‘ধুরন্ধর’–এ মুগ্ধ হৃতিক, তবে ছবির রাজনীতি নিয়ে স্পষ্ট আপত্তি

বিনোদন ডেস্কঃ বলিউড বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে ‘ধুরন্ধর’। ছবিটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত সাধারণ দর্শক থেকে তারকারাও। এবার ‘ধুরন্ধর’কে প্রশংসায় ভাসালেন হৃতিক রোশন। এরসঙ্গে নিজের দ্বিমতের জায়গাও তুলে ধরলেন অভিনেতা।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ‘ধুরন্ধর’ দেখার অভিজ্ঞতা ভাগ করে হৃতিক লেখেন, আমি সিনেমাকে ভালোবাসি। সেই সব মানুষকে ভালোবাসি, যারা শিখরে পৌঁছেও কাহিনির কাছে নিজেকে সঁপে দেন, যা বলতে চাইছেন, তা পর্দায় ফুটে না ওঠা পর্যন্ত সেই কাহিনিই তাদের চালনা করে। ‘ধুরন্ধর’ তেমনই এক উদাহরণ। গল্প বলার ধরন দারুণ।

ছবিতে যে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে অভিনেতা আরও লেখেন, আমি হয়তো (ছবির) রাজনীতির ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করি। বৈশ্বিক নাগরিক হওয়ার দরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আমাদের কী দায়িত্ব পালন করা উচিত, তা নিয়ে তর্কবিতর্কেও যেতে পারি আমি। কিন্তু সিনেমার শিক্ষার্থীর হিসেবে যা শিখলাম, তা এড়িয়ে যেতে পারি না। অসাধারণ!

‘ধুরন্ধর’ ছবির প্রেক্ষাপট হিসেবে রাখা হয়েছে, ২৬/১১ মুম্বাই হামলা এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সে সময়ের সরকারকে। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের অনুগামী হিসেবে পরিচিত আদিত্য ধরের এই ছবিও ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে দাবি উঠতে শুরু করেছে। সেই আবহেই হৃতিকের এই পোস্ট বিতর্ক আরও উসকে দিল বলে মনে করছেন অনেকে।

আদিত্য ধর এর আগে ‘উরি’, ‘আর্টিকেল ৩৭০’র মতো ছবি বানিয়েছেন। নিজের ছবিতে উগ্র জাতীয়তাবাদ তুলে ধরেন তিনি, এমন সমালোচনাও শোনা গিয়েছে। তবে বিতর্ক সত্ত্বেও বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে ‘ধুরন্ধর’। প্রথম সপ্তাহেই ১০০ কোটি রুপির ব্যবসা করে ছবিটি।




স্কলাস্টিকার বার্ষিক ক্রীড়া প্রদর্শনীতে শিশুর উচ্ছ্বাসে মুখর বনানী—গুলশান : দ্রুততম নারী শিরিন আক্তারের উপস্থিতিতে আয়োজন পেল বাড়তি প্রেরণা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শিক্ষার্থীদের শারীরিক–মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলী ও সুস্থ জীবনধারা গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে স্কলাসটিকা স্কুলের গুলশান ও বনানী শাখা আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশে। বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি মাঠে সকাল থেকেই রঙিন পোশাক আর শিশুদের হাসির কলরবে জমে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।

শিশু শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় নানামুখী প্রতিযোগিতায়—সংগীতের তালে শরীরচর্চা, দৌড়, দলগত প্রদর্শনীসহ নানা আকর্ষণীয় ইভেন্টে। মাঠজুড়ে ছিল শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস, প্রাণবন্ত প্রতিযোগিতা আর অভিভাবকদের উচ্ছ্বসিত করতালি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের ১৬ বার ‘দ্রুততম নারী’ খেতাবজয়ী আন্তর্জাতিক দৌড়বিদ শিরিন আক্তার। তাঁর উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বাড়িয়ে দেয় বাড়তি অনুপ্রেরণা। শিশুদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বগুণ শেখায়—যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে লাগে।

এ ছাড়া উৎসবমুখর এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন স্কলাসটিকা বনানী ও গুলশান জুনিয়র শাখার প্রিন্সিপাল সৈয়দা ফারদাহ্ ফারহানা আলম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সমন্বিত বিকাশে ক্রীড়া অপরিহার্য, আর এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে দলগত চেতনা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে।

পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ক্রীড়া শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দিন, খালেদ হাসান সৌরভ এবং ইভেন্টস প্রধান রেহনুমা ওয়াসিম। তাঁদের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে সুশৃঙ্খল, আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয় অনুষ্ঠানটির প্রতিটি ধাপ।

অতিথি, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও ম্যানেজমেন্ট সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে স্কলাসটিকার এ বছরের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পরিণত হয় এক প্রাণোচ্ছল মিলনমেলায়—যা সবার জন্য রেখে যায় স্মরণীয় এক দিন।




দেশের বাজারে বিক্রি শুরু অপো এ৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৯০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি সহ স্মার্টফোন অপো এ৬-এর (৮ জিবি + ১২৮ জিবি) বিক্রি শুরু করলো অপো। ক্লাস থেকে শুরু করে শেষরাতের পড়াশোনা, ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা, কনটেন্ট তৈরি বা লাগাতার স্ক্রলিং করা যাই হোক না কেন, ডিভাইসটি আপনার সবধরনের উদ্দেশ্য পূরণেই সহায়ক হবে। ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের সুবিশাল ব্যাটারি, ইন্ডাস্ট্রির সেরা আইপি৬৯ প্রোটেকশন ও অপোর আপগ্রেডেড সুপারকুল ভিসি সিস্টেম সহ এই এ৬ ডিভাইসটি জীবনে নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা নিশ্চিতেই নিয়ে আসা হয়েছে।
শত ব্যস্ততার মাঝে চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার ক্রমাগত দুশ্চিন্তা থেকে ব্যবহারকারীকে নিশ্চিন্ত রাখতে এ৬-এ সুবিশাল ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি নিয়ে আসা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত চার্জ হওয়া নিশ্চিত করতে এতে ৪৫ ওয়াট সুপারভুক ফাস্ট চার্জিং নিশ্চিত করা হয়েছে, যেন ডিভাইসটি দ্রুত কাজ করার উপযোগী হতে পারে। ডিভাইসটির রিভার্স ওয়্যারড চার্জিং ছোট ডিভাইস চার্জ করার ক্ষেত্রে আলাদা স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে।
এ৬-এর এই ডিউরেবিলিটিকে আরও সক্ষম করে তুলেছে এর আইপি৬৯ ওয়াটার অ্যান্ড ডাস্ট রেজিজট্যান্স। যা ক্যাম্পাসে হঠাৎ বৃষ্টির কবলে পড়া, ছিটে আসা পানি বা ভ্রমণ ও খেলার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পানি পড়ার হাত থেকে ফোনটিকে সুরক্ষিত রাখে। সহনশীলতার এই অনন্য পর্যায় যেকোনো পরিবেশে ব্যবহারকারীকে আত্মবিশ্বাসী রাখে, বাস্তব জীবনের অনেক অজানা আশঙ্কা থেকে ডিভাইসটিকে নিরাপদ রাখে।
ভারি মাল্টিটাস্কিংয়ের সময় ফোনের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে অপো এ৬-এ ব্যবহার করা হয়েছে সুপারকুল ভিসি সিস্টেম, যা অনলাইন ক্লাস, নোট, ক্যামেরা, গেমস বা বিনোদনের সময় বারবার স্ক্রিন পরিবর্তন করলেও ডিভাইসের তাপমাত্রা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখে। একইসাথে, এর স্ন্যাপড্রাগন৬৮৫ প্রসেসর ও অপোর ৬০ মাসের ফ্লুয়েন্সি সার্টিফিকেশন ফোনটির দীর্ঘমেয়াদী স্ট্যাবিলিটি ধরে রাখে। ফোনটির গতি না কমিয়ে একে পুরো সেমিস্টার জুড়ে একইরকম কার্যকর ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সহায়তা করে।
ডিভাইসটির ৬.৭৫ ইঞ্চি ১২০ হার্জ আলট্রা ব্রাইট ডিসপ্লে বাইরের প্রখর সূর্যালোক বা ইনডোরে দীর্ঘ পড়াশোনা, যাই হোক না কেন, দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে। এর ৫০ মেগাপিক্সেল আলট্রা-ক্লিয়ার ক্যামেরা ক্যাম্পাস বা ভ্রমণের স্মৃতি ও ছবি নিখুঁত ও ঝকঝকেভাবে ধারণ করে। একইসাথে, এর ৩০০% আলট্রা ভলিউম মোড সহ ডুয়েল স্টেরিও স্পিকার গ্রুপ সেশনে অংশ নেয়া, টিউটোরিয়াল বা আউটডোর গেদারিংয়ের উপযোগী লাউড ও ভাইব্রেন্ট সাউন্ড নিশ্চিত করে। ডিভাইসটির এআই লিঙ্কবুস্ট ৩.০ জনবহুল এলাকাতেও শক্তিশালী কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করে; এর এআই গেমবুস্ট ২.০ গেম ব্রেকের সময় রেসপনসিভনেস আরও সমৃদ্ধ করে।
এই উদ্দীপনা আরও বাড়াতে যারা ও’ ফ্যানস ফেস্টিভালের সময় ফোনটি কিনছেন তাদের জন্য ও’ ফ্যানস ফেস্টিভাল লটারি অফারে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে। পাশাপাশি, আরও থাকছে মিলিয়ন টাকা ড্রিম ট্রিপ, বাই ওয়ান গেট ওয়ান, অপো এনকো বাডস৩ প্রো, অপো ওয়াচ এক্স২, রুম হিটার সহ সকল অংশগ্রহণকারীর জন্য নিশ্চিত উপহার উইন্টার হুডি। এবার, অপো এ৬ কেবল উদযাপনের উপলক্ষ হয়ে আসেনি; বরং, দেশের তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য অনবদ্য পছন্দ হিসেবে এসেছে।
এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেমন ইয়ং বলেন, “সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত স্মার্টফোন নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহার করে সচল ও এর ওপর নির্ভরশীল থাকতে অপো এ৬ (৮ জিবি + ১২৮ জিবি) নিয়ে আসা হয়েছে। এর সুবিশাল ব্যাটারি, মানসম্পন্ন সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদী ফ্লুয়েন্সি দিনভর পারফরম্যান্স একইরকম রাখবে, এমনকি ব্যস্ততম দিনেও আপনাকে নিশ্চিন্ত রাখবে।”
অরোরা গোল্ড ও স্যাফায়ার ব্লু এই দুইটি প্রাণবন্ত রঙে নিয়ে আসা অপো এ৬ (৮ জিবি + ১২৮ জিবি) এখন দেশজুড়ে সকল অনুমোদিত অপো স্টোর ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৬,৯৯০ টাকায়। অপো এ৬ ডিভাইস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে অপো বাংলাদেশের ওয়েবসাইট https://www.oppo.com/bd/smartphones/series-a/a6/ অথবা, অপোর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/OPPOBangladesh  ভিজিট করুন।



আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন

তাহমিনা সুলতানাঃ  আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস ২০২৫ উপলক্ষে ১০ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। “মানবাধিকার সংরক্ষণ বজায় রাখতে আমরা অধিকার বন্ধ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গুম, হত্যা, ধর্ষণ, নারীনির্যাতন এবং সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক সামাজিক মানবাধিকার তদবির সংস্থা। ব্যানারে সংগঠনের পক্ষ থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে নাগরিক সমাজ ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর আরও জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন। তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় বিচারহীনতা ও সহিংসতার ঘটনা বেড়ে চলেছে, যা থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।



ভবিষ্যতে ব্যবসা করতে হলে সবাইকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হবে: এনবিআর চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশে এখনো বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে—এ কথা উল্লেখ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, সামনে এমন সময় আসবে যখন কেউ চাইলে ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়া কোনো ধরনের ব্যবসা চালাতে পারবেন না। তিনি জানান, ধীরে ধীরে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ লাখ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ১০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে বিশেষ নিবন্ধন অভিযান চলবে, যেখানে লক্ষ্য রাখা হয়েছে কমপক্ষে এক লাখ নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা। বর্তমানে দেশে মোট ৬ লাখ ৪৪ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধিত আছে।

তিনি আরও জানান, ভ্যাট দেওয়ার ঝামেলা কমাতে “এক ক্লিকেই ভ্যাট পরিশোধ” ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা হবে। কিছু বড় প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই এই সুবিধা ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচবে।

ই-রিটার্ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ২২ লাখ ই-রিটার্ন জমা পড়েছে এবং বছর শেষে ৪০ লাখে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ব্যাংক–সংক্রান্ত চারটি তথ্য দিতে হয়, যার কারণে করদাতাদের ব্যাংকে যেতে হয়। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা হবে যাতে মানুষকে আর বাড়তি ঝামেলায় পড়তে না হয়। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, অনেকের ধারণা রাজস্ব কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত ব্যাংক তথ্য দেখতে পারেন—কিন্তু বাস্তবে সেটা সম্ভব নয়।

