পুলিশের ওপর হামলা বাড়লে ঘরবাড়ি নিজেরাই পাহারা দিতে হবে: ডিএমপি কমিশনার

ডেস্ক নিউজঃ পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মানুষের ঘরবাড়ি নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালে ডিবির সাইবার সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুরের পল্লবী থানার সামনে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণে এএসআই নুর ইসলামসহ তিনজন আহত হন। এ ঘটনাকে ‘পুলিশের ওপর হামলা’ উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ককটেল মেরে পুলিশ সদস্যকে আহত করা হয়েছে, এতে পুলিশের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

তিনি দুর্বৃত্তদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে কেউই লাভবান হবেন না। এমন ঘটনা চলতে থাকলে ঘরবাড়ি নিজেদের পাহারা দিতে হবে।’

এর আগে ১৬ নভেম্বর গাড়িতে আগুন বা ককটেল নিক্ষেপ করে নাশকতামূলক পরিস্থিতি তৈরি হলে গুলির নির্দেশ দিয়ে বেতার বার্তা জারি করেছিলেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাশকতা করলে গুলি করার বিধান পুলিশ আইনেই আছে। ককটেল মেরে নাশকতা করলে আইনের কঠোর প্রয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’




চার দিনের সফরে আজ ঢাকায় আসছেন কমনওয়েলথ মহাসচিব

ডেস্ক নিউজঃ চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশে সফরে আসছেন কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে। আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন তিনি।

বাংলাদেশে এটি শার্লির প্রথম সরকারি সফর। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্তে বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে তার এই সফর।

কমনওয়েলথের মহাসচিব ২০ নভেম্বর ঢাকায় নামবেন। চারদিনের এ সফর শেষে আগামী ২৪ নভেম্বর তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।

সফরকালে অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে কমনওয়েলথ মহাসচিবের। এর মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ছাড়াও হাইকমিশনার, রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং অন্যান্য প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।

বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে, যার মধ্যে আছে বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও সুশাসন এবং সমৃদ্ধির জন্য জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাতীয় অগ্রগতিকে সমর্থনে চলমান সম্পৃক্ততা আরও গভীর করা।

বৈঠককালে শার্লি বচওয়ে কমনওয়েলথের নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা, যা গণতন্ত্রকে এর তিনটি মূল স্তম্ভের মধ্যে স্থান দেয়, সে সম্পর্কে অংশীদারদের অবহিত করবেন এবং কীভাবে উপযুক্ত সহায়তা বাংলাদেশের জনগণকে সর্বোত্তমভাবে সহায়তা করতে পারে; তাও শুনবেন।




শতাব্দীর শেষে বিলুপ্ত হতে পারে শীত, উপকূলের ১৮% ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে বিশ্ব ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের জলবায়ু আগামী কয়েক দশকে বড় ধরনের পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যেতে পারে—সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণার এমন সতর্ক বার্তা মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের হিসেবে, ২০৪১ থেকে ২০৭০ সালের মধ্যে দেশের গড় তাপমাত্রা অন্তত ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে, আর শতাব্দীর শেষে এই বৃদ্ধি আরও বেশি হয়ে দাঁড়াতে পারে দেড় থেকে সাড়ে ৪ ডিগ্রি।

ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং নরওয়েজিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জলবায়ুর রিপোর্ট ২০২৫’ প্রকাশ করে। পাঁচ ধরনের সম্ভাব্য জলবায়ু পরিস্থিতি ধরে বিশ্লেষণ করা এই প্রতিবেদনে ভবিষ্যতের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও সমুদ্রপৃষ্ঠ নিয়ে বিস্তারিত পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বর্ষার আগে মার্চ থেকে মে সময়টিতে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ২০৭০ সালের মধ্যে বর্ষার আগের সময় ২০ দিন পর্যন্ত তাপপ্রবাহ থাকার সম্ভাবনা উল্লিখিত হয়েছে, যা বর্তমান সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বর্ষাতেও তাপপ্রবাহ বাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

