নারীবাদের আসল অর্থ হারিয়ে ফেলছে সমাজ

বিনোদন ডেস্কঃ নিজের ছবি ‘ধাক ধাক’ নিয়ে কথা বলছিলেন বলিউডের অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ। অভিনেত্রী জানান, এই ছবির কিছু দৃশ্য এমন, দেখে মনে হবে পরিচালক নিশ্চয়ই কোনও নারী।

অভিনেত্রী বলেন, “ভেবেছিলাম ছবির পরিচালক কোনও নারীই এমন দৃশ্য রাখতে পারেন। কিন্তু পরে দেখলাম, এ তো পুরুষ! উনি খুবই নারীবাদী পুরুষ। এর মানে এই নয় যে উনি পুরুষবিরোধী।”

ফাতিমা বলেছেন, “পুরুষদের যদি প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি কি নারীবাদী?’ ওরা রেগে গিয়ে জবাব দেয়, ‘না না, আমি নারীবাদী নই। ’ যেন নারীবাদী কথাটা খুব খারাপ। আসলে এরা নারীবাদী কথার অর্থই জানে না। ভাবে নারীবাদী হওয়া খুব খারাপ।”

নারীরা নাকি নারীদের শত্রু হয়। নারীরা ঘ্যানঘ্যানে হয়। এই সব ধারণা পুরুষতন্ত্র তৈরি করেছে বলে মনে করেন ফাতিমা। কিন্তু ‘ধাক ধাক’ ছবির পরিচালককে দেখে অন্য ভাবনা তৈরি হয়েছে ফাতিমার।

সম্প্রতি বিজয় বর্মার সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছে ফাতিমার। তামন্না ভাটিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পরে নাকি ফাতিমার সঙ্গেই সম্পর্কে বিজয়।

ফাতিমা ও বিজয় ‘গুস্তাখ ইশ্‌ক’ ছবিতে জুটি বাঁধছেন। অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিজয় সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমার সত্যিই ওর সঙ্গে কাজ করতে ভাল লাগে। ও খুবই খাঁটি মানুষ এবং ভাল অভিনেত্রী। পাশাপাশি ও কিন্তু খুবই রসিক। সব সময় আনন্দ করতে ভালবাসে। তবে কাজে কোনও ফাঁকি নেই ওর। প্রত্যেকটি দৃশ্যে নিজের ১০০ শতাংশ দেয়।”




ডিড প্রকল্পে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ: প্রতিমন্ত্রী পলক জেলে, আর পিডি বালিগুর রহমান উচ্চপদে বহাল!

এসএম বদরুল আলমঃ আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত “ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ইনোভেশন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিড)” প্রকল্পে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক প্রকল্প পরিচালক আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) সদস্য (যুগ্ম সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে, একই প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে।

বালিগুর রহমান ১৫তম বিসিএস তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা। কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৯৫ সালে। বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও স্টেশনের স্টেশন প্রকৌশলী, মনিটরিং পরিদপ্তরে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে—তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের তদবিরে তিনি ২০১৮ সালে ২৫ শতাংশ কোটা থেকে উপসচিব পদে উন্নীত হন। বালিগুর ও পলকের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্কও রয়েছে; অভিযোগ রয়েছে এই ঘনিষ্ঠতার কারণেই তিনি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বারবার পদায়িত হন এবং নিয়মকানুন অমান্য করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেন।

উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান বেশিরভাগ সময় আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পেয়েছেন। বিশেষ করে ৫ আগস্ট ২০২৪–এর পর বগুড়ার পরিচিত মহলের তদবিরে তিনি আরও একটি পদোন্নতি অর্জন করেন। অথচ একই সময়ে তার প্রত্যক্ষ বস ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকলেও বালিগুর রহমান দিব্যি যুগ্ম সচিব হিসেবে চাকরি করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করছেন—যেখানে তাকে অনেকেই ‘সুপার পাওয়ার’ কর্মকর্তা হিসেবে দেখছেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা অনেক বড়। আইসিটি মন্ত্রণালয় ও “ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ইনোভেশন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিড)” প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাট, অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির বহু অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ডিড প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল, আর প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে বালিগুর রহমানের বিরুদ্ধে সেই অর্থের টেন্ডার, বাজেট ব্যবহার এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