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, যারা নিয়ম মানছে তাদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা হবে না। যারা নিয়ম ভেঙে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে, শুধুমাত্র তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখা হবে।

এই বছর ভ্যাট পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি জানান। পুরস্কারের নীতিমালা পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং কাজ শেষ হলে পুনরায় পুরস্কার কার্যক্রম চালু হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সদস্য (মূসক নীতি) মো. আজিজুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।




সরকারি গৃহঋণে জটিলতা: অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ব্যাংকের আচরণে বিস্ময়

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সম্পূর্ণ ঘটনাটি শুরু হয় যখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মফিজ উদ্দীন আহমেদ রূপালী ব্যাংক থেকে ২০২২ সালের মে মাসে ৭৫ লাখ টাকার গৃহঋণ নেন। নিয়ম অনুযায়ী তাঁর ২০ বছর ধরে ২৪১ কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। তিনি নিজের সঞ্চয় যোগ করে ঢাকায় প্রায় দেড় কোটি টাকায় একটি ফ্ল্যাটও কেনেন এবং ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে নিয়মিত কিস্তি দিতেও থাকেন। এক বছরের অবসর-উত্তর ছুটি শেষে ২০২৪ সালের ১ জুলাই তিনি অবসর নেন, কিন্তু অবসরের মাত্র দুই মাস পরই ব্যাংক থেকে অস্বাভাবিক চাপের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর রূপালী ব্যাংকের করপোরেট শাখা তাঁকে হাজির হতে বলে এবং সেখানে গিয়ে তিনি একটি চিঠি পান। চিঠিতে জানানো হয়, তাঁকে হঠাৎ করেই ৪৭ লাখ টাকা একবারেই পরিশোধ করতে হবে, বাকি অংশ কিস্তিতে দেওয়া যাবে। অথচ তিনি তো নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছিলেন! এই আচরণ তাঁর কাছে পুরোপুরি অযৌক্তিক মনে হয়। বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে অর্থ বিভাগকে জানান, এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়—ব্যাংকের এই দাবি সরকারি গৃহনির্মাণ ঋণের নীতিমালা-২০১৮–এর সঙ্গে একদমই যায় না। নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, অবসরের পর কিস্তি বকেয়া থাকলেও গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে কিস্তি পুনর্গঠন করা যাবে, কিন্তু এককালীন চাপ দেওয়া যাবে না।

ঘটনা এখানেই থামেনি। ২৬ অক্টোবর নিজের এলাকার একটি শাখা থেকে নিজের জমা টাকার অর্ধেক তুলতে গেলে তাঁর চেক প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ব্যাংক হিসাব ‘ওপরের নির্দেশে’ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অথচ কোনো সরকারি অনুমতি ছাড়া ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নিয়ম নেই—এটি স্পষ্টভাবে নীতিবহির্ভূত। পরে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়—একজন নিয়মিত কিস্তি দেওয়া গ্রাহকের সঙ্গে এমন অদ্ভুত আচরণ কেন হলো?

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে শুধুমাত্র রূপালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে নয়। সরকারি কর্মচারীরা জানাচ্ছেন, যেসব ব্যাংক গৃহঋণ কার্যক্রমে যুক্ত—তার মধ্যে অনেক ব্যাংকই এখন গ্রাহকদের নানা রকম অজুহাত দেখিয়ে হয়রানি করছে। কারণ সাধারণ ঋণের সুদের হার বাড়ায় ব্যাংকগুলো এখন ভালো মুনাফা ধরে রাখতে ব্যস্ত, আর সরকারি গৃহঋণে সুদের হার মাত্র ৪ শতাংশ হওয়ায় এ ঋণ দিতে অনীহা দেখা যাচ্ছে। ফলে নানা সীমাবদ্ধতার কথা বলে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের চাপের মুখে ফেলছে।

এ অবস্থায় অর্থ বিভাগ ১১ নভেম্বর ১২টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়—গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া পুনঃতফসিল করা যাবে না, অবসরের পর কোনো বাড়তি চাপ দেওয়া যাবে না, এবং কোনো অস্পষ্টতা হলে তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। আরও বলা হয়, গৃহঋণের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট বা বাড়ির দলিল থাকে, তাই ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ নয়; ফলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ওপর অযাচিত চাপ দেওয়া অনুচিত।

