দীর্ঘদিন পর বিটিআরসির ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, উঠল অনিয়মের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)-এর আটজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই তারা চাকরিতে যোগ দেন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পদোন্নতিও লাভ করেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি এবং স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে কেউ কেউ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিটিআরসিতে কর্মরত রয়েছেন। চাকরিজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তারা পদোন্নতিও পেয়েছেন। সম্প্রতি তাদের নিয়োগ-সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনার দাবি তুলে কিছু মহল অভিযোগ করেছে যে, নিয়োগের সময় প্রযোজ্য বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলি অনুসরণ করা হয়নি।

অভিযোগের আওতায় যাদের নাম এসেছে তারা হলেন— সেলিনা পারভীন, বর্তমানে উপ-পরিচালক (প্রশাসন); মো. মাহবুবুর রহমান, উপ-পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং); মোহাম্মদ কামরুল হাসান, উপ-পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং); মুহাম্মদ জাকারিয়া ভূঁইয়া, সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ইএন্ডও); তৌসিফ শাহরিয়ার, সিনিয়র সহকারী পরিচালক; তানজারা বিনতে আনসার, সিনিয়র সহকারী পরিচালক; মাসুদ কামাল, স্টোর অফিসার; এবং এফএম সোয়েব শাহরিয়ার, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।

অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা অথবা অন্যান্য শর্ত পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে নিয়োগের বৈধতা নিয়ে কোনো কার্যকর পর্যালোচনা না হওয়ায় তারা চাকরিতে বহাল থাকেন এবং নিয়মিতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির শর্ত, নিয়োগবিধি এবং প্রযোজ্য আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত উপেক্ষা করে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে। তবে অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি, নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং তৎকালীন প্রশাসনিক অনুমোদন পর্যালোচনা ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর কোনো নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ একদিকে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যদিকে অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তিদের ন্যায়সঙ্গত প্রতিরক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে বিটিআরসির বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা অভিযোগগুলোর মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্যও প্রয়োজন, যাতে অভিযোগের বিপরীতে তাদের অবস্থান জানা যায়।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচিত পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজন হলে স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা করা। এতে একদিকে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা পায়, অন্যদিকে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।

অভিযোগকারীরা বিষয়টির তদন্ত এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়োগ ও পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। অন্যদিকে, অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

ফলে বিটিআরসির এই আট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার চূড়ান্ত উত্তর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট নথি, কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা এবং সম্ভাব্য তদন্তের ফলাফলের ওপর। অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরু হলে তার ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলোর ভিত্তি কতটা শক্তিশালী এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না।




ডিএই প্রশাসন শাখায় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ: সিন্ডিকেট, বদলি বাণিজ্য ও অনিয়মের জালে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকা খামারবাড়িস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) প্রশাসন শাখার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক এ এ মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুদকের চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামিদের আশ্রয় প্রদান, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন এবং রমরমা বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই কর্মকর্তার সিন্ডিকেটের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

মহাপরিচালক (ডিজি) মোঃ আব্দুর রহিমের সাথে একই এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে বিশেষ সখ্যের কারণে মাসুম বিল্লাহ খামারবাড়িতে স্বঘোষিত ‘সেকেন্ড ডিজি’ হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

১. দুদকের চার্জশিটভুক্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আগলে রাখার অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, খামারবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লুটপাট ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-সহকারী পরিচালক এস এম আনিসুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: সিআর-৯০/২০২২)।

কারাগারে প্রধান আসামি: এই মামলার চার্জশিটভুক্ত অন্যতম শীর্ষ আসামি সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ শরিফুল ইসলাম বর্তমানে দুর্নীতির দায়ে কারাগারে আছেন।

পলাতক আসামিদের পুনর্বাসন: তবে এই মামলার ২ নং আসামি উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক অলিউল্লাহ প্রধান (বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কর্মরত) এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মূল হোতা প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের সাবেক ক্যাশিয়ার মোঃ জাহিদ হাসান—উভয়েই গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি হওয়া সত্ত্বেও মাসুম বিল্লাহর ছত্রছায়ায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

