টলিউডে প্রথমবার ট্যাঙ্গোতে মিমি–সোহমের নাচ

বিনোদন ডেস্কঃ বাংলা সিনেমায় প্রথমবার ট্যাঙ্গো নাচ আসছে নন্দিতা রায়–শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রযোজিত নতুন ছবি ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’–এ। জানুয়ারিতে মুক্তি পেতে চলা এই ভৌতিক–কমেডি ঘরানার ছবিতে মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে ট্যাঙ্গো নাচে অংশ নিয়েছেন অভিনেতা সোহম মজুমদার—যাকে এত দিন কোনও বাংলা বা হিন্দি ছবিতেই নাচতে দেখা যায়নি।

এ নিয়ে পরিচালক অরিত্র মুখোপাধ্যায় বলেন, শুটিংয়ের আগে-পরে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা নিজেই চমকপ্রদ। নাচ নিয়ে সোহমকে দারুণ পরিশ্রম করতে হয়েছে।সোহম জীবনে নাচেননি বললেই চলে। তবু ট্যাঙ্গো শেখার জন্য নৃত্যপরিচালক মঙ্গেশ থেড়করের কাছে দীর্ঘ সময় প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

শুটিংয়ের আগের দিন শহরে জলাবদ্ধতার মধ্যেই ভিজে এসে ফাইনাল রিহার্সাল করেন সোহম। পরদিন প্রচণ্ড জ্বর নিয়েও শুটিংয়ে এসে প্রথম টেকেই ‘ওকে’ দেন তিনি।

অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্তও শুটিং চলাকালে চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন। তবু দলের সবাই কাজ শেষ করেছেন।

আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের জনপ্রিয় নাচ ট্যাঙ্গোকে কেন্দ্র করে সাজানো এই গানের দৃশ্যে মিমি, সোহম, স্বস্তিকা, বনি সেনগুপ্তসহ আরও কয়েকজন অভিনয়শিল্পীকে পার্টির সাজে দেখা যাবে।

ছবির প্রথম গান ‘তুমি কে’ শুক্রবার প্রকাশিত হচ্ছে। গীতিকার–সুরকার–গায়ক অনুপম রায় জানান, ভৌতিক ছবির গান বলে যে গা–ছমছমে আবহ থাকবে—সেটি এখানে নেই। করোনাকালে বানানো একটি গানই নন্দিতা–শিবপ্রসাদের পছন্দ হয়, পরে তা সৃজিতা মিত্রকে নিয়ে রেকর্ড করা হয় ছবির জন্য।




প্রাণী নির্যাতন রুখতে সচেতনতার বার্তা দিলেন পিয়া জান্নাতুল

বিনোদন ডেস্কঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে বস্তায় ভরে আটটি কুকুরছানা পুকুরে ফেলে হত্যার ঘটনায় গভীর রাতে ভাড়া বাসা থেকে নিশি খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী দায়ের করা মামলায় তিনি একমাত্র আসামি। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুরু হয় তীব্র নিন্দা।

এই নিষ্ঠুর ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড পেজে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল। তিনি লেখেন, সরকারি চাকুরে স্ত্রী হলেই যা খুশি করার অধিকার নেই, এই গ্রেপ্তারই তার প্রমাণ। আটটি নিরীহ কুকুরছানাকে ব্যাগে ভরে পুকুরে ফেলা শুধু নিষ্ঠুরতা নয়, মানুষ হিসেবে আমাদের লজ্জা।

তিনি আরও বলেন, প্রাণীরা কথা বলতে পারে না বলে যাদের মনে হয় তাদের ওপর যা ইচ্ছা করা যায়। এখনই সাবধান হওয়ার সময়। দেশের মানুষ আর আইন কেউ আগের মতো চুপ করে থাকবে না। শাস্তি আরও কঠোর হবে, আরও কড়া হবে।

প্রাণী নির্যাতন বন্ধে সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে পিয়া বলেন, প্রাণীকে কষ্ট দেওয়ার আগে ভাববেন, তাদেরও জীবন আছে, ব্যথা আছে। অবলা প্রাণীর ওপর শক্তি দেখানোর দিন শেষ, এখন জবাবদিহির সময়।

