বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস হলেও এমপি নজরুলের জামিন নামঞ্জুর

ডেস্ক নিউজঃ দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার বাদীপক্ষের সঙ্গে আপসের দাবি করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে নজরুলের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান। শুনানিতে তিনি দাবি করেন, মামলার বাদী ও নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে আসামিদের সমঝোতা হয়েছে এবং বাদীপক্ষের জামিনে কোনো আপত্তি নেই। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এই সংসদ সদস্যের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর ফলে তাকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করা হয়েছিল। সেদিন আদালত মাকছুদাকে জামিন দিলেও নজরুলের আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

ঘটনার পরদিন নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং রিমান্ড শেষে তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।




শিগগিরই আসছে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। তাদের মধ্যে কেউ নিয়োগপত্র পেয়েও নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি, আবার কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রই জমা দেননি। অন্যদিকে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র বঞ্চিত হয়েছেন ৮৩ জন।

ফলে শিক্ষক সংকট কাটাতে শিগগিরই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম।

বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিএ) পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’ দুই ধাপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে মোট শূন্যপদ ছিল ১৪ হাজার ৩৮৫টি। এসব পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করেন প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করেন।

প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন।

নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ধাপে উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন। তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। কয়েক ধাপে জারি করা এ আদেশের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাতে কাগজপত্র জমা দেন ১৩ হাজার ৮৩১ জন। বাকিদের মধ্যে ৫৫২ জন কাগজপত্র জমা দেননি। আরেকজন মারা গেছেন।

কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পান। তবে নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও তাদের সবাই কাজে যোগ দেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন পদে যোগ দিলেও ৯১৮ জন নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও চাকরিতে যোগ দেননি। সব মিলিয়ে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ৫৫৩ জন এবং নিয়োগপত্র পেয়েও কাজে যোগ না দেওয়া ৯১৮ জনসহ মোট ১ হাজার ৪৭১ জন সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেননি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম বলেন, অনেকে কাগজপত্র জমা দেননি। তারা কোনো আগ্রহই দেখাননি। আবার অনেকে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও যোগদান করেননি। হয়তো তাদের অন্যত্র চাকরি হয়েছে। সেটিকে তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। সব সরকারি নিয়োগে এমন ঘটনা ঘটে থাকে।

তবে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী যোগ না দেওয়ায় এবার বিষয়টি অধিদপ্তরের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করেছে। আবদুর রহিম বলেন, বড় একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এরপরও পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। এ কারণে দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।




সুন্দরবন ঘেঁষে ২৪ রিসোর্ট ৩০ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজঃ সুন্দরবন ঘেঁষে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় নির্মিত ২৪টি রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় রিসোর্ট পরিচালনার অনুমতি না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার মো. ফজলুল হক বলেন, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় কোনো রিসোর্ট পরিচালনা করা যায় না। আইন অনুযায়ী রিসোর্টগুলোর কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় তাদের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্ধের নির্দেশ পাওয়া রিসোর্টগুলোর মধ্যে খুলনায় ১৮টি, বাগেরহাটে দুটি এবং সাতক্ষীরায় চারটি রয়েছে।

পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবন ঘেঁষে রিসোর্ট নির্মাণ এবং পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় বনের সংবেদনশীল প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, অতিরিক্ত শব্দ ও আলো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বন্যপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর বলেও মনে করছেন তারা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, সুন্দরবন সেন্টমার্টিনের চেয়েও বেশি স্পর্শকাতর ও জটিল বাস্তুসংস্থানের অধিকারী। বনঘেঁষে একের পর এক রিসোর্ট এবং পর্যটকদের অতিরিক্ত আনাগোনা ও শব্দে বনের বাস্তুসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বন্যপ্রাণীরা ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে পারে।

রিসোর্টের বর্জ্যও সুন্দরবনের জন্য উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া বর্জ্য খালের মাধ্যমে বনের ভেতরে প্রবেশ করে পরিবেশের ক্ষতি করছে বলেও জানান তিনি।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, রিসোর্টগুলোর কারণে বনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। অনেক পর্যটক অনুমতি ছাড়াই বনে প্রবেশ করেন। অতিরিক্ত শব্দ ও আলো এবং ফেলে যাওয়া বর্জ্যও বন্যপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর।