২. বদলি আদেশকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’: ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে খামারবাড়িতেই অবস্থান
বিগত ১৯/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখে খামারবাড়ির ক্যাশিয়ার মোঃ জাহিদ হাসানকে ময়মনসিংহে এবং একই শাখার ক্যাশ সরকার মোঃ হাবিবুর রহমানকে চাঁদপুরে বদলি করা হয়। এরপর ২১/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখে তাদের তাৎক্ষণিক অবমুক্তির (রিলিজ) আদেশও দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, নতুন পদায়নকৃত ক্যাশিয়ার মোঃ আল-আমিন যোগদান করলেও জাহিদ হাসান তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন এবং কর্মস্থলে বহাল আছেন। খামারবাড়ির সূত্র মতে:

ক্যাশিয়ার জাহিদ হাসান ৫ লক্ষ টাকা এবং ক্যাশ সরকার হাবিবুর রহমান ১ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে মাসুম বিল্লাহর কাছ থেকে বদলি আদেশ বাতিলের মৌখিক আশ্বাস পেয়ে আগের আসনেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মূলত জুন মাসের বিল পরিশোধ সংক্রান্ত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কয়েক কোটি টাকার টেন্ডার ও কোটেশনের ‘ভাগবাটোয়ারা’ নিশ্চিত করতেই এই পলাতক আসামিকে খামারবাড়িতে রেখে দেওয়া হয়েছে।

৩. জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী ‘আওয়ামী পুনর্বাসন’ ও বদলি বাণিজ্য
স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে যেসকল দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্তে দোষী সাব্যস্ত করে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছিল, মাসুম বিল্লাহর সিন্ডিকেট তাদের খামারবাড়ির লাভজনক পদে ফিরিয়ে আনছে।

নন-ক্যাডার ও উপ-সহকারী বদলি: কাঙ্ক্ষিত কর্মস্থলে পদায়নের জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

গোপন অর্ডার ও ব্যাকডেটেড সই: বিগত এক মাসে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বদলি আদেশ ডিএই-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ না করে, গোপনে হার্ডকপি প্রার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পদ শূন্য না থাকলেও মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে সালাহ্উদ্দিন ভূঞা নামের এক উপ-সহকারী উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তাকে নরসিংদী হর্টিকালচার সেন্টারে বদলি করা হয়। ঢাকা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফা খানকে দিয়ে ০৫/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখে আদেশ কার্যকর দেখানো হলেও চিঠিতে ১৪/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখের ব্যাকডেট ব্যবহার করা হয়েছে।

৪. ক্যাডার কর্মকর্তাদের সরিয়ে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ
প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে মাসুম বিল্লাহ বড় কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা না করে একক সিদ্ধান্তে বদলি বাণিজ্য চালাচ্ছেন।

বিসিএস (কৃষি) ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি নিয়ন্ত্রণ করতে তিনি চক্রান্তের মাধ্যমে অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন-১) মোঃ হাসানুজ্জামানকে বদলি করান।

এরপর উপপরিচালক (প্রশাসন) মোঃ মুরাদুল হাসান ২৭/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখে হজে যাওয়ার পর মাসুম বিল্লাহ পুরোপুরি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ৯ম গ্রেড হতে ৬ষ্ঠ গ্রেডে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি অফিসারদের সুবিধাজনক স্থানে পদায়নের নাম করে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

৫. সরকারি গাড়ি ও জ্বালানির নজিরবিহীন অপব্যবহার
নিয়ম অনুযায়ী ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে মাসুম বিল্লাহ ফুলটাইম সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন।

তিনি ঢাকা মেট্রো-ঠ-১৩-৬১৬৭ নম্বরের গাড়িটি গভীর রাত পর্যন্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করছেন।

তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যেও তিনি মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ লিটার সরকারি তেল অপচয় করছেন।

তার এই অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে খামারবাড়ির কোনো চালক কথা বললে বা গাড়ি চালাতে অস্বীকৃতি জানালে, ক্ষমতার জোরে তাকে খামারবাড়ির বাইরে বদলি বা চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়।

৬. অতীতের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে ‘অদৃশ্য বাধা’
খামারবাড়িতে যোগদানের আগে ১৬/০১/২০১৮ থেকে ০৫/০৬/২০২৪ পর্যন্ত পাবনা সদর ও চাটমোহর উপজেলায় কৃষি অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীনও মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি প্রণোদনার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। কৃষকের বরাদ্দ লোপাট করে তিনি পাবনা জেলা সদরে একটি ৫ তলা বিলাসবহুল ভবনসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বিগত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর খামারবাড়ির মেইন গেটে তালাবদ্ধ করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, প্রশাসন ক্যাডারের অফিসারদের ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে গত মার্চ/২০২৫-এ তাকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছিল। তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে ঢাকার বাইরে বদলি এবং সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হলেও, এক ‘অদৃশ্য শক্তির’ ইশারায় তিনি এখনো বহাল তবিয়তে খামারবাড়িতে রয়ে গেছেন।

উপসংহার: সরকারের কৃষি খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অধিদপ্তরে একজন অতিরিক্ত উপ-পরিচালকের এমন প্রকাশ্য জবরদস্তিমূলক দুর্নীতি এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাটি সুশাসনের চরম পরিপন্থী। অধিদপ্তরের সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সচেতন মহল অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও উপদেষ্টা মহোদয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনি শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 




সাড়ে ৩ মাস পর হরমুজ প্রণালি পার হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

ডেস্ক নিউজঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পারস্য উপসাগর এলাকায় আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা।
সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত তিনটার দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হয়। বর্তমানে জ্বালানি (বাংকারিং) গ্রহণের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডোর মাহমুদুল মালেক গণনাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে জাহাজের অবস্থান নির্দেশক ওয়েবসাইট ‘ভেসেল ফাইন্ডার’ এ বাংলার জয়যাত্রার অবস্থান দেখাচ্ছিল ইরানের কেশম দ্বীপ ও ওমানের বন্দর শহর খাসাব এর মধ্যবর্তী অংশে হেনগাম দ্বীপের সমান্তরালে। তখন জাহাজের গতি ছিল ৬ দশমিক ৬ নটিক্যাল মাইল।

এরপর সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ‘ভেসেল ফাইন্ডার’ এ দেখা যায়, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হেনগাম দ্বীপ অংশ অতিক্রম করে এগিয়ে গেছে। তখন জাহাজের গতিবেগ ছিল ৭ দশমিক ১ নটিক্যাল মাইল।

হরমুজ পাড়ি দিয়ে পারস্য উপসাগর অতিক্রম করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ওমান উপসাগরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের দিকে যাচ্ছে। জাহাজটির পরবর্তী বাণিজ্যিক গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কোম্পানির অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি দুবাই এর জেবেল আলী বন্দরে ভেড়ার পরদিনই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়।

এরপর থেকে পারস্য উপসাগরেই আটকে ছিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’; মাঝে একাধিকবার প্রণালি পাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে চ্যানেলের কাছাকাছি অবস্থান নিলেও তা সফল হয়নি। জাহাজটির ৩১ জন নাবিকের সবাই বাংলাদেশি।

এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি সইয়ের পর বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির ৮০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে অবস্থান নিয়ে প্রণালি পাড়ি দিতে আইআরজিসি’র অনুমতির অপেক্ষায় ছিল যানটি।




দেশে ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল ঢাকায়

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ এ কম্পন অনূভত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকায়। প্রাথমিকভাবে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কোভিদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকায়।

এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানীর মিরপুর থেকে ৭ কিলোমিটারের মধ্যে ছিল বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ১২ জুন সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের কিছু এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৪ দশমিক ৫ মাত্রার।




মুক্তিপণ দাবির পর পুকুরে মিলল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মরদেহ

ডেস্ক নিউজ : টাঙ্গাইলের সখিপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর সেঁজুতি নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির পরিবার দাবি করেছে, তাকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সখিপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুর থেকে সেঁজুতির (৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফালু চন্দ্র মালু ও শোভা চন্দ্র দম্পতির মেয়ে এবং স্থানীয় আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেল ৪টার পর থেকে সেঁজুতি নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে শনিবার রাতেই সখিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, গতকাল রোববার রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের কাছে ফোন ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে সেঁজুতিকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই উপজেলা পরিষদের পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।

শিশুটির রহস্যজনক মৃত্যু এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সখিপুরজুড়ে উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন পুকুরে একটি শিশুর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মেয়ের মৃত্যুতে শোকাহত বাবা ফালু চন্দ্র মালু বলেন, ‘আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

মা শোভা চন্দ্র কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সন্তানের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হোক। আমার ছোট্ট মেয়েটিকে কে বা কারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’

এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. আহমেদ আযম খান নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকলে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সখিপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




কাতারে ভারত ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ১৩ জন নিহত, বাংলাদেশিসহ আহত ৬৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরা রয়েছেন বলে জানান দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী সাদ বিন শ্রেদা আল-কাবি।

সোমবার  (২২ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে আল-কাবি, যিনি একই সঙ্গে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহীও, জানান যে রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় রাস লাফান শিল্পনগরীর বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে পরিচালন কার্যক্রম শুরু করার সময় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনায় ৬৬ জন আহতও হয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে ভারত, কাতার, তানজানিয়া, পাকিস্তান, গিনি, নেপাল, বাংলাদেশ, কেনিয়া ও নাইজেরিয়ার নাগরিক রয়েছেন।

আল-কাবি জানান, নিহত ১৩ জন ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হলেও, এর মধ্যে ঠিক কতজন কোন দেশের নাগরিক, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে, দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস বলেছে, ‘রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।’ 

 

নিহত ও আহতদের পরিবারের সহায়তার জন্য দূতাবাস দুটি হেল্পলাইন নম্বর (+974-55647502, +974-55384683) এবং ই-মেইল (cons.doha@mea.gov.in) চালু করেছে।

এর আগে ভারতীয় দূতাবাস ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে জানায়, এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এই কঠিন সময়ে কাতার সরকারের পাশাপাশি দেশটির জনগণের প্রতি ভারতীয় দূতাবাস ও কাতারে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায় পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। আমরা আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং নিখোঁজদের নিরাপদে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করছি।’

কাতারএনার্জি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই জরুরি পরিষেবার দলগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।



মেসির ম্যাজিকে অষ্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক : মেসির ম্যাজিকে অষ্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে অসাধারণ এক গোল করলেন মেসি। আর্জেন্টিনাও এগিয়ে গেলের ২-০ ব্যবধানে। এবার বিশ্বকাপে ২ ম্যাচে ৫ গোল দিলেন মেসি। এখন পর্যন্ত মেসিই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

পেনাল্টি মিসের পর অসাধারণ এক গোল করলেন আর্জেন্টিনার নির্ভরযোগ্য খেলোয়ার লিওনেল মেসি।৩৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ফাকুন্দো মেদিনার ক্রসে ডামি করেন থিয়াগো আলমাদা। এরপর মেসির বাঁ পায়ের শট চলে যায় অস্ট্রিয়ার জালে। এই গোলে প্রথমার্ধেই ১-০ তে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন মেসি। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে এককভাবে সিংহাসনে বসলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বিশ্বকাপে মেসির এখন ২৮ ম্যাচে গোলসংখ্যা ১৭টি।

এদিকে লিওনেল মেসি এবার এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়লেন। বিশ্বকাপে এখন সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ড মেসির দখলে। সোমবার আর্জেন্টিনা গ্রুপ জে-তে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসি একটি পেনাল্টি মিস করেন। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় পেনাল্টি মিস। শুটআউটের পেনাল্টি এই হিসাবের মধ্যে নেই।

১৯৬৬ সাল থেকে ফিফা বিশ্বকাপে পেনাল্টির রেকর্ড রাখা শুরু হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় বিশ্বকাপে তিনটি পেনাল্টি মিস করেননি। মেসিই প্রথম। এর আগে ঘানার সাবেক স্ট্রাইকার আসামোয়া গিয়ান বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন। সেটিই ছিল সর্বোচ্চ। এখন মেসি সেই রেকর্ড ভেঙে এগিয়ে গেছেন।

মেসির বয়স এখন ৩৮ বছর। এই ম্যাচে তিনি আরেকটি ইতিহাস গড়তে নেমেছিলেন। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার জন্য তার মাত্র একটি গোল দরকার ছিল। কিন্তু পেনাল্টি শটটি পোস্টের বাইরে চলে যায়। ফলে তিনি জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের সমান ১৬ গোলেই আটকে আছেন।




আপত্তিকর কনটেন্টে ক্ষুব্ধ জাহিদ হাসান, নিচ্ছেন আইনি ব্যবস্থা

বিনোদন ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যমে নিজের বক্তব্য বিকৃত করে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ইতিমধ্যে আইনজীবী ও ডিজিটাল টিমকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির নির্দেশও দিয়েছেন।

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবন ও সংগ্রামের প্রসঙ্গে জাহিদ হাসান বলেছিলেন, ‘আমি কষ্টে মরে যাচ্ছি, তবু মুখে হাসি রাখার চেষ্টা করি।’ তবে সেই বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে কয়েকটি ফেসবুক পেজ ভিন্ন একটি ঘটনার ভিডিওর সঙ্গে এটি জুড়ে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর শিরোনামে প্রচার করে।

বিশেষ করে প্রয়াত অভিনেতা শামস সুমনের জানাজার একটি ভিডিওর সঙ্গে ওই বক্তব্য যুক্ত করে প্রকাশিত কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিনেতা।

জাহিদ হাসান বলেন, ‘যা দেখছি, সভ্যতা-ভব্যতার সব সীমা অতিক্রম করছে এসব ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজ। দিন দিন এদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। এভাবে তো চলতে পারে না।’

তিনি জানান, তার আইনজীবী ও ডিজিটাল টিম ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজগুলোর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে।কারা পরিকল্পিতভাবে এসব বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দিচ্ছে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় তথ্য জোগাড় করা হয়েছে। শিগগিরই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানান জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এরপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবে ছাড় দেওয়ার কোনো মানে হয় না।’

শুধু আইনগত পদক্ষেপই নয়, এ ঘটনায় সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছেন এই অভিনেতা।




আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচের যে ভবিষ্যদ্বাণী করল এআই

ক্রীড়া ডেস্ক : ম্যাচে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয়ায় জয়েরআত্মবিশ্বাস বেড়েছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। সোমবার রাত ১১টায় অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা।

ছন্দে থাকা প্রিয় দলকে নিয়ে সমর্থকদের মধ্যেও উন্মাদনা বাড়ছে প্রতি ঘণ্টায়। অস্ট্রিয়া ম্যাচে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স কেমন হবে, ফলাফল কী হবে- সেসব নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে কৌতূহল বিরাজ করছে।

প্রতিটি বিশ্বকাপ ম্যাচের আগেই বেশকিছু ভবিষ্যদ্বাণী সামনে আসে। অনেক ক্ষেত্রে সেসব ভবিষ্যদ্বাণী মিলেও যায়। যেমন আর্জেন্টিনা-আলজেরজ্যামর গত ম্যাচে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ এআইয়ের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গিয়েছিল। ঐ ম্যাচে আর্জেন্টিনার ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পূর্বাভাস সঠিকভাবে দেওয়ার পর এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছে এআই। এআইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে হারাবে অস্ট্রিয়াকে।

মূলত দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিচারে এই ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকে এআই। সেই বিশ্লেষণে একটা বিষয় পরিষ্কার, আলজেরিয়া ম্যাচের মতো সহজ জয় পেতে যাচ্ছে না আর্জেন্টিনা। কিন্তু অস্ট্রিয়ার দুর্বলতাও আমলে নিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারালেও রক্ষণে কিছু দুর্বলতা দেখা গেছে দলটির। এছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে শক্তির দিক দিয়েও কিছুটা পিছিয়ে তারা।

অবশ্য অস্ট্রিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ডেভিড আলাবার অভিজ্ঞতা, রোমানো স্মিডের সৃজনশীলতা এবং রালফ র‍্যাংনিকের কৌশলগত পরিকল্পনা আর্জেন্টিনার জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই ম্যাচে আর্জেন্টিনার আধিপত্য থাকলেও অস্ট্রিয়ার গোল করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে পূর্বাভাস সত্যি হলে শেষ পর্যন্ত জিতবে মেসিরাই।

