সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারকালে টেকনাফে নারী ও শিশুসহ উদ্ধার ২৮

ডেস্ক নিউজঃ কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ায় কোস্টগার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নারী ও শিশুসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া ঘাট সংলগ্ন বিচ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।

কোস্টগার্ড জানায়- গোপন সূত্রে খবর আসে, সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য নারী ও শিশুসহ বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি নিয়ে কচ্ছপিয়া ঘাট সংলগ্ন বিচ এলাকায় অবস্থান করছে পাচারকারীরা। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে কোস্টগার্ড আউটপোস্ট বাহারছড়া ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিচে অবস্থানরত ২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে উদ্ধারকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কয়েকটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং অল্প খরচে বিদেশ যাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় নেওয়ার প্রলোভনে সাগরপথে যাত্রার পরিকল্পনা করছিল। তবে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, মানবপাচার রোধে কোস্টগার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। নারী-শিশুসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করা হলেও পাচারকারীরা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান চলছে।




ত্রিদেশীয় সিরিজ: বাংলাদেশ ঘোষণা করল ২৩ সদস্যের স্কোয়াড

খেলাধুলা ডেস্কঃ ত্রিদেশীয় নারী ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ২৩ সদস্যের জাতীয় দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আগের মতোই দলের নেতৃত্বে থাকছেন আফঈদা খন্দকার। সিরিজে বাংলাদেশ ২৬ নভেম্বর মুখোমুখি হবে মালয়েশিয়ার এবং ২ ডিসেম্বর খেলবে আজারবাইজানের বিপক্ষে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানকে নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য তিন জাতি সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেন প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলার। প্রত্যাশা থাকলেও আলোচিত পাঁচ সিনিয়র সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, সানজিদা ইসলাম, সুমাইয়া মাতসুশিমা ও মাসুরা পারভীন জায়গা পাননি স্কোয়াডে। সাফ ২০২৪ শেষে তারা এখনো জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন।

আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। এশিয়ার সর্বোচ্চ মঞ্চে এবারই প্রথমবার অংশ নিতে যাচ্ছে আফঈদারা।

সর্বশেষ অক্টোবরে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ নারী দল। সেই স্কোয়াডের ২৩ জনই জায়গা পেয়েছেন এই দলের মূল তালিকায়। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মামনি চাকমা, যিনি মূল স্কোয়াডে আছেন, এবং তনিমা বিশ্বাস, যিনি স্ট্যান্ডবাই তালিকায় রয়েছেন। তার সঙ্গে রুমা আক্তারও স্ট্যান্ডবাই হিসেবে স্কোয়াডে নাম লিখিয়েছেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য বাংলাদেশের দল:
রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী, নবীরন খাতুন, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, মামনি চাকমা, শামসুন্নাহার সিনিয়র, হালিমা আক্তার, জয়নব বিবি, শিউলি আজিম, মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, মুনকি আক্তার, স্বপ্না রানী, উমহেলা মারমা, শাহেদা আক্তার, মোসাম্মত সুলতানা, মোসাম্মত সাগরিকা, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার জুনিয়র, ঋতুপর্ণা চাকমা, সিনহা জাহান, রুমা আক্তার ও তনিমা বিশ্বাস।




ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য চাইলো সরকার

ডেস্ক নিউজঃ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছে সরকার। দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাইস্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জরুরি ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। 

রোববার (২৩ নভেম্বর) শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানতে জেলা পর্যায়ের অফিসগুলোকে নির্দেশ পাঠায়।

প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও একাধিক ছবি সংযুক্ত করে আজকের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীদের।

এদিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও মাঠপর্যায়ে চিঠি দিয়েছে। অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক মিরাজুল ইসলাম উকিল স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিভাগীয় উপপরিচালকদের ২৭ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

মূলত, গত শুক্রবার ও শনিবার পরপর চার দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয় দেশে। এরপর নিরাপত্তার বিবেচনায় গত রোববার কয়েকটি স্কুল-কলেজ ক্লাস বন্ধ রাখলেও সোমবার থেকে শিক্ষাক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।




