0xecc3cb18
0xecc3cb18
0xecc3cb18
সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ব্যাপক অর্থ উপার্জন করছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনারুল ইসলাম আংগুর। এলাকাজুড়ে তিনি এখন “বালু খেকো” নামে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি নদী থেকে বালু তুলছেন নির্বিঘ্নে, আর এতে প্রতি মাসে আয় করছেন কোটি টাকার বেশি।
শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, আড়পাঙ্গাশিয়া, নওয়াবেকী ও ঘোলা— এসব এলাকায় কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর তীরে জনবসতি গড়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিবছরই এসব এলাকায় নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে নদীভাঙন আরও তীব্র হয়েছে, বেড়িবাঁধও পড়েছে ঝুঁকিতে।
স্থানীয়রা জানান, আগে আওয়ামী লীগের সময় কিছু যুবলীগ নেতা বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং এতে মাসে কোটি টাকা আয় করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেই বালু বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ যায় যুবদল নেতা আনারুলের হাতে। তিনি সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার ঘোলা তেরমুনে এলাকার একটি বালু মহলের নাম ব্যবহার করলেও বাস্তবে বালু উত্তোলন করছেন গাবুরা ইউনিয়নের জেলিয়াখালী নামক স্থানে, যা তার ঘোষিত মহল থেকে নদীপথে প্রায় বিশ কিলোমিটার দূরে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আনারুল ইসলাম আংগুর প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দেন, যাতে তার অবৈধ কার্যক্রমে বাধা না আসে। অভিযোগ রয়েছে, শ্যামনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকও তার প্রভাবের বাইরে নন। এলাকাবাসী কেউ প্রতিবাদ করলে আনারুল তাদের হুমকি দিয়ে চুপ করিয়ে দেন।
গাবুরার কিছু বাসিন্দা জানান, এখন এলাকায় আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টির প্রভাব নেই, বালুর ব্যবসায় জড়িত শুধু বিএনপি ও জামায়াতপন্থীরা। প্রশ্ন উঠেছে, জামায়াত শিবির নেতারা কেন এ বিষয়ে চুপ আছেন। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন ও রাজনীতি দুই দিকই এখন অর্থের বিনিময়ে আনারুলের নিয়ন্ত্রণে, তাই কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
এসএম বদরুল আলমঃ নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প। প্রায় এক যুগ আগে প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি। বরং অধিগ্রহণ করা জমির একটি বড় অংশ দখল করে রেখেছে প্রভাবশালী মহল, যার কারণে হাসপাতাল নির্মাণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।
সোমবার (১১ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দীন ফোন করে অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, সরকারি নির্দেশনা ও বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। দখলদাররা জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে এবং প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি বিলম্বিত করছেন বলে তাদের অভিযোগ।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, অথচ দখলদারদের কারণে হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরুই হচ্ছে না। আজ উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করে দেওয়া অন্যায়ের শামিল।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, ১২ বছর আগে জমি অধিগ্রহণের সময় বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করা হলেও পরে তা ভেঙে বসতি গড়ে তোলে এক প্রভাবশালী গোষ্ঠী। এখন তারা এলাকাটিকে নিজেদের দখলে রেখে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
এ বিষয়ে কলেজ শিক্ষক পরিষদের এক সদস্য বলেন, “এটি শুধু একটি প্রকল্প নয়, পুরো নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রতীক। প্রশাসনের উদাসীনতা এখন জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে।”
ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিকেলে এক জরুরি সভা করে। সভা শেষে তারা ঘোষণা দেন, “দুই-তিন দিনের মধ্যে আমরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করব যদি দ্রুত দখলমুক্ত না করা হয়।”
বর্তমানে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন।
এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন “আরবান রেজিলিয়েন্ট টাউন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট” বা সংক্ষেপে আর ইউ টি ডিপি (RUTDP) নামের বিশাল এই প্রকল্পে একের পর এক অনিয়ম আর বিতর্কে জড়াচ্ছে কর্মকর্তারা। প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে সরকারি অর্থে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে শতাধিক কর্মকর্তা, কনসালটেন্ট ও ফার্ম। কিন্তু প্রকল্পের কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি আলোচনায় এখন প্রকল্পের এক শীর্ষ কনসালটেন্ট নূরুল আমিন তালুকদার—যাকে নিয়ে নানা অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে অফিসের ভেতরে-বাইরে।
সূত্র জানায়, নূরুল আমিন তালুকদার এই প্রকল্পের ডি এম এস (DMS) কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্বে আছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নাকি এই পদে আসীন হয়েছেন ঘুষের বিনিময়ে। প্রকল্পের সাবেক প্রজেক্ট ডিরেক্টর (পিডি) প্রায় সাত লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন—এমন তথ্যও মিলেছে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে। তার মাসিক বেতন প্রায় আড়াই লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
