টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে ৪০টি গ্রাম প্লাবিত

ডেস্ক নিউজ : অতি বৃষ্টির কারণে মৌলভীবাজার জেলার সব নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। বিপৎসীমার উপর দিয়ে কুশিয়ারা, মনু, ধলাই ও জুড়ী নদের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি মনু নদীর রাজনগরের দুটি পয়েন্ট, কুলাউড়ার একটি পয়েন্টে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে মৌলভীবাজারের অন্তত ৪০টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত জেলার নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯১ মিলিমিটার, বুধবার বিকাল ৬টা পর্যন্ত ৭৯ মিলিমিটার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা  রাজনগর উপজেলার  টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুরে মনু নদীর বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। হরিপাশা, উজিরপুর, কান্দিরকুল, একামধু ও গনেশপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার সকলকে নিরাপদ স্থানে সব কিছু সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। মনু নদীর পানি বাড়ছেই রজিনগর উপজেলার ভাঙ্গারহাট এলাকায় বাঁধ-লেভেলে পৌঁছেছে নদীর পানি। এতে বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

বর্ষণের কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে কমলগঞ্জের মাধবপুর ভাযা শ্রীমঙ্গলে যাতায়াতের সড়কে নুরজাহান চা বাগানের গোয়াবাড়ি নামকস্থানে একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। এছাড়া আদমপুর-ইসলামপুর সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মখাবিলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় বিএসএফের বাঁধার কারণে মখাবিলের এই অংশটুকুতে কাজ করানো সম্ভব হয়নি।




এবারের বিশ্বকাপে গোলের নতুন মাইলফলক

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপ ফুটবল এখন কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত ২০২৬ সালের আসরে প্রতি ম্যাচে গড়ে যত গোল হয়েছে, তা ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর যেকোনো বিশ্বকাপের চেয়ে বেশি। আর এ কারণেই এবারের আসরটি দর্শকদের জন্য এতটা উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।

এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৯৬টি ম্যাচে মোট ২৮০টি গোল হয়েছে, অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৯২টি গোল। ১৯৭০ সালের পর অনুষ্ঠিত প্রতিটি বিশ্বকাপের গড় গোলসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে এবারের টুর্নামেন্ট।

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে অবশ্য ম্যাচ ছিল মাত্র ৩২টি, কিন্তু সেখানে প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৯৭টি গোল হয়েছিল। গত ৫৬ বছরে সেই গড় আর কোনো বিশ্বকাপে অতিক্রম করা যায়নি। এছাড়া ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৭৮টি গোল হয়েছিল, যা এবারের আসরও ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে গোলের দিক থেকে এখনও সেরা আসর ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্টে মাত্র ২৬টি ম্যাচে ১৪০টি গোল হয়েছিল, অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে ৫.৩৮টি গোল। এমন রেকর্ড ভবিষ্যতে ভাঙা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হয়।

অন্যদিকে প্রতি ম্যাচে সবচেয়ে কম গোলের বিশ্বকাপ ছিল ইতালিয়া ’৯০। সেই আসরে গড়ে মাত্র ২.২১টি গোল হয়েছিল। সর্বশেষ তিনটি ৬৪ ম্যাচের বিশ্বকাপে গোলের গড় ছিল বেশ কাছাকাছি- ২০১৪ সালে ২.৬৭, ২০১৮ সালে ২.৬৪ এবং ২০২২ সালে ২.৬৯।

বিশ্বকাপে দলসংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ করা এবং তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর অংশগ্রহণও হয়তো গোলের সংখ্যা বাড়ার একটি কারণ। তবে আগের আসরগুলোর তুলনায় এবারের এই বৃদ্ধি সত্যিই উল্লেখযোগ্য।

এবারের বিশ্বকাপ আরেকটি বড় মাইলফলকও স্পর্শ করা করেছে। মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজের নাটকীয় জয়সূচক গোলটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৩০০০তম গোল।

