সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার উপকণ্ঠ দমদমে অবস্থিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো বাঁকড়া মসজিদ। আজ শনিবার থেকেই এ মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, আজ শনিবার দমদম বিমানবন্দর এলাকায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক সৌরভ শিকদার। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কথা বলেন। নামাজ পড়তে আসা বেশিরভাগ মানুষই এই পদক্ষেপে রাজি হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টিও এক্ষেত্রে ভাবা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে যাতে কোনোরকম প্ররোচনা না দেওয়া হয়, সেই অনুরোধ জানিয়েছেন বিধায়ক সৌরভ।

দীর্ঘদিন ধরে বাঁকড়া মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা চলছিল। দমদম বিমানবন্দরে দুটি রানওয়ে রয়েছে। প্রধান রানওয়েটি দিয়ে বিমান ওঠানামা হয়। দ্বিতীয় রানওয়েটি আকারে ছোট। ওই রানওয়েটির অল্প দূরত্বে এই মসজিদ রয়েছে। প্রথম রানওয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িক বন্ধ থাকলে বড় বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়, বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ওই মসজিদের কারণে বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি থাকে বলে মত বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের। দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও থমকে। বেশ কয়েক দশক ধরে ওই মসজিদ সরানো নিয়ে চর্চা, আলোচনা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে কোনো স্থির সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি এতদিন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পালাবদলের পর এবার দমদম বিমানবন্দরের ভেতর থেকে মসজিদ সরানোর পদক্ষেপ করা শুধু হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, প্রশাসনিক মহলে বৈঠকও হয়। মসজিদ ওই জমি থেকে সরানো হবে, সেই আলোচনা চলছিলই বেশ কয়েক দিন ধরে। সেই প্রক্রিয়া যেন এদিন থেকেই শুরু হল। মসজিদে যাওয়ার জন্য বিরাটি পরবর্তী বাঁকড়া এলাকার উলটোদিকের একটি অংশ দিয়ে মসজিদে যেতে হতো। গেটে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আধার কার্ড দেখিয়ে মসজিদে যেতে পারতেন মুসল্লিরা। বিমানবন্দরের ভিতরের প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে মসজিদে পৌঁছাতে হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়েও যথেষ্ট প্রশ্ন উঠছিল। আজ থেকে ওই গেট দিয়ে ঢোকার জন্য বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে এন্ট্রি পাস বন্ধ করা হল। ফলে বন্ধ হয়েছে মসজিদটিতে নামাজ পড়াও। শুধু তাই নয়, মসজিদে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ-নিরাপত্তারক্ষীও মোতায়েন রয়েছে।

ইতোমধ্যে উত্তর ২৪ পরগণার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে বিধায়ক ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। পরদিনই একটি বিশেষ দল ওই মসজিদ পরিদর্শন করতে যায়। তারপর বৈঠক হয় বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটিরও। তারপর বৈঠক হয় বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটিরও। ঠিক হয়েছিল, ঈদের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ নিয়ে।

মসজিদ কমিটি আগেই জানিয়েছিল, তাদের কারণে বিমানবন্দরের কোনো ক্ষতি হোক বা সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটুক তা তারা চান না। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় একটি মসজিদ তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে স্থানান্তর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় তারা নেই বলেও জানিয়েছে।




দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপভ্যান উদ্ধার করতে গিয়ে বাসচাপায় নিহত ৫

ডেস্ক নিউজ : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি ডিমবোঝাই মিনি পিকআপভ্যান উল্টে গেলে এলাকাবাসী উদ্ধারের জন্য এগিয়ে এলে পেছন থেকে একটি যাত্রীবাহিী বাস তাদের চাপা দেয়।এ ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোয়াদি নামক স্থানে ঢাকা-ভাঙ্গা খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোয়াদি এলাকায় ঢাকা থেকে খুলনাগামী একটি মিনি পিকআপভ্যানের চাকা বাস্ট হয়ে উল্টে যায়। এ সময় এলাকাবাসী পিকআপভ্যানটি ও এতে থাকাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পর ঢাকা থেকে নড়াইলগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে তাদের চাপা দেয়। তখন ঘটনাস্থলে পাঁচজন নিহত হয়েছেন ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহত ও নিহতদের এখনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বিক্ষুবদ্ধ জনতা ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় দুই পাশের শত শত গাড়ি আটকা পড়ে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে চারজন ও হাসপাতালে একজন মারা যান। পুলিশ উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।




