“কলকাতার নতুন ভরসা শেন ওয়াটসন!”

খেলাধুলা ডেস্কঃ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসনকে আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। নতুন দায়িত্বে তিনি কাজ করবেন প্রধান কোচ অভিষেক নায়ার এবং দলের মেন্টর ডোয়াইন ব্রাভোর সঙ্গে।

ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, ওয়াটসনের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের সাবেক পেসার টিম সাউদিও যুক্ত হয়েছেন কেকেআরের কোচিং সেটআপে। গত মৌসুমে সপ্তম স্থানে থেকে আইপিএল শেষ করার পর দলটি তাদের কোচিং প্যানেলে বড় পরিবর্তন এনেছে।

ওয়াটসন কেকেআরের অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলেন,’কলকাতা নাইট রাইডার্সের মতো প্রতীকী একটি দলের অংশ হতে পারা আমার জন্য বিশাল সম্মানের। কেকেআর সমর্থকদের আবেগ এবং দলের সাফল্যের প্রতি তাদের নিবেদন আমাকে সবসময়ই অনুপ্রাণিত করেছে। আমি কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে কলকাতায় আরেকটি শিরোপা এনে দিতে চাই।’

এটি ওয়াটসনের দ্বিতীয় আইপিএল কোচিং দায়িত্ব। এর আগে তিনি ২০২২ ও ২০২৩ মৌসুমে দিল্লি ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন রিকি পন্টিংয়ের অধীনে।

অন্যদিকে, টিম সাউদি সম্প্রতি ইংল্যান্ড দলে পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও অংশ নিয়েছেন।




“চিলিকে পেছনে ফেলে বিশ্বে দ্বিতীয় সুন্দরী মিথিলা”

বিনোদন ডেস্কঃ ১২১টি দেশের প্রতিযোগীদের নিয়ে থাইল্যান্ডে শুরু হয়েছে ‘মিস ইউনিভার্স’-এর ৭৪তম আসর। প্রতিযোগীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের আয়োজন করেছে আয়োজক সংস্থা। একই সঙ্গে চলছে ভোটও। ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ভোট চলবে ভোট। বিশ্বের ১৩০ প্রতিযোগীদের মধ্যে কার মাথায় মুকুট উঠছে, তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। এবারের আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তানজিয়া জামান মিথিলা। এরইমধ্যে মডেলিং ও অভিনয় দিয়ে বেম জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি।

‘পিপলস চয়েস’ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি তানজিয়া জামান মিথিলা চমক দেখিয়েছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মিথিলা ২ লাখ ৮১ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। তিনি চিলির সুন্দরী ইন্না মলকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন। এই তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার আহতিসা মানালো। তাকে পেছনে ফেলতে মিথিলার আরও ২৯ হাজার ভোট প্রয়োজন। মিথিলা তার দেশবাসীর কাছে ভোট দিয়ে জয় অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আশা করা যাচ্ছে, আজকালের মধ্যেই তিনি ভোট পেয়ে ফিলিপাইনের সুন্দরী আহতিসা মানালোকে ছাড়িয়ে এক নম্বরে পৌঁছাবেন। এছাড়াও ‘বেস্ট ন্যাশনাল কস্টিউম’ (প্রথম), ‘মিস কনজেনিয়ালিটি’ (দ্বিতীয়), ‘বেস্ট ইভিনিং গাউন’ (দ্বিতীয়) ও ‘বেস্ট স্কিন’ (তৃতীয়) বিভাগেও এগিয়ে আছেন মিথিলা। তাই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে তাকে আরও প্রায় ২৯ হাজার ভোট পেতে হবে। তাই তিনি ভোট চাইছেন দেশবাসীর কাছে। জানিয়েছেন তাকে ভোট দেয়ার পদ্ধতিও।

মিথিলা জানান, অ্যাপ স্টোর বা গুগল প্লে স্টোর থেকে মুঠোফোনে ‘মিস ইউনিভার্স’র অফিসিয়াল অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। অ্যাপ ইনস্টল করে অ্যাকাউন্ট খুলুন বা লগইন করুন। এক্ষেত্রে ইমেল/সোশ্যাল লগইন অপশন থাকতে পারে। অ্যাপে প্রবেশ করে Vote বাটনে ক্লিক করুন। People’s Choice সেকশনে সিলেক্ট করে Tangia Zaman Methila -কে নির্বাচন করুন। এই সেকশনে ফ্রি ভোট পাওয়ার অপশন আছে সেগুলো ক্লেইম করে ব্যবহার করুন এবং বাংলাদেশকে ভোট দিন।

