‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও ভোটে যেতে আগ্রহী জাপা’- শামীম হায়দার পাটোয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তবে ‘নো ইলেকশনের চেয়ে খারাপ নির্বাচনও ভালো’-এই যুক্তিতে দলটির ভোটে যাওয়ার আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শামীম হায়দার।

জাপা মহাসচিব বলেন, ‘আমরা মনে করি বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। মব তীব্রভাবে দেশকে আকড়ে ধরেছে। মব সচিবালয়ে ঢুকে পড়েছে, মব ডিসি অফিসে ঢুকে পড়েছে। সেই প্রশাসন কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করবে। তারপরও আমরা ভোটে যেতে আগ্রহী, কারণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘এ ব্যাড ইলেকশন বেটার দ্যান নো ইলেকশন’। কিন্তু সামনের দিনে আমরা প্রতিনিয়ত গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করব। নিরাপত্তাহীনতা দেখলে আমরা আমাদের প্রার্থীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারি না। আমরা পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেব।’

বিজয় দিবসের কথা বলতে গিয়ে শামীম হায়দার বলেন, ‘এই দিনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে সারেন্ডার করেছিল। এটি আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। যে বৈষম্য, যে হীন মানসিকতা, যার প্রতিবাদে আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম, এত বছর পরেও আমরা সেই বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে পারিনি। সেই সমতার সমাজ গড়তে পারিনি, সেই গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে পারিনি।

‘বর্তমান সরকারকে আমরা মনে করেছিলাম তারা সমতার বাংলাদেশ গড়বে, ঐক্যের বাংলাদেশ গড়বে। আমরা দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে দেখেছি, ঐক্যের জায়গায় অনৈক্যকে আনা হয়েছে, মবতন্ত্রের উত্থান ঘটেছে, হত্যার রাজনীতি শুরু হয়েছে, রক্তের রাজনীতি শুরু হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল দেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ একজন প্রার্থী, একজন গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর ওসমান হাদিকে হত্যার জন্য অত্যন্ত নির্মমভাবে গুলি করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করি। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার চিড় উদীয়মান হচ্ছে, এর মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার যে ভঙ্গুর অবস্থা, সেটি উদীয়মান হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে যে সরকার আসলে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত কি না।’

জাপা মহাসচিব বলেন, ‘আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাই, আমরা একটা সমতার নির্বাচন চাই, আমরা একটা রাষ্ট্র কাঠামো দেখতে চাই, সরকার কাঠামো দেখতে চাই। কিন্তু আমরা দেখছি, সরকার দুর্বল হচ্ছে, মব শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা দেখছি সরকার দুর্বল হচ্ছে, অপশক্তি শক্তিশালী হচ্ছে। আমাদের এখন সকলকে মিলে ঐক্যমত সৃষ্টি করে একটা ঐক্যমতের নির্বাচন, একটা সমঝোতা করতে হবে—রাজনৈতিক সমঝোতা, সকলকে নিয়ে। তার মাধ্যমে দেশ গঠন করতে হবে।’

শামীম হায়দার বলেন, ‘আজকে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন, যেদিনে সারা পৃথিবীতে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলাম। সেই দিনে সকলের শপথ হওয়া উচিত—সামনের বাংলাদেশ হবে একাত্তরের বাংলাদেশ। সামনের বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীনতার বাংলাদেশ। সামনের বাংলাদেশ হবে ঐক্যের বাংলাদেশ। সামনের বাংলাদেশ হবে সার্বভৌমত্বের বাংলাদেশ। সামনের বাংলাদেশ হবে সমঝোতার বাংলাদেশ। সেটি আমাদের সকলকে, সকল দেশপ্রেমিক মানুষকে একত্রিত হয়ে সেই সমঝোতা করতে হবে—দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে। আমরা মনে করি, সেখান থেকে আমরা যোজন যোজন বিচ্যুতি ঘটে গেছে।

‘কোন একজন ব্যক্তিকে, কোন একটি দলকে ঐক্যের আহ্বান দিতে হবে, জানাতে হবে। জাতীয় পার্টি সেই ঐক্যের ডাক দিচ্ছে। একাত্তরের সমস্ত শক্তিকে আমরা বলব—জাতীয় পার্টির আন্ডারে আসেন। আমরা একতাবদ্ধ হয়ে সকলকে নিয়ে একাত্তরের চেতনায় দেশ গড়ব।’

একাত্তরকে ছাড়া কোনো রাজনৈতিক আদর্শ হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, চব্বিশে একটি অসম্ভব আন্দোলন হয়েছে, অনেক ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে। তবে একাত্তর একাত্তরের জায়গায় মহিমান্বিত, চব্বিশ চব্বিশের জায়গায় মহিমান্বিত। একাত্তরকে ছাড়া কোনো রাজনৈতিক আদর্শ হতে পারে না।

‘যারা একাত্তরকে বিশ্বাস করবে না, তারা বাংলাদেশকে ভালোবাসে না। যারা একাত্তরকে বিকৃত করছে, তারা বাংলাদেশকে বিকৃতি করছে। তারা বাংলাদেশের শত্রু। একাত্তরকে নিয়ে যে ‘ডিস্টরশন অব হিস্ট্রি’ হচ্ছে, ‘স্যাফ্রোনাইজেশন অব হিস্ট্রি’ হচ্ছে—আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। একাত্তর একাত্তরের জায়গায় আছে, কেউ এটিকে নষ্ট করতে চাইলেও নষ্ট করতে পারবে না।’

এক প্রশ্নের জবাবে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরে এক প্রার্থীকে গুলি করা হয়েছে এবং এখনো প্রকৃত আসামিরা ধরা পড়েনি। এর মাধ্যমে আমরা প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে খুবই শঙ্কিত। আমরা আমাদের পোলিং এজেন্ট, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত; প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। দেড় বছর একটা সরকার থেকে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার দায় এই সরকারকে ইতিহাসে নিতে হবে। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদি আমরা দেখতে পারি যে আমাদের প্রার্থীর নিরাপত্তা নাই, তাহলে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হব। সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে যে এই নিরাপত্তা বর্তমানে দেশে আছে। এটি তাদের দায়িত্ব। ঠিক এই কাজের জন্যই তারা শপথ নিয়েছেন। তারা যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারেন বা আন্তরিক না হন, তাহলে তাদের শপথ ভঙ্গ হয়েছে।




আইপিএল নিলাম: সবচেয়ে বড় পার্স কেকেআরের, বাকি দলগুলোর হাতে কত টাকা?

খেলাধুলা ডেস্কঃ কেউ প্রায় পুরো দল ধরে রেখেছে। আবার কেউ অধিনায়ককেই ছেড়ে দিয়েছে। কারও পকেটে রয়েছে মাত্র ২ কোটি টাকা। আবার কেউ ৬৪ কোটি নিয়ে নামবে আইপিএলের নিলামে।

মঙ্গলাবার (১৬ ডিসেম্বর) আবু ধাবিতে হবে এবারের আইপিএলের মিনি নিলাম। গতবার বড় নিলাম হওয়ায় এবার শুধু জায়গা পূরণের লক্ষ্যে নামবে প্রতিযোগিতার ১০ দল। প্রতিটি দলের চাহিদা আলাদা। দেখে নেওয়া যাক- নিলামে কোন দল কাদের নেওয়ার জন্য ঝাঁপাবে।

কলকাতা নাইট রাইডার্স

হাতে কত- ৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা

ধরে রাখা ক্রিকেটার- অজিঙ্ক রাহানে, অঙ্গকৃশ রঘুবংশী, অনুকুল রায়, হর্ষিত রানা, মণীশ পাণ্ডে, রমনদীপ সিংহ, রিঙ্কু সিংহ, রভম্যান পাওয়েল, সুনীল নারাইন, উমরান মালিক, বৈভব অরোরা ও বরুণ চক্রবর্তী।

জায়গা বাকি-  ১৩ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ৬ বিদেশি

জায়গা কোথায়- নিলামে সবচেয়ে বেশি টাকা নিয়ে নামবে কেকেআর। সবচেয়ে বেশি ক্রিকেটারও কিনতে হবে তাদের। দলে একজন বিদেশি ওপেনার প্রয়োজন। পাশাপাশি অধিনায়কও বদল করতে পারে কেকেআর। আন্দ্রে রাসেলকে ছেড়ে দেওয়ায় এক বিদেশি অলরাউন্ডারের খোঁজ করতে হবে শাহরুখ খানদের। পাশাপাশি বিদেশি পেসারের দিকেও নজর থাকবে কেকেআরের।

নজরে কারা-  ক্যামেরন গ্রিন, বেঙ্কটেশ আয়ার, পৃথ্বী শ, সরফরাজ় খান, কুইন্টন ডি’কক, জেমি স্মিথ, জনি বেয়ারস্টো, মাথিসা পাথিরানা, ম্যাট হেনরি।

চেন্নাই সুপার কিংস

হাতে কত- ৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা

ধরে রাখা ক্রিকেটার- মহেন্দ্র সিংহ ধোনি, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, আয়ুষ মাত্রে, সঞ্জু স্যামসন (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), শিবম দুবে, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, নুর আহমেদ, অংশুল কম্বোজ, নেথান এলিস, খলিল আহমেদ, উর্বিল পটেল, গুরজপনীত সিংহ, মুকেশ চৌধরী, রামকৃষ্ণ ঘোষ, শ্রেয়স গোপাল ও জেমি ওভারটন।

জায়গা বাকি-  ৯ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ৪ বিদেশি।

জায়গা কোথায়- মিডল অর্ডারে দু’জন ব্যাটার প্রয়োজন চেন্নাইয়ের। রবীন্দ্র জাডেজা ও স্যাম কারেন না থাকায় অলরাউন্ডার দরকার তাদেরে। পাশাপাশি এক বিদেশি স্পিনার ও বিদেশি পেসার নেওয়ার দিকেও নজর থাকবে ধোনিদের।

নজরে কারা- ক্যামেরন গ্রিন, বেঙ্কটেশ আয়ার, লিয়াম লিভিংস্টোন, জেসন হোল্ডার, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মুস্তাফিজ়ুর রহমান।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু

হাতে কত- ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা

ধরে রাখা ক্রিকেটার- রজত পাটীদার, ফিল সল্ট, বিরাট কোহলি, দেবদত্ত পড়িক্কল, টিম ডেভিড, জিতেশ শর্মা, ক্রুণাল পাণ্ড্য, রোমারিয়ো শেফার্ড, ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হেজ়লউড, সুযশ শর্মা, যশ দয়াল, রসিখ দার, অভিনন্দন সিংহ, স্বপ্নিল সিংহ, জেকব বেথেল ও নুয়ান তুষারা।

জায়গা বাকি- ৮ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ২ বিদেশি।

জায়গা কোথায়- দলে খুব বেশি ফাঁক নেই গত বারের চ্যাম্পিয়নদের। তবে হেজ়লউডের চোট থাকায় বিদেশি পেসারের দিকে নজর খাকবে তাদের। পাশাপাশি ভারতীয় ব্যাটারের দিকে নজর রাখবে কোহলিদের দল।

নজরে কারা- লুঙ্গি এনগিডি, আলজারি জোসেফ, তাসকিন আহমেদ, স্পেনসার জনসন, সরফরাজ় খান।

লখনৌ সুপার জায়ান্টস

হাতে কত- ২২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা

ধরে রাখা ক্রিকেটার- ঋষভ পন্থ, আব্দুল সামাদ, এডেন মার্করাম, আকাশ সিংহ, অর্জুন তেন্ডুলকর (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), আর্শিন কুলকর্ণি, আবেশ খান, আয়ুষ বাদোনি, দিগ্বেশ রাঠী, হিম্মত সিংহ, এম সিদ্ধার্থ, ম্যাথু ব্রিৎজ়কে, মায়াঙ্ক যাদব, মহম্মদ শামি (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), মিচেল মার্শ, মহসিন খান, নিকোলাস পুরান, প্রিন্স যাদব ও শাহবাজ় আহমেদ।

জায়গা বাকি- ৬ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ৪ বিদেশি।

জায়গা কোথায়- মিডল অর্ডারে ভাল বিদেশি দরকার লখনউয়ের। বোলিং আক্রমণে ভারতীয়দের আধিক্য রয়েছে। ফলে ভাল বিদেশি পেসারও চাইবেন সঞ্জীব গোয়েন্‌কারা।

নজরে কারা- জেসন হোল্ডার, আলজারি জোসেফ, অনরিখ নোখিয়া, উইয়ান মুল্ডার।

গুজরাত টাইটান্স

হাতে কত- ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা

ধরে রাখা ক্রিকেটার- শুভমন গিল, সাই সুদর্শন, জস বাটলার, ওয়াশিংটন সুন্দর, গ্লেন ফিলিপস, শাহরুখ খান, রাহুল তেওতিয়া, রশিদ খান, সাই কিশোর, কাগিসো রাবাডা, মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, অনুজ রাওয়াত, গুরনুর সিংহ ব্রার, ইশান্ত শর্মা, জয়ন্ত যাদব, কুমার কুশাগ্র, মানব সুথার, আরশাদ খান ও নিশান্ত সিন্ধু।