রাজধানী ঢাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরে অন্তত দুইটি প্রবল তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে হতে পারে নগরবাসীকে। একটি বর্ষার আগে, আরেকটি বর্ষার পরে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে দিনের তাপমাত্রা সাড়ে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি অনুভূত হতে পারে।

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতও সরে যাবে দক্ষিণাঞ্চল থেকে। শতাব্দীর শেষদিকে শীত মৌসুম প্রায় নামমাত্র থাকতে পারে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ মাত্র এক-দু’দিন অনুভূত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

বাংলাদেশে বর্ষাতেই মোট বৃষ্টির বড় অংশ হয়। নতুন পূর্বাভাস বলছে, ভবিষ্যতে বর্ষার বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে। ২০৭০ সালের মধ্যে বর্ষার বৃষ্টি গড়ে ১১৮ মিমি বাড়তে পারে, আর শতাব্দীর শেষে এই বৃদ্ধি ২৫৫ মিমি পর্যন্ত যেতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অতিবৃষ্টি বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়াবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বাংলাদেশের উপকূলে বৃদ্ধির হার বেশি হতে পারে—প্রতি বছর ৫.৮ মিমি পর্যন্ত। এতে শতাব্দীর শেষে উপকূলের প্রায় ১৮% এলাকা স্থায়ীভাবে পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে সুন্দরবনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা পানিতে ডুবে থাকতে পারে। এ কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে ১০ লাখ মানুষ স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা উত্থাপন করা হয়েছে।

জলবায়ুর বদলে সবচেয়ে বড় আঘাত আসতে পারে কৃষিক্ষেত্রে। তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা বেড়ে ফসল উৎপাদন কমতে পারে। গবাদিপশুর রোগ বাড়তে পারে এবং মিঠাপানির উৎস সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। জনস্বাস্থ্যে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ বাড়তে পারে। অতিরিক্ত গরমে বাইরে কাজ করা কঠিন হওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের ওপরও চাপ বাড়বে।

প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে বজলুর রশিদ বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন একদিনে থেমে যাবে না, তাই অভিযোজন পরিকল্পনা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি। উপকূল সুরক্ষা, বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, আগাম সতর্কবার্তা আধুনিকায়ন এসব ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর পরিবেশের সংকট নয়, বরং কৃষি থেকে জ্বালানি সব খাতেই এর প্রভাব পড়ছে। তাই সমন্বিতভাবে কাজ করাই একমাত্র পথ।

২০১১ সাল থেকে আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং নরওয়ের আবহাওয়া সংস্থা যৌথভাবে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করছে। নতুন প্রতিবেদনটি তাদের তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ।




শেখ হাসিনা-কামালকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলকে চিঠির প্রস্তুতি এনসিবির

ডেস্ক নিউজঃ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়ে নতুন চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। চিঠির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপিও সংযুক্ত করা হবে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রায়ের কপি হাতে পাওয়া মাত্রই চিঠি পাঠানো হবে। এর আগে ইন্টারপোলকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির অনুরোধ করে দুইবার চিঠি পাঠানো হলেও সংস্থাটি নোটিশ জারির যৌক্তিকতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছিল।

গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তিনটি অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও দুটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় দুজনেই পলাতক ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও একই সময়ে ভারতে আশ্রয় নেন।

রায় কার্যকর করতে এখন তাদের দেশে ফেরানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টা আগে থেকেই চলছিল। তখন মামলা বিচারাধীন থাকায় দণ্ডের বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। এখন রায় ঘোষণা হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের তথ্য যুক্ত করে নতুন করে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও সেই চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে। তাই ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রচেষ্টাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে।

রায় ঘোষণার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে; প্রয়োজনে আরও চিঠি দেওয়া হবে।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নয়, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়ায়ই এই উদ্যোগ। আগের চিঠির সময় তিনি শুধু পরোয়ানাভুক্ত ছিলেন, এখন তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত, ইন্টারপোলের নোটিশ জারির ক্ষেত্রে যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।