একাধিক ফ্রি ভোট পেতে একটি বিজ্ঞাপনের ভিডিও দেখুন এবং বিনামূল্যে ভোট সংগ্রহ করুন। এরপর বাংলাদেশকে ভোট দিন। এর আগে ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ২ নভেম্বর থাইল্যান্ডে পৌঁছান ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫’ মুকুটজয়ী মডেল ও অভিনয়শিল্পী তানজিয়া জামান মিথিলা।




জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে রাষ্ট্রপতির সই, গণভোটের পথ উন্মুক্ত

ডেস্ক নিউজঃ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এ স্বাক্ষর করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে তার দপ্তরের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এই আদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো এখন গণভোটে তোলা হবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় যেসব সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছিল, সেগুলোর ওপর জনগণের মতামত নেওয়া হবে সেই গণভোটে।

এদিকে, একই দিন দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি এই ভাষণেই গণভোটের তারিখ ঘোষণা করবেন। তার ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচার হবে বিকেল আড়াইটায়।

এর আগে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়।

গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দুটি বিকল্প প্রস্তাব জমা দেয়। উভয় বিকল্পেই সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের আয়োজন ও একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে।

বিকল্প প্রস্তাব-১

(ক) জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ সন্নিবেশিত সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়গুলো কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ শিরোনামে একটি আদেশ জারি করবে।

(খ) জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ওই আদেশ এবং তার তফসিল-১-এ সন্নিবেশিত জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া বিল গণভোটে উপস্থাপন করা হবে।

(গ) বাস্তবায়ন আদেশ জারির পর জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার পাশাপাশি একইসঙ্গে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যাহা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।

(ঘ) বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে অনুষ্ঠিত গণভোটে যদি ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া যায় তাহলে সংবিধান সংস্কার বিলটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ তার দায়িত্ব পালনে সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করবে। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ২৭০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যদি সংস্কার সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কার বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে।

বিকল্প প্রস্তাব-২

(ক) জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ সন্নিবেশিত সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়গুলো কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ শিরোনামে একটি আদেশ জারি করবে। আদেশের একটি খসড়া প্রস্তাবে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

(খ) জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে এই আদেশ এবং তার তফসিল-১-এ সন্নিবেশিত জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো গণভোটে উপস্থাপন করা হবে।

(গ) বাস্তবায়ন আদেশ জারির পর জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।

(ঘ) পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ২৭০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে ওই আদেশের তফসিল-১-এ বর্ণিত জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং তা সম্পন্ন করার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

বিকল্প প্রস্তাবের পক্ষে গণভোটে কী প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে তাও তুলে ধরে কমিশন।

তাদের তৈরি করা প্রশ্ন হচ্ছে-“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং উহার তফসিল-১ এ সন্নিবেশিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?”




“মুক্তির আগেই সাড়া ফেলে দিল বিজয়ের শেষ ছবি: আয় ৪০০ কোটি!”

বিনোদন ডেস্কঃ থালাপতি বিজয় অভিনীত ‘শেষ’ ছবি জননায়ক  মুক্তির দুই মাস আগেই বাণিজ্য জগতে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অ্যাকশন-রাজনৈতিক থ্রিলার ঘরানার এই ছবিটি প্রি-রিলিজ ব্যবসাতে রেকর্ড গড়েছে।

ইন্ডিয়া টু ডে’র খবর বলছে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত তামিল ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো জননায়ক। স্যাকনিলকের রিপোর্ট অনুসারে, ছবিটি কেবল তামিলনাড়ু অঞ্চলের সিনেমা হলগুলোর স্বত্বই বিক্রি হয়েছে ১০০ কোটি রুপির বেশি দামে। অন্যদিকে, বিদেশের স্বত্ত্ব থেকে এসেছে প্রায় ৮০ কোটি রুপি।

