মির্জা ফখরুলকে ইরানের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন, সম্পর্ক গভীর করার প্রত্যয়

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক অভিনন্দন বার্তায় ইরানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও গভীর করার গভীর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

শুভেচ্ছা বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের এই আস্থা প্রকাশ মির্জা ফখরুলের দূরদর্শিতা, প্রতিশ্রুতি এবং গণতন্ত্রকে সংহত করার ক্ষেত্রে তার প্রশংসনীয় অবদানেরই প্রতিফলন।

নতুন এই নেতৃত্বের সূচনা বাংলাদেশের জনগণের জন্য স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অভিনন্দন বার্তায় ইরানি প্রেসিডেন্ট দু’দেশের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের বহুমুখী সহযোগিতা সম্প্রসারণের পূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা জানান।

বার্তায় নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্রমবর্ধমান সাফল্য কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র : ইরনা




ঢাকাকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি করার প্রত্যয় ডিএনসিসি প্রশাসকের

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ বাস্তবায়নে কাজ করছি, যার মূল লক্ষ্য শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ব্যাপক সবুজায়ন করা।

তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটির কর্পোরেশন পাঁচ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরইমধ্যে ৫৫ হাজার বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় এসব কথা বলেন তিনি।

একদিনে এক লাখ গাছ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া ক্লেমন-এর পরিবেশবান্ধব প্ল্যাটফর্ম ‘গ্রিন ওয়েভ’-এর দেশব্যাপী সর্ববৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‘এক লক্ষ্যে এক লাখ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক।

এসময় ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, পুরো দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসাথে, ঢাকাকে পরিছন্ন রাখার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সিটি কর্পোরেশন। পাশাপাশি, নগরবাসীকে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা একটি অত্যন্ত জীবন্ত শহর, যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। আমরা যদি নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য না ফেলে যত্রতত্র ফেলি, তবে এই শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত কঠিন। সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা প্রতিদিন তাদের নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী কাজ করছেন এবং নির্দিষ্ট স্থান থেকেই বর্জ্য সংগ্রহ করবেন। কিন্তু শহরকে সুন্দর রাখতে হলে সর্বস্তরের নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য।’




ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু-শিখ-জৈনদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত

বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যাওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের শনাক্ত করে তাদের সরিয়ে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে ভারতের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন অমিত শাহ।

তিনি জানান, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা প্রশাসকদের ক্ষমতা দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অমিত শাহ বলেন, “বাংলাদেশ থেকে বাধ্য হয়ে পালিয়ে আসা সব হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীকে অবশ্যই মর্যাদার সঙ্গে এখানে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।”

তিনি দাবি করেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সিএএতে কারা নাগরিকত্বের সুযোগ পাবেন?
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ( সিএএ) অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

আইনটির আওতায় হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ নির্যাতন বা নিপীড়নের কারণে ওই তিন দেশ থেকে ভারতে এসেছেন এবং ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।

এই আইন নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়কে এর আওতায় না রাখার বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন আপত্তি জানিয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপি সরকারের দাবি, প্রতিবেশী তিন দেশে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্যই এই আইন করা হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি
শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টির পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন অমিত শাহ।

তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’- অর্থাৎ শনাক্ত করা, তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং দেশ থেকে ফেরত পাঠানোর নীতি অনুসরণ করবে।

পশ্চিমবঙ্গের জনগণের উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, “আমি আবারও বাংলার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিতে চাই- প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।”

তার এই মন্তব্যে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে স্পর্শকাতর ইস্যু
বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত পারাপার ও অভিবাসনের বিষয়টি বহু বছর ধরেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু।

বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো এবং সিএএ কার্যকর করার বিষয়কে রাজনৈতিক প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

অন্যদিকে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধীরা সিএএ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

শিলিগুড়ির বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরাসরি আক্রমণ করেন অমিত শাহ।

তিনি বলেন, “মমতা দিদি, আপনি এটি গ্রহণ করেননি। কিন্তু আপনার সরকারও নেই, আপনিও নেই। এখন ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার।”

অমিত শাহের এই বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সিএএ, নাগরিকত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অবৈধ অভিবাসন- এই চারটি ইস্যু নতুন করে সামনে চলে আসতে পারে।

আট জেলা প্রশাসককে দেওয়া হয়েছে ক্ষমতা
অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, সিএএর অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ ও চূড়ান্ত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা প্রশাসকদের বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর ফলে আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈন সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন, তাদের মধ্যে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা বাড়াতে পারে।

তবে নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনের শর্ত, আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

অমিত শাহের বক্তব্যে একই সঙ্গে দুটি পৃথক নীতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে- একদিকে সিএএর আওতায় যোগ্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করা, অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে এই দুই বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করে রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরে আসছে।

ফলে আগামী দিনে রাজ্যে নাগরিকত্বের আবেদন, সিএএ বাস্তবায়ন এবং অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিষয়গুলো রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিন নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে প্রদর্শনীতে বক্তব্য
অমিত শাহ এসব মন্তব্য করেন শিলিগুড়িতে ভারতের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে।
আইন তিনটি হলো-
•    ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)
•    ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)
•    ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (বিএসএ)
পুরোনো ভারতীয় দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি ও ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের পরিবর্তে নতুন এই তিন আইন কার্যকর করেছে ভারত সরকার।

প্রদর্শনীতে এসব আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন ইস্যুতেও নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তার বক্তব্যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি করতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়াদ্য হিন্দু




ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ১৭৩২ মামলা

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ১৭৩২টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৮টি বাস, ২টি ট্রাক, ৮টি কাভার্ডভ্যান, ৯টি সিএনজি ও ৩৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৪৪টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ৮টি বাস, ৭টি ট্রাক, ৪টি কাভার্ডভ্যান, ১৩টি সিএনজি ও ১০১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৫৬টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ২৫টি বাস, ১টি ট্রাক, ২২টি কাভার্ডভ্যান, ৬৮টি সিএনজি ও ১৫৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩২২টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩৫টি বাস, ১৯টি ট্রাক, ৫টি কাভার্ডভ্যান, ৭টি সিএনজি ও ৩১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৩৫টি মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১২টি বাস, ২টি ট্রাক, ৪ টি কাভার্ডভ্যান,১৫টি সিএনজি ও ৭৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৫৫ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ১৯টি বাস, ৩১টি ট্রাক, ৪৬টি কাভার্ডভ্যান, ২৯টি সিএনজি, ১৪৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৬৯ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৩৮টি বাস, ১৪টি ট্রাক, ২৩টি কাভার্ডভ্যান, ৩০টি সিএনজি ও ৭১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৫২টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৫৭টি বাস, ৩টি ট্রাক, ৪টি কাভার্ডভ্যান, ১৮টি সিএনজি ও ৪৪ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৯৯টি মামলা হয়েছে। এছাড়াও অভিযানকালে মোট ৫৪৩ টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৩৪৫টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

বুধবার ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা করা হয়।

ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




খাগড়াছড়িতে হঠাৎ অতি ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

কয়েক ঘণ্টার টানা অতি ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা।

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপজেলায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। হঠাৎ অতি ভারী এ বৃষ্টিতে দীঘিনালার মেরুং, কবাখালী ও বেয়োলখালী এলাকার নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা বলেন, ‘শুক্রবার রাতে মাত্র তিন ঘণ্টায় উপজেলায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এত কম সময়ে এমন বৃষ্টি আর হয়নি।’

স্থানীয় সূত্র জানায়,  রাতে ভারীবৃষ্টির কারণে খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করে শহরের কাঁচা মেহেদীবাগ ফুড বিল বাজার, মুসলিম পাড়া, গরু বাজার, শান্তিনগর, খাগড়াছড়ি গেট সংলগ্ন আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পানি বাড়ায় অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থান ও সড়কে আশ্রয় নিয়েছে।

পানিবন্দি মানুষগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশেপাশের স্কুলের আশ্রয়গুলোতে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। জেলা বিএনপি দুপুরে আক্রান্তদের মাঝে খাবার ব্যবস্থা করেছে।




নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক শুভকামনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী এ অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ফেসবুকে লেখেন, ‌‘গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মর্যাদা ও জনগণের প্রত্যাশাকে ধারণ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম মহামান্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তার দায়িত্বশীল, সফল ও মর্যাদাপূর্ণ পথচলার জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।




ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা

নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর ফলে সংবিধান অনুযায়ী তার ওই সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

শনিবার (২২ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের (আইন প্রণয়ন শাখা-২) সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা ৩ ঠাকুরগাঁও-১ আসন হতে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করায় ওই আসনটি সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে শূন্য হলো।

বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের জন্য সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শূন্য হওয়া আসনটিতে উপ-নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

একইসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়, বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।




জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের অগণিত বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে স্বাক্ষর করেন। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।




লন্ডন প্রবাসী থেকে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। হুমায়ুন কবির ছাড়াও এদিন মন্ত্রী পদে শপথ নেন ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরী। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে অন্য পাঁচ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেন। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ পড়ান।

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের হাবশপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া হুমায়ুন কবির শৈশবেই যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি ও নীতি নির্ধারণে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (এলএসই), ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ এবং লিডস ল স্কুল থেকে পৃথক তিনটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

ব্রিটিশ সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন

কর্মজীবনের শুরুতে হুমায়ুন কবির লন্ডনের মেয়রের কার্যালয়ে কৌশল সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পরে লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয়ে কেবিনেট উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

যুক্তরাজ্য সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও তিনি কাজ করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি টিমে এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের অধীনে যুক্তরাজ্যের ন্যায় মন্ত্রণালয়ে একাধিক ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও বিশেষ উপদেষ্টার সঙ্গে প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তারেক রহমানের সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন হুমায়ুন কবির। এর আগে লন্ডনে অবস্থান করে বিএনপির আন্তর্জাতিক কর্মকৌশল নির্ধারণ ও কূটনৈতিক যোগাযোগে ভূমিকা রাখেন।

২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক-বিষয়ক) পদে নিযুক্ত হন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছিলেন।




ভারতের কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

ডেস্ক নিউজ : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউমার্কেটের আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া সাত বাংলাদেশি নাগরিকের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে।

শুক্রবার কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত হয়। এদিন সন্ধ্যায় সাতজনের মরদেহ তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে হস্তান্তর করা হয়। হাসপাতাল থেকে ছয়জনের মরদেহ কফিন বন্দি করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। একজনের মরদেহ শববাহী গাড়িতে তোলা হয়।

তাদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চার সদস্য। তারা হলেন দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছর বয়সি সন্তান শর্ণশীষ দত্ত এবং তার শশুর মো. আকরাম আলী।

আর ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু, সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামান এবং সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের রেবতী সরকারের মরদেহও পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা সেই মরদেহ নিয়ে রাতে কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন কার্যালয়ে আসেন। সেখান থেকে তাদের ‌‘নো অবজেকশন’ সার্টিফিকেট (এনওসি) প্রদান করার প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী ধাপ হিসেবে ‘ফরেইনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস’ (এফআরআরও)-এর অনুমতিপত্র সংগ্রহ করবেন। পরে ছয়জনের মরদেহ নিয়ে স্বজনরা বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বলে জানা গেছে। আর সাতক্ষীরার রেবতী সরকারের পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ সৎকার করা হবে কলকাতার নিমতলা শ্মশানে।

এও জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে। সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।