আওয়ামী লীগের ‘জন্মস্থান’ রোজ গার্ডেন কিনে রাষ্ট্রের ক্ষতি ৩৩২ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজঃ পুরান ঢাকার হৃষিকেশ দাস রোডের যে ঐতিহাসিক ভবনে আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই রোজ গার্ডেন কিনতে গিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, অনুসন্ধানে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই কমিশন ব্যবস্থা নেবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ‘রোজ গার্ডেন’ বাড়িটি কেনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক বিষয়টি যাচাই-বাছাই করতে অভিযান চালায়। অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য ও নথির ভিত্তিতে কমিশন প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে।

২০১৮ সালে ব্যক্তি মালিকানাধীন পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষিত ‘রোজ গার্ডেন’ ভবনটি কিনে নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এজন্য ব্যয় হয় ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ ২ হাজার ৯০০ টাকা।

ওই বছরের ৮ অগাস্ট সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আওয়ামী লীগের জন্মস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী রোজ গার্ডেন ভবনটি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সরকার ওই ব্যক্তিমালিকানাধীন পুরাকীর্তিটি কিনে নেয়।

রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী সম্মেলনেই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নামে পরিচিতি পায়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এই দল স্বাধিকার আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়।

১৯৩১ সালে পুরান ঢাকায় ২২ বিঘা জমির ওপর ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস যে বাগানবাড়ি নির্মাণ করেন, সেটিই পরে ‘রোজ গার্ডেন’ নামে পরিচিত হয়। পশ্চিমমুখী ওই দোতলা ভবনের চারপাশ তিনি সাজিয়ে তোলেন দেশ-বিদেশ থেকে আনা বিরল প্রজাতির গোলাপের বাগানে। সেখান থেকেই এর নাম ‘রোজ গার্ডেন’।

করিন্থীয়–গ্রীক শৈলী অনুসরণে তৈরি প্রায় সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের ভবনটির দ্বিতীয় তলায় রয়েছে একটি বৃহৎ জলসা ঘর। এর মেঝে সাদা পাথরের এবং সিলিংয়ে সবুজ কাচ দিয়ে তৈরি ফুলের নকশা।

ঋষিকেশ তার গোলাপ বাগানকে অলংকৃত করেছিলেন দেশ–বিদেশ থেকে আনা পাথরের ভাস্কর্য, সুদৃশ্য ফোয়ারা এবং সামনের অংশে শানবাঁধানো পুকুর দিয়ে। সে সময় রোজ গার্ডেন ছিল ঢাকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

তবে নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই ঋষিকেশ দাস দেউলিয়া হয়ে পড়েন। ১৯৩৬ সালে তিনি বাড়িটি ঢাকার বই ব্যবসায়ী খান বাহাদুর মৌলভী কাজী আবদুর রশীদের কাছে বেচে দেন।

বিখ্যাত প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরি এখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মালিক ছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ।

১৯৬৬ সালে আব্দুর রশিদের ভাই কাজী হুমায়ূন ভবনের মালিকানা পান। তারপর থেকে ভবনটির নাম হুমায়ূন সাহেবের বাড়ি নামে বিখ্যাত হয়ে ওঠে।

১৯৭০ সালে কাজী হূমায়ূন বাড়িটি তৎকালীন চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা মোশন পিকচার্স লিমিটেডের কাছে ভাড়া দেন। সেই সময় ভবনটি বেঙ্গল ষ্টুডিও নামে বিখ্যাত হয়ে ওঠে। ১৯৯৩ সালে বেঙ্গল ষ্টুডিও চলে গেলে আবার বাড়িটি চলে আসে কাজী হূমায়ূন পরিবারের কাছে।

ততদিন আর কাজী হুমায়ূন বেঁচে ছিলেন না, ভবনটির মালিকানা পান তার বংশধর কাজী রকিব।

১৯৮৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রোজ গার্ডেনকে সংরক্ষিত ভবন হিসেবে ঘোষণা দিলেও পরে ভবনটির মালিকানা মূল মালিকরাই ফিরে পান। তারপর থেকেই ভবনটির দেখভাল চলছিল কাজী রাকিব পরিবারের তত্ত্বাবধানে। রোজ গার্ডেনের মালিক লায়লা রকীব ও তার সন্তানদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন দলিল মূলে এটি কিনে নেওয়া হয়।




