নতুন পোশাকে মাঠে নেমেছে পুলিশ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের গায়ে নতুন পোশাক উঠেছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশসহ (ডিএমপি) দেশের সব মহানগর পুলিশ ও বিশেষায়িত ইউনিটে নতুন পোশাক পরেছে পুলিশ। তবে জেলা পুলিশ এখনো তা পায়নি। পর্যায়ক্রমে তারাও নতুন পোশাক পাবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠার পর থেকে সমালোচনার মুখে থাকা পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠলে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পোশাক অনুমোদন করে। এরই অংশ হিসেবে মহানগর পুলিশে লৌহ রঙের নতুন পোশাক দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ এই পোশাক পরবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, আজ থেকে সব মহানগরে পুলিশের নতুন পোশাক চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব সদস্য এই পোশাক পাবেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জেলা ও রেঞ্জ পুলিশ পর্যায়ক্রমে নতুন এই পোশাক পরবেন। তবে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) আগের পোশাক থাকবে।

এর আগে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছিলেন, ‘পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। পুলিশের জন্য, র‌্যাবের জন্য এবং আনসারের জন্য। তিনটা সিলেক্ট করা হয়েছে। এটা ইমপ্লিমেন্ট হবে আস্তে আস্তে। একসঙ্গে সব করা যাবে না।’

পোশাকের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মানসিকতারও পরিবর্তন হবে বলে অন্তর্বর্তী সরকার আশা করছে। পুলিশে সংস্কারের উদ্যোগও নিয়েছে এই সরকার। সে জন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করা হচ্ছে।




ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের দিলীপ ও তার স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতির অভিযোগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়াল ও তার স্ত্রী সবিতা আগারওয়ালের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের করা আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, দিলীপ কুমার আগারওয়াল অসৎ উপায়ে আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ১১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। এছাড়া তিনি ও তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। এসব কার্যক্রম মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি দমন আইনের অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।

একইভাবে তার স্ত্রী সবিতা আগারওয়াল অসৎ উপায়ে ৪৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। তিনি ও তার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ৮টি ব্যাংক হিসাবে ২১৩ কোটি ৮ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির এসব অভিযোগের সঠিক অনুসন্ধানের স্বার্থে দিলীপ কুমার আগারওয়ালা ও সবিতা আগারওয়ালার আয়কর নথি জব্দ করা প্রয়োজন।

আদালত শুনানি শেষে দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে ওই দম্পতির আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেন।




0xc6be24ca

0xc6be24ca




পলওয়েল কারনেশন মার্কেটে দুর্নীতি‌র সম্রাজ্য বানিয়েছেন কে এই কবির হোসেন খান

এসএম বদরুল আলমঃ দুর্নীতি ও ক্ষমতার দাপট একটি অপ্রিয় চরম সত্যে রূপান্তরিত হয়েছে, যা সমাজ থেকে সহজে নির্মূল করা সম্ভব নয়। দুর্নীতির কারণে সমাজের প্রশাসনিক এবং সরকারি গোষ্ঠী লাভবান হলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা বর্তমানে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। নতুন ব্যবসা শুরু থেকে পরবর্তীতে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়া ও নেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রথায় পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি, বিশেষ ব্যক্তিকে সহযোগিতা করা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ এবং অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়েছেন পলওয়েল কারনেশন শপিং সেন্টার উত্তরা মার্কেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কবির হোসেন খান নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা।

অভিযোগ অনুযায়ী, কবির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ (যা তিনি উপহার বলেন) পুলিশের নিজস্ব দোকান ও অফিস স্পেস ভাড়া দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া।দোকান ভাড়া ও গোল্ড ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গোল্ড বাকিতে নেওয়া এবং সেই গোল্ড ব্যবসায়ীকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া তার নিজস্ব সিন্ডিকেটের সাথে আলোচনা না করে মার্কেটে কেউ দোকান ভাড়া নিতে পারে না। পুলিশ কর্মকর্তা কবির হোসেনের দুইজন পুলিশের কনস্টেবল’সহ নিজস্ব সিন্ডিকেট দ্বারা বিভিন্ন ভাবে ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের হুমকি ও নানাভাবে হয়রানি’সহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়েছেন এই কবির হোসেন।

পলওয়েল মার্কেট ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, মার্কেটে দোকান মালিকদের নিরুৎসাহী করে দোকান বিক্রি করানো এবং পরবর্তীতে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বায়না করে মোটা অংকের দালালি নিয়ে অন্য জনের কাছে বিক্রি করার সাথে ও জড়িত কবির হোসেন। তার অপকর্মে ভুক্তভোগী হচ্ছেন পলওয়েল মার্কেটের সাধারণ ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকেরা।

 

 

পলওয়েল কারনেশন মার্কেটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ভুক্তভোগী দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পলওয়েল মার্কেট বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম মার্কেট। মার্কেটের ভিতরের বাহিরের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে কিন্তু এই মার্কেটে পরিচালনার দায়িত্বে অতীতে যারা এসেছেন তারা যেমন দুর্নীতিতে এবং নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য কাজ করেছেন একই নীতিতে এই কবির হোসেন ও তার সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে।

তারা আরো বলেন, কবির হোসেন ও তার সিন্ডিকেট পুলিশের নির্ধারিত দোকান অফিস স্পেস ভাড়া দেওয়ার সময়, যারা ভাড়া নিতে আসে তাদের কাছে থেকে মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন কবির সিন্ডিকেট।

মার্কেটে কবির সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন দুইজন কনস্টেবল ও একজন গোল্ড ব্যবসায়ী সাকিব, জানা যায় এই সাকিবের স্ত্রীর সাথে কবির হোসেনের রয়েছে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সাকিবের দোকান থেকে মোটা অংকের গোল্ড নিয়েছেন কবির হোসেন। সাকিবের স্ত্রীর সাথে গভীর সম্পর্ক থাকায় মার্কেটের চতুর্থ তালায় পাঁচটি দোকান ভাড়া নেওয়ার সুবিধা করে দিয়েছেন কবির হোসেন। মার্কেট ব্যবসায়ীরা ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, পাঁচটি দোকানের একটি দোকানের ও সার্ভিস চার্জ ও জমিদারী বিল পরিশোধ করেন না সাকিব এবং উর্মি। চতুর্থ তালার ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সাকিব গত ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে চোরাই গোল্ড বিক্রির দায়ে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। সাকিব চতুর্থ তলায় গোল্ডের ব্যবসার নামে মূলত কিশোর গ্যাং দিয়ে ইয়াবার ব্যবসা পরিচালনা করছেন, চতুর্থ তালায় দোকান ভাড়া নিতে আসলে যেন দোকান ভাড়া না নিতে পারে ব্যবসায়ীরা সেজন্য তাদেরকে নিরুৎসাহী করে ফেরত পাঠান। মার্কেটের চতুর্থ তলায় দোকান ভাড়া নিতে বাধার সৃষ্টি করেন সাকিব।

পলওয়েল মার্কেটের আরেকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আমাদের মার্কেটের বাহিরে দুই সাইডে বড় বড় দুইটি বিলবোর্ড আছে, যেগুলো ভাড়া নেওয়ার জন্য আমি কনস্টেবলদের কাছে যাই, যেন উনারা আমার কাছে এই বিলবোর্ড দুইটি ভাড়া দেন এবং আমরা সুন্দর লাইটিং করে বিলবোর্ড দুইটি চালু করি, যাতে মার্কেটে সৌন্দর্য বাড়ে কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানেও আমার কাছে বড় অংকের টাকা দাবি করেন এই কবির হোসেনের সিন্ডিকেট। পরবর্তীতে আমি এই কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখি।

তরুণ উদ্যোক্তাদের ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও ওঠে কবির হোসেন এর বিরুদ্ধে। তিনি মার্কেটে একটি গ্রুপ সিন্ডিকেটের সাম্রাজ্য তৈরি করেছেন। সুদের ব্যবসা, দোকান ক্রয়-বিক্রয়, কবির হোসেনের কথা মত না চললে চলমান দোকান থেকে উঠিয়ে আরেকজনকে ভাড়া দেওয়ার হুমকি ও দেওয়া হয়। এখানে কবির সিন্ডিকেট সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন, দোকান মালিকদের দোকান ভাড়া না হওয়ায় অনেক দোকানের জমিদারি বিল ও সার্ভিস চার্জ জমে গেছে, সেই দোকান মালিকদের ডেকে ভয় ভীতি দেখিয়ে মার্কেট কখনো জমবে না, এই ধরনের অপপ্রচার করে সেই দোকান তার লোক দিয়ে বায়না করে পরবর্তীতে দালালি করে বেশি টাকায় অন্যত্র বিক্রি করার বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন কবির হোসেন।

এরকম নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। মার্কেটের চতুর্থ তলার কয়েকজন ব্যবসায়ীকে কবির হোসেন বলেন, আমার অনেক পাওয়ার আমার ঘাড়ে হাত দিয়ে পুলিশের ডিআইজিরা মাঠে হাটে আর কথা বলে। পলওয়েল নিয়ে আমি যা বলব তাই হবে এখানে অন্য কেউ ডিস্টার্ব করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। (এই ধরনের এসএমএসের কয়েকটি স্ক্রিনশট সাংবাদিকদের হাতে এসেছে)। কবির হোসেনের অত্যাচার অতিষ্ট হয়ে পুলিশ কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ বরাবর একটি অভিযোগের চিঠি দিয়েছেন ভুক্তভোগী কয়েকজন ব্যবসায়ীরা। কবির হোসেনের নামে চিঠি দেওয়ার কারণে, কবির হোসেন মার্কেটে এসে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ডেকে এনে অনেক ভয়-ভীতি দেখিয়েছে এবং বলে গিয়েছে তারা কিভাবে এই মার্কেটে থাকে সেটা তিনি দেখে নিবে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ীরা অনেক আতঙ্কে মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা যায়।

সরজমিনে মার্কেটে ঘুরে দেখা যায়, পলওয়েল সুন্দর একটি মার্কেটে বড় ধরনের একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন এই পুলিশ কর্মকর্তারা। সিন্ডিকেটের বিষয়টি নিয়ে মার্কেটের অনেক ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কবির হোসেনের ভয়ে মার্কেটে কেউ কথা বলতে পারে না, মার্কেটে বেচা-কেনা খুবই কম, অনেকের তিন মাস, চার মাস এমনকি এক বছর পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ ও জমিদারি বিল বাকি রাখে, যদি কেউ কোন কথা বলে তাহলে সাথে সাথে তার দোকানে লাইন কেটে দেওয়া হয়। যারা কবির হোসেনের সাথে সিন্ডিকেট করে চলেন তাদেরকে সার্ভিস চার্জ জমিদারী বিল বছরে ১ বার দিলেও কোন সমস্যা হয় না বলে জানা যায়।

পলওয়েল সূত্র জানায়, পুলিশ কর্মকর্তা কবির হোসেনের সাথে সু সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন উর্মি। এই উর্মি আক্তার পুলিশ কর্মকর্তা কবির হোসেনের পরিচয় ব্যবহার করে মার্কেটের অন্যান্য উদ্যোক্তাদের দোকান বরাদ্দ নিতে নিরুৎসাহিত করেন। উর্মি আক্তারের কথার অমতে দোকান বরাদ্দ নিলে পুলিশ কর্মকর্তা কবির হোসেন এর পাওয়ারে কিশোর গ্যাং দ্বারা বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং দোকান ছেড়ে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন থাকেন। ভুক্তভোগী একজন নারী উদ্যোক্তা বলেন সাকিব ও উর্মীর‌ অন্যায়ের কোন বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করলেই সাথে সাথে কবির হোসেন ফোন দিয়ে তার কনস্টেবলদেরকে পাঠিয়ে আমাদেরকে হুমকি দেয় এবং পরবর্তীতে বাহিরে থেকে কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের এনে আমাদেরকে হুমকি প্রদান করেন। ভুক্তভোগী মহিলা উদ্যোক্তাকে সাকিব ও উর্মীসহ তার কর্মচারীরা মারতে আসে এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। (হুমকি ও মারতে আসা কিছু ভিডিও ফুটেজ সাংবাদিকদের হাতে এসেছে) এই ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় কিছুদিন আগে একটি অভিযোগ দায়ের করেন মাসুদা নামে একজন উদ্যোক্তা, সেখানেও অদৃশ্য কারণে কবির হোসেন সেই অভিযোগটি আটকে রেখেছেন থানা পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছেন। ভুক্তভোগী মহিলা উদ্যোক্তা মাসুদা পুলিশের হেড অফিস বরাবর ও পলওয়েল কারনেশনের দোকান মালিক সমিতি বরাবর একটি চিঠি দিয়ে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। কিন্তু পলওয়েল হেড অফিস বরাবর যে চিঠিটি দেয়া হয়েছে কবির হোসেন সেই চিঠিটিও আটকে রেখেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছাতে দেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মাসুদা । কবির হোসেন সিন্ডিকেটের সাকিব ও উর্মিকে বাঁচানোর মরন কামড়ে মেতে উঠছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন মার্কেট ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছি আমরা, কোন বিষয়ে প্রতিবাদ করলে দোকানে বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দেয়, থানা পুলিশের ভয় দেখায়, মামলা দিয়ে জেলে ভরে দিবে সেই ভয় দেখায়। বলে ৪-৫ জন পুলিশের ডিআইজির সাথে আমি প্রতিনিয়ত কাজ করি কেউ আমাকে কিছু করতে পারবা না বলেও হুমকি দেয় কবির হোসেন।

মার্কেটের সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুলিশ কর্মকর্তার আশ্রয় প্রশ্রয়ে উর্মি আক্তার প্রভাব এতটাই বেশি যে, কেউ তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিচার পযর্ন্ত দিতে ভয় পায়। জানা যায় সাকিব ও উর্মির গোল্ডের দোকানে চুরি হয়, সে বলে তার দোকানে ৭০ লক্ষ টাকার গোল্ড ছিল, সরজমিনে দেখা যায়, গোল্ড এর চেয়ে তার দোকানে গোল্ড প্লেট বেশি এবং তিনি পুরানো গোল্ড কেনা-বেচা করেন।

প্রতিবেশী দোকান মালিকরা বলেন, সর্বসাকুল্যে তার দোকানে ১০/১৫ লক্ষ টাকার গোল্ড আছে। তিনি ৭০ লক্ষ টাকার গোল্ড ক্রয় করেছেন তার কোন মেমো পাওয়া যায়নি সে দেখাতেও পারবেনা। মার্কেটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোকানে চুরির ঘটনার সম্পূর্ণ সাজানো নাটক এবং সাজানো নাটক কেন্দ্র করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারদের কাছে সহানুভূতি নিয়ে, পলওয়েলের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে নিজে অনৈতিক সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন এই সাকিব ও উর্মি এবং কবির হোসেন সিন্ডিকেট।

কবির হোসেন ও তার সিন্ডিকেটের যন্ত্রণায় অতিষ্ট ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা ফুঁসে উঠেছে যে কোন সময় তারা মানববন্ধন সহ যে কোন আন্দোলনে যেতে পারেন। এবং তারা দাবি করেছেন পলওয়েল কর্তৃপক্ষের কাছে যাতে কবির হোসেন সহ দুইজন কনস্টেবল কে অবিলম্বে এখান থেকে প্রত্যাহার করে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হোক এবং মার্কেটকে বাঁচানোর জন্য পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কাছে আবেদনও করেন।




হিরো আলম গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজঃ দেশের আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম গ্রেপ্তার হয়েছেন। 

শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে স্ত্রী রিয়ামনির দায়ের করা মামলায় তাকে রাজধানীর হাতিরঝিল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

এর আগে হিরো আলমের স্ত্রী রিয়ামনি হিরো আলম ও আহসান হাবিব সেলিমের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেছিলেন।

গত বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামানের আদালত বাদীর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী জিয়াউর রহমান চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আসামিরা জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তারা ঠিকমতো আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন না। এ জন্য আমরা তাদের জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করি। শুনানি শেষে তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।’

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি হিরো আলম ও বাদী রিয়া মনির মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। এরপর হিরো আলম বাদীকে তালাক দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন।

গত ২১ জুন বাদীর পরিবারের সঙ্গে মীমাংসা করার জন্য হাতিরঝিল থানাধীন এলাকায় একটি বাসায় ডাকা হয়েছিল। অভিযোগ করা হয়েছে, সেই সময়ে হিরো আলমসহ ১০-১২ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।

পরে তারা বাদীর বর্তমান বাসায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করে। এই হামলায় বাদীর শরীরে জখম সৃষ্টি হয়। এছাড়াও, এসময় তার গলায় থাকা ‘দেড় ভরি’ ওজনের স্বর্ণের চেইন চুরি করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। এই ঘটনায় গত ২৩ জুন বাদী রিয়া মনি হাতিরঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।




অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় পার্টিকে হাত পা বেধে সাঁতার প্রতিযোগিতায় নামাতে চাইছে- জি.এম কাদের

এসএম বদরুল আলমঃ গতকাল ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ দিনাজপুর জেলায় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সিনিয়র নেতাদের একটি দল নিয়ে দিনাজপুরে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করতে যান। কিন্তু সেখানে এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের বাধা দেয়ার অজুহাতে স্থানীয় প্রশাসন পুলিশের সহায়তায় নিরাপত্তা না দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে বৈঠক করতে বাধা দেয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আশঙ্কা করছি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি পাতানো একতরফা নীলনকশার নির্বাচনের দিকে দেশকে পরিচালিত করছেন। সে নির্বাচনের গ্রহন যোগ্যতা কিছুটা হলেও বাড়াতে, মনে করি জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে একদম বাইরে রাখা সমীচীন মনে করছেন না। তবে, একই সাথে জাতীয় পার্টি যাতে সরকারী দল ও সরকারের পছন্দের দল গুলির জয়লাভে কোন ঝুকি তৈরি করতে না পারে সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন। সে উদ্দেশ্যে নানা বাধা বিপত্তি সৃষ্টি করে জাতীয় পার্টি যাতে নির্বাচনে স্বাভাবিক পরিবেশ না পায় সে বিষয়ে সচেস্ট।

তিনি বলেন, অবস্থাদৃষ্টে ধারনা করি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় পার্টিকে হাত পা বেধে সাঁতার প্রতিযোগিতায় নামাতে চাইছেন। একইভাবে গত ৭ নভেম্বর শুক্রবার কেরানীগঞ্জের স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলার এক কর্মী সমাবেশ এবং ১২ নভেম্বর ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রথমে এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদ বাধা দেয় পরে পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে বরং সমাবেশ বন্ধ করে দেয়।
এর আগে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ন কর্মী সমাবেশ পুলিশ বিনা উস্কানিতে পন্ড করে দেয়।

জাতীয় পার্টির কার্যক্রম স্থবির করতে সরকারের মদতে সারা দেশের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হচ্ছে। একাধিক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান সহ অনেক জেষ্ঠ্য নেতাদের বিরুদ্ধে।

দোষী সাব্যস্ত না হওয়া সত্বেও মিথ্যা মামলায় এখনো এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাভোগ করছেন জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা এ এন এম সেলিম। তারা একটি মামলায় জামিন পেলেও আবার নতুন করে আরেকটি মামলা দেয়া হচ্ছে বা মামলায় অজ্ঞাতনামা তালিকায় শোন এ্যারেষ্ট দেখিয়ে তাদেরকে কারাগারে আটকে রাখা হচ্ছে।

সরকারের উপরোক্ত কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত একটি ঐতিহ্যবাহী পুরনো দল। সারা দেশব্যাপী এ দলের সংগঠন আছে। এ দলের জন সমর্থন আছে ব্যাপক। জাতীয় পার্টির আছে দীর্ঘ দিনের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা। দেশ ও জাতির কল্যানে জাতীয় পার্টির অনেক উন্নয়নমূলক ও সংস্কার কার্যক্রম এখনও দেশবাসী কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরন করে। এ দলটি সব সময় জনগনের সঙ্গে ছিল, আছে ও ভবিষ্যতেও থাকবে।

ফলে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মানুষের অধিকার হরন ও প্রচলিত আইনের অপ্রয়োগ করে জাতীয় পার্টির প্রতি দমন নিপীড়নের ফল দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক হবে না। এ সকল সব ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান।




গণপূর্ত অধিদপ্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনায় ‘মিথ্যা প্রচারণা’: নতুন প্রধান প্রকৌশলীর পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ পুরনো সিন্ডিকেট

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরে নতুন প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব ও অনলাইন পোর্টালে “বদলি-বাণিজ্য” সংক্রান্ত মিথ্যা প্রচারণা শুরু হয়েছে। অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পথে বাধা সৃষ্টি করা।

প্রধান প্রকৌশলী ২৮ অক্টোবর গণপূর্তে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দায় জন্মগ্রহণ করেন, নাজিমুদ্দিন স্কুল ও রাজেন্দ্র কলেজে পড়াশোনা করেছেন। স্নাতক করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (CUET) থেকে এবং পরবর্তীতে Monash University থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী অফিস-পরিকল্পনা, আর্থিক নথি, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার ফলে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, লুটপাট এবং সুবিধাবাদী সিন্ডিকেটের কার্যক্রম কঠোরভাবে সীমিত হচ্ছে।

অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, “যারা বছরের পর বছর অনিয়মে অভ্যস্ত ছিলেন, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি চিৎকার করছে।” অন্যদিকে প্রধান প্রকৌশলী নিজেও বলেছেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। আমি মিথ্যা প্রচারণার জবাব দিয়ে দেশের উন্নয়নের পথে কাজ চালিয়ে যাব।”

অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বদলি ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস সম্পূর্ণ আইনানুগ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পভিত্তিক কাজের মান, সময় ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবলকে উপযুক্ত স্থানে নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো আর্থিক লেনদেন বা সিন্ডিকেটের প্রভাবের প্রশ্নই ওঠে না। বরং বদলি-বাণিজ্যের গুজব ছড়িয়ে কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তা নিজেদের অবস্থান রক্ষার চেষ্টা করছেন।

মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে গণপূর্ত অধিদপ্তরে কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও পেশাগত দক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ইতোমধ্যেই Several দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ম শনাক্ত ও সংস্কারের পথে নিয়ে গেছে। অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একমত যে, এই পদক্ষেপ গণপূর্ত অধিদপ্তরকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবে।

অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “যারা পুরনো সুবিধাবাদী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা এই শুদ্ধি অভিযানে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে। তবে দেশের স্বার্থে এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।”

বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগকে কেবল প্রভাব হারানো একটি গোষ্ঠীর অসার চিৎকার হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা নৈতিকভাবে ভ্রান্ত, বাস্তবিকভাবে মিথ্যা এবং প্রশাসনিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। গণপূর্ত অধিদপ্তর এখন স্বচ্ছ ও পেশাদার প্রশাসনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী।




ক্ষমতার রং বদলে বাঁচতে চাওয়া আবু সায়েম জুয়েলের অতীত-বর্তমানের চমকানো কাহিনি; ১৬ বছর সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা জুয়েলের হঠাৎ ‘বিরোধী সাজা’ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী এ এস এম আবু সায়েম জুয়েল—একসময়ের ক্ষমতাবান একজন সরকারি কর্মকর্তা, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে স্বৈরাচার সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট আন্দোলনের পর সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই তার আচরণে দেখা যায় নাটকীয় পরিবর্তন। যিনি আগে বঙ্গবন্ধু পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং নিয়মিত “জয় বাংলা” লেখা স্ট্যাটাস দিতেন, হঠাৎ করেই নিজেকে আওয়ামীবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করতে শুরু করেন। নিজের অতীত ঢাকতে যেন নতুন মুখোশ পরে মাঠে নামলেন তিনি।

ছাত্রজীবনে ছিলেন কুখ্যাত ছাত্রলীগ ক্যাডার। ২০০৬ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ঢাকা শহরের বিভিন্ন ডিভিশনে ঘুরে ঘুরে তৈরি করেন নিজের এক প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক। ঠিকাদার থেকে শুরু করে অফিসের করিডর—সবখানেই তার নাম উচ্চারিত হতো ভয় আর বিতর্কের সঙ্গে। অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ বছরে নাম-বেনামে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন তিনি—বাড়ি, প্লট, গাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট—সবই ক্ষমতার আড়ালে করা অনিয়মের ফল বলে সহকর্মীদের দাবি।

তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমুর আত্মীয় পরিচয় দেখিয়ে জুয়েল পূর্ত অধিদপ্তরে ছিলেন এক ‘অঘোষিত সম্রাট’। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে সাধারণ কর্মচারী—যার সঙ্গেই তার বিরোধ হতো, গালি-হুমকি আর হয়রানি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। কয়েকজন প্রকৌশলী অভিযোগ করেছেন, তাকে প্রতিবাদ করলে তারা শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন।

এমনকি বদলিকেও তিনি বানিয়েছিলেন নিজের ক্ষমতা দেখানোর হাতিয়ার। গত ৩ জুলাই প্রধান প্রকৌশলীর আদেশে যখন তাকে রেলওয়ে ডাইভারশন উপবিভাগে বদলি করা হয়, তখনো তিনি ঢাকার বাইরে না গিয়ে রাজধানীতেই থেকে যান। একাধিক সূত্র বলছে, এই বদলির পেছনে ভূমিকা ছিল ছাত্র উপদেষ্টা হাসনাত আব্দুল্লাহর শ্বশুরের। এমনকি একজন জামায়াত নেতা পর্যন্ত তার পক্ষে সুপারিশ করেছেন—যা এখন পুরো অধিদপ্তরে আলোচনার বিষয়।

অন্যদিকে, যিনি আগে বুকে নৌকার ব্যাজ ঝুলিয়ে মন্ত্রণালয়ে ঘুরতেন, বঙ্গবন্ধুর মাজার সফরে নিয়মিত অংশ নিতেন, তিনিই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ করেই বিরোধী দলের মতাদর্শ ছড়াচ্ছেন। সহকর্মীদের চোখে বিষয়টি মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাদের মতে, পরিস্থিতি বদলেছে দেখে তিনি শুধু নিজের অতীত পাপ লুকানোর চেষ্টা করছেন।

ঠিকাদারদের সঙ্গে তার লেনদেন নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। সচিবালয় ও মিরপুর ডিভিশনে দায়িত্বে থাকার সময় চুক্তিমূল্যের বড় অংশ নিজের পকেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কেউ বিল নিতে গেলে তার প্রথম কথা ছিল—“কাজ শেষ, এখন টাকা দাও।” পাইকপাড়া ও শিয়ালবাড়ির বড় প্রকল্পগুলোতেও কাজ না হয়েও অগ্রিম বিল তুলে নেওয়া হয়েছিল—যার পেছনে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে বলে অভিযোগ।

বর্তমানে রেলওয়ে ডাইভারশন উপবিভাগের ২নং শাখায় থাকা অবস্থায়ও তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডিএমপি ডেমরা পুলিশ লাইনসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পে কর্তৃত্ব বিস্তার করেছেন। আরও দুইটি বড় প্রকল্প তার হাতে যাওয়ার অপেক্ষায়, এবং সূত্র বলছে—এই পোস্টিং টাকায় কেনা।

এমনকি ২০২৪ সালের ছাত্র জনতার আন্দোলন দমনে তিনি নেপথ্যে থেকে অনিয়মে জড়িত ছিলেন। রামপুরা, বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় ছাত্রলীগ ক্যাডারদের সহায়তায় তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কিন্তু এখন সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে তিনিই হঠাৎ বিরোধী সেজে ঘুরছেন। যেন নিজের অতীত ভুলে গেছে সবাই। অথচ পূর্ত অধিদপ্তরের সাধারণ প্রকৌশলীরা জানেন, মুখ হয়তো বদলেছে—কিন্তু স্বভাবের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। তিনি এখনও সেই ক্ষমতালোভী, প্রভাবশালী, বিতর্কিত জুয়েলই রয়ে গেছেন। একজন উপসহকারী প্রকৌশলী হয়েও যেন পুরো অধিদপ্তরের অঘোষিত ‘রাজা’।

তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ জানতে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনেই তিনি ফোন কেটে দেন এবং আর কোনো জবাব দেননি।




0xfe2e9125

0xfe2e9125




0xc6b6fbc7

0xc6b6fbc7