কোয়ার্টার ফাইনালে ইইইকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জেএমসি

খেলাধুলা ডেস্কঃ গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে ক্লেমন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-এ সাফল্যের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন (জেএমসি) বিভাগ। কোয়ার্টার ফাইনালে ইইই বিভাগের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে জেএমসি দল।

২৫ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি. অনুষ্ঠিত এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে জেএমসি দলের খেলোয়াড়রা শুরু থেকেই ছিল আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক। ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে। শেষ পর্যন্ত ইইই বিভাগকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করে জেএমসি।

জয়ের পর জেএমসি বিভাগের শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস। বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টরা দলটির এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতেও ধারাবাহিক সাফল্যের প্রত্যাশা করেন।

জেএমসি দলের এই অগ্রযাত্রা বিভাগীয় ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সকলের প্রত্যাশা, সেমিফাইনাল পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন ট্রফিও উঠবে জেএমসি বিভাগের হাতেই।

জেএমসি দলের জন্য রইল শুভকামনা। বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হোক—এই কামনাই সবার।




ভণ্ড হাকিম আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতারণার অভিযোগ; ভুয়া চিকিৎসায় সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ রোগীরা

এসএম বদরুল আলমঃ মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বহুদিন ধরে নিজেকে হাকিম পরিচয় দিয়ে রোগী দেখছেন আব্দুল কাদের। বাহিরে থেকে দেখতে তার চেম্বারটা খুব জমজমাট মনে হলেও, ভেতরে লুকিয়ে আছে নানা অভিযোগ আর প্রতারণার অভিযোগ। রোগীদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি নানাভাবে টাকা আদায় করেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। তার রয়েছে দামি গাড়ি, বাড়ি ও বিপুল সম্পদ, আর এসবের পেছনে কত মানুষের কষ্টের টাকা লুকানো আছে, সেটাই এখন প্রশ্ন।

হাকিম আব্দুল কাদেরের চেম্বারে সব সময়ই ঘিরে থাকে বিশজনেরও বেশি দালালের একটি বড় দল। এই দালালরা কথার জাদু দেখিয়ে রোগীদের তার কাছে নিয়ে আসে। কমিশনের লোভে তারা রোগীদের ভুল তথ্য দেয়, ভয় দেখায়, এমনকি চিকিৎসার নাম করে মিথ্যা প্রতিশ্রুতিও দেয়। রোগীরা যখন ভরসা করে তার কাছে যান, তখন শুরু হয় টাকা নেওয়ার পালা।

তিনি দাবি করেন যে লিভার, জন্ডিস, হাঁপানি, বাতসহ চর্মরোগ, ডায়াবেটিস, গ্যাস্টিক, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, নাকের পলিপাস—প্রায় সব ধরনের রোগই তিনি নাকি সারাতে পারেন। এমনকি তিনি বলেন পৃথিবীর সব রোগের চিকিৎসা তার কাছে আছে। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে আরও বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন। বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক রোগী তার চিকিৎসা নিতে নিতে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে বাধ্য হয়ে তারা ডাক্তার দেখানোর পর সুস্থ হন। তাদের অভিযোগ—এমন ভণ্ড চিকিৎসককে দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।

জন্ডিসের রোগীদের তিনি ‘ডাব পরে’ নামের একটি পদ্ধতি দেখান। রোগীরা বলে, টেবিলের নিচে থেকে তিনি কিছু একটা দেন, তারা জানেন না সেটা কী। কাদের দাবি করেন তিনি খাবার সোডা দেন, যা চিকিৎসকদের মতে শরীরের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। ডাব বিক্রির মাধ্যমেই তিনি প্রতিদিন প্রচুর টাকা আয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও গুরুতর বিষয় হলো—তিনি বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া নিজে ট্যাবলেট বানান, ওষুধ তৈরি করেন এবং এসব রোগীদের খেতে দেন। এটি আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। অথচ তিনি নিজেকে “বাংলাদেশ বোর্ড অফ ইউনানী অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক”-এর নিবন্ধন বহি নং ২১২৫ দেখিয়ে পরিচয় দেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—এ ধরনের কোনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর তাদের নেই।