এই প্রকল্পের আওতায় ৮১টি পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে “ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট কর্মশালা” আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি কর্মশালার জন্য যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়া ও অনারিয়াম বাবদ প্রায় দেড় লাখ টাকা বাজেট ধরা আছে। কিন্তু বাস্তবে এই টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
প্রকল্পের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করে জানান, কর্মশালার সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হলেও বাস্তবে তা হয় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রকল্পের নির্ধারিত ব্যয়ের টাকা পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নিজেদের পকেট থেকে খরচ করতে হয়। পরবর্তীতে সেই টাকা নূরুল আমিন তালুকদার ও পিডির মধ্যে ভাগ হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়—কর্মশালাগুলোতে তিনি প্রায়ই সুন্দরী নারী সহকর্মীদের নিয়ে সফর করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আরবান প্ল্যানার জোবায়দা পারভীন, আর্কিটেক্ট আজমিরা ও ফারহানা ইসলাম, জেন্ডার স্পেশালিস্ট সাজেদা বেগমসহ আরও কয়েকজন নারী কর্মকর্তা। স্থানীয় প্রকৌশলীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মশালার চেয়ে বেশি সময় কাটে তার “বিশেষ অতিথিদের” সঙ্গে আলাপ-আড্ডায়।
অফিসের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নূরুল আমিন তালুকদার অফিস সময়েও প্রায়ই নারী সহকর্মীদের নিয়ে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মেতে থাকেন। অনেক সময় আপত্তিকর অবস্থায়ও তাকে দেখা গেছে। সূত্র জানায়, তার পরিবার বর্তমানে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছে, আর ঢাকায় তার নিজস্ব বাড়িও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই অফিসের কিছু নারী কর্মীকে নিজের বাসায় আমন্ত্রণ জানান। সেখানে সারাদিন চলে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা ও হাসিঠাট্টা। এতে অনেক নারী কর্মকর্তা আতঙ্কে ও অস্বস্তিতে অফিস করেন, বিশেষ করে যারা তার সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন।
প্রকল্পের ভেতরে এই ধরনের আচরণে সহকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, প্রকল্পের কাজের চেয়ে এখন বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে “অপ্রাসঙ্গিক” কর্মকাণ্ডে।
বড় অঙ্কের সরকারি অর্থে পরিচালিত এই প্রকল্পে এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক কর্মকর্তা। তারা মনে করেন, যথাযথ তদন্ত না হলে প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।
এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদারকে ঘিরে দপ্তরজুড়ে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ-বদলির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি এখন সরগরম। সম্প্রতি তাঁর অনিয়ম ও সহযোগীদের দূর্নীতির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগ উঠেছে, সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে ফিরোজ আলম তালুকদার সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় প্রতিবেদক ও তাঁর সহকর্মী শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–৭১৪/২৫) করেছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তালিকাভুক্ত ফিরোজ আলম তালুকদার দীর্ঘদিন ধরেই এলজিইডির সবচেয়ে বিতর্কিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালে দুদক তাঁকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। ১৫ ও ১৬ এপ্রিল দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদের পরও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তখন তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, ১/১১–এর পর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহেদুর রহমানের সময়ে পদোন্নতির ঘুষ বাণিজ্যে ফিরোজ আলম তালুকদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আদালতের এক রায়ের পর পদোন্নতির সুবিধা পাওয়া প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে প্রায় ৩,১০৫ জনের কাছ থেকে ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়। মোট অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে তিন শত কোটি টাকা, যা ফিরোজের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সে সময় তিনি প্রধান প্রকৌশলীর স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ নাসিমের নাতি এবং ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের কথিত পুত্র বা আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে ফিরোজ আলম তালুকদার এলজিইডিতে নিয়োগ, বদলি ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব খাটান। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেক্রেটারি পরিচয়েও তিনি প্রশাসনে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।
তার নিজ জেলা সিরাজগঞ্জেও ফিরোজের প্রভাব তীব্রভাবে দৃশ্যমান। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, তাঁর ভাই ও ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সহযোগীদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য চালাচ্ছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও এলজিইডি অফিস তাঁর ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক কর্মকর্তা।
এলজিইডির ভেতরে-বাইরে এখন অনেকেই বলছেন, ফিরোজ আলম তালুকদার কেবল একজন প্রকৌশলী নন—তিনি যেন এক “অঘোষিত কর্তৃপক্ষ”। দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয়ভীতির সংস্কৃতিতে জড়িয়ে থাকা এমন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যদি কঠোর তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উন্নয়ন সংস্থার ভাবমূর্তি আরও প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ডেস্ক নিউজঃ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গতকাল একযোগে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাজধানী জুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সারাদিনে অন্তত ১১ টি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং তিনটি বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। কোনো বড় ধরনের হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও ঘটনায় শহরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে ইতোমধ্যেই ব্যাপকতবে তৎপরতা বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র্যাব যৌথ কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ক্ষুন্ন করার যে কোনও চেষ্টা কঠোরতার সঙ্গে দমন করা হবে। পুলিশের নির্দেশে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর সব থানাকে টহল, নজরদারি ও গৌণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাড়াতে বলা হয়েছে—এ দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা এক মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ হয়েছে।
সন্ধ্যায় মৌচাক, আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার, খিলগাঁও ফ্লাইওভার এলাকা ও মিরপুর শাহ আলী মার্কেট সংলগ্ন জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটে; রাত ১০টার দিকে ফ্লাইওভার থেকে আরেকটি ককটেল নিক্ষেপ হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। দিনের শেষ বিস্ফোরণটি রাত ১১টা ১০ মিনিটে বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে ঘটে; এতে এক পথচারী সামান্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে বলে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন জানান। তিনি বলেন, বিস্ফোরণের পর স্থানীয়রা মোটরসাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুই জনকে ধাওয়া করে আটক করে—পরে আরও তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, আগের দিন কাকরাইলের সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রালে ও মোহাম্মদপুরের সেন্ট জোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের বাসভবনের সামনে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া ভোরে শাহজাদপুর ও মেরুলবাড্ডায় দুটি বাসে আগুন দেয়া হয় এবং সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে আরেকটি বাসে আগুন লাগানো হয়। তৎপরতায় ডিএমপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকার আশেপাশে সব ধরনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও জনপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তারা পাল্টা গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছে ও নজরদারি বাড়িয়েছে। ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী প্রকাশ্যে বলে ফেলেছেন তারা তাদের নেতাদের জন্য যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত—এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সোমবার পৃথক অভিযান চালিয়ে আড়াই ডজনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ককটেল হামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ২৮ বছর বয়সী এক ছাত্রলীগ সদস্যকেও ডিএমপি আটক করেছে।
সরকার ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় অটল থাকার বার্তা দিয়েছে এবং ঢাকার গির্জা, মন্দির, মসজিদসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, ‘দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিটি চেষ্টা দ্রুত ও কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে; জননিরাপত্তা, জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুরক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার।’
ঘটনাগুলো এমন সময়ে ঘটেছে যখন রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিএনপি–আলোচিত একটি সংগঠন আগামী ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’ ঘোষণা করেছে—এই প্রেক্ষিতেই রাজধানীতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা সভায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সব থানাকে টহল, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি তদারকি ও জরুরি প্রতিরোধ ব্যাবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেন; রেলওয়ে, মেট্রো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতেও বিশেষ সতর্কতা তোলা হচ্ছে।
আবহাওয়া ডেস্কঃ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সারা দেশে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, নদী পুনঃখনন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব জীবিকা গঠনের লক্ষ্যে ১৮টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টি বোর্ডের ৬৫তম সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বাগেরহাট, নওগাঁ, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায়- ‘প্রাকৃতিক সম্পদ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিরাপদ পানির মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল পরিবেশ গঠন’-প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় আলাই নদী ও যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলার চরশাহী ইউনিয়নে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলায় টেকসই প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহের প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। বাগেরহাট জেলার তিনটি উপজেলায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা পৌর এলাকায় সোলার প্যানেল পাম্প হাউজ স্থাপন করে সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পটুয়াখালী পৌর এলাকায় রিভার্স ওসমোসিস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থানীয় জনগণের জন্য পরিবেশবান্ধব বিকল্প জীবিকা সহায়তা প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নোয়াখালীর চাটখিল পৌর এলাকায় খাল পুনঃখনন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার সকল উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য পৃথক তিনটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
সভায় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারের লক্ষ্য হলো জনগণকে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা। তিনি আরো বলেন, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয়, পার্বত্য ও খরা-প্রবণ অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নত হবে।
সভায় কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী মো. ওয়ালি-উল-হকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীতে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে ধর্মীয় সহাবস্থান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিঘ্ন ঘটানোর যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
সোমবার (১০ নভেম্বর) এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রেস উইংয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে কাকরাইলের সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল ও সেন্ট জোসেফ স্কুল প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণসহ একাধিক ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও ডিএমপি যৌথভাবে শহরজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে, যাতে এই ‘জঘন্য ও কাপুরুষোচিত সহিংসতা’র সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা যায়।
সরকার জানিয়েছে, রাজধানীর সব গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ধর্মীয় সহাবস্থান, আন্তঃধর্মীয় ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এদিন সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চারটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, মোহাম্মদপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং লেখক ফরহাদ মজহারের প্রতিষ্ঠান ‘প্রবর্তনা’র সীমানার ভেতরে ও বাইরে দুইটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনেও একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এছাড়া ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরের প্রধান সড়কে মাইডাস সেন্টারের সামনে এবং ধানমণ্ডি-৯ নম্বরের ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনেও দুইটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আবহাওয়া ডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে ক্রমেই বাড়ছে বায়ুদূষণের প্রকোপ। দীর্ঘদিন ধরেই দূষণে শীর্ষ অবস্থানে থাকা মেগাসিটি ঢাকার বাতাসও আবারও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিছুদিন আগে সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও গত কয়েক দিনে রাজধানীর বায়ুমান আবারও নেমে এসেছে বিপজ্জনক মাত্রায়।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ২২২ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ঢাকা। সংস্থাটির সূচকে এই মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
একই সময়ে ভারতের রাজধানী দিল্লি ৭৭৮ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে আছে পাকিস্তানের লাহোর (৪৮০), তৃতীয় স্থানে উজবেকিস্তানের তাশখন্দ (২৩১) এবং পঞ্চম স্থানে ভারতের কলকাতা, যার স্কোর ২০৩।
বায়ুমানের একিউআই সূচকে ০ থেকে ৫০ ভালো, ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে গণ্য হয়। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’, আর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে।
এই পর্যায়ে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাইরে যাতায়াত সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। একিউআই ৩০১ থেকে ৪০০ হলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় পার্টির দফতর সম্পাদক মাহমুদ আলমের বাবা হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম (৭৬) ইন্তেকাল করেছেন। “ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রজিউন।”
জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, মরহুম জাহাঙ্গীর আলমের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
পৃথক এক শোকবার্তায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, মরহুম জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
মৃত্যুকালে তিনি ৩ ছেলে ২ মেয়ে, নাতি নাতনি সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
গতকাল বাদ এশা জানাযা শেষে মরহুমকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।