এছাড়াও, সিনেমার গান নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে। জানা গেছে, অডিও স্বত্ব বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি রুপিতে। অন্যদিকে, ডিজিটাল স্ট্রিমিং স্বত্ব কিনেছে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও, যার দর দাঁড়িয়েছে ১১০ কোটি রুপি। সবমিলিয়ে, ছবির প্রি-রিলিজ আয় ইতিমধ্যেই ৩২৫ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে। যেহেতু স্যাটেলাইট স্বত্ব ও অন্যান্য কিছু অঞ্চলের স্বত্ব এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তাই বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সব মিলিয়ে এই আয় খুব সহজেই ৪০০ কোটি রুপির কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।

এইচ বিনোথ পরিচালিত এবং কেভিএন প্রোডাকশনস প্রযোজিত এই ছবিতে বিজয় ছাড়াও অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে, ববি দেওল (তামিল ছবিতে তাঁর অভিষেক), মামিতা বাইজু, গৌতম বাসুদেব মেনন, প্রকাশ রাজ, নারাইন এবং প্রিয়ামণি।

‘জননায়ক’ ছবিটি বিজয়ের অভিনেতা হিসেবে শেষ ছবি বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর তিনি সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিতে মনোনিবেশ করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আগামী বছর ৯ জানুয়ারি তামিল ও তেলুগু উভয় ভাষাতেই সিনেমাটি মুক্তি পেতে চলেছে।




জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

ডেস্ক নিউজঃ

বিসমিল্লাহির রহমানের রহিম

প্রিয় দেশবাসী, শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, নবীন-প্রবীণ সবাইকে আমার সালাম জানাচ্ছি।

আসসালামু আলাইকুম।

গত বছর আগস্ট মাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিবলে আমরা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছিলাম। এরপর আমরা এখন আমাদের মেয়াদে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছি।

আমাদের সরকারের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব ছিল মূলত তিনটি। হত্যাকাণ্ডের বিচার করা, একটি জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের আয়োজন করা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এই বিচারের উদ্দেশ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের প্রথম রায় শীঘ্রই দিতে যাচ্ছে।
ট্রাইব্যুনালে আরও কয়েকটি মামলার বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ ফৌজদারি আদালতগুলোতেও জুলাই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত কিছু বিচারকাজ শুরু হয়েছে। আমরা একইসাথে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুমের মতো নৃশংস অপরাধের বিচারকাজ শুরু করেছি।

আমি আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই যে সংস্কারের ক্ষেত্রেও আমরা ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি। অন্তর্বর্তী সরকার নিজ উদ্যোগে বা বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেছে। কিছু প্রস্তাবিত সংস্কারের কাজ এখনও চলমান আছে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে বা বিদ্যমান আইন সংশোধন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচার ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটালাইজেশন সম্প্রসারণ ও  দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সুশাসনের জন্য এসব সংস্কার বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। আশা করি, আগামী নির্বাচিত সরকার সংসদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এসব সংস্কার গ্রহণ করবে।

আমাদের আরেকটি গুরুদায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান। আমি ঘোষণা করেছি যে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।

আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমরা সঠিকভাবে পালন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।

প্রিয় দেশবাসী,
রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিরলসভাবে গত প্রায় নয় মাস ধরে কাজ করেছে। এসময় কমিশন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করেছে। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ধৈর্য্যসহকারে রাজনৈতিক দলগুলো কমিশন কর্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। মতের পার্থক্য থাকলেও তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। অনেক বিষয়েই ঐকমত্যে আসতে পেরেছেন। দেশবাসী সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই পুরো কার্যক্রম দেখতে পেরেছেন। এটি বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে তো বটেই, পৃথিবীর অনেক দেশের জন্য এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এটি ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্যও আশাব্যঞ্জক। আমি ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দকে গণতান্ত্রিক চর্চার এই আসাধারণ আয়োজনকে সফল করার জন্য আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত জুলাই সনদে সংবিধান বিষয়ক ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। কিছু প্রস্তাবে সামান্য ভিন্নমত আছে। বাকি অল্প কিছু প্রস্তাবে আপাতদৃষ্টে মনে হয় অনেক দূরত্ব আছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে খতিয়ে দেখলে দেখা যায় যে, এসব প্রস্তাবগুলোর ক্ষেত্রেও আসলে মতভিন্নতা খুব গভীর নয়। কেউ সংস্কারটা সংবিধানে করতে চেয়েছেন, কেউ আইনের মাধ্যমে করতে চেয়েছেন। কিন্তু সংস্কারের প্রয়োজনীতা, নীতি ও লক্ষ্য নিয়ে কারো মধ্যে মতভেদ নেই। কাজেই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্য বক্তব্য যতখানি পরস্পরবিরোধী অবস্থান আছে বলে মনে হয়, জুলাই সনদ সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করলে ততখানি মত পার্থক্য দেখা যায় না। এটি আমাদের অনন্য অর্জন। এতে জাতি এগিয়ে যেতে সাহসী হবে।

এসব বিবেচনায় রেখে এবং রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকে মূল দলিল হিসেবে ধরে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার আজকের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুমোদন করেছে। এটি বিরাট খবর। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর শেষে এটি ইতোমধ্যে গেজেট নোটিফিকেশন করার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই আদেশে আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিধান গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে সনদের সংবিধান বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাবণার ওপর গণভোট অনুষ্ঠান এবং পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত।

 আমরা সকল বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।

জুলাই সনদের আলোকে আমরা গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও নির্ধারণ করেছি।
আমি প্রশ্নটি এখন আপনাদের সামনে পাঠ করে শোনাচ্ছি। প্রশ্নটি হবে এরকম:
“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”

ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।”

গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন।

গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হবার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটিও আজকে অনুমোদিত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রিয় দেশবাসী,
অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব গ্রহণ করে অর্থনীতিকে গভীর গহ্বর থেকে উদ্ধার করা ছিল আমাদের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। গত ১৫ মাসে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ উৎরাতে সক্ষম হয়েছি। রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রিজার্ভসহ অর্থনীতির সবগুলো সূচকে দেশ ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। লুট হয়ে যাওয়া ব্যাংকিং খাত ইতোমধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করতে নানামুখী পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রথম বছরে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ অর্থাৎ এফডিআই ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি বৈশ্বিক প্রবণতার বিপরীতে এক অনন্য অর্থনৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কভিত্তিক মায়ার্স্ক গ্রুপের মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালস বি.ভি.-এর সঙ্গে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় এই কোম্পানি ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এটি এযাবৎকালে বাংলাদেশে ইউরোপের সর্বোচ্চ একক বিনিয়োগ। লালদিয়া হবে দেশের প্রথম বিশ্বমানের গ্রিন পোর্ট।

প্রিয় দেশবাসী,
প্রায় দেড় যুগ ধরে আমাদের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাঁরা আজ আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে অভ্যুত্থানের স্বপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলিকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তা না হলে জাতি এক মহাবিপদের সম্মুখীন হবে। এ সম্পর্কে আমি আগেও একাধিকবার আমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছি।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪-এর জুলাইয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে দেশবাসী যে ঐক্য গড়ে তুলেছিল, আমরা জীবিতরা যেন অল্পস্বল্প ভিন্নমত ও লঘু বিবাদে জড়িয়ে তার মর্যাদা ক্ষুন্ন না করি।

১৩৩ শিশু, শত শত তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষের মৃত্যু, হাজার হাজার মানুষের অঙ্গহানির যে আত্মত্যাগ সেটিকে আমাদের সম্মান জানাতেই হবে।

দেশের আপামর জনগণ সামান্য যা চায় তা হচ্ছে, এই অগুনিত হতাহতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা সবাই যেন ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণুতা দেখাই। দলীয় স্বার্থ অতিক্রম করে, সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় চাওয়াকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরি। তাই আমি আশা করি আমাদের এই সিদ্ধান্ত জাতির বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নেবে। একটি উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচনের দিকে জাতি এগিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করব।

আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছালাম।
মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমাদের আশা মহান আল্লাহ পূরণ করুন।

আল্লাহ হাফেজ।
সবাইকে ধন্যবাদ।




“সালমানের ট্যুরে সোনাক্ষীর অনুপস্থিতি: নতুন ইঙ্গিত বলিউডে?”

