যশোর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম মাসুদ আহমেদের গণসংযোগ

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম মাসুদ আহমেদ অভয়নগর উপজেলার চেঙ্গুটিয়া, বসুন্দিয়া ও সুন্দলী এলাকায় দিনব্যাপী গণসংযোগ করেছেন। সোমবার সকালে তিনি এসব এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়, অভাব-অভিযোগ শোনা এবং স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রবীণ ভোটার, তরুণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতায় এম মাসুদ আহমেদ বলেন, “৩৬ বছরের দীর্ঘ সামরিক জীবনে আমি দেশের অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করেছি। এখন জীবনের অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী নই—নির্বিশেষে সকল মানুষের সেবা করতে এবং একটি সুশাসনভিত্তিক জন-উদ্যোগ গড়ে তুলতে চাই। এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি উন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে আমি বিশেষভাবে আগ্রহী।




ভূমিকম্পের প্রস্তুতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ সম্প্রতি কয়েক দফা ভূমিকম্পে সারা দেশে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় ভূমিকম্প প্রস্তুতি–সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে এ বৈঠক শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।

সরকারি সূত্র জানায়, শুক্রবার ও শনিবার (২১–২২ নভেম্বর) দুই দিনে চার দফা ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর এই জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। এ বৈঠকে রাজধানীসহ সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, উদ্ধার সক্ষমতা, জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

শুক্রবার সকালে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প আঘাত হানে বাংলাদেশে। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী, যা ঢাকা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

এই ভূমিকম্পে তিন জেলায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন। ঢাকার বহু ভবনে ফাটল দেখা দেয় এবং কোথাও কোথাও ভবন হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটে। এরপর শনিবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার তিন দফা ভূমিকম্প অনুভূত হলে আতঙ্ক আরও বাড়ে।

প্রধান উপদেষ্টা ভূমিকম্প–পরবর্তী ঝুঁকি মূল্যায়ন, ভবন নিরাপত্তা, জনসচেতনতা, জরুরি সাড়া–দানের সক্ষমতা ও সমন্বিত প্রস্তুতি–পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে।




বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

আবহাওয়া ডেস্কঃ ‘দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি, আর এর মধ্যেই সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।’— বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে পড়বে এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ গুরুতর বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে। উপকূলে পানি ও মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আদার সাউথ এশিয়ান কান্ট্রিজ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স উইল বি প্রাইভেট সেক্টর লেড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মূল চাপ এখন পরিবারের ওপর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর গিয়ে পড়েছে। জরিপে দেখা গেছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে কোনো না কোনো ধরনের আবহাওয়াজনিত ধাক্কার আশঙ্কা করছে দক্ষিণ এশিয়ার তিন-চতুর্থাংশ পরিবার ও প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ পরিবার ও ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জলবায়ু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ নিলেও এগুলোর বড় অংশই সাধারণ ও কম খরচের সমাধান।

বাংলাদেশের উপকূলের ২৫০টি গ্রাম নিয়ে করা এক জরিপ বলছে, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এখানকার সবচেয়ে বড় অপূর্ণ চাহিদা। দীর্ঘমেয়াদে ৫৭ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, দুর্যোগ–সুরক্ষা অবকাঠামোর ঘাটতি তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর ৫৬ শতাংশ পরিবার বলেছে, অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতাই তাদের নেই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই সংকট শুধু পরিবেশগত নয়, মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত; বিশেষ করে দরিদ্র ও কৃষিভিত্তিক পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

বিশ্বব্যাংক জানায়, বাঁধ, সাইক্লোন শেল্টারসহ সরকারি বিনিয়োগ মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা দেখায়—সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও হালনাগাদ তথ্যের সমন্বয়ে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব। তবে রাজস্ব সংকটের কারণে সরকারের সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় বেসরকারি খাতের অভিযোজনকে সহজ করতে নীতিগত প্যাকেজ জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা প্রতিনিয়ত নতুন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জে পরীক্ষার মুখে পড়ছে। অভিযোজন ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে ঘটছে, কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকি দ্রুত বাড়ায় আরও অনেক কিছু করার প্রয়োজন আছে।’ তিনি আরও বলেন, দেশের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু–স্মার্ট কৃষি, অভিযোজন অর্থায়ন ও নগর এলাকার লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বহুস্তরীয় ও সমন্বিত পদক্ষেপ এখন জরুরি। আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা, আনুষ্ঠানিক ঋণ ও বীমা ছড়িয়ে দেওয়া বিশেষ প্রয়োজন। বেসরকারি খাত প্রয়োজনীয় স্থানে বিনিয়োগ স্থানান্তর করতে পারলে জলবায়ু–সম্পর্কিত ক্ষতির এক-তৃতীয়াংশ এড়ানো সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়। সীমিত বাজেটেও পরিবহন ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক উন্নত করা এবং লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা জোরদারের মাধ্যমে সরকার এ প্রক্রিয়া সহজ করতে পারে।

