সারা দেশে শুরু ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন, ক্যাপসুল পাবে ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু

ডেস্ক নিউজঃ সারা দেশে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন-২০২৬। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একযোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় পরিচালিত এ ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন।

সারা দেশে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং প্রায় ৫০০ অস্থায়ী কেন্দ্র, যেমন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও ফেরিঘাটে ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এই কাজে নিয়োজিত থাকবেন। নির্ধারিত দিনে কোনো শিশু ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারলে পরদিন সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তা গ্রহণ করা যাবে। এছাড়া ১২ জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলার জন্য আরও চার দিন বিশেষ কার্যক্রম চলবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

জানা গেছে, শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে ১৯৭৩ সাল থেকে দেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়নো শুরু হয়। এটি তখন ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে কার্যক্রমটিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সাথে ভিটামিন এ কে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সাল থেকে এটিকে আলাদা একটি কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করা হয় যার নাম দেওয়া হয় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন, যা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো।

২০১১ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা বা এনএনএস অপারেশন প্ল্যানের অধীনে ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পরিচালিত হয়ে আসছিল এবং পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০২৬ সালে কার্যক্রম হিসেবে পুনরায় চালু করা হয়েছে। ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।




বাংলাদেশ থেকে যে কারণে কাঁঠাল নিতে চায় চীন

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করা চীন কেন বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল নিতে আগ্রহী, সেটা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল আমদানিতে চীনের এই আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়।

রোববার (২৮ জুন) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে, গত বছরের মে মাসে চীন যখন বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার কাঁচা আম আমদানি শুরু করে, তখনই তারা কাঁঠাল ও পেয়ারার মতো ফল আমদানির আগ্রহ দেখিয়েছিল।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সফরে দুই দেশের মধ্যে অবকাঠামো, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ইকোনমিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট ১৭টি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়টিও রয়েছে।

ফলে কাঁঠাল রপ্তানির প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছাল বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকদের মতে, কৃষিনির্ভর দেশ হলেও বাংলাদেশ কৃষি পণ্য রপ্তানিতে খুব বেশি এগোতে পারেনি। চীনে কাঁঠাল বা কাঁঠালজাত পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এটি অন্যান্য কৃষি পণ্যের জন্যও নতুন বাজার তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে পণ্যের মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা না থাকায় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের টোটাল কৃষি খাতের রপ্তানি এখনো তেমন ভালো নয়। আমরা যতটুকু রপ্তানি করি তার বেশিরভাগই এথনিক মার্কেটে।’

কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে কোয়ালিটি মেইনটেইন না হওয়ায় ইউরোপিয়ান মার্কেটে এখনো আমরা তেমন ঢুকতে পারিনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, নির্দিষ্ট জাতি বা গোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বাজারকে এথনিক মার্কেট বলা হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঁঠাল আমদানিকারক চীন

বিশ্বব্যাপী কাঁঠালের শত কোটি ডলারের বাজার রয়েছে। ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী কাঁঠাল রপ্তানি যেখানে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ছিল, ২০২৩ সাল নাগাদ তা বেড়ে ৩৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, চীন ও ইকুয়েডর বিশ্বব্যাপী রপ্তানির ৬০ শতাংশের সঙ্গে জড়িত। শুধু ভিয়েতনামই বিশ্ববাজারের ২৫ শতাংশ দখল করে আছে।

এদিকে চীন হলো কাঁঠালের সবচেয়ে বড় ভোক্তা বা আমদানিকারক। তারা তাদের চাহিদার বড় অংশ ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে পূরণ করে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কাঁঠাল উৎপাদনকারী প্রধান দেশগুলোর অন্যতম হলেও বৈশ্বিক বাজারে দেশের অংশগ্রহণের হার কম।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক কাঁঠাল রপ্তানিতে বাংলাদেশের অংশ মাত্র ০.৩ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের কাঁঠাল রপ্তানির প্রায় ৭৬ শতাংশ যায়। এ ছাড়া ইতালি, কানাডা ও ফ্রান্সসহ এই চার দেশেই মোট রপ্তানির ৮৫ শতাংশ যায়। ফলে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কাঁঠাল বাণিজ্যের একটি বড় সুযোগ রয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কতটা?