তার কাছে লাইসেন্স সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন তার নাকি আয়ুর্বেদিক কোম্পানি আছে, কিন্তু লাইসেন্স নম্বর বলতে পারেন না। পরে চাপ দিলে বলেন ড্রাগ লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স আছে, কিন্তু সেগুলোর কোনো কাগজও দেখাতে পারেন না। বরং কথার মারপ্যাঁচে রোগীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি বহু বছর ধরে কবিরাজি করছেন এবং তার হাত খুবই “যশস্বী”।

অভিযোগকারীরা বলেন—তার কোনো বৈধ সনদ, প্রশিক্ষণ বা চিকিৎসা করার যোগ্যতা নেই। অথচ তিনি বিভিন্ন গুরুতর রোগের চিকিৎসা করার নামে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে টাকা নেন। অনেক রোগী ধীরে ধীরে মারাত্মক অবস্থায় চলে যান, অথচ তিনি তা বুঝেও কিছু করেন না। তারা মনে করেন, এমন বিপজ্জনক প্রতারণা বন্ধ করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।




ভূমিকম্পে আতংকিত না হয়ে সচেতনতার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

ডেস্ক নিউজঃ সাম্প্রতিক কয়েক দফা ভূমিকম্পে দেশে আতঙ্ক বাড়লেও এ নিয়ে ভয় না পেয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা। সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে তারা এ সুপারিশ করেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞদের দ্রুত লিখিত সুপারিশ পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে চাই না, আবার অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তও নেব না। আপনারা যা প্রয়োজন মনে করেন, তা লিখিত দিন; সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে প্রস্তুত।” তিনি জানান, ভূমিকম্প–সংক্রান্ত করণীয় নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ কমিটি ও টাস্কফোর্স গঠনের কাজ চলছে।

গুজব নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের ওপর ভরসা

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪৮ ঘণ্টা, ১০ দিন বা ১ মাসের মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে—এ ধরনের অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাদের মতে, ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট দিন–তারিখ অনুমান করা সম্ভব নয়। তবে পূর্বের তথ্য দেখে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান জানান, বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে স্বল্প ভূমিকম্প–প্রবণ এলাকা হলেও প্রস্তুতি বাড়ানো জরুরি।
অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আখতার তরুণদের অংশগ্রহণে চার স্তরে (ইনডোর–আউটডোর–ব্যক্তিগত–প্রাতিষ্ঠানিক) করণীয় পরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দেন।

চুয়েটের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ–গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মূল্যায়নের ওপর জোর দেন।
এমআইএসটি’র অধ্যাপক জয়নুল আবেদীন বলেন, জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে—খোলা জায়গার তালিকা, মহড়া, বাসা–বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ—এসব কার্যক্রম জরুরি।

ফাটল ধরা ভবনের মূল্যায়ন শুরু

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান জানান, সফটওয়্যারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছবি সংগ্রহ ও মূল্যায়ন চলছে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক ভবন পরিদর্শনে দেখা গেছে—বেশিরভাগ ক্ষতি পার্টিশন দেয়ালে।

টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের লিখিত সুপারিশ পাওয়ার পর দ্রুত টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এতে সরকারি–বেসরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।




ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমদের বঞ্চনার গল্প; দায়িত্ব বেশি, সম্মানী কম

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ বর্তমান সময়ে সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক দায়িত্ব পালন করছেন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমগণ। তবে তাদের জীবনযাত্রা ও আর্থিক বাস্তবতা যেন এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

একদিকে তারা মুসল্লিদের সঠিক পথ দেখাতে, নামাজ আদায় করাতে, ইসলামি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে রাতদিন পরিশ্রম করছেন। অন্যদিকে বেশিরভাগ মসজিদে তাদের মাসিক সম্মানী অপ্রতুল ও অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিতও না। অনেক জায়গায় একজন ইমামকে মাসে ৩-৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়।

মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের অবস্থা আরও করুণ। বিশেষত গ্রামীণ মসজিদগুলোতে এই অবস্থা আরও উদ্বেগজনক।

একজন ইমামকে শুধু নামাজ পড়ানোই নয়- বিয়ে, দোয়া মাহফিল, জানাজা, ইসলামি শিক্ষা, এমনকি সমাজিক বিরোধ মীমাংসার মতো দায়িত্বও পালন করতে হয়। কিন্তু সেই দায়িত্বের মূল্যায়ন হয় না সম্মানীর দিক থেকে।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনেকেই মনে করছেন, ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমদের যথাযথ সম্মানী নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন, ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। এখন প্রয়োজন সম্মানীর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ। শুধু দোয়া নয়, চাই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সম্মান।

ইসলামের এই খেদমতকারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো হুমকির মুখে পড়তে পারে। সময় এসেছে শুধু দোয়া নয়, বাস্তব সহায়তা দেয়ার।




লালমনিরহাটে স্বামীর জীবন বাঁচাতে স্ত্রীর কিডনি দান; ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নে ঘটেছে ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। আব্দুল হক (৫০) নামে এক ব্যক্তির দুটি কিডনি বিকল হয়ে পড়লে তার স্ত্রী বিজলি বেগম (৪৫) নিজের একটি কিডনি দান করে নজির স্থাপন করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন আব্দুল হক। চিকিৎসকেরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিলে পরিবার পড়েছিল দুশ্চিন্তায়। সেই সময় পাশে দাঁড়ান তার প্রিয়তমা স্ত্রী বিজলি বেগম, যিনি নিজের একটি কিডনি স্বামীর জন্য দিতে রাজি হন।

সব ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, স্ত্রীর কিডনি স্বামীর শরীরের জন্য উপযোগী। এরপর ঢাকায় ২৪ নভেম্বর দুপুরে সফল অস্ত্রোপচার হয়।

স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই সুস্থ আছেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রশংসার ঝড় বইছে। আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা বলছেন, বিজলি বেগম শুধু একজন স্ত্রী নন, তিনি একজন প্রকৃত জীবনসঙ্গী এবং ভালোবাসার প্রতীক।

এই ঘটনাটি প্রমাণ করে, ভালোবাসা এখনো বেঁচে আছে, ত্যাগের মধ্যেই ভালোবাসার প্রকৃত রূপ খুঁজে পাওয়া যায়।




ডিপিএইচই প্রকল্প নিয়ে অভিযোগের ঝড়: জনস্বাস্থ্যের তবিবুর রহমানকে ঘিরে অনিয়ম–দুর্নীতির নানা তথ্য

এসএম বদরুল আলমঃ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)-এর বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত প্রকল্প “মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্প” নিয়ে সম্প্রতি বড় ধরনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটির পরিচালক মোঃ তবিবুর রহমান তালুকদারকে ঘিরেই এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিভিন্ন সূত্রের দাবি—প্রকল্পের বিপুল অর্থ ব্যয়ের হিসাব, কাজের মান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি সব দিক থেকেই গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। সূত্রের দাবি, তবিবুর রহমান ঘুষের মাধ্যমে এলজিআরডি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার বিশেষ সহকারী মাহফুজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে নিজের সুবিধা নেন।

তবিবুর রহমানের জীবন শুরু হয়েছিল সিরাজগঞ্জের এক দরিদ্র পরিবার থেকে। ছোটবেলায় তাঁর ডাকনাম ছিল “শুক্কুর”। পড়ালেখায় অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় এলাকাবাসী তাঁকে সহযোগিতা করত। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি, এসএসসি–এইচএসসিতে ভালো ফল এবং পরে বুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া—সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল উজ্জ্বল। এরপর তিনি ডিপিএইচইতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি পান এবং ধীরে ধীরে উচ্চপদে পৌঁছান।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ—চাকরির শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, টেন্ডার কারচুপি, ঘুষ লেনদেন ও নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদ অর্জন করেন। বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পোস্টিং থাকার সময়ে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় বাড়ি–ফ্ল্যাট কেনেন এবং নিজ এলাকায় কিনেন একশ্রেণীর জমি। এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রায় ১ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে তবিবুর রহমান প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি—এই পদে আসার পেছনেও নানারকম যোগসাজশ ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। কিছু সূত্র বলছে, সেই সময়ের এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এবং তাঁর এপিএস জাহিদ চৌধুরীর মাধ্যমে পদ পেতে বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। এসব অভিযোগ অবশ্য এখন পর্যন্ত আদালতে প্রমাণিত নয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প মনিটরিং কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির অগ্রগতি এখনো মাত্র ৪৬ শতাংশ, অথচ শেষ হতে বাকি আর দেড় মাস। অর্থাৎ, অর্ধেকের বেশি কাজই অসম্পূর্ণ। মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট বলছে—অনেক টয়লেট ব্যবহারযোগ্য নয়, কমিউনিটি ক্লিনিকের টয়লেট দূরে হওয়ায় কাজে লাগছে না, আর পাইপ লাইনের জন্য ব্যবহৃত বেশিরভাগ পাইপই নিম্নমানের হওয়ায় দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ৩০ জেলার ৯৮টি উপজেলায় কাজ হলেও অভিযোগ—মানের দিক থেকে বেশিরভাগই ত্রুটিপূর্ণ।

সূত্র জানায় টেন্ডার মেনিপুলেশন, ঠিকাদারের সাথে ১০-২০% চুক্তিতে কার্যাদেশ, নিম্নমানের কাজে ঘুষ নিয়ে বিল প্রদান, প্রকল্পের কেনাকাটায় ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে টাকা আত্মসাৎ, আউটসোর্সিং নিয়োগে ঘুষ, কনসালটেন্ট ফার্ম নিয়োগে মোটা অংকের ঘুষ। সূত্র আরো জানায় এই প্রকল্পে নানান ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক মোঃ তবিবুর রহমান কামিয়েছেন প্রায় ২০০ কোটি টাকা। সূত্র জানায় প্রকল্পের শেষ দিকে এই দুর্নীতির মাত্রা আরো বেড়ে যাবে।

টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ঠিকাদার নিয়োগ, ভুয়া বিল–ভাউচার, নিম্নমানের কাজের বিল অনুমোদন—সবকিছুতেই অনিয়ম থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, এসব মাধ্যমে তবিবুর রহমান নাকি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন—যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রকল্প দপ্তরের ভেতরেও অসন্তোষ রয়েছে।

তবিবুর রহমানের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরেও নানা আলোচনা আছে অফিসে ও এলাকায়। সহকর্মীদের অনেকেই তাঁকে ডাকেন “বিয়ে পাগলা তবিবুর” নামে। অভিযোগ আছে—তিনি যেখানেই পোস্টিং পেতেন, সেখানে বিয়ে করতেন। তাঁর বিবাহ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গুঞ্জন রয়েছে, এবং সূত্রের দাবি—এখন পর্যন্ত তাঁর কমপক্ষে চারটি বিয়ের খোঁজ মিলেছে। কেউ কেউ বলেন, তিনি সাধারণত অফিসের কম আয়ের কর্মচারী বা এলাকার স্বল্প আয়ের পরিবার থেকে বিয়ে করতেন, পরে তাঁদের নানা সুবিধা দিয়ে সাবলম্বী করে দিতেন। এছাড়া ঢাকাতেও নাকি তাঁর দুই স্ত্রী আলাদা দুই ফ্ল্যাটে থাকেন।

সবকিছুর মধ্যেই সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—প্রকল্পের টাকার অপচয়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজ। সূত্রের দাবি—প্রকল্পের শেষ দিকেই এসব অনিয়ম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। যদিও এসব অভিযোগের অনেকটাই এখনো তদন্তাধীন এবং প্রমাণীকরণ বাকি।




ব্যবসায়ী অশোক কুমার শাস্ত্রী পরলোক গমন করেছেন

অভয় নগর প্রতিনিধিঃ অভয় নগরের মহাকাল এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অশোক কুমার শাস্ত্রী পরলোক গমন করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

অশোক কুমার শাস্ত্রী’র শেষকৃত্য সম্পন্ন হচ্ছে মহাকাল মহাশ্মশানে।