তবে রিসোর্টগুলো সুন্দরবনের সীমানার বাইরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে হওয়ায় বন বিভাগের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ সীমিত বলেও জানান তিনি। তার মতে, এগুলো নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় রিসোর্ট মালিকদের সংগঠন ‘রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন’। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন শাওন বলেন, এসব রিসোর্ট সুন্দরবনের ভেতরে নয়, বনের বাইরে সংলগ্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্মিত হয়েছে।

তিনি বলেন, রিসোর্টে আসা পর্যটকেরা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন না। স্থানীয় জনপদে অবস্থান করে তারা মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন এবং দূর থেকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করেন। স্থানীয় বসতবাড়ি ও জনপদকে কেন্দ্র করেই তাদের উদ্যোগে কমিউনিটি ট্যুরিজম গড়ে উঠেছে।

জাকারিয়া হোসাইন শাওনের দাবি, এসব উদ্যোগকে সুন্দরবনের পরিবেশ ধ্বংসের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতাবিবর্জিত ও একপাক্ষিক। এ খাতের জন্য সুস্পষ্ট, সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত সরকারি নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন বলেও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করেই এ খাতের বিকাশ ঘটাতে হবে। সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, সুন্দরবন ঘিরে পর্যটন ব্যবসার প্রসার প্রয়োজন হলেও তা বন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

সুন্দরবনের ওপর রিসোর্ট নির্মাণের আগে ও পরে এর প্রভাব নিরূপণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রভাবের ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ খাত সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ওয়াসিউল ইসলামও রিসোর্টগুলোর নেতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি ইতিবাচক দিক রয়েছে বলে মনে করেন। তার মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামগুলোর অর্থনীতিও বড় হচ্ছে।

সুন্দরবন ঘেঁষা এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে রিসোর্ট নির্মাণ শুরু হয় ২০০৯ সালে। ওই বছর বনজীবী, বিদেশি দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের থাকার জন্য সাতক্ষীরার মুন্সীগঞ্জে ‘টাইগার পয়েন্ট’ নামে একটি রিসোর্ট নির্মাণ করে এনজিও সুশীলন। এরপর বিভিন্ন সময়ে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় আরও বাণিজ্যিক রিসোর্ট গড়ে ওঠে।

সুন্দরবনের সংবেদনশীল প্রতিবেশব্যবস্থা রক্ষা এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের মধ্যে সমন্বয় রেখে এসব স্থাপনার জন্য কার্যকর ও সমন্বিত নীতিমালা কতটা জরুরি, পরিবেশ অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশে সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।




দুর্গাপূজার ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তবে এ সময়ে ছুটি সমন্বয় করতে আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সরকারি অফিস খোলা থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিধি-৬ শাখা জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর (মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার) ছুটি থাকবে। তবে এই ছুটি সমন্বয়ের লক্ষ্যে আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হবে।

প্রজ্ঞাপনে কারা ছুটি পাবেন না তাও স্পষ্ট করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জরুরি পরিষেবা যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির আওতা বহির্ভূত থাকবে। হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এই ছুটির আওতা বহির্ভূত থাকবে।

চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীগণ এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির আওতা বর্হিভূত থাকবে। জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিসসমূহ এই ছুটির আওতা বহির্ভূত থাকবে।

এছাড়া, ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন।

বেসরকারি খাতের ছুটির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান/কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।




শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ নভেম্বর

ডেস্ক নিউজঃ শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি ও শাহরিয়ার কবির।

এর আগে গত ২৭ জুলাই এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে তা আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের তদন্তে এ ঘটনায় মোট ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার ৩০ আসামি পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগ গঠন হলে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণসহ বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে, কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য রয়েছে আজ।




ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৮১ সামরিক বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৮১টি যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস-এর এক প্রতিবেদনের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসে জানানো হয়েছে, এই ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্য প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির সামরিক বিমান রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল ফাইটার জেট এবং একটি ক্ষতিগ্রস্ত এফ-৩৫এ লাইটনিং টু স্টিলথ ফাইটার রয়েছে। ৩ মার্চ কুয়েতে নিজেদের ভুলে ৩টি এফ-১৫ই বিমান ভূপাতিত হয় এবং এপ্রিলে ইরানে আরেকটি ভূপাতিত হয়। জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর ইরানের বিমান হামলায় আরও ৮টি এফ-১৫ই সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে সেগুলো পুনর্দখল করে সেবায় ফেরানো হয়েছে।

সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, যার প্রতিটির আনুমানিক মূল্য ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার। এর ফলে বিমানবাহিনীর এই ড্রোনের সংখ্যা কমে ১৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ন্যূনতম ১৮৯টি রাখা প্রয়োজন।

এ ছাড়া ১৯ মার্চ ইরানের হামলায় ৯২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান এবং ২৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি গোয়েন্দা বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়। এপ্রিলে একটি এবং সেপ্টেম্বরের জর্ডান হামলায় আরেকটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু গ্রাউন্ড-অ্যাটাক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস অনুযায়ী যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি বা ধ্বংস হওয়া আকাশযানের সম্পূর্ণ তালিকায় রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল ফাইটার জেট, ১টি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু স্টিলথ ফাইটার, ২টি এ-১০ ‘ওয়ার্থগ’ অ্যাটাক জেট, ৭টি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার এরিয়াল রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট, ১টি ই-৩ সেন্ট্রি স্পাই প্লেন, ২টি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু স্পেশাল অপারেশনস এয়ারক্রাফট, ১টি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন টু কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ হেলিকপ্টার, ১টি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন হাই-অল্টিটিউড লং-এন্ডুরেন্স ড্রোন, ৩টি এমকিউ-১ মাল্টি-রোল ড্রোন, ১টি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ৪টি এএইচ-৬ লিটল বার্ড লাইট অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং ১টি এমএইচ-৬০ সি হক মেরিটাইম হেলিকপ্টার।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাব অনুযায়ী গত মাসে ইরান যুদ্ধের মোট খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩.৬ বিলিয়ন ডলারে, যা আগস্ট মাসের চেয়ে ৫ বিলিয়ন ডলার বেশি। একই সময়ে এক মাসের ব্যবধানে অস্ত্রের পেছনে ব্যয় ২১.৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৮.১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস




এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কেনার ঐতিহাসিক চুক্তি আজ

ডেস্ক নিউজঃ ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) সই করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ চুক্তি সই হবে।

‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শিরোনামের অনুষ্ঠানে বিমানের পক্ষে চারটি এ৩৫০-৯০০ ও ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এয়ারবাসের উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রশস্ত কাঠামোর এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজগুলো দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে এবং সরু কাঠামোর এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরু হতে পারে। পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহরে যুক্ত হতে পারে।

তবে ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে মোট কত অর্থ ব্যয় হবে, সে বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ বা এয়ারবাসের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার উপস্থিত থাকবেন।

এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির আগে চলতি বছর দুই দফায় মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

গত ৩০ এপ্রিল প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। বাংলাদেশি মুদ্রায় ওই চুক্তির মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।

এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ সাল থেকে বিমানের বহরে যুক্ত হতে পারে। সব উড়োজাহাজ পেতে ১১ থেকে ১২ বছর সময় লাগবে।

চুক্তি হলেও সরবরাহের আগে এসব উড়োজাহাজের পুরো মূল্য পরিশোধ করতে হবে না। একটি করে উড়োজাহাজ সরবরাহের সময় তার মূল্য পরিশোধ করা হবে। তবে বিমান কর্তৃপক্ষ অন্তত একটি উড়োজাহাজ ২০২৭ বা ২০২৮ সালে সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং এবং পাঁচটি ড্যাশ-৮। ইতোমধ্যে দুটি উড়োজাহাজ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বাকি ১৭টিও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহর থেকে বাদ পড়বে।

এ অবস্থায় তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে আরও ১০টি উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে পারেনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটি।

এয়ারবাসের ১০টি এবং বোয়িংয়ের চুক্তি করা ২৫টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টি। বর্তমান বহরের উড়োজাহাজ বিবেচনায় নিলে ভবিষ্যতে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫০ ছাড়াতে পারে।

বর্তমানে বিমানের বহরের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের তৈরি। এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে বহর পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।




বন্ড কমিশনারেটে ৭০–৮০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ: কাস্টমস কর্মকর্তা রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনার রাসেল আল মামুনকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজস্ব ফাঁকিতে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি পদোন্নতি পাওয়া কাস্টমস ক্যাডারের ১১ ব্যাচের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘ চাকরিজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাসেল আল মামুনের জন্ম ১৯৮৬ সালের ১ নভেম্বর। চাকরির শুরু থেকেই তিনি কাস্টমসের বিভিন্ন সংবেদনশীল দায়িত্বে ছিলেন। এসব দায়িত্ব পালনের সময় ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও বন্ড প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে কয়েক বছরে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন।

রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে বন্ড কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত কাস্টম বন্ড কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আদায় করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সময়ে তাঁর মাধ্যমে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হয়েছে।

বন্ড ব্যবস্থায় আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক ও অন্যান্য রাজস্ব সুবিধা থাকায় সেখানে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাসেল আল মামুন প্রিভেন্টিভ টিমের সদস্যদের নিয়ে রাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান বা টহলের নামে চাপ সৃষ্টি করতেন। পরে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিনিময়ে বিভিন্ন জটিলতা মিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, বন্ড ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শুধু এককালীন অর্থই নেওয়া হতো না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মাসিক টাকা আদায়ের একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। কোনো প্রতিষ্ঠান ওই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের কাগজপত্র আটকে রাখা, পণ্য খালাসে জটিলতা তৈরি কিংবা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই কর্মকাণ্ডের পেছনে এনবিআরের একজন সাবেক সদস্য ও তৎকালীন অবিভক্ত বন্ড কমিশনারের প্রভাব ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে ওই কর্মকর্তার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে তাকে রাসেল আল মামুনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মোংলা কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালনের সময় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় এবং পরবর্তী সময়ে রাসেল ওই কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, মোংলা কাস্টমস দিয়ে খালাস হওয়া গাড়ির যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন ভারী আমদানিপণ্যের ক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। এর বিনিময়ে রাসেল আল মামুন অর্থ নিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই সাবেক কর্মকর্তা ঢাকা বন্ড কমিশনারেটে দায়িত্ব পেলে ২০১৮ সালে রাসেলকেও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

বন্ড কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনকালে হেডকোয়ার্টার্স ও প্রিভেন্টিভ শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তিনি দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময়ে খুলনা আপিল বিভাগ থেকে আবার ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটে পোস্টিং নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনের সময় গুলশান ও টঙ্গী এলাকার বন্ডেড ওয়্যারহাউসগুলো থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গুলশান এলাকার বিভিন্ন ওয়্যারহাউস থেকে মাসে প্রায় এক কোটি টাকা এবং টঙ্গী সার্কেল থেকে আরও ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত মাসোহারা আদায় করা হতো।

রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অডিটকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়মের কথাও বলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আনোয়ার গ্রুপের মালিকানাধীন ‘হোসেন ডাইং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অডিটের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার চুক্তি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অডিটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত করার কথা থাকলেও ওই প্রতিষ্ঠানের ফাইল যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই অনুমোদন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে এনবিআরে অভিযোগ জমা পড়লে নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

তবে ওই ঘটনায় রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে ৩৫ লাখ টাকার চুক্তি এবং ওই অর্থ গ্রহণের অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বন্ড কমিশনারেটের বাইরে কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউসেও রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সেখানে দায়িত্ব পালনকালে আমদানিকৃত পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়া হতো।

অভিযোগে বলা হয়, সেখানে প্রতি মাসে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। যারা অর্থ দিতে চাইতেন না, তাদের পণ্য খালাসে জটিলতা তৈরি করা বা ভুয়া মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে তৎকালীন কমিশনার এবং এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হলেও ওই অভিযোগের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।

অভিযোগের আরেকটি বড় অংশ রাসেল আল মামুনের সম্পদ নিয়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির আয় দিয়ে যে পরিমাণ সম্পদ অর্জন সম্ভব, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে তাঁর পারিবারিক বাড়ি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একসময় সেখানে সাধারণ টিনের ঘর থাকলেও বর্তমানে বিপুল অর্থ ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি কেনার অভিযোগও রয়েছে।

রাজধানীতেও রাসেল আল মামুনের নামে ও বেনামে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট এবং গাড়ি থাকার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, নিজের নামে সম্পদ দেখানোর পাশাপাশি বাবা-মা, ভাই-বোন এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়ের নাম ব্যবহার করেও সম্পদ কেনা হয়েছে।

এদিকে রাসেল আল মামুনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর স্ত্রী নারী নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন।

সব মিলিয়ে রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন বেশ বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি দায়িত্বের অপব্যবহার, আমদানিকারক ও বন্ড ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়, মাসিক মাসোহারা নির্ধারণ, রাজস্ব ফাঁকিতে সহায়তা, অডিটে অনিয়ম, সরকারি রাজস্ব আদায়ে বাধা সৃষ্টি, ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার এবং অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময় এসব অনিয়মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে এবার দুদকের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে। তার চাকরিজীবনের বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা শাখা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ফাইল, বিল-ভাউচার, অডিট রিপোর্ট, রাজস্ব আদায়ের হিসাব এবং সম্পদের বিবরণ যাচাইয়ের দাবি করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র, কর্মকর্তার সম্পদের তথ্য এবং তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হতে পারে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাসেল আল মামুনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এখন দুদকের অনুসন্ধানেই স্পষ্ট হতে পারে—অভিযোগে উল্লেখ করা অর্থ লেনদেনের বাস্তবতা কতটা, রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, রাসেল আল মামুনের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল কি না এবং তাঁর নামে ও স্বজনদের নামে থাকা সম্পদের প্রকৃত উৎস কী। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থায় গুরুতর অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।




দুদকের ৩ উপপরিচালক ও ৯ সহকারী পরিচালক পদে রদবদল

ডেস্ক নিউজঃ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার ১২ জন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও নতুন দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে। রদবদল হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে বরখাস্তের ১৫ বছর পর সম্প্রতি চাকরি ফিরে পাওয়া উপপরিচালক এম এম শাব্বির হাসানও রয়েছেন। গত সোমবার (৬ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়।

দাপ্তরিক আদেশ অনুযায়ী, দীর্ঘ দেড় দশক পর পুনর্বহাল হওয়া উপপরিচালক এম এম শাব্বির হাসানকে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ থেকে বদলি করে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে উপপরিচালক (পরিদর্শন) পদে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের বিভাগীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা উপপরিচালক মো. আল-আমিনকে চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এবং প্রধান কার্যালয়ের (গণসচেতনতা ও গণশুনানি-২) উপপরিচালক মো. আবু সাইদকে খুলনার বিভাগীয় কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রধান কার্যালয়ের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১ শাখায় কর্মরত মো. আবুল কালাম আজাদকে ঠাকুরগাঁও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এবং মানিলন্ডারিং-২ শাখার মো. এমরান হোসেনকে কুমিল্লার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ ও রেকর্ড শাখা থেকে আসাদুজ্জামানকে প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩, সহকারী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামকে গোয়েন্দা ইউনিটে এবং মো. শফিকুল ইসলামকে অনুসন্ধান ও তদন্ত-৪ শাখায় পদায়ন করা হয়।

একই আদেশে সহকারী পরিচালক আমির হোসেনকে প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ শাখায়, মো. জাহিদুল ইসলামকে প্রধান কার্যালয় থেকে ঢাকা-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এবং মো. হোসেন আলীকে কুড়িগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি অপর সহকারী পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলামকে প্রধান কার্যালয়ের দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেলে পদায়ন করা হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনিক স্বার্থে বদলিকৃত এই কর্মকর্তাদের আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান সম্পন্ন করতে হবে।




যেসব অঞ্চলে টানা চার দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশে ফের বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। বঙ্গোপসাগরে নতুন করে লঘুচাপের আভাস দেখা দেওয়ায় আগামী চার দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। আগামী ৫৮ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিতে পারে।

বুধবার রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বৃষ্টির বিস্তৃতি বাড়তে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টিও হতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দেশের আট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।