মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় অস্বীকার করলেন শেখ হাসিনা

ডেস্ক নিউজঃ গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ওঠা মানবতাবিরোধী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পূর্বনির্ধারিত রায়ের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিবিসিকে ই-মেইল দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার অনুপস্থিতিতে যে বিচার চলছে, তা ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের সাজানো প্রহসন’ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি আরও জানান, তার আইনজীবী বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন দমনে হত্যায় উসকানি, প্ররোচনা এবং ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’সহ পাঁচ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের দাবি করা হয়েছে। একই মামলায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি করা হয়েছে। প্রসিকিউশন কামালের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে।

শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আন্দোলন দমনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেও তিনি কখনো নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি। তিনি এই মামলাকে রাজনৈতিকভাবে ‘আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশন এবং বিবিসি রিপোর্ট অনুসারে, ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১,৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। তবে হাসিনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তার ব্যক্তিগত কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং কোনো কর্মকর্তার দায় থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।

আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই জাতিসংঘে ট্রাইব্যুনালের বিচার ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। মামলার প্রক্রিয়া চলাকালীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় দলটি আগামী ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

শেখ হাসিনার অবস্থান অনুযায়ী, এই মামলা ও অন্যান্য মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি দাবি করছেন, তার বিরুদ্ধে যেকোনো দোষ প্রমাণ করতে হলে তা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে করা উচিত।




নারীদের বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়নের চিন্তা করলে ভুল হবে: সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজঃ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের যদি ৫০ ভাগ নারী হয়,আর তাদের ছাড়া যদি আমরা চিন্তা করি দেশ এবং জাতি উন্নয়নের শিখরে উঠে যাবে তাহলে সেটা একটা ভুল হবে।  

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান এটি। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আজ দ্বিতীয় দিন ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পুনর্মিলনী প্যারেডে সালাম গ্রহণ করেন। তিনি প্যারেডে অংশগ্রহণকারী ক্যাডেট ও প্রাক্তন ক্যাডেটদের সফলতা ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সেনাপ্রধান বলেন, আমরা অনেকেই স্বশিক্ষিত হই কিন্তু সুশিক্ষিত হই না। আমরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো রেজাল্ট, পিএইচডি করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে চলে যাই। কারও কারও নৈতিকতার অভাবের কারণে আমরা খুব একটা ভালো কাজ করতে পারি না। নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ভালো ছাত্র, ভালো রেজাল্ট হলেই হবে না। আমাদের সবাইকে ভালো মানুষ হতে হবে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, প্রাক্তন ও বর্তমান ক্যাডেটদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন সেনাপ্রধান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আরিফুল হক, জয়পুরহাট প্রাক্তন ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মৌসুমী শিখা।

এ সময় অনুষ্ঠানে ১১ পদাতিক ডিভিশন ও বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহাম্মেদ, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের স্ত্রী কমলিকা জামান, জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আব্দুল ওয়াহাব, জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তা, অভিভাবকবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না আওয়ামী লীগ: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে কার্যক্রম স্থগিত থাকার কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। 

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকা থেকেও বাদ দিয়েছে। তিনি বলেন, আগের ১৬ বছরে ‘দুঃশাসনের’ সময় যে তিনটি বিকৃত নির্বাচনে অসংখ্য তরুণ ভোট দিতে পারেননি, এবার ১০ লাখ নতুন ভোটার প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে ইউনূস বলেন, নির্বাচন হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক; ভোটার উপস্থিতিও হবে ব্যাপক।

জুলাই সনদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য ‘এক নতুন সূচনা’, যা গত বছরের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া লাখো মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করবে।

বৃহস্পতিবার যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন ছাড়াও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, রোহিঙ্গা সংকট এবং বিমান ও সামুদ্রিক খাতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ব্রিটিশ মন্ত্রী চ্যাপম্যান প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার বৈধ চ্যানেলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘শিবিরের যুবকেরা আশাহীন হয়ে বড় হচ্ছে—রাগান্বিত এবং হতাশ। তাদের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।’

ঢাকা–লন্ডন বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হয়। ইউনূস জানান, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক গবেষণার জন্য বাংলাদেশ একটি ব্রিটিশ গবেষণা জাহাজ কিনছে। ব্রিটিশ মন্ত্রী জানান, এয়ারবাস ইন্টারন্যাশনালের প্রধান শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন।

বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি কো-অর্ডিনেটর লামিয়া মোর্শেদ এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক উপস্থিত ছিলেন।




এলজিইডির প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদারকে ঘিরে দুর্নীতি–বদলি তদবিরে ঝড়, একের পর এক প্রকল্পে অর্থ লোপাটের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদারকে ঘিরে দপ্তরজুড়ে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, ঘুষের লেনদেন, টেন্ডার কারসাজি, নিয়োগ–বদলি তদবির থেকে শুরু করে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে তার অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ আছে, সেই সংবাদ ঠেকাতে ফিরোজ আলম তালুকদার প্রতিবেদককে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন, যার জের ধরে শেরেবাংলা নগর থানায় জিডিও করা হয়েছে (জিডি নং—৭১৪/২৫)।

ফিরোজ আলম তালুকদার দীর্ঘদিন ধরেই এলজিইডির বিতর্কিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১৫ সালে তাকে অবৈধ সম্পদ ও কর ফাঁকির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সে সময়ও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছিল, কিন্তু রাজনৈতিক সুরক্ষার কারণে কোনো ব্যবস্থা হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহেদুর রহমানের আমলে পদোন্নতির নামে কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যে ফিরোজের বড় ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ রাজিবকে ঘিরেও গড়ে ওঠে এক প্রভাব বলয়। রাজিবের স্ত্রী পুলিশের এসআই হওয়ায় এবং গণভবনে দায়িত্বে থাকার কারণে এই প্রভাব আরও শক্ত হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গণভবনের নাম ব্যবহার করে দপ্তরে এমন পরিবেশ তৈরি করেছিলেন যেন তার কথাই ‘তথাকথিত ওপরের নির্দেশ’। ফিরোজ–রাজিব জুটির বিরুদ্ধে নানা প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, অতিরিক্ত বিল, কাগজে-কলমে দেখানো কাজ এবং কোটি কোটি টাকার লোপাটের উঠেছে।

সরকার পরিবর্তনের পর দপ্তরে প্রবেশ করলে ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা ফিরোজকে লাঞ্ছিতও করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি গোপনে অফিসে যাতায়াত করতে বাধ্য হন। বর্তমানে তাকে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়মের প্রমাণও পাওয়া গেছে। দেবীনগর–হাশেম মাদবর সড়ক প্রকল্পে রাস্তা অর্ধেক কাজ হওয়ার পরও ৩৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের অভিযোগ আছে। ওই বিল অনুমোদনে হানিফ মোহাম্মদ মুর্শিদী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ রাজিবের সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে। রাধানগর–কৃষ্ণদেবপুর সড়ক প্রকল্পে ১ কোটি ২২ লাখ টাকার কাজ দেখিয়ে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত বিল নেওয়া হয়, যদিও মাঠে কাজই হয়নি। একইভাবে বান্দুরা–বারুয়া–শিকারীপাড়া সড়ক প্রকল্পে ৩২ লাখের বেশি অগ্রিম টাকা তোলা হলেও কাজের শুরু পর্যন্ত হয়নি, ফলে চুক্তি বাতিল করতে হয়।

অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে, ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নকশা পরিবর্তনের বিনিময়ে ফিরোজ আলম তালুকদার তিন বিঘা জমি নিয়েছেন। একাধিক সূত্র বলছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ নাসিমের নাতি অথবা ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিতে নিজের অবস্থান প্রভাবশালী করে রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেক্রেটারি পরিচয়ও কাজে লাগাতেন নিয়মিত।

ক্ষমতার রদবদলের পর এখন তিনি নতুন মোড়কে তদবির বাণিজ্য শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়িয়েও নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। সত্যতা জানতে চাইলে ফিরোজ আলম তালুকদার প্রতিবেদকের প্রতি উত্তেজিত আচরণ করেন এবং বলেন— “কাজ না করেই বিল দেওয়ার দায় শুধু আমার নয়, থানা ইঞ্জিনিয়ারসহ অন্যদের কাছেও জানতে হবে।”

এলজিইডির ভেতরে-বাইরে সচেতনরা বলছেন, ফিরোজ আলম তালুকদার শুধু একজন প্রকৌশলী নন—তিনি যেন এক অঘোষিত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। এসব অভিযোগের সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও নষ্ট হবে—এমন মন্তব্য করেছেন অনেকেই।




গণপূর্তে কোটি টাকার দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ: প্রকৌশলী রাকিবুলের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইডেন গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিস্তৃত দুর্নীতি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজস্ব প্রভাব ও সুবিধা আদায়ে নানা ধাপেই চাপ প্রয়োগ করছেন, যার মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া, কাজের বিল পরিশোধ, উপকরণ সরবরাহ অনুমোদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অন্তর্ভুক্ত।

ঠিকাদারদের মতে, কোনো প্রকল্পের প্রকৃত মূল্য অনুযায়ী কমিশন না দিলে ফাইল আটকে রাখা, মাপ-জোক যাচাইয়ে অযথা জটিলতা সৃষ্টি করা এবং রাজনৈতিক নাম ব্যবহার করে চাপ প্রয়োগ করা তার একটি নিয়মিত কৌশল। কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “যে কাজের প্রকৃত মূল্য ৫০ লাখ, সেখানে অতিরিক্ত কমিশন হিসেবে ৫ থেকে ১০ শতাংশ দাবি করা হয়।” ফলে যারা ঘুষ দিতে অনিচ্ছুক, তারা প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েন।

স্থানীয় সূত্র বলেছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রাকিবুলের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা ও ‘নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার’-দের জন্য সুবিধা সৃষ্টির চেষ্টা স্পষ্ট ছিল। ঠিকাদার সম্প্রদায়ের একাংশ অভিযোগ করেছেন, টেন্ডার-বাণিজ্যের পাশাপাশি নিয়মিত বদলি, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড়, উপকরণ সরবরাহ অনুমোদনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও তিনি রাজনৈতিক সুপারিশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। এতে শুধু কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, প্রকল্পের গুণগত মানও হ্রাস পাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগের শাসনামলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। জানা গেছে, তেজগাঁও গণপূর্ত উপবিভাগে কাজ করার সময় রাকিবুল কোনো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পে সুযোগ দেননি, বরং নিজেই ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেছেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘দেশ উন্নয়ন’-কে বিশ কোটি টাকার ভুয়া ভেরিয়েশন দেখিয়ে দুই কোটি টাকা কমিশন নেওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। এছাড়া তেজগাঁও বিসিক ভবন নির্মাণের সময় বেজমেন্টে নানা ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তিনি উৎকোচ নিয়ে ছাড়পত্র দিয়েছেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘কুশলী নির্মাতা’ নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করেও রাকিবুলকে ৫ শতাংশ কমিশন প্রদান করে সম্পূর্ণ বিল পেয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল হাসান তেজগাঁও গণপূর্ত উপবিভাগে শিল্প প্লট ও উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অবৈধ অর্থ দিয়ে ঢাকায় জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয়, কুমিল্লা শহরে দশ কাঠা জমি এবং গাজীপুরে ত্রিশ একর জায়গার উপর একটি রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া গণপূর্তে গুঞ্জন রয়েছে যে, দেশের বাইরে সিঙ্গাপুরে তিনি কয়েক শত কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করেছেন।

উল্লেখযোগ্য, বর্তমানে রাকিবুল নিজেকে একপি রাজনৈতিক দলের অর্থদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জানা গেছে, তিনি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদায়নের জন্য দলের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনে অর্থ দান করছেন।

গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, মাঠ পর্যায়ে সরকারি দরপত্রের কাজ সঠিকভাবে হয়েছে কিনা, গুণগত মান যাচাইসহ বিভিন্ন কাজ সচরাচর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাকিবুল নিজস্ব সুবিধার জন্য কমিশন ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন ত্রুটিপূর্ণ কাজের ছাড়পত্র দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি নির্মাণ কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আচরণ কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা জরুরি। প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা উচিত। পাশাপাশি ঘুষের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি এবং নিয়মিত অডিট ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রাকিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো প্রতিউত্তর পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিবেদককে বিভিন্ন মহল থেকে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে।




ঝিলপাড়ে জনসমুদ্র—ঢাকা-১৫ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের মতবিনিময় সভা

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা-১৫ আসনের অধীনস্থ ১৩ নং ওয়ার্ডের পীরেরবাগ (ঝিলপাড়) এলাকাবাসীর সাথে এক প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বসিত মতবিনিময় সভা করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ঝিলপাড় পরিণত হয় মিল্টন সমর্থনে এক আবেগঘন মিলনমেলায়।

সভামঞ্চে বক্তারা মিল্টনের দীর্ঘদিনের গণসংযোগ, এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক, ও উন্নয়ন–অঙ্গীকার তুলে ধরেন। এলাকাবাসীও তাদের প্রত্যাশা, সমস্যাবলি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দাবি মিল্টনের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন।

জনগণের ভালোবাসায় অভিভূত মিল্টন ঢাকা-১৫’কে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও সেবামুখী আসন হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।




ময়মনসিংহ-৮ এ বিএনপি প্রার্থী লুৎফুল্লাহ মাজেদকে ঘিরে দুর্নীতি ও বিতর্কের ঝড়

এসএম বদরুল আলমঃ ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক লুৎফুল্লাহ মাজেদকে ঘিরে দলে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন নেওয়া, সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি, ব্যবসায়িক প্রতারণা এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, লুৎফুল্লাহ মাজেদ তাঁর মালিকানাধীন কোম্পানি অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন টেন্ডারে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এ সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে বিচারাধীন, যার কার্যক্রম ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে চলছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়িক প্রতারণার অভিযোগেও তিনি একদিন একরাত ডিবি হেফাজতে ছিলেন।

স্থানীয় বিএনপি ও এলাকাবাসীর দাবি— বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি মনোনয়ন ‘ম্যানেজ’ করেছেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএনপির হাইকমান্ড ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, নিজের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলা ‘ঢাকতে’ তিনি সম্প্রতি ঢাকায় একটি সাজানো আয়না ঘরের নাটক আয়োজন করেন। এলাকাবাসীর দাবি— নাটকটি ছিল শুধুই জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার কৌশল। বিষয়টিও বিএনপির কেন্দ্রীয় তদন্তের আওতায় এসেছে।

আসামির রাজনৈতিক অতীত নিয়েও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ২০০৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফর্ম কিনেছিলেন।

২০১০ সালে তিনি ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় পার্টির ১৭ নম্বর সদস্য ছিলেন।বিএনপির ত্যাগী নেতাদের অভিযোগ— তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো বিএনপিতে যোগদান করেননি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, জাতীয় পার্টির সক্রিয় সদস্য হয়ে কিভাবে তিনি বিএনপির উপজেলা কমিটি ও সংসদীয় মনোনয়ন লাভ করলেন?

কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়— ময়মনসিংহ-৮ ছাড়াও মাদারীপুর-১ ও ৩, কুষ্টিয়ার দুটি, ভোলার একটি এবং চট্টগ্রামের দুটি আসনসহ মোট প্রায় ৩০টি আসনে অভিযোগ জমা পড়েছে।

“যেখানে অভিযোগ এসেছে, সরেজমিন যাচাই-বাছাই চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের মনোনয়ন স্থগিত বা বাতিল করা হবে।”




দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের

এসএম বদরুল আলমঃ আজ এক বিবৃতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, তিনি বলেন, সারাদেশে আশঙ্কা জনকভাবে খুন জখম ও রাহাজানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দেশের মানুষ আজ তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত। নদীতে ফেলে দেয়া লাশের পাশাপাশি আজ জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পাশে ২৬ টুকরা লাশের সন্ধান মিলেছে।

রাজশাহীতে দায়রা জজ আদালতের বিচারকের বাসায় ঢুকে তার ছেলেকে হত্যা এবং স্ত্রীকে জখম করা হয়েছে। প্রতিদিন খবরের কাগজে এইরকম হত্যাকান্ডের খবর আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।

তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সহ দেশের সাধারন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।




ক্যাটরিনার সঙ্গে গোপন প্রথম সাক্ষাতের কথা প্রকাশ করলেন ভিকি

বিনোদন ডেস্কঃ বলিউডের জনপ্রিয় জুটি ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনা কাইফের ব্যক্তিজীবন বরাবরই ছিল আড়ালে। প্রেম থেকে বিয়ে—সবই হয়েছে নিভৃতে। সন্তানের জন্মের পর এবার স্ত্রী ক্যাটরিনাকে নিয়ে প্রথমবার খোলামেলা কথা বললেন ভিকি।

সম্প্রতি তিনি ‘টু মাচ উইথ টুইঙ্কল অ্যান্ড কাজল’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জানান, কীভাবে তার জীবনে আসেন ক্যাটরিনা। ভিকির জানায়, তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। সেখানে তিনি সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন, আর ক্যাটরিনা মঞ্চে পারফর্ম করছিলেন। ব্যাকস্টেজে অভিনেতা সুনীল গ্রোভার তাদের পরিচয় করিয়ে দেন।

প্রথম দেখার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে ভিকি বলেন, “মঞ্চে ‘ছিকনি চমেলি’ গানে ওর সঙ্গে নাচ করেছিলাম। পরে ব্যাকস্টেজে দেখা হতেই ক্যাটরিনা আমাকে শেখাতে শুরু করল, কীভাবে সঞ্চালনা করতে হয়—যদিও তখন আর কিছুই করার ছিল না, শুধু ‘গুড নাইট’ বলাটাই বাকি।”

এটাই ছিল প্রথম আলাপ। এরপর আরেকটি পুরস্কার অনুষ্ঠানে দ্বিতীয়বার দেখা হয় তাদের। সেখানেই এক স্ক্রিপ্টেড পর্বে মজার ছলে ক্যাটরিনাকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়ে ফেলেন ভিকি। তিনি বলেন, “আমি মঞ্চে বলেছিলাম, ‘ক্যাটরিনা, তুমি কেন ভিকির মতো একজন ভালো মানুষকে বিয়ে করছ না?’ তখন আমরা কেউই কাউকে ডেট করছিলাম না। কিন্তু মুহূর্তটাই ভাইরাল হয়ে যায়।”

মজার সেই পর্ব থেকেই ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনে শুরু হয় তাদের সম্পর্ক। কিছুদিন গোপনে প্রেমের পর ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজস্থানের সিক্স সেন্সেস ফোর্ট বারওয়ারায় ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করেন তাঁরা। পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় বিবাহ।

এরপর থেকে সংসার গুছিয়ে নিয়েছেন ভিকি-ক্যাটরিনা। সম্প্রতি তাদের সংসারে এসেছে নতুন সদস্যও। এখন আর আগের মতো লুকোচুরি নয়, ব্যক্তিজীবন নিয়েও খোলামেলা হতে দেখা যায় ভিকি কৌশলকে।




স্থগিত হলো জেমস–আলী আজমতের বহুল প্রতীক্ষিত কনসার্ট

বিনোদন ডেস্কঃ জনপ্রিয় রকস্টার জেমস ও পাকিস্তানের সুফি-রক ঘরানার শিল্পী আলী আজমতের কনসার্ট অনুমতি না পাওয়া কারণে স্থগিত করা হয়েছে।

‘লেজেন্ডস লাইভ ইন ঢাকা’ শীর্ষক এই আয়োজনটি স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় আয়োজকরা অনুষ্ঠানটি স্থগিত করেছে।

শুক্রবার কনসার্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠান অ্যাসেন কমিউনিকেশন সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

সংস্থাটি জানায়, “কিছু অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে আজকের শো ‘আলী আজমত এক্স জেমস-লেজেন্ডস লাইভ ইন ঢাকা’ স্থগিত করা হয়েছে।”

আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে যে, তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কনসার্টটি আয়োজনের চেষ্টা করছেন। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতির অভাবেই অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে হয়েছে।

অ্যাসেন কমিউনিকেশন বিজ্ঞপ্তিতে টিকিট ক্রেতা, স্পন্সর এবং স্টল মালিকদের ধৈর্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে। কনসার্টের নতুন তারিখ ও স্থান সম্পর্কে খুব শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে। টিকিট ক্রেতারা নতুন তারিখে সেই টিকিট ব্যবহার করতে পারবেন অথবা ফেরত নিতে পারবেন।

১৯৯১ সালে প্রকাশ পায় সুফি ঘরানার ব্যান্ড জুনুনের প্রথম অ্যালবাম ‘জুনুন’। এরপর ‘তালাশ’, ‘ইনকিলাব’, ‘আজাদি’সহ মোট ৯টি অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে ব্যান্ডটির। শুরু থেকেই জুনুনের সঙ্গে আছেন আলী আজমত। ব্যান্ডের পাশাপাশি তিনি এককভাবে গেয়েছেন বলিউডেও।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলায় অবস্থিত ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে কনসার্টটি আয়োজন করেছিল অ্যাসেন কমিউনিকেশন।