অভিযোগের পাহাড়ে ডুবলেন ইউপি সদস্য রুপালী খাতুন, মন্ত্রণালয়ের আদেশে বরখাস্ত
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ৭নং জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রুপালী খাতুনকে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে মারধর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো, এমনকি ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (১০ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোঃ সামিউল মাসুদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে রুপালী খাতুনকে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে আদেশটি কার্যকর করার জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসক এবং দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ৪৬.০০.৮১০০.০০০.০১৭.২৭.০০০৪.২৫-৮৮৫/১(৭) নং স্মারকে চিঠি পাঠানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ার পর রুপালী খাতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন–এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, তিনি দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন। এছাড়া ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা, বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে-বেনামে বানানো অভিযোগ দেওয়া এবং ভিডাব্লিউবি’র চাল বিতরণ কাজে বাধা সৃষ্টি করার মতো ঘটনা একাধিকবার ঘটান। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
এসব অভিযোগ পর্যালোচনা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অভিযোগের সত্যতা পায় এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন–২০০৯-এর ৩৪(৪)(খ) ও ৩৪(৪)(ঘ) ধারায় তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, রুপালী খাতুনের কর্মকাণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব, আইন ও জনস্বার্থের পরিপন্থী।
স্থানীয় সূত্র মতে, অতীতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়কার প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা সুবিধা ভোগ করেছিলেন। ৫ আগস্টের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর তিনি নতুন এক প্রভাবশালী নেতার ছায়ায় থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে মারধর, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়মসহ অসংখ্য অভিযোগ জমতে থাকে। গ্রামবাসীর দাবি, কারা তাকে এত ক্ষমতা দিয়েছে এবং কারা তাকে উসকানি দিচ্ছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বরখাস্তের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং তারা রুপালীর পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
এই বিষয়ে যোগাযোগ করলে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন সংবাদটি নিশ্চিত করেন।
টাঙ্গাইলে বহুতল ভবন নিয়ে জমির মালিকানা বিতর্ক ও কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে গণপূর্ত বিভাগ ও জেলা পরিষদ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়ায় কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে, যা এলাকায় তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকার পাশের প্রায় এক একর ৫২ শতাংশ জায়গায় ২০১৫ সালে ‘বিবর্তন’ নামে একটি বহুমুখী বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ শুরু করে জেলা পরিষদ। সে সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক প্রকল্পটির উদ্যোগ নেন।
কিন্তু এই জমির বড় অংশ—প্রায় ৭৫ শতাংশ—গণপূর্ত বিভাগের মালিকানাধীন বলে দাবি করা হচ্ছে। এর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। গণপূর্ত বিভাগের অভিযোগ, তাদের জায়গা দখল করেই জেলা পরিষদ বিশাল ভবনটি নির্মাণ করেছে। বারবার কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও তখনকার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক তা মানেননি এবং নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল বলেন, ভবনে যেই জমি দখল হয়েছে তার মূল্য ৩০ কোটি টাকারও বেশি। তারা এই জায়গার অধিকার ছাড়বেন না। ভবিষ্যতে এই ভবন গণপূর্তের অধীনে নিতে হবে অথবা পুরো নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। তবে দুই মন্ত্রণালয় যদি যৌথভাবে সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুযোগ থাকতে পারে।
অন্যদিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না জানান, গণপূর্তের দাবি কতটা সঠিক, তা আগে যাচাই করা হবে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা সরেজমিন পরিদর্শনে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পরিষদ প্রয়োজনে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছে।
