সরকার পাল্টেছে, ঠিকাদারি নেটওয়ার্ক রয়ে গেছে: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্যের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ঠিকাদারি বাণিজ্য ঘিরে ভিন্ন এক চিত্রের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি—বিগত আওয়ামী আমলে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে তারা অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও সরবরাহ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, অতীতে যেসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা, কেন্দ্রীয় মুরগি খামার, সাভার ডেইরি ফার্ম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে একচেটিয়া ব্যবসা করত, তাদের অনেকেই এখনো বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।

পুরোনো সিন্ডিকেটের নতুন পরিচয় : একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালকদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প—ছাগল উন্নয়ন প্রকল্প, প্রুভেন বুল প্রকল্প, ছিটমহল প্রকল্প, সাভার ডেইরি ফার্ম, কেন্দ্রীয় মুরগি খামার, কুমিল্লা মুরগি খামার, নারায়ণগঞ্জ হাঁস খামার, সীতাকুণ্ড হাঁস-মুরগি খামার, হাটহাজারী ডেইরি ফার্মসহ দেশের বিভিন্ন খামারে একই গোষ্ঠীর ঠিকাদারদের আধিপত্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দরপত্রে এমন সব শর্ত সংযুক্ত করা হচ্ছে যা নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেয়। এর ফলে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে একক দরদাতা কাজ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

দরপত্র মূল্যায়নে ‘একই মুখ’ :
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় যেসব কর্মকর্তা অধিকাংশ দরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করতেন, তাদের কয়েকজন এখনও গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, কিছু ক্ষেত্রে নিয়মনীতি ও সরকারি ক্রয়বিধির যথাযথ অনুসরণ না করে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাকে ঘিরে বিতর্ক :
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক নন-ক্যাডার ৯ম গ্রেডের ভেটেরিনারি সার্জনকে ঘিরেও নানা অভিযোগ উঠেছে। একাধিক কর্মকর্তার দাবি, তাকে অসংখ্য দপ্তরের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য কিংবা সভাপতি করা হয়েছে।

কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) সম্পর্কে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই কর্মকর্তার জন্য সার্বক্ষণিক সরকারি গাড়ি বরাদ্দ রয়েছে এবং সেই গাড়ি ব্যক্তিগত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেও তিনি আলোচনায় রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।

নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ :
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, ওই কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নাম বিভিন্ন প্রকল্পে উঠে এসেছে।

সূত্রের দাবি, প্রায় ৯৮ লাখ টাকার একটি ওষুধ সরবরাহ প্যাকেজে একক দরদাতা হিসেবে একটি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রে প্রয়োজনীয় কিছু নথিপত্র না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটিকে যোগ্য ঘোষণা করা হয়। আরও অভিযোগ রয়েছে, কয়েক মাস আগে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওষুধ সরবরাহ সম্পন্ন হয়নি, ফলে প্রকল্পের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নিম্নমানের পশুখাদ্য ও খাদ্যশৃঙ্খলে নীরব বিপদ ?
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে পশুখাদ্য সরবরাহ নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কয়েক কোটি টাকার পশুখাদ্য সরবরাহের কাজে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে, যার সঙ্গে দরপত্রে জমা দেওয়া নমুনার মিল নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নমানের বা ভেজাল পশুখাদ্যে অতিরিক্ত রাসায়নিক, ছত্রাকজনিত বিষাক্ত উপাদান, নিম্নমানের কাঁচামাল বা দূষিত উপাদান থাকলে তা পশুর স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর প্রভাব পরবর্তীতে দুধ, মাংস ও ডিমের মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পশুখাদ্যে নিম্নমানের উপাদান ব্যবহারের ফলে— প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। দুধ ও মাংসের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খাদ্যদূষণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। খাদ্যনিরাপত্তা ও জনআস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। খামার সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, বিভিন্ন খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে স্বতন্ত্র পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব।

কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ :
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সৎ কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করতে পারছেন না। তাদের দাবি, বিগত সরকারের সময় গড়ে ওঠা প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভেঙে না দিলে অধিদপ্তরে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে না।

তদন্তের দাবি : সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ মন্ত্রণালয়, সচিবালয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি বিষয়ে জরুরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন— গত এক বছরে সকল বড় সরবরাহ কাজের নিরীক্ষা। পশুখাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাধীন ল্যাব পরীক্ষার ব্যবস্থা। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা।একক দরদাতা হিসেবে প্রাপ্ত প্যাকেজগুলোর তদন্ত। সরকারি যানবাহারের ব্যবহার ও প্রশাসনিক সুবিধার নিরীক্ষা। এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের আর্থিক ও প্রশাসনিক যোগসূত্র অনুসন্ধান।

শেষ কথা : সরকার পরিবর্তনের পরও যদি পুরোনো সিন্ডিকেট নতুন পরিচয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ ও জনস্বার্থের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে সেটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে পশুখাদ্যের মান যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। কারণ, খামারে সরবরাহ হওয়া নিম্নমানের খাদ্যের প্রভাব শেষ পর্যন্ত পৌঁছায় সাধারণ মানুষের খাবারের টেবিলে।




অভিযোগ নাকি চরিত্রহননের কৌশল?’— আরিফ হাসনাতকে ঘিরে একতরফা প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) এ কে এম আরিফ উদ্দিন ওরফে আরিফ হাসনাতকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, যাচাই-বাছাই ছাড়াই একতরফাভাবে একজন কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মৌলিক শর্ত হচ্ছে তথ্যের বহুমাত্রিক যাচাই, নথিপত্র বিশ্লেষণ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য যথাযথভাবে তুলে ধরা। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে অভিযোগের ভাষাই যেন রায়ে পরিণত হয়েছে।

‘দুই হাজার কোটি টাকার লুট’— কোথায় সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদন ?

প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ‘পানির দামে’ বিক্রির অভিযোগ আনা হলেও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদন, আদালতের পর্যবেক্ষণ বা তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে—দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থায় কীভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘লুটেরা’, ‘সিন্ডিকেট প্রধান’ বা ‘দুর্নীতির হোতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলো।

অনুসন্ধান মানেই অপরাধ প্রমাণ নয় : দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণ করে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই অনুসন্ধান পরিচালিত হয়। অথচ কিছু প্রতিবেদনে অনুসন্ধানকে চূড়ান্ত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মনে করছেন গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা।

ব্যক্তিগত জীবন টেনে আনার উদ্দেশ্য কী?

আরিফ হাসনাতকে ঘিরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা কথিত ভিডিও সংক্রান্ত যেসব দাবি প্রচার করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা কোথাও নিশ্চিত করা হয়নি। ভিডিওর উৎস, সময়, প্রেক্ষাপট কিংবা ফরেনসিক যাচাই ছাড়াই এসব তথ্য প্রকাশের প্রচেষ্টা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক সাংবাদিকতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

সাংবাদিক মহলের একাংশের মতে, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার অভিযোগ :
প্রতিবেদনগুলোতে বারবার অতীত রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ধরা হলেও এ বিষয়ে কোনো প্রামাণ্য নথি বা আনুষ্ঠানিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে অনেকেই এটিকে প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

প্রশ্নের মুখে একতরফা সাংবাদিকতা : গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু তদন্তের আগেই তাকে অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চরিত্রহননের দায়ও সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।

এখন প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত:
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আরিফ হাসনাতকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো যেমন নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে, তেমনি অভিযোগভিত্তিক একতরফা প্রচারণার উৎস, উদ্দেশ্য ও পেছনের স্বার্থও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে যেকোনো অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন যেমন জরুরি, তেমনি কোনো ব্যক্তিকে প্রমাণ ছাড়া ‘দুর্নীতির প্রতীক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রবণতাও গণমাধ্যম ও সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।

অনুসন্ধানের চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এটি কি সত্যিই একটি বৃহৎ দুর্নীতির কাহিনি, নাকি প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাতে গড়ে ওঠা একটি পরিকল্পিত চরিত্রহননের অভিযান ?




ডিজিটাল কারসাজির অভিযোগ: আরিফ উদ্দিনকে হয়রানির চেষ্টা চলছে বলে দাবি ঘনিষ্ঠদের

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন কনটেন্ট ও এআই প্রযুক্তিনির্ভর ভিডিও নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ঘনিষ্ঠজন ও সংশ্লিষ্ট মহল।

তাদের দাবি, একাধিক ফেসবুক আইডি থেকে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ভিডিও, ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে ওই কর্মকর্তাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত ভিডিও এবং যাচাইবিহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অতীতেও একটি চক্র একই ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছিল। বর্তমানেও একই কৌশলে বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিও ও অডিও পরিবর্তন বা সম্পাদনা করা তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠেছে। ফলে কোনো ভিডিও বা ডিজিটাল কনটেন্টের সত্যতা যাচাই ছাড়া তা প্রচার করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে আরিফ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন কনটেন্টের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন এবং এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। এ বিষয়ে আরিফ উদ্দিন মতিঝিল থানায় একটি জিডি করেছেন, জিডি নং- ১৬৫৩।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত। একইসঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য, এআই-নির্মিত ভিডিও বা সম্পাদিত কনটেন্ট ছড়িয়ে কারও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

আইনজীবী ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্যকে প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার আগে তার উৎস, সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় তা ব্যক্তি অধিকার, গোপনীয়তা ও সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। তাদের মতে, যদি কোনো অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি থাকে তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর যদি অপপ্রচার বা ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে কাউকে হয়রানি করা হয়ে থাকে, তবে দায়ীদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গুজব, অপপ্রচার ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।




সৌদি বধের রাতে ধূলিসাৎ মেসির ১৮ বছরের অহংকার, ইয়ামালের পাশে এখন শুধুই পেলে

ক্রীড়া ডেস্কঃ লিওনেল মেসির ১৮ বছর পুরনো এক ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নতুন কীর্তি গড়লেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সে ফিফা বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড। এর মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মেসির চেয়ে ঠিক ১৪ দিন কম বয়সে বিশ্বকাপে প্রথম গোলের দেখা পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন, এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে মেসি যখন প্রথম গোল করেছিলেন তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৫৭ দিন। একই সাথে ব্রাজিলের মহানায়ক পেলের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রথম গোল করার অনন্য রেকর্ডও ছুঁয়েছেন ইয়ামাল।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রবিবারের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইয়ামালের রেকর্ড গড়া গোলের ওপর ভর করে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন। প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র করার ধাক্কা সামলে এই জয়ে টুর্নামেন্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ইয়ামালরা। ম্যাচের ১১তম মিনিটেই স্পেনের হয়ে গোল উৎসবের সূচনা করেন ইয়ামাল।

অপটার (Opta) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই গোলের পর লামিন ইয়ামাল বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার যিনি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সে ফিফা বিশ্বকাপ এবং উয়েফা ইউরো—উভয় বড় টুর্নামেন্টেই গোল করার অনন্য নজির স্থাপন করলেন। শুধু তাই নয়, ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিরুদ্ধে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে দেশের হয়ে প্রথম ওপেনিং গোল করার কীর্তি গড়েছিলেন। পেলের দীর্ঘ ৬৮ বছর পর ইয়ামালই প্রথম অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলার যিনি বিশ্বকাপের ম্যাচে দেশের হয়ে প্রথম গোলটি করলেন।

স্পেন জাতীয় দলে এই কিশোর তারকার প্রভাব কতটা, তা ফুটে ওঠে আরেকটি পরিসংখ্যানে। ইয়ামাল শুরুর একাদশে থাকা ২১টি ম্যাচের একটিতেও হারেনি স্পেন; যার মধ্যে ১৫টিতেই জয় এবং ৬টি ড্র। এই ২১ ম্যাচে স্পেনের করা ৬০টি গোলের মধ্যে ১৬টি গোলেই সরাসরি অবদান রেখেছেন ইয়ামাল, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি গোল ও ১১টি অ্যাসিস্ট।

সূত্র: দ্যা স্টেটস ম্যান




ভয়াবহ বিস্ফোরণে কাঁপলো কাতার, আহত অর্ধশতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের একটি প্রধান গ্যাসক্ষেত্রে আকস্মিক ও শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মানুষ সম্পূর্ণ নিখোঁজ রয়েছেন। 

রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই বিকট বিস্ফোরণটি ঘটে, যার তীব্রতায় রাজধানী দোহাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আবাসিক ঘরবাড়ির দরজা ও জানালা জোরে কেঁপে ওঠে।

ভয়াবহ এই ঘটনার পর পরই কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে দেশের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র রাসলাফফানের অভ্যন্তরে একটি কারিগরি বা টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে এই আকস্মিক বিস্ফোরণের উৎপত্তি হয়েছিল। ঘটনার পরপরই কাতার পুলিশ ও উদ্ধারকারী বিশেষ বাহিনী দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

বিস্ফোরণের তীব্রতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল এবং অনেকেই প্রাথমিক মুহূর্তে এটিকে শক্তিশালী ভূমিকম্প কিংবা নতুন কোনো সামরিক হামলা বলে ভুল করেছিলেন। তবে কাতার কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে রাসলাফফান গ্যাসক্ষেত্রের দুর্ঘটনাস্থলের বাইরে কোনো ধরনের ক্ষতিকারক গ্যাস বা অন্য কোনো বিপজ্জনক রাসায়নিক উপাদান লিক হয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়েনি।

সূত্র: গালফ নিউজ ও সিনহুয়া




বিআইডব্লিউটিসিতে ক্ষমতার প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ, নজরে পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামানকে ঘিরে নানা অভিযোগের কারণে আবারও আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার, জাহাজ মেরামতের কাজে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিআইডব্লিউটিসির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে আশিকুজ্জামান প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছেন। বিশেষ করে সংস্থার জমি, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, করপোরেশনের সম্পদ রক্ষার বদলে কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছে। এ নিয়ে বিআইডব্লিউটিসির ভেতরেও একাধিকবার অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তার চাকরিজীবনের পদোন্নতির বিষয় নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, এস এম আশিকুজ্জামান এজিএম ফিডার পদে নির্ধারিত সময় পূর্ণ করার আগেই ২০১৫ সালে ডিজিএম (সাময়িক) পদে দায়িত্ব পান। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত বিধিমালায় এমন পদোন্নতির সুযোগ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পরে ডিজিএম পদে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই তিনি আরও উচ্চ পদে দায়িত্ব পান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

২০১৮ সালে তিনি বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার প্রভাব আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, ওই সময় থেকে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং বিভিন্ন ক্রয়সংক্রান্ত কাজে একটি প্রভাবশালী মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। সেই প্রক্রিয়ায় আশিকুজ্জামানের ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের বিষয়।

তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিসিতে প্রায় ৬০০ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের সময় আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন প্রার্থী বয়স ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করেও চাকরি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ যাচাই করতে দুদক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনুমোদনপত্র, সভার সিদ্ধান্ত, নোটশিট এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকাসহ বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া জাহাজ মেরামত ও সংস্কারকাজ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু মেরামত কাজে নিয়মিত দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের হাতিয়া থেকে ভাসানচর পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত এসটি জব্বার জাহাজ মেরামতের ক্ষেত্রে টেন্ডার ছাড়াই বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে আইভি রহমান নামের আরেকটি জাহাজের সংস্কারকাজ নিয়েও। অভিযোগকারীদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না থাকায় সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে লুজ যাত্রী পারাপারের টিকিট ও ইজারা ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, কম মূল্যে ইজারা দেওয়ার কারণে সরকার প্রত্যাশিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করছে দুদক।

এদিকে এমভি বঙ্গমাতা ও এমভি বঙ্গতরী নামের দুটি জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।

দুদকের অনুসন্ধানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আশিকুজ্জামান ও তার স্ত্রী ফারজানার সম্পদের তথ্য যাচাই। অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের নামে থাকা জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান, ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে এস এম আশিকুজ্জামান জানিয়েছেন, জাহাজ মেরামত, ক্রয় বা সংশ্লিষ্ট অনেক কাজ তার সরাসরি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তিনি বলেছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার দায়িত্ব দুদকের এবং তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত বিষয় সামনে আসবে।

সব মিলিয়ে এস এম আশিকুজ্জামানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। নিয়োগ থেকে শুরু করে টেন্ডার, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক কার্যক্রম—বিভিন্ন বিষয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর উত্তর মিলবে তদন্ত শেষে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে, আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে দীর্ঘদিনের বিতর্কেরও অবসান হবে।




প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

ডেস্ক নিউজ : দুই দিনের সরকারি সফরে রোববার মালয়েশিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক, প্রতিনিধিদল পর্যায়ের আলোচনা এবং উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

সফরকে ঘিরে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের শ্রমবাজারকেন্দ্রিক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক এবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, হালাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সহযোগিতার মতো নতুন ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে শনিবার পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর)-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়েও আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।
তিনি জানান, দুই দেশের সরকারপ্রধানের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টরসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পাবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদ এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন কামনার বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার মালয়েশিয়া। দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার এবং একই সঙ্গে জ্বালানি, পাম অয়েল, শিল্পের কাঁচামাল ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, ওষুধ ও কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়লেও দুই দেশের বাণিজ্যে এখনো বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগোলে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ বাসসকে বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনা পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা দেবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে জনশক্তি খাত ছাড়া বর্তমানে বড় কোনো অমীমাংসিত বিষয় নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমবাজারই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা ও হালাল অর্থনীতির মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলো পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। এবারের সফরের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আনোয়ার শহীদের ভাষ্য, দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হলেও বাংলাদেশের রপ্তানির অংশ তুলনামূলক কম। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং অন্যান্য মূল্য সংযোজনকারী পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো গেলে রেমিট্যান্স আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

মালয়েশিয়াপ্রবাসী ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সাবেক পরিচালক মাহবুব আলম শাহ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে। তার মতে, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্প, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং হালাল শিল্পে আগ্রহ রয়েছে। সফরের পর সরকারি পর্যায়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে সেই আগ্রহ বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নিতে পারে।

তিনি একটি সরকারি সংবাদসংস্থাকে জানান, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই শুধু শ্রমিক পাঠানোর পরিবর্তে প্রশিক্ষিত কর্মী, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন রেমিট্যান্স আয় বাড়বে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে।

মাহবুব আলম শাহ বলেন, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর এটি উপযুক্ত সময়।

মালয়েশিয়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। এ খাতে প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ ও সনদায়নে সহযোগিতা জোরদার করা গেলে বাংলাদেশের খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। যৌথ গবেষণা, কারিগরি শিক্ষা এবং শিল্পের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা গেলে তা উভয় দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

ব্যবসায়ীদের মতে, সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সফর-পরবর্তী বাস্তবায়নের ওপর। এফটিএ-সংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে নেওয়া, বিনিয়োগ সহজীকরণ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি সহযোগিতা এবং হালাল অর্থনীতিতে অংশীদারত্ব বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পাঁচ দশকের বেশি সময় পর এবারের সফরকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতারা।




ট্রাম্প বললেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার পদত্যাগ করবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন—এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এ কথা বলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়ে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন—অভিবাসন এবং জ্বালানি (উত্তর সাগরের তেল উন্মুক্তকরণ!)। আমি তার মঙ্গল কামনা করি!

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর রোববার স্টারমার তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন—এমন খবর প্রকাশিত হয়। এরপরই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। বার্নহ্যামের এই জয় ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অনেক মন্ত্রী ও এমপিদের মধ্যে স্টারমারের পদত্যাগের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যখন ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেই সময়েই স্টারমারের সম্ভাব্য বিদায় নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো।




কাতারে অবরুদ্ধ ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পেতে যাচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাতারে অবরুদ্ধ থাকা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ শিগগিরই তেহরানের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (২১ জুন) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেই কাতারে আটকে থাকা অর্থ মুক্ত করা হবে এবং তা ইরানে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তবে সম্ভাব্য সমঝোতার মধ্যেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে ইরান কোনোভাবেই সরে আসবে না এবং আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোকে এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।

পেজেশকিয়ান আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির লক্ষ্য কখনোই অস্ত্র তৈরি করা নয়। তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন বা উৎপাদনের কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই এবং এ অবস্থান বহু বছর ধরে দেশটির নীতির অংশ হিসেবে বহাল রয়েছে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমানো এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে গত ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় রোববার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেডি ভ্যান্স। অপরদিকে ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং আব্বাস আরাগচি।

আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন বিরোধ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি




কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বন্যার আতঙ্কে হাজারো মানুষ

ডেস্ক নিউজ : উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রধান নদী ধরলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও এখনও সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রোববার (২১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের চরসোনাইকাজী এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ধরলা নদীর পানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ধরলা নদীর তালুক শিমুলবাড়ী (ফুলবাড়ী ধরলা সেতু) পয়েন্টে পানির উচ্চতা সামান্য কমেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদ-নদী পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এ এলাকায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

রোববার সকাল ৬টায় তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৭৮ মিটার, যা সকাল ৯টায় কমে ২৯ দশমিক ৭৫ মিটারে নেমে আসে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার।

বিকেল ৩টায় শিমুলবাড়ী পয়েন্ট পানি সমতল ২৯ দশমিক ৬৮ মিটার, (বিপদসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার) যা বিপদসীমার ১১৯ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হঠাৎ ধরলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কখনও বাড়ছে আবার কখনও কমছে। তবে গতকালের চেয়ে রোববার বারোমাসিয়া নদীর পানি কমে যাওয়ায় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পাট ও ভুট্টা ক্ষেতের পানি নেমে যাচ্ছে বলে জানান কৃষকরা।

ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ধরলা নদীর তীরবর্তী চরসোনাইকাজী এলাকার বাসিন্দা জহুরুল হক ও ওবায়দুল হক জানান, গত চার দিন ধরে নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আমন ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই এলাকার কৃষক জরিতুল্লা আলী বলেন, ধরলার পানি বৃদ্ধির কারণে আমার আমনের বীজতলা ও পাটক্ষেত ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে গেছে। বীজতলা নষ্ট হয়ে গেলে আমন চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া পানি আরও বাড়লে বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে বর্তমানে সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তাই তাৎক্ষণিক বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।