পারমাণবিক চুক্তির জন্য ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে হবে সৌদি আরবকে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলেই কেবল দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে এই কর্মসূচির আওতায় সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই)  ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, চুক্তিটি শুধুমাত্র বেসামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের জন্য। বর্তমানে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশের এ ধরনের সুবিধা রয়েছে। তবে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার ওপর।

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির বিরোধী নয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা হয়। এর আওতায় আমেরিকান প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করতে পারবে। ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যে কঠোর জাতিসংঘ পরিদর্শনের শর্ত দিয়েছিল, সৌদি আরবের ক্ষেত্রে সেই শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

তবে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা না পেলে তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেবে না।

২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হয় এই চুক্তি। এর মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্য নেওয়া হয়। চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয় ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে।

এ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান এই অ্যাকর্ডসে যোগ দিয়েছে। সৌদি আরব অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ফিলিস্তিন ইস্যুতে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে তারা এতে অংশ নেবে না।




শুক্রবার ভারতজুড়ে বড় বিক্ষোভের ডাক, উত্তেজনা চরমে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শুক্রবার গোটা ভারতে বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের বিক্ষোভে ‘পুলিশি বর্বরতার’ প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।

দলটি তাদের সমর্থক, ছাত্র সংসদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতিটি শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে।

দিল্লিতে সিজেপি’র ‘চলো সংসদ’ মার্চের সময় সংঘর্ষ এবং বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। দলটির মতে, এই ঘটনাগুলো রাজধানীর বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।

বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও দিল্লি পুলিশের দাবি- মার্চ চলাকালীন বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠে। তারা পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে।

দেশব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে সংগঠনটি স্থানীয় আয়োজকদের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), প্রচারসামগ্রী এবং স্মারকলিপির একটি টেমপ্লেট প্রচার করেছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো জনসমক্ষে পাঠ, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় তথাকথিত পুলিশি বর্বরতার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি জানানো এবং জেলা কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জবাবদিহিতার দাবিতে গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক বিক্ষোভে যোগ দিয়ে আমরণ অনশন শুরু করার পর এই আন্দোলন আরও গতি লাভ করে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে




কুমিল্লায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক নিউজ : কুমিল্লায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মফিজুল ইসলাম মফু নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম মফু জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

আদালত ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের খেয়াইশ গ্রামের ৯ বছরের ওই শিক্ষার্থী স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। নির্ধারিত সময়ে সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এলাকার একটি ধানক্ষেতে ঝুমুরের মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ  ঘটনাস্থল থেকে তার স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও জুতা উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাস্থল থেকে মফিজুল ইসলাম মফুকে দ্রুত চলে যেতে দেখেন। এ ঘটনার পরদিন নিহত শিশুটির মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম মফুকে একমাত্র আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান আসামি মফু। এ ঘটনার ৩ দিন পর র‍্যাব চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইমাম উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। এছাড়াও ডিএনএ রিপোর্টেও আসামি ওই শিশুকে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব বিষয় আনা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-১ এর পিপি মো. বদিউল আলম সুজন বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর ১৯ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এ রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রায় ঘোষণার পর আসামি মফুকে আদালত থেকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।




বিশ্বকাপ ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবিতে পিটিশন, হাজার হাজার ভক্তের স্বাক্ষর

ক্রীড়া ডেস্ক : নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গত ১৯ জুলাই স্পেনের কাছে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনার হারের মাধ্যমে পর্দা নেমেছে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বিশ্বকাপ আসরের। তবে ম্যাচটি যথাযথ নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়নি দাবি করে ফাইনালে রেফারির কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনায় ক্ষোভ বাড়ছে। খেলাটি পুনরায় আয়োজনের দাবিতে দেশটিতে শুরু হওয়া একটি অনলাইন ক্যাম্পেইনে ইতিমধ্যে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৮১ হাজারেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চেঞ্জডটওআরজিতে ওই পিটিশন চালু করেছেন গিসেলা সানচেজ নামে এক ফুটবলভক্ত। যেখানে তারা ফিফার কাছে স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিসের পারফরম্যান্স এবং ভিএআরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি তোলা হয়েছে।

এই ক্যাম্পেইনের উদ্যোক্তার দাবি, ম্যাচটিতে গতিপ্রকৃতি প্রভাবিত করার মতো রেফারিং হয়েছিল। এ ছাড়া তিনি কিছু অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন, যদিও এ বিষয়ে কোনো যাচাইকৃত প্রমাণ উপস্থাপন করেননি এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এমন আবেদনের অবশ্য কোনো আনুষ্ঠানিক বা বিধিবদ্ধ বৈধতা নেই এবং আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতার ফলাফল পরিবর্তন করতে বাধ্য করার ক্ষমতা নেই।

খেলা পুনরায় আয়োজন কেবল তখনই সম্ভব, যখন ক্রীড়া-সংক্রান্ত বিধিমালার আওতায় কোনো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয় অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আর্জেন্টিনার এই উদ্যোগটি ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে সামনে আসা অন্যান্য প্রতিবাদেরই একটি অংশ। এর আগে ফ্রান্সে ৮২০০০–এরও বেশি স্বাক্ষরসহ একটি ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে দাবি করা হয়েছিল, স্পেন যে পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল তার ঠিক আগের একটি ঘটনার জেরে স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচটি পুনরায় খেলা হোক। তবে তাদের সেই আবেদনের ফলাফল শূন্য!