বাংলাদেশে ব্যাপক কাঁঠাল উৎপাদন হলেও গ্রাহক পর্যায়ে এর জনপ্রিয়তার সীমাবদ্ধতা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবের কারণে উৎপাদিত কাঁঠালের বেশিরভাগই নষ্ট হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশে আট থেকে ১০ লাখ টন কাঁঠাল উৎপাদন হয়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ চাহিদা কম থাকা এবং রপ্তানির সুযোগ না থাকায় প্রতি বছর এর ৪৫ শতাংশেরই বেশি নষ্ট হয়।

ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে উৎপাদিত ফলের মধ্যে আম প্রথম, কলা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় কাঁঠাল।’

তিনি জানান, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে এ পর্যন্ত কাঁঠালের ছয়টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। বিশ্বে কাঁঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

রপ্তানির ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বড় অংশই আসে পোশাক খাত থেকে। কৃষিনির্ভর দেশ হলেও নীতিগত ও আইনগত কিছু জটিলতার কারণে কৃষি অর্থনীতি খাত এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। কৃষি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রসেসিং পর্যন্ত পুরোটাই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-বেজড প্রোডাক্ট প্রডিউসারস অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘কাঁঠাল দিয়ে তৈরি পণ্য কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে, কিন্তু চীন কীভাবে নেবে সেটি হলো প্রশ্ন। কারণ কাঁঠাল সংরক্ষণ করা এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকি আছে।’

আন্তর্জাতিক বাজারে ঢোকার আগে পণ্যের মান ও প্রসেসিংয়ের বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। সরকারের এ খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়ানো উচিত বলে জানান কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

তবে চীনের সঙ্গে এই সমঝোতা টেকনোলজি শেখার ক্ষেত্রে এবং লোকাল মার্কেটেও তা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম।

ড. মোহাম্মদ আমিরুল বলেন, ‘আমরা যখন সুযোগ পাই, তিনগুণ দাম পাই, তখন সবই দেশের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করি। দেশীয় চাহিদা এবং নিউট্রিশনকেও গুরুত্ব দিতে হবে।’




সুজিত চক্রবর্তীকে ঘিরে বিতর্কের ঝড়: রাজনৈতিক যোগাযোগ, নিয়োগ বাণিজ্য ও সাংবাদিক হামলার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চ্যানেল এসের সিইও সুজিত চক্রবর্তীকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিতর্ক, নিয়োগ বাণিজ্য, সাংবাদিক নির্যাতন ও তথ্য গোপনের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তার অবস্থান, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ, বিতর্কিত আর্থিক লেনদেন, গোপন রাজনৈতিক সমন্বয় এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ এখন বিভিন্ন মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

রাজনৈতিক অঙ্গন, সাংবাদিক সমাজ ও বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সমপ্রকাশ্যে নিরপেক্ষতার কথা বললেও পর্দার আড়াল থেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন সুজিত চক্রবর্তী। আন্দোলন-পরবর্তী সময়েও তিনি ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছাড়াই লাইসেন্স?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে, চ্যানেল এসের সম্প্রচার লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক গোয়েন্দা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। সূত্রটির দাবি, তৎকালীন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাব ও সরাসরি শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে চ্যানেলটির লাইসেন্স অনুমোদন করানো হয়।

সূত্রটি আরও জানায়, আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার চাপের মুখে ইসমত কাদের গামা চ্যানেলটির অনুমোদন নেন। এমনকি লাইসেন্স প্রদানের আগে প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কোনো শক্ত ভিত্তি বা পর্যবেক্ষণও নথিভুক্ত নেই বলে দাবি করেছে ওই সূত্র।

ভারতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

সম্প্রতি ভারতের অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে সুজিত চক্রবর্তীর যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চ্যানেল এসের পরিচয়ে কয়েকজন প্রতিনিধি ভারতে সফর করেছেন।

সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে গোপন সমন্বয় ও যোগাযোগ রক্ষা করা। সুজিত চক্রবর্তীর নির্দেশনায় এসব যোগাযোগ পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডারদের সাংবাদিক বানানোর অভিযোগ

সুজিত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো, চ্যানেল এসের কর্পোরেট অফিস থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ক্যাডারদের সাংবাদিক পরিচয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় একাধিক “টিম” গঠন করে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৮ থেকে ১০টি করে টিম নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতার ন্যূনতম অভিজ্ঞতা বা পেশাগত যোগ্যতা না থাকলেও রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে রাজনৈতিক ক্যাডারদের পুনর্বাসন, অন্যদিকে প্রভাব বিস্তারের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে বলেও দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের সমন্বয়?