গণপূর্তে অনিয়ম ঢাকতে ‘সাফাই সাংবাদিকতা’: বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এটি গণমাধ্যমের জন্য ভয়াবহ সংকেত

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে যখন নানা পত্রিকা অনুসন্ধানী খবর প্রকাশ করছে, তখনই একদল স্বার্থান্বেষী সাংবাদিককে নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। তারা নিজেরা সংবাদকর্মী হলেও দায়িত্ব পালন না করে বরং কিছু প্রভাবশালী প্রকৌশলীর প্রতি আনুগত্য দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নানা অনলাইন পোর্টালে হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে এমন কিছু প্রতিবেদন, যেগুলো আসলে সাংবাদিকতা নয়—বরং নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের রক্ষায় ‘সাফাই প্রচার’।

সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম শাখার প্রকৌশলী মো. কায়কোবাদ–এর নাম জড়িয়ে কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে ইতিবাচক, অতিরিক্ত প্রশংসামূলক ও প্রশ্নবোধক কিছু রিপোর্ট। এসব রিপোর্টে দেখা গেছে—একটি পত্রিকা অনিয়ম নিয়ে যখন অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করেছে, তখনই আরেক পত্রিকা বা পোর্টাল ঠিক তার উল্টো সুরে কায়কোবাদকে ‘সৎ, দক্ষ ও নিন্দিত হওয়ার অযোগ্য’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। যেন গণমাধ্যমের দায়িত্ব তথ্য তুলে ধরা নয়—কাউকে রক্ষা করা।

গণযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা বলছেন—এ ধরনের পাল্টা-রিপোর্ট আসলে সংবাদপত্র আইন ১৯৭৩–এর মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। সাংবাদিকতার পেশাগত নীতিমালায় ‘স্বার্থসংঘাত’ স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ, কিন্তু এখানে সংবাদকে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘পিআর টুল’ হিসেবে। আইনজীবীদের মতে, কোনো রিপোর্টে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি প্রমাণসহ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে পারেন—কিন্তু এক পত্রিকার রিপোর্ট ঢাকতে আরেক পত্রিকার পক্ষে গিয়ে ব্যক্তিগত সাফাই দেওয়া আইনসম্মত নয়, এটি সরাসরি প্রেস এথিকস ভঙ্গ।

এই পাল্টা সাংবাদিকতার আরেকটি বড় সমস্যা হলো—ভুল ছবি, ভুল পরিচয়, অযথা ব্যক্তির প্রশংসা, অসংগত তথ্য জোড়া লাগানো। অভিজ্ঞ এক সম্পাদক তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এসব ভুল কেবল অদক্ষতা নয়, বরং জনমত বিভ্রান্ত করার কৌশল। যেসব পত্রিকা সাধারণত অনিয়ম উন্মোচন করে, সেগুলোকে টার্গেট করেই এই ‘সাফাই সাংবাদিকতা’ চালানো হয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ভেতরের অবস্থার কথা তুলে ধরেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে। তাঁদের ভাষায়, গণপূর্তের প্রভাবশালী কয়েকজন প্রকৌশলী দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন সাংবাদিককে ব্যবহার করছেন নিজেদের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে। কোনো অনিয়ম প্রকাশিত হলেই শুরু হয়—অভিযুক্ত কর্মকর্তার ছবি এড়িয়ে অন্য কারো ছবি ব্যবহার, অনলাইনে হঠাৎ প্রশংসামূলক নিউজের বন্যা, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কাছে ফোন করে ‘নরম করার চেষ্টা’, এবং আরেক পত্রিকার মাধ্যমে প্রথম রিপোর্টকে ভুল প্রমাণের খেলা। তাদের কথায়, “দুর্নীতির রিপোর্ট দেখলেই ওরা দালাল সাংবাদিক পাঠায়।”

দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য হলো সত্য প্রকাশ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে ঠিক উল্টো—যেখানে একটি পত্রিকা প্রশ্ন তুলছে, সেখানে অন্য পত্রিকা সেই প্রশ্নকে ভুল প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লাগছে। এতে প্রকৃত সত্য আড়ালে পড়ে যায়, জনমত বিভ্রান্ত হয় এবং দুর্নীতিবাজরা বাঁচার সুযোগ পায়।

দেশের সিনিয়র সাংবাদিক ও গণযোগাযোগবিদরা এ পরিস্থিতিকে গণমাধ্যমের জন্য একটি ভয়ংকর বিপদ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সংবাদ কখনোই ব্যক্তিবিশেষের ঢাল হতে পারে না। সাংবাদিকতা সত্য উদ্ঘাটনের জায়গা, কারো ব্যক্তিগত প্রচারের প্ল্যাটফর্ম নয়। এভাবে স্বার্থান্বেষী প্রকৌশলী ও কিছু সাংবাদিকের যোগসাজশ চলতে থাকলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আরো অস্বচ্ছ হবে, আর দুর্নীতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

গণপূর্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হয়। এখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে—যে পত্রিকা অনিয়ম প্রকাশ করে, তারা হয় চাপের মুখে পড়ে; আর যে পত্রিকা অনিয়ম আড়াল করে, তারা নানা সুবিধা পায়। এটি রাষ্ট্র, গণমাধ্যম এবং জনগণ—তিন পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর।

সবশেষে বলা যায়—সংবাদকে অস্ত্র বানিয়ে অনিয়ম আড়াল করা গণতন্ত্রের জন্য সরাসরি হুমকি। এক পত্রিকার রিপোর্ট ঠেকাতে আরেক পত্রিকার সাফাই কেবল অপেশাদার সাংবাদিকতা নয়, এটি সত্যকে চাপা দেওয়ার ভয়ংকর প্রচেষ্টা। প্রকৃত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, তথ্যভিত্তিক রিপোর্টিং এবং যথাযথ তদন্ত—গৃহপালিত সাংবাদিকতা নয়।




আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ইস্তেহারে শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে ইউনিসেফের সাথে বৈঠক।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গতকাল ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ইউনিসেফের গুলশানস্থ বাংলাদেশ, কার্যালয়ে ইউনিসিফের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নেতৃত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত বৈঠকের মুল বিষয় ছিলো আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ইশতেহারে শিশু নিরাপত্তা। বৈঠকে জাতীয় পার্টি তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে শিশুদের নিরাপত্তা বিধানে ৫টি বিষয় সন্নিবেশন করার আশ্বাস প্রদান করেন।

বিষয়গুলো হলো,

১) শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রনালয় হতে শিশুদের জন্য বাজেট বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিভাগ চালু করা।
২) ১৮ বছরের নীচে সকল মেয়ে শিশুদের শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা।
৩) ঝড়ে পড়া (ড্রপট আউট) শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজ তৈরী করা এবং তাদের পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করা।
৪) বিভিন্ন পর্যায়ে ৩০ হাজার স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে শিশু নিরাপত্তা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা। প্রায় ৪০ হাজার প্রশিক্ষনার্থী সিসিসিপি কর্মীদের দ্বারা শিশুর সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
৫) শুধুমাত্র শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সাইবার মিডিয়া এক্ট-এ প্রয়োজনীয় ধারা সন্নিবেশন করা।

উক্ত বৈঠকে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দলের সাথে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রেসিডিয়াম সদ্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, এডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আরমান হোসেন মিয়া এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর (অব:) মোঃ মাহফুজুর রহমান ।

ইউনিসেফ প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন, রানা ফ্লাওয়ার্স, রিপ্রেজেনেটিটিভ ইউনিসেফ, দীপিকা মেহরিশ শর্মা, চিফ চাইল্ড নিউট্রেশন এন্ড ডেভলোপমেন্ট সেকশন, মিগুয়েল মেটোস মুনাজ, চিফ কমিউনিকেশন এন্ড এডভোকেসী।




