দুপুর ১টার মধ্যে সাত জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের সাতটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে হতে পারে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (২৫ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। 

পূর্বাভাসে বলা হয়, আজ দুপুর ১টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

তাই এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, গতকাল রাতে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এতে উল্লেখ করা হয়, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

একই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশন এলাকা থেকে বোমা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে একটি ছাতার ভেতরে রাখা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সড়কে একটি ছাতার ভেতরে রাখা বোমাটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দল।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সড়কে একটি ছাতার ভেতরে বোমাটি রাখা ছিল। এটি দেখে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে এলাকাটি ঘিরে রাখেন। পরবর্তীতে ডিএমপির বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় ওই সড়কে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস সালাম বলেন, ‘মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সড়কের পাশ থেকে বোমা উদ্ধার হয়েছে। তাই সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। তবে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক ছিল।’

জানতে চাইলে মেট্রোরেল পুলিশের (এমআরটি) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সিদ্দিকী তানজিলুর বলেন, ‘আমি প্রতিবেদন তৈরি করতে ব্যস্ত আছি। এ নিয়ে এখন কথা বলতে পারবনা।’

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান, নিষ্ক্রিয় করা বোমাটি আইডি বোমা বা ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস। এ ধরনের বোমাগুলো খুবই শক্তিশালী হয়ে থাকে।




রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ডেস্ক নিউজ : দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এ সময় হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের দফা ৩ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আজ (শুক্রবার) বিকেল ৫টা ১ মিনিটে আমার কাছে দাখিল করেছেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

স্পিকার বলেন, যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছি। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও শপথের সময় স্পিকারের শপথ নিয়ে রাখেন বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ হিসেবে স্পিকার বলেন, তিনি (রাষ্ট্রপতি) লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তিনি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় তিনি ভুগছেন।

এর আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন লিখেছেন, ‘আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।

নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।

এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন। একই সঙ্গে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।




পদত্যাগ করছেন না ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নিট এর প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে বিতর্ক ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যেও ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সরকারের মতে, ‘পদত্যাগ করানো সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত হতে পারে, তবে সরকার এ বিষয়ে মন্ত্রীর পাশেই রয়েছে।’

এদিকে ইন্ডিয়া জোট ও বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠনের নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, ৫৫ বছর বয়সী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, জনগণ সরকারকে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছে এবং সরকার সেটিই করবে। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত একাধিক চক্রকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পোস্ট পুনঃশেয়ার করেছেন, যেখানে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ওড়িশার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা নিয়ে বৈঠক করেছেন তিনি এবং ‘বাহুড়া যাত্রা’ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। গত ২২ জুলাই বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত দুই দিনের এক সম্মেলনেও বক্তব্য দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।




গণপূর্তে টেন্ডার সিন্ডিকেটের অভিযোগ: নির্বাহী প্রকৌশলী তামজীদ হোসেনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়মের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদক: গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৫ যেন এখন এক অঘোষিত “দুর্নীতির দুর্গ”। আর সেই দুর্গের কথিত নিয়ন্ত্রক নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজীদ হোসেন—যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদপুষ্ট কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠতা ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে তামজীদ হোসেন ছিলেন কার্যত “অপ্রতিরোধ্য”।

চাকরির শুরু থেকেই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়লেও তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও কমেনি তার দাপট; বরং আগের মতোই প্রভাব খাটিয়ে তিনি এখনো নিয়ন্ত্রণ করছেন গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।

IMG 20260724 WA0051

দুদকে জমা পড়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মির্জা আজমের প্রভাবে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা সৈয়দ তামজীদ হোসেন। এই সিন্ডিকেট বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, তদবির এবং কমিশন আদায়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর মদদে পুরো সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে এবং তামজীদের দপ্তর থেকেই চলছে বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের নেপথ্য কারসাজি।

অভিযোগ আরও ভয়ংকর। সরকারি ইজিপি (e-GP) ও আইবাস (iBAS++)-এর মতো স্পর্শকাতর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণ নাকি চলে গেছে বহিরাগতদের হাতে! অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী তামজীদ হোসেনের ব্যক্তিগত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অফিসে বসেই টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ওয়ার্ক অর্ডার আপলোড, বিল এন্ট্রি এবং আর্থিক নথি প্রক্রিয়াকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন “মিঠু” নামের এক আউটসোর্সিং কর্মচারী। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব দায়িত্ব পালনের কথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, হিসাব শাখাকে কার্যত অকার্যকর করে পুরো আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে কুক্ষিগত করেছেন তামজীদ। তার বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত মিঠুই দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন। চট্টগ্রামে কর্মরত থাকাকালেও একইভাবে মিঠুকে ব্যবহার করেছেন তিনি। পরে ঢাকায় বদলি হয়ে আসার সময় তাকেও সঙ্গে নিয়ে আসেন।

গণপূর্তের ভেতরে এখন প্রকাশ্যে উচ্চারিত হচ্ছে আরেক নাম—দেলোয়ার হোসেন ভুট্টো। অভিযোগ রয়েছে, এই কথিত ঠিকাদারের মাধ্যমে বিভাগটির অধিকাংশ লাভজনক কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন তামজীদ হোসেন। এসি, লিফট, সাবস্টেশন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরবরাহে নির্দিষ্ট দোকান ও কোম্পানি “প্রেসক্রাইব” করে দেওয়া হয়। ফলে ঠিকাদাররা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে মালামাল কিনছেন, আর কমিশনের মোটা অংশ চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ ঠিকাদারদের কোটি কোটি টাকার বিল বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা হলেও সিন্ডিকেটভুক্ত ঠিকাদারদের বিল অস্বাভাবিক দ্রুততায় পরিশোধ করা হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ধাপেই প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার বিল ছাড় করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এমনকি গত অর্থবছরের প্রায় ৫ কোটি টাকার কাজ নতুন অর্থবছরের এপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করে পরিকল্পিতভাবে সিন্ডিকেটকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

বিভাগজুড়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী “লুটপাট চক্র”—এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক ঠিকাদার ও কর্মকর্তা। নির্বাহী প্রকৌশলীর পাশাপাশি কয়েকজন এসডিই, বহিরাগত ব্যক্তি ও প্রভাবশালী ঠিকাদার এই সিন্ডিকেটে সক্রিয় বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষ করে এক নারী এসডিই’র বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও কমিশন আদায়ের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, “পার্সেন্টেজ” ছাড়া কোনো ফাইলই নড়ে না।

এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন, গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকদের “ম্যানেজ” করার কথা বলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এমনকি দুই সাংবাদিকের নাম ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী তামজীদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিভাগের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ ঘুরেফিরে কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতেই যাচ্ছে। ফলে সাধারণ ঠিকাদাররা কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এবং পুরো বিভাগ পরিণত হয়েছে একটি নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট অর্থনীতিতে।

গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে বিভাগের ১০ জন কর্মচারী বহিরাগতদের দিয়ে অফিস পরিচালনার প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তারা অফিসের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানালেও অভিযোগের পর উল্টো ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তামজীদ হোসেন। দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে তিনি প্লট, ফ্ল্যাট, গাড়িসহ বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা সরাসরি ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজীদ হোসেন। তার দাবি, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং তিনি নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছেন।




গাইবান্ধায় ৪৫ পয়েন্টে ভাঙনে বিপাকে ৭ শতাধিক পরিবার

ডেস্ক নিউজ : গাইবান্ধায় করতোয়া ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও কমেছে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদের পানি। জেলার নদ-নদীগুলোর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে বন্যা ও নদীভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার চার উপজেলার ৪৫টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ শতাধিক পরিবার।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং ঘাঘট নদের পানি ২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে করতোয়া নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং তিস্তা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো জানায়, চলমান বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত জেলার কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

তবে বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়া নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী ৪৫টি পয়েন্টে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় নদীভাঙনে ৭ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ রসুলপুর, চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি, কাউয়াবাদা ও রতনপুর; সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কেরানীর চর, কালির খামার ও চর চরিতাবাড়ী; গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পূর্বপাড়া এবং সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়ন ও সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি এলাকা।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।’




এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : পর্দা উঠছে ২০২৬ এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের। জাপানে অনুষ্ঠেয় এই মেগা ইভেন্টের পুরুষ ও নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ড্র এবং সূচি এখন চূড়ান্ত। বরাবরের মতোই রোমাঞ্চ ধরে রেখে পুরুষ বিভাগের শীর্ষ চার দল-বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি খেলবে নকআউট পর্বে। গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে আসা দলগুলোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামবে এশিয়ার শীর্ষ চার দল।

অন্যদিকে, স্বাগতিক জাপানসহ মোট ৮টি দল অংশ নিচ্ছে নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে, যা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব দিয়েই মাঠে গড়াবে।

পুরুষ টুর্নামেন্টে ৬টি দলকে প্রথম পর্বের লড়াইয়ের জন্য দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে: গ্রুপ এ: আফগানিস্তান, জাপান (স্বাগতিক) ও নেপাল। গ্রুপ বি: হংকং, মালয়েশিয়া ও ওমান।

প্রথম পর্বের সিঙ্গেল রাউন্ড-রবিন লিগ ম্যাচ শেষে প্রতি গ্রুপ থেকে সেরা দুটি করে দ কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয়ে সরাসরি জায়গা করে নেওয়া বিগ ফোরের মুখোমুখি হবে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের প্রতিযোগিতা ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত।

নারী প্রতিযোগিতা কোয়ার্টার ফাইনাল দিয়ে শুরু

নারীদের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটি চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এতে কোনো গ্রুপ পর্ব থাকছে না; ৮টি দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে:

কোয়ার্টার ফাইনাল ফিক্সচার:

 ১. ভারত বনাম জাপান

 ২. বাংলাদেশ বনাম চীন

 ৩. শ্রীলঙ্কা বনাম মালয়েশিয়া

 ৪. পাকিস্তান বনাম থাইল্যান্ড

সেমিফাইনালে ভারত-জাপান ম্যাচের বিজয়ী মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-চীন ম্যাচের বিজয়ীর সঙ্গে। ফলে শেষ চারে ভারত ও বাংলাদেশের হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথের সম্ভাবনা থাকছে।




প্রশ্নফাঁস আন্দোলন নিয়ে সুর বদলালেন সালমান খান, বাড়ি ফেরার আহ্বান

ভারতে প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে বলিউড অভিনেতা সালমান খান এবার ভিন্ন অবস্থান জানালেন। শুরুতে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানালেও এবার তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন।

একই সঙ্গে অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন না হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশ্বাসের ওপর আস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সালমান বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সে কারণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান এই অভিনেতা।

এর আগে, বুধবার রাতে নিজের স্কুলজীবনের একটি পুরোনো ছবি প্রকাশ করে প্রশ্নফাঁসকে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য গুরুতর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন সালমান। সে সময় তিনি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এটিকে রাজনৈতিক রূপ না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং আন্দোলনের কৃতিত্ব শিক্ষার্থীদেরই প্রাপ্য বলে মন্তব্য করেন।

সালমান আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ প্রশংসনীয়। তবে আন্দোলনের একপর্যায়ে সহিংসতার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আহত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানান। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের মতো সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।




‘প্রশ্নটা বিব্রতকর’, পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজ : পদত্যাগের বিষয়ে করা প্রশ্নকে বিব্রতকর বলে আখ্যা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে টেলিফোনে প্রায় দুই মিনিট কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। আলাপচারিতায় তিনি পদত্যাগের গুঞ্জন এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ নিয়েও মন্তব্য করেন।

পদত্যাগ করছেন কি না, জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেখতে পাবেন…প্রশ্নটা বিব্রতকর।’

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। বর্তমানে স্পিকার দেশের বাইরে রয়েছেন—এমন তথ্য জানানো হলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার জানা নেই স্পিকার দেশে আছেন কিনা। এটা আমার জানার কথা না।’
লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন—এমন অভিযোগও নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। কারও যদি মাথা খারাপ হয়, সে এ ধরনের কথা বলতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তখন মৃতপ্রায়, চিকিৎসাধীন ছিলাম। এটা একেবারে ভিত্তিহীন ও বানানো কথা, এটাই বলতে পারি।’

এরপর ধন্যবাদ জানিয়ে ফোনালাপ শেষ করেন রাষ্ট্রপতি।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরের সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তবে এ অভিযোগ রাষ্ট্রপতি নিজেই অস্বীকার করেছেন।

এদিকে সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে বা স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে তার সেই সুযোগ রয়েছে।’

শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো আলাপ করেছেন কি না, আমি জানি না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়।’




নতুন নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ

ডেস্ক নিউজ : নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বৃহস্পতিবার ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।

তিনি পূর্বতন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস এডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন এবং নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে তাঁর মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

এছাড়াও, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে অপরাহ্নে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্বভার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর বা গ্রহণ বইতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেন।

তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, তিনি নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশন্স ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌ ঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন। ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও সামরিক কৌশল বিষয়ে তাঁর একাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসাধারণ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও সামরিক সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন। নতুন দায়িত্বে ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়নে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।