বিভিন্ন অভিযোগ অনুযায়ী, সুজিত চক্রবর্তী বর্তমানে সারাদেশে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন পর্যায়ে চ্যানেলের প্রতিনিধি হিসেবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ভারতের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, নিক্সন চৌধুরীসহ একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অর্থনৈতিক সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছেন এবং দেশে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে সক্রিয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করছেন।

এই কর্মকাণ্ডে তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উঠে এসেছে তুরাগ থানার সাবেক যুবলীগ নেতা ও বর্তমানে চ্যানেল এসের চিফ রিপোর্টার পরিচয়ধারী রুমনের নাম। এছাড়া ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের জামায়াতপন্থী আবুল কালাম, খোন্দকার আলমগীর এবং পল্টন এলাকার জামায়াতের এক নেতাকেও তার ঘনিষ্ঠ পরামর্শক হিসেবে উল্লেখ করছেন অভিযোগকারীরা।

মালিকানা বিক্রি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ

সুজিত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো চ্যানেল এসের মালিকানা গোপনে বিক্রি। বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ও ১/১১-এর আলোচিত ব্যক্তি ক্যাপ্টেন (অব.) মোয়াজ্জেমের কাছে চ্যানেলের ২০ শতাংশ মালিকানা ১০ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

ক্যাপ্টেন (অব.) মোয়াজ্জেম বর্তমানে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে বরিশাল থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

এছাড়া সিকদার গ্রুপের কাছে ১০ শতাংশ মালিকানা ৮ কোটি টাকায় বিক্রি এবং যুবলীগের আরও এক নেতার কাছে ৫ শতাংশ মালিকানা হস্তান্তরের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব লেনদেনের অর্থ কোনো ব্যাংকে সংরক্ষণ না করে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার করা হয়েছে।

যদিও এসব বিষয়ে সুজিত চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলা

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায়ও সুজিত চক্রবর্তীর নাম আলোচনায় আসে। অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সকালের সংবাদের সম্পাদক হাফিজুর রহমান শফিক বাদী হয়ে চ্যানেল এসের চেয়ারম্যান ইসমত কাদের গামা, সিইও সুজিত চক্রবর্তীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলাটি দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬ ও ১০৯ ধারায় দায়ের করা হয়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে রমনা থানাকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে দেশীয় অস্ত্র ও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়। বাদীর অভিযোগ, রহস্যজনক কারণে ওই সময় সুজিত চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হয়নি। পরবর্তীতে আদালত “ম্যানেজ” করে খাস কামরায় জামিন নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

গায়েব করা সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে নতুন বিতর্ক

সম্প্রতি চ্যানেল এসের গোপন রাখা সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সুজিত চক্রবর্তী ও তার ঘনিষ্ঠদের নেতৃত্বে সংঘটিত হামলার গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়নি। ফলে গত এক বছরে দুইবার তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত ও ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে কর্মকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য জানতে কয়েকজন সাংবাদিক চ্যানেল এস কার্যালয়ে গেলে তাদের আটকে রাখা হয়। পরে কার্যালয়ে অবস্থান করা ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে এনে হামলা চালানো হয়।

ওই হামলায় হাফিজুর রহমান শফিকসহ অন্তত পাঁচ সাংবাদিক আহত হন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রচারিত একটি সংবাদে হামলার ভিডিও ফুটেজের আংশিক অংশ প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এতদিন গোপন রাখা ফুটেজের অংশবিশেষ প্রকাশ পাওয়ায় পুরো ঘটনাটি পুনরায় তদন্ত করা এখন জরুরি।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, একের পর এক গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কেন সুজিত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত দৃশ্যমান নয়? রাজনৈতিক যোগাযোগ, নিয়োগ বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন, মালিকানা হস্তান্তর, সাংবাদিক নির্যাতন ও তথ্য গোপনের মতো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুজিত চক্রবর্তী বা চ্যানেল এস কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