বিনোদন ডেস্কঃ বলিউড সুপারস্টার সালমান খান ও অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহার বন্ধুত্ব বহুদিনের। সালমানের বিভিন্ন দেশি-বিদেশি কনসার্ট ও প্রমোশনাল সফরে প্রায়ই দেখা গেছে সোনাক্ষীকে। তারই ধারাবাহিকতায় সালমানের আসন্ন ‘এশিয়ান ট্যুর’-এও সোনাক্ষীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ প্রকাশিত পোস্টারে দেখা যায়, তার জায়গায় স্থান পেয়েছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া।

এই পরিবর্তন ঘিরে বলিউডে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। একাংশের দাবি, সোনাক্ষী সিনহা নাকি অন্তঃসত্ত্বা, তাই এবার সফরে যেতে পারছেন না। অনেকে বলছেন, সম্প্রতি একটি পডকাস্টে সোনাক্ষীকে বারবার বালিশে ভর দিয়ে বসতে দেখা গেছে, যা থেকে সন্দেহের সূত্রপাত। আবার অনেকে তার ঢিলেঢালা পোশাক পরাকে গোপনীয়তার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।

তবে এসব গুঞ্জন নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি সোনাক্ষী বা তার স্বামী অভিনেতা জাহির ইকবাল। এর আগেও একাধিকবার এমন খবর ছড়ালেও প্রতিবারই তা অস্বীকার করেছেন তারা।

তবুও সালমান খানের ঘনিষ্ঠ সফরসঙ্গী হিসেবে সোনাক্ষীর হঠাৎ বাদ পড়া এবং নতুন করে জল্পনার ঝড়—সব মিলিয়ে বলিউড মহলে চলছে নানান আলোচনা।




দিলারা জামানকে নিয়ে সাত পর্বের ধারাবাহিক

বিনোদন ডেস্কঃ অভিনেত্রী দিলারা জামানকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে সাত পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘দাদীর ভাগ’। একজন দাদিকে ঘিরে এগিয়েছে নাটকের গল্প।

অভিনেতা জামিল হোসেনের গল্প ভাবনায় নাটকটি রচনা করেছেন বিদ্যুৎ রায়, পরিচালনা করেছেন মাহফুজ ইসলাম। নাটকটি শিগগিরই প্রচার পাবে ‘জামিলস জু’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ রায় বলেন, “‘দাদীর ভাগ’ নাটকটি ছোট ধারাবাহিক হলেও একটা বড় ধারাবাহিক হয়ে ওঠার সমস্ত উপাদানই এর মধ্যে আছে। এই ধরনের নাটকের চিত্রনাট্য লিখতে গিয়ে বেশ স্বস্তিবোধ করেছি। আশা করছি দর্শকরা এই নাটকটি ভালোভাবে গ্রহণ করবে।”

দিলারা জামান বলেন, “দাদীর ভাগ নাটকের গল্প খুব সুন্দর। মৃত্যুর আগে দাদা সব সম্পত্তি দাদিকে লিখে দেয়। সেই সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়েই গল্প। কাজটা করে ভীষণ ভালো লেগেছে। সবাই এত আন্তরিক ছিল যে আমাকে কোনো রকম কষ্ট পেতে দেয়নি।”

ধারাবাহিকের বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন জামিল হোসেন, মুনমুন আহমেদ মুন, নরেশ ভূঁইয়া, রেশমা আহমেদ, মম শিউলী, আমিন আজাদ, সূচনাসহ অনেকে।




৯ জেলায় যানবাহনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ, কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচিতে সারাদেশে যানবাহনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। 

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও গোপালগঞ্জ, সিলেট, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, ফরিদপুর,ময়মনসিংহ, ফেনীসহ একাধিক জেলায় এসব ঘটনা ঘটেছে।

এরই মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বুধবার জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ৪৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঢাকা ও আশপাশের জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এরই মধ্যে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রাজধানীতে চার জায়গায় বাস ও অন্যান্য যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী আশুলিয়া ও গাজীপুরে তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত এক আনসার সদস্যকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, মিরপুরের পল্লবী, কারওয়ানবাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় এবং মৌচাকে ফরচুন টাওয়ারের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল স্টেশনের মধ্যবর্তী মৌলভীবাজার কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে রেললাইনের স্লিপার ফেলে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনটি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ১ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ১৫টি স্থানে ২৭টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কোনো হতাহতের খবর নেই। তবে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আইনের আওতায় আনার কাজ করছে। ঢাকা ও আশপাশের জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর শাহ আলী থানা এলাকায় শতাব্দী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মিরপুর-২ নম্বর এলাকা থেকে নিউমার্কেটের দিকে যাওয়ার পথে যাত্রীবেশে থাকা তিনজন বাসটিতে আগুন দেয়। বাসের সামনের কয়েকটি আসন পুড়ে যায়, তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

শাহ আলী থানার ওসি গোলাম আযম বলেন, মিরপুর-২ নম্বরের দিক থেকে সনি সিনেমা পেরিয়ে নিউমার্কেটের দিকে যাওয়ার পথে যাত্রীবেশে থাকা তিনজন বাসটিতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানো হয়।

গতকাল রাতে রাজধানীর দোলাইরপাড়ে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুখে সড়কে আরেকটি বাস আগুনে পুড়েছে। এর বাইরে ঢাকার কাকরাইলে রমনা থানার সামনে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান এবং উত্তরায় একটি মাইক্রোবাসও আগুনে পুড়ে যায়। তবে এই দুটি ঘটনা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

এছাড়া গতকাল রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার নামের এক পথচারী আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়েছে।

রাত সাড়ে নয়টায় পল্লবীতে জুলাই ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী চলার সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং প্রায় একই সময়ে মৌচাকে ফরচুন টাওয়ারের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ ছাড়া রাত ১০টার পর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এদিকে গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় তেজগাঁও রেলস্টেশনের পরিত্যক্ত লাইনে থাকা ট্রেনের কোচে আগুন দেয় দুষ্কৃতকারীরা। স্থানীয় লোকজনের তৎপরতায় আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সহযোগিতায় ঘটনাস্থলের পাশ থেকে সন্দেহভাজন দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের প্রিপারেটরি স্কুলের সামনে দুটি পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। একই রাতে ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সড়কের পাশে পার্ক করা আলিফ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। বাসের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা চালক আহত হন এবং বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

গাজীপুরে সাত ঘণ্টার মধ্যে তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত গাজীপুর নগর ও শ্রীপুরে এসব ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

এদিকে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল স্টেশনের মধ্যবর্তী মৌলভীবাজার কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে রেললাইনের স্লিপার ফেলে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। তবে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনটি সময়মতো থামিয়ে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এসব ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে এবং সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে গ্রামীণ ব্যাংকে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির আসবাবসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে। তবে টাকার ভল্টের কোনো ক্ষতি হয়নি। কে বা কারা এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে, সেটাও জানা যায়নি।

ব্যাংকের চান্দুরা শাখার ম্যানেজার মো. কলিম উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে বাইরে থেকে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগানো হয়। নৈশপ্রহরী বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁদের অবহিত করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরই মধ্যে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন পুরোপুরি নেভান। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হবে বলে উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় একটি পেপার মিলের সামনে ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়, আর ভোর পৌনে ৫টার দিকে গোপালগঞ্জের গণপূর্ত কার্যালয়ের সামনে একটি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পিকআপটি পুড়ে যায়।

ফেনী-চট্টগ্রাম সড়কের মহিপালে রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে দাঁড়িয়ে থাকা রনি-রানা পরিবহনের একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। এতে বাসের ভেতরের সামনের অংশ পুড়ে যায়, তবে কেউ আহত হয়নি।

ফেনী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুল মজিদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিভিয়েছে। আগুনে বাসের ভেতরে সামনের অংশ পুড়ে গেছে। এটি নাশকতা হতে পারে।

গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ভুলতা বিশনন্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের আড়াইহাজার উপজেলার প্রবেশ পথ চৌরাস্তায় পায়রা চত্বর এলাকায় এ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে মোবারককে আটক করা হয়।

আটক মোবারক নরসিংদী জেলার মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দি গ্রামের মৃত জবেদ আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভুলতা বিশনন্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের আড়াইহাজার উপজেলার প্রবেশ পথ চৌরাস্তায় পায়রা চত্বর এলাকায় পর পর তিনটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এসময় চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ছুটোছুটি করতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের এসে মোবারক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসে দেওয়া আগুনে চালক জুলহাস মিয়া নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ফুলবাড়িয়ার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ বাজার এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার  আনোয়ার হোসেন (৩৬) ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি ওই এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। বুধবার (১২ নভেম্বর) ভোররাতে ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মো. রুজনুজ্জামান এ তথ্য জানান।

ফুলবাড়িয়া থানার (ওসি) রুজনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

নিরাপত্তা জোরদার

বুধবার সকাল থেকে শাহবাগে অবস্থিত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, হাইকোর্ট এলাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকা এবং মিন্টু রোডে বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকতে দেখা যায়।

এছাড়া কাকরাইলসহ ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। উদ্ভুত প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও আশেপাশের জেলাগুলোর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজধানীতে ১২ প্লাটুন এবং ঢাকার বাইরে আরো দুই প্লাটুনসহ মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিজিবি মোতায়েন থাকবে।

অনলাইনে ক্লাস, পেছানো হয়েছে পরীক্ষা

ঢাকার মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের প্রিপারেটরি স্কুলের সামনে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় দুইটি পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তবে সকাল থেকেই স্কুলের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা।

স্কুলের বেশ কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ ঘটনার পর বুধবারের অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এই পরীক্ষার সময়সূচি পরে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্কুলের একজন শিক্ষক।

নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি এবং রায়কে ঘিরে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজকে অনলাইনে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইংরেজি মাধ্যমের ইউরোপীয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুল, সানবীম স্কুল বৃহস্পতিবার সব শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে বলে শিক্ষার্থীদের জানিয়েছে।

এদিকে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শান্তা-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি মঙ্গলবারই জরুরি এক নোটিশে, ১২ ও ১৩ই নভেম্বরের সব ক্লাস ও পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করার কথা জানিয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল সার্ভিস ও সব রুটের বাস সার্ভিস বন্ধ থাকবে বলেও জানিয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।

গত সোমবার শান্তা-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়েরই একটি বাসে ধানমন্ডিতে অগ্নিসংযোগ করেছিল দুর্বৃত্তরা। এদিকে, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ১৩ই নভেম্বরের সব ক্লাস অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে।




প্রত্যেক শিশুর একটা না একটা প্রতিভা আছে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, প্রত্যেক শিশুর একটা না একটা প্রতিভা আছে। মা বাবা, স্কুলের শিক্ষক ও প্রতিবেশী সবাই মিলে শিশুদের সেই প্রতিভাকে সামনে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করে দিতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘নতুন কুঁড়ি-২০২৫’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শিশু কিশোরদের মধ্যে প্রেরণা সৃষ্টি করা প্রতিযোগিতার একটি বড় অংশ। এর মাধ্যমে শিশুদের নিজেদের আবিষ্কার করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তারা নিজেকে জানতে শেখে। প্রতিযোগিতা তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ যোগায়।

তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা (রচনা, প্রযুক্তি , ব্যবসা,খেলাধুলা, বিজ্ঞান, ফ্যাশন ডিজাইন, খাবার তৈরি, নাটক ও গল্প বলা) আয়োজনের মাধ্যমে তাদের নিজেকে আবিষ্কার করার সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে সরকার।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশু-কিশোররা তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে এবং তারা যাতে তাদের প্রতিভা বিকশিত করতে থাকে সে জন্য নিয়মিত অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা শিশু-কিশোরদের জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করেছে, যেখানে তারা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারছে এবং নতুন করে নিজেদের আবিষ্কার করতে পারছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারে, সে-ই প্রকৃত অর্থে এগিয়ে যেতে পারে। এই প্রতিযোগিতাটি সেই আত্ম-আবিষ্কারেরই সুযোগ করে দিয়েছে। না হলে আমি কখনোই জানতাম না যে আমি ক্লাসে প্রথম হতে পারি।’

প্রতিযোগিতার পেছনে থাকে আরও বহু অনানুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা—পরিবারে, সমাজে, শিক্ষাঙ্গনে। তাই এটি শুধু অংশগ্রহণকারীদের নয়, পরিবার, শিক্ষক ও বিচারকদের জন্যও এক আনন্দের উপলক্ষ।

বিচারকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা তাদের মেধা ও সময় দিয়ে বিচারকার্যে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তাদের জন্য এক জোরে হাততালি প্রাপ্য। অভিভাবকরাও প্রশংসার দাবিদার—কারণ তারা সন্তানদের পাশে থেকেছেন, সহযোগিতা করেছেন। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও এই সাফল্যের অংশীদার।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই হাততালিগুলো এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। সারা বাংলাদেশের আনাচে কানাচে যারা এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা সবাই এই আনন্দের অংশীদার। যারা বিজয়ী হয়েছেন, তাদের অভিনন্দন। আবার যারা অংশ নিয়েও জিততে পারেননি, তাদেরও সমান অভিনন্দন— কারণ অংশগ্রহণ করাটাই বড় অর্জন।’

তিনি বলেন, যারা জিততে পারেনি, তাদের মনে একটা জেদ কাজ করবে—‘আমি কেন পারলাম না?’ এই জেদই মানুষকে বদলে দেয়। এই প্রতিযোগিতা সেই প্রেরণাই সৃষ্টি করে। পরের বছর তারা আরও ভালো করবে, আরও এগিয়ে যাবে, এটাই আত্ম-আবিষ্কারের শুরু।

প্রতিযোগিতার তাৎপর্য তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতা আমাদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলে। না হলে আমরা যেভাবে আছি সেভাবেই থেকে যেতাম। প্রতিযোগিতা আমাদের জানায়— আমারও সক্ষমতা আছে, আমি আরও কিছু করতে পারি।’

মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতা নতুনভাবে শুরু করার জন্য আমি উপদেষ্টাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব, কারণ এর মাধ্যমেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা প্রথম আয়োজন, তাই কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে। এতে লজ্জার কিছু নেই, বরং এটি পরবর্তী আয়োজনকে আরও পরিপূর্ণ করবে। ভবিষ্যতে যেন আরও প্রতিভাবান অংশগ্রহণকারীকে আমরা আবিষ্কার করতে পারি, সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতা ফ্যাশন ডিজাইন, খাদ্য প্রস্তুতি, বিজ্ঞান, ব্যবসা ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে নতুন প্রতিভা তুলে আনবে। কেউ ভালো গায়ক না হলেও ভালো বিজ্ঞানী হতে পারে, ভালো উদ্যোক্তা হতে পারে—এই প্রতিযোগিতা সেই সুযোগ তৈরি করে দেবে।’

শেষে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর সীমার মধ্যে নেই— বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম সেই বিশ্বমানে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে। আমি সবাইকে আবারও অভিনন্দন জানাই—আয়োজক, অংশগ্রহণকারী, অভিভাবক, শিক্ষক সবাইকে। আগামী বছর এই প্রতিযোগিতা আরও জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দময় হোক— এই কামনা করি।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় সারা দেশের হাজারো শিশু অংশ নেয়। নাচ, গান, আবৃত্তি, কৌতুক, গল্প বলা, অভিনয়সহ মোট ১২টি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

আঞ্চলিক ও বিভাগীয় পর্ব শেষে নির্বাচিত প্রতিযোগীদের নিয়ে হয় চূড়ান্ত পর্ব। আজ প্রধান উপদেষ্টা ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপের সেরাদের  হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ‘নতুন কুঁড়ি-২০২৫’ প্রতিযোগিতার ক শাখা চ্যাম্পিয়ন প্রিয়শী চক্রবর্তী ও খ শাখার চ্যাম্পিয়ন শুভমিতা তালুকদারের হাতে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও তিন লাখ টাকার পুরস্কার তুলে দেন।




শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণা ১৭ নভেম্বর

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায়ের দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার রায় আগামী ১৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। 

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বেলা ১২টা ৯ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা।