ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ, টিকিটের টাকা ফেরত

ডেস্ক নিউজঃ টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। 

বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটির চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা বাতিল করে আজকে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।

এদিকে, আজ ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ভোররাত থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনে অপেক্ষমাণ রয়েছে। ষোলশহর-জানআলীহাট সেকশনে রেললাইনের ওপর জমে থাকা পানির উচ্চতা কমে না আসা পর্যন্ত ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হবে না।

আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে যারা টিকিটের মূল্য ফেরত নিতে চান, তারা চট্টগ্রাম স্টেশনের কাউন্টার থেকে টাকা ফেরত নিতে পারবেন।আর যারা ঢাকায় ফিরতে চান, তারা বিকেল ৪টায় একই কক্সবাজার এক্সপ্রেসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারবেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।




সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ ২১ হাজারের বেশি পদ শূন্য: সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি দপ্তরে বর্তমানে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি চাকরিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

তিনি আরও জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন শীর্ষ পর্যায়ের পদগুলোর মধ্যে সিনিয়র সচিব ও সচিবের ৬৯টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৬৭ জন। অতিরিক্ত সচিবের ৩৬৮টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৩৭৮ জন, যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১ হাজার ৬৪৫ জন।

সব মিলিয়ে এই চার স্তরে ৩ হাজার ৭৯৮টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা।

অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী অনুমোদিত পদের বাইরে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই।




যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তাপপ্রবাহে তিন দিনে ৩৩ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। স্মরণকালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহ এবং প্রচণ্ড গরমে দেশটিতে গত তিনদিনে (৩ জুলাই-৫ জুলাই) ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্কে তিনজন এবং নিউজার্সিতে ৩০ জনের প্রাণহানি হয়।

নিউজার্সির স্বাস্থ্য দফতর এবং নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এ তথ্য জানিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন অসহনীয় তাপদাহের আশংকা আগেই করা হয় এবং সর্বসাধারণকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হবার পরামর্শও দেয়া হয়েছিল।

স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তারা আরো উল্লেখ করেছেন যে, তাপদাহের ভিকটিমদের বয়স ৩০ বছর থেকে ৮০ বছরের মধ্যে।

উল্লেখ্য, উপরোক্ত সময়ে তাপ মাত্রা উঠেছিল ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপর। নিউজার্সি স্টেটের স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রধান ডালিয়া ইওয়াইজ উল্লেখ করেন, তাপদাহের ব্যাপারটি এতটাই চরমে উঠেছিল যে, অনেকে তা কল্পনাও করতে পারিনি। গাড়ি চালানোর সময় এবং নিজ বাসায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকার ভিকটিম হয়েছেন প্রায় সকলেই। এছাড়া দুয়েকজনের প্রাণহানী ঘটেছে পূর্ব সতর্কাবস্থা অগ্রাহ্য করে বাইরে বের হওয়ায়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় অসহনীয় তাপদাহের মধ্যেই ঘন্টায় ৭১ মাইলেরও অধিক গতিতে ঝড়ো হাওয়া এবং প্রবল বর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে নিউজার্সির কোন কোন এলাকায়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নিউজার্সি, নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট-সহ আশেপাশের বেশ কটি স্টেটে এক লাখ ৮৫ হাজার বাসা, ব্যবসা এবং অফিস-আদালত বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটিতে প্রচন্ড গরমে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে জরুরী বিভাগে যাবার পর তিনজনের মৃত্যু এবং আরো কমপক্ষে ১৪৬ জনকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৭ সালের পর এটাই প্রথম অবিশ্বাস্য রকমের তাপদাহ প্রবাহিত হবার পর। অপরদিকে, নিউজার্সিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৩১ জন।

উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সি, নিউইয়র্ক অঞ্চলে অসহনীয় তাপদাহের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও উপস্থিতির হার কমেছিল। ৪ জুলাই ছিল স্বাধীনতা দিবস।




বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো তেল ও গ্যাসের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী জাহাজে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও গ্যাস ও অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। খবর আল জাজিরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইউরোপের বেঞ্চমার্ক প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা ৪৬ ইউরোতে (প্রায় ৫২ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার) পৌঁছায়। আগের দিনের দরপতনের পর নতুন করে সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কায় বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি দাবি করেছে, সতর্কবার্তা অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ায় এলএনজি বহনকারী জাহাজটি হামলার শিকার হয়। তবে এ ঘটনার সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।




উখিয়া–টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তিন দিনে ১০ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ হাজার

ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যায় গত তিন দিনে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ১৫ হাজার ৮১৩ জন রোহিঙ্গা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে প্রকাশিত ‘ইন্টার সেক্টর ফ্ল্যাশ সিচুয়েশন আপডেট-২’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই রাত ৮টা থেকে ৭ জুলাই সকাল ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পগুলোতে মোট ১৬০টি দুর্যোগের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩টি ঝড়ো হাওয়া, ৫২টি পাহাড়ধস, ১৪টি আকস্মিক বন্যা, তিনটি পানিতে ডুবে যাওয়া এবং দুটি অবকাঠামোগত ঝুঁকির ঘটনা ঘটে। নিহত ১০ জনের মধ্যে আটজন পাহাড়ধসে এবং দুজন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। এছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। দুর্যোগের কারণে চরম ঝুঁকিতে থাকা তিন হাজার ১৮২ জন রোহিঙ্গাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ক্যাম্পগুলোর অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত এক হাজার ৬১৪টি বসতঘর আংশিক এবং ১০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে ১০ নম্বর ক্যাম্প। সেখানে এক হাজার ৮৯১ জন দুর্যোগের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ৬ নম্বর ক্যাম্পে এক হাজার ৩৭৫ জন, ১২ নম্বরে এক হাজার ২৫৫ জন, ৫ নম্বরে এক হাজার ১৪৯ জন এবং ১-ওয়েস্ট ক্যাম্পে এক হাজার ৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাশাপাশি ১১ নম্বর (৯৮৮ জন), ৭ নম্বর (৭৩৩ জন), ১৬ নম্বর (৬৮৩ জন), ১৮ নম্বর (৬৭৪ জন) এবং ১৪ নম্বর (৬২৫ জন) ক্যাম্পেও ব্যাপক সংখ্যক মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বসতঘর বা আশ্রয়কেন্দ্রের ক্ষতির হিসাবে ১১ নম্বর ক্যাম্প সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। সেখানে ২১৩টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বাইরে ১২ নম্বর ক্যাম্পে ১৯১টি, ৯ নম্বরে ১১৯টি, ১৬ নম্বরে ৮৮টি, ১০ নম্বরে ৮৭টি এবং ১৮ নম্বর ক্যাম্পে ৮৪টি আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতির শিকার হয়েছে।

সাধারণ অবকাঠামো ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। দুর্যোগে ৩৯১টি বিভিন্ন স্থাপনা, ৪৬৫টি প্রতিরোধক দেয়াল (রিটেইনিং ওয়াল), ১০৪টি চলাচলের পথ, ৭৪টি সিঁড়ি, আটটি সড়ক ও সাতটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ২০টি শিক্ষাকেন্দ্র ও দুটি মসজিদেও আঘাত হেনেছে দুর্যোগ। এতে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও জরুরি সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দুর্যোগে ৬০৯টি শৌচাগার, ১৮৮টি গোসলখানা, ৪২টি নলকূপ, ২৪টি পানির উৎস, ১১টি ট্যাপ স্ট্যান্ড, ৯টি বর্জ্য শোধনাগার (ফিকাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট), ১১টি বর্জ্য পুনরুদ্ধার কেন্দ্র এবং দুটি পানি সংরক্ষণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ক্যাম্পগুলোতে বিশুদ্ধ পানির সংকট সৃষ্টির পাশাপাশি পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার প্রবল ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা এই বৃষ্টির কারণেই ক্যাম্পগুলোতে এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থা।




অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক : ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। এরপর  অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে জয় তুলে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। সেইসঙ্গে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরুর ১০ মিনিট বেশ এলোমেলো খেলেছে আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠে বারবার বল হারিয়েছে। অন্যদিকে, ম্যাচের ১৫ মিনিটে গোলের দেখা পায় মিশর। মারওয়ান আত্তিয়ার ক্রস থেকে হেড করে বল জালে পাঠান ইয়াসের ইব্রাহিম।

এরপর ম্যাচের ১৯ মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। তবে স্পট কিক থেকে গোল করতে পারেননি অধিনায়ক মেসি। ডান দিকের নিচু কোণ ঘেঁষে তার নেওয়া শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দিলেন মিসরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবের।

ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে ম্যাক আলিস্টারের দারুণ হেড রুখে দেন মিশরীয় গোলকিপার। এরপর ম্যাচের ৩৯ মিনিটে আলভারেজকেও হতাশ করেন মিশরের গোলরক্ষক শোবের। এতে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

এরপর ম্যাচের ৬৭ মিনিটে আবারও গোলের দেখা পায় মিশর। দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে দলের লিড দ্বিগুণ করেন মোস্তাফা জিকো।

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির ক্রস থেকে হেড করে ব্যবধান কমান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। এর ৪ মিনিট পর গোল করে দলকে সমতায় ফেরান মেসি।

এরপর ম্যাচের যোগ করা সময়ে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে প্রথবারের মতো লিড এনে দেন এনজো ফার্নান্দেজ। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আলবিসেলেস্তেরা।




মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা দলে তিন পরিবর্তন

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

ইনজুরি কাটিয়ে ডিফেন্ডার নিকোলাস তালিয়াফিকো ফিরছেন শুরুর একাদশে। গত ম্যাচে তার জায়গায় খেলা ফাকুন্দো মেদিনা পেশিতে টান পড়ায় আজ বেঞ্চে থাকছেন।

আক্রমণভাগেও বড় বদল। প্রথম চার ম্যাচে মূল একাদশে থাকা লাওতারো মার্টিনেজ জায়গা ছেড়ে দিচ্ছেন হুলিয়ান আলভারেজের জন্য। জর্ডানের বিপক্ষে পেনাল্টিতে গোল করলেও শেষ ৩২-এর ম্যাচে চেনা ছন্দে ছিলেন না লাওতারো। অন্যদিকে বাঁ পায়ের গোড়ালির চোট কাটিয়ে ফিরেই আজ শুরুর একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন তরুণ আলভারেজ।

তৃতীয় পরিবর্তনটি এসেছে মাঝমাঠে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে মিডফিল্ডে ছন্দের অভাব থাকায় আজ শুরু থেকেই খেলবেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। গত ম্যাচে বদলি নেমে দারুণ খেলেছিলেন বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার। তার অন্তর্ভুক্তিতে একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন থিয়াগো আলমাদা।

আর্জেন্টিনার একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (গোলরক্ষক), নাহুয়েল মলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও নিকোলাস তালিয়াফিকো, রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।




ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন জর্জ ক্লুনি

বিনোদন ডেস্ক : হলিউড অভিনেতা জর্জ ক্লুনিকে এবার ‘গোল্ডেন লায়ন ফর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট’ সম্মাননায় ভূষিত করবে ৮৩তম ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব। আগামী ২ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই উৎসবে অভিনয়জীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মান দেওয়া হবে।

উৎসবের আয়োজকরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অতীতের হলিউড তারকাদের জৌলুস, অসাধারণ পেশাদারিত্ব এবং আধুনিক সংবেদনশীলতার অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছেন জর্জ ক্লুনি। বিরল বহুমুখী দক্ষতায় তিনি বিভিন্ন ঘরানার চলচ্চিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন- ‘থ্রি কিংস’, ‘সিরিয়ানা’র মতো যুদ্ধভিত্তিক ছবি, ‘মাইকেল ক্লাইটন’ এর মতো থ্রিলার কিংবা ‘ওশানস ইলেভেন’’ এর মতো কমেডি ছবিতে মুগ্ধ করেছেন তিনি।

সম্মাননা পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ক্লুনি বলেন, ভেনিসে তার অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত রয়েছে এবং এটি তার সবচেয়ে প্রিয় চলচ্চিত্র উৎসব। এখান থেকে ‘গোল্ডেন লায়ন’ পাওয়া তার জন্য বড় সম্মানের। রসিকতা করে তিনি বলেন, “সম্ভবত এর মানে আমি এখন বুড়ো হয়ে গেছি, তবু এই সম্মান আমি আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করছি।”

ক্লুনি অস্কারের ইতিহাসেও বিরল এক কীর্তির মালিক। সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা, সেরা পার্শ্ব অভিনেতা, সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য এবং সেরা অভিযোজিত চিত্রনাট্য-এই ছয়টি ভিন্ন বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া হাতে গোনা কয়েকজন শিল্পীর একজন তিনি।

উৎসবের পরিচালক আলবার্তো বারবারা বলেন- অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক, এই তিন ভূমিকাতেই জর্জ ক্লুনি একজন অসাধারণ ক্যারিশমাটিক শিল্পী। তার নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা ও মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি সমসাময়িক বিশ্ব সিনেমায় তাকে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।




বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। মন্ত্রী জানান, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে আশা করছে সরকার। 
এবার মালয়েশিয়ার ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশ নিজেই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এবার সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি এড়াতে এজেন্সিগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনশক্তি রফতানি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হলে দীর্ঘমেয়াদে এই বাজারে আবার অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। ২০০৮ সালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শ্রমবাজারটি বন্ধ হয় এবং ২০১৬ সালে তা পুনরায় চালু হয়। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া আবার বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। এরপর ২০২২ সালের আগস্ট থেকে কর্মী যাওয়া শুরু হলেও ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে আইনি জটিলতা কাটিয়ে এই শ্রমবাজার আবারও সচল হলো।
২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে শেষ মুহূর্তে আটকা পড়া ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর দায়িত্ব সরকারি সংস্থা বোয়েসেলকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার কর্মী ইতিমধ্যে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন এবং অবশিষ্ট কর্মীদের বিষয়ে সরকার দ্রুত পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।



মিশরের বিপক্ষে নেই গরমের দুশ্চিন্তা, স্বস্তিতে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্কঃ শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে স্বস্তির খবর পেয়েছে আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দের বিপক্ষে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে খেলতে হলেও এবার তুলনামূলক আরামদায়ক পরিবেশেই খেলবে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

আজ আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও মিশর। নকআউট পর্বের এই লড়াই কঠিন হলেও আবহাওয়া এবার আলবিসেলেস্তেদের জন্য বাড়তি বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এয়ার-কন্ডিশন্ড) হওয়ায় বাইরের তাপমাত্রার প্রভাব মাঠের খেলায় পড়বে না। এছাড়া স্টেডিয়ামটিতে প্রয়োজন অনুযায়ী ছাদ খোলা ও বন্ধ করার সুবিধাও রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচের দিন বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও স্টেডিয়ামের ভেতরে খেলোয়াড়দের জন্য পরিবেশ থাকবে স্বস্তিদায়ক।

এর আগে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয়ে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কারণে বেশ ভুগতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচ চলাকালে দলের একাধিক খেলোয়াড় ক্র্যাম্পে আক্রান্ত হন। বিশেষ করে ফাকুন্দো মেদিনা ও এনজো ফার্নান্দেজ শারীরিকভাবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন।

সেই অভিজ্ঞতার পর মিশরের বিপক্ষে তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়ায় খেলার সুযোগ আর্জেন্টিনার জন্য বড় স্বস্তির খবর হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন আবহাওয়ার চিন্তা নয়, বরং কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করাই থাকবে লিওনেল স্কালোনির দলের মূল লক্ষ্য।