চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, উদ্বিগ্ন ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টিরোল ফাইটার জেট ক্রয়ের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার আকাশসীমায় এক বিশাল কৌশলগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তিটিকে নয়াদিল্লি কেবল একটি সাধারণ সামরিক কেনাকাটা হিসেবে দেখছে না, বরং এটিকে ভারতের চারপাশে চীনের সামরিক বেষ্টনী বা ‘কৌশলগত ঘেরাও’-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের আলোচনাকে গতিশীল করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারও এই প্রতিরক্ষা নীতি সচল রেখেছে। এই চুক্তি ঢাকা ও বেইজিংয়ের সামরিক সম্পর্ককে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, যা ভারতের পূর্ব সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা সমীকরণ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে এই চুক্তিটি করা হচ্ছে। বিমান বাহিনীর বর্তমান বহরে থাকা পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান পরিবর্তন করে আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এই আধুনিক ফাইটার জেটগুলো অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।

প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই চুক্তিটির অর্থ আগামী ১০ বছরের সহজ কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। এর ফলে জাতীয় রাজস্বের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো বড় চাপ ছাড়াই বাংলাদেশ তার সামরিক বাহিনীকে আধুনিক করার সুযোগ পাচ্ছে। ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ফাইটার জেটগুলো বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই প্যাকেজের আওতায় শুধু যুদ্ধবিমানই নয়, বরং লজিস্টিকস, পাইলট ও ক্রু ট্রেনিং, দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নত যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করবে চীন, যা দুই দেশের সামরিক নির্ভরতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করবে।

বাংলাদেশের এই সামরিক আধুনিকায়ন ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করেছে সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা সামরিক পরিভাষায় ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। ভারতের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের আশঙ্কা, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় বিমান ঘাঁটিগুলোতে এই আধুনিক চীনা ফাইটার জেট মোতায়েন করা হলে তা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার জন্য বড় মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করবে। ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান ইতিপূর্বেই চীন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্ভাব্য ‘স্বার্থের মিলন’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, যা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা নীতিকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে।

‘অপারেশন সিন্দুর’ এবং জে-১০সিই-এর যুদ্ধক্ষমতা

জে-১০সিই মূলত একটি ৪.৫ প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত সংক্ষিপ্ত আকাশযুদ্ধ ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর জে-১০সি ফাইটার জেটের দুর্দান্ত কার্যকারিতা প্রদর্শনের পর এই বিমানের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ, বিশেষ করে বাংলাদেশের আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়।

এই ফাইটার জেটটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে রাডারে সজ্জিত, যা একসাথে একাধিক লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে এবং শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া বিমানটি চীনের তৈরি দূরপাল্লার বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল ‘পিএল-১৫’ ছুঁড়তে সক্ষম, যা যেকোনো আধুনিক পশ্চিমা বা রুশ বিমানকে আকাশযুদ্ধে বড় চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। উন্নত ডেটা লিংক এবং এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের মাধ্যমে এটি যুদ্ধক্ষেত্রে নিখুঁত নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক সমন্বয় তৈরি করতে সক্ষম।

বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক টানাপোড়েন

বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের ৭০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে চীন। সাবমেরিন, ট্যাংক, মিসাইল সিস্টেম এবং যুদ্ধজাহাজের পর এবার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ইকোসিস্টেমে চীনের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা এসেছে।

ট্রানজিট, বাণিজ্য, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে যখন দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের কূটনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই চীনের সাথে এই মেগা চুক্তি বেইজিংয়ের প্রতি ঢাকার কৌশলগত ঝুঁকে পড়াকেই নির্দেশ করে। যদিও বেইজিংয়ের সাথে এই চুক্তিকে বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে এবং ভারতের বিরুদ্ধে কোনো জোটে শামিল হওয়া এর উদ্দেশ্য নয় বলে মনে করে ঢাকা।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিযোগিতামূলক নিরাপত্তার নতুন যুগ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য এবং সীমান্ত সুরক্ষায় পারস্পরিক নির্ভরতা থাকার কারণে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে সম্পর্কের ধরনটি আগের ‘বিশেষ বন্ধুত্ব’ থেকে বদলে গিয়ে এখন অনেকটাই আনুষ্ঠানিক, সতর্কতামূলক ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট রূপ নিতে যাচ্ছে। ২০টি জে-১০সিই ফাইটার জেট ক্রয়ের এই সিদ্ধান্ত কেবল বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং এটি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে চীনের ভূরাজনৈতিক প্রভাবকে আরও দৃশ্যমান করবে। এর ফলে, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন একটি নতুন এবং অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক যুগে পদার্পণ করছে, যেখানে প্রতিটি দেশের সামরিক সিদ্ধান্তই আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে পুনর্নির্ধারণ করছে।