এদিকে, লিওনেল মেসি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার নিজের রেকর্ড আরও বাড়িয়ে ২১ গোলে নিয়ে গেছেন। পাশাপাশি বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করার রেকর্ডও এখন মেসির দখলে।

তাঁর ঠিক পেছনেই রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপেই তিনি মেসির রেকর্ড ভেঙে ফেলতে পারেন। বর্তমানে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ১৯।

এমবাপ্পে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও আরও সমৃদ্ধ করেছেন। নকআউট ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ১১, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি।

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে গতিময় শট থেকে গোল করেছেন সেনেগালের পেপে গুয়ে। ইরাকের বিপক্ষে তাঁর শটের গতি ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১৩১.৯ কিলোমিটার।

আর সবচেয়ে দূর থেকে গোল করেছেন বেলজিয়ামের হান্স ভানাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তাঁর গোলটি এসেছিল ৩২.৪৫ মিটার দূর থেকে।




টানা দুই হারে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারলো বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচেও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হলো বাংলাদেশকে। হারারেতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাঝপথে লড়াইয়ের আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেনি টাইগাররা। ফলে ম্যাচ হেরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও খুইয়েছে বাংলাদেশ।
২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই সতর্ক ছিল বাংলাদেশের দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান। প্রথম তিন ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ওঠে ১৩ রান, তখনও কোনো উইকেট হারায়নি টাইগাররা। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সৌম্য। ব্লেসিং মুজারাবানির অতিরিক্ত বাউন্স পাওয়া বলে ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। ১৩ রানেই প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।
সৌম্যর বিদায়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন তানজিদ। কিন্তু সেই জুটিও বড় হয়নি। নিজের প্রথম ওভারেই বল হাতে এসে সাফল্য পান ক্রেইগ আরভিন। ১৬ বলে ৯ রান করা শান্ত ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ৯ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৮/২।
এরপর তাওহিদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তানজিদ। ধীরে ধীরে চাপে থাকা দলকে ম্যাচে ফেরান এই দুই ব্যাটার। পঞ্চাশ পেরোনোর পর তাদের জুটিতে বাড়তে থাকে জয়ের আশা। তানজিদ ফিফটি পূর্ণ করেন, আর হৃদয়ও খেলছিলেন আত্মবিশ্বাসী ইনিংস। দুজন মিলে ১০৭ বলে ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের লড়াইকে নতুন মাত্রা দেন।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ব্রায়ান বেনেটের হাত ধরে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মাত্র তৃতীয়বার বল করতে এসে প্রথম উইকেটের স্বাদ পান তিনি। তার বলেই বোল্ড হন সেট ব্যাটার তানজিদ। ২৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১২৩/৩, তখনও জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ১২৫ রান।
তানজিদের বিদায়ের পরও আশা জিইয়ে রেখেছিলেন তাওহিদ হৃদয়। দারুণ এক ফিফটি তুলে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। ফিফটির পর ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়। তখন বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৮০ বলে ৭৭ রান, হাতে ছিল ৬ উইকেট।
এরপর দ্রুতই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। মোসাদ্দেক হোসেন ৯ বলে ৭ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির শিকার হলে পঞ্চম উইকেট হারায় সফরকারীরা। সেই সময় ৭৪ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭২ রান। শেষ ভরসা হয়ে ছিলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও নুরুল হাসান।
কিন্তু ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে চাপ। একে একে উইকেট হারিয়ে পথ হারায় বাংলাদেশ। রিশাদ হোসেনও আউট হয়ে গেলে জয়ের সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তখন ২৭ বলে প্রয়োজন ছিল ২৯ রান, কিন্তু হাতে ছিল মাত্র তিন উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন বেন কারান। ১৩৫ বলে অপরাজিত ১১১ রানের ইনিংসে স্বাগতিকদের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তিনি। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স ৩৮ বলে ৫৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। বিশেষ করে তাসকিন আহমেদের শেষ ওভারে ২২ রান তুলে জিম্বাবুয়ের স্কোর ২৪৭-এ পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও জয় তুলে নিতে ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিল জিম্বাবুয়ে।



ঢাকায় গাইবেন আতিফ আসলাম, সঙ্গে ‘মেঘদল’ ও ‘লেভেল ফাইভ’

বিনোদন ডেস্ক : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও ঢাকা মাতাতে আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। ‘মেইন স্টেজ ফিচারিং আতিফ আসলাম’ শিরোনামের এই কনসার্ট আগামী ২৪ জুলাই রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) আতিফ আসলাম নিজেই তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে খবরটি নিশ্চিত করেছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকা – জুলাই ২৪, ২০২৬’। একই সঙ্গে কনসার্টের টিকিট সংগ্রহের লিংকও শেয়ার করেন তিনি।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ’ জানিয়েছে, কনসার্টের সব ধরনের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় অবস্থিত ‘ক্রিকেটারস একাডেমি’তে অনুষ্ঠিত হবে এই আয়োজন। আতিফ আসলামের পাশাপাশি মঞ্চে পারফর্ম করবে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মেঘদল’ ও ‘লেভেল ফাইভ’।

কনসার্টের টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু হয়েছে। দর্শকরা তিনটি ক্যাটাগরিতে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলের গেট দুপুর ২টায় খুলে দেওয়া হবে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করা হবে। মূল কনসার্ট শুরু হবে বিকেল ৫টায়, যা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেইন স্টেজের প্রতিনিধি কাজী রাফসান বলেন, ‘এটি চলতি বছরের সবচেয়ে বড় সংগীত আয়োজনগুলোর একটি। পুরো টিম, শিল্পী এবং দর্শকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের বিশ্বাস, এটি শুধু একটি কনসার্ট নয়, বরং সংগীতপ্রেমীদের আবেগ, প্রত্যাশা ও ভালোবাসার এক মিলনমেলায় পরিণত হবে।’

এদিকে ২০২৫ সালের ‘মেইন স্টেজ শো’-এর জন্য যারা টিকিট কিনেছিলেন কিন্তু রিফান্ড নেননি, তাদের নতুন করে টিকিট কেনার কোনো প্রয়োজন হবে না। তাদের শুধু mainstage.show ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ‘Re-Clam’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নামে নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে এবং কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তা পৌঁছে দেয়া হবে।

যারা টিকিট ফেরত দিয়ে রিফান্ডের আবেদন করেছিলেন কিন্তু এখনও রিফান্ড পাননি, তারাও চাইলে mainstage.show-এর মাধ্যমে রিফান্ড আবেদন প্রত্যাহার করে টিকিট পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই শেষে তাদের জন্যও নতুন টিকিট ইস্যু করে বিনামূল্যে পৌঁছে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, এই কনসার্টটি মূলত গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। টিকিট বিক্রিসহ প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ হলেও জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়। তখন আয়োজকরা জানিয়েছিলেন, কনসার্টটি বাতিল নয়; উপযুক্ত সময়ে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজন।




সচিবালয়ের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের অপব্যবহারের অভিযোগ, কথিত সাংবাদিক রুমনের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়কে ঘিরে নানামুখী অপতৎপরতা, চাঁদাবাজি এবং পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পক্ষে ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ‘চ্যানেল এস’ টেলিভিশনের পরিচয়ধারী কথিত সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান রুমনের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে তার অবাধ প্রবেশ নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া লিখিত অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, কথিত এই সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে রাজধানীজুড়ে এক বিশাল চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

