্বাধীনতার পর থেকে, বিশেষ করে গত দেড় দশকে, গোপালগঞ্জের মানুষ একদল দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবের মধ্যে ছিলেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই নেটওয়ার্কের অবসান ঘটে এবং এখন গোপালগঞ্জের মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ, স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং নিজেদের উদ্যোগে উন্নয়নের সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই নতুন পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. কে. এম. বাবর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউনিসেফের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিবৃন্দ, স্বাস্থ্যকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনগণ।




বিশ্বকাপ শেষ বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক : নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বিশ্বকাপ শেষ বাংলাদেশের। গ্রুপ-১ নিজেদের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪ উইকেটে হারে টাইগ্রেসরা। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১১৭ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৪ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে ১১৮ রান তুলে জয়ের স্বাদ নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ে ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে সেমিফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল প্রোটিয়ারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ। এ ম্যাচের আগে যদি-কিন্তুর উপর টাইগ্রেসদের সেমির আশা বেঁচে ছিল। ৫ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করল নিগার সুলতানার দল। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসকে হারায় বাংলাদেশ।

আজ রোববার লর্ডসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতে উইকেট হারায় টাইগ্রেসরা। গোল্ডেন ডাক মারেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস।

রানের খাতা খুলে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে সাজঘরে ফিরেন বাংলাদেশের আরেক ওপেনার তাজ নেহার। ১২ বলে ১ রান করেন তিনি।  ১৪ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর বাংলাদেশের হাল ধরেন সোবহানা মোস্তারি ও শারমিন আক্তার। ৬২ বলে ৫৬ রানের জুটিতে দলকে চাপমুক্ত করেন তারা।  দলীয় ৭০ ও ৭৭ রানে সাজঘরের পথ ধরেন দু’জনই। শারমিন ১টি চারে ২৯ বলে ২২ এবং সোবহানা ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৮ বলে ৪২ রান করেন।

ছয় নম্বরে নেমে ৪ রানের বেশি করতে পারেননি স্বর্ণা আকতার। ৯৫ রানে পঞ্চম উইকেট পতনের পর ইনিংসের শেষ ১১ বলে বাংলাদেশকে ২২ রান এনে দেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা ও রিতু মনি। এতে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১১৭ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ২০ বলে অনবদ্য ৩২ রান করেন নিগার। ১ রানে অপরাজিত থাকেন রিতু। দক্ষিণ আফ্রিকার ননকুলুলেকো ম্লাবা ২ উইকেট নেন। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১১৮ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দিয়ে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট শিকারে মেতে উঠে বাংলাদেশ। পেসার মারুফা আক্তারের দারুন ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক মারেন দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা ব্যাটার ও অধিনায়ক লরা উলভার্ট।

এরপর ৫২ রানের জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভালো অবস্থায় নেন তাজমিন ব্রিটস ও আনিরি ডার্কসেন। ৭ রানের ব্যবধানে এই দুই সেট ব্যাটারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরান বাঁ-হাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার। ব্রিটস ২০ ও ডার্কসেন ৪৫ রান করেন।

এরপর ভ্যান নির্কাককে ৪ রানে বাঁ-হাতি স্পিনার সানজিদা আক্তার মেঘলা এবং মারিজানে কাপ্প ১৬ রানে রান আউট হয়ে বিদায় নিলে জয়ের লড়াইয়ে টিকে থাকে বাংলাদেশ। শেষ ১৫ বলে ১৬ রান দরকার পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৪ বাকী রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় দক্ষিন আফ্রিকা। বাংলাদেশের নাহিদা ২টি, মারুফা-মেঘলা ও রিতু মনি ১টি করে উইকেট নেন।




বিশ্বকাপের পর আবারও একসঙ্গে সঞ্জয় দেব-নোরা

বিনোদন ডেস্ক : বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘সির সির’ গান দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছিলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে, গায়ক ও সংগীত পরিচালক সঞ্জয় দেব এবং বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি। সেই জুটিই এবার ফিরলেন নতুন গান ‘চ্যাম্পিয়ন’ নিয়ে।

গতকাল শনিবার গানটি প্রকাশ হয়েছে ইউটিউবের পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাইতে। বিশ্বকাপের আবহকে ঘিরেই এটি প্রকাশের পরিকল্পনা সঞ্জয় দেব ও নোরা ফাতেহি’র।

ডালাস থেকে গণমাধ্যমকে সঞ্জয় দেব জানান, ‘চ্যাম্পিয়ন’ শুধু খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে তৈরি কোনো গান নয়। এটি বিজয়, আত্মবিশ্বাস এবং জীবনের প্রতিটি অর্জন উদযাপনের বার্তা বহন করবে।

তার ভাষায়, ‘এটা শুধু কোনো খেলায় জয়ের গান নয়। জীবনের যেকোনো অর্জন, যেকোনো সংগ্রাম শেষে পাওয়া সাফল্য উদযাপনের গান। আমরা চাই, মানুষ গানটি শুনে অনুপ্রাণিত হোক, ইতিবাচক শক্তি পাক। “চ্যাম্পিয়ন” সবাইকে বিজয়ী হওয়ার অনুভূতি দেবে।’

গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি এর কথা, সুর ও সংগীত পরিচালনার দায়িত্বও পালন করেছেন সঞ্জয় দেব। তিনি জানান, প্রায় দুই মাস ধরে চলেছে গানটির কাজ।

‘চ্যাম্পিয়ন’-এর মিউজিক ভিডিও ধারণ করা হয়েছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার জানজিবারে। মাত্র দুই দিনের সফরে গিয়ে এক দিনেই ভিডিওটির পুরো শুটিং শেষ করেন সঞ্জয় দেব ও নোরা ফাতেহি। সঞ্জয়ের মতে, জানজিবারের সমুদ্রসৈকত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভিডিওটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

এদিকে গানটি প্রকাশের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে প্রচারণা। সম্প্রতি নোরা ফাতেহি নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘বন্ধুরা, তোমরা সবাই চ্যাম্পিয়নের জন্য প্রস্তুত তো?’ তার এই পোস্টের পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে গানটি নিয়ে কৌতূহল ও আগ্রহ বেড়েছে।




আজ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করলো ভারত

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ প্রায় দুই বছর স্থগিত থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে ভারত। রোববার (২৮ জুন) থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনাসহ দেশের সব ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। 

রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে আবেদনকারীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় সাধারণ আবেদনকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভিসা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এখন থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার পাশাপাশি আগের মতোই মেডিকেল ভিসা ও অন্যান্য জরুরি ভিসা কার্যক্রমও চলমান থাকবে।

ভিসা আবেদনকারীরা মনে করছেন, ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ফলে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজতর হবে। এটি শুধু পর্যটন খাতেই নয়, বরং দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাখাতেও নতুন গতির সঞ্চার করবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় যেসব শিক্ষার্থী বা ব্যবসায়ী নিয়মিত ভারত যাতায়াত করতেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর।

ভিসা আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। আবেদন প্রক্রিয়া আগের মতোই অনলাইনে সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ে ভিসা কেন্দ্রে পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভিসা আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরুর ফলে ভারতগামী ভ্রমণপিপাসুদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে এবং পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।




‘বাপ কা বেটা’: আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুই প্রজন্মের অনন্য এক রূপকথা

ক্রীড়া ডেস্কঃ ফুটবল মাঠ কখনো কখনো এমন কিছু কাকতালীয় রূপকথা তৈরি করে, যা ইতিহাসকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়। সোমবার ডালাস স্টেডিয়ামে জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে ফুটবল বিশ্ব দেখলো এমনই এক অনন্য দুই প্রজন্মের মেলবন্ধন।

১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে একই ম্যাচ খেলেছিলেন ডিয়েগো সিমিওনে এবং পাবলো পাজ। ঠিক ২৮ বছর পর, ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে একসাথে মাঠে নামলেন তাদের দুই সুযোগ্য সন্তান—জিউলিয়ানো সিমিওনে এবং নিকো পাজ। দুই প্রজন্মের এই ঐতিহাসিক উপস্থিতি ডালাসের রাতটিকে ফুটবল রোমান্টিকদের জন্য এক স্মরণীয় মুহূর্ত বানিয়ে রেখেছে।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে জেনত্তির বদলি হিসেবে ডান উইঙ্গে খেলতে নেমেছিলেন ডিয়েগো সিমিওনে, আর রক্ষণভাগে ছিলেন পাবলো পাজ। আর আজ জর্ডানের বিপক্ষে কোচ লিওনেল স্কালোনি ডানদিকের ফুল-ব্যাক হিসেবে মাঠে নামান জিউলিয়ানো সিমিওনেকে, আর তার ঠিক সামনে মাঝমাঠে খেলিয়েছেন নিকো পাজকে। বাবারা যেখানে খেলেছিলেন, সন্তানরাও ঠিক সেই পজিশনেই ম্যাচ শুরু করেন। পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে এই দুই তরুণের বোঝাপড়া ও আক্রমণাত্মক ফুটবল জর্ডানের রক্ষণভাগকে তটস্থ করে রেখেছিল।