এ ছাড়া নতুন প্রযুক্তি–নির্ভর অভিযোজন এবং সড়ক বা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মতো মূল সরকারি পণ্য সরবরাহের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনের সহ–লেখক সিদ্ধার্থ শর্মা বলেন, ‘জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা যেমন শিক্ষণীয়, তেমনি একটি বড় পরীক্ষা। মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে অভিযোজন করছে, কিন্তু সংকটের জটিলতা ও ব্যাপকতা মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতের জরুরি, সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

বিশ্বব্যাংক বলছে, সামনে বাংলাদেশ স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলার বড় সুযোগ পাচ্ছে। আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও সাইক্লোন শেল্টারে বিনিয়োগ বড় দুর্যোগেও প্রাণহানি কমাতে সফল হয়েছে—যা প্রমাণ করে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান স্থানীয় অভিযোজনকে বড় পরিসরে রূপ দিতে পারে। সরকার, বেসরকারি খাত ও কমিউনিটির সমন্বিত অংশীদারিত্ব জোরদার করতে পারলে জলবায়ু–স্মার্ট সমাধান দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে শুধু দুর্বলতা কমবে না, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নও নিশ্চিত হবে।




মিরপুর প্রেস ক্লাবের জরুরি নির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত

এসএম বদরুল আলমঃ আজ ২৪শে নভেম্বর ২০২৫ ইং সোমবার, ঢাকা মিরপুর প্রেসক্লাবের জরুরি কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম বদরুল আলম। এতে সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিনসহ নির্বাহী কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মিরপুর প্রেস ক্লাবকে একটি আধুনিক, ডিজিটাল ও আন্তর্জাতিক মানের প্রেস ক্লাবে রূপান্তর করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অফিস পরিচালনা, বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রম এবং সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

সভাপতি এস এম বদরুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন—
“মিরপুর প্রেসক্লাব শুধু সাংবাদিকদের সংগঠন নয়, এটি মিরপুরের মানুষের আওয়াজ তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা প্রেসক্লাবকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে কাজ করছি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সক্রিয়তা বাড়াতে প্রতিটি কমিটি যেন দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে—এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

তিনি আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তি সংযোজন, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন—

“আমাদের প্রেস ক্লাব দ্রুতই একটি ডিজিটাল ও প্রফেশনাল মিডিয়া সেন্টারে রূপান্তরিত হবে। আমরা নতুন আর্কাইভ সিস্টেম, অনলাইন মিডিয়া মনিটরিং, এবং সদস্য সাংবাদিকদের জন্য রেগুলার স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, সংগঠনের প্রতিটি সদস্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং প্রেস ক্লাবের ভাবমূর্তি রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বক্তব্য,

সভায় উপস্থিত সহ সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, সহ সভাপতি ওয়ারেস আহমেদ ভূঁইয়া, অর্থ সম্পাদক জি এস জয়, দুলাল হোসেন, মনজুর আহমেদ, মোহাম্মদ মালেক, রশিদ ই মাহবুব, খলিলুর রহমান, মোঃ সোহরাব হোসেন, এম এ গাফফার, এ এম এম নওশাদ ইহসান, শফিকুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।

তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে—

* প্রেস ক্লাবের সদস্যদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা

* নতুন সদস্য সংগ্রহে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রবর্তন

* প্রেস ক্লাবে আধুনিক স্টুডিও, নিউজরুম ও সেমিনার হল উন্নয়ন

* সাংবাদিকদের কল্যাণ তহবিল বৃদ্ধি

* মিরপুর অঞ্চলের সংবাদ পরিবেশনকে আরও মানসম্মত করা

* সার্বিকভাবে সভাটি ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং প্রেসক্লাবের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।