অনেকেই বলেন, প্রতিমন্ত্রী পলক ও তার স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় বালিগুর রহমান কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করতেন না। সুযোগ পেলেই নিয়মকে পাশ কাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া এবং দেশে–বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্তে জানা গেছে, পলক প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন বালিগুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে—তিনি বিভিন্ন আইসিটি প্রকল্প থেকে নিয়মিতই ৫% কমিশন আদায় করতেন, যা পরিচালিত হতো তার নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এই সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বালিগুর নিজেই, এবং ডিড প্রকল্পেও সেই সিন্ডিকেটের প্রভাব ছিল ব্যাপক। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা জানিয়েছেন বালিগুর রহমান ও তার সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে “৫% কমিশন” নিতেন। বিদেশে টাকা পাচার ও ঢাকার অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও রয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সব মিথ্যা।”

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বালিগুর রহমানকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড় জমলেও, পলকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পেত না। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা তাকে বর্ণনা করেছেন একজন সুবিধাভোগী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থার দোসর হিসেবে।

ডিড প্রকল্পে বালিগুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ—টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, বাজেটের অর্থ স্থানান্তর, প্রকল্পের অর্থ ব্যয় না করেও বিল উত্তোলন, এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন নেওয়া।

আইসিটি মন্ত্রণালয়ের তদন্তে উঠে এসেছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়—৮৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত সংস্করণে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। একইভাবে ১ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকার ১২ জেলায় আইটি ও হাই-টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত সংস্করণেও আর্থিক অস্বচ্ছতা পাওয়া যায়।

এ ছাড়াও ৫৩৩ কোটি টাকার শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প, ৪৩১ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি–২-এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন, এবং ৩৫৩ কোটি টাকার ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয়ের অসংগতি পাওয়া গেছে।

তালিকায় আরও রয়েছে ৭৪ কোটি টাকার বাংলাদেশ–ভারত ডিজিটাল সেবা ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ (বিডিসেট) কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প। পাশাপাশি ১ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকার শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি এবং ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকার ১৪টি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের প্রকল্পেও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যেই সমস্ত প্রকল্পের ফাইল জব্দ করেছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।

সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকলেও, একই প্রকল্পের আরেক কেন্দ্রীয় ব্যক্তি—ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ইনোভেশন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিড) প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান—এখনও উচ্চপদে বহাল। বরং তিনি যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে প্রথমে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং পরবর্তীতে আরও আকর্ষণীয় পদ—বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের সদস্য—হিসেবে নিয়োগ পান।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরে যোগদানের পর তার বিরুদ্ধে নতুন করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জমতে শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অনেক কেনাকাটা ই-জিপির মাধ্যমে না করে ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করেন, যাতে নিজের সিন্ডিকেটের ঠিকাদাররা সুবিধা পায় এবং তিনি বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োজিত প্রকল্প পরিচালক ও কর্মকর্তাদের সহায়তায় ঠিকাদারদের ওপর তদন্ত কমিটি, মন্ত্রণালয় অথবা দুদকের নাম দেখিয়ে ভয় দেখাতেন—এভাবেই হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা।

অভিযোগ আরও রয়েছে, পিডি আবুল বাশার এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিবের সাথে বালিগুর রহমান মিলেই ঠিকাদারদের কাছ থেকে অডিট ও এজি অফিসের নামে ৪% করে টাকা তুলতেন। কিন্তু ঠিকাদাররা যখন সরাসরি এসব দপ্তরে যোগাযোগ করেন, তারা জানতে পারেন—সেসব অফিসে এমন কোনো অর্থ যায়নি। অর্থাৎ এই তিনজনের সিন্ডিকেটই পুরো টাকাটা ভাগ করে নিত। এমনকি শতভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও ঠিকাদারদের নিরাপত্তা টাকা (পিজি) বা এজি অফিসের কর্তনকৃত ১০% ফেরত পেতে চাইলে, ওই অর্থের অর্ধেক দাবি করা হতো। বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আটকে রেখে ঘুষ আদায় ছিল সিন্ডিকেটের নিয়মকৃত পদ্ধতি।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে—যেসব ঠিকাদার সিন্ডিকেটের দাবিকৃত টাকা দিতে না পারতেন, তাদের বিরুদ্ধে মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি করে হয়রানি করা হতো। প্রকল্পে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরও পদায়ন ও স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভয়ানক চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বলা হয়, পিডি আবুল বাশার ও সহকারী পরিচালক শাহাদাত জনপ্রতি প্রায় এক কোটি টাকা পর্যন্ত দাবি করতেন। টাকা না দিতে পারলে মাত্র তিন ঘণ্টার নোটিশে তাদের প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হতো। একইভাবে বালিগুর রহমান ও শাহাদাত মিলে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও পোস্টিংয়ের বদলে বারবার মোটা অঙ্কের টাকা নিতেন।

এত অভিযোগের পরও বালিগুর রহমানকে নৌপরিবহন অধিদপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাকে আরও উচ্চপদে, বিসিএসআইআরে সদস্য হিসেবে পদায়ন করা প্রশাসনে ব্যাপক প্রশ্ন তুলেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতা ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক যখন দুর্নীতির দায়ে কারাগারে, তখন একই প্রকল্পের মূল ব্যক্তি বালিগুর রহমান কীভাবে এখনো অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো জবাবদিহিতা ছাড়া ক্ষমতাধর অবস্থানে থাকতে পারেন?

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়, ঢাকায় আমার এক ছটাক জমিও নেই।” তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—ঢাকার অভিজাত এলাকায় তার ৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, রাজশাহী ও বগুড়ায়ও তার নামে-বেনামে জমি ও সম্পত্তি আছে। অভিযোগ রয়েছে—বিভিন্ন ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিদেশেও তিনি অর্থ পাচার করেছেন।

অনুসন্ধানকারীরা বলছেন—বালিগুর রহমান যে প্রকল্পগুলোতে ২০১৮ সাল থেকে যুক্ত ছিলেন, সেসব ফাইল দুদক গভীরভাবে পরীক্ষা করলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তৃত প্রমাণ পাওয়া যাবে—এটা নিশ্চিত।




সুফিবাদের দর্শন কীভাবে গড়েছে এ. আর. রহমানের জীবন ও সংগীত

বিনোদন ডেস্কঃ ভারতের খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী ও সুরকার এ আর রহমানের জন্ম হিন্দু বাড়িতে। বাবা-মা নাম রেখেছিলেন দিলীপ কুমার। নামটা বিশেষ পছন্দ ছিল না তার। এক হিন্দু জ্যোতিষীর পরমার্শেই নাকি নিজের নাম রাখেন রহমান। মুসলিম নাম গ্রহণ করলেও তিনি বিশ্বাসী সুফিবাদে। বাকি ধর্ম সম্পর্কে কী ধারণা অস্কারজয়ী সুরকারের?

তখন তার বয়স মাত্র ২৩। এ আর রহমানের বাবা দীর্ঘ দিন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তার শেষের দিনগুলিতে সাহায্য করেছিলেন একজন সুফি রোগনিরাময়কারী। এ আর রহমানের জীবনে তার বিরাট প্রভাব ছিল। ওই ব্যক্তির পরামর্শ মেনে চলতেন শিল্পী। সেখান থেকেই ধর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন রহমান। এক হিন্দু জ্যোতিষীর পরামর্শে শিল্পী বেছে নেন ‘আবদুল রহমান’ নামটি। পরে নামের সঙ্গে ‘আল্লাহ্‌ রাখা’ যোগ করেন তার মা।

যদিও রহমান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘হিন্দু, ইসলাম ও খ্রিস্টান— সব ধর্ম নিয়েই পড়েছি। প্রতিটা ধর্মকেই ভালবাসি। তবে ধর্মের নামে মানুষ মারায় আপত্তি আছে। তবে সুফিবাদ যেন মৃত্যুর আগেই পুর্নজন্মের কথা বলে। নিজের অন্তরাত্মার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যায়। এখানে মানুষের মনের ক্ষোভ, হিংসা, রাগ সব শেষ হয়ে যায়। মানুষ ঈশ্বরের মতো শুদ্ধ হয়ে যায় তখন।’’