এর মধ্যে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে চালু হওয়া সরকারি গৃহনির্মাণ ঋণ নীতিমালার আওতায় এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ১৯৪ জনের নামে ঋণ অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৩০ জন চূড়ান্তভাবে ভর্তুকি পেয়েছেন। সরকার ইতোমধ্যে ১৮৩ কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকি দিয়েছে।

পুরো ঘটনায় মফিজ উদ্দীন আহমেদ শুধু জানান, অর্থ বিভাগ ও ব্যাংক এখন বিষয়টি সমাধানের পথে এনেছে। তবে এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—সরকারি কর্মচারীদের গৃহঋণ ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব জরুরি প্রয়োজন।




বেনাপোলে আমদানিকারকদের ভোগান্তি বাড়ছে—দুর্নীতির অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে নিয়ে ক্ষোভ

এসএম বদরুল আলমঃ বেনাপোল স্থলবন্দর ঘিরে আমদানিকারকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি—কাস্টমসের শুল্কায়ন গ্রুপ-২ (এ)-এর রাজস্ব কর্মকর্তা সনজু মিয়া এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নাসিব আরিফিন নিয়মিত ঘুষ দাবি করেন এবং নানা অজুহাতে তাদের হয়রানি করেন। তাদের কথায়, এই দুই কর্মকর্তা নাকি প্রভাবশালী পরিচয় দেখিয়ে বন্দরজুড়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছেন যেখানে ঘুষ ছাড়া কোনো চালান এগোয় না।

অনেক আমদানিকারক অভিযোগ করেন, সনজু মিয়ার টেবিলে ফাইল উঠলেই স্বাক্ষর থেকে শুরু করে মূল্যায়ন—সবকিছুর জন্য আলাদা করে টাকা চাইতে দেখা যায়। কেউ টাকা দিতে না চাইলে চালান নাকি আটকে রাখা হয়, আবার কখনও পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, প্রয়োজন না থাকলেও পণ্য ঢাকা বুয়েটে পরীক্ষার নামে পাঠিয়ে দেয়া হয়, এতে সময় নষ্ট হয় এবং ব্যয়ও বাড়ে। এসব কারণে শিল্পকারখানার কাঁচামাল ছাড় করানো কঠিন হয়ে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন ও সরকারের রাজস্ব আদায়ে।

কিছু ব্যবসায়ী জানান, এই পরিস্থিতি চলতে থাকায় অনেকেই এখন বেনাপোল এড়িয়ে অন্য বন্দরে পণ্য ছাড় করছেন। এতে স্থানীয় শ্রমিক, পরিবহন মালিক এবং বন্দরনির্ভর ব্যবসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একজন আমদানিকারক দিদারুল ইসলাম বলেন, সনজু মিয়া যোগদানের পর থেকেই ঘুষ দাবির ঘটনা বেড়েছে। তার ভাষায়—টাকা না দিলে মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া বা টেস্টে পাঠানোর ভয় দেখানো এখন নিয়মিত বিষয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এভাবে ঘুষের মাধ্যমে সনজু মিয়া নামে-বেনামে সম্পদ বাড়িয়েছেন। অনেকেই মনে করেন, সঠিকভাবে তদন্ত হলে তার আয়ের সঙ্গে সম্পদের তুলনা মিলিয়ে দেখা সম্ভব হবে। আবার কেউ অভিযোগ করেন—কোনো আপত্তি তুললে লাইসেন্স বাতিল থেকে ফাইল স্থগিত করা পর্যন্ত নানারকম ভয়ভীতি দেখানো হয়, ফলে অনেকে মুখ খুলতে চান না।

অন্যদিকে, সনজু মিয়া এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তার বক্তব্য—এসব তথ্য ভিত্তিহীন। তবে কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এর আগেও বেনাপোলে দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছিল। চলতি বছর অক্টোবর মাসে রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার ঘুষের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। তার সহযোগী হাসিবুর রহমানকে আরও আগে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এসব ঘটনার পর বেনাপোল কাস্টমসের সচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আবারও জোরালো হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়, তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি এবং সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তাদের দাবি—সরকার চাইলে দ্রুত তদন্ত করে এই অনিয়ম বন্ধ করতে পারে এবং বন্দরকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে।




শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঢাকার সকাল

আবহাওয়া ডেস্কঃ সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকায় শীতের উপস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর তাপমাত্রা হঠাৎ কমে ১৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে, যা সকাল ৬টায় রেকর্ড হওয়া চলতি সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। 

ভোর থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কম-বেশি কুয়াশা দেখা যাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জন্য আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনের বাকি সময় আকাশ প্রধানত পরিষ্কার থাকবে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। উত্তর/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে হালকা বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। 

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯০ শতাংশ। এদিকে, আজ সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ বিরাজ করতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ১২ মিনিটে, আর আগামীকাল সূর্যোদয় সকাল ৬টা ৩২ মিনিটে হওয়ার কথা রয়েছে।




২১ ঘণ্টা পরও উদ্ধার হয়নি শিশু স্বাধীন, চলছে টানা অভিযান

ডেস্ক নিউজঃ রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের একটি পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে গেছে দুই বছরের শিশু স্বাধীন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের একটি জমিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গর্তটির গভীরতা প্রায় ৩৫ ফুট। ঘটনার ২১ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট টানা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফায়ার সার্ভিস জানায়, তখনও শিশুটি জীবিত ছিল। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

এদিকে রাতভর ও ভোর থেকে এলাকাবাসীর ভিড় বাড়ছে উদ্ধারস্থলে। সবার মুখে একটাই আশার কথা—শিশুটি যেন জীবিত ফিরে আসে। স্থানীয় প্রশাসন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস টিম—সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে গর্তের প্রায় ২৫ ফুট পর্যন্ত খনন করা হয়েছে; আরও প্রায় ১০ ফুট খনন কাজ সম্পন্ন হলে শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুটির নাম স্বাধীন (২)। তার বাবা রাকিব উদ্দীন একই গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও জালাল উদ্দীন জানান, দুপুরের দিকে জমিতে আটকে যাওয়া একটি ট্রলি দেখতে রাকিব ও তার স্ত্রী তাদের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে যান। এ সময় স্বাধীন মায়ের কোলে থেকে নেমে হাঁটছিল। হঠাৎ পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের খোলা গর্তে পড়ে যায় সে।

তারা আরও বলেন, শিশুটির মা-বাবা নিজ উদ্যোগে উঠানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় লোকজনও তাদের সহযোগিতা করছে।

শিশুটির মা রুনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ট্রলিটার দিকে তাকাতে গিয়েছিলাম। আমার বাচ্চা কোল থেকে নেমে পড়ে যায়। গর্তের ভেতর থেকে ‘মা, মা’ বলে কান্নার শব্দ শুনেছি। আমি তাকে খুঁজছি, কিন্তু দেখতে পাচ্ছি না। আল্লাহ, আমার ছেলেকে আমাকে ফিরিয়ে দাও।” এতটুকু বলতে বলতেই তিনি ভেঙে পড়েন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নলকূপের মালিক তাহের দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ডিপের পাইপটি মুখ খোলা অবস্থায় রেখেছিলেন। কোনো সতর্কতামূলক চিহ্ন না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তানোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আব্দুল রউফ বলেন, বাচ্চাটি উদ্ধারের জন্য ৫ ঘণ্টা ধরে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আল্লাহ সহায় হলে বাচ্চাটি জীবিত উদ্ধার করা যাবে। ২১ ঘন্ট হলো উদ্ধার কাজ চলছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে একটি টিম নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়াও রাজশাহী থেকেও এসেছে এই উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা জন্য। এখন দেখা যাক শিশুটি জীবিত আছে কি না!

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। সবাই দোয়া করুন, বাচ্চাটি যেন উদ্ধার হয়ে মায়ের কোলে ফিরে যেতে পারে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।




মধ্যরাতে ৫ মিনিটের ব্যবধানে সিলেটে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত

ডেস্ক নিউজঃ মধ্যরাতে সিলেটে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র নিশ্চিত করেছে।  

ভারতের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, প্রথম ভূকম্পনটি বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ২টা ৫০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে অনুভূত হয় এবং এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৫। এর পরপরই রাত ২টা ৫৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে আবারও কেঁপে ওঠে সিলেট এবং পরেরটির মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩।

উভয় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পের কেন্দ্রের অবস্থান ছিল ২৪ দশমিক ৮৩০; ৯২ দশমিক ১৮০ এবং এর গভীরতা ছিল ২০ কিলোমিটার। অন্যদিকে, দ্বিতীয়টির অবস্থান ছিল ২৪ দশমিক ৭৯০; ৯২ দশমিক ২১০ এবং এর গভীরতা ছিল ৩০ কিলোমিটার।

এর আগে, প্রায় রাত ২টা ৫৪ মিনিট ৩ সেকেন্ডে মিয়ানমারে ৩ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের উত্তর মান্দালয় থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে।