“৩০ লাখ টাকার কাজে খরচ দুই কোটি ১৬ লাখ! রাজউক চেয়ারম্যানের সরকারি বাংলো সংস্কারে ভয়াবহ অনিয়ম”- তদন্তে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন সংস্কারকাজে এক অত্যান্ত প্রকাশ্য অনিয়ম ঘটেছে—প্রথমে হিসাব করা হয় মাত্র ৩০ লাখ টাকায় হবে যে কাজ, শেষমেশ খরচ দাঁড়ায় দুই কোটি ১৬ লাখ টাকায়—প্রায় সাত গুণ বেশি। তদ্রূপ, দরপত্র আহ্বানের আগেই ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে, আর প্রতিযোগিতা ও অনুমোদনের নিয়ম অমান্য করে কাজ শুরু হয়েছে। এই তথ্য পাওয়া গেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়‑এর গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

এরই মধ্যে রাজউক‑এর নিজস্ব তদন্তের রিপোর্ট ঠিক উল্টো চিত্র দিচ্ছে: “কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি” — এমন দাবি করা হয়েছে মাত্র এক সপ্তাহে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নকশা ও অনুমোদন ছাড়া কাজ হয়েছে, দরপত্র ছাড়াই কাজ শুরু হয়েছে এবং আর্থিক হিসাব অযৌক্তিকভাবে বড় হয়ে গেছে।

চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবনে। সংস্কারকাজের প্রাথমিক অনুমোদিত প্রকল্প মূল্য ছিল মাত্র ৩০ লাখ টাকা, কিন্তু শেষ বিল হয়েছে দুই কোটি ১৬ লাখ টাকা।

মূল তদন্তে উঠে এসেছে যে, মার্চ ২০২৪ সালে দরপত্র ছাড়াই কাজ শুরু হয়, তারপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়াজ ট্রেডার্স নামের একটি সংস্থাকে কাগজে–কলমে কাজ দেওয়া হয়েছে।

তদুপরি, প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যোগ রয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. ছিদ্দিকুর রহমান (অব.), প্রধান নগর স্থপতি মোস্তাক আহমেদ ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রাহাত মুসলেমীন।

চেয়ারম্যান বাংলোর সংস্কারকাজ ভালোভাবে নকশা না অনুসরণ করে, পরবর্তী ভবন নির্মাণের সুপারিশ যেসব প্রতিবেদন দিয়েছে, সেগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রকৌশল বিভাগ প্রথমে প্রাক্কলন করেছে ৩০ লাখ টাকা, কিন্তু অর্থায়ন প্রক্রিয়া ভুল পথে গেছে।

এক সময়কার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাইছার লিখিতভাবে নকশা ও অনুমোদনের কপি চেয়েছিলেন, কিন্তু চেয়ারম্যানের চাপ এবং ডেপুটি প্রকৌশলী উজ্জ্বল মল্লিকের স্বাক্ষর না থাকায় চিঠি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরপর অনুমোদিত প্রকল্পমূল্য বাড়িয়ে দুই কোটি ৮৫ লাখ হয়েছিল এবং শেষমেশ দুই কোটি ১৬ লাখ টাকায় ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—কিন্তু তখন কাজের ৮০ শতাংশ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে।

তদন্ত কমিটি কাজের গুণগতমান যাচাই ও ঠিকাদারকে পাওনা পরিশোধ করার সুপারিশ করেছিল, কিন্তু প্রকৃত দৃষ্টিতে মন্ত্রণালয় ও রাজউক প্রশাসনের দ্বারা কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি — শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

রাজউকের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মো. আলম মোস্তফা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তদন্ত সংক্রান্ত কোনো চিঠি বা নির্দেশনা মন্ত্রণালয় থেকে তারা পাননি।

পুরো ঘটনায় দেখা যাচ্ছে—দরপত্রের আগেই কাজ সম্পন্ন হওয়া, অনুমোদন ও নকশা ছাড়াই কাজ শুরু করা, আর খরচ সাত গুণ বাড়িয়ে দেওয়া—সব মিলিয়ে রাজউক যেন জবাবদিহিতার সংকটে নিমজ্জিত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রতিবেদনের আলোকে বলা যায়—৩০ লাখ টাকার কাজ দুই কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে গেল, যে কাজ পুরোপুরি নিয়মানুগ হওয়ার কথা ছিল, তা হয়ে উঠল স্বার্থসিদ্ধি ও নিয়মবহির্ভূতের প্রতীক।




দুদক চিহ্নিত করলো সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, বিদ্যুৎ, জলবায়ু ও স্বাস্থ্যখাতে তদারকি বাড়ানো হচ্ছে

এসএম বদরুল আলমঃ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাতগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর মিলেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই তিন খাতে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্প এবং স্বাস্থ্যসেবা খাত অন্তর্ভুক্ত। কমিশন বলেছে, এ ধরনের উদ্যোগ জনসাধারণের স্বার্থে জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং দুর্নীতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আগ্রাবাদ ও হালিশহর অফিসে দুদক অভিযান চালিয়েছে। এ সময় তারা বিভিন্ন টেন্ডার ও কার্যাদেশের রেকর্ড পরীক্ষা করেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর টার্নওভার, ক্রেডিট লাইন, কাজের অভিজ্ঞতা, কোয়ালিটি কন্ট্রোল সনদ, ম্যানুফ্যাকচারার অথরাইজেশন লেটার এবং ই‑জিপি কালো তালিকাভুক্তির তথ্য যাচাই করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে সম্ভাব্য অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঢাকায় ঢাকা-মহাখালীতে অবস্থিত বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটি)-র কার্যালয়েও দুদকের একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৮৯টি প্রকল্পের মধ্যে মোট ২,১১০ কোটি টাকার প্রায় অর্ধেক অংশে অনিয়মের ছাপ রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে কিছু প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং দায়িত্বশীলতার অভাবও দেখা গেছে।

স্বাস্থ্যখাতে, যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুদক অভিযান চালিয়েছে। তারা ছদ্মবেশে হাসপাতালের সেবা ও সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য সংগ্রহ করেছে। অভিযানে দেখা গেছে, অ্যাম্বুলেন্স চালক অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন, হাসপাতালের খাবারের মান ও পরিমাণে অসঙ্গতি রয়েছে, এবং স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের কর্মকর্তা ও রোগীদের সঙ্গে আলাপের পর এই অভিযোগগুলো নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, অভিযানে পাওয়া তথ্য ও নথির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। কমিশন আশা করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি সেবা আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হবে।




স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে অভিযোগ: পোল্ট্রির জন্য হার্বাল ওষুধের ডোজ কমিয়ে অবৈধ রিপ্যাকিং, স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

এসএম বদরুল আলমঃ দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোম্পানিটি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক লাইফ সার্কেল নিউট্রিশন কোম্পানির তৈরি হার্বাল কক্সিডিউস্ট্যাট “হার্ব-অল-কক্স” পণ্যের ডোজ কমিয়ে এবং অবৈধভাবে রিপ্যাকিং করে বাজারজাত করেছে।

পোল্ট্রি খামারগুলো দাবি করেছে, তারা গত চার বছর ধরে এই পণ্য ব্যবহার করছে। কিন্তু অভিযোগে বলা হয়েছে, ডোজ কমানোর কারণে খামারে পাখির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। খামার মালিকদের বক্তব্যে বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রতারণা অব্যাহত থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক-রহিত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদনের উদ্যোগ বিপন্ন হবে এবং পোল্ট্রি মাংসের মাধ্যমে ক্ষতিকর উপাদান মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডোজ কমানো বা ভেজাল উপাদান ব্যবহারের ফলে প্রাণীর শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, যা মানুষের খাদ্যচক্র ও স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।

এই ঘটনায় আগামী ১৫ নভেম্বর ২০২৫ সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস বাংলাদেশের অন্যতম বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এর পণ্য দেশ-বিদেশে সমান জনপ্রিয় হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির ওষুধের মান, প্যাকেজিং ও আমদানির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এই অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে।




ইন্দুরকানীতে চেয়ারম্যানের অভিযোগ: হামলা-অপহরণচেষ্টা ও অপপ্রচারের শিকার দাবি শাহীন হাওলাদারের

পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার ২নং পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদার নিজের জীবনের ওপর হামলা অপহরণচেষ্টা এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার দুপুরে পিরোজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহীন বলেন, ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাওলাদার মোয়াজ্জেম হোসেনকে পরাজিত করে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এলাকার শান্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ছাত্রজীবনে তিনি জিয়ানগর উপজেলা ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে শ্রমিক দলের জিয়ানগর উপজেলা সভাপতি ছিলেন। ২০০৯ সালে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে উড়োজাহাজ প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পরামর্শে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ২০১৯ সালে জেপি (মঞ্জু) দলে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
শাহীনের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৭টার দিকে বাড়ি থেকে খুলনা যাওয়ার পথে পিরোজপুর শহরের বড় পুল এলাকায় বালিপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মুন্সির ছেলে জাকারিয়া হোসেন মুন্সি ও তার সহযোগীরা তার গাড়ির পথরোধ করে। তারা তাকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণের চেষ্টা করে এবং তার কাছে থাকা দুইটি আইফোন ছিনিয়ে নেয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর জামায়াত ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ থানায় উপস্থিত হয়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয় এবং ভবিষ্যতে জাকারিয়া তার সাথে এই ধরনের আর কোনো আচরণ করবে না কিংবা চাঁদা দাবি করবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়।
তবে বিষয়টি সমাধান হওয়ার পরও বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে জাকারিয়া তাকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শাহীন।
এছাড়া শুক্রবার জাকারিয়া একটি সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উল্টো ও মিথ্যা অভিযোগ এনে নিজের অপরাধ আড়াল করতে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে। তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি শাহিনের। জাকারিয়া এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের মোঃ জাকারিয়া হোসেন মুন্সী বলেন, শাহিন হোসেন জাতীয় পার্টি (মঞ্জু)–এর জিয়ানগর উপজেলা আহ্বায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফ্যাসিবাদের দোসর শাহিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।  আমার বিরুদ্ধে তার আনিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সংবাদ সম্মেলনে ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ করিম ইমন এবং চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু উপস্থিত ছিলেন।



ঢাকায় বসবাসরত ভান্ডারিয়ার কল্যাণ সমিত মতবিনিময় সভা২০২৫

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ঢাকায় বসবাসরত ভান্ডারিয়ার  কল্যাণ সমিতি মতবিনিময় আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শক্তিশালী-সেবা-মনস্ক ও স্বচ্ছ সংগঠন গড়ে তুলতে পরিকল্পনা উপস্থাপন ভান্ডারিয়া কল্যাণ সমিতি,ঢাকা’র উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকায় বসবাসরত ভান্ডারিয়ার পেশাজীবীদের সাথে মতবিনিময় সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাছির উদ্দিন টিপু বলেছেন, ভান্ডারিয়া কল্যাণ সমিতি,ঢাকা কখনোই কোনো প্রকার চাঁদাবাজি, কিংবা কারো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হওয়া বা কোনো ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হয়নি। এটি সর্বদা কল্যাণ, সততা ও সামাজিক মর্যাদার পথে পরিচালিত একটি সংগঠন।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী, সেবা-মনস্ক ও স্বচ্ছ সংগঠন গড়ে তোলার প্রত্যয়ে উপস্থিত পেশাজীবিদের উদ্দেশ্যে সংগঠনের আগামীদিনের পরিকল্পনা তুলে ধরে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঢাকায় সংগঠনের জন্য স্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠা, ভান্ডারিয়ার মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে একটি বৃত্তি তহবিল গঠন, অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা ফান্ড গঠন, ঢাকায় বসবাসরত ভান্ডারিয়ার কৃতী ব্যক্তিত্বদের সংক্ষিপ্ত জীবনীসহ একটি ডিরেক্টরি/গ্রন্থ প্রকাশ, ভান্ডারিয়ার অসহায় পরিবারের পুনর্বাসন, শিড়্গাবৃত্তি বা পেশাগত প্রশিড়্গণ, চিকিৎসা সহায়তার জন্য একটি জাকাত ফান্ড গঠন, ঢাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিচ্ছু, চিকিৎসার জন্য আগত অসহায় ও দরিদ্র ভান্ডারিয়ার বাসিন্দাদের অস্থায়ী আবাসনের জন্য একটি “শেল্টার হোম” নির্মাণ, ছাত্রছাত্রী ও তরম্নণ প্রজন্মের মেধা বিকাশে বিভিন্ন সেমিনার, প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ইত্যাদি আয়োজন, শিক্ষা সমাপ্তির পর তরম্নণদের এসএমই ব্যবসা,বিদেশ গমন ইত্যাদি কর্মমুখী করে তুলতে একটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেল গঠনের কথা তুলে ধরে সকলের সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা কামনা করেন।

ধানমন্ডির স্টার কাবাব এ্যন্ড হেটেল এ অনুষ্ঠিত মতাবানময় সভা সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল আমিন বিন হাসিম এর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কবির এর পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জনাব আবুয়াল হোসেন, সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব জনাব এ টি এম নাছির, বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি জনাব হায়দার আলী, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)র কমিশনার ও সাবেক সিনিয়র জেলা জজ আবদুর রহমান সরদার,দৈনিক ইত্তেফাক এর চীফ এ্যাকাউন্টেন্ট গোলাম আক্তার বেলাল,সিনিয়র আইনজীবী জনাব এ বি এম বায়েজিদ হোসেন, চিকিৎসক ডাঃ গোলাম ফারম্নক,সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব নাজমুস সাআদাত,ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ডিজাইন এ্যান্ড সার্ভিস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড.তরিকুল ইসলাম,জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জনাব খলিলুর রহমান খলিল, ভান্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার, সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব আলিমুজ্জামান হীরম্ন।

ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্সুইরেন্স পিএলসি এর এ্যাসিস্টান্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব কামাল খান,বাংলালিংক এমপ্লইজ ইউনিয়ন সভাপতি গোলাম মাহমুদ সোহাগ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ শহীদুল আলম, শিক্ষক ও কবি সালমা আহমেদ হীরা ও ঢাকাস্থ ভান্ডারিয়া সোসাইটির (ডিবিএস) এর আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন দুলাল প্রমূখ। সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মরহুম হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন সময়ে ইšেত্মকাল করা ব্যাক্তিদের রম্নহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দুআ ও মোনাজাত করা হয়।




রাঙ্গুনিয়ায় সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় হেমন্তকাল কবিতা উৎসব ও পিঠা উৎসব-২০২৫

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ হেমন্তের কোমল রোদ, শীতের আগমনী বার্তা আর সাহিত্যপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছিল চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা। শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুমাইবিলে রাঙ্গুনিয়া সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় হেমন্তকাল কবিতা উৎসব ও পিঠা উৎসব-২০২৫।
উৎসবে অংশ নেন উপজেলার বিভিন্ন প্রজন্মের কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। কবিতা পাঠ, সংগীত, পিঠা উৎসব ও কবিতা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজন পরিণত হয় মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া সাহিত্য পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি কবি পারভীন আক্তার এবং সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শাহী মুহাম্মদ ইলিয়াছ।
আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন পরিষদের উপদেষ্টা মাস্টার মুহাম্মদ সেলিম, রহিম উদ্দিন সিকদার, সমিরণ বড়ুয়া, পুষ্প বড়ুয়া,পরিষদের পক্ষে  আব্দুল কাইয়ুম, মোরশেদ আলম, সাংবাদিক মুহাম্মদ তৈয়্যবুল ইসলাম, শান্ত বড়ুয়া আপন, নাছিমা আক্তার শিল্পী, সাদিয়া সেলিম, সানজিদা আক্তার লিজা, রুমি আক্তার, শেখ রায়হান আকাশ, সুজয় বড়ুয়া, ও জাহেদুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সাহিত্য চর্চা একটি সমাজের সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতিফলন। কবিতা, গান ও গল্পের মাধ্যমে মানুষ নিজেকে ও সমাজকে নতুনভাবে চিনে। রাঙ্গুনিয়ার তরুণ কবি ও লেখকদের মধ্যে এই আয়োজন নব উদ্দীপনা যোগাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় কবিদের পরিবেশনায় কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামীণ স্বাদের পিঠা প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
হেমন্তকাল কবিতা প্রতিযোগিতায় প্রথম কবি ও শিক্ষক নোমান জাভিদ তালুকদার, দ্বিতীয় কবি নাছিমা আকতার শিল্পী, তৃতীয় কবি সুজয় বড়ুয়া এবং শিশুদের মধ্যে কবিতা পাঠ করে পুরষ্কার পান আয়শা সিদ্দিকা জান্নাত। অতিথিরা বিজয়ীদের পুরস্কার তুলে দেন।
স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমীদের মতে, এই আয়োজন রাঙ্গুনিয়ার সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য অনুরাগে উদ্বুদ্ধ করবে।



মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলিয়ে দিতে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সোমবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট কমান্ড আয়োজিত জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোকে মুছে দিতে চাওয়া হচ্ছে, কিন্তু সেই ইতিহাস কখনো ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। আমরা বুকের ভেতর মুক্তিযুদ্ধকে বয়ে বেড়াচ্ছি। এটি আমাদের অস্তিত্বের অংশ।’

তিনি আরও বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মা-বোনদের পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছিল বা হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যায় সহযোগিতা করেছিল, তাদের সঙ্গে কোনো আপস হতে পারে না। এরা বারবার মুখ বদলে সামনে আসছে এবং দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চায়।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল সতর্ক করে বলেন, ‘নির্বাচনকে বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে। নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া মানে দেশের সর্বনাশ ডেকে আনা। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।’

সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিমের সভাপতিত্বে, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঈম জাহাঙ্গীর, সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহম্মদ খান, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলীসহ জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




২০২৬ সালের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি

ডেস্ক নিউজঃ আগামী ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সরকারি ও আধা-সরকারি অফিসগুলোতে মোট ২৮ দিনের ছুটি থাকবে। এই ছুটির মধ্যে সাধারণ ছুটি এবং নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে প্রতিটি ১৪ দিন করে, যা গত রোববার (৯ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষণা করেছে।

এছাড়া ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়েছে। মুসলিম কর্মচারীরা নিতে পারবেন ৫ দিন, হিন্দু ধর্মের কর্মচারী ৯ দিন, খ্রিষ্টান ধর্মের জন্য ৮ দিন, বৌদ্ধ ধর্মের জন্য ৭ দিন, আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ২ দিন। তবে প্রত্যেক কর্মচারী তার নিজ ধর্ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ দিনের ঐচ্ছিক ছুটি বছরের শুরুতেই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে নিতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যারা সরকারের কর্তৃক অত্যাবশ্যক হিসেবে ঘোষিত অফিসে কর্মরত বা নিজস্ব আইন-কানুন অনুযায়ী পরিচালিত অফিসে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়মে ছুটি ঘোষণা করতে পারবে।

গত ৬ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দেয়। মোট ছুটির মধ্যে ৯ দিন সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।




ঢাকা ওয়াসায় ‘পছন্দের’ এমডি বসাতে নতুন নাটক: আব্দুস সালামকে নিয়োগে শর্ত বদল, সাক্ষাৎকারও বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা ওয়াসার নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে বিতর্ক। সংস্থার বর্তমান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সালাম ব্যাপারীকে এই পদে বসানোর জন্য নানাভাবে প্রক্রিয়া বদলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে— তাঁর যোগ্যতা নিশ্চিত করতে একাধিকবার নিয়োগের শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে, এমনকি তাঁকে দ্রুত পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছে।

ওয়াসার সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা ছিল, যোগ্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। কিন্তু সেটি মানা হয়নি। ৩৭ জন আবেদনকারী থাকার পরও কাউকে ডাকা হয়নি। বরং সরাসরি তিনজনের তালিকা তৈরি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যেখানে প্রথমেই রাখা হয়েছে আব্দুস সালামের নাম। এরপর সেই তালিকাই প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

তবে মন্ত্রণালয় বা ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ নিয়ে মুখ খুলছেন না। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মীর আবদুস শহিদ এবং ওয়াসার সচিব মশিউর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ওয়াসার ভেতরের অনেক কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়াকে ‘পছন্দের লোক বসানোর খেলা’ বলছেন। তাঁদের অভিযোগ, আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, যার কারণে তাকসিম এ খানের সময়ে তাঁকে প্রায় চার বছর সংযুক্ত অবস্থায় (ওএসডি’র মতো) বসিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে বিগত সরকারের পতনের পর তিনি নিজেকে ‘বঞ্চিত কর্মকর্তা’ দাবি করে প্রভাব খাটিয়ে নিজের বিরুদ্ধে থাকা বিভাগীয় মামলা প্রত্যাহার করান।

তবে আব্দুস সালাম নিজেকে সবচেয়ে যোগ্য দাবি করে বলেন, “ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশল কাজে আমার মতো অভিজ্ঞ কেউ নেই। অন্য কেউ এ দায়িত্ব নিলে কাজ চালানোই কঠিন হবে।”

ঢাকা ওয়াসায় বর্তমানে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চলমান, যেখানে এমডি ও প্রকল্প পরিচালকের পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়।

তাকসিম এ খানের দীর্ঘ ১৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর (২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত) ওয়াসায় আর স্থায়ী এমডি নিয়োগ হয়নি। তিনি দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগে বিতর্কিত হয়ে গত বছর সরকারের পতনের পর পদত্যাগ করেন। তাঁর পর থেকে তিনজন কর্মকর্তা অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু এখনো কেউ স্থায়ীভাবে নিয়োগ পাননি।

প্রথমে ২১ মার্চ এমডি পদে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, যেখানে বলা হয়েছিল ৬০ বছরের বেশি বয়স হলেও অভিজ্ঞ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তখন আব্দুস সালাম চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি অযোগ্য ছিলেন। কিন্তু মাত্র দুই দিন পর ২৩ মার্চ নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সেই শর্তই বদলে ফেলা হয়— এখন বয়স ৬০ বছরের বেশি হলে আবেদন করা যাবে না। এতে অনেক অভিজ্ঞ প্রার্থী বাদ পড়ে যান। এরপর তাঁকে দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে তৃতীয় গ্রেডে তোলা হয়, যাতে পরের বিজ্ঞপ্তিতে তিনি যোগ্য হয়ে যান।

সর্বশেষ ১৫ জুলাই নতুন বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আবেদন করেন, আর কোনো সাক্ষাৎকার ছাড়াই তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তাঁর নাম শীর্ষে উঠে আসে। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান এবং তৃতীয় স্থানে এলজিইডির সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হক।

বর্তমানে ওয়াসার পরিচালনা বোর্ড না থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে তথাকথিত ‘কর্মসম্পাদন সহায়তা কমিটি’। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহান, আর সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করছেন ওয়াসার সচিব মশিউর রহমান খান। কমিটিতে আরও আছেন জনপ্রশাসন, অর্থ, পানিসম্পদ ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এবং ছাত্র প্রতিনিধি আহনাফ সাঈদ খান।

এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে ইতিমধ্যে আদালতে রিট হয়েছে। মো. লিয়াকত আলী নামের একজন আবেদনকারী হাইকোর্টে রিট করলে, আদালত ৩ নভেম্বর নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে রুল জারি করেন।

নগর–পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেছেন, “পছন্দের মানুষ বসানোর প্রতিযোগিতা যদি সরকারি সংস্থাগুলোর সংস্কৃতিতে পরিণত হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হবে। এটি সৎ কর্মকর্তাদের নিরুৎসাহিত করে এবং জনগণের সেবাকে প্রভাবিত করে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারের উচিত স্বচ্ছ নিয়োগনীতি তৈরি করা এবং যাঁরা এই কৌশলগত নিয়োগের পেছনে রয়েছেন, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা।”




বৈজ্ঞানিক সহকারী পদে নিয়োগ দুর্নীতিতে ৪৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ২০১৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)-র বৈজ্ঞানিক সহকারী পদে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি গোপন দুর্নীতি চিত্র উঠে এসেছে।

সেই সময় মোট ২০টি শূন্য আসনে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। স্বাভাবিক নিয়মে বাছাই কমিটি লিখিত পরীক্ষার নম্বর, কোটাসহ বিভিন্ন মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে ১৮ জন প্রার্থীর নিয়োগ সুপারিশ করেছিল। পরে সেই সুপারিশ অনুযায়ী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্তে দেখা গেছে, সুপারিশপ্রাপ্ত ওই ১৮ জনের বাইরে ৪২ জন প্রার্থীকে সম্পূর্ণ অনিয়মভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা কেউ আবেদন করেনি, কেউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি — তবু নিয়োগ পেয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, ২৫ জন লিখিত পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি। ১৪ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও সাক্ষাৎকারে ফেল হয়েছেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর হলো— ৩ জন একদমই আবেদন করেনি, তবুও নিয়োগ পেয়েছে।

এই নিয়ে বারি-র সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) সহ মোট ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য আজ সোমবার দুদকের কার্যালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনিয়মের এ ধারা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতায় বড় প্রশ্ন উঠেছে, যা নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।