বাবার উত্তরাধিকার সাফল্যের সাথে বহন করে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের এই অভিষেক রাঙিয়ে রাখলেন নিকো ও জিউলিয়ানো। ফুটবল ইতিহাসে দুই প্রজন্মের এমন অনন্য এক ম্যাচের সাক্ষী হয়ে রইলো ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ।




এ বছরই আমি দেশে ফিরব: শেখ হাসিনা

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র এবং আইনি বাধা উপেক্ষা করে তিনি চলতি বছরই দেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। 

নির্বাসিত জীবনে থাকা শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমার এই সংগ্রাম।”

তিনি মৃত্যুকে ভয় পান না জানিয়ে বলেন, ১৯৭৫ সালের ট্র্যাজেডি এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো কঠিন সময় পার করেছেন। প্রতিবারই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এবারও সব বাধা অতিক্রম করে তিনি তার মাতৃভূমিতে ফিরে আসবেন।

দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলার মাটি ও মানুষের ইতিহাস এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি বারবার কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বাংলাদেশবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতা পরিবর্তন করেছে। কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি।

দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও হাজারো মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলটির সমর্থনে মিছিল করছেন, যা আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের স্পষ্ট লক্ষণ।

শেখ হাসিনা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মূল ভিত্তি—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ এবং সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টার অংশ।

বিএনপি বা অন্য কোনো শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না। গণতন্ত্র এবং জনগণের ভোটাধিকার কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়; এগুলো সাংবিধানিক অধিকার।”

ভারতে অবস্থান করলেও তার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। তিনি জানান, বাবার সমাধি এবং প্রিয় দেশবাসীর কথা ভেবে তিনি প্রতিটি মুহূর্ত অস্থিরতায় পার করেন। তিনি বলেন, “আমি শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণ আবারও গণতন্ত্র ফিরে পাবে এবং আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতেই ঘুরে দাঁড়াবে।”




মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, কাদির ও হারিসকে ঘিরে প্রশ্নের মুখে সেবা ব্যবস্থা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির গুঞ্জনে মুখর। দেশের সাব রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর দুর্নীতির গল্প নতুন নয়—এখানে সেবা পেতে হলে প্রথম শর্তই হলো ঘুষ, আর ঘুষ না দিলে কোনো কাজ সময়মতো এগোয় না। কর্মকর্তাদের অনৈতিক দাবি যেন নৈমিত্তিক ব্যাপার; “টাকা দিলে সেবা, না দিলে অপেক্ষা” এই সংস্কৃতি বহুদিন ধরেই প্রতিষ্ঠিত। তবে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্টার আব্দুল কাদির এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সহকারী সাব রেজিস্টার হারিস এই দুর্নীতিকে যেন আরও সংগঠিত, পরিকল্পিত ও ভয়াবহ স্তরে নিয়ে গেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে সেবা গ্রহীতা ও দালালদের মুখে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল কাদির তার পছন্দের সাব রেজিস্ট্রি অফিসে পোস্টিং নিতে কয়েক কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন করেন, আর সেই টাকা তোলার জন্য তিনি ক্ষমতা ও দায়িত্বের অপব্যবহার করেন প্রকাশ্যে। জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল নিবন্ধনের প্রতিটি ধাপে ঘুষ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেউ ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ফাইল দিনের পর দিন আটকে রাখা হয় বা বিনা কারণে ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। অফিসের দালাল চক্রকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়। যারা বাধ্য হয়ে ঘুষ দেন, তাদের কাজ অল্প সময়েই সম্পন্ন হয়—এ যেন প্রতিষ্ঠিত ‘দুর্নীতির কাস্টমার সার্ভিস’।

অন্যদিকে আব্দুল কাদিরকে দুর্নীতির নেটওয়ার্ক পরিচালনায় সরাসরি সহায়তা করেন সহকারী সাব রেজিস্টার হারিস। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাসিন্দা হারিস গত কয়েক বছরে অবৈধভাবে আয় করেছেন কোটি কোটি টাকা—এমন অভিযোগ স্থানীয় সূত্রের। তার নিজ গ্রামে ইতোমধ্যে পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করেছেন, যার নির্মাণব্যয় তার বেতন-ভাতার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। শুধু তাই নয়, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় রয়েছে হারিসের নামে বাড়ি ও একাধিক ফ্ল্যাট। তার আর্থিক সাম্রাজ্য দিন দিন বিস্তৃত হলেও কোথা থেকে আসে এই বিপুল অর্থ—তা তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

এদিকে সাব রেজিস্টার আব্দুল কাদিরের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন উঠেছে। সহকর্মী ও সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ—আব্দুল কাদিরের সম্পত্তির তালিকা এতই দীর্ঘ যে তার কোনো শেষ নেই। রাজধানী ও অন্যান্য জেলায় তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটের তথ্য ঘুরছে আলোচনায়। অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন যে পরিমাণ ঘুষ লেনদেন হয় তার একটি বড় অংশ আব্দুল কাদিরের ব্যক্তিগত নির্দেশে সংগ্রহ করা হয়। ঘুষের হার নির্ধারণ থেকে শুরু করে দালালদের মাধ্যমে সংগ্রহ পর্যন্ত—সব ক্ষেত্রেই তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এই দুই কর্মকর্তার কারণে পুরো মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নৈরাজ্যকর ও দুর্নীতিপরায়ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কাজ করতে গেলেই সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। দলিল নিবন্ধনের মৌলিক সরকারি সেবাকে তারা ব্যক্তিগত লুটপাটের উৎসে পরিণত করেছেন। অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো কঠোর তদারকি না থাকায় দুর্নীতিবাজদের দাপট আরও বেড়ে গেছে। যত দিন না এসব দুর্নীতির শিকড় উন্মোচন করে শাস্তির আওতায় আনা হবে, ততদিন সাধারণ মানুষের আর্থিক ও সামাজিক ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে—এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা।




৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব

ডেস্ক নিউজঃ মানুষের কাছে থাকা নগদ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফেরাতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

ব্যাংক খাতে আস্থাহীনতার কথা তুলে ধরে নোয়াখালী-১ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, অনেকেই এখন ব্যাংকে অর্থ না রেখে বাসায় নগদ সংরক্ষণ করছেন। অতীতে অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা স্বৈরাচারী শাসনের সুবিধাভোগীদের কাছেও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এতে বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকের বাইরে অবস্থান করছে।

মাহবুব উদ্দিন বলেন, সরকার যদি ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে যেসব অর্থ আয়কর নথিতে নেই, সেগুলো ২৫ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে বাজেট ঘাটতি কমবে, ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়বে এবং বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে অর্থ ব্যবহার সম্ভব হবে বলে তিনি মত দেন।

দেশে ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর পক্ষেও মত দেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় দেশে ব্যাংক বেশি। জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংক খাত পুনর্গঠন জরুরি। জনগণের অর্থ দিয়ে বারবার ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টাকা পাচারকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে মাহবুব উদ্দিন বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানো কঠিন। তাই এমন আর্থিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে মানুষ দেশে বিনিয়োগে আস্থা পায়। শুধু আইন প্রণয়ন নয়, পুরো ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিপুলসংখ্যক যুবকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হলে স্থিতিশীলতা আসবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ঘাটতি বাজেট অস্বাভাবিক নয়; বিশ্বের অনেক দেশেই ঘাটতি বাজেট হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।




মেসির রেকর্ড গড়া গোলে আর্জেন্টিনার তিনে তিন

ক্রীড়া ডেস্কঃ টানা তিন জয় দিয়েই বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষ করলো ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে আগেই নকআউট নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনা। জর্ডানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল আলবিসেলেস্তেরা। এরপর এক গোল হজম করলেও, বদলি নামা লিওনেল মেসির রেকর্ড গড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

শীর্ষস্থান আগেই নিশ্চিত হওয়ায় জর্ডানের বিপক্ষে একাদশে বড় পরিবর্তন আনে কোচ স্কালোনি। সর্বশেষ ম্যাচের একাদশ থেকে মোট ৯ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে আলবিসেলেস্তেরা।

জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচের ১৯ মিনিটে গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। দারুণ এক ফ্রি–কিক থেকে গোলটি করেছেন জিওভানি লো সেলসো।

এরপর ম্যাচে ৩১ মিনিটে আবারও গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি থেকে বল জালে জড়ান লাওতারো মার্টিনেজ। এতে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে গোলের দেখা পায় জর্ডান। মুসা আর–তামারির গোলে ব্যবধান কমায় জর্ডান।

৬০ মিনিটে লাওতারো মার্টিনেজের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি। ২০ মিনিটের ব্যবধানে ফ্রি-কিক থেকে এবারের বিশ্বকাপের ৬ নম্বর গোলের দেখা পান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েনন মেসি। এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের দিনে টানা ৬ ম্যাচে গোল করে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জেয়াজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন।