ডেঙ্গুতে মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি তরুণ

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েই চলছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৩০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭৭,০০০। উদ্বেগজনকভাবে, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মধ্যে ৫৩ শতাংশই তরুণ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগে এত মানুষের মৃত্যু ‘জাতির জন্য লজ্জা’র বিষয়। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)–এর তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণকারীদের ৫৩ শতাংশের বয়স ১৬ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, আর ১৫ শতাংশ হলো শিশু।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির পেছনে তিনটি মূল কারণ রয়েছে—জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং জনসচেতনতার অভাব। তাদের মতে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে টেকসই ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গতকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যদিও এ সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম মুশতাক হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল উপায় হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। আমরা এক টন ময়লা সরাচ্ছি, কিন্তু দশ টন নতুন করে জমছে। নিয়মিত এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যথেষ্ট নয়—আমাদের হাজারো স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের টানা বৃষ্টিপাত এডিস মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি থেমে গেলেও ডেঙ্গু অন্তত আরও দুই মাস চলবে—প্রথম মাসে সংক্রমণ বাড়বে, পরের মাসে ধীরে ধীরে কমবে।’

তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাব চলতে পারে জানুয়ারির মাঝামারি পর্যন্ত।

ডা. মুশতাক আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধযোগ্য রোগ, তবুও মানুষ মারা যাচ্ছে—এটি লজ্জাজনক। আমাদের প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা আছে, কিন্তু সমন্বিতভাবে কাজ না করার কারণেই মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) জানিয়েছে, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল ডেঙ্গু শক সিনড্রোম, এর পরের অবস্থানে ছিল এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম।




ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় তরুণ পার্টির মতবিনিময় সভায় ঐক্যের আহ্বান

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় তরুণ পার্টির উদ্যোগে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তরুণ পার্টির আহবায়ক জাকির হোসেন মৃধা। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন মোড়ল জিয়াউর রহমান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় তরুণ পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মহিন উদ্দিন মন্ডল।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহবায়কবৃন্দ— এডভোকেট সাদেকুর মিয়া, মোঃ মান্নান হাওলাদার, খবীর গাজী, এডভোকেট এনামুল হক, মোঃ তৌহিদ খান, আবুজার ইসলাম ও শ্রী উজ্জ্বল শাহা।

এছাড়া মহানগর নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোঃ আরিফুর রহমান আরমান, মোঃ আবদুল হালিম হাওলাদার, মাহবুব তালুকদার, শরীফ হোসেন, আমির হোসেন, রুহুল আমিন, মিরাজ হোসেন, জাকির হোসেন, মাহবুবর রহমান, মিনারা সুলতানা, সোহেব মুন্সি, আরিফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, নুরে আলম, নাহিদ ইসলাম, জব্বার আহমেদ, এরশাদ চৌধুরী, সাইদুল হক, রমজান আলী ও মেজ্জামেল হক।

বক্তারা বলেন, দেশের রাজনীতিতে তরুণদের ভূমিকা এখন সময়ের দাবি। জাতীয় তরুণ পার্টিকে আরও সংগঠিত, সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ করে তোলার মাধ্যমে জাতীয় পার্টির ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্য ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে দলীয় কর্মকাণ্ডে নব উদ্যমে অংশগ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




দিল্লিতে ভয়াবহ দূষণ, ঢাকায়ও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বাতাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ বিশ্বের বড় শহরগুলোতে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। ভারতের রাজধানী দিল্লি এখন এ দূষণে সবচেয়ে শীর্ষে, আর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাও রয়েছে বিপজ্জনক অবস্থায়।

রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পরিমাপক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, দিল্লির একিউআই (AQI) স্কোর ছিল ৬৩৫, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। এটি বায়ুদূষণের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ স্তর হিসেবে গণ্য।

একই সময়ে ২০৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে ছিল ঢাকা। এই মাত্রার বাতাসকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (স্কোর ৩৫৫), তৃতীয় কুয়েত সিটি (২৫৭) এবং পঞ্চম ইরাকের বাগদাদ (১৭৫)।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।




শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ ও পণ্য চুরি: লোডারদের জালে কার্গো সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের প্রধান বিমানঘাঁটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন লাগেজ গায়েব ও পণ্য চোর সিন্ডিকেটের কবলে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে যাত্রীদের লাগেজ কিংবা রপ্তানি কার্গোর মূল্যবান পণ্য। বহু ফরওয়ার্ডিং কোম্পানি বারবার লিখিত অভিযোগ করেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা পাচ্ছে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা, আর ধীরে ধীরে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের আস্থাও হারাচ্ছে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কার্গো ভিলেজে দামি ব্র্যান্ডের পণ্য চুরির পেছনে বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়। তারা আগে থেকেই জেনে নেয় কোন কোম্পানি কী ধরনের পণ্য রপ্তানি করছে। সেই তথ্য পেয়ে টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে চুরি করে নেয় পণ্য। সিসিটিভি ক্যামেরার সীমিত কভারেজ, নষ্ট ক্যামেরা আর মনিটরিংয়ের ঘাটতির সুযোগে এই চক্র নির্ভয়ে কাজ করছে।

অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা গেছে, চুরি করা মালামাল বেশিরভাগ সময় ওয়্যারহাউজের ময়লার স্তূপে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে ময়লার গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। আবার কেউ কেউ শৌচাগারে গিয়ে পোশাক বদলে পণ্য শরীরে লুকিয়ে বাইরে চলে আসে। কখনো স্ক্যানিংয়ের সময়, কখনো লোডিংয়ের সময়, আবার অনেক সময় ওয়্যারহাউজের বাইরে রেখেও চুরি হয় পণ্য।

চুরি শুধু কার্গো ভিলেজেই নয়—টার্মিনালের ক্যানোপি এলাকাতেও ঘটছে। স্বজনদের জন্য অপেক্ষার জায়গা থেকে অনেক সময় ব্যাগ বা পণ্য উধাও হয়ে যাচ্ছে। ৫ নভেম্বর এমনই এক ঘটনায় ইয়াংওয়ান করপোরেশনের শিপমেন্ট থেকে নয়টি পোশাক চুরি হয়। ফরওয়ার্ডার কোম্পানির উদ্যোগে বাফার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চোরাই পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় চোর সোজা প্রধান গেট দিয়ে বেরিয়ে গেছে।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ব্যক্তি বিমান নিরাপত্তা অফিসে খাদ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করেন, তবে তিনি কোনো স্থায়ী কর্মচারী নন এবং কার্গো ভিলেজে প্রবেশের অনুমতিও ছিল না। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই কাজ করছিলেন। বাফার সুপারভাইজারের সহযোগিতায় চুরি যাওয়া নয়টির মধ্যে ছয়টি পণ্য ফেরত আনা সম্ভব হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কার্গো ভিলেজের অনেক সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো বা ভাঙা অবস্থায় আছে। কিছু ক্যামেরা স্থির অবস্থায় ঘুরছে না, ফলে পুরো জায়গা কভার হচ্ছে না। এমনকি ছাদে ক্যামেরা না থাকায় কার্গোর স্তূপের আড়ালের দৃশ্য অদৃশ্যই থেকে যাচ্ছে। এই সুযোগে চোরচক্র নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, বাফা (Bangladesh Freight Forwarders Association)–এর কিছু সদস্য ছাড়াও বিমানের নিজস্ব লোডাররাও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত। তাদের অনেকে চোরচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা। এমনকি বিমান কর্তৃপক্ষ, সিভিল এভিয়েশন ও সিকিউরিটি কর্মকর্তাদের কাছেও এসব তথ্য আছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।

টাওয়ার ফ্রেইট লজিস্টিক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ১৪ অক্টোবর, ৬ নভেম্বর এবং এর আগেও একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রপ্তানি কার্গো ভিলেজের মহাব্যবস্থাপকের কাছে। গত বছরের মার্চ মাসেও তারা একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু এক বছর পেরিয়েও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে ব্যবসায়ীরা একদিকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারিয়ে রপ্তানি আদেশ প্রতিযোগী দেশগুলোতে চলে যাচ্ছে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঘাঁটি বিমানবন্দর যদি চোরচক্রের কবলে চলে যায়, তাহলে এটি শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের ভাবমূর্তির জন্যও বড় হুমকি। তারা বলছেন, দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে এর প্রভাব রপ্তানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাবে আন্তর্জাতিক মহল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার এ বি বি নোজমুল হুদা জানান, জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগ করতে। কিন্তু জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে বাফার ইনচার্জ আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিক পরিচয় জানার পর ফোন কেটে দেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সিলগালা করা স্ট্রংরুমে রাখা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারের তালা ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ২৭ অক্টোবর জিডি করা হলেও ৪ নভেম্বর বিষয়টি প্রকাশ পায়। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেও কিছু অস্ত্র চুরি গেছে। ওই ঘটনার পর ৫ নভেম্বর আবারও দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য জেনারুল ভস্মীভূত দ্রব্যের মধ্যে লুকানো ১৫টি বাটন ফোন চুরির চেষ্টা করলে পরদিন তাকে আটক করা হয়।




ঢাকার নতুন ডিসি শফিউল আলম

ডেস্ক নিউজঃ মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদলের অংশ হিসেবে ১৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে ঢাকার ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বরগুনার ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আলম।

শনিবার (৮ নভেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে এ নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বদলিকৃতদের মধ্যে বাগেরহাটের ডিসি আহমেদ কামরুল হাসানকে নোয়াখালী, কুষ্টিয়ার ডিসি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনকে হবিগঞ্জ, ভোলার ডিসি মো. আজাদ জাহানকে গাজীপুর, বরগুনার ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আলমকে ঢাকা, সিরাজগঞ্জের ডিসি মুহাম্মদ নজরুল ইসলামকে গাইবান্ধা ও খুলনার ডিসি মো. তৌফিকুর রহমানকে বগুড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহকে বরগুনা, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সচিব (উপসচিব) মো. আমিনুল ইসলামকে সিরাজগঞ্জ, বাণিজ্য উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে মাগুরা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবু সাঈদকে পিরোজপুর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর পাবনার জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতারকে সাতক্ষীরা, স্থানীয় সরকার ফেনীর উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মো. বাতেনকে বাগেরহাট, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) একান্ত সচিব স. ম. জামশেদ খোন্দকারকে খুলনা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনকে কুষ্টিয়া এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব ডা. শামীম রহমানকে ভোলার ডিসি পদে পদায়ন করা হয়েছে।




দেশের ১৫ জেলায় নতুন ডিসি, প্রজ্ঞাপন জারি

ডেস্ক নিউজঃ দেশের ১৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (৮ নভেম্বর) মধ্যরাতে এ নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বদলিকৃতদের মধ্যে বাগেরহাটের ডিসি আহমেদ কামরুল হাসানকে নোয়াখালী, কুষ্টিয়ার ডিসি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনকে হবিগঞ্জ, ভোলার ডিসি মো. আজাদ জাহানকে গাজীপুর, বরগুনার ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আলমকে ঢাকা, সিরাজগঞ্জের ডিসি মুহাম্মদ নজরুল ইসলামকে গাইবান্ধা ও খুলনার ডিসি মো. তৌফিকুর রহমানকে বগুড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহকে বরগুনা, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সচিব (উপসচিব) মো. আমিনুল ইসলামকে সিরাজগঞ্জ, বাণিজ্য উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে মাগুরা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবু সাঈদকে পিরোজপুর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর পাবনার জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতারকে সাতক্ষীরা, স্থানীয় সরকার ফেনীর উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মো. বাতেনকে বাগেরহাট, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) একান্ত সচিব স. ম. জামশেদ খোন্দকারকে খুলনা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনকে কুষ্টিয়া এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব ডা. শামীম রহমানকে ভোলার ডিসি পদে পদায়ন করা হয়েছে।




মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজঃ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজ জেলা পাবনা সদরের আরিফপুর কবরস্থানে তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেছেন। শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন তিনি। 

এর আগে, এদিন সকালে পঞ্চমবারের মতো দুই দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা পাবনায় এসে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে‌ পাবনা জেলা স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাডে পৌঁছান।

এসময় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ এনডিসি এবং রাজশাহী ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান তাকে স্বাগত জানান। পরে পাবনা সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন তিনি।

এর আগে, এদিন সকাল ৯টায় তেজগাঁও হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারযোগে পাবনার উদ্দেশে রওনা দেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, এরপরে রাষ্ট্রপতির নিজ বাসভবনে অবস্থান, নিকট আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎসহ সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। সফরের শেষ দিন রোববার সকালে সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রথমবারের মতো পাবনায় আসছেন‌ মো. সাহাবুদ্দিন। দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এপর্যন্ত ৪ বার জন্মস্থান পাবনা সফর করেন।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই বছরের ১৫ মে পাবনাতে প্রথমবার সফর আছেন। এরপর ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বার, ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি তৃতীয় এবং ৯ জুন চতুর্থবারের মতো পাবনা সফর করেন তিনি।




বছরের শেষে মিলবে টানা ৩ দিনের ছুটি

ডেস্ক নিউজঃ চলতি বছরের শেষ প্রান্তে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে টানা তিন দিনের ছুটি। সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) খ্রিস্টানদের বড়দিনের সরকারি ছুটি পড়েছে। এর পরদিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা তিন দিন বন্ধ থাকছে অফিস।

চলতি বছরের ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এখনো দুটি সাধারণ ছুটি বাকি রয়েছে। তবে নভেম্বর মাসে কোনো সরকারি ছুটি নেই। ডিসেম্বরের দুই ছুটির মধ্যে একটির সঙ্গেই মিলেছে সাপ্তাহিক ছুটি, ফলে তিন দিনের বিরতি উপভোগ করতে পারবেন চাকরিজীবীরা। এর আগে চলতি বছরের সরকারি ছুটির মধ্যে বিজয় দিবস মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) পড়েছে।

২০২৬ সালের ছুটির তালিকাও সম্প্রতি অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। তবে আগামী বছরের মোট ছুটি এবার কমে ২৮ দিন, যার মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে মূল ছুটি হবে ১৯ দিন।




চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজ

ডেস্ক নিউজঃ চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে পাকিস্তান নৌবাহিনী জাহাজ ‘পিএনএস সাইফ’। শনিবার (৮ নভেম্বর) জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছালে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডারের পক্ষ থেকে চিফ স্টাফ অফিসার জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকদের স্বাগত জানান।

নোবাহিনী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এ সময় নৌবাহিনীর সুসজ্জিত বাদকদল ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী ব্যান্ড পরিবেশন করে। জাহাজটিকে স্বাগত জানাতে অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রতিনিধিসহ নৌবাহিনীর স্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ বানৌজা স্বাধীনতা অভ্যর্থনা জানায় তাদের।

বাংলাদেশে অবস্থানকালে জাহাজটির অধিনায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তাসহ একটি প্রতিনিধিদল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কামান্ডার বিএন ফ্লিট, এরিয়া সুপারিনটেনডেন্ট ডকইয়ার্ডের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলে অবস্থানকালীন জাহাজের অফিসার, নাবিক ও প্রশিক্ষণার্থীগণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান, নৌবাহিনী জাহাজ ও ঘাঁটি পরিদর্শন করবেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকগণও পাকিস্তানের জাহাজটি পরিদর্শন করবেন।

পাকিস্তান নৌবাহিনী জাহাজের বাংলাদেশ সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যকার সৌহার্দপূর্ণ দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যায়।

 উল্লেখ্য, শুভেচ্ছা সফর শেষে আগামী বুধবার (১২ নভেম্বর) বাংলাদেশ ত্যাগ করবে জাহাজটি।




রেলওয়ের ওয়াশিং প্ল্যান্টসহ একাধিক প্রকল্পে দুর্নীতির আশঙ্কায় দুদকের বিশেষ অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘ট্রেন স্বয়ংক্রিয় ধৌতকরণ ব্যবস্থা (ওয়াশিংপ্ল্যান্ট)’ প্রকল্পের অধীনে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নয় শুধু তাই—ভাঙ্গা উপজেলার তালকান্দা খালের ওপর নির্মিত সেতু সংযোগ সড়ক, পাশাপাশি সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও অনিয়ম ও সেবার মানহ্রাসের আশঙ্কায় দুদক একটি সঙ্গবদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেছে।

রেকর্ডভিত্তিক সম্ভাব্য অনিয়মের কারণ দেখিয়ে দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

রেলওয়ের প্রকল্পে ২০০টি মিটারগেজ কোচ ও ৫০টি ব্রডগেজ কোচসহ দুটি অটোমেটিক ওয়াশিং প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ওয়াশিং প্ল্যান্ট দুইটির যন্ত্রপাতি সচল থাকলেও সঠিক স্থানে বসানো হয়নি এবং প্রকল্পটির রূপায়ণে অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেই দীর্ঘদিন এটি ব্যবহারবর্জিত অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া ২০১৬ সালে সংশ্লিষ্টভাবে ১৫০টি মিটারগেজ কোচ কেনার প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে; এই খাতে রেকর্ডপত্র চেয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের এক পর্যায়ে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের তালকান্দা খালের ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ বিভাগের কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করা হয়। সেখানে দেখা গেছে—নিচুমানের নির্মাণ সঙ্কুচিত হয়নি, মান নিয়ন্ত্রণে নানা দুর্নীতির আলামত পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে টিম বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

একইসঙ্গে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ব্যাপকভাবে তলানিতে রয়েছে—রুগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন, সেবার মান ও পরিবেশ আশানুরূপ নয়। রেজিস্টার, উপস্থিতি খাতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন করে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, অভিযানে সংগৃহীত তথ্যাবলি পর্যালোচনা করে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।