এদিকে ভবনটি নির্মাণের সময়ে দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের অভিযোগ আরও পরিস্থিতি জটিল করেছে। অভিযোগ রয়েছে—গণপূর্তের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের আড়ালে কয়েক কোটি টাকা গায়েব করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দোকান বরাদ্দ নেওয়া প্রায় আড়াইশ ব্যবসায়ী। তারা ১০ বছর আগে টাকা জমা দিয়ে দোকান ইজারা নিলেও এখনো কাউকে দোকানের পজিশন বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ভবনটি আদৌ শেষ হবে কি না তা নিয়েও অনেকে সন্দিহান। ফলে হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
টাঙ্গাইলের মানুষের মধ্যে পুরো বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে জমির মালিকানা নিয়ে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের বিরোধ, অন্যদিকে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে আছে।
ওবায়দুল কাদেরের পরিচয়দাতা আসাদুজ্জামান হিরুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে নামল দুদক
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ‘পালিত পুত্র’ পরিচয়ে চলাফেরা করা আসাদুজ্জামান ওরফে হিরুর বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (২৩ নভেম্বর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুদক জানায়, হিরুর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে চোরাচালান, হুন্ডি ব্যবসা, শুল্ক ফাঁকি, চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ নানা ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ সংগ্রহের অভিযোগ এসেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
বর্তমানে আসাদুজ্জামান হিরু ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের (এনডিই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি গুলশান-১ ডিএনসিসি মার্কেটের সভাপতি। শুধু তাই নয়—প্যারাগন, লন্ডন টাচ, প্যারিস গ্রুপ ও ওয়েস্ট ফিল্ড নামের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরও মালিক। দুদকের ধারণা, এসব ব্যবসার আড়ালেই তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হিরু এবং তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মিলে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ট্যাক্স জালিয়াতি ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে দুদক বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নেমেছে। তদন্তের জন্য দুদক দুই সদস্যের একটি টিম গঠন করেছে—দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপ-সহকারী পরিচালক আবু তালহা।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসাদুজ্জামান হিরুকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় সংঘটিত এক হত্যা মামলায় তাকেও অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ জানায়, হিরু নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে ওবায়দুল কাদেরের ‘পালিত পুত্র’ বলে পরিচয় দিয়ে নানা সুবিধা নিতেন এবং এই পরিচয়কে কাজে লাগিয়েই তিনি বড় ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন।
দুদকের অনুসন্ধান এখন সেই সমস্ত অভিযোগ যাচাই করে দেখবে—ঠিক কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে এবং কার সহায়তায় তিনি এত বড় অঙ্কের সম্পদ সংগ্রহ করেছেন।
মিরপুরে লাজফার্মার ভুল ওষুধে জীবন-মৃত্যুর লড়াই রিনার; প্রতিশ্রুতি ভেঙে উল্টো পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুরে লাজফার্মার অবহেলার কারণে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েছেন কামাল হাউজিংয়ের বাসিন্দা খালেদা আক্তার রিনা (৪৫)। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে থাকা Methoflex 500 mg-এর পরিবর্তে ফার্মেসি থেকে তাকে তুলে দেওয়া হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ও অত্যন্ত শক্তিশালী কেমোথেরাপি-জাতীয় ওষুধ Methotrexate 10 mg—এক পুরো পাতায় মোট ১০টি ট্যাবলেট। ভুল ওষুধ সেবনের পর থেকেই রিনার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। লিভার ও কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মাথা ও ভ্রুর চুল পড়ে যেতে শুরু করে।
২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মিরপুরের রাইনখোলা মোড়ে শাহ আলী থানার কাছাকাছি লাজফার্মা থেকে ওষুধ কেনেন রিনা। শরীর খারাপ হতে থাকলে প্রথমে তাকে ১ নভেম্বর মিরপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় সেখান থেকে দ্রুত ধানমন্ডীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
রিনা আইসিইউতে থাকা অবস্থায় লাজফার্মার ম্যানেজার মো. ওবায়দুল কয়েকবার হাসপাতালে যান। প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রক্ষায় তিনি পরিবারকে বলেন যে চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় লাজফার্মা বহন করবে। শুরুতে তিনি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সাহায্যও দেন। কিন্তু ৫ নভেম্বর রিনাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে নেয়ার পর তাদের আচরণ পুরোপুরি বদলে যায়।