ব্যান্ডরোল জালিয়াতির অভিযোগে বিতর্কিত কাস্টমস কর্মকর্তা শামীম উল আলম পেলেন যুগ্ম কমিশনার পদ, উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার নকল সিগারেট স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) আমদানির মূল কারিগর হিসেবে অভিযোগ ওঠা কাস্টমসের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোঃ শামীম উল আলমকে যুগ্ম কমিশনার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তীব্র বিতর্ক ও গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে গ্রেড-৫ পদে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়।

সম্প্রতি ঢাকা কাস্টমস হাউজের একটি বিশেষ অভিযানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি পণ্যচালান থেকে ৯ লাখ ৬০ হাজার পিস নকল প্রিন্টেড সিগারেট স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) জব্দ করা হয়। এই জাল স্ট্যাম্পগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বিশাল রাজস্ব ফাঁকির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই জালিয়াতির ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলাও দায়ের করা হয়। যেখানে কুরিয়ার কোম্পানির প্রতিনিধিসহ জড়িত ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও এর মূল হোতা কাস্টমসের তৎকালীন উপ-কমিশনার (ডিসি) মোঃ শামীম উল আলমের নাম নেই। অথচ অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তির স্বীকারোক্তিতে এই চালান আমদানির মূল কারিগর হিসেবে কাস্টমসের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোঃ শামীম উল আলমের নাম উঠে আসে।

মামলার প্রাথমিক শুনানিতে ও বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলেও এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তাকে মামলার আসামি না করে রহস্যজনকভাবে আড়াল করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি অভিযুক্তদের অফিসে ডিসি শামীমের যাতায়াতের প্রমাণ পাওয়ার পরেও তাকে মামলা থেকে আড়াল করার ঘটনা তুলেছে নানান প্রশ্ন।

মোঃ শামীম উল আলম এর আগে যখন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ, বগুড়ায় কর্মরত ছিলেন, তখনও তার বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণ ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া মূল্যের আপ্যায়ন ও সুবিধা আদায়ের কারণে তিনি কাস্টমস সার্কেলে বিশেষভাবে সমালোচিত ছিলেন। এছাড়া বুয়েটের সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা নিজের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নানাবিধ সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন বলে কাস্টমসের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রাজস্ব সুরক্ষায় যেখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি করে, সেখানে ৯ কোটি টাকারও বেশি জালিয়াতির সাথে নাম জড়ানো একজন কর্মকর্তাকে শাস্তির মুখোমুখি করার পরিবর্তে পুরস্কৃত করার ঘটনায় হতবাক সচেতন মহল।




বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রহিসেবে গড়ে তোলা হবে। বুয়েটের যেমন সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে সৃজনশীলতা, মেধা, বুদ্ধি এবং দেশ বিনির্মাণের ভূমিকা রয়েছে, ঠিক তেমনি রয়েছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে অনেক অবদান।

আজ শনিবার বিকালে বুয়েট অডিটোরিয়ামে ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে আমরা চিন্তা করতে পারি, ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই কিন্তু বুয়েটের ফ্যাকাল্টি মেম্বার্সদের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের যত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন না কেন, দেখবেন সেখানে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা রয়েছেন তারা সেখানে হয় পড়াশোনা করছেন অথবা কেউ না কেউ শিক্ষকতা করছেন। অর্থাৎ আজকে বুয়েটে ভর্তির মাধ্যমে আপনারা খুব রিয়েল একটা লেগেসি পাচ্ছেন, যেটা বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। যেই ঐতিহ্য বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরেও বিশ্বের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত।’

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উপদেষ্টা বলেন, ‘নতুন সরকার মাত্র চার মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ্য অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী শুধুমাত্র কোনো সার্টিফিকেট অর্জন করবে না, শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য থেকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। একজন মানুষ যার ন্যায়, নীতি, সততা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম থাকবে। এবং একই সঙ্গে সেই দক্ষতা এবং যোগ্যতা নিয়ে তিনি গড়ে উঠবেন। যেখানে আগামীর বাংলাদেশের কর্ণধার হিসেবে তারা চাকরির জন্য, ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য সে প্লাটফর্মগুলোতে সুযোগ পাবেন।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সেক্ষেত্রে বুয়েটকে অবশ্য বড় একটা ভূমিকা রাখতে হবে। যেহেতু আপনারা দেশের শীর্ষ মেধাবী, সবচেয়ে বেশি সৃজনশীলতা নিয়ে আপনারাই তো আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিবেন, সেটাই স্বাভাবিক। আপনারা যারা রয়েছেন, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পড়াশোনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসকেও প্রাধান্য দেওয়া উচিত।স্পোর্টস কালচারকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। পুঁথিগত বিদ্যা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার সাথে তাল মিলিয়ে আপনাদের ইন্টারপার্সোনাল স্কিলস, ট্রান্সফারেবল স্কিলস, টিম স্কিল, লিডারশিপ এই প্রত্যেকটা তৈরি করতে হবে।;

মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা যেমন বলি, ‘‘গ্রেট পাওয়ার কামস গ্রেট রেসপন্সিবিলিটি’’ আপনাদের ক্ষেত্রেও একই। আপনাদের অনেক স্বীকৃতি আছে। এর মানে, আমাদের এটাকে আরও এক হাত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে কীভাবে একটা শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারি, সেখানে আপনারা অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।’

সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তিনি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন, কীভাবে বুয়েটে গবেষনার জন্য আরও বেশি ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা আমরা করতে পারি। এত বড় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রো-ভিসি স্যারকে বলছিলাম অডিটোরিয়ামের এই অবস্থা কেন? আমাদের মনে হয় সরকারের দিক থেকেও আরও বেশি সহযোগিতা করার প্রয়োজন রয়েছে এবং আমরা ইনশাআল্লাহ সেটা করব।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আজকে যখন আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছি এটা শুধু ওরিয়েন্টেশনের শিক্ষার্থীর সামনে না, দাঁড়িয়ে রয়েছি আগামী বাংলাদেশ যারা বিনির্মাণ করবে, আগামীর বাংলাদেশের যারা কান্ডারি, সেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে। আগামীর ভবিষ্যত ইনশাআল্লাহ আপনারা নির্মাণ করবেন। সরকারের দিক থেকে যা করণীয়, যা সহযোগিতার প্রয়োজন হবে, আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা দিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়াব।’

এ সময় শহিদ আবরার ফাহাদের কথাও স্মরণ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘শহিদ আবরার ফাহাদ সেই মানুষটা কিন্তু আপনাদেরই পূর্বে ছিলেন এই বুয়েটের। আমরা চাই আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সুনাগরিক হয়ে ওঠার যে আকাঙ্ক্ষা সেটাকে ধারণ করে, আগামী বাংলাদেশের বুয়েট এবং বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা শিক্ষার্থী রয়েছেন, তাদেরকে মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্লাটফর্মটা তৈরি করে দিতেন।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের সরকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা যখন সেই কাজটা করতে যাব, অবশ্যই মূল গড়ে উঠার ভিত্তি হবেন আপনারা। আপনারা যারা ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন, আগামীর বাংলাদেশে যখন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবেন, ভালো ভালো জায়গায় নিজেদের কর্মসংস্থান হবে, হাজারো, লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান আপনারা তৈরি করবেন। আগামীর বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ আপনারা সেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাসিব চৌধুরী এবং ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এন এম গোলাম জাকারিয়া।




আফগানিস্তানে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প, কেঁপেছে কাবুল ও ইসলামাবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

আজ শনিবার রাজধানী কাবুলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানায় বার্তা সংস্থা এএফপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে অবস্থানরত এএফপির সাংবাদিকরা ভূমিকম্পটি অনুভব করেছেন। কাবুলে কয়েকটি ভবন কেঁপে ওঠে। এক সাংবাদিক জানান, একটি ভবনের ভেতরের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। এর গভীরতা ছিল ২০৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার।




পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রেকর্ড ১৬ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ : কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনায় এবার আগেকার সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। মিলেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। এছাড়াও মিলেছে বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার।

শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার সকাল থেকে শুরু হয় টাকা গণনা। প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা গণনা ধরে যা চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ বলেন, ‘সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গণনা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে।’

