বন্ধ ও লোকসানি কারখানায় বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ দেশের বন্ধ ও অলাভজনক কারখানাগুলোতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ রোড শোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প খাতের বিকাশ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে বন্ধ ও লোকসানি কারখানাগুলোকে নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

রোড শোতে প্রাণ-আরএফএল, এসিআই লিমিটেড, ওয়ালটন, মেঘনা গ্রুপ, রানার, টি কে গ্রুপ, ব্র্যাক, নাবিল, স্কয়ার, ট্রান্সকম, আকিজ ও লাল তীরসহ দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জাপানের মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশন, সুমিতোমো করপোরেশন, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড, মিতসুই অ্যান্ড কোং (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেড, সোজিৎস এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং জেট্রো বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বন্ধ ও লোকসানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন করে বিনিয়োগ বাড়বে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




বাংলাদেশি ‘ফুটবলপ্রেমীদের’ আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পরিকল্পনা আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতের

ডেস্ক নিউজ : পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। এ সময় দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার এবং সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

শনিবার (২০ জুন) পুলিশ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহায়তা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ব্যাপক জনপ্রিয়তার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশের জনসাধারণের আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার আগ্রহের কথাও জানান।

রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বাংলাদেশের জনগণের ফুটবলপ্রেম এবং আর্জেন্টিনা দলের প্রতি তাদের আবেগকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে রাষ্ট্রদূতের আগ্রহকে স্বাগত জানান।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।




খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়াতেও এগিয়ে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : ২২ লাখ ছেলে মেয়ে গত দেড় মাসে গোল্ডকাপে ১ লাখ ২৩ হাজার ইভেন্ট খেলেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আয়োজকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনারা গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যাতে আমাদের এ কাজগুলো তারা গিনেজ বুকে দিতে পারে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ছোট বন্ধুরা, তোমাদের শুধু খেললে হবে না। আমি জানি তোমাদের অনেকে ভালো গান গাইতে পারো, কুরআন তেলাওয়াত করতে পারো। তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কাজেই তোমাদের সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে। তোমরা যদি পারদর্শী হয়ে উঠতে পারো তবেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ, একটি স্ট্রং বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তোমরা যখন বড় হবে তোমাদেরকেই বাংলাদেশ ভালোভাবে চালাতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, দেখি তোমাদের কার কার মধ্যে এমন আত্মবিশ্বাস আছে, যারা খুব ভালোভাবে দেশ চালাতে পারবে। বিশ্বকাপ চলছে। রোনালদো ভালো খেলছে, মেসি খেলছে, এমবাপ্পে খেলছে। তোমাদের এমন ভালো খেলোয়ার হতে হবে। অলিম্পিকে যেন আমাদের রেজাল্ট ভালো হয়, এ জন্য এরই মধ্যে আমরা পরিকল্পনা করে ফেলেছি।

তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের অনেকদূর এগিয়ে যেতে হবে। যেমন ক্রিকেট। ক্রিকেটের মাধ্যমে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। তাই শুধু ক্রিকেট দিয়ে নয়, ফুটবল দিয়ে আমাদের সবাই চিনবে ইনশাল্লাহ, হকি দিয়ে, সুইমিং দিয়ে, টেনিস দিয়েও সবাই আমাদের চিনবে। তোমরা সারাবিশ্বে বাংলাদেশের এ্যাম্বাসেডর হবে। বাংলাদেশকে তোমাদের এগিয়ে নিতে হবে, বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে। তোমরা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো দেশ গড়তে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে লেখাপড়াও করতে হবে, তবে খেলা ছাড়লে হবে না। যে যেই খেলা পছন্দ করবে সে সেইটা খেলবে। খেলাধুলার চর্চা ধরে রাখতে হবে। উদ্ভাবনের চেষ্টা করতে হবে। আমি শুধু বিজয়ী না এই খেলায় সহযোগিতায় যারা ছিলেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই, একইসঙ্গে স্কুলের শিক্ষক, অবিভাবক সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, তোমাদের খেলা ছাড়লে চলবে না। তোমাদের আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সব ব্যবস্থা আমরা করবো। তোমাদের কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তোমাদের সব বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠতে হবে। কিছুদিন পর ঢাকার চীনমৈত্রীতে একটি উদ্ভাবনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেখানে তোমাদের মতো বয়সী শিশুরা অংশ নেবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশকে একটি ফেমাস দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এটা তোমাদের করতে হবে। কারণ এটা তোমাদের ভবিষ্যৎ, এটা তোমাদের বাংলাদেশ। করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটন, বরিশাল-৬ আসনের এমপি আবুল হোসেন খান প্রমুখ।

