ভুয়া বিল-ভাউচারে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, তথ্য চাইলে ‘এমপির অনুমতি’ দাবি প্রকৌশলী রেজওয়ানের

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকারি প্রকল্পের তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন নরসিংদী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন, যার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তথ্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তথ্য নিতে চাইলে স্থানীয় এমপির অনুমতি লাগবে।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন তিন বছর ধরে নরসিংদী জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। বিগত সরকারের আমলে অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে চললেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বাহ্যিক আচরণে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। তবে তার দুর্নীতি থামেনি। বিভিন্ন সরকারি বড় প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি অর্থ আত্মসাৎ করে চলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নরসিংদীর স্থানীয় সাংবাদিকরা তথ্য অধিকার আইনে নির্ধারিত ফরমে এবং লিখিত আবেদনের মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থবছরের মাঠপর্যায়ের কাজের অগ্রগতি ও তথ্য জানতে চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি অধিকাংশ সাংবাদিকদের ফোন কলও তিনি রিসিভ করেন না। সশরীরে অফিসে গিয়ে তথ্য চাইলে তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো তথ্য জানতে হলে স্থানীয় এমপির অনুমতি লাগবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ প্রকৌশলীর বাড়ি পাবনা জেলায়। বিগত সরকারের আমল থেকেই ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি নরসিংদীতে স্বেচ্ছাচারীভাবে দপ্তর চালিয়ে আসছেন। ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কাজ না করিয়েই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনস্বার্থে সাধারণ দরিদ্র পরিবারে নলকূপ এবং গভীর নলকূপ সরকারের নির্ধারিত ফির মাধ্যমে স্থাপন করা হয়ে থাকে। সে কাজগুলো করে থাকে প্রতিটি উপজেলাভিত্তিক জনস্বাস্থ্য অফিস এবং এর মূল নিয়ন্ত্রণ করেন নরসিংদী জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। প্রকৌশলীর সেই নির্বাহী ক্ষমতাবলে টানা প্রায় তিন বছর কোটি কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। সেগুলো কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি অনেকের বাড়িতে নলকূপ স্থাপনের কথা বলে সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়েও বেশি টাকা নেওয়ার পরও নলকূপ স্থাপনের শতভাগ কাজ সম্পন্ন করেননি। এক বাড়িতে প্রায় দেড় বছর আগে নলকূপের শুধু পাইপ স্থাপন করেছে জনস্বাস্থ্যের ঠিকাদারের লোকজন। কিন্তু অবশিষ্ট কাজ আজ পর্যন্ত করেনি। এ রকম শত শত অনিয়মের মধ্যে চলছে নরসিংদী জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এমনও অভিযোগ উঠছে, বিভিন্ন নামে-বেনামে মাঠপর্যায়ে নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে এর কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি দপ্তরের নলকূপ অপেক্ষাকৃত দরিদ্র ফ্যামিলিতে দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, পৌর শহরের অনেক বিত্তশালীদের বাসাবাড়িতেও দেওয়া হয়েছে। আবার দেখা গেছে, অনেক জনপ্রতিনিধির সুপারিশের ভিত্তিতে বিভিন্ন জনকে নলকূপ বরাদ্দের হিসাব কাগজপত্রে দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো হদিস খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রায়পুরার ডৌকারচর ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক রুমান মিয়া জানান, প্রায় দেড় বছর আগে তাদের বাড়িতে একটি নলকূপের শুধু পাইপ স্থাপন করে চলে গেছে। অবশিষ্ট কাজ এখন পর্যন্ত করেনি। অফিসে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, ‘আপনার নামে তালিকা খুঁজে পাচ্ছি না’।

নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মোবারক হোসেন বলেন, প্রায় ৯ মাস আগে নির্ধারিত তথ্য অধিকার ফর্মে তথ্য চেয়ে আবেদন করি। পরে তথ্য নেওয়ার জন্য প্রকৌশলীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলেও তিনি নানা টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রকৌশলী জানান, কোনো তথ্য নিতে হলে ঠিকাদারদের অনুমতি লাগবে। ঠিকাদারদের অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না দেওয়ায় ফের আপিল আবেদন করি। তারপরও কোনো তথ্য দেননি। পরে নির্ধারিত ফরমে প্রধান তথ্য কমিশনার বরাবর অভিযোগ দায়ের করি। এ ছাড়া এ প্রকৌশলী তার বন্ধুর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নানা কৌশলে কাজ দিচ্ছেন এবং দুই বন্ধু মিলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন বলেন, ‘কোনো তথ্য নিতে হলে সংশ্লিষ্ট এমপির অনুমতি লাগবে। তথ্য অধিকার ফরমে বা যেভাবেই আবেদন করেন না কেন, এমপির অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না।’