জায়গা বাকি- ৫ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ৪ বিদেশি।

জায়গা কোথায়-  বেশি ফাঁক না থাকলেও দলে বিদেশির সংখ্যা কম। শারফেন রাদারফোর্ডের মতো মিডল অর্ডারে খেলা বিদেশির বিকল্প নেওয়ার চেষ্টা করবে তারা। বিদেশি পেসারের দিকেও তাদের নজর থাকবে।

নজরে কারা- ডেভিড মিলার, লিয়াম লিভিংস্টোন, কুশল মেন্ডিস, জনি বেয়ারস্টো, ম্যাট হেনরি, অনরিখ নোখিয়া, জেকব ডাফি, অ্যাডাম মিলনে।

রাজস্থান রয়্যালস

হাতে কত- ১৬ কোটি ০৫ লাখ টাকা

ধরে রাখা ক্রিকেটার- বৈভব সূর্যবংশী, যশস্বী জয়সওয়াল, স্যাম কারেন (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), রিয়ান পরাগ, শিমরন হেটমায়ের, ধ্রুব জুরেল, ডোনোভান ফেরেইরা, রবীন্দ্র জাডেজা (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), জফ্রা আর্চার, তুষার দেশপাণ্ডে, সন্দীপ শর্মা, কেওয়ান মাফাকা, লুয়ান ড্রে প্রিটোরিয়াস, নান্দ্রে বার্গার, শুভম দুবে ও যুদ্ধবীর চড়ক।

জায়গা বাকি- ৯ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ১ বিদেশি।

জায়গা কোথায়- মাত্র এক বিদেশিই নিতে পারবে তারা। তবে অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসনকে ছেড়ে দেওয়ায় নতুন অধিনায়ক লাগবে তাদের। সেই জায়গায় দেখা যেতে পারে রিয়ান পরাগকে। ভারতীয় স্পিনার লাগবে তাদের।

নজরে কারা-  রবি বিশ্নোই, রাহুল চহার, বিগ্নেশ পুথুর, সরফরাজ় খান।

দিল্লি ক্যাপিটালস

হাতে কত- ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

ধরে রাখা ক্রিকেটার- অক্ষর পটেল, লোকেশ রাহুল, অভিষেক পোড়েল, নীতীশ রানা, করুণ নায়ার, সমীর রিজ়ভি, ট্রিস্টান স্টাবস, আশুতোষ শর্মা, বিপরাজ নিগম, মিচেল স্টার্ক, কুলদীপ যাদব, মুকেশ কুমার, টি নটরাজন, অজয় মণ্ডল, মাধব তিওয়ারি, ত্রিুপুর্ণ বিজয় ও দুষ্মন্ত চামিরা।

জায়গা বাকি- ৮ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ৫ বিদেশি।

জায়গা কোথায়-  ফাফ ডুপ্লেসি চলে যাওয়ায় টপ অর্ডারে ভাল বিদেশি দরকার। পাশাপাশি মিচেল স্টার্কেরও বিকল্প তৈরি রাখতে হবে তাদের।

নজরে কারা- কুইন্টন ডি’কক, পাথুম নিশঙ্ক, জেমি স্মিথ, জনি বেয়ারস্টো, মাথিশা পাথিরানা, ম্যাট হেনরি ও মুস্তাফিজ়ুর রহমান।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ

হাতে কত- ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

ধরে রাখা ক্রিকেটার- প্যাট কামিন্স, অভিষেক শর্মা, অনিকেত বর্মা, ব্রাইডন কার্স, ইশান মালিঙ্গা, হর্ষ দুবে, হর্ষল পটেল, হাইনরিখ ক্লাসেন, ঈশান কিশন, জয়দেব উনাদকাত, কামিন্দু মেন্ডিস, নীতীশ কুমার রেড্ডি, আর স্মরণ, ট্রেভিস হেড ও জিশান আনসারি।

জায়গা বাকি- ১০ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ২ বিদেশি।

জায়গা কোথায়- ডেথ ওভারে বল করার মতো পেসারের খোঁজ করবে হায়দরাবাদ। পাশাপাশি নীতীশ রেড্ডির ফর্ম খারাপ থাকায় মিডল অর্ডারেও ব্যাটারের দিকে নজর থাকবে তাদের।

নজরে কারা- আকাশদীপ, সরফরাজ় খান, লিয়াম লিভিংস্টোন।

পাঞ্জাব কিংস

হাতে কত- ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

ধরে রাখা ক্রিকেটার-  শ্রেয়স আয়ার, অর্শদীপ সিংহ, আজমাতুল্লা ওমরজাই, হারনুর সিংহ পান্নু, হরপ্রীত ব্রার, লকি ফার্গুসন, মার্কো জানসেন, মার্কাস স্টোইনিস, মিচ ওয়েন, মুশির খান, নেহাল ওয়াধেরা, প্রভসিমরন সিংহ, প্রিয়াংশ আর্য, পি অবিনাশ, শশাঙ্ক সিংহ, সূর্যাংশ শেরগে, বিষ্ণু বিনোদ, বিজয়কুমার বৈশাখ, জ়েভিয়ার বার্টলেট, যশ ঠাকুর ও যুজবেন্দ্র চহল।

জায়গা বাকি-  ৪ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ২ বিদেশি।

জায়গা কোথায়-  সবচেয়ে বেশি ক্রিকেটার ধরে রেখেছে পঞ্জাব। দলে খুব একটা ফাঁক নেই গত বারের ফাইনালিস্টদের। তবে এক বিদেশি উইকেটরক্ষক ও পেসারের দিকে নজর রাখতে পারে তারা।

নজরে কারা-  শাই হোপ, জনি বেয়ারস্টো, ম্যাট হেনরি, অনরিখ নোখিয়া, রাহুল চহার, রবি বিশ্নোই।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স

হাতে কত- ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা

ধরে রাখা ক্রিকেটার- হার্দিক পাণ্ড্য, শার্দূল ঠাকুর (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), শারফেন রাদারফোর্ড (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), মায়াঙ্ক মারকণ্ডে (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), আল্লা গজ়নফর, অশ্বনী কুমার, কর্বিন বশ, দীপক চহার, জসপ্রীত বুমরাহ, মিচেল স্যান্টনার, নমন ধীর, রঘু শর্মা, রোহিত শর্মা, রাজ অঙ্গদ বাওয়া, রবিন মিঞ্জ, রায়ান রিকেলটন, সূর্যকুমার যাদব, তিলক বর্মা, ট্রেন্ট বোল্ট ও উইল জ্যাকস।

জায়গা বাকি- ৫ ক্রিকেটার আর এর মধে ১ বিদেশি।

জায়গা কোথায়-  সবচেয়ে কম টাকা নিয়ে নিলামে নামবে মুম্বাই। ফলে বেশি লড়াই করতে পারবে না তারা। অন্তত এক বিদেশি কেনার চেষ্টা করবে হার্দিকদের দল। রিকেলটন ফর্মে না থাকায় বিকল্প বিদেশি উইকেটরক্ষকের দিকে নজর থাকবে তাদের।

নজরে কারা-  জনি বেয়ারস্টো, কুশল মেন্ডিস, জেমি স্মিথ, টিম সেইফার্ট।




দলে থেকেও মাঠে নামা হলো না নাহিদার, বিসিএল নিয়ে আক্ষেপ

খেলাধুলা ডেস্কঃ মাঠে ফেরার জন‍্য অপেক্ষা বাড়ছে নাহিদা আক্তারের। নারীদের জাতীয় ক্রিকেট লিগের (ডব্লিউএনসিএল) পর বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগেও (ডব্লিউবিসিএল) খেলা হচ্ছে না অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি স্পিনারের।

তবে চোট কাটিয়ে বিসিএল দিয়ে মাঠে ফিরছেন নিগার সুলতানা ও মারুফা আক্তার। চার দল নিয়ে ডব্লিউবিসিএল রাজশাহীতে শুরু হয়েছে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর)। আগামী মাসে নেপালে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতির ভালো সুযোগ এই টুর্নামেন্ট।

চোটের জন‍্য গত নভেম্বরে ডব্লিউএনসিএলে খেলেননি জাতীয় দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও পেসার মারুফা। সেরে ওঠায় সেন্ট্রাল জোনকে নেতৃত্বে আছেন কিপার-ব‍্যাটার নিগার। সাউথ জোনের হয়ে খেলবেন মারুফা। নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ জানিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় নাহিদা এই টুর্নামেন্টেও খেলবেন না।

ভারত সফর বাতিল হওয়ার পর ফাঁকা হয়ে যাওয়া সূচি কাজে লাগাতে এগিয়ে আনা হয়েছে ডব্লিউবিসিএল। নারী বিভাগের ম্যানেজার বুলবুল বাশার জানান, বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন‍্য প্রস্তুতিই তাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, সামনে জানুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। তাই আমরা টি-টোয়েন্টি সংস্করণেই খেলছি। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য মেয়েদের নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেওয়াই উদ্দেশ্য।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন অধিনায়কসহ চারটি দলের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। টুর্নামেন্টে মোট ম‍্যাচ হবে ১২টি। প্রতি দিন হবে দুইটি করে ম্যাচ, পরদিন বিরতি। প্রতিটি দল দুবার করে মুখোমুখি হবে। ২৫ ডিসেম্বর শেষ হবে টুর্নামেন্ট।

রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে সকাল ৯টায়, দ্বিতীয় ম্যাচ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। উদ্বোধনী ম্যাচে সেন্ট্রাল জোনের প্রতিপক্ষ নর্থ জোন। পরের ম‍্যাচে খেলবে সাউথ জোন ও ইস্ট জোন।




সৌদি মঞ্চে চমক: গান গাইতে এসে হিজাবে মার্কিন র‍্যাপার

বিনোদন ডেস্কঃ সম্প্রতি সৌদি ট্যুর করেছেন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডজয়ী মার্কিন র‌্যাপার কার্ডি বি। সফরে তিনি দেশটির ঐতিহ্যবাহী পোশাক হিজাব পরেছেন। পাশাপাশি সৌদি ও সে দেশের মানুষদের নিয়ে প্রশংসার ফুলঝুরি ফুটিয়েছেন তার কথায়।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়।

কার্ডি বি ওই দিন তার ইনস্টাগ্রামে নিজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেটির ক্যাপশনে লেখেন, হ্যালো সৌদি আরব। হালাল বি এসেছে। পাশে সৌদির পতাকার রঙের একটি লাভ ইমোজিও জুড়ে দেন তিনি।

ভিডিওতে দেখা গেছে, কার্ডি বি একটি সম্পূর্ণ কালো, মেঝে-ছোঁয়া পোশাক পরেছিলেন, যার সঙ্গে ছিল উঁচু হল্টার নেকলাইন, লম্বা কালো গ্লাভস এবং তার কাঁধের ওপর একটি ম্যাচিং হুড। পরে রিয়াদের সোলিতায়ার মলে একই পোশাক পরে তাকে দেখতে পান ভক্তরা।

সৌদিতে আসার পরের দিন ইনস্টাগ্রামে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে তিনি জানান, তাকে স্বাগত জানিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ ডেজার্ট পরিবেশন করেছে।

গত শুক্রবার এক লাইভে তিনি সৌদিতে অবস্থান নিয়ে লেখেন, এই দেশটি জাঁকজমকপূর্ণ। আমি আমার হোটেল রুমের ভেতরই জিম পেয়েছি। সৌদি ট্যুরের জন্য প্রস্তুতি নিতে আমি এখানে ব্যায়াম করব।

এ ছাড়া শপিং মলে গিয়ে কিছু কেনাকাটা করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সৌদি আরবে তাকে সবাই চেনে দাবি করে এ সংগীতশিল্পী বলেন, এখানকার ছোট বাচ্চারা আমাকে চেনে। সবাই আমাকে চেনে, বড়রা চেনে। এখানকার মানুষ বেশ শালীন ও ভদ্র। বিশ্বের ভালো মানুষদের মধ্যে তারা অন্যতম।

গত ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন জায়গায় গান পরিবশেন করেন এ র‌্যাপার।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬১তম বার্ষিক গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে ‘ইনভেশন অব প্রাইভেসি’ অ্যালবামের জন্য ‘বেস্ট র‌্যাপ অ্যালবাম’-এর পুরস্কার জেতেন কার্ডি বি।




আমার ছবি তোলাতেই কি মেসি মিস?”—মজার প্রশ্ন শুভশ্রীর

বিনোদন ডেস্কঃ সম্প্রতি আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে কলকাতায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে। এদিন ‘খুদে জাদুকর’কে একনজর দেখতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছেন অনুরাগীরা। এর মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির সঙ্গে অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলির ছবি পোস্ট যেন আগুনে ঘি ঢেলে দেয়! মন্তব্যের ঘরে ক্ষোভ উগরে দেন নেটিজেনদের একাংশ।

এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সমস্ত বিতর্কের জবাব দিলেন শুভশ্রী। পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, G.O.A.T ইভেন্টে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বিনোদন জগতের প্রতিনিধি হিসেবে আমি এবং কৌশিক গাঙ্গুলি সেখানে আমন্ত্রিত ছিলাম।

তার কথায়, আমন্ত্রণ পেয়েই আমরা মেসির হোটেলে যাই। নির্ধারিত সময়ে আমরা মেসির সঙ্গে দেখা করি এবং ছবিও তুলি। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় ওদের পিআর টিমের পক্ষ থেকে আমাকে যুবভারতীতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। বলা হয়, আমি গেলে ওদের সুবিধা হবে। মাঠে আমাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট তাঁবুর ব্যবস্থা ছিল, আমরা সেখানেই অপেক্ষা করছিলাম।

তিনি আরও বলেন, যে সময়ে ছবিগুলো পোস্ট করা হয়েছে, নেটওয়ার্কের সমস্যার জন্য সেই মুহূর্তে তা পোস্ট হয়নি। কারণ, ক্রীড়াঙ্গনে জ্যামার লাগানো ছিল। মেসি ক্রীড়াঙ্গনে ঢোকেন সাড়ে ১১টা নাগাদ। তাকে নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছিল, সেটা আমি নিজের চোখে দেখেছি।

সমালোচনার বিষয়ে নায়িকা বলেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে আমার ছবিগুলো কিছুটা দেরিতে পোস্ট হয়। আর সেটাই দুরন্ত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই আমাকে নিয়ে ট্রোলিং শুরু হয়। আমাকে প্রোপাগান্ডা এবং অবজেক্ট বানিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। কেউ কি বলতে পারবেন যে, আমার ছবি তোলার জন্যই আপনারা মেসিকে দেখতে পাননি? আমি কি মাঠের কোথাও ছিলাম?

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন শুভশ্রীর স্বামী পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। তার অভিযোগ, এসব মন্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার নির্ধারিত সময়েই যুবভারতী স্টেডিয়ামে পৌঁছান মেসি। কিন্তু আয়োজকসহ অন্যান্যদের ভিড়ে এবং ছবি তোলার মাঝে ঢাকা পড়ে যান মেসি। হাসিমুখে গ্যালারির উদ্দেশে হাত নাড়লেও সেটা দেখতে পাননি দর্শক। কারণ কিংবদন্তি ফুটবলারকে ঘিরে রেখেছিলেন অন্তত ৫০ জন। যার জেরে কেউ মাঠে বোতল ছুড়ে, কেউ বা চেয়ার-ব্যারিকেড ভেঙে, পোস্টার পুড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা শুরু করেন।




আকাশ থেকে পতাকা নিয়ে ৫৪ প্যারাট্রুপারের ঐতিহাসিক ফ্রি ফল জাম্প

ডেস্ক নিউজঃ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে উদযাপিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস। এ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় প্যারেড স্কয়ার, তেজগাঁওয়ে বিশেষ ফ্লাই পাস্ট, প্যারাজাম্প এবং এ্যারোবেটিক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। একই সঙ্গে মনোজ্ঞ ব্যান্ড পরিবেশন ও সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। 

ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সশস্ত্র বাহিনীর অর্কেস্ট্রা দল বাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করে। দেশের বিভিন্ন জেলায় সীমিত আকারে ব্যান্ড প্রদর্শন এবং বিমান বাহিনী পরিচালিত ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হয়। ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হয় খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, নাটোর, বগুড়া, চট্টগ্রাম শহর ও ফৌজদারহাট, কক্সবাজার এবং মাতারবাড়ী এলাকায়।

বিজয়ের ৫৪তম বার্ষিকীতে মোট ৫৪ জন প্যারাট্রুপার জাতীয় পতাকাসহ ফ্রি ফল জাম্পের মাধ্যমে আকাশ থেকে ভূমিতে অবতরণ করেন। এতে ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিকুর রহমান এবং ৫৩ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক পতাকাসহ ফ্রি ফল জাম্প, যা Guinness World Records-এ লিপিবদ্ধ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সক্ষমতা প্রদর্শন করছে এবং দেশে-বিদেশে জাতীয় গৌরব ও আত্মপরিচয়ের অনুভূতি জাগাবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনৈতিকবৃন্দ, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানগণ, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাগণ, স্বাধীনতা যুদ্ধের বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারীগণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও বিএনসিসি ক্যাডেটসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি। অনুষ্ঠান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।

