পুরানের অভিনব কৌশল‘নন-স্টাম্পিং’ দেখে অবাক ক্রিকেট বিশ্ব

খেলাধুলা ডেস্কঃ আবুধাবিতে আইএলটি২০’র ম্যাচে ১ রানের ব্যবধানে এমআই এমিরেটসেকে হারিয়েছে ভাইপার্স। তবে ক্রিকেট বিশ্ব আলোচনায় এসেছে নিকোলাস পুরানের এক অদ্ভুত সিদ্ধান্তকে ঘিরে।

ম্যাচের ১৬তম ওভারে, রশিদ খানের বলে ম্যাক্স হোল্ডেন মারতে গিয়ে পুরোপুরি মিস করেন। স্পষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ম্যাক্স হোল্ডেনকে স্টাম্প না করা—এটাই ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত। পরে ভাইপার্স তাকে রিটায়ার্ড আউট ঘোষণা করলে বিষয়টি আরও আগুন ধরায় ক্রিকেটমহলে।

টি-টোয়েন্টিতে কৌশলগত কারণে ব্যাটারকে রিটায়ার্ড আউট করা বৈধ। একইভাবে ব্যাটার বের হলে স্টাম্পিং বাধ্যতামূলক নয়। ফলে পুরানের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আইনি।

এদিকে, ভাইপার্স শেষ ৪ ওভারে ৪১ রান তুলে ১৫৯/৪ এ পৌঁছায়। এমআই এমিরেটস ১৫৮/৯ এ থামে। সামাজিক মাধ্যমে কিছু সমর্থক ‘ফিক্সিং’–এর অভিযোগ তুললেও, ক্রিকেটবিশ্বে এটিকে ‘ট্যাকটিকাল নন-স্টাম্পিং’ হিসেবে প্রশংসা করা হচ্ছে।

পুরানের কৌশল একটি উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছে, কীভাবে আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কৌশলগত সিদ্ধান্ত ম্যাচ ঘোরাতে পারে।




বার্নাব্যুতে মহারণ: আজ রাতেই রিয়াল–সিটির মর্যাদার লড়াই

খেলাধুলা ডেস্কঃ চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ বনাম ম্যানচেস্টার সিটি, এ ম্যাচ এখন প্রায় ঋতুভিত্তিক এক উৎসবের নাম। ২০১২-১৩ মৌসুমে প্রথম সাক্ষাতের পর থেকে ইউরোপিয়ান ফুটবলের আর কোনো দুই দল এতবার মুখোমুখি হয়নি। আজ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হতে যাচ্ছে তাদের ১৫তম দ্বৈরথ।

তবে এবারের লড়াইটিকে বিশেষ করে তুলেছে আরও কয়েকটি কারণ। প্রথমবারের মতো একে-অপরের বিপক্ষে ডাগআউটে দাঁড়াবেন ম্যানচেস্টার সিটির পেপ গার্দিওলা ও রিয়াল মাদ্রিদের জাবি আলোনসো। বায়ার্ন মিউনিখে গার্দিওলার অধীনে খেলা আলোনসোর কাছে এই সাক্ষাৎ তাই নিঃসন্দেহে অন্যরকম অনুভূতির।

আজকের ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে কিলিয়ান এমবাপ্পে বনাম আর্লিং হলান্ডের লড়াই। বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দুই ফরোয়ার্ডের এটি চ্যাম্পিয়নস লিগে তৃতীয় মুখোমুখি।

২০২০ সালে প্রথম দেখা হয়েছিল ডর্টমুন্ড-পিএসজি ম্যাচে; সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন হলান্ড। গত মৌসুমে আবারও মুখোমুখি হন দুজন, তখন এমবাপ্পে দুই লেগ মিলিয়ে ৪ গোল করলেও হলান্ড করেছিলেন ২ গোল।

মজার ব্যাপার হলো, এ লড়াই এখানেই শেষ নয়। আগামী ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবরোতে বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও নরওয়ে। ফলে আজকের লড়াই যেন সেই বড় ম্যাচেরই এক ঝলক।

