ঢাকা–১২ আসনে আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারকে ধানের শীষে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে জনতার ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা–১২ (তেজগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে টানা আন্দোলনে নেমেছেন দলটির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের সমর্থকেরা। শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে থেকে শুরু হওয়া এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাতিরঝিল ও শেরে বাংলা নগর থানার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী।

ফার্মগেট থেকে মিছিলটি বিজয় সরণি, ফার্মগেট হয়ে তেজগাঁও কলেজের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। পুরো পথজুড়ে “আনোয়ার ভাইকে আমরা চাই”, “প্রার্থী পরিবর্তন চাই”, “রাজপথের আনোয়ার ভাই”, “আমরা তোমাকে চাই”—এমন নানা শ্লোগানে মুখর ছিল এলাকা।

ফার্মগেট-তেজগাঁও-বিজয় সরণী এলাকা জুড়ে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান-মিছিলে নেতারা বলেন, ঢাকা–১২ আসনে তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার। তাঁকে বাদ দিয়ে দল ঘোষিত প্রার্থী সাইফুল আলম নিরবকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

গত ৩ নভেম্বর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল আলম নিরবকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই আনোয়ারের অনুসারীরা রাস্তায় রয়েছেন। ৪ নভেম্বর, ৬ নভেম্বরের পর আজ ছিল তৃতীয় দফা বিক্ষোভ। তাঁদের দাবি—তৃণমূলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করলে নির্বাচনী মাঠে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শেরে বাংলা নগর থানা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তোফায়েল আহমেদ, যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল কাদের মুকুল, এম জি আজম তৌহিদ, কামাল সরকার শাহিন, আরিফুরুজ্জামান চপল, জামাল উদ্দিন ভূইয়া, তেজগাঁও থানা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট দুলাল, মনিরুজ্জামান টগর, ইমাম উদ্দিন ইমন, আব্দুল হাই, শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপি সিনিয়র সদস্য আমজাদ হোসেন, ২৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ বোরহান উদ্দিনসহ হাতিরঝিল থানা বিএনপি, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল, স্হানীয় বিভিন্ন ইউনিট বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, মহিলাদল, শ্রমিকদল, কৃষকদল, জিয়া মঞ্চের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নেতারা বলেন, ঢাকা–১২ আসনে আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি। তাঁকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা না দিলে আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করবে।

তৃণমূলের দাবি, “দলকে জেতাতে চাইলে তেজগাঁওয়ে আনোয়ার ভাই এর বিকল্প নেই।”




রাজউকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ভবন নির্মাণ, ৩৬ কোম্পানির বিরুদ্ধে কড়া সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রিয়েল এস্টেট খাতে নানা অনিয়ম, প্রতারণা আর গ্রাহকদের ঠকানোর অভিযোগ বাড়তে থাকায় অবশেষে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজউক ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তারা এক জরুরি নোটিশে জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছে—৩৬টি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সঙ্গে জমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার চুক্তিতে না যেতে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া প্রকল্প নেয়া, নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, শর্ত না মানা এবং গ্রাহকদের প্রতারিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুল বাসির বলেন, সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্পের অনুমোদন নিতে কোম্পানিগুলোর জাতীয় গৃহায়নের কাছে আসার কথা ছিল। কিন্তু তারা সেই নিয়মই মানেনি। এজন্যই তাদের নিবন্ধন সনদ বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান—এখন কেউ যদি নিবন্ধন ছাড়া জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রি করতে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শর্ত পূরণ করলে ভবিষ্যতে নিবন্ধন পুনর্বহালের সুযোগ রাখা হয়েছে।