১১ নভেম্বর রিনার পরিবার চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে কথা বলতে লাজফার্মায় গেলে ম্যানেজার ওবায়দুল এবং পরিচালক বেলালের ভাই জিলাল তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, হুমকি দেন এবং আর কোনো খরচ বহন করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে সাংবাদিকরা বিষয়টি জানার পর পরিচালক আকবর ও বেলাল চার লাখ টাকা দেয়ার আশ্বাস দেন।
১২ নভেম্বর ফেয়ারপ্লাজার ১০ম তলায় এক ডেভেলপারের অফিসে রিনার পরিবার ও লাজফার্মা কর্তৃপক্ষের মধ্যে সাদা কাগজে লিখিত সমঝোতাও হয়—সেখানে চার লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই টাকা দেয়নি তারা। বরং লাজফার্মার ম্যানেজার ওবায়দুল উল্টো রিনার পরিবারের বিরুদ্ধে “চাঁদাবাজি” অভিযোগে শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন। এ মামলার তদন্ত করছেন এসআই রুবেল।
স্থানীয়দের দাবি, রাইনখোলা মোড়ের লাভজনক এই লাজফার্মার সাইনবোর্ডটি কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ–সম্পৃক্ত নেতার কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। ফলে মাসে লাখ টাকার বেশি মালিক লুৎফর রহমানকে দিতে হয়—যার কারণে ওষুধের মান, ভোক্তার নিরাপত্তা বা নৈতিকতার চেয়ে এখন মুনাফাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এমনকি আগে লাজফার্মার অন্য একটি শাখায় নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ৫ লাখ টাকা জরিমানাও হয়েছিল।
গ্রাহকদের অভিযোগ—লাজফার্মার অনেক কর্মীই নিয়মিত দুর্ব্যবহার করেন, ভুল ওষুধ দেন এবং নানা প্রতারণা করেন, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় খালেদা আক্তার রিনা এখনো গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার পরিবার বলছে—লাজফার্মার অবহেলা, ভুল ওষুধ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণেই রিনার জীবন আজ ঝুঁকির মধ্যে।
গাইবান্ধা কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু।
মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ তারিক রিফাত (৫৫) কারাগারে বন্দী অবস্থায় মারা গেছেন।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। এদিকে, হঠাৎ তাঁর এ মৃত্যুর ঘটনায় জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মারা যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা তারিক রিফাত উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের প্রভুরামপুর এলাকার বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের বিএসসির ছেলে।
তিনি ২০১৭ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক এবং ২০২৪ সালে শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষী হিসেবে পুরস্কার পান। এছাড়া তিনি ২০২১ সালে রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জেলা কারা সূত্রে জানা গেছে, আজ (রবিবার) বিকালে তারিক রিফাত অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো রহস্য রয়ে গেছে।
এদিকে, গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ইসিজি করে দেখা গেছে সে বেঁচে নেই।
পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাকে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছিল। অন্যদিকে কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেলার আতিকুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে বিএনপি কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২ বছর পর দায়েরকৃত মামলায় গত ১৭ অক্টোবর পুলিশ তাকে এজাহারনামীয় আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার করে।
কয়েক বছর আগে হার্টে রিং পড়ানোর কারণে গ্রেপ্তারের তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে বগুড়ায় ও রংপুরে একমাসেরও বেশী সময় ধরে পুলিশের জিম্মায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পরে আজ (রবিবার) দুপুরে আদালতে বিচারকের সামনে জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
কাশিমপুরে সেনাবাহিনীর টানা অভিযানে ইয়াবার বড় চালান উদ্ধার আটক দুই কারবারি থানায় হস্তান্তর
জুলফিকার আলী জুয়েলঃ গাজীপুরের কাশিমপুরে সেনাবাহিনীর টহল টিমের তথ্যভিত্তিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) গভীর রাতে মৌচাক আর্মি ক্যাম্পের একটি টহলদল এনায়েতপুর এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা এক ব্যক্তিকে আটক করার মধ্য দিয়ে অভিযানটির সূত্রপাত হয়।
টহল টিমের একজন সদস্য জানান, রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে ওই ব্যক্তিকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজেকে মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচয় দেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিছু ডিলারের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহের কথা স্বীকার করে তিনি তাদের পরিচয়, অবস্থান ও মাদক লেনদেনের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন। এ তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী।
প্রথম অভিযান পরিচালিত হয় এলাকার কুখ্যাত ইয়াবা সরবরাহকারী আরিফ হোসেন ওরফে কসাই আরিফের আস্থায়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আরিফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোঃ রুবেল আলম (৪০)–কে ধাওয়া করে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশিতে ৫,৯৯৬ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে রুবেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে আরেকটি অভিযানে আটক করা হয় মোঃ রাজু আহমেদ (৩২)–কে। তার কাছ থেকেও ২,৩০৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। দুই অভিযানে মোট ৮,৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে টহল টিম।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এনায়েতপুর–কাশিমপুর এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় তারা উদ্বেগে ছিলেন। সেনাবাহিনীর এই সফল অভিযান এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়েছে বলে জানান একাধিক বাসিন্দা।
মৌচাক আর্মি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদকবিরোধী এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেজর ইব্রাহীম আব্দুল্লাহ আসাদ। আটক দুই ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত ইয়াবা আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য কাশিমপুর থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, “মাদকচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে আরও শক্তিশালীভাবে কাজ করা সম্ভব।
এদিকে কাশিমপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
ঢাকা ত্যাগ করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী
ডেস্ক নিউজঃ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ঢাকা ছেড়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে তিনি ঢাকা ছাড়েন।
এর আগে শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান উপদেষ্টা স্বাগত জানান। এছাড়া গার্ড অব অনার এবং তোপধ্বনি দেওয়া হয়। পরে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তোবগে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আলাদাভাবে সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
শনিবার ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করেন, বিশেষ গুরুত্ব দেন বাণিজ্য, সংযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বাড়াতে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তোবগের সঙ্গে এই সফরে ছিলেন ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুঙ্গিয়েল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়নপো নামগিয়াল দরজি এবং ভুটানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
ডেস্ক নিউজঃ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।
রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসলে রাষ্ট্রপ্রধান তাকে স্বাগত জানান। পরে বঙ্গভবনের ক্রেডেনসিয়াল হলে তারা এক আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেন।
ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
সাহাবুদ্দিন বলেন, ভবিষ্যতে উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো গভীর হবে। তিনি আশা করেন যে, আগামী দিনে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য, জলবিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তার দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজে আসন বাড়ানো এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংরক্ষণ করায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা করেন যে, আগামী দিনে উভয় দেশের সম্পর্ক আরও বৃদ্ধির পাবে।
ঢাকা-১৫ এর ৪ নং ওয়ার্ডে এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময়ে মিল্টন: “জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনাই আমার প্রধান অঙ্গীকার”
এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা ১৫ আসনের অন্তর্ভুক্ত ৪ নং ওয়ার্ড এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জনাব শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। সভায় তিনি এলাকার নানা সমস্যা, নাগরিক ভোগান্তি এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “ঢাকা-১৫ এ ন্যায়বিচার, উন্নয়ন এবং মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা আমার প্রথম কাজ।” “এলাকার রাস্তাঘাট, পানি–গ্যাস সংকট এবং নিরাপত্তা—এসব সমস্যা সমাধানে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবো।” “এই আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়, উন্নয়ন চায়, স্বচ্ছ রাজনীতি চায়। আমি আপনাদের সন্তান—আপনাদের সহযোগিতা পেলেই আমরা মিলেই এই পরিবর্তন আনবো।”“দমন-পীড়ন আর মিথ্যা মামলার রাজনীতি বন্ধ করে একটি শান্তিপূর্ণ এলাকাই আমার লক্ষ্য।” “আমি ব্যক্তিগত স্বার্থে রাজনীতি করি না—এই এলাকার প্রতিটি মানুষের অধিকার রক্ষা করতে চাই।”
মতবিনিময় সভায় ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুবসমাজ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন। তারা মিল্টনকে সমর্থন জানিয়ে এলাকার উন্নয়নে তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।