এ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন এমবাপ্পে। ৫ ম্যাচে তাঁর গোল ৯টি। গত মাসে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে করেছিলেন একাই ৪ গোল।

অন্যদিকে হলান্ডের গোল ৫ ম্যাচে ৫টি। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সিটির হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ইতিমধ্যে ২০। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে তাঁর চেয়ে বেশি গোল কেবল হ্যারি কেইন (২৮) ও এমবাপ্পের (২৫)।




ছবি পোস্ট করতেই বিতর্ক ফের ঘনীভূত, চর্চায় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী

বিনোদন ডেস্কঃ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই সমালোচনায় খোরাক হন জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। এবার আরও একবার কটাক্ষের শিকার হলেন নায়িকা। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে বাথটাবে লাস্যময়ী ভঙ্গিমার একটি ছবি পোস্ট করে ফের নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি।

শ্রাবন্তী তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ছবিটি শেয়ার করেছেন, যেখানে তাকে দেখা যাচ্ছে সাবানের ফেনাভর্তি বাথটাবে। ছবিতে সোনালি রঙের বিকিনিতে আবৃত নায়িকার মুখে লেগে রয়েছে চেনা হাসি। চোখে আবেশের রেশ, যা তার অনুরাগী মহলে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে শ্রাবন্তী লিখেছেন, নিজেকে সিক্ত করতে থাকুন।

ছবিটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অসংখ্য অনুরাগী ভালোবাসা প্রকাশ করে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, অসাধারণ দুটি চোখের চাহনি। আরেকজন মন্তব্য করেন, ওয়াও, দারুণ! তবে প্রশংসার পাশাপাশি তীব্র কটাক্ষের শিকারও হয়েছেন অভিনেত্রী।

খোঁচা মেরে একজনের মন্তব্য, বুড়ি হয়ে আর কত রং দেখাবে। ঠাট্টার সুরে আরেকজন প্রশ্ন তুলেছেন, ঠান্ডায় কত স্নান করো তা দেখাতে চাইছো? অন্যদিকে, অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেকে সহানুভূতি জানালেও, কেউ কেউ তির্যক মন্তব্য করতে ছাড়েননি।

যদিও এসব বিষয় নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামান না শ্রাবন্তী। বরং ব্যক্তিজীবনের সমালোচনা এড়িয়ে পেশাগত জীবনে বেশ সফলই বলা চলে তাকে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের দুর্গাপূজায় মুক্তি পেয়েছে শ্রাবন্তী অভিনীত আলোচিত ছবি ‘দেবী চৌধুরানী’। ছবিটিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দর্শনা বণিক, অর্জুন চক্রবর্তী, কিঞ্জল নন্দা ও সব্যসাচী চক্রবর্তী প্রমুখ।




‘দ্য তাজ স্টোরি’ কি রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা? তাজমহলকে ঘিরে নতুন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

বিনোদন ডেস্কঃ মুঘল সম্রাট শাহজাহান ও মমতাজের প্রেমের স্মৃতি তাজমহলকে ঘিরে হঠাৎ নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বলিউড পরিচালক তুষার গোয়েল নির্মিত দ্য তাজ স্টোরি সিনেমাটিই সেই বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছে। সিনেমাটিতে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত প্রেমের স্মৃতিস্তম্ভের সরকারিভাবে স্বীকৃত ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

একটি দৃশ্যে দেখানো হয়েছে, তাজমহল আসলে মুসলিম সমাধি নয়, বরং একটি হিন্দু প্রাসাদ যা পরে মুঘল শাসকেরা দখল করে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করেছিলেন। যদিও এই দাবির কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই এবং অতীতেও ইতিহাসবিদরা এমন তত্ত্বকে একাধিকবার খণ্ডন করেছেন।

