কাফরুলে এক হাজার মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দিল আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন কাফরুল থানার ১৬ নং ওয়ার্ড এর সুবিধা বঞ্চিত অসহায় মানুষের মাঝে আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক দলের সদস্য ডাঃ নিবিড়ের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক ১৬ নং ওয়ার্ডের উত্তর কাফরুল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।

চিকিৎসক দল সকাল ৯ টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত প্রায় ১০০০ এর মত রোগী দেখেন এবং ফ্রি ওষুধ বিতরণ করেন। সেই সাথে আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য পানি, বিস্কুট, শরবত, খাবার স্যালাইন দিয়ে সেবা করতে দেখা যায়।

সমাজের সাধারণ মানুষের মাঝে আব্বাস আলী ফাউন্ডেশনের এই মহতী কাজকে তারা ধন্যবাদ জানান এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ইউটিউব গণমাধ্যম কর্মীদের ভিডিও নিউজ কভার করতে দেখা যায়।

মানবিক এই কাজকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গও সাধুবাদ জানাচ্ছে। আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন এর সভাপতি রহমত এলাহী সোহাগের নেতৃত্বে আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন এর সকল নেতৃবৃন্দ সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন এর আব্বাস আলী একজন  বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।




পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী ১৪ ই জুলাই উপলক্ষ্যে স্মরণ করছি: আধুনিক বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও গ্রামমুখী রাষ্ট্রচিন্তা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আগামী ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আজ তাঁর শাসনামলে অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর উন্নয়ন-দর্শনের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় ছিল পুনর্গঠন ও উন্নয়নের সময়। আশির দশকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেন। দেশবাসীর মতে, উন্নয়নকে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিস্তৃত করার প্রথম চেষ্টা ছিল এরশাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

তাঁর শাসনামলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, অসংখ্য সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সহজ হয়, যাতায়াতের সময় কমে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়ে।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য সেচ, কৃষি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, উন্নত বীজের ব্যবহার এবং কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এর ফলে আশির দশকে খাদ্যশস্য উৎপাদনে ধারাবাহিক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়।

স্বাস্থ্য খাতেও উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে হাসপাতাল, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এবং টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সময়ে শিক্ষার প্রসারে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং গ্রামীণ এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময় স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ধারণা পরবর্তী সময়েও বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

তাঁর সরকারের সময় পরিবেশ সংরক্ষণেও কিছু উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাতীয়ভাবে উৎসাহিত করা হয় এবং সামাজিক বনায়নের ধারণা আরও বিস্তৃতভাবে প্রচার পায়। আজও দেশে বর্ষাকালীন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর সময়ের উদ্যোগের কথা প্রায়ই আলোচনায় আসে।

অর্থনৈতিকভাবে আশির দশকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। যদিও সে সময়ের অর্থনৈতিক সাফল্য নিয়ে গবেষক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে, তবুও অবকাঠামো ও গ্রামীণ উন্নয়নে তাঁর সরকারের বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা রয়েছে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক জীবন যেমন প্রশংসিত হয়েছে,বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গবেষকের ভিন্ন মূল্যায়ন ও রয়েছে। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে তাঁর শাসনামলের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, স্থানীয় সরকার সংস্কারের উদ্যোগ এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন বাংলাদেশের ইতিহাসে আলোচিত বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের কাছে তিনি শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কই নন বরং একজন উন্নয়নমুখী নেতৃত্বের প্রতীক। তাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁর উন্নয়ন-ভাবনা আজও বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের আলোচনায় প্রাসঙ্গিক।
পল্লীবন্ধুর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি তাঁর কর্মজীবনকে।




১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সুইসদের হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্কঃ নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ১-১ এ সমতায়। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১৩ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ ছিল ১–১ গোলে সমতায়। এরপর গোলের দেখা পান হুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্টিনেজ। এতেই সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের শুরুতে বেশ সাবধানী ছিল আর্জেন্টিনা। বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আক্রমণে উঠে তারা। এরপর ম্যাচের ১০ মিনিটেই গোলের দেখা পেয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নারে ভেসে আসা বলে হেড দিয়ে তা জালে জড়ান মিডফিল্ডার লেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টার। এতেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

গোল খাওয়া বাদ দিলে আর্জেন্টিনার সঙ্গে সমানতালে খেলেছে সুইজারল্যান্ড। একাধিকবার গোল করার কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিল। তবে ফিনিশিংয়ের অভাবে শেষ পর্যন্ত গোল পাওয়া হয়নি। এতে ১-০ গোলের লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা।

বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে সমতায় ফেরান ড্যান এনদোয়ে। দলীয় আক্রমণে রিকার্দো রদ্রিগেজের পাস থেকে গোলটি করেন তিনি।