এদিকে, এই ম্যাচ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে অপ্টা সুপার কম্পিউটারও। এই কম্পিউটারের মতে, আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৬১.১ শতাংশ; পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ার সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ আর অস্ট্রিয়ার অঘটন ঘটানোর সম্ভাবনা আছে ১৭.০ শতাংশ।

যদি এই ম্যাচে অস্ট্রিয়া আর্জেন্টিনাকে হারায় এবং জর্ডান আলজেরিয়ার বিপক্ষে জিততে না পারে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে যাবে আর্জেন্টিনা।




রাজউক জোন-৫/১ এ মোবাইল কোর্টে অনিয়মের অভিযোগ, ইমারত পরিদর্শক মেহরাব ও অথোরাইজড সাইদার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর জোন-৫/১ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়ম, দায়সারা অভিযান এবং আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমারত পরিদর্শক মোঃ মেহরাব হোসেন। একই সঙ্গে এই অনিয়মে অথোরাইজড সাইদা ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ বন্ধে রাজউকের নির্ধারিত আইনগত কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে না। বরং মোবাইল কোর্টের নামে পরিচালিত হচ্ছে লোক দেখানো অভিযান। অনেক ক্ষেত্রে জরিমানা, ভবন ভাঙার নির্দেশ বা মামলা করার মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ বা অন্যান্য মিটার খুলে নেওয়া এবং অস্থায়ী সরঞ্জাম অপসারণের মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। এসব অভিযান মূলত আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য পরিচালিত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে অবৈধ নির্মাণ বন্ধে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখা হচ্ছে না। বরং কিছু নির্দিষ্ট ভবন মালিকের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে।

একজন অভিযোগকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নির্দিষ্ট কিছু ভবন মালিকের সঙ্গে মেহরাব হোসেনের অস্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে। ওইসব স্থানে অভিযান হয় শুধুই আনুষ্ঠানিকতার জন্য। অনেক ক্ষেত্রে ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে নরম অবস্থান নেওয়া হয়। অভিযোগ করলে উল্টো আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।”

মোহাম্মদপুরের সিমেক্স প্রপার্টিজের চানমিয়া হাউজিং এর এক ভবন মালিক লিখিত ও মৌখিকভাবে সরাসরি ইমারত পরিদর্শক মেহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্নভাবে আর্থিক লেনদেনে বাধ্য করা হয় এবং অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবি করা হলে ভবন মালিক তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বাসার বিদ্যুৎ মিটার খুলে নেওয়া হলে এ বিষয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করতে, অথোরাইজড সাইদা ইসলামের দিকে ইঙ্গিত করেন মেহরাব হোসেন, বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গণমাধ্যম কর্মীরা এ বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এইসব অভিযোগ/ কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি জড়িত নয় সবকিছুই ভিত্তিহীন এবং “অথোরাইজড সাইদা ইসলাম সবকিছুই জানে তার কথাতেই সবকিছু হয়।” তবে এ বিষয়ে সাইদা ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে একাধিকবার তার মুঠোফোনে ফোন দেওয়া হয় কিন্তু তিনি কোন ফোন রিসিভ করেননি এবং কোনো বক্তব্য দেননি।

অভিযোগ রয়েছে, মেহরাব হোসেন ও সাইদা ইসলাম সমন্বয়ের মাধ্যমে এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় গাফিলতি করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট ভবন বা স্থাপনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন না, ফলে অবৈধ নির্মাণ নির্বিঘ্নে চলতে থাকে। আরও গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ নির্মাণে নীরব সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অনিয়মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে একাধিক স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জোন-৫/১ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ বেড়েই চলেছে। তবে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। মোবাইল কোর্ট নিয়মিত পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনিয়মিত এবং অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে- কলমে সীমাবদ্ধ থাকে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বারবার অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অবৈধ নির্মাণ থামানোর বদলে এগুলো আরও বাড়ছে।”

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজউকের মোবাইল কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও গাফিলতি থেকে গেলে তা পুরো নগর ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং ভবিষ্যতে নগর নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণ রোধে রাজউকের মোবাইল কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবায়নে অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ নতুন নয়। জোন-৫/১ এলাকায় সাম্প্রতিক এসব অভিযোগ প্রশাসনের কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।