সিনেমায় তাজমহলের ট্যুর গাইড চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিশু দাস অর্থাৎ পরেশ রাওয়াল। সিনেমাটিতে তার মুখ দিয়ে বলা হয়েছে, এতদিন যেকোনো পর্যটককে তাজমহলের যে গল্প শোনানো হয়েছে, তা নাকি মিথ্যে হতে পারে এবং তাজমহলের ডিএনএ পরীক্ষা করা উচিত। দৃশ্যটি শেষ হয় এই সিদ্ধান্তে যে তারা ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বলিউডে এর আগে দ্য কাশ্মির ফাইলস এবং দ্য কেরালা স্টোরি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল এবং কয়েকটি রাজ্যে সিনেমা দুটো নিষিদ্ধও করা হয়।

সমালোচকদের অভিযোগ, দ্য তাজ স্টোরি সিনেমার উদ্দেশ্য ভারতের প্রায় ২০ কোটি মুসলিমকে হেয় করা এবং মুসলিমদের ইতিহাসকে বিকৃত করে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের আধিপত্যপূর্ণ অতীত রচনার প্রচেষ্টা। তাদের দাবি, এসব চলচ্চিত্র ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির মতাদর্শের সঙ্গে মিলে যায়।

এই দলটির বিরুদ্ধে ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পরেশ রাওয়াল নিজেও বিজেপির সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। যদিও পরিচালক তুষার গোয়েল দাবি করেছেন, সিনেমাটি কোনো রাজনৈতিক অর্থায়নে নির্মিত হয়নি।

ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের বহু গবেষণা বলছে, সিনেমাটির কাহিনি ইতিহাসসম্মত নয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সিনেমাটিকে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের কোলাজ বলে মন্তব্য করেছে। অন্যদিকে দ্য উইক লিখেছে, এটি না ভালো সিনেমা, না ঠিকঠাক প্রোপাগান্ডা। সিনেমাটি শুরু হয় দুই মিনিটের ডিসক্লেইমার দিয়ে যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। যদিও পোস্টারে তাজমহলের ভেতর থেকে শিবের ছবি উঠে আসতে দেখা যায়, যা আরও বিতর্ক তৈরি করেছে।

১৩ লাখ ডলার বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি বক্স অফিসে খুব বেশি সাড়া ফেলতে পারেনি এবং প্রায় ২০ লাখ ডলার আয় করেছে। তবে বিজেপির কিছু নেতার কাছ থেকে সিনেমাটি সমর্থন পেয়েছে। তারা বলছেন সত্য আর চাপা রাখা যাবে না। দর্শকদের একাংশও দাবি করেছেন তাদের এতদিন ভুল ইতিহাস শেখানো হয়েছে।

তাজমহলকে কেন্দ্র করে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৭ সালে উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকারের একটি পর্যটন বুকলেটে তাজমহলকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে বিজেপির এক রাজনীতিবিদ আদালতে আবেদন করেন তাজমহলের ভেতরের সিল করা ২২টি কক্ষ খুলে দেখতে। তিনি দাবি করেন সেখানে হিন্দু মন্দিরের প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে। এই দাবি ছিল পিএন ওকের প্রচারিত ১৯৮০ দশকের তেজো মহালয়া তত্ত্বের পুনরাবৃত্তি, যার কোনো প্রমাণ নেই এবং যা প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ বহু বছরের গবেষণায় খণ্ডন করেছে।

সমালোচকদের মতে বলিউডে সাম্প্রতিক সময়ে ডানপন্থী রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট। তারা মনে করেন দ্য কাশ্মির ফাইলস ও দ্য কেরালা স্টোরির মতো সিনেমায় মুসলিমদের ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ইতিহাস বিকৃত করে উত্তেজনা ছড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ডানপন্থী গোষ্ঠীরা হিন্দু ধর্মকে অশ্রদ্ধা করা হয়েছে দাবি তুলে অন্নপূরাণী ও পদ্মাবতসহ একাধিক সিনেমার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে।