বাংলাদেশকে ২০০ রানের টার্গেট দিয়ে অলআউট জিম্বাবুয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক : ওয়ানডেতে ওয়েসলি মাধেভেরের ৭৫ ও ক্লাইভ ইভান্সের অপরাজিত ৫০ রানে ভর করে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ২০০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ে চলতি সফরে একমাত্র টেস্টে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে ইনিংস ও ৮৫ রানের ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপর শুরু হয় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।

প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ দল। ৩০০ বলে ১৪২ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানেই অলআউট হয় টাইগাররা। এরপর সিরিজ বাঁচাতে নেমে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২৪৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে জয়ের দুয়ারে গিয়ে হোচট খায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের জন্য শেষ ৩০ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩০ রান। হাতে ছিল ৪ উইকেট। ব্যাটিংয়ে থাকা অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ; লেজের ব্যাটসম্যান রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও শরীফুলকে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।  শেষ ১৬ রানে বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে ৪৮.১ ওভারে ২৩৪ রানে অলআউট হয়। ১৩ রানের জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

আজ সিরিজের হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ দলের সামনে। শনিবার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে জিম্বাবুয়েকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। এরপর ওয়েসলি মাধেভেরের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে খেলায় ফেরে জিম্বাবুয়ে। শেষ দিকে দলের হার ধরেন ব্রাড ইভান্স। এই দুই তারকার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছে জিম্বাবুয়ে।

দলের হয়ে ৭৪ বলে ৫টি চার আর এক ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন ওয়েসলি মাধেভেরে। ৪৩ বলে ৫টি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে ৫০ রান করেন ব্রাড ইভান্স। বাংলাদেশ দলের হয়ে ৪ উইকেট নেন শরীফুল ইসলাম। ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও তানভির ইসলাম। এক উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।




আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সাইবার হামলার শিকার

ক্রীড়া ডেস্ক : মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ঘিরে কিছু ই-মেইল ছড়িয়ে পড়েছে।তবে এসব বার্তা তাদের নয় বলে দাবি করেছে এএফএ।

সংস্থাটির ভাষ্য, তারা সাইবার হামলার শিকার হয়েছে এবং অনুমতি ছাড়াই তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই ই-মেইল পাঠানো হয়েছে।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টায় মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি পরিচালনাকারী রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকে বিতর্ক শুরু হয়।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘লা কায়ে’ দাবি করে, ম্যাচের পর এএফএর অফিসিয়াল ই-মেইল থেকে কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে কিছু বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, আর্জেন্টিনা প্রকৃত অর্থে ম্যাচ জেতেনি এবং এই ফল ‘দুর্নীতিগ্রস্ত রেফারিংয়ের’ ফলাফল। একই সঙ্গে ওই বার্তায় মিসরের ফুটবলারদের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এএফএর অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মিসরীয় বংশোদ্ভূত একদল হ্যাকার এই সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরপরই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সেখানে বলা হয়, ‘আমরা সবাইকে জানাতে চাই যে আমাদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু ই–মেইল পাঠানোর ঘটনা আমরা শনাক্ত করেছি। এই মেইলগুলো আমাদের দলের কেউ তৈরি করেনি এবং এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনও ছিল না।’




‘আমার সম্মান কি ফিরিয়ে দেবে রাষ্ট্র?’ র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া প্রসঙ্গে পরীমনি

বিনোদন ডেস্ক : চার বছর আগে র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে দীর্ঘ এক বক্তব্য দিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তিনি দাবি করেছেন, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাঁকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে’ এবং ‘বিশেষ মহলের স্বার্থে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের কাছে জানতে চেয়েছেন, হারিয়ে যাওয়া সম্মান, মানসিক শান্তি ও জীবনের সেই সময়গুলো আদৌ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না।

