নিজের গাড়িতে গুলির ঘটনায় মামলা করলেন আসিফ আকবর

বিনোদন ডেস্কঃ রাজধানীর মগবাজারে নিজের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় মামলা করেছেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে হাতিরঝিল থানায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এখনো জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর পৌনে ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ঘটনার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন না; বিশাল সেন্টারে অবস্থিত নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয় বা স্টুডিওতে ছিলেন। গাড়িতেও অন্য কেউ ছিলেন না।

এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে গুলিতে গাড়িটির পেছনের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় এসে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। পরে তিনি ওই অটোরিকশায় করেই মালিবাগের দিকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ গাড়ির ভেতর থেকে একটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করে।

ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুলি ছোড়ার পেছনের উদ্দেশ্য জানারও চেষ্টা করছে পুলিশ।




সম্পূর্ণ এআই দিয়ে তৈরি চীনের প্রথম সিনেমা মুক্তি পেল

বিনোদন ডেস্কঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবার পৌঁছেছে চলচ্চিত্র নির্মাণেও। চীনে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ এআই দিয়ে তৈরি একটি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে।

শুক্রবার  মুক্তি পাওয়া ছবিটির নাম ‘সানশিংদুই: ফিউচার পাস্ট’।

সায়েন্স ফিকশন থ্রিলার ঘরানার সিনেমাটি চীনের ১০ হাজারের বেশি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মুক্তির আগে ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যায়নি আগাম টিকিট বিক্রিতে। ফলে বক্স অফিসে প্রত্যাশিত আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

চীনের টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম মাওইয়ানের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সিনেমাটির আগাম টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে মাত্র ৮০ হাজার ইউয়ান, যা প্রায় ১১ হাজার ৯৮০ মার্কিন ডলারের সমান।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, সব মিলিয়ে ছবিটির বক্স অফিস আয় দেড় লাখ ইউয়ানের নিচে থাকতে পারে।

নির্মাণ ব্যয়ের তুলনায় এ আয় হবে অনেক কম। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোনা ফিল্ম গ্রুপ জানিয়েছে, প্রায় ১শ’ জনের একটি দল দুই বছরের বেশি সময় ধরে সিনেমাটি নির্মাণে কাজ করেছে। এতে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ইউয়ানের বেশি, যা প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন ডলারের সমান।

ছবিটির অভিনয়শিল্পী, কণ্ঠস্বর ও পটভূমি, সবই তৈরি করা হয়েছে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে। গল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এবং মানবতার ভবিষ্যৎ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বোনা ফিল্মের প্রধান নির্বাহী জিয়াং দেফু বলেন, দর্শকদের আগ্রহ কম থাকলেও সিনেমাটি চলচ্চিত্র নির্মাণে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রচেষ্টা। তার ভাষ্য, এ ধরনের সিনেমা তৈরির উদ্যোগ তারাই প্রথম নিয়েছেন। একইসঙ্গে দর্শকদের সামনে প্রথমবারের মতো এমন একটি নির্মাণের পরীক্ষা হচ্ছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওর জনপ্রিয়তা রয়েছে। ভিডিও শেয়ারিংয়ের স্থানীয় প্ল্যাটফর্ম দৌইনে, যা টিকটক নামে পরিচিত, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই এআই দিয়ে তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটকগুলো ২০০ বিলিয়নের বেশি বার দেখা হয়েছে।




‘আমাকেই লক্ষ্য করে গুলি, তবে বেঁচে গেছি’: আসিফ

বিনোদন ডেস্কঃ রাজধানীর মগবাজারে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় মুখ খুলেছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি চালালেও অক্ষত রয়েছেন এই গায়ক। তার ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাকেই লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তবে ঘটনার সময় গাড়িতে না থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর পৌনে ৫টার দিকে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে পার্ক করা আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না এই সংগীতশিল্পী। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

এ ঘটনার পর শনিবার বিকেলে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে আসিফ আকবর বলেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। সকালে পুলিশের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। পরে বিকেলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার বাসায় গিয়ে ঘটনার বিষয়ে কথা বলেন।

কেন তাকে লক্ষ্য করা হতে পারে, সে বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আসিফ আকবর জানান, তার প্রতিদিনের যাতায়াতের সময় সম্পর্কে হামলাকারীদের ধারণা থাকতে পারে। তিনি সাধারণত রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে অফিসে যান এবং ফজরের নামাজের আগে কিংবা পরে বাসায় ফেরেন।

গায়কের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি অফিসেই ছিলেন। সিসিটিভি ক্যামেরার দৃশ্য দেখার সময় ঘটনাটি তার নজরে আসে। তবে গুলির শব্দ তিনি শুনতে পাননি।