তালিকায় থাকা ৩৬টি বাতিল কোম্পানি হলো—ভিশন ২১ ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, প্রিমিয়াম হাউজিং এস্টেট, এনা প্রপার্টিস, গ্রেট ওয়ালস ল্যান্ড প্রপার্টি, গ্লোরিয়াস প্রপার্টিস, ম্যাক্সিম হোল্ডিংস, তুরিন হাউজিং, বিওসিএল ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট, বেস্ট ওয়ে ল্যান্ড প্রপার্টিস, বেস্ট ওয়ে ফাউন্ডেশন, সাফিস ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট, আরডিপি প্রপার্টিস, গার্ডিয়ান রিয়েল এস্টেট, ভেনাস হাউজিং অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট, এফআইসিএল রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার, পারিজাত ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন, দিশারি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ভেনিস অফ বেঙ্গল প্রপার্টিস, বসুধা বিল্ডারস, রূপান্তর ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, প্রান্তিক প্রপার্টিস, নেটওয়ার্ক ২০০৮ বিডি, বসুতি বিল্ডারস অ্যান্ড ডেভেলপারস, এসএফএল, চন্ডিমাটি হীরাঝিল প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টস, হারপ হোল্ডিংস, নবোদয় হাউজিং, আমাদের বাড়ি, নব্যধারা হাউজিং, রিসমন্ট ডেভলপারস, পুবালি ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ড্রিম প্যারাডাইস প্রপার্টিস, সবুজ ছায়া আবাসন, ইউরো বাংলা হাউজিং, সৃজন হাউজিং এবং ম্যাকপাই হাউজিং লিমিটেড।

দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো—রাজউকের নিষেধাজ্ঞা, নিয়ম-কানুন আর সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও অনেক কোম্পানি এখনো নির্বিঘ্নে বিল্ডিং তুলে যাচ্ছে। অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া যেন নিত্যদিনের ঘটনা। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—রাজউক কোথায়? তারা কি এ সব দেখেও দেখছে না? সাধারণ ক্রেতারা প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে থাকলেও নজরদারির জায়গায় যেন এখনো বড় ধরনের শিথিলতা রয়ে গেছে।

এ অবস্থায় গ্রাহকদের সতর্ক থাকা ছাড়া উপায় নেই। অনুমোদন ও নিবন্ধন ছাড়া কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করলে ভবিষ্যতে বড় ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কাই বেশি। ছাপোষা মানুষের জীবনভর জমিয়ে রাখা টাকা যেন ভুল হাতে পড়ে নষ্ট না হয়—এটাই এখন প্রধান সতর্কবার্তা।




৯৪ নং ওয়ার্ডে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের মতবিনিময় সভা

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা–১৫ আসনের অধীনস্থ ৯৪ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কাজীপাড়া বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সোসাইটি এবং এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় সভা করেন ঢাকা–১৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

সভায় মিল্টন বলেন, তিনি এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলা, উন্নয়নের বৈষম্য ও নাগরিক সেবার সংকট দূর করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপির ঘোষিত সংস্কারভিত্তিক ৩১ দফা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের রোডম্যাপই আগামী দিনের পরিবর্তনের ভিত্তি।

এলাকাবাসীরা মিল্টনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সমস্যা ও উন্নয়নের কথা যে মানুষটি আন্তরিকভাবে শুনছেন এবং সমাধানের অঙ্গীকার করছেন— তিনি মিল্টন ভাই।”

মতবিনিময় সভাটি ছিল পূর্ণ উদ্দীপনা, স্বতঃস্ফূর্ত ভিড় এবং জনগণের প্রত্যাশার এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।




পল্লবী–রূপনগরে আমিনুল হকের উদ্যোগে স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী কুইজ আয়োজন

এসএম বদরুল আলমঃ পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এক ভিন্নধর্মী কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আবারও আলোচনায় আসলেন জনপ্রিয় জননেতা আমিনুল হক। এলাকার ২২টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়, আর অনুষ্ঠান ঘিরে পুরো এলাকা যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের মতে, এভাবে বড় পরিসরে শিক্ষামূলক কুইজ আগে কেউ আয়োজন করেছে বলে তাদের জানা নেই। এজন্যই আমিনুল হকের উদ্যোগটিকে তারা দেখছেন তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করার এক অনন্য ও প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা হিসেবে।

এলাকাবাসীর ভাষায়— আমিনুল হক যখন কোনো কাজ হাতে নেন, তাতে থাকে নতুনত্ব আর পরিকল্পনার ছাপ। এই কুইজ প্রতিযোগিতাও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকায় একটি ইতিবাচক, শিক্ষামুখী পরিবেশ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সবাই। প্রায় প্রতিদিনই পল্লবী ও রূপনগরের মানুষের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে তিনি যে মানবিক নেতৃত্বের উদাহরণ তৈরি করছেন, এটিও তারই ধারাবাহিকতা।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমিনুল হক ভাই থাকলে এলাকায় সবসময়ই উন্নয়ন আর ভালো উদ্যোগের ছোঁয়া পাওয়া যায়। নতুন চিন্তা আর নতুন কাজ— এটাই তাঁর আলাদা পরিচয়।”




ঘুষে চলছে বদলি-বাণিজ্যে: দুর্নীতির দৌড় থামছে না কোথাও

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশের সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গেলে অনেকেই এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। কেউ সরাসরি বলে দেন—“১০ কোটি টাকা দিয়ে এই চেয়ারে বসেছি, টাকা ছাড়া কাজ করানো যাবে না।” কথাটা শুনতে যতটা আগ্রাসী মনে হয়, বাস্তবে এর চিত্র আরও ভয়াবহ। দেশের বহু সরকারি দপ্তরে বদলি-বাণিজ্য যেন ওপেন সিক্রেট—যেখানে পদ, পোস্টিং আর দায়িত্ব সবই নির্ভর করে কে কত টাকা দিতে পারে তার ওপর।

অধিকাংশ মানুষের ধারণা, এসব অনৈতিক কাজ হয়তো নিচের স্তরের কয়েকজন কর্মচারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায় চিত্র একেবারেই উল্টো—সচিব পর্যায় থেকে শুরু করে নিম্নতম স্তর পর্যন্ত অনেক কর্মকর্তা পছন্দের পদে যেতে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করে থাকেন। যিনি লাখ টাকা বা কোটি টাকা দিয়ে কোনো পদে যান, তিনি প্রথম দিন থেকেই সেই বিনিয়োগ তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারপর নিজের ভবিষ্যতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুরু করেন আরও টাকা তোলার পথ খোঁজা—ফলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি তো বাড়েই, সেই অফিসগুলোতে দুর্নীতি মোটেই কমে না।

বিবিএস পরিচালিত সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস)–এর ‘প্রাথমিক প্রতিবেদন ২০২৫’-এ উঠে এসেছে সরকারি সেবার করুণ অবস্থা। জানান হয়েছে—গত এক বছরে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ৩১.৬৭ শতাংশ নাগরিক ঘুষ দিয়েছেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৩৮.৬২ শতাংশ, নারীদের ক্ষেত্রে ২২.৭১ শতাংশ। ঘুষ-দুর্নীতির দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বিআরটিএ (৬৩.২৯ শতাংশ)। এরপর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (৬১.৯৪ শতাংশ), পাসপোর্ট অফিস (৫৭.৪৫ শতাংশ) এবং ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস (৫৪.৯২ শতাংশ)।

টিআইবি পরিচালিত নবম থানা জরিপে পরিস্থিতি আরও মারাত্মকভাবে উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে—দেশে ৭০.৯ শতাংশ খানা কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার। ১৭টি খাতের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। এরপর রয়েছে পাসপোর্ট ও বিআরটিএ। জরিপে অংশ নেওয়া ৭২.১ শতাংশ খানা জানিয়েছেন—ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া যায় না। গড়ে প্রতিটি পরিবার ৬,৬৩৬ টাকা করে ঘুষ দিয়েছে এবং এর মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার ৮৩০ কোটি টাকার মতো—যা কেবলই সরকারি সেবা নিতে গিয়ে জনগণের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও বদলি-বাণিজ্য দীর্ঘদিনের পরিচিত বাস্তবতা। অতীতে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকায় ওসি হতে ১০–১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত লাগে বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনো পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। শুধু ওসি না, এসব থানায় কনস্টেবল হিসেবেও ঢাকায় পোস্টিং নিতে লাখ লাখ টাকা লেনদেন হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন—ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকায় আসতে চাইলে পদভেদে লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত লাগে। স্বাভাবিকভাবেই, ঘুষ দিয়ে পদ পাওয়া অফিসারদের কাছ থেকে সততা বা স্বচ্ছতা আশা করা কঠিন।

ভূমি অফিসের চিত্রও একই। সাব-রেজিস্ট্রাররা এই খাতের মূল ভাগ আদায়কারীর ভূমিকায় থাকেন। তারা সরাসরি জনগণের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন এবং সেই টাকা আবার নির্দিষ্ট নিয়মে উপরের দিকে পৌঁছে যায়। গুলশান, গাজীপুর, রূপগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ—এ ধরনের জায়গার সাব-রেজিস্ট্রার পদ নাকি রীতিমতো নিলামে বিক্রি হয়, কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত দাম ওঠে।

বন বিভাগ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ—এসব দপ্তরের অনেক উচ্চপদে বদলি হতে প্রচুর টাকা লাগে। এমনকি ২০২৩ সালে একটি প্রধান প্রকৌশলীর পদ শত কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছিল বলে জানা যায়। ডাক্তারদের ক্ষেত্রেও ঢাকায় বদলি হয়ে কাজ করতে চাইলে লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।

সবমিলিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট—যেখানে মোটা টাকা দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্বে বসেন, সেখানে সেবা নয়, তাদের মূল লক্ষ্য থাকে কীভাবে বিনিয়োগ করা টাকা তুলবেন আর কতটা বাড়তি আয় করতে পারবেন। ফলে সাধারণ মানুষ পড়ে যায় এক দুষ্টচক্রে—যেখানে ঘুষ, ভোগান্তি আর দুর্নীতি ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না।




ঢাকা কাস্টমস কর্মকর্তা ওয়ালিউল হাসানের দুর্নীতির অভিযোগে কাস্টমসজুড়ে তোলপাড়

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা কাস্টমস হাউসে দায়িত্ব পালন করা রাজস্ব কর্মকর্তা ওয়ালিউল হাসানকে ঘিরে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এখন চর্চার কেন্দ্রে। কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ কিছু সূত্র এবং ব্যবসায়ীদের অভিযোগে জানা যাচ্ছে, তিনি দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত লেনদেন, সুবিধাবাদী সমঝোতা এবং সরাসরি ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের রাজস্বে বড় ধরনের ক্ষতি করেছেন। সম্প্রতি একটি ভিডিওতে তাকে ঘুষ নিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা পুরো বিষয়টিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

ওয়ালিউল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় রয়েছে—শুল্ক ও ভ্যাট কমিয়ে দেওয়ার নামে বিশেষ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া, বাজেয়াপ্ত করা পণ্যের বিনিময়ে গোপনে ‘মুক্তিপণ’ আদায়, কাগজপত্র জালিয়াতি করে আমদানি–রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সুবিধা দেওয়া, এবং সরকারি নথি বা সংবেদনশীল তথ্য প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মহলে সরবরাহের মতো গুরুতর কর্মকাণ্ড। অভিযোগ আছে, তিনি সহকর্মী ও অধস্তন কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করতেন এবং এভাবে ধাপে ধাপে অস্বাভাবিক সম্পদ গড়ে তুলতেন।

কাস্টমসের ভেতর থাকা একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওয়ালিউলের এসব কার্যকলাপ দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ক্ষতি করছে এবং স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশও নষ্ট করছে। ব্যবসায়ী এবং কর্মকর্তা—উভয় মহলেই এখন এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে, আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তে প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।




খুলনায় ওয়ার্ড বিএনপি সহ-সভাপতির মিথ্যা মামলায় হয়রানী চাঁদাদাবি ও জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

খুলনা প্রতিবেদকঃ খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ১০ নম্বর সহ-সভাপতি ফিরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী দাবি করেছেন—দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফিরোজ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন ও বেকার অবস্থায় থেকে নানা প্রতারণার মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ছোট ভাইসহ তিনি জলমা এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতারণার শিকার অনেকেই থানায় ও সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। বরং ফিরোজ বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় থেকে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিয়ে আসছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

৫ আগস্টের পর এলাকায় একাধিক নিরীহ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে চাঁদা দাবি করেছেন ফিরোজ—এমন অভিযোগও উঠেছে। বিগত সরকার আমলে ক্ষমতাসীনদের সাথে থেকে সামান্য অর্থ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে তিনি বিএনপির পদ ব্যবহার করে চাঁদাবাজির নতুন কৌশল নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এলাকার চায়ের দোকানদারদের দাবি, ফিরোজ হোসেন তাদের কাছ থেকে বহু টাকা বাকী নিয়েও ফেরত দেননি। কেউ পাওনা চাইলে উল্টো হুমকি দেয়া হয়। অনেক দোকানদারের পাওনার পরিমাণ ৭ হাজার টাকাও ছাড়িয়েছে।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমন ওকর্ম ও প্রতারককে দলীয় পদে রাখলে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। ভোটেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

অভিযোগ রয়েছে, ফিরোজ হোসেন সম্প্রতি দল ক্ষমতায় এলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা মঞ্জু ও মনা ভাইদের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের স্বপ্ন দেখছেন। পাশাপাশি মিথ্যা মামলা ও জমি দখলের মাধ্যমে এলাকার সৎ মানুষদের হয়রানি করে চলেছেন।

সূত্র জানায়, জুলাই আন্দোলনে পরবর্তী সময় এলাকার কয়েকজন সামান্য দিনমজুর খেটে খাওয়া থেকে শুরু করে একজন সাংবাদিক পরিবার এই নেতার মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তারা এক ভাই মামলা দায়ের করে অন্য ভাই সাক্ষী হিসেবে থাকেন। এই দুই ভাইয়ের প্রতারণার আতঙ্কে রয়েছে খুলনা শহরের অনেকেই।

বিগত কয়েক বছরে তিনি ও তার ছোট ভাই মিলে জমি বিক্রির নামে বহু মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি কিছু জমির মালিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ফিরোজ হোসেনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি—বিএনপি নেতৃত্ব দ্রুত তদন্ত করে এই প্রতারক সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক, যাতে দলের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা পায়।




নবান্নের আবহ নিয়ে চলে এলো অগ্রহায়ণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ টলটলে মুক্তোর মতো শিশির যেন ভোরের আলোর সঙ্গে প্রতিদিন নতুন জন্ম নেয়। ঘাসের ডগায়, ধানের শীষের মাথায় তারা চিকচিক করে ওঠে। দূরদিগন্ত অবধি ছড়িয়ে থাকা ধানক্ষেত তখন সোনালি আভায় দীপশিখার মতো ঝলমল করে। সবুজ স্বপ্নের সঙ্গে হলুদ সোনালি রঙ একাকার হয়ে বাংলার হেমন্তকে সাজিয়ে তোলে এক অপূর্ব মায়াবী আলোয়। অখণ্ড নীল আকাশ, কোমল সোনাঝরা রোদ আর হিমশীতল বাতাস—সব মিলিয়ে প্রকৃতির ভাষা যেন বলে ওঠে, এসেছে অগ্রহায়ণ।

দিনগুলো ছোট হয়ে আসে। শেষ বিকেলে কুয়াশার পাতলা চাদর নেমে আসে নিঃশব্দে, ঠিক শিশিরের মৃদু টুপটাপ শব্দের মতো। নিশিথের গাঢ় নিস্তব্ধতায় সেই শিশির যেন রূপ নেয় অদৃশ্য সংগীতে। আর সে সুরেই ভেসে ওঠে কৃষকের মন—কারণ উঠোনে উঠতে চলেছে নতুন ধানের ম-ম গন্ধ, আসন্ন নবান্নের আনন্দ।

অগ্রহায়ণ মানেই বাংলার অন্ন-উৎসব, কৃষিজীবনকে ঘিরে অনাদিকাল ধরে চলে আসা এক ঐতিহ্যের নবজাগরণ। নতুন আমন ধান ঘরে তুলেই শুরু হয় নবান্ন উৎসব। হিন্দু লোকবিশ্বাসে এই দিনকে ধরা হয় বাৎসরিক মাঙ্গলিক এক শুভক্ষণ হিসেবে। নতুন ধানের ভাত, বিবিধ তরকারি, পিঠেপুলি—সব মিলিয়ে গ্রাম মহল্লা হয়ে ওঠে উৎসবের আসর। অনেক পরিবারে মেয়েদের ডেকে আনা হয় বাপের বাড়িতে; কোথাও হয় মসজিদে শিন্নি বিতরণ, আবার হিন্দু কৃষক পরিবারে চলে পূজার আয়োজন। হিন্দু লোকাচারে পিতৃপুরুষ, দেবতা, এমনকি কাক পর্যন্ত নতুন অন্ন উৎসর্গ করার রীতি আছে। মৃতের আত্মার কাছে খাবার পৌঁছে যায় কাকের মাধ্যমে—এ বিশ্বাসে এই নৈবেদ্য পরিচিত ‘কাকবলী’ নামে।

নবান্নের উচ্ছ্বাস শুধু গ্রামেই থেমে থাকে না। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের নানা প্রান্তে আয়োজন করা হচ্ছে নবান্ন উৎসব। অগ্রহায়ণের প্রথম দিনকে ‘আদি নববর্ষ’ আখ্যা দিয়ে উদযাপনের ডাক দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। দেশের বহু স্থানে বসছে গ্রামীণ মেলা—যেখানে মানবসমাগমে জমে উঠবে মিলনমেলা।

ধান কাটা মৌসুমে কৃষকের ঘর ভরে ওঠে ‘রাশি রাশি ভারা ভারা সোনার ধানে’। কুয়াশাচ্ছন্ন হেমন্তের সকালে ভেসে আসে ধান ভাঙার গান, ঢেঁকির তাল—যদিও যান্ত্রিকতার যুগে ঢেঁকির শব্দ আর অতটা শোনা যায় না, তবু সেই স্মৃতিই হেমন্তকে রাখে চিরন্তন আবহে। নতুন চালের পিঠার জন্য সংগ্রহ হতে থাকে খেজুরের রস; নতুন রস আর নতুন চালের এই যুগলবন্দী যেন বাঙালি সংস্কৃতির এক অমোঘ অঙ্গ।

লোকগবেষকদের মতে, কৃষিনির্ভর সভ্যতা গড়ে ওঠার পর থেকেই চলে আসছে নবান্নের জনপ্রিয়তা। কখনও অগ্রহায়ণই ছিল বাংলা বছরের প্রথম মাস—‘অগ্র’ মানে প্রথম, ‘হায়ণ’ মানে মাস। অতীতে উৎসবটি পালন করতেন মূলত হিন্দু গৃহস্থরা। আমন ধান কাটার পর অগ্রহায়ণ বা পৌষে ঘরে ঘরে জমত নবান্ন। হেমন্তের প্রকৃতি যে কী অদ্ভুত সুন্দর, তা কবি-সাহিত্যিকেরা দীর্ঘকাল ধরেই বর্ণনা করে আসছেন মুগ্ধ কণ্ঠে। জীবনানন্দ দাশের স্বপ্নময় পঙ্‌ক্তি যেন নবান্নকেই স্মরণ করিয়ে দেয়—
‘আবার আসিব ফিরে ধান সিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়/
হয়তো মানুষ নয়—হয়তো শঙ্খচিল, শালিখের বেশে…’।

তার আরেক কবিতায় হেমন্তের প্রাচুর্য ধরা দেয়—
‘চারিদিকে নুয়ে পড়ে ফলেছে ফসল,/
তাদের স্তনের থেকে ফোঁটা ফোঁটা পড়িতেছে শিশিরের জল…।’

বর্তমানে দেশের বহু অঞ্চলে চলছে আগাম আমন ধান কাটা ও মাড়াই। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফসল উৎপাদনের সময়—প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টন আমন উৎপাদিত হয় এই মৌসুমেই। রবীন্দ্রনাথও নতুন ফসলের আনন্দকে তুলে ধরেছিলেন—
‘ধরার আঁচল ভরে দিলে প্রচুর সোনার ধানে।’

অগ্রহায়ণের সঙ্গে শীতের দশ প্রহরণ শুরু হয়। কুয়াশার পর্দা নামতে থাকে ধীরে ধীরে। জীবনানন্দের ভাষা তখন সত্যি হয়ে ওঠে—
‘শিশির পড়িতেছিল ধীরে ধীরে খসে;/
নিমের শাখার থেকে একাকীতম কে পাখি নামি
উড়ে গেল কুয়াশায়— কুয়াশার থেকে দূর-কুয়াশায় আরও।’

হেমন্তের প্রকৃতি, নতুন ধানের গন্ধ, কৃষকের মুখের হাসি—সব মিলিয়ে নবান্ন শুধু একটি উৎসব নয়; এটি বাংলার জীবন-স্পন্দন, বাংলার মাটির সঙ্গে মানুষের শাশ্বত বন্ধনের অবিচ্ছেদ্য উদযাপন।




পে স্কেলের গেজেট না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি সরকারি কর্মচারীদের

ডেস্ক নিউজঃ আগামী সংসদ নির্বাচনের আগেই পে কমিশন বাস্তবায়ন ও নবম পে স্কেল গেজেট জারির দাবি করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তারা।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বলা হয়, পে স্কেল বাস্তবায়ন করা না হলে ১৮ লাখ কর্মচারী নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন প্রায় ১৫ লাখ।

সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সমন্বয়ক মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, ‘পে কমিশন নির্বাচনের আগেই দিতে হবে। এটির বাস্তবায়ন না হলে কর্মচারীরা কঠোর আন্দোলনে যাবে। ১ ডিসেম্বর থেকে যত দিন পর্যন্ত পে কমিশন বাস্তবায়ন না হবে, তত দিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

কর্মচারী নেতারা পে স্কেলসংক্রান্ত অন্যান্য দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করারও দাবি জানিয়ে বক্তারা জানান, ২০১৫ সালের পে স্কেল থেকে বাদ পড়া ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করতে হবে। বেতন জ্যেষ্ঠতা ফিরিয়ে আনতে হবে। সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটির পাশাপাশি পেনশন চালু করতে হবে। বর্তমান গ্র্যাচুইটি হার ৯০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করতে হবে। পেনশন গ্র্যাচুইটিতে প্রতি ১ টাকার সমমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং কর্মচারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ গত বুধবার (১২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী নয়, বরং আগামী নির্বাচিত সরকার নেবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার বেতন কমিশনের প্রতিবেদন (বেতন কাঠামো) চূড়ান্ত করে যাবে।




বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইইউর সমর্থন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বকে স্বাগত

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীন চলমান গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আগামী নির্বাচন আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়েছে ইইউ। 

একইসঙ্গে, সব রাজনৈতিক দলকে গঠনমূলকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে উৎসাহিত করেছে ইইউ।

ইইউ এক ফেসবুক পোস্টে জানায়, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়াকে আমরা সমর্থন করি।’

এতে আরও বলা হয়, ‘আগামী ফেব্রুয়ারিতে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রেক্ষিতে আমরা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বকে স্বাগত জানাই।’

দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইইউ বলেছে, ‘আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে পরবর্তী ধাপে গঠনমূলকভাবে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করছি।’