শুক্রবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে পরীমনি এসব কথা লেখেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরীমনি র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে তিনি এমন কিছু তথ্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পেরেছেন, বনানীতে তাঁর বাসায় দীর্ঘ অভিযানের পর তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনের নির্দেশে তাঁকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পরীমনি লিখেছেন, ‘আমার জীবনের একটি অধ্যায় আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে, একজন নারী হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। সেই ঘটনার কারণে আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং পেশাগত জীবন—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘পরবর্তী সময়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে টানা ২৮ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।’

স্ট্যাটাসে পরীমনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি ওই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হিসেবেই জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।’

 

রাষ্ট্রের উদ্দেশে কয়েকটি প্রশ্নও তুলেছেন এ অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে?’
তবে অতীত নিয়ে প্রতিশোধ নয়, সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে থাকতে চান বলে উল্লেখ করেছেন পরীমনি। তিনি লিখেছেন, ‘আমি কাউকে ছোট করতে চাই না, কাউকে অপমানও করতে চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন।’
স্ট্যাটাসের শেষ দিকে কঠিন সময়ে পাশে থাকা পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী, সাংবাদিক ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান পরীমনি। তিনি লেখেন, ‘আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই।’
যে মামলায় গ্রেপ্তার

২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে র‍্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পরীমনির বাসা থেকে বিদেশি মদ, চার গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ) এবং একটি এলএসডি ব্লট উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে এ মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

বোট ক্লাবের দুটি মামলা
২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। পরীমনির আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

অন্যদিকে একই ঘটনার জেরে ২০২২ সালের ১৮ জুলাই পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ঢাকার আদালতে নালিশি মামলা করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তাঁর অভিযোগ, বোট ক্লাবে অ্যালকোহল বিনা মূল্যে দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন এবং গ্লাস ছুড়ে মারেন। মামলাটিও বিচারাধীন।




মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটির দাবি, যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মেডিকেল পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী সপ্তাহে দুদিন ছুটি দাবি জানিয়েছেন। এর উত্তরে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিশ্রুতি না দিলেও সংশ্লিষ্টদের বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন তিনি। 

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রী বলেন, সপ্তাহে সাত দিনের মধ্যে ছয় দিনই তাদের ক্লাস ও পরীক্ষা থাকে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ক্লাস-পরীক্ষার পর সপ্তাহে মাত্র এক দিনের ছুটি মেলে, আর সেই সময়ের বেশির ভাগই পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যয় হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, এমন ব্যস্ততার কারণে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং শেখার আগ্রহ কমে যায়। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা অনেক ক্ষেত্রে হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এ সময় অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মতো মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্যও সপ্তাহে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি চালুর অনুরোধ জানান ওই শিক্ষার্থী।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি আপনাদের বিষয়, একটি টেকনিক্যাল বিষয়। আমি জানি না এটা ওভাবে বলা সম্ভব কিনা। এটা নিশ্চয়ই আপনাদের যারা সিনিয়র আছেন, ডাক্তার যারা আছেন, আমার মনে হয়, এটা বোধহয় উনাদের। উনারা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিলেই ভালো হয়। অবশ্য বলা যায়, আমিও সপ্তাহে সাত দিন কাজ করি।’

আলোচনার শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী হালকা রসিকতার সুরে বলেন, ‘তবে একটা কথা বলতে পারি, আমিও সপ্তাহে সাত দিন কাজ করি।’




চিকিৎসকদের ছুটি বাতিলসহ বন্যা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজঃ দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে সাত দফা জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিকেল টিম গঠন, জরুরি ওষুধ ও স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত, অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সরবরাহ, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), পরিচালক (প্রশাসন), সব বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং দেশের সব সিভিল সার্জন অংশ নেন।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন নিয়োগ দিতে হবে। তাঁরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখবেন। একই সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তাঁদের মোবাইল নম্বর সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি আক্রান্ত উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে। পাশাপাশি সব ধরনের জরুরি ওষুধ, ওআরএস বা স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ কাজে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সভার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে জন্য সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে তাঁদের ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এ ছাড়া বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য নেওয়া স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং ও প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানাতে বলা হয়েছে। আগামী ১২ জুলাই বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে জরুরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন এবং বিভাগীয় পরিচালকদের (স্বাস্থ্য) ওপর অর্পণ করেছে।