আসিফ আকবর বলেন, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তারা ভালো করেই জানেন তিনি কখন অফিসে যান এবং কখন বের হন। তার ধারণা, ওই সময়ের হিসাব করেই তাকে লক্ষ্য করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা তিনি বলতে পারছেন না।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে এই সংগীতশিল্পী জানান, তিনি আর কিছুক্ষণ পরেই নিচে নামতেন। সে সময় গাড়ির আশপাশে তার উপস্থিতি থাকলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

তবে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ, শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন এই সংগীতশিল্পী। কাউকে সন্দেহ করার মতো নির্দিষ্ট তথ্যও তার কাছে নেই।

এদিকে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, মগবাজারে আসিফ আকবরের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয় রয়েছে। বিশাল সেন্টারের সামনে পার্ক করা তার গাড়ি লক্ষ্য করে ভোরে গুলি চালানো হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশাল সেন্টার মার্কেটের নিচে পার্কিংয়ের জায়গায় গাড়িটি রাখা ছিল। ভোর পৌনে ৫টার দিকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে এসে গাড়িটি লক্ষ্য করে একটি গুলি ছোড়েন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় হাতিরঝিল থানা-পুলিশ। পরে গাড়ির পেছনের জানালা খুলে ভেতর থেকে একটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

তবে কারা এ ঘটনায় জড়িত এবং কী উদ্দেশে গুলি চালানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করছে পুলিশ।




এবারের দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগাম প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিনির্ভর সার্বক্ষণিক নিবিড় তদারকির ফলেই এ বছর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিময় পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন হয়েছে, যা আগামী বছরগুলোতেও বজায় থাকবে বলে আশা করি।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে নিরলসভাবে কাজ করা পুলিশ, বিজিবি, আনসার, গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকসহ সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বিগত ১৫-১৭ বছর ধরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নানাবিধ অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনাশের চেষ্টা দেখা যেত, তবে বর্তমান সরকার দেশকে সেই অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত করতে পেরেছে।

তিনি আরও বলেন, এবার ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেয়ার বদলে আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। ডিজিটাল অ্যাপস ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সার্বক্ষণিক তদারকি করার ফলে অশুভ চক্রের দু-একটি সম্ভাব্য নাশকতামূলক পরিকল্পনা পূর্বেই উদ্ঘাটন ও নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩৩,৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবকে আরও আনন্দমুখর করতে সরকার নানা প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পূর্বে যেখানে সরকারি বরাদ্দ ছিল সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা, তা বাড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বছর ৫ কোটি টাকায় উন্নীত করেছেন। এছাড়া প্রতিটি মণ্ডপের জন্য চালের বরাদ্দ ১০০ কেজি বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটিসহ এ বছর পূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা টানা ৫ দিনের ছুটি উপভোগ করেছেন, যার মধ্যে ৩ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এসব উদ্যোগ একটি ঐক্যবদ্ধ ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ গড়ে তোলার সরকারি আন্তরিকতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্ত্রী অভিহিত করেন।

গোপালগঞ্জ সদরের খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু সন্ত্রাসী টহলরত পুলিশের ওপর হামলার অপচেষ্টা চালায়। সংখ্যায় কম থাকায় পুলিশ আক্রান্ত হলেও ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যেই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের (সাজেক) সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সেখানে একাধিক ক্ষুদ্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে প্রতি বছর পর্যটন মৌসুমে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়াসহ স্থানীয় নেতৃত্ব যৌথভাবে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।

পূজার ছুটির মধ্যে একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাসভবনে অভিযান এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৮৫ জনকে সাজা দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার পরিচয় বিবেচনা না করে তাঁকে ইতিমধ্যেই সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিভাগীয় মামলাসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা ও বিদেশে দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ফেরত পেতে আইন ও এক্সট্রাডিশন (প্রত্যর্পণ) চুক্তি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশকে একাধিকবার অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চাইলেও গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া গণহত্যাকারী বা কোনো পলাতক অপরাধীকে দেশে নতুন করে কোনো অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না।

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিক সমঝোতা ও আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার ছিল। সর্বোচ্চ আদালত থেকে ত্রয়োদশ সংশোধনী সম্পর্কিত যে রায় বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক দিয়েছিল সেটা বাতিল করেছে এবং জুডিশিয়ালি সেটা রিভাইভ (পুনর্বহাল) করেছে। লেজিসলেচার বা আইনসভার মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও প্রতিস্থাপন করা হবে।




প্রয়াত চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী, শোকজ্ঞাপন শুভেন্দু অধিকারী ও মমতার

বিনোদন ডেস্কঃ না ফেরার দেশে বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী। রবিবার সকালের দিকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে (রুবি জেনারেল) তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে গত প্রায় ১৪ মাস ধরে রক্তে ক্যান্সারের রোগে ভুগছিলেন যোগেন। বেশ কয়েকটি কেমোথেরাপিও নিলেও শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি।

