গণপূর্ত প্রকৌশলী লতিফুলের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ, একাধিক মামলা চললেও দায়িত্বে বহাল

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের শেরেবাংলা নগর-১ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলামকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই ঘুষ, দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ ঘুরছে। সরকারি দায়িত্বে থেকে তিনি নাকি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন, আর এসবই সম্ভব হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব ও আশ্রয়ের কারণে—এমন মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র বলছে, জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র আন্দোলন দমাতে লতিফুল ইসলাম নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলেন—আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে মাঠে প্রয়োজনীয় রসদ পর্যন্ত। এ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়। বাড্ডা থানায় দায়ের হওয়া সি.আর. মামলা নং ৬৩/২৫ এবং এফআইআর নং ০৬ (তারিখ: ০৩ মার্চ ২০২৫)–এ তাঁর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

গণপূর্তের ভেতরের লোকজন জানান, বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পে অস্বাভাবিক দর নির্ধারণ, ঘুষ নেওয়া এবং নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর নিয়মিত কৌশল। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, সংসদ ভবনসহ বেশ কিছু স্থাপনার কাজ তাঁর সময়েই নানা অনিয়মে ভরপুর ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অধস্তন প্রকৌশলীদের অনেক সময় জোর করে তাঁর ইচ্ছামতো প্রাক্কলনে স্বাক্ষর করতে হতো বলেও জানা যায়।

খুলনায় দায়িত্ব পালন করার সময়ও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের ঘুষ আর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি পুরো সময়টাই ছিলেন অভয়-আশ্রয়ে। সহকর্মীরা বলেন, প্রকল্পে ১৫% কমিশন দাবি করতেন তিনি। সেই কারণেই তাঁকে নাকি অফিসে ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল—“মিস্টার ১৫”।

বর্তমান পরিস্থিতিও কম নাটকীয় নয়। ক্ষমতার পালাবদলের পর আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা এখন আবার বিএনপিপন্থী নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি পদোন্নতির আশায় নানান দপ্তরে সক্রিয় তদবিরও করছেন তিনি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় লতিফুল ইসলাম সবসময়ই প্রশাসনিক নিরাপত্তা পেয়ে এসেছেন। হত্যা থেকে শুরু করে দুর্নীতির মতো একাধিক মামলা চলমান থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুদক জানিয়েছে, লতিফুল ইসলামসহ গণপূর্তের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু তদন্ত চলমান থাকার পরও তাঁদের কেউই দায়িত্ব থেকে সরেননি, যা দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানতে লতিফুল ইসলামের সাথে ফোন ও বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।




গাজার ঐতিহাসিক প্রাসাদ ধ্বংস, ওসমানীয় আমলের বিরল প্রত্নবস্তু লুট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে বহু শতাব্দীর ইতিহাস ধ্বংস হয়ে গেছে। হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে এই আগ্রাসন শুরু হলেও, ইসরায়েলি হামলা থেকে রক্ষা পায়নি গাজার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও। এর ফলে দুই বছরের এই যুদ্ধে গাজা থেকে হারিয়ে গেছে বা লুট হয়ে গেছে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে ওসমানীয় আমল পর্যন্ত বিস্তৃত ২০ হাজারের বেশি বিরল প্রত্নবস্তু।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতে সোমবার বার্তাসংস্থাটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ফিলিস্তিনিদের পরিচয় মুছে ফেলতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় প্রত্নস্থলগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় ‘৩১৬টির বেশি’ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ও ঐতিহাসিক ভবন পুরোপুরি কিংবা আংশিক ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ধ্বংস হওয়া এই স্থাপনাগুলোর অধিকাংশই মামলুক ও ওসমানীয় আমলের, বাকিগুলো প্রাথমিক ইসলামি যুগ ও বাইজেন্টাইন আমলের। এই ধ্বংসযজ্ঞে বাদ যায়নি মামলুক আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক প্রাসাদ কাসর আল-বাশাও।

ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দেরও পুরোনো। অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেমে সেন্টার ফর কালচারাল হেরিটেজ প্রিজারভেশনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞ হামুদা আল-দাহদার জানান, গাজার পুরোনো শহরের আল-দারাজ এলাকায় অবস্থিত এই প্রাসাদের ৭০ শতাংশ অংশ ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

থাওয়াবতে বলেন, গাজার ঐতিহ্যের ওপর হামলা চালিয়ে এটা শুধু ধ্বংসই করা হয়নি— এটি ছিল সংগঠিত লুটপাট। আন্তর্জাতিক আইনে যা অপরাধ এবং বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচিত। তিনি জানান, প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে ওসমানীয় যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত ২০ হাজারের বেশি প্রত্নবস্তু যুদ্ধের সময় হারিয়ে গেছে। এসব প্রত্নবস্তু স্থানীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত ছিল।

দাহদারও নিশ্চিত করেছেন যে, ঐতিহাসিক এই স্থাপনায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার পর হাজারো বিরল প্রত্নবস্তু উধাও হয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রত্নবস্তুই ছিল ইতিহাসের অংশ… এসব লুটপাট জাতীয় পরিচয়কে ক্ষতবিক্ষত করেছে। এটি মানবজাতির সমষ্টিগত ঐতিহ্যের ওপর এক গুরুতর অপরাধ।

উল্লেখ্য, ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে গাজা দখল করে এবং ১৯৯৪ সালে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সর্বশেষ যুদ্ধেও প্রাসাদটি আবার ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাটের শিকার হয়। একই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি




নোয়াখালীতে ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ আলমগীরের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক দুটি পৃথক মামলা করেছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে দুদকের নোয়াখালী কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী ও সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল নোমান বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। অভিযুক্ত আলমগীর চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার গোমদন্ডী এলাকার নুর উল্লার ছেলে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আলমগীর সেনবাগ শাখায় দুই দফা চাকরির সময়—২০১৫ থেকে ২০২০ এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত—মোট ৮৯টি ভুয়া ঋণ বিতরণের কাগজপত্র দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা নিজের কাজে লাগান। এসব ঋণ বাস্তবে কখনোই গ্রহীতাদের কাছে যায়নি।

এছাড়া তিনি নোয়াখালী শাখায় কর্মরত থাকা অবস্থায়—২০১৪ সালের আগস্ট থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় ২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত—আরও তিনজন ভুয়া ঋণগ্রহীতার নাম ব্যবহার করে টাকা তুলেন। এই সময়ে তিনি অন্তত ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ প্রাথমিকভাবে মোট প্রায় ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, আলমগীর পরিকল্পিতভাবে ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর দুদক তদন্ত করে দুইটি পৃথক মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।




লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলো ১৭০ বাংলাদেশি

ডেস্ক নিউজঃ লিবিয়ায় অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত ও দেশে ফিরতে আগ্রহী ১৭০ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় দেশে ফেরত আনা হয়েছে।

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে স্থানীয় সময় ৬টা ১০ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান।

ফেরত আসা বেশিরভাগ বাংলাদেশি মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা যায়। তাদের অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকায় পৌঁছালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা তাদের অভ্যর্থনা জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিজেদের দুর্ভোগ ও অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানান।

আইওএম তাদের প্রত্যেককে পথখরচ, খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে। লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক অবস্থায় থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।




৬৭৮ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে মোট ৬৭৮ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক লেনদেন ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই মামলাটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব, এলসি এবং বিভিন্ন নথি যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। তদন্তে দেখা যায়, বিদেশ থেকে আমদানির নামে প্রতিষ্ঠানটি খুব অল্প পরিমাণ স্বর্ণ ও হীরা এনেছে। কিন্তু একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ—৬৭৮ কোটি টাকার বেশি—স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করা হয়েছে, যার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তারা। এতে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে এসব স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছিল।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের মালিক পরিচয়ে দেশের ভেতর ও বাইরে ব্যবসা করলেও বাস্তবে তিনি এই ব্যবসার আড়ালে পাচার ও চোরাচালান করছিলেন। তদন্তে আরও উঠে আসে, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করা বৈধ পণ্যের মূল্য ছিল মাত্র ৩৮ কোটি টাকার মতো। অথচ স্থানীয় বাজার থেকে আগ্রহজনক উপায়ে সংগ্রহ করা পণ্যের মূল্য ছিল ৬৭৮ কোটি টাকার বেশি—যা উৎসহীন অর্থ ছাড়া সম্ভব নয়।

এই উৎসহীন বিপুল অর্থের লেনদেন ও চোরাচালানের প্রমাণ মিললেও কোনো বৈধ নথি দেখাতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর সিআইডি রিপোর্ট জমা দেয় এবং গত ১৭ নভেম্বর দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মানিলন্ডারিং মামলা রুজু করা হয়।

সিআইডি জানায়, গুলশান থানায় এই মামলা দায়েরের পর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির তফসিলভুক্ত হওয়ায় তারাই পুরো বিষয়টি তদন্ত করবে। এখন প্রয়োজনীয় নথি, ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।




মুজিবনগর সেচ প্রকল্পে ২৪৮ কোটি টাকার অনিয়মের চিত্র ফাঁস, দুদকে তলব ১৯ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সেচ বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নকারী ‘মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্পে’ বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রকল্পটির কাজ কাগজে-কলমে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রায় কিছুই পাওয়া যায়নি। মোট ২৪৮ কোটি টাকার এই পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পে ঠিকাদারি নিয়োগ থেকে শুরু করে বিল-ভাউচার তৈরি, কাজের মান, কৃষকদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া—সব ক্ষেত্রেই অনিয়মের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছে দুদক।

২০২০–২১ অর্থবছরে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর এলাকার কৃষিজমিতে উন্নত সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। লক্ষ্য ছিল বছরে বাড়তি ৫১ হাজার টন খাদ্যশস্য উৎপাদন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে—কাগজে অগ্রগতি দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ কাজ হয়নি। স্থানীয় কৃষক এবং সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে দিয়ে ঠিকাদারি কাজ করিয়ে প্রকল্প পরিচালক এবং কিছু প্রকৌশলী মিলে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

এই দুর্নীতির অভিযোগে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মাহবুব উল আলম হানিফের নামও উঠে এসেছে। ঠিকাদার নিয়োগে তার প্রভাব বিস্তারের কথাও দুদকের নথিতে এসেছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত শুরুর পর প্রকল্প পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি অনুসন্ধান টিম মাঠে নেমেছে। একই সঙ্গে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর অঞ্চলের মোট ১৯ জন কর্মকর্তাকে আলাদা দিনে দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

২৫ নভেম্বর তলব করা হয়েছে সহকারী প্রকৌশলী এরশাদ আলী, হাফিজ ফারুক এবং উপসহকারী প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম, আদনান আল বাচ্চু, আসিফ মাহমুদ ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে।
২৬ নভেম্বর যেতে হবে খালেদা ইয়াসমিন, দিদার-ই-খোদা, আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল হালিম, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও হুমায়ুন কবিরকে।
আর ২৭ নভেম্বর হাজির হবেন শাহজালাল আবেদীন, মাযহারুল ইসলাম, শাহরিয়ার আহমেদ, লিমন হোসেন, ইকরামুল হক, শ্যামল হোসেন ও আশরাফুল ইসলাম।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—প্রতি সেচ প্লান্ট স্থাপনে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগেও মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ আছে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ আছে, কাজ না করেই ভুয়া বিল তোলা হয়েছে এবং সেই অর্থ থেকে ৪০ শতাংশ নিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক, বাকিটুকু পেয়েছে ঠিকাদারি পক্ষ।

প্রকল্পের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে নির্ধারিত নকশা ও মান বজায় রাখা হয়নি বলেও জানায় দুদক। এমনকি ঠিকাদারদের বিল ছাড় করতে সহকারী প্রকৌশলী, সাইট অফিসার ও হিসাব সহকারী পর্যন্ত নির্দিষ্ট শতাংশ কমিশন চাইতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি কুষ্টিয়ায় বিএডিসি কার্যালয়ে অভিযান চালায়। সেখানে দেখা যায়—১৯২ কোটি টাকা ব্যয়ের কাগজপত্র দেখানো হলেও মাঠে কাজের কোনো বাস্তব চিহ্ন নেই। দুদকের কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নীলকমল পাল বলেন, অভিযোগ প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে দুদক।

এ বিষয়ে বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন খান ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এস সাঈদের মতামত নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য দেননি। অন্যদিকে স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন—দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের অবশিষ্ট ৫৬ কোটি টাকার কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করার।




বিসিএস প্রশাসন সমবায় সমিতির সাবেক কর্মকর্তা জাহিদুলের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগে বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের বহিষ্কৃত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১২ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন। ইতোমধ্যে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে অনুসন্ধান প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালে অফিস সহায়ক হিসেবে যোগ দেওয়া জাহিদুল পরবর্তীতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হন এবং সমিতির সব ধরনের আর্থিক নথি ও ব্যাংক হিসাবের দায়িত্ব পান। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি সদস্যদের জমা দেওয়া কিস্তির পে-অর্ডারের টাকা নির্ধারিত ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা সোনালী ব্যাংক, রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স শাখায় “প্রকল্প পরিচালক, বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড” নামে খোলা একটি হিসাবেই জমা দিতেন। সেখান থেকে বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রায় দুই কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের এপ্রিল ও জুলাই মাসে প্লট রেজিস্ট্রেশনের ভ্যাট–করসহ অন্যান্য খাতে সদস্যরা যে ৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা দেন, তার মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকার কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

দুদকের তথ্যে আরও উঠে এসেছে, মাসে মাত্র ৪০ হাজার টাকা বেতনের এই কর্মকর্তা স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার ও তার পরিবারের নামে কুড়িগ্রামের মোগলবাসা ইউনিয়নের মালভাঙ্গা এলাকায় প্রায় এক একর জমি, ঢাকার বড় কাঁঠালদিয়ায় ২ কোটি ৪ লাখ টাকার জমি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার ফ্ল্যাটসহ একাধিক গাড়ির খোঁজ মিলেছে।

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বিআইএএম ভবনে সমিতির অফিসে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে যায় এবং পিয়ন আব্দুল মালেক ও ড্রাইভার ফারুক হোসেন নিহত হন। ওই ঘটনার পর হাতিরঝিল থানায় দায়ের হওয়া হত্যা ও বিস্ফোরণ মামলায় জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলাও দায়ের হয়েছে।

পুরো ঘটনাটি নিয়ে এখন ব্যাপক তদন্ত চলছে, আর জাহিদুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে দুদক আরও গভীরভাবে যাচাই–বাছাই করছে।




হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রমাণ করে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতের দণ্ডাদেশ প্রমাণ করেছে যে ক্ষমতার অবস্থান যাই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। 

সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এ বিবৃতিতে তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশের আদালত এমন স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেছে যা দেশের ভেতর থেকে বৈশ্বিক পরিসর পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হয়েছে। এ রায় জুলাইুআগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের প্রতি পর্যাপ্ত না হলেও ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, দেশ এখন দীর্ঘ বছরের দমন-পীড়নে বিধ্বস্ত গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যেসব অপরাধের বিচার হয়েছে, নিরস্ত্র তরুণ-তরুণী ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়; রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার মৌলিক আস্থার বন্ধনও ভেঙে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, এ ঘটনা বাংলাদেশের মৌলিক মূল্যবোধ-মর্যাদা, প্রতিরোধ-ক্ষমতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারে তীব্রভাবে আঘাত করেছিল।

‘প্রায় ১,৪০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তারা কেবল কোনো সংখ্যা ছিলেন না; ছিলেন ছাত্র-ছাত্রী, বাবা-মা ও অধিকারসম্পন্ন নাগরিক,’ যোগ করেন তিনি।

প্রফেসর ইউনূস জানান, আদালতে মাসের পর মাসের সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর কীভাবে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। এ রায় তাদের দুর্ভোগকে স্বীকৃতি দেয় এবং নিশ্চিত করে যে ন্যায়বিচারের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নে ছাড় নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক জবাবদিহির মূল স্রোতে পুনরায় যুক্ত হচ্ছে। ‘পরিবর্তনের দাবিতে যারা দাঁড়িয়েছিল, তাদের অনেকে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছে; তাদের আজকের ত্যাগ আমাদের আগামীর পথ তৈরি করছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শুধু আইনি জবাবদিহি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনও এখন জরুরি। মানুষ কেন প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য সবকিছু ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত হয়েছিল, এখন তা বোঝা এবং সেই আস্থার উপযোগী সিস্টেম তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আজকের রায় সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি পূর্ণ আস্থা রাখি ‘বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সঙ্গে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।’

আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার শুধু টিকেই থাকবে না, বরং বিজয়ী হবে এবং তা স্থায়ী হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেওয়া ও তদন্তে সহযোগিতা করায় রাষ্ট্রপক্ষের স্বীকারোক্তিকারী হিসেবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ‘লঘুদণ্ড’ হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।




খন্দকার মুশতাকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপকর্মের অভিযোগ—রাজনীতি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বত্র প্রভাব বিস্তার!

এসএম বদরুল আলমঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবুহেনা মোরশেদ জামানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত খন্দকার মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে বহু বছর ধরেই গুরুতর অভিযোগ উঠে আসছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়টিকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের প্রভাব বিস্তার আরও শক্তিশালী করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে। তাকে “ফ্যাসিবাদ-ঘেঁষা চক্রের দোসর” বলেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুসারে, দীর্ঘসময় ধরে তিনি সরকারি প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে নিজেকে ক্ষমতাধর অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেন। রাজনৈতিক পরিচয় ও ‘প্রশাসনিক সুবিধা’ ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-যুব সংগঠনের ওপর প্রভাব বিস্তার, নির্বাচনী সহিংসতা ও দমন-পীড়নের মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও দমনমূলক কর্মকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা আছে। মতিঝিলে অবস্থিত একটি সুপরিচিত স্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডিতে থাকা অবস্থায় তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতেন বলে দাবি ওঠে। আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো—শতাধিক শিশু ও ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনা, এমনকি অপহরণ ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে, যদিও এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রেও মুশতাককে দ্বৈত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়। নরসিংদীর শিবপুর এলাকায় স্থানীয়ভাবে তিনি এক রাজনৈতিক দলের সাথে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও, ঢাকায় দীর্ঘ সময় তিনি ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় প্রভাব বিস্তার করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দ্বৈত পরিচয় ক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সংবাদে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজের চারপাশে একটি চক্র তৈরি করেন—যারা সহিংসতা, প্রতারণা, নির্বাচনী কারচুপি ও দমনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ভূমিকা রাখত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমকে একটি বৃহত্তর “নাশকতার পরিকল্পনা”র অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে থাকা একদল প্রভাবশালীর সহায়তায় পরিচালিত হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

সামগ্রিকভাবে, খন্দকার মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর—যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচন প্রভাবিত করা, শিশু-নারী নির্যাতন, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রতারণা। এসব অভিযোগ যাচাই ও আইনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত অত্যন্ত জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।




মারা গেছেন সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান

ডেস্ক নিউজঃ সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মতিউর রহমান তালুকদার মারা গেছেন। সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাত ৭টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন মতিউর রহমান। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮০ বছর।মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হুমায়ূন হাসান শাহীন।

পারিবারিক জানা গেছে,  সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মতিউর রহমান তালুকদার প্রথম আলোচনায় আসেন ১৯৮৮ সালে। চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

২০০১ সালের নির্বাচনে একই আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মজিবুর রহমান তালুকদার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে ওই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনটি আসনে বিজয়ী হওয়ার পর বরগুনা-৩ আসনটি শূন্য হয়ে যায়। পরবর্তী উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে জয়ী হন মতিউর রহমান তালুকদার এবং দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হন।

রাজনীতিতে দীর্ঘ সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসা এই প্রবীণ নেতা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে বরগুনা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।