ম্যাচের ৭২ মিনিটে ডাইভ দিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের পর লাল কার্ড দেখেন ব্রিল এমবোলো। এতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। তবে আর কোনো গোল না হলে সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা।

অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের ১১৪ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন আলভারেজ। এরপর আবারও গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন লাওতারো মার্টিনেজ। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।




দেশের ১৩ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, পাঁচ জেলায় ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি

আবহাওয়া ডেস্কঃ ভোর থেকেই রাজধানীতে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে। দুপুর পর্যন্ত এমন বৃষ্টি ঝরতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এদিকে আজ ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, ভারতের মধ্য উত্তর প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ১১ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। গাণিতিক মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময়ে এসব জেলায় মোট ১০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

একইসঙ্গে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা বহাল রয়েছে।

পাশাপাশি সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে প্রস্তাবিত গুরুত্বপূর্ণ চার সেতুর স্থান পরিদর্শনে সেতু সচিব

ডেস্ক নিউজ : দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও খুলনা জেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবিত সেতুর স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ। আজ শনিবার (১১ জুলাই) তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্যদের প্রস্তাবিত স্থানসমূহ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে সেতু সচিব ঝালকাঠি জেলার সুগন্ধা নদীর উপর প্রস্তাবিনলছিটি-ষাট পাকিয়া সেতু, পিরোজপুর জেলার সন্ধ্যা নদীর উপর ইন্দেরহাট-স্বরূপকাঠি নামক স্থানে প্রস্তাবিত নেছারাবাদ সেতু ও আমড়াঝুড়ি-আশোয়া সেতু, এবং খুলনা জেলার ভৈরব নদীর উপর জেলখানা ঘাট-সেনের বাজার সেতুর সম্ভাব্য স্থানগুলো ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব এবং প্রকল্প মনিটরিং টিমের আহবায়ক জনাব আলতাফ হোসেন সেখ, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জনাব মোঃ তোফাজ্জল হোসেনসহ স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিগণ।

পরিদর্শন শেষে স্থানীয় অংশীজনদের উদ্দেশ্যে সেতু সচিব জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার আলোকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন করতে এবং উন্নয়নকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রী দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং এই প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। এই সেতুগুলো নির্মিত হলে তা কেবল ইট-পাথরের কাঠামো হবে না, বরং এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সোপান হিসেবে কাজ করবে। অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবে রূপ দিতে সেতু বিভাগ কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

সেতু সচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই সেতুগুলো নির্মিত হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক গতির সঞ্চার করবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে।

এদিকে প্রস্তাবিত সেতুগুলোর স্থান পরিদর্শনে আসায় উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অংশীজনগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, এই সেতুগুলো নির্মিত হলে উপকূলীয় অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। একই সাথে প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেছেন।




হরমুজ প্রণালিতে ‘সেবা ফি’ দিতে সম্মত ইউরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। টোল বাধ্যতামূলক নাকি স্বেচ্ছাধীন হবে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন কী বলে এবং প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব প্রশ্নে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ওমানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তবে ইউরোপের দেশগুলো ‘নেভিগেশন ফি’ অর্থাৎ জাহাজ চলাচলে পরিষেবার বিনিময়ে ‘ফি’ দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে।

ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট ‘ফি’ দিতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে অবিলম্বে এই প্রণালি উন্মুক্ত করে দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, এই পথে চলাচলকারী কোনো জাহাজে তারা হামলা চালাবে না। এদিকে ইউরোপ বলছে, টোল আরোপ হতে পারে, তবে তা বাধ্যতামূলক হবে না। অন্যদিকে ইরান একতরফাভাবে টোল আরোপ করুক, তা চায় না ওমান।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই প্রণালি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান খুবই কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। কার্যত এখনো কৌশলগত এই বৈশ্বিক জলপথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতেই রয়ে গেছে।

যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং সব ধরনের সংঘাতের অবসান ঘটানো। চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও নৌ পরিষেবা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইরান ও ওমানের আলোচনার কথা রয়েছে।

কে কী বলছে

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ‘নেভিগেশন ফি’ আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন কয়েকটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইউরোপের দেশগুলো। তবে তাদের শর্ত হলো হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের টোল কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক হতে পারবে না। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের সমুদ্র পরিবহনবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সমর্থন থাকতে হবে।

যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি গতকাল শনিবার বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে টোল বাধ্যতামূলক করা হলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বিপর্যয়কর হবে। তবে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য বলেছেন, মালাক্কা প্রণালি, ইংলিশ চ্যানেলসহ বিশ্বের অনেক প্রাকৃতিক জলপথে জাহাজ চলাচলে নির্দিষ্ট সেবার বিনিময়ে অর্থ আদায় করা হয়। এ ধরনের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত।