রহমান একা নন, তার মা-ও সুফিবাদের রাস্তায় হেঁটে যেন শান্তি পেয়েছেন।




মিস ইউনিভার্স ফাতিমা বশ কী কী পাচ্ছেন

বিনোদন ডেস্কঃ জাঁকজমক আয়োজন আর বিশ্বসুন্দরীদের জমকালো প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো মিস ইউনিভার্সের ৭৪তম আসর। সারা বিশ্বের ১২০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এবারের মুকুট জিতে নিয়েছেন মেক্সিকোর ফাতিমা বশ। শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের গ্র্যান্ড ফিনালেতে তার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস আর করতালি।

মাত্র ২৫ বছর বয়সেই সর্বোচ্চ সৌন্দর্য খেতাব নিজের করে নিলেন ফাতিমা। গত বছরের বিজয়ী ভিক্টোরিয়া কিয়ের থিলভিগ নিজ হাতে মুকুট পরিয়ে দেন তাকে।

কে এই ফাতিমা বশ

মেক্সিকোর তাবাস্কো অঙ্গরাজ্যের সান্তিয়াগো দে তেয়াপায় জন্ম তার। ছোটবেলা থেকেই ফ্যাশন আর ডিজাইনের প্রতি আগ্রহী ফাতিমা ফ্যাশন ডিজাইন নিয়েই উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ‘মিস ইউনিভার্স মেক্সিকো’ জিতে আলোচনায় আসেন তিনি। দ্রুতই বাড়তে থাকে তার জনপ্রিয়তা—ইনস্টাগ্রামে এখন তার অনুসারী ৯ লাখ ৯০ হাজারের বেশি, টিকটকেও রয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজারের ওপর ফ্যান।

কী কী পাচ্ছেন ফাতিমা 

বিশ্বসুন্দরীর এই শিরোপা জিতে এক নতুন যাত্রা শুরু করলেন ফাতিমা।  যদিও এবারের প্রাইজমানি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, কিন্তু প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মিস ইউনিভার্স বিজয়ী পান ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ কোটি।

এ ছাড়া ফাতিমা আরও পাচ্ছেন—প্রতি মাসে ৫০ হাজার ডলার ভাতা (প্রায় ৬০ লাখ টাকা) যা ভ্রমণ ও কাজের ব্যয় হিসেবে ব্যবহার করবেন। মূল্যবান ৫০ লাখ ডলারের মুকুট যার মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬১ কোটি। নিউইয়র্ক সিটিতে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট যেখানে মিস ইউনিভার্স হিসেবে থাকবেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ, বিশ্বভ্রমণ ও একাধিক গ্লোবাল ইভেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ।




ঝালকাঠিতে সুগন্ধা নদী তীর রক্ষা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম: নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারে ক্ষোভ

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এই বড় প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, ১৩ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় চলমান কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বালু, ব্লক তৈরিতে কম সিমেন্ট এবং কম ওজনের জিও ব্যাগ। মান নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ত্রুটি পাওয়ায় ইতোমধ্যে প্রকল্প থেকে এসও তানভীর শাহরিয়ারকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রক্ষায় নেওয়া এই প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদন পায়। মোট ১৩.২১৫ কিলোমিটারের এই কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, আর শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জুনে। পুরো প্রকল্পে ৩৪টি প্যাকেজ থাকলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি অর্ধেকের বেশি—মাত্র ১৭টি প্যাকেজে কাজ চলছে।

ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট পংকজ কুমার সরকার জানান, নিয়ম অনুযায়ী ১.৫০ এফএম মানের বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমভিবি ও এমটিআই (জয়েন্ট ভেঞ্চার) মাত্র ১.৩৭ এওএম মানের বালু ব্যবহার করছিল। মান ঠিক না থাকায় টাস্কফোর্স সেই বালু বাতিল করে দেয়। এমনকি একমাস কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের অগ্রগতি আরও ধীর হয়ে গেছে।