এছাড়া বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পাগলা (নারায়ণগঞ্জ) এবং বরিশালসহ বিভিন্ন বিআইডব্লিউটিসি ঘাটে নৌবাহিনীর জাহাজ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। পাশাপাশি সামরিক জাদুঘরসহ অন্যান্য বাহিনীর জাদুঘর বিনা টিকিটে সাধারণ দর্শকদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে।

এ আয়োজন দেশের নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় গৌরব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উজ্জীবিত করেছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সক্ষমতার পরিচয় তুলে ধরেছে।




বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির পক্ষ থেকে মহান বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার পক্ষ থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর বাংলার মানুষ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। শহীদদের আত্মত্যাগ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপরিসীম সাহসিকতা জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। তাঁদের রক্তের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মহান বিজয় দিবস আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশপ্রেমের চেতনায় নতুন করে উজ্জীবিত করে। একই সঙ্গে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারে জাতিকে অনুপ্রাণিত করে এই ঐতিহাসিক দিনটি।

বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা মনে করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে সত্যনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশ ও মানুষের সেবায় কাজ করাই আজকের দিনে সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব ও অঙ্গীকার।

মহান বিজয় দিবসে সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি পুনরায় গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানানো হয়।




বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান বিজয় দিবসের ৫৪ বছর উদযাপনে বীর শহীদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান তিনি।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়।

শ্রদ্ধা জানানোর পর, রাষ্ট্রপতি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সেনা কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন।

এদিন মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

মঙ্গলবার ঢাকা পুরাতন বিমান বন্দর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ০৬টি গান দ্বারা ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদর্শন করা হয়।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যথাযোগ্য মর্যাদা এবং উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।




বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান বিজয় দিবসে বীর শহীদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান তিনি।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধান উপদেষ্টা। এসময় বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়, বিউগলে বাজে করুণ সুর।

শ্রদ্ধা জানানোর পর ড. ইউনূস উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সেনা কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ঢাকা পুরাতন বিমান বন্দর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ০৬টি গান দ্বারা ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদর্শন করা হয়।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যথাযোগ্য মর্যাদা এবং উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।




এবারের বিজয় দিবস হোক জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের বিজয় দিবস হোক জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের বিজয়ের মধ্য দিয়ে উদিত স্বাধীনতার প্রভাত পরবর্তী সময়ে বহুবার কর্তৃত্ববাদ ও কুশাসনের অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা আবারও বৈষম্য, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছি।

ড. ইউনূস বলেন, একটি সুশাসিত ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যে ব্যাপক সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা এখন জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সফল পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। আমি আশা করি, এসব উদ্যোগের ফলে কর্তৃত্ববাদ নির্মূল হবে এবং রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে জনগণকেন্দ্রিক ও টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

১৬ ডিসেম্বর, ‘মহান বিজয় দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৬ ডিসেম্বর—আমাদের মহান বিজয় দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা অর্জন করি বহুল আকাঙ্ক্ষিত বিজয়। অগণিত শহীদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন জাতীয় পরিচয় এবং আমাদের লাল-সবুজের পতাকা। এ মহান উপলক্ষে দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার দীর্ঘ সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি জানাই আমার গভীর শ্রদ্ধা। তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ আমাদের অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর শক্তি জোগায় এবং প্রতিটি সংকট ও সংগ্রামে মুক্তির পথে আমাদের পথনির্দেশ করে।

তিনি বলেন, এই বিজয় দিবস হোক জাতীয় ঐক্যের নতুন আহ্বান। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে যে গণতান্ত্রিক রূপান্তর শুরু হয়েছে, তার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন রক্ষায় যে কোনো মূল্যে আমরা আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করি।

অধ্যাপক ইউনূস নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন যে স্বাধীনতা আমরা অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করেছি, তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধর্ম, জাতিসত্তা কিংবা সম্প্রদায় নির্বিশেষে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে আমরা হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলি।