নারী আইপিএল নিলামে কোটি টাকার বৃষ্টি

খেলাধুলা ডেস্কঃ ২০২৩ সালে শুরু হওয়া মেয়েদের আইপিএল বা ওমেন্স প্রিমিয়ার লিগের (ডব্লিউপিএল) প্রথম মেগা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে লিগটির চতুর্থ আসর। এই আসরের জন্য পাঁচ ফ্র্যাঞ্চাইজি ৬৭ ক্রিকেটারকে দলে নিতে ব্যয় করেছে ৪০.৮ কোটি রুপি। কোটিপতি হয়েছেন বিভিন্ন দেশের মোট ১১ ক্রিকেটার।

এর আগে ডব্লিউপিএলে সর্বোচ্চ দামে দল পাওয়ার রেকর্ড ছিল ভারতের ব্যাটার স্মৃতি মান্দানার—৩.৪০ কোটি রুপি। এরপর ৩.২০ কোটি রুপিতে বিক্রি হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশলে গার্ডনার এবং ইংল্যান্ডের ন্যাট-শাইভার ব্রান্ট। চলতি আসরেও তিনজনকে ৩.৫০ কোটি রুপিতে ধরে রেখেছে তাদের পুরোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। ফলে স্মৃতি খেলবেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, গার্ডনার গুজরাট জায়ান্টস এবং ন্যাট-শাইভার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে।

এবারের নিলামে সর্বোচ্চ ৩.২০ কোটি রুপিতে দল পেয়েছেন ভারতের স্পিন অলরাউন্ডার দিপ্তী শর্মা। ডব্লিউপিএলের ইতিহাসে এটি নিলামে দল পাওয়া ক্রিকেটারদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্য। রাইট টু ম্যাচ পদ্ধতিতে তাকে আবারও দলে নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ ওয়ারিয়র্স।

এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার অ্যামেলিয়া কেরকে ৩ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। একই দল শিখা পান্ডেকে কিনেছে ২.৪০ কোটি রুপিতে।

মেগা নিলামে কোটিপতি হওয়া ক্রিকেটাররা (রুপি অনুযায়ী):

১. দিপ্তী শর্মা, উত্তরপ্রদেশ ওয়ারিয়র্স – ৩.২০ কোটি
২. অ্যামেলিয়া কের, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স – ৩ কোটি
৩. শিখা পান্ডে, উত্তরপ্রদেশ ওয়ারিয়র্স – ২.৪০ কোটি
৪. সোফি ডিভাইন, গুজরাট জায়ান্টস – ২ কোটি
৫. মেগ ল্যানিং, উত্তরপ্রদেশ ওয়ারিয়র্স – ১.৯০ কোটি
৬. শ্রী চরণী, দিল্লি ক্যাপিটালস – ১.৩০ কোটি
৭. চিনেল হেনরি, দিল্লি ক্যাপিটালস – ১.৩০ কোটি
৮. ফোবে লিচফিল্ড, উত্তরপ্রদেশ ওয়ারিয়র্স – ১.৩০ কোটি
৯. লরা উলভার্ট, দিল্লি ক্যাপিটালস – ১.১০ কোটি
১০. আশা সোবহানা, উত্তরপ্রদেশ ওয়ারিয়র্স – ১.১০ কোটি
১১. জর্জিয়া ওয়ারহ্যাম, গুজরাট জায়ান্টস – ১ কোটি

নারী আইপিএলের নিলামে সবচেয়ে বড় চমক অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অধিনায়ক অ্যালিসা হিলির দল না পাওয়া। বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় আছে যে, এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ব্যাটার নয়, অলরাউন্ডারদের প্রতিই বেশি ঝুঁকেছে। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের হিদার নাইট, অ্যামি জোনসও দল পাননি।

বাংলাদেশ থেকে নিলামে উঠেছিলেন দুই ক্রিকেটার। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পেসার মারুফা আক্তারও অবিক্রিত থেকে গেছেন।




কন্যা সন্তানের বাবা হলেন নিলয়

বিনোদন ডেস্কঃ বর্তমান সময়ে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা নিলয় আলমগীর বাবা হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে তার স্ত্রী তাসনুভা তাবাসসুম হৃদি এক কন্যাসন্তান প্রসব করেন।

