লালমনিরহাটে “টপ সয়েল” কেটে নেওয়ার হিরিকঃ নিঃশেষ হচ্ছে উর্বর মাটি, প্রশাসন নিরব

জহুরুল হক জনি,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ​উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে ফসলি জমির প্রাণ হিসেবে পরিচিত উপরিভাগের মাটি বা ‘টপ সয়েল’ কাটার মহোৎসব চলছে।

আমন ধান ঘরে তোলার পরপরই শুরু হয়েছে এই মাটি লুটের যজ্ঞ। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উর্বর কৃষিজমি থেকে দেদারসে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে। এতে আশঙ্কাজনক হারে কমছে আবাদি জমি, নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরতা। প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও থামছে না ‘মাটিখেকো’ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য।

​২০২৪ সালের সরকারি তালিকা অনুযায়ী, লালমনিরহাটে নিবন্ধিত ইটভাটার সংখ্যা ২০টির কিছু বেশি। অথচ অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে অন্তত ৩৪টি ভাটা। প্রশাসনের অভিযানে মাঝেমধ্যে এসব ভাটা বন্ধ বা জরিমানা করা হলেও, নানা অজুহাতে কিছুদিন পরই তা পুনরায় চালু হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের চোখের সামনেই ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রাকে করে ভাটায় নেওয়া হচ্ছে, অথচ কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছে।

​ইটভাটার মালিকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফসলি জমি রক্ষায় কেবল সচেতনতা নয়, অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।ভাটা মালিকদের প্রলোভন আর পারিপার্শ্বিক চাপে পড়ে কৃষকরা তাদের জমির মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বানবাসা মোড় এলাকার কৃষক মাহাফুজ রহমান জানান, আবাদি জমির পাশেই ভাটা তৈরি হওয়ায় এবং পাশের জমির মালিকরা মাটি বিক্রি করে দেওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। পাশের জমি নিচু হয়ে যাওয়ায় আমার জমি উঁচু হয়ে আছে, ফলে জমিতে সেচের পানি (মটরের পানি) উঠছে না। তাই ক্ষতি হবে জেনেও বাধ্য হয়ে ভাটা কর্তৃপক্ষের কাছে মাটি বিক্রি করতে হচ্ছে।

​একই পরিস্থিতির শিকার সাপটিবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক নয়ন ইসলাম। তিনি বলেন, এখনও জমির ফসল ঘরে তুলতে পারিনি, অথচ পাশের জমির মাটি বিক্রি হয়ে গেছে। এখন আমি মাটি বিক্রি না করলে আমার জমি উঁচু হয়ে থাকবে, সেখানে আর ফসল হবে না। আবার মাটি কাটলে সেই জমিতে নতুন করে ফসল ফলাতেও অনেক কষ্ট হবে। আমরা চাই ইটভাটাগুলো যেন কৃষিজমি থেকে মাটি না কেনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটির উপরিভাগের ৮-১০ ইঞ্চি স্তর বা টপ সয়েলে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান সবচেয়ে বেশি থাকে। কৃষি বিভাগের মতে, এই স্তর কেটে নিলে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় এবং তা পুনরায় ফিরে আসতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়।

টপ সয়েল সরে গেলে মাটির নিচের শক্ত ও পাথুরে স্তর বেরিয়ে আসে, যেখানে পানি ধারণক্ষমতা থাকে না বললেই চলে। এতে জমি ধীরে ধীরে অনাবাদি হয়ে মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। কৃষি প্রধান এই জেলায় আবাদি জমি কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কাও প্রবল হচ্ছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (কৃষিবিদ) মো. মতিউর রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী এই জেলার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। কিন্তু ইটভাটার কারণে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি যেন তারা টপ সয়েল বিক্রি না করেন। রাসায়নিক ও জৈব সারের সমন্বয়ে যে উর্বর স্তর তৈরি হয়, তা একবার নষ্ট হলে পূরণ করা কঠিন।

​তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বালু ও সিমেন্ট দিয়ে পরিবেশবান্ধব ‘ইকো ব্রিকস’ বা ব্লক ইট তৈরি হচ্ছে। সমাজের মানুষকে এই ইটের প্রতি আগ্রহী হতে হবে। মাটির ইটের চাহিদা কমলে ফসলি জমির টপ সয়েল রক্ষা পাবে।




খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাইলেন তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এমন অবস্থায় রাজনীতি, দল-মত, মতাদর্শ, সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তার জন্য সবার দোয়া কাছে দোয়া চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। 

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে তিনি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে সবার কাছে দোয়া চান।

তাসনিম জারা তার পোস্টে লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। রাজনীতি, দল–মত, মতাদর্শ, সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তার জন্য সবার দোয়া কামনা করি।

এক সপ্তাহ আগে এক অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে খুব অল্প সময়ের দেখা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, “দেশে থাকো, দেশের জন্য কাজ করো।”

অসংখ্য মানুষ একই উপদেশ দেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া যখন এই কথা বলেন তার গভীরতা, ইতিহাস, আর সত্যতা অন্যরকম। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতেও তিনি দেশ ও দেশের মানুষের পাশ থেকে সরে দাঁড়াননি। বেদনা, অপমান ও সীমাহীন প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থান এবং বিশ্বাস থেকে আপোষ করেননি।

বছরের পর বছর ধরে তিনি যে ধৈর্য ও সহনশীলতার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন, তা আমাদের জন্য অনুকরণীয়।
মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন বেগম খালেদা জিয়াকে রহমত, আরোগ্য ও শান্তি দান করেন।’




খালেদা জিয়ার অসুস্থতা: তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন দ্রুতই

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় দ্রুতই দেশে ফিরতে পারেন লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, পরিকল্পনা বদলে তার ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়।

বর্তমানে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার গুরুতর অসুস্থতার খবর দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। লন্ডনে থাকা তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ রাখছেন। জুবাইদা রহমান মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য হিসেবে চিকিৎসা-সংক্রান্ত আপডেটও পাচ্ছেন। পরিবার থেকে ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান এবং খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারও হাসপাতালে অবস্থান করছেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি রাতে আবারও হাসপাতালে ছুটে যান। এ সময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও সেখানে ভিড় জমান। এ পরিস্থিতিতে তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরছেন বলে জানা গেছে।

আগামী ডিসেম্বরের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দেশে ফেরার সময় হিসেবে আগে থেকেই আলোচনা হচ্ছিল। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, তিনি দেশে ফিরে ভোটার হবেন এবং নির্বাচনী প্রচারেও যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, ১৭ বছর পর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন ঘিরে তার নিরাপত্তা, বাসভবন সংস্কার, অফিস সজ্জা—সব ধরনের প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা ছিল ওমরাহ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে লন্ডনে ফিরে সেখান থেকেই সরাসরি ঢাকায় আসবেন তিনি।

কিন্তু খালেদা জিয়ার হঠাৎ গুরুতর অসুস্থতা পুরো পরিকল্পনাই বদলে দিতে পারে। শীর্ষ নেতাদের মতে, পরিস্থিতি বিবেচনায় তারেক রহমানকে আগেই দেশে ফিরতে হতে পারে।




ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ২০০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইন্দোনেশিয়ায় তীব্র বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম সুমাত্রার আঞ্চলিক দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র ইলহাম ওয়াহাব জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৬১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত এবং ৯০ জন নিখোঁজ। 

সংস্থার তথ্যমতে, উত্তর সুমাত্রায় মৃতের সংখ্যা ১১৬ এবং আচেহ প্রদেশে কমপক্ষে ৩৫। প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডেও ভারি বৃষ্টিপাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জুন থেকে সেপ্টেম্বরের বর্ষাকালে ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা, ভূমিধস এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। সম্প্রতি কয়েক দিনের মধ্যে একটি শক্তিশালী মৌসুমি ঝড় পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষাকাল দীর্ঘ হচ্ছে, বৃষ্টিপাত বাড়ছে এবং আকস্মিক বন্যার ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মাসেই মধ্য জাভায় ভারি বৃষ্টিজনিত ভূমিধসে ৩৮ জন নিহত এবং ১৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন।




ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো পাকিস্তান, আতঙ্কে মানুষ ঘরছাড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো পাকিস্তান। শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোরে দেশটির লোরালাই এবং আশেপাশের এলাকায় হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছে। এ সময় লোকজন আতঙ্কে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনএসএমসি) জানিয়েছে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

জিও নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

পরে ভূমিকম্প অফিস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৪। এর কেন্দ্রস্থল ছিল লোরালাইয়ের দক্ষিণ-পূর্ব থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে। তবে ভূমিকম্পের পর প্রাথমিক ভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে, গত মঙ্গলবারও পাকিস্তানের সিবি এলাকায় ৩ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে দুটি ক্ষেত্রেই বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতেও প্রদেশের কিছু অংশে ছোটখাটো ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সে সময় পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তর (পিএমডি) পরিচালিত এনএসএমসি জানায়, জিয়ারাত এবং আশেপাশের এলাকায় ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

গত ৮ নভেম্বরের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল কোয়েটা থেকে ৬৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। তবে ওই ভূমিকম্প থেকে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জিয়ারাতে সর্বশেষ বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল ২০০৮ সালে। সে সময় ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়।

ওই ভূমিকম্পে পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়ে যায়, শত শত বাড়িঘর ও সরকারি ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ফলে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।

দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশটির বেলুচিস্তান প্রদেশ মূলত একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের পাশে অবস্থিত।




খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজঃ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিবের মাধ্যমে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনা করে দেশবাসীর কাছেও দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস জানিয়েছেন, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়’। শুক্রবার রাতে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে গিয়ে তিনি বলেন, দূরত্ব বজায় রেখে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা চিনতে পেরেছেন এবং আমাদের সালামের উত্তর দিয়েছেন।

জানা গেছে, নানা রোগে আক্রান্ত প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর আবারও হাসপাতালে ভর্তি হন ফুসফুসে সংক্রমণ ও হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে। মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সিসিইউতে তার চিকিৎসা এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।




‘খালেদা জিয়া দেশের সবচেয়ে বড় ইউনিফাইং ক‍্যারেক্টার, এটা এক প্রকার ব্লেসিংস’

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে দ্রুতই বাসায় ফিরবেন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ট্রানজিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, এই প্রার্থনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রার্থনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লেখেন, ‘আমার নিউজফিড জুড়ে খালেদা জিয়ার জন‍্য মানুষের দোয়া প্রার্থনা। এবং এই পোস্টগুলা কোনো একটা নির্দিষ্ট দলের মানুষের না। একটা মানুষের জীবনে এর চেয়ে বড় অর্জন আর কি থাকতে পারে?’

তিনি আরও লেখেন, ‘কালচারাল সফট পাওয়ারের সাহায্য ছাড়াই, কোনো বুদ্ধিজীবী গ‍্যাংয়ের নামজপ ছাড়াই খালেদা জিয়া যেভাবে মানুষের কাছে হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিফাইং ক‍্যারেক্টার, এটা এক প্রকার ব্লেসিংস।

সুস্থ হয়ে তিনি দ্রুতই বাসায় ফিরবেন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ট্রানজিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, এই প্রার্থনা।’




খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। 

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় এটি জানানো হয়।  বার্তায় বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা নিয়মিতভাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতির জন্য ভীষণ রকম অনুপ্রেরণা। তার সুস্বাস্থ্য দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা ও সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ প্রদান করেন।




বিপর্যস্ত অর্থনীতি, ব্যবসায়ীদের দুরবস্থা, শিল্প কারখানা, ব্যবসা বাণিজ্য সহ সকল সেক্টরে চাঁদাবাজির ঘটনায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ।

এসএম বদরুল আলমঃ দেশের শিল্প কারখানা, ব্যবসা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, পণ্য পরিবহন, থেকে শুরু করে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সহ সকল সেক্টর আজ ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজীর শিকার। আজ শুক্রবার ২৮ নভেম্বর ২০২৫, সকালে এক বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এই কথা বলেন।

তিনি বিভিন্ন পত্র পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, গার্মেন্টস আমাদের বিরাট একটি রপ্তানীমুখী শিল্প। দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ যোগান অাসে গার্মেন্টস শিল্প থেকে। বর্তমানে গামেন্টসসহ কল কারখানাগুলো চাঁদাবাজদের হুমকির কাছে খুব অসহায়। প্রতিবাদ করলেই কারখানা বন্ধ ও হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে, হামলা করা হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট তকমা দিয়ে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয়ও দেখানো হচ্ছে। এভাবে ঢাকা সহ ঢাকার বাইরের এলাকা থেকে প্রতিদিনই চাঁদাবাজির খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি সাভারের হেমায়েতপুরে চাঁদার দাবিতে এক ব্যবসায়িকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে হচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে।

পরিবহন সেক্টরেও ব্যাপক চাঁদাবাজির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা চাঁদাবাজদের দৌরাত্মে ভয়ে মুখ খুলছেন না আবার কখনো কখনো পুলিশকে অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

জিএম কাদের আরো বলেন, এর ফলে অর্থনীতিতে প্রচন্ড নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যার মধ্যে রয়েছে ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি, বিনিয়োগে নিরুৎসাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত। চাঁদাবাজির কারনে লাভ কমে যাচ্ছে উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। যা আমাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বড় বাধার সৃষ্টি করছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় ব্যবসায়ী নেতারাও এখন বলছেন “অর্থনীতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে, সরকার ব্যবসায়ীদের চিৎকার শুনছে না”। চাঁদাবাজির কারনে দেশে আইনের শাসন ব্যাহত এবং সুশাসনের অভাব দেখা দিচ্ছে উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের অনতিবিলস্বে সরকার সংশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করার আহবান জানান।




সময়ের জনপ্রিয় মানবাধিকার নেতা সেহলী পারভীন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনীত

এসএম বদরুল আলমঃ সময়ের জনপ্রিয় মানবাধিকার নেতা ও হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব সেহলী পারভীন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি (Senior Vice President) হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

সমাজসেবা, মানবাধিকার রক্ষা এবং নারী-শিশু সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা এই মানবাধিকার নেত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত করায় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তার অগ্রগামী ভূমিকা ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। দায়িত্বশীল, সৎ ও মানবিক নেতৃত্বের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজকল্যাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছেন।

মনোনয়ন লাভের পর প্রতিক্রিয়ায় সেহলী পারভীন বলেন—
“এই পদ আমাকে যেমন গর্বিত করেছে, তেমনি বাড়িয়ে দিয়েছে দায়িত্বও। সাংবাদিকতা সত্য, বিবেক ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর নাম। আমি চাই সাংবাদিকরা আরও নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব সবসময় সত্য ও মানবতার পক্ষে কাজ করেছে— আমি সেই ধারা আরও শক্তিশালী করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে আমি দীর্ঘদিন মানুষের পাশে থেকেছি। ভবিষ্যতেও মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, সমাজকল্যাণ এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে যেতে চাই। যারা আমাকে ভালোবাসেন ও সমর্থন করেন— সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।”

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান বলেন,
“সেহলী পারভীন শুধু একজন মানবাধিকার নেত্রীই নন, তিনি সাহসী ও জনদরদী সমাজসেবক। তার সততা, নেতৃত্বগুণ এবং দায়িত্ববোধ আমাদের অনুপ্রাণিত করে। যোগ্য নেতৃত্বকে আমরা সবসময় মূল্যায়ন করি। তার অংশগ্রহণ সংগঠনের অগ্রযাত্রায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও বলেন,“গণমাধ্যম দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র রক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার সবচেয়ে বড় শক্তি। সাংবাদিকদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। নতুন এই নেতৃত্ব প্রেস ক্লাবকে আরও শক্তিশালী করবে।”

বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি, দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম সংবাদ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ও দৈনিক সোনালী সময় পত্রিকার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহিদুল হাসান সরকার বলেন,
“সেহলী পারভীন একজন নির্ভীক মানবাধিকার কর্মী। তার নিরলস কাজ আমাদের মুগ্ধ করে। দায়িত্ব, নৈতিকতা ও মানবতার প্রতি তার গভীর সচেতনতা রয়েছে। সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি সংগঠনের মান উন্নয়ন এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।”

“বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব সত্য প্রকাশের পক্ষে অটল। আমরা বিশ্বাস করি— নতুন নেতৃত্ব সাংবাদিকতার বিকাশ, পেশাগত নিরাপত্তা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”

কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনালের সহকারী মহাসচিব সাঈদা সুলতানা বলেন,“সেহলী পারভীন সবসময় মানবতার পাশে থেকেছেন। নারী অধিকার, শিশু নিরাপত্তা ও মানবিক সেবায় তিনি অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেন। তার মতো দূরদর্শী ও মানবিক নেত্রীকে সিনিয়র সহ-সভাপতির পদে দেখতে পেয়ে আমরা গর্বিত।”

তিনি আরও বলেন,“নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, দক্ষতা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। তার নেতৃত্বে সংগঠন আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল হবে।”

সেহলী পারভীনের কর্মপরিধি প্রসঙ্গে ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট খান সেলিম রহমান বলেন—“সেহলী পারভীন দেশের নেতৃত্বের উজ্জ্বল উদাহরণ হতে পারেন। সততা, কর্মদক্ষতা এবং ডায়নামিক নেতৃত্বের গুণে তিনি এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এগিয়ে যাচ্ছেন।”