দুর্গাপূজা চলাকালীন সময়ে গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীর দিন মূত্রনালীর গুরুতর সংক্রমণ ও সেফসিসের উপসর্গ নিয়ে ইএম বাইপাসের ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাংস্কৃতিক জগতে। শোকজ্ঞাপন জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মেদিনীপুরের রামনগরে গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন, “উনি (যোগেন চৌধুরী) বড় মাপের শিল্পী ছিলেন। দেশ এবং জাতিকে যে সম্পদ, সৃষ্টি উনি দিয়ে গেছেন এগুলো অক্ষয় ও অমর থাকবে। উনার বিদেহী আত্মার প্রণাম জানাই। অমরত্ব প্রার্থনা করি।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “দিল্লির রাজিনা হিলস’এর রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে শুরু করে বহু সরকারি স্থাপত্যে তিনি তার উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। যেটা কয়েক শতাধিক বছর ধরে থাকবে।”

এক্স হ্যান্ডেলে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি লিখেছেন, “যোগেন চৌধুরী ছিলেন বাংলা ও ভারতের গর্ব। তিনি বিশ্বজুড়ে শিল্পীদের জন্য—এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্যও—এক বিশাল অনুপ্রেরণা ছিলেন। তাঁর পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং বিশ্বজুড়ে থাকা তাঁর সকল অনুরাগীর প্রতি আমি সমবেদনা জানাই।”

তিনি ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ (এআইটিসি)-এর পক্ষ থেকে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০১২ সালে তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। তাঁর প্রয়াণ শিল্প ও সংস্কৃতির জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করবে।

১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দাহারপাড়া গ্রামে এক জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম। বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন জমিদার। তবে যোগেন চৌধুরীর মধ্যে শিল্পের বীজ বুনে দিয়েছিলেন তাঁর মা। মায়ের আঁকা আলপনা দেখেই ছোটবেলায় ছবি আঁকার প্রতি গভীর আগ্রহ জন্মায় যোগেনের।

দেশভাগের সময় ভিটেমাটি ছেড়ে ১৯৪৮ সালে সপরিবার কলকাতায় চলে আসেন তাঁরা। ১৯৫১ সাল থেকে তাঁদের পাকাপাকি ঠিকানা হয় দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়া।

১৯৬০ সালে কলকাতা গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজ থেকে পাশ করে হাওড়ার একটি স্কুলে শিল্পের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীকালে মাদ্রাজেও টেক্সটাইল ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেছেন।

১৯৬৫ সালে ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে শিল্পের পাঠ নিতে পাড়ি দেন স্বপ্নের শহর প্যারিসে।

দেশে ফিরে তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারিতে কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করেন অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে। শান্তিনিকেতনের কলাভবনেও তিনি দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন।

শুধু শিল্প নয়, রাজনীতির জগতেও পা রেখেছিলেন তিনি। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন যোগেন চৌধুরী।




নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও খাদ্যশস্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের মান পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি।

রবিবার সচিবালয়ে  খাদ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় খাদ্যমন্ত্রী তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে খাদ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা কামনা করেন। বিশেষ করে আমদানিকৃত চাল ও গমের গুণগত মান পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে খাদ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানান তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়াগত বাস্তবতার কারণে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে চাল ও গম সংরক্ষণে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত খাদ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং তার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কারিগরি সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে গম আমদানির বিষয়েও আলোচনা হয়। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গম আমদানি সম্পন্ন হওয়া এবং এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না থাকায় উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এসময় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত গমবাহী জাহাজ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে মি. এরিন কোভার্ট (Mr. Erin Covert), খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের গুণগত মান পরীক্ষা এবং খাদ্যশস্যের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।




বিলের শাপলায় জীবিকা: ঘাম-শ্রমে গড়ে ওঠা গ্রামীণ অর্থনীতি

কৃষি ডেস্কঃ ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। চারদিকে বিস্তীর্ণ বিলের পানি, তার ওপর সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে আছে সাদা-লাল শাপলা। নৌকা নিয়ে বিলে নেমেছেন একজন, আরেকজন পানির বুক থেকে তুলে নৌকায় জমা করছেন শাপলা। তীরে বসে কেউ সেগুলো গুছিয়ে আঁটি বাঁধছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই এসব শাপলা নিয়ে ছুটতে হবে গ্রামের হাটে। সেখানে অপেক্ষায় আছেন পাইকার ও সবজি ব্যবসায়ীরা। এরপর শাপলার আঁটি যাবে দূরবর্তী বাজারে, এমনকি রাজধানী ঢাকার খাবার টেবিলেও।

দূর থেকে দেখলে এটি কেবল শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রির একটি সাধারণ দৃশ্য। কিন্তু এর আড়ালে লুকিয়ে আছে শত শত মানুষের ঘাম-শ্রম, পরিবারের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং প্রকৃতিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এক স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বিলের পানিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া শাপলা যে কতগুলো দরিদ্র পরিবারের চুলায় আগুন জ্বালায়, কত শিশুর মুখে খাবার তুলে দেয়, তার হিসাব সাধারণত বাজারের ক্রেতাদের অজানাই থেকে যায়।