প্রসঙ্গত, ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের গোলে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হয়। এর পরই হাজার হাজার আর্জেন্টাইন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমে আসেন। ফাইনালে ওঠা এবং টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছায় তারা লিওনেল মেসিদের প্রতি সমর্থন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর বাইরে ফাইনালে হারের পর বুয়েন্স আয়ার্সে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মতো ঘটনাও ঘটে।




দিল্লিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতকে আতিথ্য দেবে আফগানিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক : চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজন করতে যাচ্ছে আফগানিস্তান। ক্রিকইনফোর তথ্যমতে, সিরিজটি ১৩, ১৫ ও ১৭ সেপ্টেম্বর অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সূচিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

নিজ দেশের মাটিতে কোনো দলের ভারতের বিপক্ষে স্বাগতিক হিসেবে খেলার ঘটনা এটিই হবে প্রথম। কারণ আফগানিস্তান বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতে তাদের ‘হোম’ ম্যাচগুলো খেলে আসছে। এর আগে তারা লখনউ, দেরাদুন ও গ্রেটার নয়ডায় নিজেদের হোম ম্যাচ খেললেও ভারতের বিপক্ষে কখনো খেলেনি।

শুভমান গিলদের বিপক্ষে এই সিরিজটি শ্রীলঙ্কা সফর(টেস্ট সিরিজ) এবং এশিয়ান গেমসের মধ্যবর্তী সময়ে নির্ধারিত হয়েছে। জাপানে এশিয়ান গেমস শুরু হবে সেপ্টেম্বরের শেষভাগে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টটি শেষ হওয়ার কথা ২৭ আগস্ট। যা আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে। অন্যদিকে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের এক সপ্তাহ পর ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এশিয়ান গেমস।

এর আগে গত জুনে আফগানিস্তান ও ভারত একটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিল, যা ছিল আফগানিস্তানের জন্য একটি ‘অ্যাওয়ে’ সিরিজ। নিউ চণ্ডীগড়ে অনুষ্ঠিত টেস্টটিতে ভারত তৃতীয় দিনেই ইনিংস ও ৩০০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে। এরপর ওয়ানডে সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে জিতে নেয় শুভমান গিলরা।

বর্তমান টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের সাম্প্রতিক ফলাফল খুব একটা ভালো নয়। জুনের শেষ সপ্তাহে বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের কাছে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হারার পরপরই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত ৪-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। এরপর ওয়ানডে সিরিজেও ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় সফরকারীরা। বর্তমানে ভারত জিম্বাবুয়ে সফরে রয়েছে, যেখানে তারা তিন ম্যাচের একটি সিরিজ খেলছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে আফগানিস্তান আর কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেনি। সেই বিশ্বকাপে তারা চারটি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জয় পেলেও ‘সুপার এইট’-এ জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছিল।




সালমান শাহ হত্যা মামলা: ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

বিনোদন ডেস্ক : চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এ মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এ দিন ধার্য করেন।

পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।

ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কিন্তু পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে– এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি।

তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন।

সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত।

দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।

সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, এরা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

মামলাটি এরপর তদন্ত করে র‌্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র‌্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার আদেশ দেন।

তখন তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।

সেখানেও বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের কোনও প্রমাণ মেলেনি।

পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।

ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট নন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে তিনি আরও তদন্ত চান।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।

এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় নিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়েরের আবেদন করা হয়।

২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন গ্রহণ করেন। তবে বিভিন্ন কারণে আর রিভিশন শুনানি হয়নি।

গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার মায়ের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।

এ বিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে রমনা মডেল থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।

এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত পলাতক আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করেন মোহাম্মদ আলমগীর।




৮ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ৮টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১টা পর্যন্ত দেশের নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

পূর্বাভাসে জানানো হয়, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস থাকায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের সবকটি বিভাগেই আগামী কয়েকদিন দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।




ওয়াকফ সম্পত্তিতে নির্মাণ: আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে ড্যাফোডিল মান্নান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকার রূপনগর থানার দুয়ারীপাড়া মৌজায় অবস্থিত আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফ স্টেটের ভূমিতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত স্থিতাবস্থা (Status Quo) আদেশ কার্যকর থাকা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ড্যাফোডিল মান্নান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

ওয়াকফ স্টেটের সদস্যদের অভিযোগ, আদালতের আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ভূমিতে কোনো ধরনের নির্মাণ বা উন্নয়নমূলক কাজ করার অনুমতি নেই। কিন্তু সেই আদেশ উপেক্ষা করে ড্যাফোডিল মান্নান প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানানো হলেও তিনি আদালতের নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানান এবং ওয়াকফ স্টেটের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরাদ্দপত্র বা আবেদনকে ভিত্তি করে কিছু ব্যক্তি ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় কিছু কথিত সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারীরা।

স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজ চলাকালে সেখানে কিছু লোককে পাহারায় রাখা হয় এবং শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন পরিশোধ করা হয় না। গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঘটনাস্থলে গিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

এদিকে আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফ স্টেটের সদস্যরা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্যের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যদিকে, এলাকাবাসীর দাবি, ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের প্রকৃত অবস্থা যাচাই না করে কিছু গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের আগে আদালতের নথি ও প্রকৃত তথ্য যাচাই করা উচিত। তারা সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল।




সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার: অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন সাংবাদিক নেতারা। আগামীকালের মধ্যে তাঁকে মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

বুধবার ২২ জুলাই রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ সাংবাদিক সমাজের আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সাংবাদিক নেতারা।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ বলেন, শাহবাগ থানার ওসি যে মামলা নিয়েছেন, সেটি রক্ষা করতে পারবেন কি না, তা ভেবে দেখা উচিত ছিল। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কোন আইনে মামলাটি নেওয়া হয়েছে এবং সেটি কোনো চাপে করা হয়েছে কি না, সেটিও জানতে চান।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এরফানুল হক নাহিদ বলেন, অতি উৎসাহী আচরণ না করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে তদন্ত হয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এলে তখন গ্রেপ্তার করা যেত।

তিনি বলেন, তাঁরা কোনো অন্যায়ের প্রশ্রয় দিচ্ছেন না। হাফিজুর রহমান শফিক একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত সাংবাদিক। তাঁর প্রতিবেদনের সঙ্গে কারও দ্বিমত থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে জবাব দেওয়া বা আদালতে মানহানির মামলা করার সুযোগ ছিল। থানায় মামলা করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগের পরিস্থিতি ভেবে কেউ যেন অন্যায় না করেন।

শাহবাগ থানার ওসি ও গ্রেপ্তারে জড়িত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় তাঁদের প্রত্যাহারের দাবি তোলা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনের আগে ২৪–এর আন্দোলনের আত্মত্যাগ স্মরণ রাখা উচিত।

এরফানুল হক নাহিদ আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসকে নিয়ে অতীতে নানা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসনে যারা দায়িত্বে আছেন, তাঁদের মাথা ঠান্ডা রেখে সাংবাদিক সমাজকে উসকানি না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আগামীকালের মধ্যে হাফিজুর রহমান শফিককে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বলেন, অধিকার রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের পরীক্ষিত সংবাদকর্মী হাফিজুর রহমান শফিককে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দিদারুল আলম দিদার বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মামলা করার উপাদান আছে—এ কথা শাহবাগ থানার ওসিকে কে বলেছেন, সেটি জানতে চান তিনি।

তিনি বলেন, গত দেড় দশক ধরে তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সংগঠনগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবারও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা তাঁরা কল্পনাও করেননি।

দিদারুল আলম দিদারের অভিযোগ, এ ঘটনা প্রমাণ করে সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশের মধ্যে এখনো ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা রয়েছে। তিনি তথ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যারা মামলা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে যে প্রতিবেদনের কারণে শফিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই প্রতিবেদনে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তিনি অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে হাফিজুর রহমান শফিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠনগুলো আরও তীব্র কর্মসূচি দেবে বলেও জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সঠিক সংবাদ প্রকাশ করতে হলে মাঠপর্যায়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে সামান্য ঘটনাতেই মানুষকে মারধর, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অপরাধ করলে বিচার হবে, তবে নিরপরাধ কাউকে মব সৃষ্টি করে হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় জড়ানো কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের বাঁচাতে হলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকেও টিকিয়ে রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কাউন্সিলর ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ মাসুদ এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিজামুদ্দিন দরবেশ, রাজু আহমেদ, তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য এইচএম আল-আমিন, জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য তাপস, রাসেল, জিয়াউর রহমান, বিএফইউজের কাউন্সিলর নুরুল আবছার, ডিইউজের সদস্য আকাশ মনি সহ প্রমুখ।




তেলের সংকট নেই, গুজবে কান দেবেন না: পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন

ডেস্ক নিউজ : দেশের কোনো পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের সংকট নেই বলে জানিয়েছে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার (২২ জুলাই) সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেল ক্রেতা ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, বাংলাদেশের সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে, তেলের কোনো সংকট নেই।

আপনাদের চাহিদা মোতাবেক সব পেট্রোল পাম্প থেকেই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, এই অবস্থায় কোনো গুজবে কান না দিয়ে স্বাতাবিকভাবে যার যেটুকু প্রয়োজন সেটুকই গ্রহণ করুন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল কিনে দেশে কোনো বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে অনুুরোধ করছি।