ইতিহাসবিদরা বলছেন, ভারতের বহুত্ববাদী অতীতকে দুর্বল করার বড় প্রচারণার অংশ এই ধরনের সিনেমা। তাদের মতে অনেক মানুষের ইতিহাস জ্ঞান আসে সিনেমা দেখে, যেখানে কল্পকাহিনিকেই তারা সত্য মনে করে নেয়।

অথচ যমুনা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা মার্বেলের তাজমহল এখনো একই আছে, কিন্তু এর সাথে জুড়ে থাকা ইতিহাস ক্রমেই রাজনৈতিক তর্কে জড়িয়ে পড়ছে। সমালোচকদের মতে দ্য তাজ স্টোরি সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।




জলবায়ু প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক প্রকৌশলী ইনামুল কবীরকে ঘিরে তদন্তের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সিলেটে জলবায়ু প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্প্রতি বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নানা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্প পরিচালনার সময় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। একটি সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং কাজের মান বজায় রাখাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় গরমিল পাওয়া গেছে। নথিটি জারি করেন এলজিইডি সিলেট বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আব্দুল সামাদ।

অভিযোগগুলোর মধ্যে বলা হয়েছে—২০২০ সালের বেশ কিছু প্রকল্পে কাজের গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, বিল–ভাউচার প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে নিয়ম ঠিকভাবে মানা হয়নি, এমনকি কিছু জায়গায় কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার কথা থাকলেও, USA, Canada, Australia, Japan এবং ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কাজ হয়নি। বিশেষভাবে TUV ও DNV–এর স্বীকৃত মান না থাকায় প্রকল্পের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

রক্ষণাবেক্ষণ বা Gob Maintenance খাতে ব্যয়ের হিসাব নিয়েও নথিতে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে যে কাজ বাস্তবে হয়েছে তার সঙ্গে খরচের অংক মিলে না। দুই অর্থবছর—২০২০–২১ এবং ২০২১–২২—এ ব্যয় বরাদ্দের মধ্যেও বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও বরাদ্দের তুলনায় বেশি খরচ, আবার কোথাও বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কাজ এগোয়নি—এসব বিষয় তদন্তের দাবি বাড়িয়ে তুলেছে।

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, জলবায়ু প্রকল্পের দায়িত্ব নেওয়ার পর ইনামুল কবীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে অফিস পরিবর্তন করে অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত একটি বিশেষ কক্ষ তৈরি করেছিলেন, যেখানে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের প্রবেশ করা বেশ কঠিন ছিল। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পিডির সঙ্গে দেখা করতে হলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।

সরকারি দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযোগগুলো প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এজন্যই বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের নজরে পাঠানো হয়েছে, এবং এলজিইডির পক্ষ থেকেও বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে ইনামুল কবীর সংক্ষেপে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।




ইউনেস্কোর ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেল ‘টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্প’

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের ‘টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্প’ ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে ইউনেস্কো ২০০৩ কনভেনশনের চলমান ২০-তম আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দলনেতা এবং ইউনেস্কো সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা এ স্বীকৃতিকে বাংলাদেশের জন্য ‘অসামান্য গৌরব’ উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘ দুই শতকের অধিক সময় ধরে টাঙ্গাইলের তাঁতিদের অনবদ্য শিল্পকর্মের বৈশ্বিক স্বীকৃতি এটি। টাঙ্গাইল শাড়ি বাংলাদেশের সব নারীর নিত্য পরিধেয় যা এই শাড়ি বুনন শিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। নথি প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞ জনবল তৈরি করে ভবিষ্যতে আরও অনেক ঐতিহ্যের ইউনেসকো স্বীকৃতি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।’

চলতি বছরের এপ্রিলে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাস ইউনেস্কো সদরদপ্তরে ২০০৩ কনভেনশনের নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী টাঙ্গাইলের শাড়ি বুনন শিল্পকে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বাউল গান, ২০১৩ সালে জামদানি বুনন শিল্প, ২০১৬ সালে মঙ্গল শোভাযাত্রা, ২০১৭ সালে শীতলপাটি বুনন শিল্প এবং ২০২৩ সালে ‘ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র’ ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়।




মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সেই গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ফ্ল্যাটে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বরিশালের নলছিটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, মোহাম্মদপুরে মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মীকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে এই জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন গৃহকর্মী আয়েশাকে শনাক্ত করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তরুণীর পরিচয় শনাক্ত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রেপ্তারের পর প্রকাশ করা হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা।

গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে শাহজাহান রোডের ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই জোড়া হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সোমবার সকাল ৭টার দিকে আজিজুল ইসলাম স্কুলে যাওয়ার পর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বাসায় ফিরে তিনি স্ত্রী ও মেয়ের লাশ দেখতে পান। এজাহারে আরও উল্লেখ আছে, বাসা থেকে একটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে।

ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হত্যার পর এক নারী স্কুলড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। চার দিন আগে আয়েশা পরিচয় দিয়ে গৃহকর্মীর কাজ নেওয়া প্রায় ২০ বছর বয়সী এই তরুণীকে জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করছেন স্বজনেরা।

সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, আয়েশা সেইদিন সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে পালিয়ে যান।

তদন্তসূত্র বলছে, গৃহকর্মী নিজের আসল নাম ও ঠিকানা গোপন করেছিলেন এবং বাসার কাজে যোগ দেওয়ার সময় সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোনও ছিল না। পরে যে ফোনটি নিয়ে গেছেন, সেটি বাসা থেকে বেরিয়েই বন্ধ করেন। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার বেশির ভাগই অচল থাকায় তাকে শনাক্ত করতে ম্যানুয়ালভাবে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়েছে।

সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং নাফিসার দেহে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকালে মা-মেয়ের মরদেহ নাটোরে পৌরসভার দক্ষিণ বড়গাছায় নেওয়া হয়। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।




ইউনিমাস হোল্ডিংসের সফলতার ১৬ বছর উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল আবাসন প্রতিষ্ঠান ইউনিমাস হোল্ডিংস লিমিটেড সম্প্রতি তাদের সফলতার ১৬তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করেছে। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহক ও অংশীদারদের আস্থা অর্জন করে চলেছে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ এই দিনে ইউনিমাস হোল্ডিংস লিমিটেড তাদের সকল নিবেদিত কর্মী, সম্মানিত গ্রাহক, সরবরাহকারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তাদের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া এই দীর্ঘ পথচলা সম্ভব হতো না। গুণগত মান, পেশাদারিত্ব ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের আবাসন খাতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে।
এ উপলক্ষে ইউনিমাস হোল্ডিংস লিমিটেডের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত যে, ১৬ বছর ধরে আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলেছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন নয়, বরং দেশের টেকসই অগ্রগতিতে অবদান রাখা। আগামী দিনেও আমরা উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে এগিয়ে যেতে এবং গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”



আশুলিয়ায় দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ঝুট ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ ; নগদ টাকা লুট

মোঃ বশির উদ্দিন  আশুলিয়া (ঢাকা): শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় আমিনুল ইসলাম নামের এক ঝুট ব্যবসায়ীকে প্রজাশ্যে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষরা। এসময় তার সাথে থাকা ঝুট বিক্রি ৪লাখ ৯০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ৭জনের নাম উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) বিকেলে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ওসি রকিবুল হাওলাদার। এরআগে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া দি রোজ ড্রেসেজ লিমিটেড কারখানার সামনে হামলার শিকার হন তিনি।
ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম আশুলিয়ার মধ্য গাজীরচট এলাকার মৃত আলমাস হোসেনের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার জামগড়া প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন দি রোস এন্ড ড্রেসেস লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ঝুট ব্যবসা করে আসছেন।
অভিযুক্তরা হলেন- আশুলিয়ার জামগড়া মোল্লাবাড়ি এলাকার মৃত আতোয়ার রহমানের ছেলে  আতিকুর রহমান উজ্জ্বল (৪৯), মো: আরিফ (৩৮), মো: এরশাদ (৩৭), আব্দুস সাত্তার (৫২), সামাদ ভূইয়া (৪৮), তৈয়বপুর এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান রনি (৩৬) এবং মোস্তাফিজুর রহমান লিটন (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন।
ভুক্তভোগী ঝুট ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আশুলিয়ার জানগড়া এলাকায় ঝুটের ব্যবসা করে আসছেন। বেশ কিছুদিন ধরেই বিবাদীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে আসে। সোমবার বিকেলে জামগড়া দি রোজ ড্রেসেস লিমিটেড কারখানা থেকে ঝুট বের করে গেটের সামনে দাড়িয়ে ছিলাম। এসময় উজ্জ্বল, আরিফ, এরশাদ, সাত্তার, সামাদ, মোস্তাফিজ, লিটন সহ আরো কয়েকজন এসে ৫লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা দিতে অস্বীকার করার সাথে সাথেই আমার উপর হামলা চালায় এবং পিটিয়ে হাত ভেংগে ফেলে, মাথায় ও অন্য হাতে সহ পুরো শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। পরে তার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ীস্থ হাবীব ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
এদিকে, “কারখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঝুট ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম কারখানার মূল ফটকে  দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেল যোগে এসেই হামলাকারীরা তার সাথে কথা বলতে দেখা যায়। পরক্ষণেই তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটাতে দেখা যায়। পরে জীবন রক্ষার্থে ঝুট ব্যবসায়ী আমিনুল দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে আসলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত অয়ালিয়ে যায়।”
আশুলিয়া থানার ওসি রকিবুল হাওলাদার জানান, ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ববস্থা নেয়া হবে।



লালমনিরহাটে অবৈধ ইটভাটার ভয়াবহ দাপট; হুমকির মুখে ফসলি জমি ও পরিবেশ

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই ভয়াবহ বেড়ে চলছে অবৈধ ইটভাটার সংখা। আইন ও নীতিমালা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে জেলার ৫টি উপজেলায় ফসলি জমি দখল করে একের পর এক ইটভাটা নির্মাণ চলছে, যার ফলে নষ্ট হচ্ছে কৃষি উর্বর জমির উপরের “টপ সয়েল” পাশাপাশি ব্যাপক পরিবেশ দূষণ, বায়ু দূষণ এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।

লালমনিরহাট সদর, কুলাঘাট-মোগলহাট ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী, ভেলাবাড়ী ও কমলাবাড়ী, কালীগঞ্জ, শিঙিমারীসহ কয়েকটি ইউনিয়ন, এবং হাতীবান্ধার পাটগ্রাম এলাকায় অসংখ্য ইটভাটা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী স্হানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায়  এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছে। কৃষি জমির উর্বর “টপ সয়েল” তুলে তা ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করায় জমি গুলো পরবর্তী ১০-১৫ বছর ফসল উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ছে।

ইটভাটা আইন ২০১৩ অনুযায়ী স্থানীয় চেয়ারম্যান, এরপর জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া ইটভাটা স্হাপন বা পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা পরিচালনায় দোষী প্রমাণিত হলে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা আছে। সেখানে দায়িত্বশীলদের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের দাবী ও প্রতিবাদ, এলাকাবাসী, কৃষক,  পরিবেশবাদী, মানবাধিকার কর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা বারংবার এই সমস্যা তুলে ধরলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন অভিযান বা শাস্তিমূলক ব্যবস্হা দেখা যাচ্ছে না।

তার দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

উপসংহারঃ লালমনিরহাটের এই সংকট শুধু স্হানীয় নয়, এটি জাতীয় কৃষি নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। অবিলম্বে প্রয়োজন কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।