প্রকৃতির উপহার, মানুষের জীবিকা

বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা। দেশের হাওর, বিল, খাল ও জলাভূমিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে এই জলজ উদ্ভিদ। বিশেষ করে বরিশালের উজিরপুর, ধামুরা, আগৈলঝাড়া ও আশপাশের বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে শাপলার প্রাচুর্য চোখে পড়ে। বর্ষার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বিলে শাপলা জন্মাতে শুরু করে। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে শাপলার সবুজ পাতা আর ফুলের সমারোহ।

শাপলা শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, খাবার হিসেবেও গ্রামবাংলায় দীর্ঘদিনের পরিচিত। শাপলার ফুলের নিচের নরম কাণ্ড থেকে শুরু করে নিচের অংশ পর্যন্ত বিভিন্নভাবে রান্না করে খাওয়া হয়। এর স্বাদ ও সহজলভ্যতার কারণে গ্রামীণ জনপদের পাশাপাশি শহরের বাজারেও এর চাহিদা আছে। শাপলায় খাদ্য-আঁশ থাকায় পুষ্টিগুণের বিবেচনায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রকৃতিতে বিনা চাষে জন্ম নেওয়া এই জলজ উদ্ভিদ মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবিকায় ভূমিকা রাখছে। শাপলার এই প্রাচুর্য বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে প্রকৃতির মূল্যবান উপহার। সাধারণ কৃষিপণ্যের মতো শাপলা উৎপাদনের জন্য জমি চাষ, বীজ বপন, সার প্রয়োগ কিংবা নিয়মিত পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। স্থানীয় কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমি থেকে পানি নেমে গেলেও মাটিতে থেকে যায় শাপলা-শালুকের বীজ। পরবর্তীতে পানি জমলে সেই বীজ থেকেই আবার জন্ম নেয় নতুন শাপলা। অর্থাৎ শাপলা জন্মাতে কৃষকের সরাসরি উৎপাদন ব্যয় না থাকলেও এটি সংগ্রহ, আঁটি বাঁধা, পরিবহন ও বাজারজাত করতে প্রয়োজন হয় মানুষের শ্রম ও সময়। আর এই শ্রমের বিনিময়েই প্রাকৃতিক সম্পদটি পরিণত হয় একটি বিক্রয়যোগ্য খাদ্যপণ্যে।

বিল থেকে বাজার: শ্রমের দীর্ঘপথ

শাপলার বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়াটি শুরু হয় খুব ভোরে। দিনের আলো তীব্র হওয়ার আগেই সংগ্রহকারীদের বিলে নামতে হয়। কারণ, শাপলা সংগ্রহ করে তা গুছিয়ে বাজারে পৌঁছাতে সময় লাগে। দেরি হলে বাজারের উপযুক্ত সময়ে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্য মিলে এ কাজ করেন। পরিবারের পুরুষ সদস্য নৌকা চালিয়ে বিলের ভেতরে যান। নৌকা থেকে বা পানিতে নেমে শাপলা সংগ্রহ করে নৌকায় তোলা হয়। এরপর তীরের অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় বসে পরিবারের নারী সদস্যরা শাপলাগুলো গুছিয়ে আঁটি বাঁধেন। অনেক ক্ষেত্রে স্কুলপড়ুয়া শিশুরাও পরিবারের কাজে হাত লাগায়। ফলে শাপলা সংগ্রহ কেবল একজনের কাজ থাকে না; হয়ে ওঠে পরিবারের সম্মিলিত শ্রমের আয়োজন।একেকটি আঁটি তৈরি করতে যে সময় ও পরিশ্রম লাগে, তার প্রতিফলন অবশ্য সব সময় বিক্রয়মূল্যে দেখা যায় না। বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ, নৌকায় বহন, বাছাই, আঁটি বাঁধা এবং বাজারে পৌঁছানো—প্রতিটি ধাপেই শ্রম আছে। কিন্তু পণ্যটির উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য হওয়ায় শাপলা সাধারণত কম দামেই বিক্রি হয়।

স্থানীয় বাজারে প্রতিটি আঁটি শাপলা বিক্রি হয় প্রায় ৮ থেকে ১০ টাকায়। পরে পাইকারি ক্রেতা বা সবজি ব্যবসায়ীরা এসব আঁটি কিনে দূরের বাজারে নিয়ে যান। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় দূরবর্তী বাজারে প্রতি আঁটির দাম বেড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিটি আঁটিতে থাকে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০টি শাপলা। দামের এই ব্যবধানের পেছনে আছে পরিবহন ব্যয়, বাজারের দূরত্ব, সরবরাহের পরিমাণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যবসায়িক হিসাব।

শাপলায় চলে সংসার

বরিশালের উজিরপুর ও আশপাশের বিলাঞ্চলে শাপলা মৌসুমে বহু দরিদ্র পরিবারের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। সরেজমিনে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দরিদ্র কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো কোনো না কোনোভাবে শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হয়। কৃষিকাজে ব্যস্ততা কমে গেলে কিংবা বর্ষায় জমিতে কাজের সুযোগ সীমিত হলে শাপলা হয়ে ওঠে তাদের বাড়তি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

জ্যৈষ্ঠ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত অনেক বিল ও জলাভূমিতে পানি জমে থাকে। তবে ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক—এই তিন মাসে শাপলার প্রাচুর্য বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। এ সময় বিলের পানি যেন দরিদ্র মানুষের জন্য বিকল্প কর্মক্ষেত্রে পরিণত হয়। যেসব কৃষক পরিবার বছরের অন্য সময়ে জমিতে কাজ করে; তারাও শাপলা মৌসুমে এ কাজে যুক্ত হয়। পাশাপাশি ভূমিহীন শ্রমজীবী পরিবার, যাদের নিয়মিত কাজের নিশ্চয়তা নেই, তারাও শাপলা সংগ্রহ করে আয় করার সুযোগ পায়। ফলে এই কার্যক্রম শুধু কৃষকের আয় বাড়ায় না; কাজের সন্ধানে থাকা আরও কিছু মানুষের জন্য সাময়িক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। শাপলা সংগ্রহ করতে জমির মালিকানা লাগে না, বড় বিনিয়োগও প্রয়োজন নেই। শারীরিক শ্রম দেওয়ার সামর্থ থাকলেই অনেকে এ কাজে অংশ নিতে পারেন। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষ এ সুযোগ নিচ্ছেন। তবে এ আয় মৌসুমনির্ভর। পানি কমে গেলে কিংবা শাপলার প্রাপ্যতা হ্রাস পেলে এ কাজের সুযোগও সীমিত হয়ে আসে। তাই শাপলা থেকে পাওয়া আয় অনেক পরিবারের জন্য সহায়ক হলেও সারাবছরের জীবিকা নিশ্চিত করা যায় না।

একটি আঁটির পেছনে একটি পরিবার

দৃশ্যটি গত বছরের। মাথায় শাপলার আঁটি নিয়ে হাটের পথে হাঁটছিলেন ৬০ বছর বয়সী হারুন মিয়া। তার গন্তব্য স্থানীয় বাজার। সেখানে শাপলা বিক্রি করে সংসারের প্রয়োজনীয় সদাইপাতি কিনবেন। চার ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। প্রতিদিনের খাবারের সংস্থান করতে তাকে নির্ভর করতে হয় নিজের শ্রমের ওপর।

কথা প্রসঙ্গে জানালেন, ছেলে ক্রিকেট বল কিনে দেওয়ার বায়না ধরেছে। শাপলা বিক্রির টাকা থেকে সংসারের বাজার করার পাশাপাশি ছেলের জন্য একটি বলও কিনতে চান তিনি।

হারুন মিয়ার কাছে শাপলা কেবল বিক্রির পণ্য নয়; এটি তার পরিবারের খাবার, সন্তানের ছোট্ট আবদার পূরণ এবং পরদিন আবার নতুন করে কাজ শুরু করার সাহস। তার জীবনে বড় কোনো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নেই, নেই সঞ্চয়ের নিশ্চয়তা। আছে ভোরে বিলে নামা, শাপলা সংগ্রহ করা এবং হাটে গিয়ে বিক্রি করার নিরন্তর চেষ্টা।

ছবি তোলার জন্য দাঁড়ালে কিছুক্ষণ থমকে যান তিনি। ছবি তোলা শেষে কথা বলতে গিয়ে তার চোখ ছলছল করে ওঠে। স্থানীয় ভাষায় বললেন, ‘ক্ষেতে কোলার কাম না থাকলে, বিলে শাপলা তুলি। বিলে শাপলা ছিল বইলা চুলার পাহায় পাইলা ওডে, নইলে না খাইয়া থাহোন লাগতো। এই শাপলাই আমাগো সম্বল, শাপলা আমাগো মতো গরিবের প্যাডের ভাত জোগায়।’

তার কথায় লুকিয়ে ছিল বিলাঞ্চলের বহু পরিবারের বাস্তবতা। বাজারে শাপলার আঁটি দেখে ক্রেতা হয়তো এর দরদাম করেন। কিন্তু সেই আঁটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি পরিবারের শ্রম, অনিশ্চয়তা এবং খাবার জোগাড়ের সংগ্রামের হিসাব সচরাচর সামনে আসবে না।

শাপলার অর্থনীতি: গ্রাম থেকে শহরের খাবার টেবিলে

শাপলা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে পাইকাররা একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ শাপলা কেনেন। পরে সেগুলো বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় বাজারের সবজি বিক্রেতারা যেমন এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তেমনি দূরবর্তী শহরে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে পরিবহন ও পাইকারি বিপণনের একটি ধারাও তৈরি হয়েছে।

এই ব্যবস্থায় একদিকে শাপলা সংগ্রহকারী পরিবার আয় করে; অন্যদিকে পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা ব্যবসার সুযোগ পান। পরিবহনকর্মীসহ পণ্য সরবরাহের বিভিন্ন ধাপের মানুষেরও কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে শাপলাকে ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কার্যক্রম একটি পরিবারের আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি স্থানীয় বাজারব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত হয়।

আজ শহরের সবজির ভ্যানে বা বাজারে শাপলা দেখা গেলে তার পেছনের দীর্ঘযাত্রাটি সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়। অথচ গ্রামের বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে আঁটি বাঁধা, পাইকারের কাছে বিক্রি, দূরের বাজারে পরিবহন এবং খুচরা বিক্রির মধ্য দিয়ে পণ্যটি ক্রেতার হাতে পৌঁছায়। এই পুরো প্রক্রিয়াই গ্রামীণ অর্থনীতির একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ।

সম্ভাবনা আছে, প্রয়োজন পরিকল্পনার

শাপলা প্রকৃতিতে সহজলভ্য হলেও এর সংগ্রহ ও বিপণনব্যবস্থা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। জোয়ার-ভাটা-বর্ষার পানি, আবহাওয়া, জলাভূমির অবস্থা এবং বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করে সংগ্রহের পরিমাণ ওঠানামা করে। পাশাপাশি দ্রুত পচনশীল পণ্য হওয়ায় সময়মতো বাজারে পৌঁছানো জরুরি। পরিবহনব্যবস্থা দুর্বল হলে বা বাজারে চাহিদা কমে গেলে সংগ্রহকারীদের আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কিছু উদ্যোগ শাপলানির্ভর পরিবারগুলোর আয় ও কাজের পরিবেশ উন্নত করতে পারে। যেমন- সংগ্রহকারীদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠিত বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা, ন্যায্যদাম নিশ্চিত করতে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং পরিবহনের খরচ কমানোর ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে শাপলা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের উপযোগী স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।

শাপলা যেহেতু জলাভূমিনির্ভর, তাই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিল, খাল ও প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ রক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হলে শাপলার প্রাচুর্য কমে যেতে পারে; তার প্রভাব পড়বে এ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকায়ও।

প্রকৃতির দান, শ্রমের মর্যাদা

শাপলা নিয়ে গ্রামবাংলার মানুষের অনুভূতিও আলাদা। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিলজুড়ে শাপলা ফুটলে অনেকের কাছে তা প্রকৃতির আশীর্বাদ হয়ে আসে। স্থানীয় কেউ কেউ একে ‘স্রষ্টার পক্ষ থেকে উপহার’ বলেও মনে করেন। কারণ এই ফুলের সৌন্দর্যের বাইরেও আছে জীবনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক—শাপলা আছে বলে কাজ আছে, কাজ আছে বলে আয় আছে, আর আয় আছে বলেই অনেক পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলে।

তাই তো হারুন মিয়ার মতো মানুষ প্রতিদিন সকালে বিলে নামেন। নৌকায় শাপলা তোলেন, আঁটি বাঁধেন, তারপর হাটে নিয়ে বিক্রি করেন। হয়তো আবার সংসারের বাজার করবেন, সন্তানের কোনো ছোট্ট আবদার পূরণ করবেন। তার স্বপ্ন বড় নয়, কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের জন্য প্রতিদিনের শ্রমটি তার কাছে অনেক বড়।

বিলের পানিতে ফুটে থাকা শাপলা শুধু জাতীয় ফুল নয়, শুধু সবজি হিসেবেও সীমাবদ্ধ নয়। অনেক দরিদ্র পরিবারের কাছে এটি জীবিকার অবলম্বন, অনিশ্চিত দিনের ভরসা এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ে প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া এক মূল্যবান সহায়তা।

শহরের বাজারে যখন এক আঁটি শাপলা বিক্রি হয়; তখন তার সঙ্গে বিক্রি হয় না শুধু কয়েকটি জলজ কাণ্ড। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের ভোরবেলার পরিশ্রম, বিলের পানিতে বৈঠা চালানো হাত, আঁটি বাঁধা নারীর শ্রম, সন্তানের ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর রাতের খাবার জোগাড়ের নিশ্চয়তা খোঁজার চেষ্টা।

প্রকৃতি শাপলা জন্ম দেয় বিনা চাষে; কিন্তু সেই শাপলাকে জীবিকায় রূপ দিতে মানুষের শ্রমের কোনো বিকল্প নেই। আর এই শ্রমের মর্যাদা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে বিলের শাপলা শুধু দরিদ্র মানুষের তাৎক্ষণিক বেঁচে থাকার অবলম্বন হয়েই থাকবে না, গ্রামীণ অর্থনীতির আরও কার্যকর সম্পদ হয়ে উঠবে।




খাসজমি উদ্ধারে প্রশাসনের টানা তিন দিনের অভিযান, আগাম নোটিশ না দেওয়ার অভিযোগ

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুর ও চাঁদপুর জেলার সীমান্তবর্তী মেঘনা নদী এলাকায় সরকারি খাসজমিতে নির্মিত মৎস্যঘের উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। স্থানীয় সংসদ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে টানা তিন দিন অভিযান চালিয়ে কয়েকটি মৎস্যঘেরের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে ঘেরের মাছ নদীতে চলে যাওয়ায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন মৎস্যচাষি ও ঘের মালিকেরা।

শরীয়তপুরের ফেরিঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এসব মৎস্যঘের গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র সরকারি খাসজমিতে ঘের নির্মাণ করে পরে সাধারণ ব্যবসায়ী ও মৎস্যচাষিদের কাছে সেগুলো লিজ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মমিন দিদার নামের এক ব্যক্তি এসব ঘের নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী স্থানীয় নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ঘেরের বাঁধ কেটে দেওয়ার পর মাছ নদীতে ছড়িয়ে পড়লে চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ সেখানে মাছ ধরতে আসেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘের মালিকদের দাবি, অনেকে এসব মাছ কম দামে বিক্রি করেছেন। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ ক্ষতির পরিমাণ শতকোটি টাকা বলে দাবি করেছেন। তবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের দাবি, সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করার লক্ষ্যেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মৎস্যঘেরের বাঁধের বিভিন্ন অংশ কেটে দিয়ে মেঘনা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং সরকারি খাসজমি অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘের মালিক ও মৎস্যচাষিদের অভিযোগ, কোনো ধরনের আগাম নোটিশ না দিয়েই তাদের ঘেরের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে চাষ করা বিপুল পরিমাণ মাছ নদীতে চলে যায়। তাদের দাবি, আগে থেকে নোটিশ দিয়ে সময় দেওয়া হলে মাছ সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো এবং ক্ষয়-ক্ষতি অনেকটাই কমানো যেতো।

একজন ঘের মালিক অভিযোগ করে বলেন, ‘শুধু আমাদের ঘেরের বাঁধ কাটা হয়নি, মাছের জন্য আনা খাবারও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা আরও বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছি। পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি করছি।’

ঘের মালিকরা আরও বলেন, শরীয়তপুর ও চাঁদপুরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কাগজপত্র নিয়ে তারা সেখানে মৎস্য চাষ করছিলেন। জমির কোনো অংশ সরকারি খাসজমি হলে প্রশাসন তাদের নোটিশ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারতো। কিন্তু আগাম নোটিশ ছাড়াই অভিযান পরিচালনা করায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তাদের দাবি, মৎস্যঘেরগুলোর কিছু অংশ চাঁদপুর এবং কিছু অংশ শরীয়তপুর জেলার সীমানার মধ্যে পড়েছে। দুই জেলার সীমানা নিয়ে জটিলতার কারণে তারা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় দ্রুত সীমানা নির্ধারণ, ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, ক্ষতিপূরণ এবং আইনসম্মতভাবে মৎস্য চাষের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রথমে দুই জেলার সীমানা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ঘেরের কোন অংশ চাঁদপুর এবং কোন অংশ শরীয়তপুরের সীমানার মধ্যে পড়েছে, তা নির্ধারণের পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। শরীয়তপুরের সীমানায় থাকা অংশে বিধি মেনে মৎস্য চাষের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, ঘের কেটে দেওয়ার ঘটনায় কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেছেন ঘের মালিকেরা। তাদের আহ্বান, দুই জেলার প্রশাসন যৌথভাবে সীমানা জটিলতার সমাধান করে ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিক।




চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন তিনি এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সফরের কর্মসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।




সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে আত্মনিয়ন্ত্রণ জরুরি

ইসলামিক ডেস্কঃ বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ আজ ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার), টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। প্রযুক্তির এই বিস্ময়কর অগ্রগতি মানবজীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করেছে। আজ অনেকের দিন শুরু হয় মোবাইলের স্ক্রিন দেখে, আর শেষ হয় সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে। ফলে অজান্তেই প্রযুক্তি মানুষের জীবন পরিচালনার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

নামাজে যেমন ইমাম সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন আর মুক্তাদি তাঁর অনুসরণ করেন, তেমনি আধুনিক সমাজে অনেক মানুষের জীবনযাত্রা, চিন্তাভাবনা, পছন্দ-অপছন্দ, এমনকি মূল্যবোধও অনেকাংশে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। একজন মুমিনের জন্য এটি গভীরভাবে ভাবনার বিষয়। কারণ ইসলাম মানুষকে পরিস্থিতির দাস নয়, বরং আত্মনিয়ন্ত্রিত, সচেতন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তাইতো আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সময়ের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।’(সুরা : আসর, আয়াত : ১-২)

বর্তমানে অসংখ্য মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটিয়ে দেন, অথচ দিনের শেষে উপলব্ধি করেন যে তারা উল্লেখযোগ্য কোনো উপকারই অর্জন করেননি। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব একদিন আল্লাহর কাছে দিতে হবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন বান্দার পদযুগল নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে—তার জীবন কোথায় ব্যয় করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৭)

সুতরাং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করা প্রতিটি মিনিটও আমাদের আমলনামার অংশ।

যেভাবে চিন্তার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলছেন 

সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম বড় প্রভাব হলো এটি মানুষের চিন্তাকে প্রভাবিত করে। কী ট্রেন্ডিং, কী জনপ্রিয়, কে কী বলছে—এসব দেখে অনেক মানুষ নিজের বিবেক ও বিচারশক্তির পরিবর্তে জনমতের অনুসারী হয়ে যায়।মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না।’(সুরা : ইসরা, আয়াত : ৩৬)

এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

ইসলাম মানুষের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষা দেয়। একজন মুমিন কখনো তার ইচ্ছা, আবেগ কিংবা পরিবেশের অন্ধ অনুসারী হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার রবের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং নিজের নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে, তার আবাস হবে জান্নাত।;’ (সুরা : নাজিআত, আয়াত : ৪০-৪১)

আজকের দিনে নফসের অন্যতম বড় পরীক্ষা হলো উদ্দেশ্যহীন স্ক্রলিং, সময় অপচয় এবং ডিজিটাল আসক্তি। একজন সচেতন মুসলিমকে এসব বিষয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলতে হবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘মানুষের ইসলামের সৌন্দর্যের অন্যতম লক্ষণ হলো, সে অনর্থক বিষয় পরিত্যাগ করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩১৭)

সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত—উভয়ের জন্যই কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। একজন মুমিনের উচিত উপকারী জ্ঞান, ইসলামী শিক্ষা, ব্যবসায়িক দক্ষতা, শিক্ষামূলক বিষয় এবং সমাজকল্যাণমূলক কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

আর সোশ্যাল মিডিয়াকে মুক্তাদি বানানোর অর্থ প্রযুক্তি বর্জন করা নয়; বরং প্রযুক্তিকে নিজের লক্ষ্য ও মূল্যবোধের অধীনস্থ করা। অর্থাৎ— আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার দাস হব না, আমরা সময় নির্ধারণ করে ব্যবহার করব, অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং কমিয়ে আনব, উপকারী ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট অনুসরণ করব, গিবত, অপবাদ, অশ্লীলতা ও ফিতনা থেকে দূরে থাকব, প্রযুক্তিকে দ্বীনের খেদমত, জ্ঞান অর্জন ও আত্মউন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করব ইত্যাদি। যখন প্রযুক্তি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করবে না, বরং আমরা প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করব—তখনই সোশ্যাল মিডিয়া মুক্তাদি হবে আর আমরা নিজেদের জীবনের ইমাম হতে পারব।

একজন মুমিনের ডিজিটাল নীতিমালা:

১. দিনের নির্দিষ্ট সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা।
২. ফজর ও এশার পর অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার কমানো।
৩. প্রতিদিন কিছু সময় কোরআন তিলাওয়াত ও ইসলামী জ্ঞানার্জনের জন্য নির্ধারণ করা।
৪. কোনো খবর শেয়ার করার আগে যাচাই করা।
৫. গিবত, তর্ক-বিতর্ক ও অশ্লীল কনটেন্ট থেকে দূরে থাকা।
৬. বাস্তব জীবনের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া।
৭. প্রতিদিন নিজের স্ক্রিন টাইম পর্যালোচনা করা।

সোশ্যাল মিডিয়া একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এটি মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে পারে, আবার সময় ও চিন্তার স্বাধীনতাও কেড়ে নিতে পারে। তাই একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো প্রযুক্তিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা, প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে না যাওয়া। ইসলাম আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা এবং সময়ের মূল্য শেখায়।

সুতরাং আসুন, আমরা সোশ্যাল মিডিয়াকে আমাদের জীবনের ইমাম না বানিয়ে তাকে মুক্তাদির আসনে বসাই। আমাদের চিন্তা, সময়, আমল এবং জীবন পরিচালনার নেতৃত্ব যেন থাকে কোরআন, সুন্নাহ ও বিবেকের হাতে। তখনই আমরা প্রযুক্তির সুফল ভোগ করতে পারব এবং দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় ক্ষেত্রেই সফলতার পথে এগিয়ে যেতে পারব। মনে রাখতে হবে, একজন মুমিনের হাতে প্রযুক্তি একটি উপকারী হাতিয়ার; কিন্তু প্রযুক্তির হাতে একজন মুমিন কখনো খেলনা হতে পারে না।