বক্তব্য শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দল, রানাস আপ দল, সেরা খেলোয়ার, সর্বোচ্চ গোলদাতাদের হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ ও পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পুরস্কৃত করা হয় রেফারিদেরও।

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় এ ক্রীড়া আয়োজন গত ৬ এপ্রিল শুরু হয়। এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে। গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে চারটি দল জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

প্রাথমিক স্তরে ক্রীড়া চর্চা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে ভবিষ্যতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।




ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত, ২৬ দিন পর দেশে আসলো দুই প্রবাসীর মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী বজলুর রশীদ (৩৮) ও মনোহর আলীর (৩৬) মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (২০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ দুটি তাদের নিজ নিজ বাড়িতে আনা হয়।

পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় বজলুর রশীদের এবং সাড়ে ৫টায় মনোহর আলীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

নিহত বজলুর রশীদ মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে। অপরদিকে মনোহর আলী কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।

নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মনোহর আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রশীদ প্রায় দেড় বছর আগে কাজের সন্ধানে ইরাকে যান। সেখানে তারা একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন। তবে কারও বৈধ কাগজপত্র বা আকামা ছিল না। গত ২৫ মে ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার তাদের চাপা দেয়। এতে তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে বাংলাদেশ ও ইরাকের মধ্যে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে দীর্ঘ ২৬ দিন পর শনিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহ দুটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিহতদের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।

নিহত বজলুর রশীদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমার ছোট ভাই দেড় বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। গত ২৫ মে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। আজ সে কফিনে ফিরে এসেছে। পরিবার এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

নিহত মনোহর আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী ঋণ করে চার বছর আগে ইরাকে গিয়েছিলেন। সেখানে ভালো অবস্থায় ছিলেন না। এভাবে মরদেহ আসবে, কখনো ভাবিনি। এখনো অনেক ঋণ রয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখন কীভাবে বাঁচবো জানি না।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দীর্ঘ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।




১৪১ যাত্রীসহ বজ্রপাতের কবলে ইন্ডিগোর বিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কলকাতা বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো শুক্রবার সকালে। আচমকা বজ্রপাতের কবলে পড়ে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের আগরতলাগামী একটি বিমান। প্রবল বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটায় বিমানবন্দরের কর্মী ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কলকাতা বিমানবন্দরের ৫৬এল অ্যারোব্রিজে দাঁড়িয়ে ছিল ইন্ডিগোর ফ্লাইট ৬ই ৬০৬৪ (ভিটি-আইপিডব্লিউ)। ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রচণ্ড বজ্রপাতে কেঁপে ওঠে বিমানটি। মূলত বজ্রপাতের জেরে বিমানের মূল বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড়সড় বিভ্রাট দেখা দেয় এবং বিমানের ভেতরে হঠাৎ করেই সব আলো ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম নিভে গিয়ে অন্ধকার নেমে আসে।

ঘটনার সময় বিমানটিতে মোট ১৪১ জন যাত্রী এবং ছয়জন ক্রু সদস্য ছিলেন। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো যাত্রী আহত হননি। তবে বজ্রপাতের তীব্রতায় বিমানের ভেতরের ইলেকট্রনিক সিস্টেম পুরোপুরি অচল হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তড়িঘড়ি বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়। জানা গেছে, বজ্রপাতের প্রভাব সরাসরি বিমানের বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোর ওপর পড়ায় পাইলট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীরা তৎক্ষণাৎ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

