স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে চারজন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। আলমেরিয়া প্রদেশের লস গ্যালারডোস এলাকার আশপাশে আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত জরুরি উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। দমকল বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, এর আগে তারা এত ভয়াবহ দাবানলের মুখোমুখি হননি।

দাবানলে নিহতদের মরদেহ লস গ্যালারডোসের পাশের ছোট গ্রাম বেদার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ২৩ জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আগুনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে শত শত বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, নিকটবর্তী শহর আন্তাসের মেয়র স্প্যানিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে বাতাসের গতি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠতে পারে।




ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি ইইউ’র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ‘আসক্তি তৈরির ছক’ (অ্যাডিকটিভ ডিজাইন) পরিবর্তনের জন্য মেটাকে নির্দেশ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তা না হলে প্রতিষ্ঠানটিকে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

শুক্রবার মেটাকে এই নির্দেশ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ব্রাসেলস থেকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইইউ’র অভিযোগ, মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা বিশেষ করে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্ম দু’টির ঝুঁকি কমাতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখার জন্য তৈরি।

এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে অবিরাম স্ক্রল (ইনফিনিট স্ক্রল), অত্যন্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিউজ ফিড এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু (অটোপ্লে) হওয়ার ব্যবস্থা।

ইইউ’র প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেনা ভিরক্কুনেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইউরোপের মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।’

অনলাইনে ব্যবহারকারী, বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা জোরদারে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিগ টেক কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

শুক্রবার প্রকাশিত প্রাথমিক মূল্যায়নে ইউরোপীয় কমিশন জানায়, ইইউ’র ডিজিটাল কনটেন্টবিষয়ক বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় মেটাকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ডিজাইনে পরিবর্তন আনতে হবে।




রাঙ্গামাটিতে পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষ, ৬ দিনে শতাধিক পাহাড়ধস

ডেস্ক নিউজ : রাঙ্গামাটিতে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের মাত্রা কিছুটা কমে আসলেও জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। এই জেলায় এখনও প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী। পাশাপাশি গত ৬ দিনে পাহাড়ধসের সংখ্যা মোট ১০৪টি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) থেকে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় প্লাবিত হওয়া গ্রামগুলোর পানি কমেনি। তাছাড়া লংগদু, বিলাইছড়ি, নানিয়ারচর, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। বন্যার পানি ও পাহাড়ধসের কারণে এসব এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ কাটেনি। এরই মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেকে আটকে থাকা সব পর্যটককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে সাজেকে আর কোনো পর্যটক আটকে নেই বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

রাঙ্গামাটি জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা। পাহাড়ি ঢলে এ উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পাহাড় ধসে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক ভেঙে যাওয়ায় বাঘাইছড়ি হতে দীঘিনালা হয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাহাড় ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৪ হাজার জন আশ্রয় নিয়েছেন। পুরো জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অনেকের অভিযোগ, তারা পর্যাপ্ত খাবার ও ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হলেও প্লাবিত এলাকায় নিজ বাড়িতে অবস্থানরত অনেকেই এখনও পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং রাঙ্গামাটির সাংসদ সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি দীপেন দেওয়ানের পক্ষ থেকে কিছু ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

এদিকে এমপি দীপেন দেওয়ান বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে খোঁজ খবর নেন এবং ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এসময় তিনি রাঙ্গামাটিতে বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জরুরি হস্তক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি পোষাতে সরকার জরুরী পদক্ষেপ নিবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবার বাদ পড়বে না।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলায় মোট পাহাড়ধসের সংখ্যা ১০৪টি। যেখানে বিলাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ৩টি, বাঘাইছড়িতে ১৫টি, রাঙ্গামাটি সদরে ১৩টি, নানিয়ারচরে দুটি এবং লংগদুতে ৪টি পাহাড়ধসের ঘটনার বিবরণ লিপিবদ্ধ হয়েছে।

শুক্রবার থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও পাহাড় ধসের ঝুঁকি এবং বন্যা পরিস্থিতির কারণে এখনো জেলার একটি বিশাল জনগোষ্ঠী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমানে মারজান জানান, ভারী বর্ষণ কমায় নতুন করে পানি না বাড়লেও বাঘাইছড়ির নিচু এলাকাগুলো এখনও প্লাবিত রয়েছে। পানিবন্দী পরিবারগুলোকে দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। বিশেষ করে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সম্পূর্ণ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

রাঙ্গামাটিতে কোথাও কোথাও বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও পাহাড় ধস, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দুর্গত মানুষের খাদ্য ও ত্রাণ সংকট—সব মিলিয়ে রাঙ্গামাটির দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি স্থানীয়দের।

সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি প্রস্তুতি নিয়ে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমা আশরাফী বলেন, জেলার বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দুর্গত মানুষের জন্য তিন বেলা খাবার, সুপেয় পানি এবং স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে থাকা নাগরিকরা যাতে নিরাপদ স্থানে বা নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যান, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে।




হালান্ডের ‘মাইন্ড গেম’, জবাব দিল থ্রি লায়ন্সরা

ক্রীড়া ডেস্ক : দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই চমকের পর চমক দেখাচ্ছে নরওয়ে। প্রধান তারকা আর্লিং হালান্ডের অনবদ্য ‘গোলমেশিনে’ ভর করে সবশেষ ম্যাচে তারা বিদায় করেছে শক্তিশালী ব্রাজিলকে। এবার সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের প্রতিপক্ষ অন্যতম ফেভারিট ইংল্যান্ড। গত তিন আসরে দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে ওঠার হাতছানি এখন ‘থ্রি লায়ন্সদের’ সামনে। তবে এই হাইভোল্টেজ মহারণের আগে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখছেন নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন হালান্ড।

শনিবার রাতে মায়ামিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে ‘মাইন্ড গেম’ খেলছেন হালান্ড, এমনটাই দাবি করেছেন ইংলিশ ডিফেন্ডার নিকো ও’রিলি। নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার বলেছিলেন, ‘নরওয়ের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা খুবই কম। চাপ থাকবে ইংল্যান্ডের ওপরে। আমি মনে করি তারা অন্যতম ফেভারিট।’ হেসে সাংবাদিকদের বললেন, ‘আমি মনে করি আপনাদের সবার উচিত সব চাপ ইংল্যান্ডের ওপর দেওয়া।’

ও’রিলি ছাড়াও মার্ক গুয়েহি ও জন স্টোনসের সঙ্গে ম্যানসিটির ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছেন হালান্ড। এবার জাতীয় দলের জার্সিতে তাদের বিপক্ষেই খেলতে হচ্ছে তাকে। লিডসে জন্ম নেওয়া হালান্ড বললেন, ‘এটা বিশেষ ম্যাচ, অবশ্যিই। আমি মনে করি এটা আমার জন্য মহাবিশেষ। কারণ আমি ইংল্যান্ডে খেলি এবং ইংল্যান্ডেই জন্মেছি। এটা মজার খেলা হতে যাচ্ছে এবং দারুণ।’

ইংল্যান্ডের ওপর চাপ দিয়ে হালান্ডের নির্ভার হয়ে থাকা প্রসঙ্গে ও’রিলি বললেন, ‘হ্যাঁ এটা মাইন্ড গেম। কিন্তু তারা ভালো দলও। তারা সেটা পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দেখিয়েছে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে নিয়ে আমাদের চিন্তার প্রয়োজন নেই। তারা দলগতভাবে ভালো এবং এটা হতে যাচ্ছে দারুণ খেলা।’

বিশ্বকাপে অভিষেকেই চার ম্যাচে সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে হালান্ড। মেসি ও এমবাপে আট গোল নিয়ে তার উপরে। ও’রিলি মনে করেন হালান্ডকে দমিয়ে রাখতে পারলে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠতে পারবে। তার কথা, ‘আমরা সবাই জানি সে কেমন। সে গোল করতে পারে। বক্সের মধ্যে বিপজ্জনক। সে সত্যিকারের হুমকি। কিন্তু তাদের প্রথমে তার কাছে বল তো দিতে হবে। আমি মনে করি আর্লিংকে দমিয়ে রাখতে পারলে আমাদের ম্যাচটি জেতার ভালো সুযোগ আছে।’




হারের পর আইসিসি থেকেও শাস্তি পেল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হারের পর এবার আরেকটি ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মন্থর ওভার-রেটের দায়ে পুরো দলকে জরিমানা করেছে আইসিসি।

হারারো স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোলিং কোটা শেষ করতে না পারায় বাংলাদেশ দলের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই ওভার পিছিয়ে ছিল তারা। আইসিসির ম্যাচ রেফারি প্যানেলের সদস্য ডেভিড গিলবার্ট ম্যাচ শেষে এই শাস্তি ঘোষণা করেন।

আইসিসির আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওভার সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে পিছিয়ে থাকা প্রতি ওভারের জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির পাঁচ শতাংশ জরিমানা করা হয়। সেই হিসাবে দুই ওভার পিছিয়ে থাকায় বাংলাদেশ দলকে মোট ১০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ অভিযোগ স্বীকার করে প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নেওয়ায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

এর আগে মাঠের লড়াইয়েও হতাশ করেছে বাংলাদেশ। সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৩ রানে হেরে সিরিজ খুইয়েছে সফরকারীরা। প্রথম ম্যাচেও জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৪১ রানে আটকে রাখার পর ২৫ রানের পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল মিরাজদের।




২০ ঘণ্টা পানির নিচে থেকে নতুন রেকর্ড গড়লেন রাশমিকা

বিনোদন ডেস্ক : ভারতীয় চলচ্চিত্রে এক নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’ খ্যাত অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। তার আগামী সিনেমা ‘মাইসা’-র জন্য বডি ডাবল ছাড়াই টানা ২০ ঘণ্টা পানির নিচে থেকে একটি অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং সম্পন্ন করেছেন। সিনেমার নির্মাতাদের দাবি, এটিই ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে কোনো নারী অভিনেত্রীর প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করা প্রথম ‘আন্ডারওয়াটার’ বা পানির নিচের ফাইট সিকোয়েন্স।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে, পরিচালক রাভিন্দ্রা পুল্লে ইনস্টাগ্রামে শুটিংয়ের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিতে দেখা যায়, ওয়েটস্যুট পরা রাশমিকা ডুবুরিদের সঙ্গে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে দৃশ্য ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং নির্দেশনা শুনছেন।

নির্মাতাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দিনে প্রায় ২০ ঘণ্টা পানির নিচে থেকে দৃশ্যটির শুটিং শেষ করেন রাশমিকা। পুরো দৃশ্যেই তিনি নিজেই অভিনয় করেছেন; কোনো বডি ডাবল বা স্টান্ট ডাবলের সাহায্য নেননি।

আপডেটটি শেয়ার করে নির্মাতারা লিখেছেন, রাশমিকা মান্দানার হাত ধরে ভারতের প্রথম নারীপ্রধান আন্ডারওয়াটার ফাইট সিকোয়েন্সের কাজ শেষ হলো। উপরিভাগ কখনোই আমাদের সীমানা ছিল না। ভারতীয় সিনেমা আগে কখনো দেখেনি, গভীর পানির নিচে এমন এক যুদ্ধের সাক্ষী হতে প্রস্তুত হোন।

তিনি আরও জানান, এই অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং শেষ হয়েছে এবং খুব শিগগিরই সিনেমাটির টিজার প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হবে।

পানির নিচের এই কঠিন ও রোমাঞ্চকর শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও ভাগ করে নিয়েছেন রাশমিকা। এটিকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং কাজ আখ্যা দিয়ে তিনি লেখেন, আমি জানি বেশ কিছুদিন ধরে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলাম না, কারণ আমরা এই কাজটি নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। এটি আমার জীবনে করা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। আমরা হয়তো একটু পাগলামি করেছি, কিন্তু এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত করেছে।

জানা যায়, ‘মাইসা’ পরিচালনা করেছেন রাভিন্দ্রা পুল্লে এবং প্রযোজনা করেছে আনফর্মুলা ফিল্মস। এটি আদিবাসী অঞ্চলের পটভূমিতে নির্মিত একটি ইমোশনাল অ্যাকশন-থ্রিলার। সিনেমাটি রাশমিকার ক্যারিয়ারের প্রথম নারী-কেন্দ্রিক প্যান-ইন্ডিয়ান অ্যাকশন চলচ্চিত্র।

২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে সিনেমাটি। খুব শিগগিরই মুক্তির তারিখ ও টিজার প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্মাতারা।

এদিকে রাশমিকাকে সর্বশেষ দেখা গেছে হিন্দি চলচ্চিত্র ‘ককটেল ২’-এ। হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত সিনেমাটিতে তার সহশিল্পী ছিলেন শহিদ কাপুর ও কৃতি স্যানন। মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও ছবিটি বিশ্বব্যাপী ১৪০ কোটির বেশি রুপি আয় করেছে।




ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু

ডেস্ক নিউজ : আগামী ৭ আগস্ট ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি দৈনিক ফ্লাইট চালুর আগে আজ বৃহস্পতিবার থেকে এ রুটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন এ রুটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এইচএসআইএ) এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

এ দৈনিক ফ্লাইট বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ভ্রমণ, বাণিজ্য ও পর্যটন-সংযোগ আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে রিয়াদ এয়ারের সম্প্রসারিত নেটওয়ার্ক ও কোডশেয়ার অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক সংযোগ নিশ্চিত করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন এ রুট দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বিকাশমান বিমান পরিবহন বাজারগুলোর একটির প্রতি রিয়াদ এয়ারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং বাংলাদেশ-সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, আরএক্স০৭৬৩ ফ্লাইট রিয়াদ থেকে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। ফিরতি আরএক্স০৭৬৪ ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে রিয়াদে অবতরণ করবে।

রিয়াদ এয়ার জানিয়েছে, নতুন এ সেবা ব্যবসা, অবকাশ যাপন ও শিক্ষাসংক্রান্ত ভ্রমণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য রিয়াদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

এয়ারলাইন্সটি আরও জানায়, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাজার এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায় এ রুট তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

যাত্রীরা রিয়াদ এয়ারের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন।

ফ্লাইটগুলো রিয়াদ এয়ারের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে পরিচালিত হবে। উড়োজাহাজে  বিজনেস এলিট, বিজনেস, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি- এই চারটি কেবিন শ্রেণি থাকবে। এতে সর্বাধুনিক ইন-ফ্লাইট বিনোদন ব্যবস্থা, ওয়্যারলেস সংযোগ এবং উন্নত যাত্রীসেবা সুবিধা থাকবে।

সৌদি আরবের নতুন জাতীয় এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ার দেশটির বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের বিকাশ এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত বৃহত্তর বিমান পরিবহন কৌশলের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে।




বন্যা পরিস্থিতি জানাতে পাউবোর ‘কন্ট্রোল রুম’ চালু

ডেস্ক নিউজ : মৌসুমি অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় সৃষ্ট ও সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বুধবার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সরদার উদয় রায়হান স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রে একটি দিবা-রাত্র (২৪ ঘণ্টা) কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে বলে তথ্য দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকার ৭২ গ্রিন রোডের পানি ভবনের (লেভেল: ২, কক্ষ নং: ২১৪) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রে এই কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে দেশের বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্যাদি দেওয়া হবে।

কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগের ফোন নম্বরগুলো হলো- ০১৩১৮-২৩৪৯৬২, ০১৩১৮-২৩৪৯৬৩, ০১৩২১-১৩৯৫৪২ এবং ০১৭০৯-৬৫৪৭৯১। ই-মেইল ffwcbwdb@gmail.com এবং ffwc05@yahoo.com




ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় হামলা, দুই রাতে ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা আরও বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র। টানা দ্বিতীয় রাতের মতো চালানো এই ব্যাপক অভিযানে গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশটির ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। দুই পক্ষের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এটিকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।

বুধবার (৮ জুলাই) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা আরও দুর্বল করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বুধবার রাতেও ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলা অব্যাহত থাকে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগপ্রধান হোসেন কেরমানপোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ৭ ও ৮ জুলাই পাঁচটি প্রদেশে চালানো হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। তার দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা অবস্থাতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় তেহরানের সঙ্গে সংযুক্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান-তেহরান রেল করিডরের কিছু অংশও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বুশেহরের পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনা এগিয়ে নিতে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছিল। তবে সর্বশেষ এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার অভিযোগ তুলে যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে ব্যাপক হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

হামলার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, আগের দিনের জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন, এই অভিযান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেবে না এবং দ্রুত শেষ হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলার সতর্কতা জারি করা হলে দেশটিতে একাধিকবার সাইরেন বেজে ওঠে। একই সময়ে কুয়েত ও কাতারের দিকেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমার দিকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা রয়েছে।




যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত চরমে: সমঝোতা বাতিল নিয়ে কঠোর অবস্থানে ওয়াশিংটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। এমন প্রেক্ষাপটে চলমান এই সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা বাতিলের সিদ্ধান্তে মার্কিন প্রশাসন বেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের আঙ্কারায় ৫৩ ঘণ্টার সফর করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সফর শেষে প্রায় ছয় ঘণ্টা আগে তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন। বুধবার সকালে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব বেশি কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি এখন ‘শেষ’।

অন্যদিকে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ভিন্ন মত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, চলমান এই সংঘাতের মধ্যেও আলোচনা চলতে পারে এবং তা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সাংবাদিক মাইক হান্না জানান, এটা মনে রাখা দরকার যে, এই সংঘাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একচেটিয়া ক্ষমতা কমানোর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন খোদ রিপাবলিকান দলের কিছু সদস্য। তাই চলমান এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই বাধা রয়েছে। এখন যেহেতু আর কোনো যুদ্ধবিরতি নেই, তাই ট্রাম্পের জন্য কংগ্রেস এবং মার্কিন জনগণকে বোঝানো বেশ কঠিন হতে পারে। কারণ, তিনি শুরুতে বলেছিলেন এই যুদ্ধ মাত্র তিন থেকে চার সপ্তাহ স্থায়ী হবে।

তাছাড়া, সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান হামলার ধরন ও পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, ট্রাম্প যেন দ্রুত নিজের বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধ শেষ বলতে পারেন, সেজন্যই তড়িঘড়ি করে এই চুক্তিটি সাজানো হয়েছিল। তাই এই চুক্তির শর্তগুলো নিয়ে যে সংঘাত হবে, তা একরকম নিশ্চিতই ছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে দ্বন্দ্ব অবধারিত ছিল। আর এই হরমুজ প্রণালিই এখন নতুন করে সংঘাত বাড়ার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।