ডুবে থাকা রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করা হবে: রেল প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া রেলপথ ভবিষ্যতে ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইনের উচ্চতা বাড়ানোর কাজের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকা রেললাইন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, প্রশাসন ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
টানা বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর থেকে জানালিহাট সেকশনের প্রায় চার কিলোমিটার রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ পথে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে।

রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেললাইন ৫ ফুট উঁচু করা হলে ভবিষ্যতে ৩ ফুট পর্যন্ত পানি বাড়লেও ট্রেন চলাচলে সমস্যা হবে না। তিনি জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণকে সামনে রেখে কোথায় কতটুকু পানি জমছে, সে তথ্যও সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়।

চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুদিন যাবৎ যে বৃষ্টি হচ্ছে তা রেকর্ডসংখ্যক। অনেকে বলছেন গত ৪৫ বছরেও এত বৃষ্টি চট্টগ্রামে হয়নি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে রেললাইন উঁচু করা, যাতে ভারী বৃষ্টি হলেও রেল চলাচল বিঘ্নিত না হয়।

রেলপথ নির্মাণে কোনো ত্রুটি নেই দাবি করে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ৪৫ বছর আগে এ রকম বৃষ্টি হয়েছিল। আমরা এটা রেকর্ড রাখছি বৃষ্টিতে রেললাইন কী পরিমাণ ডুবে যাচ্ছে। কোথাও দুই ফুট, কোথাও তিন ফুট। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উঁচু করা, যাতে ডুবে না যায়। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় রেললাইন উঁচু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাবিবুর রশিদ আরও বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পানির মধ্যে ট্রেন চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যেসব যাত্রী টিকিট কেটে ভ্রমণ করতে পারেননি, তাদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।




চাকরির এক দশকে শতকোটি টাকার সম্পদ, ঘুষ, সিন্ডিকেট ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগে আলোচনায় কাস্টমস কর্মকর্তা তুহিন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অধীন কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা তুহিন চৌধুরীকে ঘিরে একের পর এক দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি রংপুর ভ্যাট কমিশনারেটে কর্মরত থাকলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মাত্র এক দশকের চাকরিজীবনেই তিনি শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি চাকরির বৈধ আয়ের সঙ্গে তার সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই।

অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ২০১৪ সালে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তুহিনের প্রথম কর্মস্থল ছিল যশোর ভ্যাট কমিশনারেট। সেখানে প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী সূত্রের দাবি, বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অর্থ আদায় করা হতো।

২০১৬ সালে তার বদলি হয় তৎকালীন ঢাকা বন্ড কমিশনারেটে, যা বর্তমানে দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেট নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, এই পদায়নের জন্য তিনি বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেন। এরপর বন্ড কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফাইল আটকে রাখা, ছাড়পত্র দিতে ঘুষ দাবি এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় ছিল নিয়মিত ঘটনা। অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এক পর্যায়ে তাকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্তও করা হয়। তবে পরে তিনি পুনরায় কাজে যোগ দেন এবং আগের মতোই প্রভাব খাটিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যান বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, বন্ড কমিশনারেটে কর্মরত থাকাকালীন সময়েই রাজধানীর রামপুরায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনেন তুহিন। একই সময়ে নেত্রকোনার বারহাট্টায় তার পরিবারের সদস্যদের নামে জমিসহ বাড়ি কেনা হয়। এছাড়া সেখানে একটি পার্ক নির্মাণ এবং প্রায় ২০ বিঘা জমি ক্রয়েরও অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানকারী সূত্রগুলোর দাবি, ওই সময়েই তার সম্পদের পরিমাণ কয়েক দশ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়।

পরবর্তীতে সিলেটের তামাবিল শুল্ক স্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারী পণ্যবাহী ট্রাক থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হতো এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করতেন তিনি। একই সঙ্গে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এক পর্যায়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে মদসহ আটক হওয়ার ঘটনাও ঘটে। এছাড়া সিলেটে অর্জিত অবৈধ অর্থ গ্রামের একটি মুদি দোকানের ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের অভিযোগও রয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অর্থ দিয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোন পণ্য কখন খালাস হবে, কোন ফাইল আগে নিষ্পত্তি হবে কিংবা কোন আমদানিকারককে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হবে—এসব বিষয় ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো। একাধিক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীর দাবি, বিভিন্ন পণ্য ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশনারের নাম ব্যবহার করে ঘুষ আদায় করতেন তুহিন। এছাড়া কাস্টমস হাউসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের পছন্দের লোক বসাতে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, চট্টগ্রামে কর্মরত অবস্থায়ও তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেন এবং রাজধানীর গুলশানে একটি অভিজাত ফ্ল্যাট কেনেন।

তুহিনের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বারোঘর গ্রামে। তার বাবা মৃত চন্দন চৌধুরী একজন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং মা নিলিমা দেবনাথ ছিলেন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বড় ভাই তুষার চৌধুরী ও বড় বোন বাণী চৌধুরীও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মেজ ভাই সরকারি কলেজের শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, বাড়ি, ব্যাংকে এফডিআর ও ডিপিএসসহ বহু সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, স্বল্প সময়ে এত সম্পদ অর্জন তাদের কাছেও বিস্ময়ের বিষয়।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে তুহিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১২ সালে প্রথম বিয়ে করলেও পরবর্তীতে চাকরিসংক্রান্ত সুবিধার জন্য সেই বিয়ের তথ্য গোপন করেন। পরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় আরেকজন বিবাহিত নারীকে বিয়ে করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর গুলশানের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টমস ও ভ্যাট কর্মকর্তা তুহিন অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে কম-বেশি অনেকেরই অবৈধ সম্পদ রয়েছে। নিজের সম্পদের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনাকে কি উত্তর দিতে হবে? দুদকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিষয়টি দেখবে। আপনি দেখার কে?”—এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।




১২ বছরের চাকরিতে শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ, কাস্টমস কর্মকর্তা আলতাফকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকে ঘিরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র ১২ বছরের চাকরি জীবনে তিনি শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নামে এবং স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট, প্লট, স্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার ফুলহাতা গ্রামে তার নির্মিত বিলাসবহুল বাড়িও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তথ্য অনুযায়ী, আলতাফ হোসেন ২০১৪ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ছিলেন ড. শহিদুল ইসলাম। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সময় আলতাফ হোসেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিভিন্ন অভিযানে প্রভাব বিস্তার করতেন এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘুষ, তদবির ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটে তিনি নিয়মের চেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। যেখানে সাধারণত একটি পদে ছয় মাসের বেশি থাকার নিয়ম না থাকলেও তিনি প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় সেখানে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। ওই সময়ে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত বিভিন্ন ফাইল নিষ্পত্তি, পণ্য ছাড় এবং তদন্ত কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে তৎকালীন শুল্ক গোয়েন্দা প্রধানও অবগত ছিলেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, দশম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মকর্তার চাকরিজীবনে বৈধ আয়ের সঙ্গে তার বর্তমান সম্পদের কোনো মিল পাওয়া যায় না। হিসাব অনুযায়ী গত এক যুগে তার মোট সরকারি বেতন ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ তিনি ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লটের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকার ৩০০/১ পূর্ব রসুলপুরে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং রসুলপুরের মাস্টারবাড়িতে নির্মাণাধীন ১১ তলা ভবনের নবম তলায় আরেকটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিভিন্ন স্থানে সম্পদ এবং ফিক্সড ডিপোজিট থাকারও দাবি করা হয়েছে।

বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার ফুলহাতা গ্রামে আলতাফ হোসেনের বাড়ি। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ায় এলাকায় তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরিতে মুন্সীগঞ্জ কোটার সুবিধা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন।

সম্প্রতি এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনেও আলতাফ হোসেনের সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আন্দোলন পরিচালনা ও সংগঠিত করতে তিনি এবং তার ঘনিষ্ঠ একটি সিন্ডিকেট বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন এবং সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়ে ভিডিও ফুটেজও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আরও অভিযোগ রয়েছে, এনবিআরের একজন সাবেক প্রভাবশালী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুপারিশে আলতাফ হোসেনের সরকারি চাকরি হয়। পরবর্তীতে সেই কর্মকর্তার প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে নিজের ক্ষমতা বিস্তার করেন এবং ঘুষ, তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এভাবেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

চাকরি জীবনে কিশোরগঞ্জ, খুলনা, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করেছেন আলতাফ হোসেন। চট্টগ্রামে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত ফাইল নিষ্পত্তিতে ঘুষ ছাড়া কাজ করেন না—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সিএন্ডএফ এজেন্ট। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অর্থ না দিলে ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করা হতো। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নতুন কমিশনার তাকে অন্যত্র বদলির সিদ্ধান্ত নেন বলেও জানা গেছে। এরপর সেই বদলি ঠেকাতে এনবিআরের বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালানোর অভিযোগও উঠেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে আলতাফ হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার না করে দুটি ফ্ল্যাট থাকার কথা স্বীকার করেন। এছাড়া তার আরও সম্পদ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ফোনালাপে তিনি দুদক ও এনবিআরকে অর্থের মাধ্যমে প্রভাবিত করার কথাও বলেছেন। তবে এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ এখন সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




তীব্র গরমে মক্কা ও মদিনাতে বিশেষ সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ধূলিঝড় ও বজ্রবৃষ্টি এবং মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের কিছু অংশে দিনের বেলায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে নতুন সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। এমতাবস্থায় বাসিন্দা ও ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মক্কা ও মদিনার পাশাপাশি আল-জাওফ, উত্তর সীমান্ত অঞ্চল, হাইল, আল-কাসিম, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল এবং নাজরানের কিছু এলাকায় ধুলা ও বালুবাহী প্রবল বাতাস বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

এদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও আবহাওয়া অস্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জাজান, আসির ও আল-বাহা অঞ্চলের কিছু অংশ এবং মক্কার দক্ষিণাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় সক্রিয় বাতাসের সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




পে-স্কেল: প্রস্তুত সুপারিশে অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পেলেই পাঠানো হবে মন্ত্রিসভায়

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের আগে এখন কেবল অর্থমন্ত্রীর সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সবুজ সংকেত মিললেই তা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এই লক্ষ্যে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই সুপারিশগুলো মন্ত্রিসভায় তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অর্থ বিভাগকে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সোমবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রক্রিয়াটির সঙ্গে জড়িত সূত্রগুলোর বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

উচ্চপর্যায়ের কমিটির একজন সদস্য জানান, আসন্ন মন্ত্রিসভার বৈঠকে যদি বিষয়টি উপস্থাপন করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে যেন এর পরের সপ্তাহের সভায় অবশ্যই তা তোলা হয়— এমন সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশগুলো এর আগের বৈঠকেই চূড়ান্ত হয়েছিল। মূলত বিচার বিভাগ সংক্রান্ত কিছু কারিগরি বিষয়ের সমাধান করতেই সোমবার অতিরিক্ত বৈঠকটি ডাকা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দেশের রাজস্ব আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সুপারিশগুলো তৈরি করেছে কমিটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে শুধু মূল বেতন কার্যকর হবে এবং আগামী অর্থবছর থেকে বিভিন্ন ভাতা প্রদান করা হবে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী অষ্টম পে-স্কেলের মতো নবম পে-স্কেলটিও দুই ধাপে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন, নতুন এই বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট আইনি ও কারিগরি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বেশ কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। ফলে বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে সরকারি কর্মচারীদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। অতীতেও একই ধরনের বিলম্বের নজির রয়েছে। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে অষ্টম পে-স্কেল কার্যকর হলেও কর্মচারীরা তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বর্ধিত বেতন পেয়েছিলেন সে বছরের ডিসেম্বরে।

বেসামরিক, সামরিক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমন্বয় করতে কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে। সেসব বৈঠকের ফসল হিসেবে সমন্বিত এই প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে এবং তা এখন মন্ত্রিসভার পর্যালোচনার জন্য প্রস্তুত।

প্রস্তাবিত সুপারিশ অনুযায়ী, ১ থেকে ১০ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতনে ১০০ শতাংশ বা এর কাছাকাছি পরিমাণ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ওপর ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা এবং ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেয়ে থাকেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলে বর্ধিত বেতনের সঙ্গে বিদ্যমান এই সুবিধাগুলো সমন্বয় করা হবে। ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকার প্রায় ১৪ লাখ কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ বছরে প্রায় এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে থাকে।




দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

আবহাওয়া ডেস্কঃ রাজধানীসহ দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, গতকাল রাতে প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে পূর্বাভাসে।

এছাড়াও আজ সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ, টিকিটের টাকা ফেরত

ডেস্ক নিউজঃ টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। 

বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটির চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা বাতিল করে আজকে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।

এদিকে, আজ ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ভোররাত থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনে অপেক্ষমাণ রয়েছে। ষোলশহর-জানআলীহাট সেকশনে রেললাইনের ওপর জমে থাকা পানির উচ্চতা কমে না আসা পর্যন্ত ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হবে না।

আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে যারা টিকিটের মূল্য ফেরত নিতে চান, তারা চট্টগ্রাম স্টেশনের কাউন্টার থেকে টাকা ফেরত নিতে পারবেন।আর যারা ঢাকায় ফিরতে চান, তারা বিকেল ৪টায় একই কক্সবাজার এক্সপ্রেসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারবেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।




সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ ২১ হাজারের বেশি পদ শূন্য: সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি দপ্তরে বর্তমানে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি চাকরিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

তিনি আরও জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন শীর্ষ পর্যায়ের পদগুলোর মধ্যে সিনিয়র সচিব ও সচিবের ৬৯টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৬৭ জন। অতিরিক্ত সচিবের ৩৬৮টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৩৭৮ জন, যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১ হাজার ৬৪৫ জন।

সব মিলিয়ে এই চার স্তরে ৩ হাজার ৭৯৮টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা।

অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী অনুমোদিত পদের বাইরে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই।




যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তাপপ্রবাহে তিন দিনে ৩৩ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। স্মরণকালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহ এবং প্রচণ্ড গরমে দেশটিতে গত তিনদিনে (৩ জুলাই-৫ জুলাই) ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্কে তিনজন এবং নিউজার্সিতে ৩০ জনের প্রাণহানি হয়।

নিউজার্সির স্বাস্থ্য দফতর এবং নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এ তথ্য জানিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন অসহনীয় তাপদাহের আশংকা আগেই করা হয় এবং সর্বসাধারণকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হবার পরামর্শও দেয়া হয়েছিল।

স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তারা আরো উল্লেখ করেছেন যে, তাপদাহের ভিকটিমদের বয়স ৩০ বছর থেকে ৮০ বছরের মধ্যে।

উল্লেখ্য, উপরোক্ত সময়ে তাপ মাত্রা উঠেছিল ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপর। নিউজার্সি স্টেটের স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রধান ডালিয়া ইওয়াইজ উল্লেখ করেন, তাপদাহের ব্যাপারটি এতটাই চরমে উঠেছিল যে, অনেকে তা কল্পনাও করতে পারিনি। গাড়ি চালানোর সময় এবং নিজ বাসায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকার ভিকটিম হয়েছেন প্রায় সকলেই। এছাড়া দুয়েকজনের প্রাণহানী ঘটেছে পূর্ব সতর্কাবস্থা অগ্রাহ্য করে বাইরে বের হওয়ায়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় অসহনীয় তাপদাহের মধ্যেই ঘন্টায় ৭১ মাইলেরও অধিক গতিতে ঝড়ো হাওয়া এবং প্রবল বর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে নিউজার্সির কোন কোন এলাকায়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নিউজার্সি, নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট-সহ আশেপাশের বেশ কটি স্টেটে এক লাখ ৮৫ হাজার বাসা, ব্যবসা এবং অফিস-আদালত বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটিতে প্রচন্ড গরমে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে জরুরী বিভাগে যাবার পর তিনজনের মৃত্যু এবং আরো কমপক্ষে ১৪৬ জনকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৭ সালের পর এটাই প্রথম অবিশ্বাস্য রকমের তাপদাহ প্রবাহিত হবার পর। অপরদিকে, নিউজার্সিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৩১ জন।

উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সি, নিউইয়র্ক অঞ্চলে অসহনীয় তাপদাহের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও উপস্থিতির হার কমেছিল। ৪ জুলাই ছিল স্বাধীনতা দিবস।




বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো তেল ও গ্যাসের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী জাহাজে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও গ্যাস ও অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। খবর আল জাজিরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইউরোপের বেঞ্চমার্ক প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা ৪৬ ইউরোতে (প্রায় ৫২ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার) পৌঁছায়। আগের দিনের দরপতনের পর নতুন করে সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কায় বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি দাবি করেছে, সতর্কবার্তা অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ায় এলএনজি বহনকারী জাহাজটি হামলার শিকার হয়। তবে এ ঘটনার সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।