প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু সেবা দেওয়া হলে তার জন্য স্বেচ্ছাধীন অর্থ আদায় ব্যবস্থার পক্ষে ওমান। এর মাধ্যমে ইরানও কিছু অর্থ পেতে পারে, তবে সেটি একতরফা বাধ্যতামূলক টোল হিসেবে নয়। ওমানের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় রেখে পরিচালনা করা, যেখানে জাহাজ চলাচল অবাধ থাকবে। এ লক্ষ্যে তেহরানকে একটি প্রস্তাবও দিয়েছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, হরমুজ প্রণালি খোলা আছে বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিক ইরান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার করতে হবে দেশটিকে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে একটি বার্তা পাঠানোর কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে তেহরানকে প্রকাশ্যে এই ঘোষণা দিতে বলা হয়েছে যে হরমুজ প্রণালি খোলা আছে এবং তারা আর বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালাবে না।

হরমুজ প্রণালি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার ওমান সফরে গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধ বন্ধে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে চলা আলোচনার অংশ এটি। ইরান বলছে, ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা করবে তারা। আর চলাচলকারী জাহাজগুলোকে দিতে হবে ‘সার্ভিস ফি’।

ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের সমুদ্রবিষয়ক নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ জেনিফার পার্কার মনে করেন, হরমুজে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কেবল ‘ফি’ আদায় নয়, বরং এর মাধ্যমে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখাই তেহরানের মূল লক্ষ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি বলেন, কিছু ছাড় পেলে ইরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে—যুক্তরাষ্ট্রের এ ভাবনা থেকে সরে এসে বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হবে। কোনো প্রতিশ্রুতি, অর্থনৈতিক ছাড়, এমনকি সামরিক অভিযান চালালেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানের অবস্থান বদলানো যাবে না।




সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার উপকণ্ঠ দমদমে অবস্থিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো বাঁকড়া মসজিদ। আজ শনিবার থেকেই এ মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, আজ শনিবার দমদম বিমানবন্দর এলাকায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক সৌরভ শিকদার। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কথা বলেন। নামাজ পড়তে আসা বেশিরভাগ মানুষই এই পদক্ষেপে রাজি হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টিও এক্ষেত্রে ভাবা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে যাতে কোনোরকম প্ররোচনা না দেওয়া হয়, সেই অনুরোধ জানিয়েছেন বিধায়ক সৌরভ।

দীর্ঘদিন ধরে বাঁকড়া মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা চলছিল। দমদম বিমানবন্দরে দুটি রানওয়ে রয়েছে। প্রধান রানওয়েটি দিয়ে বিমান ওঠানামা হয়। দ্বিতীয় রানওয়েটি আকারে ছোট। ওই রানওয়েটির অল্প দূরত্বে এই মসজিদ রয়েছে। প্রথম রানওয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িক বন্ধ থাকলে বড় বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়, বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ওই মসজিদের কারণে বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি থাকে বলে মত বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের। দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও থমকে। বেশ কয়েক দশক ধরে ওই মসজিদ সরানো নিয়ে চর্চা, আলোচনা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে কোনো স্থির সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি এতদিন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পালাবদলের পর এবার দমদম বিমানবন্দরের ভেতর থেকে মসজিদ সরানোর পদক্ষেপ করা শুধু হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, প্রশাসনিক মহলে বৈঠকও হয়। মসজিদ ওই জমি থেকে সরানো হবে, সেই আলোচনা চলছিলই বেশ কয়েক দিন ধরে। সেই প্রক্রিয়া যেন এদিন থেকেই শুরু হল। মসজিদে যাওয়ার জন্য বিরাটি পরবর্তী বাঁকড়া এলাকার উলটোদিকের একটি অংশ দিয়ে মসজিদে যেতে হতো। গেটে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আধার কার্ড দেখিয়ে মসজিদে যেতে পারতেন মুসল্লিরা। বিমানবন্দরের ভিতরের প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে মসজিদে পৌঁছাতে হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়েও যথেষ্ট প্রশ্ন উঠছিল। আজ থেকে ওই গেট দিয়ে ঢোকার জন্য বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে এন্ট্রি পাস বন্ধ করা হল। ফলে বন্ধ হয়েছে মসজিদটিতে নামাজ পড়াও। শুধু তাই নয়, মসজিদে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ-নিরাপত্তারক্ষীও মোতায়েন রয়েছে।

ইতোমধ্যে উত্তর ২৪ পরগণার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে বিধায়ক ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। পরদিনই একটি বিশেষ দল ওই মসজিদ পরিদর্শন করতে যায়। তারপর বৈঠক হয় বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটিরও। তারপর বৈঠক হয় বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটিরও। ঠিক হয়েছিল, ঈদের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ নিয়ে।