বিআরটিসিতে অনিয়মের শীর্ষে উপমহাব্যবস্থাপক গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত। পুরোনো সরকারের সময় যেসব কর্মকর্তা প্রকাশ্যে দুর্নীতি করে তদন্ত প্রতিবেদনে ধরা পড়েছিলেন, তাদের অনেকেই এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন। সেই তালিকার সবচেয়ে আলোচিত নাম হচ্ছে বিআরটিসির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) গোলাম ফারুক। তার বিরুদ্ধে সরাসরি ৪ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বিভিন্ন তদন্তেই উঠে এসেছে। কিন্তু শাস্তির বদলে তিনি পেয়েছেন পদোন্নতি; এমনকি এখনো তিনি বিভিন্ন ডিপো, বাস, কাউন্টার লিজসহ নানা জায়গায় অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে সহযোগিতা করছেন বলেই সংগঠনের অনেক কর্মচারীর দাবি।

বিভিন্ন তদন্তে দেখা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ডিপোতে বাস মেরামত, যন্ত্রাংশ ক্রয়, রক্ষণাবেক্ষণ—এসব কাজে গোলাম ফারুক ও তৎকালীন ম্যানেজার (অপারেশন) নূর-ই-আলম ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিপুল টাকা লোপাট করেছেন। কোথাও অকেজো বাস কেটে বিক্রি করে অর্থ গায়েব করা, কোথাও আবার বিআরটিসির নিজস্ব চালকদের বাদ দিয়ে বাইরের চালকদের দিয়ে বাস চালিয়ে রাজস্ব জমা না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে, এখনও তিনি মেয়াদোত্তীর্ণ লিজ বহাল রেখে বা লিজ দেওয়ার নামে নিয়মিত টাকা তুলছেন।

বিআরটিসি কর্মীদের ভাষায়, গোলাম ফারুক নামটি শুনলেই সবার মনে আসে ঘুষ, অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার কথা। অনেকে দাবি করেন, আগের সরকার আমলে তিনি ব্যাপকভাবে সুবিধা পেয়েছেন এবং এখনো পূর্ববর্তী প্রভাবশালী মহলের লোকজনকে নানা উপায়ে সহায়তা করে যাচ্ছেন। কোনো ফাইল তার টেবিলে গেলে ঘুষ ছাড়া তা নড়াচড়া করে না—অনেক ভুক্তভোগী পরিবহন ব্যবসায়ী এমন অভিযোগই তুলে ধরেছেন।

তদন্ত নথিতে দেখা যায়, বগুড়া ডিপোতে কর্মরত অবস্থায় তিনি ২ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৭৫০ টাকা রাজস্ব তহবিলে জমা দেননি। আবার অন্য এক তদন্তে উল্লেখ আছে, বাইরের চালকদের দিয়ে গাড়ি চালিয়ে ১ কোটি ১২ লাখ ৬২ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে তার নেতৃত্বে। মোহাম্মদপুর ডিপোতে দায়িত্ব পালনের সময়ও রক্ষণাবেক্ষণ, বেতন, জ্বালানি—এসব খাতে অনিয়ম করে ২৮ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি করেছেন বলে বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে জানা যায়।

এতসব অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় তদন্ত হলেও কোনো শাস্তি হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে তিনি মামলা খারিজ করে নিয়েছেন এবং পরবর্তীতে পদোন্নতিও পেয়েছেন। শাজাহান খানের সময় তিনি বিশেষভাবে প্রভাবশালী ছিলেন—এমন কথাও বহু কর্মকর্তার মুখে শোনা যায়। ফলে এখনো কেউ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস পান না।

গাবতলী ডিপোর ম্যানেজার থাকাকালীন তিনি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৩৫ লাখ টাকার বেশি পরিশোধ করেননি—এমন অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে বিআরটিসির বিভিন্ন নথিতে গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

বিআরটিসির কর্মীদের মতে, বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাও কোনোভাবে তাকে ঠেকাতে আগ্রহী নন, বরং নিজেও সুবিধাভোগী। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন সীমাহীন অনিয়ম আর দুর্নীতির মধ্যে আটকে গেছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কয়েকবার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করলেও তা কার্যকর না হওয়ায় অনেকেই হতাশ।

অনেক কর্মচারী প্রশ্ন তুলছেন—যদি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারেও এমন বিতর্কিত কর্মকর্তাদের সরানো না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে দুর্নীতিগ্রস্ত একটি গোষ্ঠীই আবার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসবে। আর এর দায় কে নেবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।




অবৈধ সম্পদ গোপন ও অর্জন: দুদকের ফাঁদে কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট শাহজাহান দম্পতি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্ট ও আমদানি–রপ্তানিকারক মোহাম্মদ শাহজাহান এবং তার স্ত্রী ফারজানা আক্তারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে এই দুই মামলা দায়ের করেন।

দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, মোহাম্মদ শাহজাহান জ্ঞাত আয়–বহির্ভূত দুই কোটি ৮৩ হাজার ৭৩৪ টাকার সম্পদ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। নথি যাচাই করে দুদক জানায়, এই সম্পদের উৎস তিনি প্রমাণ করতে পারেননি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, শাহজাহানের স্ত্রী ফারজানা আক্তারের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুদক জানায়, তিনি তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৫১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪৮ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন এবং আরও দুই কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬৮ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮ টাকা হলেও এর মধ্যে বৈধ আয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে মাত্র ১১ কোটি ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ২০০ টাকার। ফলে বাকি দুই কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬৮ টাকা জ্ঞাত আয়–বহির্ভূত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

দুদক জানায়, দীর্ঘ অনুসন্ধান ও নথিপত্র যাচাই–বাছাইয়ের পরই এই দুই মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের অনিয়ম অভিযোগে দুদকের সক্রিয় অনুসন্ধান

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে রেকর্ডপত্র ধরে গভীর অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দায়িত্বের অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ, মানিলন্ডারিংসহ অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এসব অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে দুদকের দুই সদস্যের একটি টিম দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র খুঁটিয়ে দেখছে। বন্দর কর্তৃপক্ষও দুদকের চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ফাইল সরবরাহ করেছে।

দুদক শুধু বন্দরেই নয়, নির্বাচন কমিশন, এনবিআরসহ কয়েকটি সরকারি দফতরের কাছেও মনিরুজ্জামান সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। অনুসন্ধান শুরু হলেও এখনো অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে চায়নি দুদক। জানা যায়, অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক প্রথমে প্রাথমিক অনুসন্ধান করে, পরে গত জুলাই মাসে সহকারী পরিচালক মো. নওশাদ আলীকে প্রধান করে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। তার সঙ্গে দায়িত্বে আছেন উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন। দায়িত্ব পাওয়ার পর তারা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিংসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদনপত্র, টেন্ডার ডকুমেন্ট, চুক্তিপত্র, বাস্তবায়ন বিবরণী থেকে শুরু করে বিল-ভাউচার পর্যন্ত সব নথিপত্র চেয়েছেন।

অন্যদিকে দুদক সূত্র বলছে, সিএজি দফতরের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টে চট্টগ্রাম বন্দরের ৭২টি বড় অনিয়ম চিহ্নিত হয়, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৪টি অনিয়মেই রয়েছে প্রায় ২৬৫ কোটি টাকার গড়মিল। এসব অনিয়মের বেশির ভাগই হয়েছে দরপত্র ও চুক্তি প্রক্রিয়ায় কারসাজির মাধ্যমে—এ কারণেই দুদক সরাসরি অনুসন্ধানে নেমেছে।

অনুসন্ধান দলের প্রধান সহকারী পরিচালক নওশাদ আলী জানিয়েছেন, তারা অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন এবং বন্দর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে। তবে অনুসন্ধান এখনো চলমান, তাই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে কিনা তা বলতে রাজি নন তিনি। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্দরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, দুদক যে নথি চাইছে তারা তা দিচ্ছেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত বছরের ১১ আগস্ট এস এম মনিরুজ্জামান চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন। এর আগে চেয়ারম্যান থাকাকালীন মোহাম্মদ সোহায়েল আহমদকে একই বছর ২০ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বন্দর সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ছাড়াও র‌্যাবে দায়িত্ব পালনকালে গুম-খুনের অভিযোগ রয়েছে।