ভাঙনপ্রবণ চর ভাটারাকান্দা এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, যেখানে নদীর পানি বেশি গভীর, সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি। আবার যেসব ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর বালুর পরিমাণও কম। এর আগেও টাস্কফোর্স ৪০০টি জিও ব্যাগ বাতিল করেছে।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, লোকবল সংকটের কারণে সব কাজ নিয়মিত মনিটর করা যাচ্ছে না। ফলে অনেক জায়গায় তদারকি দুর্বল থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, এই অনিয়ম নিয়ে তিনি আগে জানতেন না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

৬৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকায় সাধারণ মানুষ মনে করছে, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার না হলে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য বিফল হতে পারে।




শুটিং সেটে আঘাত পেলেন শ্রদ্ধা, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রার্থনার ঢল

বিনোদন ডেস্কঃ সময়টা ভালো যাচ্ছে না শ্রদ্ধা কাপুরের। তার ভাই সিদ্ধান্ত কাপুরের বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ে ২৫২ কোটি টাকার মামলা হয়েছে। এ বার বিপাকে পড়লেন তিনি। শনিবার (২২ নভেম্বর) শুটিং সেটে আহত হয়েছেন অভিনেত্রী।

ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান টাইমস’ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের মহারাষ্ট্রের বরেণ্য তামাশা শিল্পী বীথাবাঈ ভাউ মাং নারায়ণগাঁওকারের জীবনভিত্তিক সিনেমা ‘এথা’র শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন শ্রদ্ধা কাপুর। চরিত্রের প্রস্তুতিতে মাসখানেক কঠোর অনুশীলনও করেছিলেন তিনি।

গত সপ্তাহে পরিচালক লক্ষ্মণ উতরেকর ‘এথা’র শুটিং শুরু করেন। কয়েক দিন সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চললেও এক নাচের দৃশ্যেই বিপত্তি ঘটে। বীথাবাঈয়ের বিখ্যাত লোকনৃত্য ‘লাবণী’র স্টেপ অনুশীলন করার সময় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান শ্রদ্ধা। এতে তার বাঁ পায়ের আঙুল ভেঙে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হয় শুটিং।

শুটিংয়ে লাবণী নৃত্যের সাজপোশাকে প্রস্তুত ছিলেন শ্রদ্ধা। লাবণী এমনিতেই দ্রুত লয়ের নাচ। সেই সঙ্গে ভারী শাড়ি, প্রচুর পরিমাণে গয়না ছিল গায়ে। সঙ্গে ছিলে ভারী কোমরবন্ধনী। সব মিলিয়ে ওজন প্রায় ১৫ কেজি। নাচতে নাচতে কোমরবন্ধনী খুলে পড়ে যায় এবং তাতেই শ্রদ্ধার পায়ে চোট লাগে।

এই ঘটনার পর তড়িঘড়ি মুম্বােই ফিরে আসেন অভিনেত্রী। যদিও প্রযোজকের টাকা ‘নষ্ট’ করতে নারাজ তিনি। তাই মুম্বাই ফিরেই যত ‘ক্লোজ শট’ রয়েছে সেটার শুটিং চালিয়ে যাচ্ছেন।




মাহফুজ আলম ও এনসিপি নেতাদের দুর্নীতির প্রমাণ ফাঁস করব : মুনতাসির

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং এনসিপি নেতাদের দুর্নীতির প্রমাণ ফাঁস করার হুমকি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে (এনসিপি) স্থায়ীভাবে অব্যাহতি পাওয়া কেন্দ্রীয় সংগঠক মুনতাসির মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘একটু চুপ আছি। কষ্ট হচ্ছে, মেনে নিয়েছি। অনেকদিন পর ৫ ঘণ্টা ঘুমালাম। খুব মজা করে পরোটা-ডাল খাইলাম। ধৈর্য ধরে আছি। আমার কোনো ব্যাকআপ নেই, কেউ নাই সাথে। জামাত-শিবিরের পক্ষে পোস্ট দেখে ভাবতে পারেন, সেদিক থেকে সমর্থন পাচ্ছি। আমি নিশ্চিত করছি, জামাত শিবির থেকেও আমি কোনো সাপোর্ট পাচ্ছি না। জামাত সাপোর্ট দিলে রেড ক্রিসেন্টে আমার এই অবস্থা হতো না, তাদের সাহায্য আমি চেয়েছিলাম।’

দুর্নীতি ফাঁস করবেন জানিয়ে মুনতাসির বলেন, ‘সময় নিয়ে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং এনসিপি নেতাদের দুর্নীতির প্রমাণ ফাঁস করব আমি। যা আমি বলি, তা আমি করি। প্রমাণের অভাব নাই, কিন্ত এগুলা গুছিয়ে আনা লাগে। আমার কোনো টিম নাই, ভিডিও আমি করি, এডিটও আমি করি। লাইভ করি, ইউটিউবে আপলোড করি, সেটার থাম্বনেইলও আমাকে বানাতে হয়। আমার দুর্নীতির টাকা নাই।’ 

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা নাই। একাধিক উপদেষ্টা আমার বিরুদ্ধে সরাসরি কাজ করছেন। সুযোগ পাইলেই আমার ক্ষতি করবে। আমার ফেসবুক সর্বোচ্চ রেস্ট্রিকটেড করে রাখা হয়েছে। যেখানে সেদিন ৭০০০ লোক একসঙ্গে লাইভ দেখেছে, সেখানে এখন ৫০ জনও একসঙ্গে লাইভ দেখে না। এটা ক্ষমতার অপব্যবহার। আমি হতাশ নই তবে বেশ কষ্টে আছি। মেনে নিয়েছি, আমি জানি, আমি জিতবো, এটা আল্লাহর ওয়াদা।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই কেন্দ্রীয় সংগঠক বলেন, ‘যারা আমাকে এই সংক্রান্ত কাজগুলোতে সহযোগিতা করতে পারবেন, তারা যোগাযোগ কইরেন। দয়া করে কেউ হাই হ্যালো কইরেন না, যথাযথ কারণসহ মেসেজ দিয়েন। আমি এন্ড্রয়েড ফোনের জন্য ভালো একটা মাইক্রোফোন কিনতে চাই, অভিজ্ঞরা সাজেস্ট কইরেন। যারা নির্বাচনী ব্যানার ফেস্টুনের কাজে সহযোগিতা করতে চান, কইরেন। টাকার অভাবে কাজটা শেষ করতে পারছি না!  সর্বোপরি, আমার জন্য দোয়া কইরেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সততা এবং দুর্নীতি ছাড়াও রাজনীতি হয়, সেটা আমি দেখিয়ে দেব। এত এত ঘৃণার ভিড়েও কিছু মানুষ আমাকে ভালোবাসেন, আমি জানি। আমিও তাদের ভালোবাসি, ভালোবাসি বাংলাদেশ।’ 

 




রমজান সামনে রেখে ছয় নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, মটর ডাল ও খেজুরের চাহিদা রমজানে বেশি থাকে। এজন্য বেশি পরিমাণে আমদানি করতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে খঋণপত্র (এলসি) খোলা অনেকটাই বেড়েছে।

আমদানির তথ্য বলছে, এ সময় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সয়াবিন তেল আমদানি ৩৬ শতাংশ, চিনি ১১ শতাংশ, মসুর ডাল ৮৭ শতাংশ, ছোলা ২৭ শতাংশ, মটর ডাল ২৯৪ শতাংশ ও খেজুরের আমদানি ২৩১ শতাংশ বেড়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান মাস শুরু হতে পারে।

রমজানে তেল ও চিনির চাহিদা সবসময় বেশি থাকে। তাই শীর্ষ গ্রুপগুলো সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এ দুই মাসেই তেল ও চিনির এলসি খোলাও বাড়িয়েছে। তাছাড়া আগে থেকেই রমজানের প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য প্রচুর পরিমাণে ত্রয় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধারা নভেম্বর-ডিসেম্বরেও থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বেশির ভাগ পণ্য আগে আনা হলেও অবশিষ্ট যা বাকি রয়েছে, তা রোজা শুরু হওয়ার এক মাস আগপর্যন্ত আসতে থাকবে। তবে সেপ্টেম্বরেই রমজানের জন্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের এলসি খোলা হয়েছে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মোট ৬.২৯ বিলিয়ন ডলার ও অক্টোবরে ৫.৬৪ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। এ বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬৫ টন সয়াবিন তেল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ টন।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৭২ টনের চিনি আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪৬ টন। অন্যান্য নিত্যপণ্যের আমদানিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। চলতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৫০ হাজার ৩৫৫ টনের, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৬,৯১২ টন। ছোলার এলসি ৪২ হাজার ৮৯১ টন থেকে বেড়ে ৫৪ হাজার ৫১৬ টনে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর এ দুই মাসে ১০ হাজার ১৬৫ টন খেজুরের এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৬৩ টন। চলতি বছর ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১০ টন মটর আমদানির এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪১ হাজার ৮১৫ টন।

আমদানিকারকরা বলেন, ব্যাংকগুলোতে ডলারের সংকট না থাকায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে এক ধরনের ডলার সংকট দেখা দেয়। ফলে আমদানি সীমিত হয়ে গিয়েছিল। তবে সেই সমস্যা এখন সমাধান হয়েছে। তাছাড়া এলসি খোলার ক্ষেত্রে শতভাগ মার্জিন রাখারও বাধ্যবাধকতা নেই। রমজানে ভোগ্য পণ্য আমদানি নির্বিঘ্ন করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এলসি মার্জিনে ছাড় দিয়ে থাকে।




এত আলেম, মসজিদ-মাদ্রাসা থাকতে দেশে অন্যায়-দুর্নীতি কেন: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে অগণিত মুসলমান, মাদ্রাসা, মসজিদ, ইমাম-উলামা থাকা সত্ত্বেও কেন এত অন্যায়, দুর্নীতি, চুরি ও অর্থপাচার হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘একটা মসজিদ তৈরি করতে মানুষ যে আগ্রহ দেখায়, সেই আগ্রহ ভালো মানুষ তৈরিতে কোথায় হারিয়ে যায়, বুঝি না।’ 

শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষার কেয়ারটেকারদের আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ধর্ম ও নৈতিকতা সমাজে কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা নিয়ে দেশে আরও গভীর আলোচনা ও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। এ প্রসঙ্গে তিনি ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ তুলে বলেন, ‘সেখানে সরকার যেই হোক—কমিউনিস্ট বা ইসলামী—গণতান্ত্রিক অ্যাসোসিয়েশন অব উলামা নামের শক্তিশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয় না।’ তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ধরনের শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নেই।

বিএনপিকে ‘উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র না থাকলে কোনো শ্রেণি বা ধর্মের অধিকারই প্রতিষ্ঠিত হয় না। তার অভিযোগ, গত ১৫–১৬ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে মানুষের ভোটাধিকার থেকে শুরু করে ধর্ম পালনের অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

সমালোচনার সুরে তিনি আরও বলেন, কিছু আলেম–ওলামা শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দিয়েছেন—যা বহু প্রশ্নের জন্ম দেয়। তার দাবি, আওয়ামী লীগের দলীয়করণে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ইসলামী ফাউন্ডেশনকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে এবং রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই অসংখ্য অপকর্মের খবর চোখে পড়ে। কিন্তু নৈতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে দেশে হত্যা, রাহাজানি ও অপরাধ অনেকটাই কমে আসত। নৈতিকতার উৎস মাদ্রাসা, স্কুল, শিক্ষক ও পরিবার—এসব প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করাই হওয়া উচিত অগ্রাধিকার।

তিনি সভায় আহ্বান জানান, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হবে। তার মতে, এমন নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও গণতান্ত্রিক পার্লামেন্ট গঠন সম্ভব হবে, যেখানে জাতীয় সমস্যাগুলো উত্থাপন ও সমাধান করা যাবে এবং তা-ই হবে জনগণের প্রকৃত সিদ্ধান্ত।




আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা–৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইশরাক অভিযোগ করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা গুপ্ত সন্ত্রাসীদের দিয়ে নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।’

নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভেদ আমাদের দুর্বল করবে। জুলাই আন্দোলনের সব দল একত্রিত না থাকতে পারলে বহিঃশত্রু আমাদের করদ রাষ্ট্রে পরিণত করবে।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘দেশকে করদ রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া যাবে না। দেশের জন্য সব বিভেদ ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’