ফুটপাতের চাঁদাবাজি থেকে বিলাসবহুল জীবন: অনুসন্ধানে জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান রুমন মূলত তুরাগ থানা যুবলীগের একজন সক্রিয় সদস্য। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার কথিত মামা এবং ঢাকা উত্তর যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা আবু কালামের ছত্রছায়ায় রুমনের উত্থান ঘটে। তৎকালীন সময়ে উত্তরা এলাকার ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সেক্টর থেকে মাসোহারা তোলার মূল কারিগর ছিলেন এই রুমন। ফুটপাতের চাঁদাবাজির টাকায় বর্তমানে তিনি উত্তরায় নিজস্ব বিলাসবহুল অফিস ও দামি গাড়ি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

গুলশানে স্পা সেন্টারগুলোতে চাঁদাবাজির জাল: আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও রুমনের অপতৎপরতা কমেনি, বরং কৌশল বদলেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর উত্তরা থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টার, আবাসিক হোটেল এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছেন তিনি। বর্তমানে ফ্যাসিবাদের আরেক দোসর সুজিত চক্রবর্তীর সহযোগী হিসেবে কথিত সাংবাদিকতার আড়ালে এই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন রুমন।

সচিবালয়ের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড ব্যবহার করে ‘গুপ্তচরবৃত্তি’: সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই কথিত সাংবাদিকের কাছে রয়েছে সচিবালয়ে প্রবেশের বিশেষ ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড’। অভিযোগকারীদের দাবি, রুমন মূলত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন ‘গুপ্তচর’ হিসেবে সচিবালয়ে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি এই কার্ডের অপব্যবহার করে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং সরকারের ভেতরকার তথ্য বাইরে পাচার করে রাষ্ট্রবিরোধী ও সরকারবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন। তার এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যা সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।

আইনানুগ ব্যবস্থা ও কার্ড বাতিলের দাবি: সচিবালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একজন চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট দোসর এবং চাঁদাবাজির একাধিক মামলার আসামির অবাধ যাতায়াত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগকারীরা অবিলম্বে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তুরাগ থানা কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান রুমনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নামে ইস্যুকৃত সচিবালয়ের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডটি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে মোস্তাফিজুর রহমান রুমনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সাংবাদিককে সময় দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্কঃ মাঠে যেমন পারফরম্যান্স দিয়ে মুগ্ধ করেন, মাঠের বাইরেও আচরণ দিয়ে ভক্তদের মন জয় করেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর এমনই এক মানবিক মুহূর্তের জন্ম দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে হুইলচেয়ারে থাকা ভেনেজুয়েলার সাংবাদিক মানু গুতিয়েরেস সাক্ষাৎকার নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। অন্য অনেকের মতো তাড়াহুড়ো করে চলে না গিয়ে মেসি তার সামনে থেমে যান এবং ধৈর্যসহকারে সব প্রশ্নের উত্তর দেন। মুহূর্তটি উপস্থিত সবার নজর কেড়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসিত হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে নিজের ঝুলিতে যোগ হওয়া নতুন রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেসি বলেন, ‘আমি আসলে এসব রেকর্ডের হিসাব রাখিনি। ম্যাচ খেলতে খেলতেই এগুলো হয়েছে। ঈশ্বরের কৃপায় দল এগিয়ে যাচ্ছে এবং লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই জয়ে আমরা খুবই আনন্দিত।’

ম্যাচে কীভাবে আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছিল, সেটিও ব্যাখ্যা করেন তিনি। মেসি বলেন,‘মাঝমাঠে খেলা খুব কঠিন ছিল। লাউতারো মার্তিনেজ মাঠে নামার পর মাঝখানে ভিড় বেড়ে যায়। তখন আমি ডান পাশে কিছুটা ফাঁকা জায়গা খুঁজে পাই। সেখান থেকেই আমরা একটি গোল ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হই।’

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নার কারণও জানান মেসি। তিনি বলেন,‘আমরা যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিলাম, তখন পরিস্থিতি খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল। জানতাম, ফিরে আসা সহজ হবে না। শেষ বাঁশির পর কান্নাটা ছিল সব চাপ থেকে মুক্তির অনুভূতি। আমরা বাড়ি ফিরতে চাইনি। আমরা বিশ্বাস করতাম, এই টুর্নামেন্টে আরও অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্য আমাদের আছে।’




বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকা থেকে ঢাকার অবস্থান বদলাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ বিশ্বের সবচেয়ে কম বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তৃতীয় হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীকে এই অবস্থা থেকে বের করে আনতে পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নির্বিচারে শিল্পকারখানা স্থাপনের প্রবণতা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান এখন তৃতীয়। এ পরিস্থিতি থেকে রাজধানীকে বের করে আনা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, সভ্য দেশে যেভাবে পরিকল্পনাহীনভাবে যত্রতত্র কলকারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো পরিবেশ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন নন। তাই পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সম্পৃক্ত করতে ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, কোন পরিবেশে কোন ধরনের গাছ উপযোগী—সেই বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। এ সময় তিনি ইউক্যালিপটাসের মতো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গাছ রোপণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিন ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পরিবেশ পদক দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদানের জন্য সাতটি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ জনকে জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ২০২৬ সালের বসবাসযোগ্যতা সূচকে বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে সবচেয়ে কম বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। এর আগের বছর ২০২৫ সালেও একই অবস্থানে ছিল বাংলাদেশের রাজধানী।




পে-স্কেলের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে সচিব কমিটি, আসছে বড় পরিবর্তন

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথ যত এগোচ্ছে, ততই জটিল হয়ে উঠছে এর আর্থিক ও প্রশাসনিক হিসাব। বেতন কমিশনের সুপারিশ, সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রভাব এবং ভাতা কাঠামো-সবকিছু সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সচিব কমিটি। ফলে নতুন পে-স্কেল কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি সরকার।

এর মধ্যেই প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামোতে শুধু গ্রেড নয়, কর্মচারীদের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাস্তব চাহিদাকেও গুরুত্ব দিয়ে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সব গ্রেডে প্রায় একই হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি দেওয়ার পদ্ধতি থেকে সরে আসছে সরকার। নতুন কাঠামোতে তুলনামূলকভাবে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে নবম পে-স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। তবে নতুন খসড়া অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।

জানা যায়, বেতন বৃদ্ধির এ নতুন নীতিমালার পেছনে সরকারের পরিচালিত একটি বিস্তৃত জরিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জরিপে অংশ নেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দেন।

অপরদিকে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দেন। এছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেন। একইসঙ্গে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দেন।

এর আগে, গত ৬ জুলাই সচিবালয়ে সচিব কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিটির সদস্যদের মতে, সুপারিশ চূড়ান্ত করতে আরও অন্তত দুটি বৈঠকের প্রয়োজন হতে পারে। এরপর অর্থমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে। সরকারের অনুমোদনের পরই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও প্রশাসনিক আদেশ, গেজেট প্রকাশ এবং সফটওয়্যার হালনাগাদসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত বেতন ও ভাতার অর্থ বকেয়াসহ অক্টোবর মাসে একসঙ্গে পরিশোধের সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা যায়, নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এ ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।

বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ রাখার বিষয়ে আলোচনা করছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪।

বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন গ্রেডে ভাতা বৃদ্ধিরও প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতার ওপর নির্ভরশীল নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি ভাতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে।




ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, খবরে বলা হচ্ছে, বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা তৃতীয়। এ নিয়ে আমাদের সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল কারখানার কারণে যেভাবে পরিবেশের দূষণ হচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের সবাই দায় আছে। ইকোসিস্টেমের নিরাপদ লালন ও বিকাশের সঙ্গে মানবসমাজ জড়িত। বৃক্ষমেলা নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণের বিনিয়োগ। এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত হবে না, নৈমিত্তিক এটি করতে হবে।

তিনি বলেন, সন্তান জন্ম নিলে আমরা তার নামে একটি গাছ লাগাতে পারি। লন্ডনেও এমনটি দেখেছি।

সরকার গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালুসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজায়নের লক্ষ্যে সরকার ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করবে। আমরা ছাদ বাগান, নগর বনায়ন, ইকো ট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করতে চাই। এছাড়া, রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আকাশমনিসহ অনেক ক্ষতিকর গাছ আছে, যা রোপণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া, কোন মাটিতে কোন গাছ রোপণ ভালো হবে, তা জানতে হবে। ঔষধিসহ দেশীয় গাছ রোপণে মনযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, সবকিছু আইন দিয়ে করা সম্ভব নয়, সচেতনতার মধ্য দিয়ে করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ জনের হাতে জাতীয় পরিবেশ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।




ফ্যাসিবাদের দোসর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাচ্চুর ক্যাশিয়ার খ্যাত জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গৃহকর্মী কুমু বেগমকে ১৯ বছর গৃহবন্দি রেখে নির্যাতনের অভিযোগ ও মামলা; সংবাদ সম্মেলনে গৃহকর্মীর ন্যায়বিচারের আকুতি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ফ্যাসিবাদের দোসর তৎকালীন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর ক্যাশিয়ার ও অত্যন্ত কাছের মানুষ মোঃ জাহাঙ্গীর লতিফ। সাচ্চুর বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সাথে এই জাহাঙ্গীর জড়িত। সাচ্চু পালিয়ে গেলেও জাহাঙ্গীর ধরা ছোয়ার বাইরে।

দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে গৃহকর্মী হিসেবে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন, বিনা বেতনে কাজ করানো, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে অভিযুক্ত মোঃ জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কুমু বেগম। রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের জীবনের দীর্ঘ কষ্টের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর লতিফ একপর্যায়ে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান। ভয় ও অসহায়ত্বে তিনি এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, বছরের পর বছর শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সামান্য ভুলের জন্যও তাকে মারধর, অপমান এবং ভয়ভীতি দেখানো হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর লতিফের দুই মেয়ে জেবা রাইসা ও দিয়া রাইসাও বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন। কুমু বেগমের দাবি, জাহাঙ্গীর লতিফের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। পরিবারের কয়েকজন সদস্য মিলে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতেন যাতে তিনি নিজেই বাসা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।

কুমু বেগম জানান, বিয়ের বয়স হলে তার বিয়ের সব খরচ বহনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। বরং ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তাকে কোনো অর্থ, নিরাপত্তা বা ভবিষ্যতের ব্যবস্থা না করেই চট্টগ্রামগামী একটি বাসে তুলে দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আদালতের মাধ্যমে মামলা করা হয়। মামলায় বলা হয়েছে, ১৯ বছরের বকেয়া বেতন (মাসিক ৩,০০০ টাকা হিসাবে) ৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং বিয়ের খরচ বাবদ প্রতিশ্রুত ২ লাখ টাকাসহ মোট ৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১০৬/২০২৬। যা এখন কাফরুল থানার তদারকিতে রয়েছে।

কুমু বেগমের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর লতিফ বর্তমানে উত্তর ইব্রাহিমপুরে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। তার নামে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাইয়ের তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

মামলায় জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কুমু বেগম অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর বর্তমানে বিভিন্ন বিএনপি নেতাদের নাম ব্যবহার করে তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করছেন। এবং তার সাথে বিএনপির বড় নেতা ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে সখ্যতার কথা সবাইকে বলে বেড়ান ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নানা ধরণের অনৈতিক কাজ করে থাকেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মিলন নামে জাহাঙ্গীর লতিফের এক সহযোগী দীর্ঘদিন ধরে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে আসছেন এবং তার একান্ত সহকারী ও ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জাহাঙ্গীর লতিফকে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের আর্থিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছেন। আরও দাবি করা হয়, ২০২৪ এর ৫ আগস্ট মিরপুরে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে এসব রাজনৈতিক অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ জাহাঙ্গীর লতিফ, তার সহযোগী মিলন এবং গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।