হরমুজ প্রণালিতে দুই মাসে সর্বোচ্চ জাহাজ চলাচল, স্বস্তির ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দুই মাসের মধ্যে এই নৌপথে এখন সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক জাহাজ পারাপার দেখা গেছে।

সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এএক্সএসমেরিন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার এই প্রণালি দিয়ে ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে। গত ১৮ এপ্রিলের পর কোনো এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। জুনের প্রথম ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৭.৬টি জাহাজ চলাচল করেছিল। সেই তুলনায় এই সংখ্যা পাঁচ গুণের বেশি।

এই বৃদ্ধি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতার পর। চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত আলোচনাটি স্থগিত হওয়ার আগেই এই জাহাজ চলাচল বাড়তে শুরু করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতের সময় ইরান কার্যত এই প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এ সময় জাহাজে একাধিক হামলার ঘটনাও ঘটে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বাড়ে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়।

যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করত। শান্তিকালে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। ৫০০টির বেশি জাহাজ ও প্রায় ১১ হাজার নাবিক এখনো উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে আছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও পরিবহন খাত প্রথমে এই উন্নতির সুফল পাবে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।




দুপুরে অভাবের সংসারে ঝগড়া, বিকেলে একসঙ্গে ঝুলছিল স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ

ডেস্ক নিউজ : নাটোরের একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে নাটোর সদরের ঢালান এলাকার একটি বাসা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

উভয় পরিবারের কারো কোন অভিযোগ না থাকায় পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই সুরতহাল রিপোর্ট শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে নিহত স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে নাটোর সদরের ঢালান এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে অটোরিকশা চালক রাকিব হোসেনের (২২) সঙ্গে একই এলাকার আজিজুল ইসলামের মেয়ে লিজা খাতুনের (২১) দুবছর আগে বিয়ে হয়। বনিবনা না হওয়ায় তাদের ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। পরে দুপক্ষের সমঝোতায় আবার তারা সংসার শুরু করেন। শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে রাকিব হোসেন বাড়ি ফিরে স্ত্রী লিজা খাতুনের সঙ্গে নিজের ঘরেই অবস্থান করছিলেন।

এ সময় পরিবারের অভাব অনটন নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলেও দুজন ঘরের মধ্যেই অবস্থান করেন। বিকেলে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হলে ঘরের দরজা-জানালার ফাঁকা দিয়ে দেখতে পান দুজনের মরদেহ কক্ষের সিলিংয়ে থাকা টিনে বাঁশের সঙ্গে এক ওড়নায় ঝুলে আছে। নাটোর থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙ্গে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

নাটোর থানার ওসি মো. মুনসুর রহমান শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




ব্রাজিল বনাম হাইতি: কার পাল্লা ভারী?

ক্রীড়া ডেস্ক : ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের দল হাইতি। প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় দুই দলের জন্যই এই ম্যাচের গুরুত্ব বেড়ে গেছে।

আসরের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলের পরাজয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে হাইতি। প্রথম ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের সংগ্রহ ১ পয়েন্ট, আর হাইতি এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। ফলে শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে উভয় দলের জন্যই এই ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান অবশ্য ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও হাইতি। তিনটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে ব্রাজিল। সর্বশেষ ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকায় হাইতিকে ৭-১ গোলে পরাজিত করেছিল সেলেসাওরা।

এই ম্যাচে জয় পেলে ব্রাজিলের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৪। সেক্ষেত্রে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে নকআউট পর্বে ওঠার পথে বড় সুবিধা পাবে তারা। তবে ড্র কিংবা পরাজয় হলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে কঠিন সমীকরণের মুখে পড়তে হতে পারে ব্রাজিলকে।

সম্ভাব্য একাদশ
ব্রাজিল : অ্যালিসন বেকার, দানিলো (অথবা রজার ইবানেজ), মারকুইনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ডগলাস সান্তোস, ব্রুনো গিমারায়েস, লুকাস পাকুয়েতা, ফাবিনহো (অথবা ক্যাসেমিরো), রাফিনহা, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ইগর থিয়াগো (অথবা মাথিউস কুনহা)।

হাইতি : জনি প্লাসিডো, মার্টিন এক্সপেরিয়েন্স, রিকার্ডো অ্যাডে, হ্যানেস ডেলক্রোইক্স, কার্লেন্স আর্কাস, জিন-রিকনার বেলেগার্ডে, ড্যানলি জিন জ্যাক, রুবেন প্রভিডেন্স, জোসু কাসিমির, লুইসিয়াস ডিডসন, উইলসন ইসিডোর।




মাত্র এক সপ্তাহেই পেছনে পড়ল দুই বিশ্বকাপ, ভাঙনের মুখে ২০ বছরের পুরনো রেকর্ড!

ক্রীড়া ডেস্ক : মাঠে রেফারির কঠোর অবস্থান আর খেলোয়াড়দের ভুলে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে হু হু করে বাড়ছে লাল কার্ডের সংখ্যা। চলতি আসরের প্রথম ৭ দিনে মাত্র ২৭টি ম্যাচ শেষ হতেই লাল কার্ডের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২০১৮ ও ২০২২ সালের পুরো বিশ্বকাপের রেকর্ডকে। এভাবে চলতে থাকলে ২০০৬ সালের এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৮টি লাল কার্ডের বিশ্বরেকর্ডও এবার ভেঙে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার রেকর্ডটি হয়েছিল ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে, যেখানে মোট ২৮টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। এর বিপরীতে গত দুটি আসরে কার্ডের সংখ্যা ছিল বেশ কম; ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে পুরো টুর্নামেন্ট মিলিয়ে লাল কার্ড ছিল মাত্র ৪টি করে। তবে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে মাত্র ২৭ ম্যাচেই রেফারিরা ৫টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন, যার প্রতিটিই ছিল সরাসরি (স্ট্রেট) লাল কার্ড। এর ফলে পেনাল্টি, বক্সের বাইরে বিপজ্জনক সেট পিস এবং একজন কম নিয়ে খেলার কারণে দলগুলোকে মাঠের ভেতরে বড় খেসারত দিতে হচ্ছে।

সাবেক ফিফা রেফারি ও ফক্স স্পোর্টসের নিয়ম বিশ্লেষক মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গ লাল কার্ডের এই আকস্মিক বৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, “খেলোয়াড়দের আচরণ খারাপ এমনটি নয়; বরং পেনাল্টি বক্স ও তার আশেপাশে প্যানিক বা হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে তারা ভুল করে বসছে। তবে এখন স্কোয়াডে ২৬ জন খেলোয়াড় রাখার নিয়ম থাকায় দলগুলো সহজেই নিষেধাজ্ঞা পাওয়া খেলোয়াড়ের বিকল্প খুঁজে নিতে পারছে।”

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যে ৫ জন ফুটবলার লাল কার্ডের কবলে পড়েছেন:

  • স্পেফেলো সিথোলে (দক্ষিণ আফ্রিকা): উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর ব্রায়ান গুটিয়ারেজকে গোল করা থেকে আটকাতে গিয়ে শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে ফাউল করে টুর্নামেন্টের প্রথম লাল কার্ডটি দেখেন তিনি।
  • থেম্বা জওয়ানে (দক্ষিণ আফ্রিকা): মেক্সিকোর বিপক্ষেই একই ম্যাচে ব্রায়ান গুটিয়ারেজের মাথায় আঘাত করায় সরাসরি লাল কার্ড পান তিনি। ফিফা তাঁর এই ফাউলকে ‘সহিংস আচরণ’ (আর্টিকেল ১৪) হিসেবে গণ্য করে নিষেধাজ্ঞা এক ম্যাচ থেকে বাড়িয়ে তিন ম্যাচ করেছে।
  • সিজার মন্তেস (মেক্সিকো): দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের ইনজুরি সময়ে খুলিসো মুদাওকে ফাউল করে মেক্সিকোকে ১০ জনের দলে পরিণত করেন এই ডিফেন্ডার।
  • তারিক মুহারেমোভিচ (বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা): সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রেল এমবোলোকে গোলরক্ষকের সাথে ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে যাওয়ার মুহূর্তে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে মাঠ ছাড়েন তিনি।
  • অসিম মাদিবো : সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ইসমায়েল কোনের ওপর একটি মারাত্মক ও ভুল টাইমিংয়ের ট্যাকল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি, যার ফলে কোনেকে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়।

এছাড়াও কাতারের হোমাম আহমেদ এই তালিকায় রয়েছেন, যিনি বক্সের ঠিক বাইরে তাজন বুকাননকে ফাউল করে মাঠ ছাড়ার পরপরই গোল হজম করে তাঁর দল। টুর্নামেন্ট কেবল শুরু হওয়ায় রেফারিদের এই কড়া মনোভাব বাকি ম্যাচগুলোতে দলগুলোর কৌশলে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।




‘রকস্টার’কে টপকে মাল্টিপ্লেক্সে রাজত্ব করছে ‘রইদ’

বিনোদন ডেস্ক : ঈদের তারকাবহুল সিনেমার ভিড়ে বক্স অফিসে এখন চলছে ছকভাঙা গল্পের নীরব জয়জয়কার। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে শাকিব খানের তারকা-প্রভাবে আজমান রুশোর ‘রকস্টার’ প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তুললেও, দুর্বল চিত্রনাট্যের কারণে দ্রুতই এর আবেদন কমতে শুরু করেছে।

ঠিক তখনই গল্প ও নির্মাণের মুন্সিয়ানা দেখিয়ে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’। ফলস্বরূপ, ঈদের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মাল্টিপ্লেক্সে দর্শক চাহিদার পাশাপাশি আয়ের দৌড়েও ‘রকস্টার’কে পেছনে ফেলে দিয়েছে এই সিনেমাটি।

মুক্তির ২১তম দিনে দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলোর অনলাইন বুকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘রকস্টার’-এর ২২টি শো থেকে টিকিট বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকার। অন্যদিকে, প্রবল দর্শক আগ্রহের কারণে প্রতিদিন ২৮টি শো নিয়ে দাপট দেখাচ্ছে ‘রইদ’। শুধু তাই নয়, ২১তম দিনে ছবিটির আয় হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা, যা শাকিব খানের ‘রকস্টার’-এর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

শুরুতে বিপুল সাড়া পাওয়ায় মোট আয়ের অঙ্কে ‘রকস্টার’ কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, নির্মাণব্যয়ের দিক থেকে লগ্নিকৃত টাকা তুলে আনার ক্ষেত্রে বাজিমাত করেছে ‘রইদ’। তা ছাড়া দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও সিনেমাটির প্রদর্শনী হচ্ছে দেদার, যা থেকে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ভিন্নধর্মী গল্পের সিনেমা ‘রইদ’-এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, নাজিফা তুষি, গাজী রাকায়েত ও আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ। অন্যদিকে অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার ‘রকস্টার’ ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে রয়েছেন সাবিলা নূর ও তানজিয়া জামান মিথিলা, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে কাজী সাবির ও তারিক আনাম খানকে।




সমতায় বাঁচল দক্ষিণ আফ্রিকা, বিশ্বকাপে টিকে থাকার আশা জিইয়ে রাখল

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে। ফলে দুই দলই এক পয়েন্ট করে পেলেও নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখনও বেঁচে রয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে চেক প্রজাতন্ত্র। এরই ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ মিনিটে ১৮ গজ দূর থেকে নিচু শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মাইকেল সাদিলেক। এটি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম দ্রুততম গোল।

প্রথমার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা সমতায় ফেরার কয়েকটি সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। বিরতির পর চেক প্রজাতন্ত্র ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস তা ঠেকিয়ে দেন।

শেষ পর্যন্ত ৮৩তম মিনিটে ম্যাচে ফেরে দক্ষিণ আফ্রিকা। থাপেলো মাসেকোর শট পাভেল শুল্কের হাতে লাগলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক থেকে কোনো ভুল না করে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তেবোহো মোকোয়েনা।

যোগ করা সময়ে জয়ের সুযোগও পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, তবে এভিডেন্স মাকোপোর শট চেক গোলরক্ষক সহজেই প্রতিহত করেন। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।

প্রথম ম্যাচে হেরে আসা দুই দলই এই ড্রয়ের মাধ্যমে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল। ফলে শেষ ম্যাচে জয় পেলে পরবর্তী পর্বে ওঠার সুযোগ থাকবে তাদের। অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে ৩ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া।




পুশ-ইন বন্ধে বাংলাদেশ–ভারতকে আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সীমান্তে পুশ-ইনের কারণে শূন্যরেখায় অবস্থানরত মানুষের মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা অপরিহার্য বলে মনে করে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিবের পক্ষে অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আলোচনার আহ্বান জানান।

এদিন সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হয়, সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত নারী ও শিশুরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের অবস্থান কী?

জবাবে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, সীমান্তে অবস্থানরত মানুষের মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে ‘পুশইন’ ইস্যু নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পরিচয় যাচাই ছাড়াই কিছু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে, যাদের অনেকেই সীমান্ত এলাকায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।




লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় দিন দিন প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩৯১২ জন মারা গেছেন। এছাড়াও ইসরায়েলি হামলায় ১১ হাজার ৮৭৩ জন আহত এবং ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের সর্বশেষ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শত শত শিশু, নারী এবং স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন।

এদিকে, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আগামীকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং কামান থেকে দক্ষিণ লেবাননের শহরগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র : আল-জাজিরা।




বাজেটে অভিযোজন খাতে জলবায়ু ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ বরাদ্দ

ডেস্ক নিউজ : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজন খাতে ৩৮ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ। এই বরাদ্দ মোট জলবায়ু-সংক্রান্ত ব্যয়ের ৭৫.২ শতাংশ। বাংলাদেশ জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭- এ তথ্য উঠে এসেছে।

এ বরাদ্দের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ উন্নয়ন, উপকূলীয় সুরক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বিনিয়োগের ওপর সরকারের বিশেষ গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশই অভিযোজন খাতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়েছে।

অভিযোজন খাতের ব্যয়ের একটি বড় অংশ দেশীয় উৎস থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ৭০ শতাংশ অভিযোজন প্রকল্প বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছে, যা জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি কমাতে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জলবায়ু ব্যয়ের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক চালিকাশক্তি। এ তিনটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে দেশের মোট জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের ৫৩ শতাংশের বেশি পরিচালনা করছে, যা অভিযোজনমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাদের কেন্দ্রীয় ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।

তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি উদ্যোগ, স্থানীয় পর্যায়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি থেকে জনগণকে সুরক্ষার বিভিন্ন ব্যবস্থা।

‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট বাজেট রিপোর্ট ২০২৬-২৭’-এর ভূমিকায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশের উন্নয়ন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জলবায়ু অর্থায়নের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জলবায়ু ঝুঁকি এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অভিযাত্রা এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে জলবায়ু অর্থায়ন শুধু সহায়তার উৎস নয়; বরং এটি সহনশীলতা, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

অভিযোজনকেন্দ্রিক এ বরাদ্দ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বর্ণিত সরকারের বৃহত্তর নীতিগত অগ্রাধিকারের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি জলবায়ু সহনশীলতা এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনাকে দেশের অন্যতম প্রধান কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় বাজেট ১০টি কৌশলগত অগ্রাধিকারকে কেন্দ্র করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে জীবন, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই, সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা অন্যতম।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’

অভিযোজন খাতে বরাদ্দ এ নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়নেরই প্রতিফলন, যেখানে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। বিশেষ করে বন্যা ব্যবস্থাপনা ও পানি সম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে জলবায়ুজনিত পানিসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়ে।

পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অভিযোজন বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সেচ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে।’

জলবায়ু বাজেটে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা চলমান উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসও অভিযোজন ব্যয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। প্রতিবেদনে উপকূলীয় সুরক্ষা ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকে জলবায়ু অর্থায়নের প্রধান খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার লক্ষ্য জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে প্রস্তুতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করা।

অর্থমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘তাই সরকার টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে অধিক গুরুত্বারোপ করেছে।’

অভিযোজন কৌশলের আওতায় জলবায়ুর প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে তারা পরিবেশগত অভিঘাত মোকাবিলা করতে পারে।

বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যেখানে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। উপকূলীয় সুরক্ষায় জলবায়ু বাজেটের অগ্রাধিকার সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার লক্ষ্য এসব অঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা ও অবকাঠামো রক্ষা করা।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

বন্যা ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ, উপকূলীয় সুরক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি এবং সামাজিক সুরক্ষাকে বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। আর জলবায়ুসংশ্লিষ্ট মোট ব্যয়ের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি অভিযোজন খাতে বরাদ্দ এবং এর বড় অংশ দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জলবায়ু বাজেট এটাই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।