প্রয়াত শ্রমিকনেতা দিদারুল হকের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকীতে যশোরে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

এসএম বদরুল আলমঃ সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ আমলা দালালপুঁজি বিরোধী লড়াইয়ে অগ্রণী সৈনিক, জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী আন্দোলনের নেতা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সহ-কোষাধক্ষ্য, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলার সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের অন্যতম নেতা, নওয়াপাড়া শাখার সাবেক কর্মকর্তা ও কার্পেটিং জুটমিল সিবিএ’র সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক শ্রমিকনেতা দিদারুল হকের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী (২৪ নভেম্বর) সোমবার পালনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল ৩টায় নওয়াপাড়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ব্রাইট ঘাটে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাটি সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি শ্রমিকনেতা বাহারুল ইসলাম (বাহার)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিকনেতা শাহ আলম ভূঁইয়া। বিশেষ বক্তা ছিলেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা প্রকাশ দত্ত। অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক কৃষকনেতা অধ্যাপক তাপস বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষকনেতা কামরুল হক লিকু, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলা সভাপতি শ্রমিকনেতা আশুতোষ বিশ্বাস, নড়াইল জেলা সাধারণ সম্পাদক কৃষকনেতা হুমায়ুন কবির, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপ‌তি ও খুলনা জেলা সভাপতি খাদিজা পারভিন, জাতীয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ছাত্রনেতা দিলিপ বিশ্বাস, বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন খুলনা শাখার সভাপতি শ্রমিকনেতা হাসান মুন্সি মাস্টার, সহ-সভাপতি লিটন মাস্টার, নাসির মাস্টার, বেল্লাল মাস্টার, ইমরুল ড্রাইভার, কার্যকরী সভাপতি ফারুক মাস্টার, রাশেদ মাস্টার, হাসমত মাস্টার, মঞ্জু মাস্টার প্রমূখ নেতৃবৃন্দ। সভাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ অভয়নগর থানার সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা নাজমুল হুসাইন।

বক্তারা বলেন, আজ ইতিহাসের সর্বোচ্চ সমস্যা-সংকটের মধ্যদিয়ে চলছে শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের জীবন। এ সংকট চলমান বিশ্বব্যবস্হার সংকট। পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্হায় অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকট গভীর থেকে গভীরতর হয়ে চলেছে।

২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক মন্দা ১৮ বছর চলে বিশ্বযুদ্ধের বিপদ এমনকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ বৃদ্ধি করে চলেছে। এ সংকটের অধীন বাংলাদেশের জাতীয় পরিস্থিতি হওয়ায় সাম্রাজ্যবাদীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত বৃদ্ধি ও তাদের প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এবং সাম্রাজ্যবাদী লুটেরা অর্থনীতির লুটপাটে দেশে বিরাজ করছে গভীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকসহ সামগ্রিক সংকট।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পরিকল্পনায় দেশে খুনি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে মার্কিনের বিশ্বস্ত দালাল ডঃ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী NDA(Non Discloser Agreement) চুক্তি, চট্টগ্রাম বন্দর মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত কোম্পানি (ডিপি ওয়ার্ড)-এর হাতে তুলে দেওয়ার মতো নগ্ন ভূমিকা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে বিভিন্ন সংস্কারের নামে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও পশ্চিমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে।

অপরদিকে মার্কিনের প্রধান প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়া দেশে স্বীয় অবস্থান শক্ত করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিনের পক্ষে সম্পৃক্ত করতে ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের স্বরূপ উন্মোচন করে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। সাথে সাথে সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় দেশে জাতীয় নির্বাচনে এক সাম্রাজ্যবাদের দালালের পরিবর্তে আরেক দালাল রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে প্রতিবারের মতো শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের কোনো লাভ হবে না।

তাই শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত মুক্তি অর্জন করতে সকল সাম্রাজ্যবাদ ও তার এদেশীয় দালালদের (তথাকথিত ভোট) রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে এবং শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়নে জন‌্য জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করতে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সা‌থে সা‌থে প্রধান অ‌তি‌থি নওয়াপাড়া বন্দরের শ্রমিক‌দের উত্থা‌পিত সমস্যা সমাধা‌নে কর্তৃপ‌ক্ষের দৃ‌ষ্টি আকর্ষণ ক‌রেন।




গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে ক্লেমন ইউনিক্যাম্পাস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-এর উচ্ছ্বাসময় উদ্বোধনী

খেলাধুলা ডেস্কঃ গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (GUB)-এ গতকাল যথাযথ মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হলো আন্তঃবিভাগীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা “Clemon Uni Campus Cricket Tournament 2025” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। Clemon Sports এবং GUB-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে প্রাণবন্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও আয়োজনের বর্ণনা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা নিজেদের দলীয় চেতনা, উদ্যম ও খেলাধুলার মনোভাব প্রদর্শন করে খেলার সূচনা করেন। অনুষ্ঠানটি ছিল উচ্ছ্বাসময় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত বন্ধুত্ব, সমন্বয় ও ক্রীড়া মনোভাবকে আরও উৎসাহিত করেছে।
উদ্বোধনীতে বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয় খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সম্ভাবনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্বের দিকে।
ক্রীড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিকাশ
টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র খেলা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ, দলবদ্ধভাবে কাজ করার সক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, সংগীত ও উজ্জ্বল ব্যানারগুলো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য
GUB-এর ক্রীড়া বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য এমন ক্রীড়া আয়োজন নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাবে। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, মননশীলতা ও সৃজনশীল মনোভাবের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও রোমাঞ্চকর মুহূর্ত বয়ে আনবে।



মল পানিতে ভেসে গেলে কি স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে?

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ সম্প্রতি ইউরোপিয়ান জার্নাল অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মানুষের মল পানিতে ভাসতে পারে। সাধারণত মল পানির চেয়ে ভারী হওয়ায় এটি ডুবে যায়, তবে মলে যদি বাতাস বা চর্বি বেশি থাকে, মল ভেসে যেতে পারে।

গবেষণায় ১,২৫২ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা গেছে, ফাংশনাল বাওয়েল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত রোগীদের ২৬ শতাংশের মল পানিতে ভেসেছে। অন্য ফাংশনাল পরিপাকতন্ত্র সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এ হার ৩ শতাংশ।

ফাংশনাল বাওয়েল ডিজঅর্ডার হল এমন একটি সমস্যা যেখানে অন্ত্রে গঠনগত কোনো ত্রুটি না থাকলেও অন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না। এছাড়া অতিরিক্ত আঁশ বা চর্বিযুক্ত খাবার, দুধের ল্যাকটোজ ও ফলের ফ্রুকটোজও মলকে ভাসমান করতে পারে।

তবে বিশেষ কোনো অসুবিধা না থাকলেও কিছু লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

  • মল দীর্ঘদিন ভেসে থাকা

  • স্বাভাবিকের চেয়ে দুর্গন্ধযুক্ত বা আঠালো মল

  • রক্তসহ মল বা টয়লেট পেপারে রক্ত দেখা

  • ওজন কমা, পেট ব্যথা, অতিরিক্ত গ্যাস

গবেষকরা জানাচ্ছেন, মল ভেসে থাকা সাধারণত স্বাভাবিক হলেও খাবার ও অভ্যাসের প্রতি মনোযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




রংপুরে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর: রংপুরে ১৯ মাস বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি মো. রাব্বীকে (২০) গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার ভোর রাতে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের বসনিয়া পাড়ার একটি বাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ রাব্বী রংপুরের তারাগঞ্জ কুর্শা পঞ্চায়েত পাড়ার জিয়াউর রহমানের ছেলে। সোমবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
র‌্যাব জানায়, গত ৩১ জুলাই বিকেলে ভুক্তভোগী ওই শিশু তারাগঞ্জ কুর্শা পঞ্চায়েত পাড়াস্থ নিজ বাড়ির বাইরে খেলাধুলা করছিল। এসময় শিশুটিকে  আসামি মো. রাব্বী চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ফলে শিশুটির যৌনাঙ্গ রক্তাক্ত ও জখম হয়। এসময় কান্নার শব্দ পেয়ে আশেপাশের লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে সংশ্লিস্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।




সিংড়ার চলনবিলে নৌকায় আমন ধান কাটা শুরু

নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে এখনো নামেনি বন্যার পানি। হেমন্তের অগ্রহায়ণে সারাদেশে নতুন ধান কাটার উৎসব চললেও চলনবিলের কৃষকদের মুখে শঙ্কা আর হতাশা। জমিতে হাঁটু থেকে হাঁটুর ওপরে পানি থাকায় কৃষকদের ধান কাটতে হচ্ছে নৌকা দিয়ে। এতে বাড়ছে শ্রমিক খরচ, কমছে ফলন।

সরেজমিনে ডাহিয়া ও ইটালী ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে দেখা যায়, পানিতে নেমে শ্রমিকরা কষ্ট করে ধান কাটছেন। কাটা ধান নৌকায় তুলে আনা হচ্ছে খোলায়, সেখান থেকে মাড়াই করে তুলছেন ঘরে।

কৃষকেরা বলছেন, দ্বিতীয় দফার আকস্মিক বন্যায় তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতি বিঘায় ফলন হচ্ছে ৫ থেকে ৬ মণ ধান। কিন্তু শ্রমিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ সব খরচ বাদ দিলে কৃষকের হাতে থাকছে মাত্র ১ থেকে ২ মণ ধান।

ইটালী ইউনিয়নের পশ্চিম মাগুড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ভুট্টু বলেন, আমরা তিন ভাই মিলে ৭০ বিঘা ধান করেছি। বেশির ভাগ জমিতে নৌকা নিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। শ্রমিকই পাওয়া যাচ্ছে না। পানিতে ধান কাটতে শ্রমিকেরা রাজি হচ্ছেন না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজের জন্য ৫শ থেকে ৭শ টাকা দিতে হচ্ছে।

ইন্দ্রাসন গ্রামের কৃষক সবুজ আলী জানান, ৫ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান করেছি। ফলন ভালো হলেও খরচ এত বেশি যে ১–২ মণ ধান ঘরে তোলাই কঠিন। এখন বর্গার ধান কীভাবে দেব—দুশ্চিন্তায় আছি।

ডাহিয়া ইউনিয়নের কাউয়াটিকরী গ্রামের কৃষক ফরিদ প্রামাণিক বলেন, প্রতি বছর আমন কেটে সরিষা করি। গত বছর ২০ বিঘা করেছি। কিন্তু এবার জমিতে পানি থাকায় সরিষা বপন করতে পারব কিনা চিন্তায় আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ জানান, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোনা আমন এবং ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের বন্যায় বোনা আমনের কিছু ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি প্রণোদনা ও পরামর্শ দিয়ে আমরা কৃষকদের সহযোগিতা করছি। পানি নেমে যাচ্ছে। সরিষা ও বোরো চাষে কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছি।




কুমিল্লায় বিএনপি–জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ১০ জন

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ফেসবুক পোস্ট ও বক্তব্য নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের দীঘিরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয়েছে শহীদ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ কার্যালয় ও পাঁচটি মোটরসাইকেল। পরে কালিকাপুর ইউনিয়নের রাজারবাজার এলাকায় ইসলামী পাঠাগারেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

জানা গেছে, রবিবার জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের আরব হোসেন রাজু নামের বিএনপির এক সমর্থকের ফেসবুক পোস্ট ও স্বেচ্ছাসেবকদলের সভায় দেওয়া বক্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ দাবি করে জামায়াতের কয়েকজন সমর্থক সন্ধ্যায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম রাশেদের নেতৃত্বে কয়েকজন জামায়াত সমর্থকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। পরে জামায়াত সমর্থকরাও পাল্টা হামলা চালান। এতে রফিক মেম্বার, তপনসহ উভয়পক্ষের ৮–১০ জন আহত হন। একই সময়ে ৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং আরব হোসেন রাজুর বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।

পরবর্তী সময়ে ছাত্রদলের একটি অংশের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপি সমর্থকেরা জামায়াত কর্মী ইসমাইল হোসেনকে কুপিয়ে জখম করেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন বলেন, ‘ছাত্রদলের হামলায় আমাদের কর্মী ইসমাইল আহত হয়েছেন। পরে রাজারবাজার ইসলামী পাঠাগারও ভাঙচুর করা হয়েছে।’

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি। জামায়াতের হামলায় আমাদের ৮–১০ জন আহত হয়েছে।’

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।