গত রবিবার সন্ধ্যার পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে থাকা আটটি কুকুরছানাকে বস্তায় ভরে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে নিশি খাতুনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শহরজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং মঙ্গলবার তার পরিবারকে সরকারি কোয়ার্টার ছাড়ার নির্দেশ দেয়। পরে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ নিশিকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে সন্তান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া মা কুকুরটিকে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্তে ঢাকার একটি বিশেষ প্রাণী অধিকার সংগঠনের দল ইতিমধ্যে ঈশ্বরদীতে পৌঁছেছে।




লালমনিরহাটে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি: ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে অর্ধদিবস কর্মসূচি পালন

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালের মূল ফটকে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ, লালমনিরহাটের ব্যানারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসলেও সরকার এখনো ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন করেনি। অথচ আমরা চিকিৎসা সেবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছি। চিকিৎসকদের মতোই দায়িত্ব পালন করলেও আমরা আমাদের ন্যায্য গ্রেড পাচ্ছি না।

বক্তারা আরও জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তীতে লাগাতার কর্মসূচি দেয়া হবে।

পূর্ব-ঘোষিত ০৪-১২-২০২৫ ইং (বৃহস্পতিবার)। পূর্ন কর্মদিবস বিরতি (কমপ্লিট শাটডাউন) কর্মসূচি পালন করা হবে। তারা সরকারের প্রতি দ্রুত দাবি পূরণের আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে লালমনিরহাট জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও ল্যাব কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়। তবে জরুরি বিভাগ ও ইনডোর সেবা চালু ছিল।




শক্তি, সক্ষমতা ও পারফরম্যান্সে প্রতিদিন এগিয়ে রাখতে উন্মোচিত হয়েছে অপো এ৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো আজ আনুষ্ঠানিকভাবে অপো এ৬ স্মার্টফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। আজকের দ্রুতগতি-সম্পন্ন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী নতুন প্রজন্মের লাইফস্টাইলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। যারা দীর্ঘস্থায়ী পাওয়ার, সুরক্ষিত ও প্রতিটি মুহূর্তের সাথে তাল মেলাতে পারে এমন পারফরম্যান্স চান, তাদের জন্য অপো এ৬ নিয়ে এসেছে নতুন মানদণ্ড। ও’ ফ্যানস ফেস্টিভাল ২০২৫-এর পূর্ণ উত্তেজনার মধ্যেই সুবিশাল ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের আলট্রা-লার্জ ব্যাটারি, আইপি৬৯ আলটিমেট ওয়াটার অ্যান্ড ডাস্ট রেসিজট্যান্স এবং সারাদিনের স্মুথ পারফরম্যান্সের জন্য সুপারকুল ভিসি সিস্টেম সহ অপো এ৬’র যাত্রা শুরু হলো।
অপো এ৬’র দীর্ঘস্থায়ী পাওয়ারের মূল কেন্দ্র হলো এর সুবিশাল ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, যা ব্যবহারকারীদের অবাধ বিচরণ ও সবসময় কানেক্টেড থাকার নিশ্চয়তা দেয়। দীর্ঘ দিন ও দীর্ঘ রাতের জন্য ডিজাইন করা এই ব্যাটারি বাস্তব-বিশ্বে ব্যবহারের উপযোগী; এটি ২৯.৭৩ ঘন্টা পর্যন্ত একটানা ইউটিউব প্লেব্যাক ও ২৪ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমো ভয়েস কলের নিশ্চয়তা দেয়। এটি ব্যবহারকারীদের চার্জিং পয়েন্ট খোঁজার পরিবর্তে অভিজ্ঞতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দিতে সহায়তা করে। আর সেরা খবর হলো যে, অপো এ৬ দীর্ঘস্থায়িত্বের জন্য বিশেষভাবে তৈরি; ডিভাইসটি পাঁচ বছর স্বাভাবিক ব্যবহারের পরেও এর ব্যাটারি ৮০ শতাংশেরও বেশি সক্ষম থাকবে। অগণিত পরিকল্পনা, ধারণা ও অ্যাডভেঞ্চারের ক্ষেত্রে এটি নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে।
অপো এ৬’র আইপি৬৯ রেটিং এই দীর্ঘস্থায়িত্বের মানকে আরও বাড়িয়ে তোলে, যা এটিকে এই ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে স্থিতিস্থাপক ডিভাইসগুলোর মধ্যে একটি করে তুলেছে। এটি উচ্চচাপের পানির জেট, পানিতে ডোবা, গরম পানি বা প্রতিদিনের পানি থেকে ফোনটিকে সুরক্ষিত রাখে। এর ইউনিবডি মিড-ফ্রেম এবং মাইক্রোফোন ও স্পিকারকে সুরক্ষা-প্রদানকারী পানিরোধী ব্রেথেবল মেমব্রেন সহ প্রিসিশন সিল, অপো এ৬-কে দৈনন্দিন জীবনের ১৮ প্রকারের তরল, যেমন চা, কফি, দুধ, সাবান পানি ও এমনকি গরম ঝর্ণার পানি থেকেও সুরক্ষিত রাখতে পারে। সুরক্ষার এই স্তরটির অর্থ হলো অপো এ৬ অপ্রত্যাশিত পরিবেশের জন্য তৈরি, তা আকস্মিক বৃষ্টি হোক বা রান্নাঘরের সিঙ্কে অনিচ্ছাকৃত পানির ছিটা; যা আসলে ও’ ফ্যানস ফেস্টিভালের প্রাণবন্ত উৎসবে মনের শান্তি নিশ্চিত করে।
বাস্তব-বিশ্বের পরিস্থিতিতে স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবহার নিশ্চিতে অপো এ৬-এ রয়েছে অপটিমাইজড টাচ চিপ অ্যালগরিদম ও স্প্ল্যাশ টাচ মোড, যা স্ক্রিনে পানি বা হালকা তেল থাকলেও এর স্মুথ অপারেশন নিশ্চিত করে। ডিভাইসটিতে রিভার্স চার্জিং ফিচার রয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনে অন্যান্য স্মার্টফোন বা ইয়ারবাডে চার্জ দেয়ার সুযোগ করে দেয়। যা অপো এ৬-কে একটি নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ পাওয়ার সোর্সে পরিণত করে। এদিকে, এর অনবদ্য ৩৯০০ বর্গমিলিমিটারের ভ্যাপর চেম্বার দিয়ে সজ্জিত সুপারকুল ভিসি সিস্টেম কার্যকর তাপ নিঃসরণ নিশ্চিত করে; ফলে এটি গেমিং, স্ট্রিমিং বা দ্রুত চার্জিংয়ের সময়ও স্মুথ পারফরম্যান্স বজায় রাখে।
অপো এ৬’র পারফরম্যান্সকে ট্রিনিটি ইঞ্জিন এবং ফুল-ডাইমেনশনাল সিন স্মুথনেস অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে আরও উন্নত করা হয়েছে, যা ডিভাইসটিকে অপো ল্যাবের ৬০-মাসের ফ্লুয়েন্সি টেস্ট উত্তীর্ণ করতে সক্ষম করেছে। ডিভাইসটিতে কিউওই এআই স্মার্ট নেটওয়ার্ক সিলেকশনও রয়েছে, যা ভূগর্ভস্থ পার্কিং লট বা ভিড়যুক্ত জায়গার মতো দুর্বল নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রেও সর্বোত্তম নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করে; শক্তিশালী কল স্থায়িত্ব ও কম গেমিং ল্যাগ নিশ্চিত করে।
অপো এ৬-এ ৫০ মেগাপিক্সেল রেয়ার ক্যামেরা ও ফ্রন্ট ক্যামেরা রয়েছে, যেখানে এআই ইরেজার ২.০-এর মতো সর্বাধুনিক এআইজিসি (এআই জেনারেটিভ কনটেন্ট) ফিচার ব্যবহার করে ছবির অবাঞ্ছিত বস্তু মুছে ফেলা যায়; এবং এআই ক্ল্যারিটি এনহ্যান্সারের মাধ্যমে ক্রপ করা ছবিগুলোর বিস্তারিত তথ্য পুনরুদ্ধার করা যায়। এর ডুয়েল-ভিউ ভিডিও ফিচার ব্যবহারকারীদের একই সময়ে ফ্রন্ট ও রেয়ার ক্যামেরা, এই দুটি দিয়েই রেকর্ড করতে দেয়, যা কনটেন্ট তৈরিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেমন ইয়াং বলেন, “অপো এ৬ আমাদের এ-সিরিজের যুগান্তকারী সংযোজন, যা নির্ভরযোগ্যতা ও দীর্ঘস্থায়ী পাওয়ার নিশ্চিত করার জন্যই নিয়ে আসা হয়েছে। এর ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ও আইপি৬৯ রেটিং ব্যবহারকারীদের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে যাওয়া ও সবসময় কানেক্টেড থাকা নিশ্চিত করে। এই উন্মোচন ও’ ফ্যানস ফেস্টিভালের সত্যিকারের চেতনা ‘পাওয়ার টু গো বিয়ন্ড’-কে প্রতিফলিত করে।”
অপো এ৬ অরোরা গোল্ড ও স্যাফায়ার ব্লু’র মতো অনন্য দুটি রঙে নিয়ে আসা হয়েছে। ডিভাইসটি দুইটি ভেরিয়েন্টে বাজারে এসেছে, অপো এ৬ (৬ জিবি + ১২৮ জিবি) যার দাম মাত্র ২৪,৯৯০ টাকা এবং অপো এ৬ (৮ জিবি+ ১২৮ জিবি) যার দাম মাত্র ২৬,৯৯০ টাকা।
যে সকল ক্রেতা অপো এ৬ প্রি-অর্ডার করছেন, তারা ও’ ফ্যানস ফেস্টিভাল লটারি অফারে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এছাড়াও, মিলিয়ন টাকা ড্রিম ট্রিপ, বাই ওয়ান গেট ওয়ান, অপো এনকো বাডস৩ প্রো, অপো ওয়াচ এক্স২, রুম হিটার বা প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর জন্য নিশ্চিত উপহার হিসেবে উইন্টার হুডি সহ নানান আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগ রয়েছে।
আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশের সকল অফিসিয়াল অপো স্টোর ও অনুমোদিত ডিলারদের কাছে পাওয়া যাবে অপো এ৬। আরও বিস্তারিত জানতে অপো বাংলাদেশের ওয়েবসাইট https://www.oppo.com/bd/smartphones/series-a/a6/ বা অপোর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/OPPOBangladesh ভিজিট করুন।



দুর্গাপুর সীমান্তে সক্রিয় পাচারচক্র, কুয়াশার আড়ালে চলছে গরু বানিজ্য

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বানিয়াটারী সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে।

এলাকাবাসীর দাবি, কুয়াশাচ্ছন্ন রাতকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে একটি সংগঠিত চক্র সীমান্ত পেরিয়ে গরুর চালান নিয়ে আসছে এবং পরে সেগুলো লালমনিরহাটের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুয়াশা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাচারকারীরা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রটি নিজেদেরকে বিজিবির সোর্স পরিচয়ে সীমান্ত এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গরুর চালান আনার সময় তারা মাঝে মাঝে বিজিবিকে ২–১টি গরু দিয়ে সহযোগিতা নিলেও বাকি গরুগুলো বাজারে বিক্রি করে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

অভিযোগে আরও উঠে এসেছে,

কাম্পেরটারী এলাকার মোঃ এপাছি ফারুক, দুর্গাপুরের মেডিকেল মোড় এলাকার মোঃ ঢ্যাম্প আশরাফুল, বানিয়াটারীর মোঃ নোচ্চা ফারুক (পিতা: মুক্তার) এবং কুটিবাড়ির মোঃ টেপু মিয়া এই চারজন দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের দাবি।

তাদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটটি সংগঠিতভাবে সীমান্ত পেরিয়ে গরুর চালান আনার কাজ পরিচালনা করে থাকে বলে অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, স্থানীয়রা পাচার বন্ধে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, রাতের টহল জোরদার করা ও নিয়মিত অভিযানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য কমাতে না পারলে সীমান্তের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।




৬৫০০ কোটি টাকার জলবায়ু‑সহনশীল প্রকল্পে পিডি মো. এনামুল কবিরকে ঘিরে জমেছে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার আর অর্থ লোপাটের অভিযোগ।

এসএম বদরুল আলমঃ এই মুহূর্তে আলোচনায় রয়েছে ৬,৫০০ কোটি টাকার জলবায়ু সহনীয়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ক্ষুদ্র পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক (পিডি) মো. এনামুল কবির দীর্ঘ সময় ধরেই ব্যক্তিগতভাবেই এই প্রকল্পকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। প্রায় ৫০০ জন আউটসোর্সিং কর্মী ও কনসালট্যান্ট নিয়োগ, বিলাসবহুল অফিস, ভুয়া বিল — সবকিছু মিলিয়ে এই প্রকল্প এক ধরনের “ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য”তে পরিণত হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়োগের জন্য যারা নেয়া হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই এনামুল কবিরের আত্মীয়-স্বজন বা ঘনিষ্ঠ। প্রতিটি পদে নিয়োগের সময় ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া গেছে। একাধিক স্বজন–নিয়োগ, প্রতিযোগিতা ছাড়াই কাজ পাওয়ার ঘটনা, মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে — প্রশ্ন, এই টাকা কোথা থেকে এল?

অধিক উদ্বেগজনক হলো — অফিসের দৃষ্টিকোণ থেকে। অফিসকে সাজানো হয়েছে রাজকীয় স্টাইলে; বিলাসবহুল ফার্নিচার, প্রিপেইড বিল, ডেকোরেশনের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কোনো নথি জনসমক্ষে দেখা যায় না। বিল দেখানোর প্রয়োজন হলে ভুয়া বিল বা ভাউচার দেখানো হয় বলে অভিযোগ।

এলজিইডির নিজস্ব বড় ভবন থাকা সত্ত্বেও কেন নতুন অফিস ভাড়া নেওয়া হয়েছে — সেটাও প্রশ্নের মুখে। ভাড়া নেওয়া হয়েছে রাজধানীর শেওড়াপাড়ায়, আগোরা ভবনে, যা “কমার্শিয়াল স্পেস” হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু অফিস ভাড়া ও পরিচালনার জন্য কেন অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সব সাজানো হয়েছে — তারও সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এনামুল বা সংশ্লিষ্ট কেউ।

তবে অভিযোগ শুধু অর্থ লোপাট এবং স্বজন চিনে চাকরি দানে সীমাবদ্ধ নয়। বলা হচ্ছে, এনামুল কবিরের বড় ভাইয়ের নামে করা হয়েছে অর্থ লেনদেন। দুই ভাই মিলে কিনেছেন শত শত বিঘা জমি; গ্রামের বাড়ি থেকে শুরু করে নতুন করে তৈরি হয়েছে রাজকীয় একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। এমন ভাবা হচ্ছে, স্বাভাবিক বেতনের চেয়ে অনেক গুণ বেশি সম্পদ গড়েছেন তারা — কিন্তু তার উৎস কি?

অফিজিয়াল অভিযোগ হলো, অফিস পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছে পিএল এমন এক ব্যক্তি, ফরিদ — যিনি প্রকল্প বা সরকারের কোনো অফিসার নন। তারপরও অফিস ব্যবস্থাপনা, কেনাকাটা, রক্ষণাবেক্ষণ — সব দায়িত্ব তার হাতে। সন্ধ্যার পর অফিসে অতিথি, রাতভর আড্ডা; পৃথক একটি কক্ষ রয়েছে তার জন্য। এমনকি বেশ কিছু দিন হয়, সমাজের সচেতন মানুষ বা সাংবাদিকরা চেষ্টা করে অফিসে যাওয়ার — কিন্তু হয় না। অফিসে আছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ফটক, এবং প্রবেশাধিকার পাওয়া যায় শুধুই এনামুল কবিরের অনুমতিতে। নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণ এমন — “মাস্তানসুলভ” — যে, কোনো সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ সেখানে যাওয়ার সাহস পান না। অনেকেই বলছেন, প্রকল্প অফিসে ঢুকতে পারা এমন যেন কোনো মন্ত্রণালয়ের সচিব বা মন্ত্রীর অফিসে ঢোকার সমান ঝামেলার।

এই অভিযোগগুলো শুধু গঞ্জন নয়। ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে, মোহাম্মদ শামীম বেপারী স্বাক্ষরিত চিঠি (নং ৪৬.০০.০০০০.০৬৮.৯৯.০৭১.২৪‑১০৮৭) জারির মাধ্যমে ৩ দিনের মধ্যে তথ্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এই নিয়ে শুধু সাম্প্রতিক নয় — আগেও এনামুল কবিরকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যখন তিনি পূর্বে সিলেটে নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন, সেসময়েও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। পরবর্তীতে LGED‑র প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান‑র অধীনে স্টাফ অফিসার ছিলেন এনামুল — তৎকালীন সময়েও ভুয়া বিল এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকত।

কিন্তু ২০২৩–২৪ অর্থবছরে শুরু হওয়া এই জলবায়ু‑প্রকল্পে পিডি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে আমূল বদলে গেছে পরিস্থিতি। প্রকল্পকে বলা হচ্ছে এখন পিডির ‘ব্যক্তিগত দলে’ পরিণত — নিয়োগ, অর্থের লেনদেন, অফিস পরিচালনা, আর অফিসের হালচাল সবকিছু তার নিজের নিয়ন্ত্রণে।

সংবাদচেষ্টায় গিয়ে যখন এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, এনামুল কবিরকে পাওয়া যায়নি। বরং, তিনি সাংবাদিককে জানিয়েছিলেন — “আমি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নই”। এবং দেওয়া হয়েছে — “দেখে নেওয়ার” হুমকি। এমন আচরণ সামাজিকভাবে আবারও প্রমাণ করলো — শুধু অনিয়ম নয়, ভয়ভীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহার তাঁর সাধারণ হাতিয়ার।

এখন প্রশ্ন হলো — একজন সাধারণ ফরিয়া‑ব্যবসায়ীর ঘর থেকে উঠে আসা মানুষ কীভাবে গড়েছেন এমন বিশাল সম্পদ? কীভাবে নিয়োগ দিয়েছেন স্বজনকে, নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা ঘুষ, সাজিয়েছেন বিলাসবহুল অফিস, নিয়েছেন হেলিকপ্টারে যাতায়াত, এবং গড়েছেন নিজের ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য?

সরকার ইতোমধ্যেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, এবং অফিস ডেকোরেশন, জনবল নিয়োগসহ অন্যmany অনিয়মের বিষয়ে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন কোন তথ্য পাওয়া গেলে, বিষয়টি হয়তো আদালত বা তদন্ত কমিটিতে যেতে পারে।

এই মুহূর্তে, প্রকল্পের সঠিক হিসাব, নিয়োগ‑ভেন্ডরদের তালিকা, বিল ও ভাউচার — এগুলো জনসমক্ষে না আসা পর্যন্ত, অনেক প্রশ্নই থেকে যাবে। আর গ্রামের সেই সাধারণ একজন ফরিয়া‑ব্যবসায়ীর সন্তান থেকে “নতুন জমিদার” হওয়া — এ ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা, আর দায়বদ্ধতার বিরুদ্ধে বড় চ্যালেঞ্জ।




ডিপিডিসির তিন প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়, তদন্তে নেমেছে দুদক

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি—ডিপিডিসিকে ঘিরে এবার বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির অন্তত তিনটি বড় প্রকল্পে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা অনিয়ম ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ উঠতেই ডিপিডিসিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনেকে নাকি চাকরি হারানো বা শাস্তির ভয়েই দিনরাত দুশ্চিন্তায় আছেন। এমনকি কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা দেশের বাইরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও ডিপিডিসির ভেতরের সূত্র জানিয়েছে।

দুদক তিন সদস্যের একটি দলকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে। গত ৫ মে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ডিপিডিসিকে চিঠি দিয়ে তিনটি প্রকল্পের সব নথি—দরপত্র, বিল, চুক্তিপত্র, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, চালানসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ১৪ মে-র মধ্যে জমা দিতে বলে। পরে ডিপিডিসি সাত দিনের অতিরিক্ত সময় চায়, যা শেষ হওয়ার কথা ২১ মে।

যে তিনটি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এই হৈচৈ—
১) পিডিএসডি প্রকল্প (বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন)
২) স্মার্ট মিটার ও উন্নত মিটারিং অবকাঠামো
৩) জিটুজি প্রকল্প (বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ)

দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, জিটুজি প্রকল্পের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ফজিলাতুন্নেসা, আরও কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু–এর সহায়তায় প্রকল্পে নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করা হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউরোপ থেকে যন্ত্রপাতি আনার কথা থাকলেও আসলে সেসব পণ্য আনা হয় চীন থেকে, অনেক কমদামে। অথচ কাগজপত্রে দেখানো হয় উচ্চমূল্য। এতে প্রকল্পের অর্থ বিদেশে পাচারের সুযোগ তৈরি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।

ডিপিডিসির একাধিক সূত্র দাবি করেছে, নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ একজন ব্যবসায়ীকে সুবিধা দিতে ইউরোপের নাম ব্যবহার করে দরপত্র দেওয়া হলেও যন্ত্রপাতি চীন থেকেই আনা হয়। তারা আরো বলেন, প্রকল্পগুলোর মধ্যে কিছু ছিল এমন, যেগুলোর বাস্তব প্রয়োজনই ছিল না; শুধু কমিশন ও ব্যক্তিগত সুবিধার আশায় এসব নেওয়া হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া নাকি অনেক ক্ষেত্রেই ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। টার্নকি ভিত্তিতে কাজ দেওয়ার পরও বাস্তবে নানান ত্রুটি ছিল।

আরও অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় ডিপিডিসি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা—যাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুই মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস ও আবুল কালাম আজাদ, ডিপিডিসির সাবেক দুই এমডি, জিটুজি প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমানসহ কিছু প্রভাবশালী প্রকৌশলী—এই অনিয়মে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা।

ডিপিডিসির কয়েকজন সাধারণ প্রকৌশলী জানান, জিটুজি প্রকল্প আসলে ডেসকোতে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। সে সময়কার প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বেশ চাপ প্রয়োগ করেছিলেন বলেও তাদের দাবি। কিন্তু ডেসকো গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত এটি ডিপিডিসির উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। প্রকৌশলীরা বলেন, কাগজে-কলমে এই প্রকল্পের অনেক কাজকে জনস্বার্থের বলে দেখানো হলেও বাস্তবে তেমন প্রয়োজন ছিল না। একটি দরিদ্র দেশের জন্য এই ধরনের ব্যয়বহুল প্রকল্প অযৌক্তিক বলেই তারা মনে করেন।

তাদের অভিযোগ—প্রকল্পটি মূলত নেওয়া হয়েছিল নানা ধরনের লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতে। রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল, আমলা এবং প্রকল্পে যুক্ত কিছু কর্মকর্তা নাকি এই সুযোগে মোটা অঙ্কের টাকা বানিয়েছেন।

দুদক জানিয়েছে, অভিযুক্ত বর্তমান ও সাবেক অনেক কর্মকর্তা এখন গোয়েন্দাদের নজরদারিতে রয়েছেন।

ডিপিডিসির পক্ষ থেকে তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ না দিলে এ বিষয়ে আমরা মন্তব্য করতে পারি না।”

এই অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, বিশ্লেষকদের মতে এটি বিদ্যুৎ খাতের আরেকটি বড় কেলেঙ্কারি হিসেবে ধরা পড়বে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জিটুজি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফজিলাতুন্নেসার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।




গণপূর্তের প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানকে ঘিরে সম্পদ ও প্রকল্প–অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড়

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সার্কেল–৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানকে ঘিরে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন—তার জীবনযাপন, সম্পত্তি আর আর্থিক লেনদেন তার সরকারি বেতন–ভাতার সঙ্গে কোনোভাবেই মিলছে না। তাদের মতে, তিনি যত সম্পদের মালিক হয়েছেন, তার অনেকটাই “স্বাভাবিক আয়ের উৎস দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।”

অভিযোগে বলা হয়, ঢাকার মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে প্রায় ৩৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, পশ্চিম আগারগাঁওয়ের ৬০–ফিট রোডের মাথায় চারতলা একটি ভবন, এবং বনশ্রী আমুলিয়া এলাকায় জমি—এসব সম্পত্তির মালিকানা তার নামে বা তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষায়, একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নিয়মিত বেতনে এত বড় সম্পদ গড়ে তোলা “বাস্তবে সম্ভব নয়।”

শুধু সম্পদই নয়, প্রকল্প সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ই/এম সার্কেল–৩ এর কিছু প্রকল্পে বিল পরিশোধ, সরঞ্জাম কেনা, কাজের মান যাচাই আর টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। তাদের একজন উল্লেখ করেন যে, একটি প্রকল্পে ১৭ কোটি ৮ লাখ টাকার বেশি বিল প্রক্রিয়ায় অনিয়ম পাওয়া গেছে বলে তাদের নথিতে দেখা যায়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কিছু অভ্যন্তরীণ সূত্রের কথায়ও একই ধরনের অভিযোগ শোনা যায়। তাদের দাবি—মাহবুবুর রহমান কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতেন, কোন ঠিকাদার কাজ পাবেন বা বাজেট কীভাবে সমন্বয় হবে—এসব বিষয়ে তিনি অস্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ রাখতেন। এমনকি সরকারি যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের টাকা ব্যক্তিগতভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ এসেছে।

একজন সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—এ ধরনের অভিযোগ খুবই গুরুতর, এবং প্রাথমিক তথ্য মিলে গেলে অবশ্যই তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহার বা আর্থিক কারসাজি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, কোনো সরকারি কর্মচারীর আয়–ব্যয়ের মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তারা প্রথমে প্রাথমিকভাবে যাচাই করেন, এরপর প্রয়োজন হলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে মাহবুবুর রহমানের সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে অনেকদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল যে, প্রকল্প অনুমোদন, টেন্ডার বণ্টন, বিল প্রক্রিয়াকরণ—এসব জায়গায় তিনি প্রভাব খাটান। অনেকে ভয়ের কারণে প্রকাশ্যে কিছু বলেন না, তবে গোপনে তথ্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

সর্বশেষ প্রশ্নটি এখনো সবার মুখে—তার সম্পদের প্রকৃত উৎস কী? অভিযোগকারীদের মতে, তার সম্পত্তির পরিমাণ এখন “শত কোটি টাকার কাছাকাছি” হতে পারে, যার কোনো স্বচ্ছ উৎস তাদের কাছে পরিষ্কার নয়।

এই অভিযোগগুলো এখন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে ও বাইরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগগুলো সত্য কিনা, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। মাহবুবুর রহমানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।




শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঢাকার সকাল

আবহাওয়া ডেস্কঃ সারাদেশের মতো রাজধানী ঢাকায়ও শীতের আমেজ বাড়ছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।  

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনের প্রথমার্ধে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক। অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক থাকবে।

এই সময় উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ছিল ৬২ শতাংশ। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ২৭ মিনিটে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।

অন্যদিকে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এছাড়া ভোরের দিকে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে।




খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে হাসপাতালে তিন বাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন দেশের তিন বাহিনীর প্রধানগণ। 

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে একে একে সেখানে পৌঁছান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত। তবে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হয়। এরপর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।