মসজিদ কমিটি আগেই জানিয়েছিল, তাদের কারণে বিমানবন্দরের কোনো ক্ষতি হোক বা সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটুক তা তারা চান না। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় একটি মসজিদ তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে স্থানান্তর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় তারা নেই বলেও জানিয়েছে।




দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপভ্যান উদ্ধার করতে গিয়ে বাসচাপায় নিহত ৫

ডেস্ক নিউজ : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি ডিমবোঝাই মিনি পিকআপভ্যান উল্টে গেলে এলাকাবাসী উদ্ধারের জন্য এগিয়ে এলে পেছন থেকে একটি যাত্রীবাহিী বাস তাদের চাপা দেয়।এ ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোয়াদি নামক স্থানে ঢাকা-ভাঙ্গা খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোয়াদি এলাকায় ঢাকা থেকে খুলনাগামী একটি মিনি পিকআপভ্যানের চাকা বাস্ট হয়ে উল্টে যায়। এ সময় এলাকাবাসী পিকআপভ্যানটি ও এতে থাকাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পর ঢাকা থেকে নড়াইলগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে তাদের চাপা দেয়। তখন ঘটনাস্থলে পাঁচজন নিহত হয়েছেন ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহত ও নিহতদের এখনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বিক্ষুবদ্ধ জনতা ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় দুই পাশের শত শত গাড়ি আটকা পড়ে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে চারজন ও হাসপাতালে একজন মারা যান। পুলিশ উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।




বাংলাদেশকে ২০০ রানের টার্গেট দিয়ে অলআউট জিম্বাবুয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক : ওয়ানডেতে ওয়েসলি মাধেভেরের ৭৫ ও ক্লাইভ ইভান্সের অপরাজিত ৫০ রানে ভর করে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ২০০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ে চলতি সফরে একমাত্র টেস্টে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে ইনিংস ও ৮৫ রানের ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপর শুরু হয় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।

প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ দল। ৩০০ বলে ১৪২ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানেই অলআউট হয় টাইগাররা। এরপর সিরিজ বাঁচাতে নেমে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২৪৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে জয়ের দুয়ারে গিয়ে হোচট খায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের জন্য শেষ ৩০ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩০ রান। হাতে ছিল ৪ উইকেট। ব্যাটিংয়ে থাকা অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ; লেজের ব্যাটসম্যান রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও শরীফুলকে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।  শেষ ১৬ রানে বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে ৪৮.১ ওভারে ২৩৪ রানে অলআউট হয়। ১৩ রানের জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

আজ সিরিজের হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ দলের সামনে। শনিবার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে জিম্বাবুয়েকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। এরপর ওয়েসলি মাধেভেরের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে খেলায় ফেরে জিম্বাবুয়ে। শেষ দিকে দলের হার ধরেন ব্রাড ইভান্স। এই দুই তারকার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছে জিম্বাবুয়ে।

দলের হয়ে ৭৪ বলে ৫টি চার আর এক ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন ওয়েসলি মাধেভেরে। ৪৩ বলে ৫টি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে ৫০ রান করেন ব্রাড ইভান্স। বাংলাদেশ দলের হয়ে ৪ উইকেট নেন শরীফুল ইসলাম। ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও তানভির ইসলাম। এক উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।




আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সাইবার হামলার শিকার

ক্রীড়া ডেস্ক : মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ঘিরে কিছু ই-মেইল ছড়িয়ে পড়েছে।তবে এসব বার্তা তাদের নয় বলে দাবি করেছে এএফএ।

সংস্থাটির ভাষ্য, তারা সাইবার হামলার শিকার হয়েছে এবং অনুমতি ছাড়াই তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই ই-মেইল পাঠানো হয়েছে।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টায় মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি পরিচালনাকারী রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকে বিতর্ক শুরু হয়।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘লা কায়ে’ দাবি করে, ম্যাচের পর এএফএর অফিসিয়াল ই-মেইল থেকে কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে কিছু বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, আর্জেন্টিনা প্রকৃত অর্থে ম্যাচ জেতেনি এবং এই ফল ‘দুর্নীতিগ্রস্ত রেফারিংয়ের’ ফলাফল। একই সঙ্গে ওই বার্তায় মিসরের ফুটবলারদের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এএফএর অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মিসরীয় বংশোদ্ভূত একদল হ্যাকার এই সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরপরই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সেখানে বলা হয়, ‘আমরা সবাইকে জানাতে চাই যে আমাদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু ই–মেইল পাঠানোর ঘটনা আমরা শনাক্ত করেছি। এই মেইলগুলো আমাদের দলের কেউ তৈরি করেনি এবং এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনও ছিল না।’