এ ব্যাপারে নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, আমি কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে সাংবাদিকদের তথ্য দিতে নিষেধ করিনি। নিয়ম অনুযায়ী তথ্য দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রত্যেক কর্মকর্তা বাধ্য। সরকারি প্রতিটি প্রজেক্টে কী কাজ হচ্ছে না হচ্ছে, কী যাচ্ছে, কী ব্যবহার হচ্ছে এবং তা মানসম্মত কি না বা নিয়মমাফিক হচ্ছে কি না, তা প্রত্যেক সাংবাদিকের জানা উচিত এবং জানার অধিকার রাখে। এটাই হচ্ছে তারেক জিয়ার রাজনীতি। নেই কোনো ভয়ভীতি, থাকবে না কোনো ধান্ধাবাজি ও দুর্নীতি।




বরখাস্ত ও বদলির পরও সাভারে প্রভাবের অভিযোগ: রেজায়ে রাব্বিকে ঘিরে লাইসেন্স বাণিজ্য ও নিয়োগে অর্থ আদায়ের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা-২ (সাভার) এলাকার সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর রেজায়ে রাব্বিকে ঘিরে আবারও গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২০২৬ সালের ২ জুলাই অধিদপ্তরের ৩৯৯ স্মারকে তাকে তৃতীয়বারের মতো সাময়িক বরখাস্ত করে একই তারিখে প্রশাসনিক কারণে ৮৮৬১/ক(৪৩) স্মারকে ময়মনসিংহ-৮-এ বদলি করা হলেও তিনি এখনো ঢাকায় অবস্থান করে আগের মতোই বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহে নামমাত্র যোগদান করার পর রেজায়ে রাব্বি সম্পূর্ণ সুস্থ থেকেও মেডিকেল ছুটি নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন। এরপর পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শহীদ আতাহার হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদে ঢাকা-২ (সাভার) এলাকায় ফায়ার লাইসেন্স নবায়নের নামে শিল্প কল-কারখানা থেকে অবৈধ অর্থ আদায় এবং চলমান নিয়োগ কার্যক্রমে অর্থ সংগ্রহে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রেজায়ে রাব্বিকে বরখাস্ত করা হলেও তার চাহিদা অনুযায়ী ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর হাসিবুর রহমান দিপু আকন্দকে লোক দেখানোভাবে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে অদ্যবধি সাভার জোনের ফায়ার লাইসেন্স কার্যক্রম এখনো রেজায়ে রাব্বির নির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই কার্যক্রমে ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর দিপু আকন্দ, সাভার ফায়ার স্টেশনের লিডার ভোজন এবং কমিউনিটি ভলেন্টিয়ার সাদ্দাম হোসেন সহযোগিতা করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিদিন সংগ্রহ করা অবৈধ এসব অর্থ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র রেজায়ে রাব্বির কথিত এক চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে পরিচালক শহীদ আতাহার হোসেন এবং সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহকারী পরিচালক, ঢাকা এই পদটি। যার অধীনে রাজধানী ঢাকা জেলাসহ জোনভুক্ত অঞ্চল তথা (ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদি জেলা) এর মত গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্বে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ বিবেচনায় কাজী নাজমুজ্জামানকে এই পদে পদায়ন করা হয়। যিনি সাবেক মন্ত্রী আব্দুল সামাদ আজাদের নিকট আত্মীয় হিসেবে পরিচিত। অভিযোগে বলা হয় বাহিনীতে তিনি শারীরিকভাবে আনফিট হওয়া সত্ত্বেও তাকে বিশেষ বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তৎকালীন সময়ে খুনি হাসিনা সরকার পদায়ন প্রদান করেন। সর্বশেষ তিনি গত ২৬ মার্চ প্যারেড গ্রাউন্ডের কমান্ডারের দায়িত্বে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃক মনোনীত করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রের নিরাপত্তা জনিত বিষয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় নিরাপত্তা বাহিনী ও ডিজিএফআই এর নিরাপত্তা পাশ প্রদান না করায় প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। অথচ সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ ফাকি দিয়ে এই কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপিদের অগ্নি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা ঘটার পূর্বেই দেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়া একান্ত জরুরী বলে বাহিনীর সচেতন কর্মকর্তা/কর্মচারীগন মনে করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরায় এসব কার্যক্রম দৃশ্যমান হওয়া সত্ত্বেও মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে বাহিনীর সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।

রেজায়ে রাব্বির অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও অভিযোগে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, এর আগেও তিনি একাধিকবার শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নারী সহকর্মীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন যার স্মারক নং ৯৯৫/১ তারিখ ০৯/১২/২০১৫। এছাড়া ২৪ এর ছাত্র আন্দোলনের সময়ে জরুরী অবস্থা চলাকালীন সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে ছাত্র গণহত্যার সাথে জড়িত থাকার ও অন্যান্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অধিদপ্তরের ৩৯৯ নং স্মারক তারিখ ০৫/০৯/২০২৪ তারিখে ৩০/২৪ নং আদেশে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) জাহেদ কামাল দায়িত্ব গ্রহণের পর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে রাজনৈতিক বিবেচনায় পদায়ন, বিতর্কিত-সুবিধাভোগী ও আওয়ামীদের বহালসহ পুনর্বাসন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ঢাকার সকল গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে অতীতের ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে, ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অপরদিকে বাহিনীতে শৃঙ্খলা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে রেজায়ে রাব্বি, মহাপরিচালক, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শহীদ আতাহার হোসেন, ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর হাসিবুর রহমান দিপু আকন্দ, ঢাকার সরকারী পরিচালক, কাজী নজমুজ্জামান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাহিনীতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।




চট্টগ্রামসহ ১৯ অঞ্চলের নদীবন্দরে এক নম্বর সংকেত

আবহাওয়া ডেস্কঃ চট্টগ্রামসহ দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোতে তোলা হয়েছে এক নম্বর সতর্কতা সংকেত। সোমবার এমন পূ্র্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানিয়েছেন, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়ার অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশের সব বিভাগে সন্ধ্যা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে ঝড়বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের প্রবণতা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।




৭ জেলায় পানিবন্দী লাখো পরিবার, মৃতের সংখ্যা ৫১

ডেস্ক নিউজঃ সাত জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে বহু এলাকায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে, কোথাও আবার পাহাড়ধসে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ তথ্যে এ দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবিক সংকটে রয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১০ লাখ অতিক্রম করেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের (১২ জুলাই) প্রতিবেদন বলছে, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বন্যাপ্লাবিত হয়েছে এসব জেলার ৫৯টি উপজেলা। বন্যায় পানিবন্দী পরিবার ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১। শনিবার মৃতের সংখ্যা ছিল ৪৪। এ দুর্যোগে সর্বোচ্চ ২৮ জন মারা গেছেন কক্সবাজারে। এর বাইরে চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬, রাঙামাটিতে ৩ ও মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৫ জুলাই থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। ৫ জুলাই সকাল ৬টা থেকে গতকাল বেলা তিনটা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১৫১ দশমিক ৭ মিলিমিটার। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই-তিন দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রামের পর সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও বন্যা শুরু হয়।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, দেশের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম অঞ্চলে এক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে কি না, তা নির্ভর করছে বৃষ্টি কতটা হয় তার ওপর।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে; ভেঙেছে সড়ক, বিচ্ছিন্ন হয়েছে যোগাযোগ। কোথাও পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। কোথাও নতুন করে বাড়ছে। কোনো এলাকায় মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করলেও নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। কোথাও ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে, কোথাও দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছায়নি সহায়তা।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ এখনো কার্যত অবরুদ্ধ। বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশের বহু গ্রামে কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরপানি নিয়ে মানুষ দিন কাটাচ্ছেন। বিশুদ্ধ পানির উৎস ডুবে থাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। অনেক এলাকায় রান্না করা যাচ্ছে না। ভেঙে পড়া কাঁচা ঘর, নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসল আর গবাদিপশুর ক্ষতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন মানুষ।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর অনেক এলাকায় এখনো ঘরের ভেতরে পানি। কোথাও কোথাও পানি কমলেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ হয়নি। কাঁচা ঘরের দেয়াল ধসে পড়েছে, নষ্ট হয়েছে খাদ্যশস্য। অধিকাংশ নলকূপ এখনো পানির নিচে থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।

কক্সবাজারে বন্যার পানি কিছু এলাকায় কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি। চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও সদরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি রয়েছে। কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। মানুষ নৌকায় চলাচল করছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর অনেক এলাকায় এখনো ঘরের ভেতরে পানি। কোথাও কোথাও পানি কমলেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ হয়নি। কাঁচা ঘরের দেয়াল ধসে পড়েছে, নষ্ট হয়েছে খাদ্যশস্য।

পানি কমতে শুরু করায় তিন পার্বত্য জেলার বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ক্রমেই সামনে আসছে। কোথাও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোথাও ধসে পড়েছে সেতু। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আমন-আউশের বীজতলা, জুমখেত ও সবজিক্ষেত। আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে অনেকে বাড়ি ফিরলেও অনেক পরিবারের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আরও সময় লাগবে।




বরিশালে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, করলেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজঃ একদিনের সফরে বরিশালে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের শুরুতে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নবখনন করা সরিকল খালের পাড়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে সড়কপথে রওনা দিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরিশালে পৌঁছান তারেক রহমান।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথমে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল–বাটাজোর খালপাড়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় একযোগে প্রায় দুই হাজার গাছের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এরপর বরিশাল নগরের কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন এলাকার বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে দ্বিতীয় দফা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জিআই স্বীকৃত বরিশালের আমড়া ও নারিকেল গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি খালপাড়জুড়ে শতাধিক ফলজ, বনজ ও ফুলের গাছ লাগানোর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলের সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। সভায় বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

সফর উপলক্ষে দলীয়ভাবে তোরণ, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে গৌরনদী থেকে বরিশাল নগর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে মানবপ্রাচীর তৈরি করে তাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। তবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়—এমন কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, যান চলাচল এবং সার্বিক সমন্বয়ের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্যও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হবে।

দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।




‘টাইগার খেয়েছি, আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি, এরপর কী হয়েছে, জানি না’

ডেস্ক নিউজঃ শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে গোসাইরহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে উপজেলার আওলালপুর ইউনিয়নের চর জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিএম জসিম উদ্দিন রেইনকোট, মুখে মাস্ক ও চোখে সানগ্লাস পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রবেশ করেন। 

একপর্যায়ে তিনি সুযোগ বুঝে সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে একটি কুড়াল বের করে সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদের ওপর হামলা চালান। এতে শাকিল আহমেদ আহত হন।

এ সময় অফিসে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে হামলাকারীকে প্রতিহত করে আহত কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটকে রেখে গোসাইরহাট থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

তবে হামলার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বিএম জসিম উদ্দিন সুস্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

একটি ভিডিওতে তাকে অসংলগ্ন উত্তর দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, আমি সকালে টাইগার খেয়েছি, আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি। এরপর কী হয়েছে, আমি জানি না।

এ বিষয়ে আহত সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিএম জসিম উদ্দিনের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে আমি একাধিকবার তাকে সতর্ক ও জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করেছি।

এরই জের ধরে তিনি পরিকল্পিতভাবে মুখ ঢেকে আমার কার্যালয়ে এসে কুড়াল দিয়ে হামলা চালিয়েছেন। সহকর্মীরা দ্রত এগিয়ে না এলে আরও বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বর্তমানে আমি থানায় রয়েছি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এ ব্যাপারে গোসাইরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন, আমরা অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগ করলে মিলবে না পেনশন: আপিল বিভাগ

ডেস্ক নিউজ : সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে তিনি পেনশন সুবিধার অধিকারী হবেন না বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গত ৯ জুলাই ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব রায়টি লিখেছেন। এর আগে গত ১১ মার্চ বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগ এ রায় দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক। তাদের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। অন্যদিকে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন মাহবুব মোরশেদ নিজেই।

রায়ে আপিল বিভাগ বলেন, আইনসভা যৌক্তিক বিবেচনায় এমন বিধান করেছে যে, সরকারি চাকরিতে ২৫ বছরের চাকরিকাল পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো কর্মচারী পদত্যাগ করলে তিনি পেনশন সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন না।

মামলার নথি অনুযায়ী, মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯ বছর চাকরি শেষে ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা জজ পদে থাকা অবস্থায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পরে ২০১৫ সালে চাকরির ১৯ বছরের ভিত্তিতে ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিক চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

এর পর একই বছরের ২৫ মার্চ প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় আইন মন্ত্রণালয়কে জানায়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে পূর্বের চাকরিকাল পেনশনের জন্য গণনাযোগ্য থাকে না। পাশাপাশি ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ না হওয়ায় ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইন অনুযায়ী তিনি পেনশনের যোগ্য নন।

এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাহবুব মোরশেদ ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে ২০২১ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট চিঠিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে এবং চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী পেনশন ও অন্যান্য বকেয়া সুবিধা ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করলে ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগ আবেদনটি গ্রহণ করেন এবং হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন। পরবর্তী শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন আপিল বিভাগ।




রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলা জোরদার, নিহত ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় এক রাতেই অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ থামাতে মিত্র দেশগুলো প্যারিসে আলোচনায় বসছে। ঠিক তার আগের দিনই ঘটল এই ভয়াবহ হামলা।

এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মনোযোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক চেষ্টা কিছুটা থমকে গেছে। এই সুযোগে জুলাই মাস থেকে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে মস্কো। এতে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন।

রবিবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, রাতে ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। এতে চারজন নিহত হন। এর মধ্যে দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের ক্রিভি রিগ শহরের একটি কারখানায় হামলায় দুজনসহ মোট তিনজন মারা যান। আর দক্ষিণের খেরসনে ড্রোন হামলায় ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন।

অন্যদিকে, ইউক্রেনও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের ছোড়া অস্ত্রে রুশ অধিকৃত জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে চারজন মারা গেছেন। এছাড়া রাশিয়ার সামারা অঞ্চলে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে রাশিয়ার দিকে মারা গেছেন পাঁচজন।

বারবার রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ চাপে পড়েছে। এই অবস্থায় ইউক্রেনকে নিজেদের দেশে মার্কিন প্রযুক্তির ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এটি তৈরি শুরু হতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।




খামেনি হত্যার প্রতিশোধ: ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্ব নেতা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে এক বিস্ফোরক ‘টার্গেট’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম। এই তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতার ছবি ও নাম প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তেহরানের শাসনব্যবস্থার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং রক্ষণশীল ও উসকানিমূলক সুরের জন্য পরিচিত ‘হামশাহরি’ নামের গণমাধ্যমটির অনলাইন সংস্করণে শনিবার গভীর রাতে এই লক্ষ্যবস্তুদের তালিকা (ইনফোগ্রাফিক) প্রকাশ করা হয়। এর ঠিক আগেই ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও তার বাবার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘প্রতিশোধ আমাদের গোটা জাতির ইচ্ছা এবং এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। তালিকায় নাম থাকা এই অপরাধীরা বিছানায় শান্তিতে মৃত্যুবরণ করার ইচ্ছা মনে নিয়ে অপূরণীয় আতঙ্ক বুকে চেপেই কবরে যাবে।’ মোজতবা খামেনি তার বিবৃতিতে ‘তালিকা’ শব্দটি মুখে উচ্চারণ করলেও নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি। 

তবে তার এই বিবৃতির পরপরই হামশাহরি পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে একটি বিশেষ ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৩ জন বিদেশি নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। যদিও এই তালিকাটি ইরানের শীর্ষ নীতি-নির্ধারকদের দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত কি না তা স্পষ্ট করা হয়নি, তবে তেহরানের সরকারি মহলে এই গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

হামশাহরির প্রকাশিত সেই ইনফোগ্রাফিকটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ছবি রয়েছে। এছাড়া মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা—পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস-এর ছবিও সেখানে প্রদর্শন করা হয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ জনের এই তালিকায় থাকা বাকি নেতাদের নাম প্রকাশ করা না হলেও, ইনফোগ্রাফিকটি কেবল অনলাইনেই দেখা গেছে এবং রবিবার প্রকাশিত পত্রিকার মূল প্রিন্ট সংস্করণে এটি রাখা হয়নি।

ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চলাকালে ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুমতি দিয়েছিল। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনকে এই সামরিক সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোও এই যুদ্ধে সরাসরি ওয়াশিংটনের অংশীদার ও অপরাধী হিসেবে গণ্য হয়েছে। ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার হুংকার এবং এই ‘হিট লিস্ট’ প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।




বন্যা ও পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় কক্সবাজারে নিহত বেড়ে ২৮

ডেস্ক নিউজ : টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌছেছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে দুর্ভোগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বন্যা ও পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় কক্সবাজারে মোট ২৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

রোববার (১২ জুলাই) কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার (১১ জুলাই) দিনে কিছুটা কমেছিল বৃষ্টি। বৃষ্টি কমায় বন্যার পানিও কিছুটা নেমে গিয়েছিল। কিন্তু শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত আবারও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে। দুর্গত মানুষগুলো খাবার এবং পানীয় জলের সংকটে পড়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিও বেড়েছে পাহাড়ধসের। ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিংসহ নানাভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছেন। তবে, চাহিদার তুলনায় এসব ত্রাণ অপ্রতুল বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান। রোববার (১২ জুলাই) চকরিয়া, রামু, কক্সবাজার সদর এবং উখিয়ায় সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ কালে তিনি বলেন, বন্যার্তদের ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় মানবিক সহায়তা অপর্যাপ্ত- সরকারি সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।

কক্সবাজার সদর আসনের এমপি লুৎফুর রহমান কাজল রামু, ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর এলাকার বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও পাহাড় ধ্বসে নিহতদের পরিবারে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। ত্রাণ বিতরণে দুর্গতদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ। পেকুয়াতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে ছফুয়ানুল করিমের নেতৃত্বে দিনে এবং রাতে শুকনো খাবার, পানিসহ প্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে জেলায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মাঝে কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে এক নারী এবং পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ১৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে কক্সবাজারে চলমান দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে।

পেকুয়ার ইউএনও রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে ১৯ মাস বয়সী মুশফিকুর রহিম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই এলাকার প্রবাসী নাছির উদ্দীনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, শিশুটির ঘরে হাঁটুসমান এবং উঠানে কোমরসমান পানি জমে ছিল। এ সময় শিশুটিকে ঘরে রেখে বাইরে কাজ করছিলেন তার মা। একপর্যায়ে সবার অগোচরে শিশুটি পানিতে পড়ে স্রোতে ভেসে যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঘর থেকে প্রায় দেড়শ ফুট দূরে ভাসমান অবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউএনও রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও অনেক এলাকায় এখনও পানি রয়েছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউপির পূর্ব কলাতলীর ঝরঝরিপাড়ায় পাহাড়ধসে রোজিনা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হন। তিনি ওই এলাকার আব্দুল মজিদের স্ত্রী।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসাইন জানান, রাতের খাবারের প্রস্তুতির জন্য পাহাড়ঘেঁষা রান্নাঘরে অবস্থান করছিলেন রোজিনা বেগম। এসময় হঠাৎ পাহাড়ধসে পড়লে ঘরসহ তিনি মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ঘন্টা দুয়েক পর তাকে উদ্ধার করলেও বাঁচানো যায়নি। এসময় স্বামী আব্দুল মজিদ সন্তানসহ দোকানে ছিলেন বলে জানাগেছে।

আব্দুল মজিদ বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকায় তিনি স্ত্রীকে বারবার রান্নাঘরে যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু রাতের খাবার প্রস্তুত করতে গিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

কক্সবাজার সদরের ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টিতে জেলার ক্ষতবিক্ষত পাহাড়গুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিয়মিত মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হলেও অনেকেই আবার পাহাড়ঘেঁষা বসতিতে ফিরে আসছেন। টানা বর্ষণের সময় পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা দরকার। ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। মাইকিংসহ ফোর্সও করা হলেও বাড়ি ছেড়ে না যাওয়ায় অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা ঘটছেই। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করা উচিত নয়।

ইউএনও আরও বলেন, গত ৭ জুলাই বিকেলে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দরিয়ানগর বড়ছড়া হাজীঘোনা এলাকায় পাহাড় ধ্বসে লিমা আক্তার (২৫) মারা যান। এসময় তার স্বামী জসিম উদ্দিনও আহত হন। বৃষ্টির মাঝে মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ি এলাকায়ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। বৃষ্টি দুর্যোগকালীন সময়ে সবাইকে নিরাপদে থাকার আহবান জানান ইউএনও।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরও কয়েকদিন মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, জেলার দুর্গত উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সবসময় প্রস্তুত। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার আহ্বান জানান ডিসি। সপ্তাহজুড়ে কক্সবাজার জেলায় পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এদের মাঝে রোহিঙ্গা রয়েছেন ১৭ জন।