নিলয় নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খুশির খবরটি ভাগ করে নেন। ফেসবুক পোস্টে ক্যাপশনে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, কন্যা সন্তানের বাবা হলাম। নাম রুশদা মাইমানাহ। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

এদিকে বাবা হওয়ার সুখবর জানাতেই শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ভাসছেন নিলয়-হৃদি দম্পতি। মন্তব্যের ঘরে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা নানা ধরনের শুভেচ্ছামূলক বার্তা দিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ফেসবুক থেকে পরিচয়ের পর ২০২১ সালের ৭ জুলাই তাসনুভা তাবাসসুম হৃদিকে বিয়ে করেন অভিনেতা নিলয় আলমগীর। এরপর পারিবারিক আয়োজনে বিয়ে হয়। এটি হৃদির প্রথম বিয়ে হলেও অভিনেতার দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে ২০১৬ সালে মডেল-অভিনেত্রী আনিকা কবির শখকে বিয়ে করেছিলেন নিলয় আলমগীর। কিন্তু সেই বিয়ে বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।




কন্যাসন্তানের নাম প্রকাশ্যে আনলেন কিয়ারা

বিনোদন ডেস্কঃ চলতি বছরের জুলাইয়ে কন্যাসন্তানের মা হন কিয়ারা আদভানি, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। জন্মের পর থেকেই অনুরাগীরা জানতে চাচ্ছিলেন, তাদের কন্যার নাম কী রাখা হয়েছে। কিছু অনুরাগীর প্রস্তাব ছিল, সিদ্ধার্থ ও কিয়ারার নাম মিশিয়ে ‘সিয়ারা’ রাখা হোক।

অবশেষে শুক্রবার সকালে কিয়ারার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একরত্তির পায়ের ছবি শেয়ার করে জানানো হয়, তাদের কন্যার নাম রাখা হয়েছে সারায়াহ মালহোত্রা।

কিয়ারার লেখা: “আমাদের প্রার্থনা থেকে আমাদের কোলে এসেছে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ—আমাদের রাজকন্যা।”

সারায়াহ নামের অর্থ নিয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। তবে হিব্রু ভাষায় ‘সারাহ’ মানে রাজকন্যা, তাই অনুরাগীরা অনুমান করছেন এখান থেকেই নামটি এসেছে।

তারা কন্যার মুখ প্রকাশ্যে আনেননি, তবে নতুন রাজকন্যার আগমন ভক্তদের আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘শেরশাহ’ ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে সিদ্ধার্থ ও কিয়ারার প্রেমের শুরু। ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। চলতি বছরের মে মাসে মেট গালায় একসাথে উপস্থিত হয়েছিলেন তারা, এরপর বেশ কিছু সময় ক্যামেরার সামনে দেখা যায়নি।




ভূমিকম্প আমাদের জন্য সতর্কবার্তা

ইসলামিক ডেস্কঃ ভূমিকম্প শুধুই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। যখন আমরা ইমান সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়ি, আল্লাহকে ভুলে পাপাচারে আকণ্ঠ ডুবে যাই, তখন আল্লাহ আমাদের সতর্ক করার জন্য নানা ধরনের দুর্যোগ প্রেরণ করেন। ভূমিকম্প এর অন্যতম। কোরআন থেকে আমরা জানতে পারি, আগেও অনেক জাতিকে আল্লাহ ভূমিকম্প দ্বারা শাস্তি দিয়েছেন।

মহান আল্লাহ সুরা আরাফের ৭৮ নম্বর আয়াতে বলেছেন, অতঃপর ভূমিকম্প তাদের হঠাৎ পাকড়াও করল আর তারা তাদের ঘরগুলোতে মুখ থুবড়ে পড়ে রইল। এই আয়াতে আল্লাহ সালেহ (আ.)-এর উম্মতের পরিণতি বর্ণনা করেছেন। সামুদ জাতির কাছে একত্ববাদের দাওয়াত পৌঁছাতে আল্লাহ সালেহ (আ.)-কে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সামুদ জাতি তাদের নবীকে অস্বীকার তো করলই, আল্লাহর পক্ষ থেকে অলৌকিক নিদর্শন হিসেবে প্রেরিত উটনিকেও তারা হত্যা করে। যার ফলে তাদের ওপর আল্লাহ ভূমিকম্পের শাস্তি প্রেরণ করেন। লুত (আ.)-এর উম্মতের শাস্তির বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন, অতঃপর সূর্যোদয়ের সময় প্রকাণ্ড চীৎকার তাদের পাকড়াও করল। এরপর আমি জনপদকে উল্টিয়ে ওপর-নিচ করে দিলাম এবং তাদের ওপর পোড়ামাটির পাথর-কংকর বর্ষণ করলাম (সুরা হিজর)।

লুত (আ.)-এর সম্প্রদায় সমকামিতার মতো নোংরা ও জঘন্য অপকর্মে লিপ্ত হয়েছিল। সেই অপকর্মের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ উপর্যুক্ত শাস্তি প্রেরণ করেন। তাদের জনপদকে ওলটপালট করে দেন। দুঃখের বিষয় হলো, যে অপরাধের কারণে আল্লাহর ভয়াবহ গজব তাদের ওপর নাজিল হয়েছিল, সেই একই ধরনের গর্হিত কাজ আজ আমাদের সমাজে প্রকাশ্যে ঘটছে। শুধু ইসলাম ধর্ম নয়, প্রচলিত প্রতিটি ধর্মেই সমকামিতা জঘন্য অপরাধ। এমনকি দেশীয় আইনেও এটি সুস্পষ্ট শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ অধিকারের নামে রুচি ও প্রকৃতিবিরুদ্ধ সেই কাজের অনুমোদনের দাবি আজ প্রকাশ্যে করা হচ্ছে।

মনে রাখতে হবে, এমন কিছু অবাধ্যতা আছে, যা কোনো সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে গণহারে আল্লাহর গজব নেমে আসে। তাই আল্লাহর অসন্তুষ্টি ডেকে আনে, এমন সব পাপাচারের বিরুদ্ধে আমাদের প্রত্যেকের সচেতন ও সোচ্চার হওয়া অপরিহার্য।

ভূমিকম্পে আমাদের দুই ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে। এক. আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি। দুই. জাগতিক প্রস্তুতি। এতক্ষণ যা বলা হলো, তা অধ্যাত্মিক প্রস্তুতির নির্যাস। পাপের জন্য তওবা করা, পাপ থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহর নৈকট্যলাভের চেষ্টা করা এসবই আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির অংশ।

আর ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে যা কিছু করা হয় সেগুলো জাগতিক প্রস্তুতির অংশ। আমরা এমন এক ভৌগোলিক এলাকায় বসবাস করি, জনঘনত্ব ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এখানে প্রতিটি অট্টালিকা যেন একেকটি সম্ভাব্য সমাধিসৌধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় যদি ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে এক লাখের বেশি ভবন ধসে যেতে পারে। চিন্তা করুন, এটি কত ভীতিজাগানিয়া পূর্বাভাস! দুঃখজনক হলো, এমন ভয়াবহ ঝুঁকির বিপরীতে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি একেবারেই অপ্রতুল। আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকর্মীর সংখ্যা নগণ্য, বড় ধরনের উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার মতো ভারী যন্ত্রপাতিও অপর্যাপ্ত। ফায়ার সার্ভিসের সীমিত সক্ষমতা দিয়ে হাজার হাজার ভগ্ন স্থাপনা সামলানো কেবলই কল্পনা। অথচ বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তন, ভাস্কর্য নির্মাণ বা অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্পেই নয়, নেতা-নেত্রীদের জন্য তোরণ নির্মাণ, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ও ক্ষমতার প্রদর্শনীতেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যে অপচয় ঘটে, তা এই অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের কাঠামোকে আরও প্রসারিত করে তোলে।

সেই অর্থের সামান্য অংশও যদি দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি, ভূমিকম্প-প্রতিরোধী প্রযুক্তি, উদ্ধার সরঞ্জাম ও দক্ষ উদ্ধারকারী বাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যয় করা হতো, তাহলে সেটিই হতো সবচেয়ে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এটি বিবেচিত হতো বর্তমানের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে।

তবে প্রস্তুতি যেন কেবল ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না থাকে। জাগতিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আমাদের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিও গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও প্রযুক্তি নিরাপত্তা দিতে পারবে না। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি দুর্যোগ আমাদের প্রতি সতর্কবার্তা। আমাদের সমাজের বিস্তৃত দুর্নীতি, জুলুম, অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে আমাদের গণ তওবা করা জরুরি।




আল্লাহর প্রতি ধৃষ্টতার ভয়াবহ ফলের বার্তা

ইসলামিক ডেস্কঃ মানবজীবনের মূল ভিত্তি হলো ঈমান ও আল্লাহভীতি। একজন মুসলমানের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভক্তি, সম্মান, ভালোবাসা ও ভয় সর্বোচ্চ স্থানে থাকে। কারণ আল্লাহই মহাবিশ্বের স্রষ্টা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা ও নিয়ন্ত্রক। মানুষের সুখ-দুঃখ, জীবনের চলার পথ, মৃত্যুর পরের বিচার—সবই তাঁর হাতে। তাই আল্লাহর সঙ্গে ধৃষ্টতা প্রদর্শন করা, তাঁর মর্যাদাকে হেয় করা, তাঁর বিধানকে উপহাস করা অথবা তাঁর আদেশ অমান্য করে বিদ্রোহী আচরণ করা—এগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ। কোরআন ও হাদিসে এসব অপরাধের শাস্তির বিষয়ে কঠোর বর্ণনা এসেছে।

আল্লাহর প্রতি ধৃষ্টতা কী

ধৃষ্টতা মানে হলো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, যেখানে কেউ নিজের সীমা ছাড়িয়ে আল্লাহর মর্যাদার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, বিদ্রুপ, অপমান বা অমান্যতা প্রদর্শন করে। আল্লাহর প্রতি ধৃষ্টতা কয়েকভাবে প্রকাশ পেতে পারে—

১. আল্লাহর অস্তিত্ব, ক্ষমতা বা জ্ঞান নিয়ে ব্যঙ্গ করা।

২. আল্লাহর বিধানকে উপহাস করা।

৩. কোরআনের আয়াত বা শরিয়তের নিয়মকে বিদ্রুপ করা।

৪. গুনাহকে তুচ্ছ মনে করে প্রকাশ্য অবাধ্যতা করা।

৫. নিজেকে আল্লাহর সমকক্ষ ভাবা বা তাঁর সঙ্গে উপহাসমূলক তুলনা করা।

ইসলামের ইতিহাসে ফেরাউন, হামান, সাদ্দাদের মতো ব্যক্তিরা আল্লাহর সঙ্গে ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল। তাদের পরিণতি ছিল ভয়ংকর।

কোরআনে আল্লাহর সঙ্গে ধৃষ্টতার ভয়াবহ শাস্তির বর্ণনা

আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহ সম্পর্কে অহংকার করে, তাদের অবশ্যই অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হবে।’ (সুরা : গাফির/মুমিন, আয়াত : ৬০)

আরেক আয়াতে এসেছে, ‘যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য সংকীর্ণ জীবন এবং পরকালে তাকে অন্ধ অবস্থায় ওঠানো হবে।’

(সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১২৪)

ধৃষ্টতা মানুষের হৃদয়কে কঠিন করে দেয়। এমন কঠিন হৃদয়কে আল্লাহ ধ্বংসের পথে টেনে নেন। কোরআনে আরো বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর আয়াতকে যে উপহাস করে, তাদের জন্য আছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।’ (সুুরা : জাসিয়া, আয়াত : ৯)

আল্লাহর বিধানকে উপহাস করা বড় গুনাহ

কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসুলকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছিলে? তোমরা অজুহাত দিয়ো না; তোমরা ঈমান আনয়নের পর কাফিরে পরিণত হলে।’

(সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬৫-৬৬)

অর্থাৎ কেউ খোদা প্রদত্ত বিধান নিয়ে উপহাস করলে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এটি এমন অপরাধ, যার শাস্তি শুধু দুনিয়ায় নয়, আখিরাতে অনন্ত জাহান্নাম।

গুনাহকে ছোট করে দেখা অন্য রকম ধৃষ্টতা

রাসুল (সা.) বলেন, ‘একসময় মানুষ এমন যুগে পৌঁছবে, যখন তারা বড় বড় গুনাহকেও ঘাসের মতো তুচ্ছ মনে করবে।’ এটাই ধৃষ্টতার আরেক রূপ। মানুষ যখন ভুলকে ‘ছোট ভুল’ বলতে শুরু করে, তখন সে আসলে আল্লাহকে অপ্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করে। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার ওপর একজন শয়তানকে কর্তৃত্ব দিই, যে তার সঙ্গী হয়ে যায়।’
(সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৩৬)

কেন আল্লাহর সঙ্গে ধৃষ্টতা সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ

১. এটি মানুষের ঈমান ধ্বংস করে দেয়।

২. সমাজে দুষ্কর্ম, নৈরাজ্য ও নৈতিক অবক্ষয় বাড়ায়।

৩. আল্লাহর দয়া থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে।

৪. আখিরাতে মুক্তির সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়।

৫. ইচ্ছাকৃত ধৃষ্টতা শিরক বা কুফরিতে রূপ নিতে পারে।

আল্লাহর সঙ্গে ধৃষ্টতার দুনিয়াবি শাস্তি

ধৃষ্টতার শাস্তি শুধু আখিরাতের আগুন নয়; দুনিয়ায়ও এর ভয়াবহ পরিণতি দেখা যায়; যেমন—১. হৃদয় কঠিন হয়ে যাওয়া। ২. বরকত দূর হয়ে যাওয়া। ৩. মনের অশান্তি। ৪. রিজিকে সংকীর্ণতা। ৫. জীবনে ব্যর্থতা ও বিপর্যয়। ৬. সমাজে অপমানিত হওয়া। আল্লাহ বলেন, ‘যে আমার বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য করে, আমি তাকে লাঞ্ছিত করে দেব।’

মানুষ ধারণা করতে পারে যে সে ইচ্ছামতো চলছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার ওপর আল্লাহর গজব কাজ করতে থাকে নীরবে।

আখিরাতে ধৃষ্টতার ভয়াবহ শাস্তি

কোরআনে ধৃষ্টতার জন্য যেসব শাস্তির বর্ণনা এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুন, খাঁটি ফুটন্ত পানি পান করানো, লোহার বেড়িতে বেঁধে টেনে হাঁটানো, মুখমণ্ডল অন্ধকার হয়ে যাওয়া, হিসাবের ময়দানে লাঞ্ছনা, সর্বাত্মক হতাশা ও বঞ্চনা। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অহংকারের সঙ্গে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তাদের জন্য আকাশের দরজাসমূহ খোলা হবে না।’

(সুরা : আরাফ, আয়াত : ৪০)

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘সেদিন অপরাধীদের মুখে কালো কালো চিহ্ন পড়বে।’




বসুন্ধরা গ্রুপের নামে ভুয়া ভিডিও ও প্রতারণা: সতর্ক থাকার পরামর্শ

বাণিজ্য ডেস্কঃ এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। জনসাধারণকে এ বিষয়ে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সাইলেন্ট স্ট্রিটস নামে একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করা এআই দিয়ে তৈরি ওই ভুয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বক্তব্য দিচ্ছেন এবং তিনি বিভিন্ন লোভনীয় প্যাকেজে বিনিয়োগ আহ্বান করছেন। বসুন্ধরা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এর সকল তথ্য মিথ্যা ও বানোয়াট, যা মানুষের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারী ও জনগণকে ধোকা দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতে এআই দিয়ে এই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।

এই ভিডিও দেখে কেউ যেন কোনোরকম আর্থিক বা অন্য কোনো ধরনের লেনদেন না করেন সেজন্য বসুন্ধরা গ্রপ সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে




ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গোলটেবিল বৈঠক

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সংস্কার কার্যক্রম, কারিকুলাম হালনাগাদ এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের সদস্য ও উন্নয়ন সহযোগীরা প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাজ্যের স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে একাধিক শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর হাউস অব কমন্সে এ গোল টেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়।

গত ২৬ নভেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির মধ্যে ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং, পাবলিক হেলথ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম, ওল্ডহ্যামের এমপি জিম ম্যাকমেহোন এবং ওল্ডহ্যাম কাউন্সিলর আবদুল জব্বার।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে তত্ত্বাবধান করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের দক্ষতায় রূপান্তরে কারিগরি শিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

ব্রিটিশ এমপি জিম ম্যাকমেহোন বলেন, বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা সহায়তার জন্য তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার কর্মসূচিরও প্রশংসা করেন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টার বাংলাদেশ পার্টনারশিপের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার বলেন, আধুনিক কারিগরি শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের চাবিকাঠি। স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল এনগেজমেন্টের অধ্যাপক নিক বিচ এবং ডেটা সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন এবং এআই-ভিত্তিক শিক্ষা সহায়তার আশ্বাস দেন।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি নূরানী রোপমা, ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাউথ এশিয়ার পরিচালক ডেভিড নকস, স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপউপাচার্য অধ্যাপক ভিকি, ব্রিটিশ কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পলসহ ব্রিটিশ সরকারের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাঁরা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

গোল টেবিল আলোচনার সভাপতিত্ব করেন ব্রিটিশ এমপি জিম ম্যাকমেহোন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।




অটোরিকশা–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় হৃদয় হোসেন (২৫) ও নাজমুল হাসান (২৪) নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মোটরসাইকেল ও সিএনজির চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংর্ঘষে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার খলিফার দরজা ও কাটাখালি এলাকায় রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হৃদয় উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের উদনপাড়া গ্রামের আটিয়া বাড়ীর মো. শাহজাহানের ছেলে এবং অপর নিহত নাজমুল একই এলাকার মো. শফিকের ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনার সময় হৃদয় ও নাজমুল মোটরসাইকেলযোগে কাটাখালি এলাকা থেকে রামগঞ্জ উপজেলা শহরে যাচ্ছিল। এসময় ঘটনাস্থলে অটোরিকশার সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে হৃদয় ও নাজমুল সড়কে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় হৃদয় ঘটনাস্থলেই মারা যায়৷ নাজমুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার্ড করে। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে নাজমুলও মারা যায়।

উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় একজনকে আহত ও একজনকে নিহত অবস্থায় হাসপাতাল আনা হয়৷ আহত যুবক ঢাকায় পাঠানোর পথে মারা গেছে।

রামগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অটোরিকশা চালক ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছে। তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ক্ষমতায় এলে জাতীয় ঐক্য গড়ে বিএনপিসহ সবাইকে সাথে নিয়ে দেশ চালানোর প্রতিশ্রুতি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত হলে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সরকার গঠন করবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা বিভক্ত জাতি আর দেখতে চাই না। জাতিকে যারা বিভক্ত করে, তারা জাতির দুশমন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জনগণের সম্পদ চুরি ও দুর্নীতির মতো অভিজ্ঞতা তার দলের নেই।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১৭ আসন আয়োজিত এক যুব-ছাত্র ও নাগরিক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার পূর্বে যে নির্বাচন ইনশাল্লাহ অনুষ্ঠিত হবে, সেই নির্বাচনে জনগণ যাদের কর্মসূচি সমর্থন করে, যাদের বক্তব্যে আস্থা রাখে, তাদের বাছাই করে নেবে। আমরা তাদের অভিনন্দন জানানোর জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদি আমাদের দলকে জনগণ বেছে নেয়, আমরা সকল রাজনৈতিক দল এবং শক্তিকে আহ্বান জানাবো। আপনারাও আমাদেরকে সমর্থন দেবেন, অভিনন্দন জানাবেন এবং আপনাদের সাথে নিয়েই আমরা দেশ গড়বো ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, কেউ কেউ ইতোমধ্যে বলেছেন, তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল দলকে সাথে নিয়ে… যদি তারা নির্বাচিত হন… তাহলে সরকার গড়বেন ‘ইল্লাল্লা জামাতে ইসলামী’ (জামায়াতে ইসলামী ছাড়া)। আমরা তাদের বিনয়ের সাথে বলবো, জনগণ যদি মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের নির্বাচিত করে ইনশাআল্লাহ, আমরা আপনাদেরও বাদ দেবো না। সবাইকে সাথে নিয়ে আমরা দেশ গড়বো ইনশাআল্লাহ। ইনশাআল্লাহ আমরা বিভক্ত জাতি আর দেখতে চাই না। জাতিকে যারা বিভক্ত করে, তারা জাতির দুশমন।

জাতিকে বিভক্তকারী গোষ্ঠীকে ‘জাতির দুশমন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিভক্ত জাতি আর দেখতে চাই না। আমরা ওই দুশমনের রাষ্ট্রের চাষ আর বাংলাদেশে হতে দেবো না।’ তিনি পুরোনো রাজনীতির সমালোচনা করে নতুন ফর্মুলায় দেশ গড়ার ঘোষণা দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা স্বীকার করি আমাদের অভিজ্ঞতা নেই, জনগণের সম্পদ চুরি করার অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। দলীয় কর্মীদেরকে দিয়ে চাঁদাবাজি করার অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গণ কায়েম করার অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। সর্বপর্যায়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত দুর্নীতি করার অভিজ্ঞতা আমাদের নেই।

বর্তমান ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায় নেয়নি; বরং এটি এখন বাংলাদেশে ‘ফেসি’ হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারী এবং মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে টানাটানির মতো ফ্যাসিবাদীদের পাঁচটি লক্ষণ চিহ্নিত করে বলেন এই সকল লক্ষণ আজকে বিদ্যমান।

জামায়াত আমির বলেন, পুরাতন ফর্মুলায় আর চলবে না ইনশাআল্লাহ। নতুন বাংলাদেশ চলবে নতুন ফর্মুলায়। জনগণের সরকার কেমন হবে তা ব্যাখ্যা করে  তিনি বলেন, প্রত্যেক নিয়োজিত ব্যক্তি নিজের জন্য চিন্তা করার আগে জনগণের স্বার্থ নিয়ে ভাববে… যে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে না…যে সরকার দুর্নীতিতে জড়াবে না।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিপুল পরিমাণ রক্ত ও জীবন দিয়ে পরিবর্তন এলেও জনগণ স্বাধীনতার সত্যিকারের সুফল ভোগ করতে পারেনি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমাদের মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ, সমুদ্রের নিচে অকল্পনীয় সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আমরা বিশ্বের বুক মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারলাম না কেন?

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশ ছেড়ে পালায় নাই। দেশের ভেতরে আমরা ছিলাম। দেশের মাটিকে কামড়ে ধরেছিলাম। বুকে জড়িয়ে এখানেই ছিলাম। জেল বরণ করেছি, জীবন দিয়েছি। কিন্তু দেশ ছেড়ে আমরা পালাইনি। কারণ আমরা এই দেশকে, এই মাটিকে, এই মানুষকে আমরা ভালোবাসি।




ইন্দোনেশিয়ার বন্যা-ভূমিধসে মৃত্য সংখ্যা বেড়ে ৮০

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপজুড়ে এই সপ্তাহে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেক মানুষ।

সুমাত্রার উত্তরাঞ্চল পুলিশের মুখপাত্র ফেরি ওয়ালিনতুকান জানান, সকালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২-তে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ৯৫ জন। কমপক্ষে ৬৫ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। পাশ্বর্বর্তী পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশেও অন্তত ২২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এখনো ১২ জন নিখোঁজ আছেন।

এদিকে শুক্রবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ১৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের বিস্তীর্ণ অংশ এক সপ্তাহ ধরে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের কবলে পড়েছে। ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই অঞ্চল সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডজুড়ে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কমতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধার, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ পুনরুদ্ধার এবং পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার সমন্বয় সাধনের জন্য কাজ করছে।
কিন্তু কেবল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াই নয় শ্রীলঙ্কায় এই সপ্তাহে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে কমপক্ষে ৫৬ জন মারা গেছেন এবং ২১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শ্রীলঙ্কা শুক্রবার আরো তীব্র আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, কারণ ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া তার পূর্ব উপকূল বরাবর অগ্রসর হচ্ছে। থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের আটটি প্রদেশে বন্যায় এখন পর্যন্ত ৮৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়েছে।