জানা গেছে, শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে তালা খোলা হয়। একে একে ৪৩টি বড় বস্তায় ভরা হয় টাকা। এরপর টাকা গণনার জন্য বস্তাগুলো মসজিদের দোতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বস্তা থেকে টাকা মেঝেতে ঢেলে দেওয়ার পর শুরু হয় অর্থ গণনার কাজ। যেখানে অংশ নেন পাগলা মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসার ১০৬ জন ও আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন ছাত্র। তাদের সঙ্গে দিনভর টাকা গণনা করেন রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা, পাগলা মসজিদের ৩৫ জন স্টাফ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ১৯ জন স্টাফ। গণনা শেষে রাত সাড়ে ৮টায় চূড়ান্ত টাকার পরিমাণ ঘোষণা করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ।

টাকা খোলা থেকে শুরু করে ব্যাংকে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সময় সশরীর মাঠে ছিলেন জেলা প্রশাসনের ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র‍্যাব সদস্য ও ২০ জন আনসার সদস্য।

জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদের প্রতি মানুষের এক গভীর আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। যার প্রতিফলন দেখা যায় এই দানবাক্সগুলোয়। মানুষের এই আমানত অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এ ছাড়া মানুষের দান করা বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও রুপা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সম্পূর্ণ নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

সোহানা নাসরিন আরও বলেন, এই দানের টাকা কোনো ব্যক্তিগত খাতে ব্যবহারের সুযোগ নেই। জমা করা এই বিশাল অর্থ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়ন ও পরিচালনায় অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্র ও জটিল রোগে আক্রান্ত মুমূর্ষু মানুষের চিকিৎসায় এবং কল্যাণে এই তহবিল থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা করা হয়ে থাকে।

 ্উল্লেখ্য, ৬ মাস আগের গণনায় মসজিদের ১৩ দানবাক্সে পাওয়া যায় প্রায় ১১ কোটি সাড়ে ৭৮ লাখ টাকা।




‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়’—আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে কেপ ভার্দে কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক : স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরব টানা তিন ম্যাচে ড্র করে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। এবার নকআউট পর্বে তাদের সামনে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামিতে।

ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তার আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা, ‘আমাদের কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।’

সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে হাজির হন বুবিস্তা। আবেগঘন মুহূর্তে তিনি বলেন, ‘এই দল যা করে দেখিয়েছে, তার জন্য আমাদের নিজেদের এবং কেপ ভার্দের মানুষ গর্ব করতে পারে।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে খেলতে পারাটাই আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের ব্যাপার।’

জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দের জনসংখ্যা পাঁচ লাখের কিছু বেশি। পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের এই দ্বীপদেশ ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ৬৭ নম্বর দল হলেও এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই অপরাজিত থেকেছে। তাদের যাত্রা শুরু হয় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে। এরপর উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ০-০ গোলে ড্র করে নকআউট নিশ্চিত করে তারা।

এবার তাদের প্রতিপক্ষ লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফল নিয়ে এখনই ভাবছেন না বুবিস্তা। তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন বিশ্বমঞ্চে দেশের পরিচয় তুলে ধরা।

তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল নিজেদের দেশকে পুরো বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। এই পর্যায়ে এসে আর্জেন্টিনা আর মেসির বিপক্ষে খেলতে পারাটা আমাদের দেশের জন্য দারুণ এক ব্যাপার, ম্যাচের ফল যা-ই হোক না কেন।’

বুবিস্তার বিশ্বাস, কেপ ভার্দের এই সাফল্য বিশ্বের ছোট দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার ভাষায়, ‘অবশ্যই আমরা আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। তবে একই সঙ্গে আমরা আফ্রিকারও প্রতিনিধি। এর বাইরে, আমরা বিশ্বের সব ছোট দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। এটাই আমাদের মিশন। আমরা একটা উদাহরণ তৈরি করেছি যে—যদি আপনি মনোযোগ আর দৃঢ়তা নিয়ে কাজ করেন, তবে আজ হোক বা কাল, লক্ষ্যে পৌঁছাবেনই।’

গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে ওঠা কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নতুন কোনো রূপকথা লিখতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।