এদিকে, এই ঘটনায় বিমানের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি দুই গ্রাউন্ড স্টাফও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের তড়িঘড়ি চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে দ্রুত মেডিকেল পরীক্ষার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের তরফে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার পর শেষ পর্যন্ত অন্য একটি এয়ারবাস এ৩২১ (ভিটি-আইসিডি) বিমানে করে যাত্রীদের আগরতলার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। যাত্রীরা দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ কলকাতার আকাশ ছাড়েন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় নাগাড়ে বৃষ্টি আর বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝোড়ো হাওয়া বইছিল। বিমানবন্দরের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (এওসিসি) থেকেও আগেভাগেই দুর্যোগের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এই খারাপ আবহাওয়ার জেরেই কলকাতা বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্মও বেশ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।




দোকানের দেয়াল কেটে কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট

ডেস্ক নিউজ : রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টি এলাকার একটি জুয়েলার্সের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা দেয়াল কেটে দোকানে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ এবং ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা ও নগদ অর্থ নিয়েছে বলে দাবি করেছেন মালিকপক্ষ।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার দিবাগত রাতের মধ্যে কোনো এক সময় সাহেববাজার এলাকার ‘স্বর্ণা হোটেলের নিচতলায় অবস্থিত ‘কারুশ্রী জুয়েলার্সে’ এই চুরির ঘটনা ঘটে।

এদিকে দুর্ধর্ষ এই চুরির ঘটনার প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে স্বর্ণ উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজশাহীর জুয়েলার্স ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

পুলিশ ও মালিকপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, পাশাপাশি অবস্থিত আফিয়া জুয়েলার্স ও কারুশ্রী জুয়েলার্সের মধ্যে সংযোগকারী দেয়াল কেটে চোরেরা কারুশ্রী জুয়েলার্সে প্রবেশ করে। এর আগে তারা আফিয়া জুয়েলার্সের তালা খুলে ভেতরে ঢোকে। পরে দুই দোকানের মাঝের দেয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার, রুপার অলংকার ও নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। আফিয়া জুয়েলার্সে কোনো মালামাল না থাকায় সেখান থেকে কিছু নেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছেন।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম অপু বলেন, প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ এবং ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা ও নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত রাজশাহীর সব জুয়েলার্সের দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।




তারা ছুটছেন সময়ের বিপরীতে

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন চলছে সময়ের বিরুদ্ধে এক মহাকাব্যিক লড়াই। ২০২৬ সালের এই মহাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে ধারণা করা হয়েছিল, এবার বুঝি গতির ঝড়ে সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করবে নতুন প্রজন্মের দুরন্ত ফুটবলাররা। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর পর দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাতার বা পূর্বের আসরগুলোর গণ্ডি পেরিয়ে এবার উত্তর আমেরিকা এবং মেক্সিকোর স্টেডিয়ামগুলো সাক্ষী হচ্ছে এক অভাবনীয় দৃশ্যের; যেখানে নতুনদের গতির চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে অভিজ্ঞতার গভীরতা। বয়সের কাঁটা চল্লিশ পেরিয়ে গেলেও যে অদম্য ফুটবলাররা এখনো মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, তাদের এই জেদ যেন সময়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে।

লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কিংবা লুকা মদ্রিচ; এই কিংবদন্তিরা যেন প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে, ফুটবল খেলাটা কেবল পেশির লড়াই নয়, বরং এটা মস্তিষ্কের এক গভীরতর শিল্প। ৩৮ বছর বয়সী মেসি যখন কানসাস সিটির মাঠে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শুরু করেন, তখন মনে হয় সময় যেন তার জন্য থমকে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও সমান তালে লড়ে যাচ্ছেন। হিউস্টনে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে তিনি যখন মাঠে নামেন, তখন গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের চোখেমুখে কেবল বিস্ময়। দীর্ঘ দুই দশকের সেই চিরন্তন দ্বৈরথ এখনো জীবন্ত, যা প্রমাণ করে যে জন্মসাল কেবলই সংখ্যা মাত্র।

এই প্রবীণ সেনানীদের তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন। ৪৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে নিজের গোলপোস্টকে এক অভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছিলেন। নতুনদের দ্রুতগতির আক্রমণ যখন প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ায়, ঠিক তখনই গর্ডনের মতো ফুটবলাররা তাদের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছেন। এই বয়সে এসেও যেভাবে তিনি চিতার ক্ষিপ্রতায় বল ঠেকিয়ে যাচ্ছেন, তা বর্তমান ফুটবল বিশ্বের তরুণদের জন্য এক বড় শিক্ষা।

মধ্যমাঠে লুকা মদ্রিচের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। ৪০ বছর বয়সে নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপে এসে তিনি ক্রোয়েশিয়ার প্রাণভোমরা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাঠে নামার পর থেকে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত তার দৌড়ঝাঁপ, ক্ষুরধার পাসিং এবং খেলার গতির নিয়ন্ত্রণ দেখে বোঝার উপায় নেই যে তিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। তার এই লড়াই কেবল নিজের দলের জন্য নয়, বরং এই বয়সে এসেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে কীভাবে ফিটনেস ধরে রাখতে হয়, তার এক জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত।

সেরা গোলদাতা এবং অভিজ্ঞতার অনন্য সমন্বয়ে বসনিয়ার এডিন জেকোর নামটিও উঠে এসেছে সামনের সারিতে। ৪০ বছর বয়সেও তিনি তার দেশের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। দলের প্রতিটি আক্রমণে তিনি যখন লিড নিচ্ছেন, তখন মনে হয় বসনিয়ার পুরো ভারটাই তার কাঁধে। তার প্রতিটি গোল যেন বয়সের সীমাবদ্ধতাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। মাঠের প্রতিটি ঘাসে তার অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট, যা প্রতিপক্ষের তরুণ রক্ষণভাগকে সারাক্ষণ চাপে রাখে।

গোলের নিচে মেক্সিকোর গুইলার্মো ওচোয়ার উপস্থিতি তো ইতিহাস হয়ে গেছে। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক যদিও এবারের আসরে বেঞ্চে থাকছেন, তবুও তিনি প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে থাকার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। তার এই অর্জন তরুণ গোলরক্ষকদের জন্য এক প্রেরণা। এছাড়া জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার কিংবা উরুগুয়ের ফার্নান্দো মুসলেরার মতো অভিজ্ঞরা যখন গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন পুরো দল যেন এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস খুঁজে পায়, যা কেবল অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।

মাঠের দ্রুতগতির লড়াই, প্রচণ্ড গরম এবং দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি; সবকিছুকেই যেন তুচ্ছ করে দিয়েছেন এই ফুটবল নক্ষত্ররা। তরুণদের গতি এবং তেজ অবশ্যই প্রশংসনীয়, কিন্তু যখনই মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কেবল একটি পাসের দূরত্বে থাকে, তখনই কোচরা বারবার ফিরে তাকান অভিজ্ঞদের দিকে। তারা জানেন, এই প্রবীণদের মাথায় খেলার যে মানচিত্র আঁকা আছে, তা নতুন প্রজন্মের কারো পক্ষেই আয়ত্ত করা এখনো সম্ভব হয়নি।

বিশ্বকাপের এই আসর তাই কোনো সাধারণ টুর্নামেন্ট নয়; এটি সময় এবং অভিজ্ঞতার এক অগ্নিপরীক্ষা। এই কিংবদন্তিরা প্রমাণ করছেন যে, ফুটবল কেবল দৌড়ঝাঁপের খেলা নয়, বরং এটি মেধা, ধৈর্য এবং সাহসের সমন্বিত এক শিল্পকর্ম। তারা কোনো দয়া বা অনুকম্পা নিয়ে মাঠে নামেননি, বরং নিজেদের সামর্থ্য এবং নৈপুণ্যের প্রমাণ দিয়েই তারা দলের অপরিহার্য অংশ হয়ে আছেন। মাঠের সবুজ ঘাসে আজ যখন নতুন প্রজন্মের সাথে তাদের লড়াই জমে ওঠে, তখন ফুটবল বিশ্ব যেন এক নতুন সুর শুনতে পায়; যেখানে বয়স পরাজিত, আর অজেয় কেবল ফুটবল।

সূত্র: মার্কা




বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করেছে টাইগ্রেসরা। একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো এক আসরে একাধিক ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও গড়েছে বাংলাদেশ।

সাউদাম্পটনে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১২৩ রান সংগ্রহ করে। ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো না হলেও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি এক প্রান্ত আগলে রাখেন। তবে ধারাবাহিক উইকেট পতনে ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দল।

শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝড়ো ইনিংস দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়। ২২ বলে ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনি ৫টি চার মারেন।

জবাবে ১২৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাকিস্তান ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০০ রানেই থেমে যায়। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় তারা।

নাহিদা আক্তারের নেতৃত্বে স্পিনাররা মাঝের ওভারগুলোতে পাকিস্তানের রান তোলার গতি আটকে দেন। রাবেয়া খান ও সানজিদা আক্তার মেঘলা ছিলেন বেশ কৃপণ। ফলে চাপ বাড়তে বাড়তে শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান।




মেসির ছবি এঁকে প্রশংসায় ভাসছেন চঞ্চল চৌধুরী

বিনোদন ডেস্ক : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ চলমান। ক্রীড়ার এই মহাযজ্ঞের উত্তাপে কাঁপছে গোটা দুনিয়া। সেই উন্মাদনা থেকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। মাঠে দল না থাকলেও সমর্থনে ভাগ হয়ে গেছে দুই পরাশক্তি-ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকায় রঙিন চারপাশ।

এই ফুটবল আবহে শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও সরব। প্রিয় দল-খেলোয়াড় নিয়ে মন্তব্য করছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিক্রিয়া। তবে সবার থেকে একটু ভিন্নভাবে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি শেয়ার করেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মহাতারকা লিওনেল মেসি–এর একটি স্কেচ। নিখুঁত আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন মেসির চুল, দাড়ি, চোখ-এমনকি তার স্বাভাবিক হাসিটিও।

আর এই পোস্টের ক্যাপশনে চঞ্চল লিখেছেন, ‘আমি মেসির একটা ছবি আঁকব-এটা দেখে মেসি ভক্তরা খুশি হতেই পারেন। আঁকলাম। প্রিয় খেলোয়াড় বলে কথা! এখন লাইক-শেয়ার আপনার ব্যাপার।’

স্কেচটি পোস্ট করার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সেইসঙ্গে ভক্ত-সমর্থকরা প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন অভিনেতাকে। কেউ লিখেছেন, ‘আপনি দুই বাংলার খ্যাতিমান অভিনেতা, পাশাপাশি একজন প্রতিভাবান চিত্রশিল্পীও।’ আবার কেউ তুলনা টেনেছেন, ‘মেসি যেমন ফুটবলে সেরা, আপনি তেমন অভিনয়ে।’

অভিনয়ের পাশাপাশি গান ও আঁকাআঁকিতেও সমান দক্ষ চঞ্চল চৌধুরী। নিয়মিতই প্রিয়জন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি এঁকে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন তিনি। ইতোমধ্যে সত্যজিৎ রায়, তারিক আনাম খান, বাপ্পা মজুমদার, সালাহউদ্দিন লাভলু, রায়হান রাফী, তাসনিয়া ফারিণ ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়–সহ অনেকের প্রতিকৃতি তার ডিজিটাল তুলিতে ধরা পড়েছে।




৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালিকে টোলমুক্ত রাখছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে কোনো ফি আদায় করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়। 

দেশটির আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা মেহেরের প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য আবেদনকারী জাহাজগুলোকে আগামী ৬০ দিন বিনা খরচে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে পারস্য উপসাগর জলপথ কর্তৃপক্ষকে আবেদনগুলো দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা যায়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশেষ পরিস্থিতি এবং নৌপথে বিদ্যমান কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজগুলোকে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি অনুসরণ করে চলাচল করতে হবে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। 

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় কারিগরি নির্দেশনা ও পরিচালনাগত তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করবে পারস্য উপসাগর জলপথ কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদের আওতায় মাইন অপসারণসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।