পে-স্কেল ছাড়াও ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর

ডেস্ক নিউজঃ দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর আসছে। ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মূল্যস্ফীতির কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে অনেকেই ধার-দেনা ও ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকার মনে করছে, রেশন সুবিধা চালু হলে এই মানসিক চাপ কমবে এবং কর্মচারীদের কাজে মনোযোগ ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

এই রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবে ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি মিলেছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গত জুন মাসে অর্থ বিভাগের সচিবকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ওই চিঠিতে তিন মাস পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে কাজের অগ্রগতি উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাসিক অগ্রগতিও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে।

মূলত, দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে ১২ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর এই প্রস্তাবটি প্রথম উত্থাপন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এই প্রস্তাবটি তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে বলা হয়, রেশন সুবিধা চালু হলে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা অনেক সহজ হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপ-সচিব মো. মামুন জানান, ডিসি সম্মেলনে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা বই আকারে প্রকাশের কাজ করছে বিজি প্রেস এবং সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি দিয়ে তাদের করণীয় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাপন বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অজুহাত হিসেবে সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা বলেন, রেশন সুবিধা চালু হলে এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারকে এই রেশন বিতরণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে, যেন কোনো অনিয়ম না হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা এই সুবিধা পান।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব মো. মামুন বলেন, ডিসি সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে সুলভ মূল্যে রেশন সুবিধা পাচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।

১২তম গ্রেডের পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, ক্যাশিয়ার, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক, ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজার, অডিটর ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর। অন্যদিকে ২০তম গ্রেড সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন স্তর, যেখানে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী, নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো পদ অন্তর্ভুক্ত।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি কর্মচারীরা রেশনসহ বিভিন্ন ভাতার দাবিতে আন্দোলন করেন। সে সময় খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম রেশন সুবিধা চালুর পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠান। এরপর থেকেই বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।




‘আমার মাথায় হেলথ নেই, উনি আছেন’, স্ত্রীকে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাস্যরস!

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’-এর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রসিকতা করে উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফোটালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

আলোচনার একপর্যায়ে একজন অংশগ্রহণকারী প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন, ‘আমরা জানতে চাই, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আপনার ভাবনা কী?’

জবাবে পাশে বসে থাকা তার সহধর্মিণী ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী হাস্যরসের সঙ্গে বলেন, ‘আমার মাথায় হেলথ নেই, উনি আছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে পুরো অডিটোরিয়ামে হাসির রোল পড়ে যায়।

পরে প্রশ্নকারী বলেন, ‘উনি যেহেতু আপনার পাশে আছেন, তিনি যদি এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন, তাহলে আমরা সত্যিই আরও গর্বিত হব।’

এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছে শহীদ মিলন চত্বরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি ক্যাম্পাসে একটি গাছও রোপণ করেন।




উন্নয়ন হবে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানে: পরিবেশমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ উন্নয়ন ও প্রকৃতি একসঙ্গে হাতে হাত রেখে চলবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে উন্নয়ন হবে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানব কল্যাণ হবে একই পথের সহযাত্রী।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ব্র্যাক ব্যাংক এবং তরুপল্লব আয়োজিত ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন পরিবেশমন্ত্রী।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ এখন আর কোনো বিকল্প নয়; এটি আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।আজকের সম্মাননাপ্রাপ্তরা প্রমাণ করেছেন, একজন মানুষের নিষ্ঠা ও উদ্যোগও পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। প্রকৃতি রক্ষার এই প্রচেষ্টা সমাজজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নির্দেশনায় এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আমরা ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে।’

পদকপ্রাপ্তদের ‘সবুজ ভবিষ্যতের নির্মাতা’ ও ‘নীরব পরিবেশযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘তাদের এই নিষ্ঠা ও উদ্যোগ সমাজজুড়ে পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’