রোনালদোই এবার বিশ্বকাপ জিতবেন: ঘানার ধর্মীয় গুরু

ক্রীড়া ডেস্ক : ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ জয় নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ঘানার এক আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব নানা কোয়াকু বোনসাম। তিনি দাবি করেছেন যে, পর্তুগাল এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবারের বিশ্বকাপ জয় করবেন এবং বিষয়টি নাকি ইতিমধ্যেই ‘আধ্যাত্মিক জগতে’ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তার এমন মন্তব্যে ফুটবল মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নিজেকে ঘানার ঐতিহ্যবাহী পুরোহিত ও ভেষজ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেওয়া নানা কোয়াকু বোনসাম ফুটবলের দুনিয়ায় নতুন কোনো মুখ নন। এর আগে ২০১৪ সালেও তিনি রোনালদোকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। সেই সময়ে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ঘানার বিপক্ষে খেলার আগে পর্তুগালের এই মহাতারকা যেন মাঠে নামতে না পারেন, সেজন্য তিনি জাদুর মাধ্যমে তাকে চোটগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও এসব দাবির পক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ কখনোই পাওয়া যায়নি, তবুও তার এমন অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী প্রায়শই সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।

সাম্প্রতিক এই ভবিষ্যদ্বাণীর ঠিক কয়েক দিন আগেই নানা কোয়াকু বোনসাম শিরোনামে এসেছিলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনকে নিয়ে মন্তব্য করে। ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচের আগে তিনি দাবি করেছিলেন যে, তিনি হ্যারি কেনের ওপর জাদু করছেন যাতে সে ভালো পারফর্ম করতে না পারে। পরবর্তীতে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলে তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার খোরাক জোগায়। তবে এবার তিনি হ্যারি কেনের প্রতি নমনীয়তা দেখিয়ে জানিয়েছেন যে, তার সাথে ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই এবং তিনি তাকে ‘মুক্ত’ করে দিয়েছেন যাতে পরের ম্যাচে কেন গোল করতে পারেন।

নানা কোয়াকু বোনসামের এমন মন্তব্য ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন ভক্তরা রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপে ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছেন, অন্যদিকে এই আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের দাবি পুরো বিষয়টিকে এক ভিন্ন ও রহস্যময় আলোচনার দিকে নিয়ে গেছে। যদিও তার ভবিষ্যদ্বাণীকে ভিত্তিহীন হিসেবেই দেখছেন অধিকাংশ ফুটবল বিশ্লেষক, তবুও নানা কোয়াকু বোনসামের এই অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।




ভারতে প্রবেশে মানতে হবে নতুন নির্দেশনা, জানাল নয়াদিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য নতুন প্রবেশ নির্দেশনা জারি করেছে ভারত। এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ভারতে ভ্রমণকারী সব আন্তর্জাতিক যাত্রীকে ফ্লাইটে ওঠার আগে অনলাইনে স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র পূরণ করতে হবে।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৫ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মের আওতায় চালু হয়েছে স্পর্শহীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এয়ার সুবিধা ২.০। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ভারতে যাওয়া সব আন্তর্জাতিক যাত্রীকে যাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র পূরণ করতে হবে। বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ঝামেলা এড়াতে ওয়েব চেকইনের সময়ই ফর্মটি পূরণ করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এই ঘোষণাপত্রে গত ২১ দিনের ভ্রমণ ইতিহাস, ইবোলা আক্রান্ত এলাকায় সফরের তথ্য এবং জ্বর, শরীরব্যথা বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ আছে কি না তা উল্লেখ করতে হবে। ভারতে পৌঁছানোর পর আলাদা কোনো কাগজপত্র পূরণ করতে হবে না। অনলাইনে পূরণ করা ঘোষণাপত্রই ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দেখাতে হবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে পৌঁছে যাবে।

ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৭ মে দেওয়া সতর্কতা। সংস্থাটি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে। এবারের সংক্রমণ ইবোলার বিরল ধরন বুন্দিবুগিও ভাইরাসজনিত রোগের কারণে ছড়াচ্ছে, যার জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

ডিআরসি, উগান্ডা এবং সীমান্তবর্তী দক্ষিণ সুদানসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ভ্রমণের ইতিহাস থাকলে ভারতে পৌঁছে যাত্রীদের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দশকে আফ্রিকায় ইবোলা সংক্রমণে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়ায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সংস্থাটি এবং আফ্রিকান সিডিসি আগামী ছয় মাসের জন্য যৌথভাবে ৫১৮ মিলিয়ন ডলারের তহবিলও ঘোষণা করেছে।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লিমিটেড জানিয়েছে, যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কন্টাক্টলেস এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

সূত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস