সাবেক যুবলীগ সদস্য পারভেজ গাজি এখন কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। একসময় আওয়ামী যুবলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত পারভেজ গাজি এখন বিএনপি-ঘরানার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি তিনি মিরপুর থানা কৃষক দলের নবগঠিত কমিটির ৩নং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

‎দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই পারভেজ গাজি, পিতা: মো:মনোহর গাজি, মাতা:পারভীন বেগম, বিএনপি ঘরানার রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। কৃষক দলের স্থানীয় কমিটিতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে মিরপুরের রাজনীতিতে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

‎বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলবদল নতুন কিছু নয়, তবে পারভেজ গাজির মতো পরিচিত নেতার অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অনেকে নতুন দলে যোগ দিয়ে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

‎‎মিরপুরের এই দলবদল ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যা আগামীর নির্বাচনী মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে।




২০২৪ সালের সেরা গীতিকার এ্যাওয়ার্ড পেলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও গীতিকবি রোস্তম মল্লিক

বিনোদন প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন ( বিসিআরএ) এর ৩০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রদত্ত দেশের গুনী শিল্প সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বদের কর্মের স্বীকৃতি ও সম্মাননা অনুষ্ঠান আগামী ৮ নভেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সেগুনবাগিচা ঢাকায় অনুষ্ঠিত যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের সেরা গীতিকার হিসাবে এ্যাওয়ার্ড এর জন্য মনোনীত হয়েছেন দেশের বিশিষ্ট গীতিকবি রোস্তম মল্লিক। উল্লেখ্য যে, গীতিকবি রোস্তম মল্লিক ৪ হাজার গান লিখেছেন।




মিরপুরে রাজউকের অভিযান: ১১টি ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ, বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুরের দক্ষিণ পীরেরবাগ এলাকায় অবৈধ ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে রাজউকের মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। সোমবার (৪ নভেম্বর) রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব বেলাল হোসেন এর নেতৃত্বে এবং জোন-৩/২ এর পরিচালক ও অরথায়জিং অফিসার মাসুক আহমেদ এর উপস্থিতিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

রাজউকের জোন-৩/২ এলাকায় মিরপুর ৩০ ফিট রোড সংলগ্ন ১১টি নির্মাণাধীন ভবনে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ ও সড়ক সংকোচন করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগে ভবনগুলোর সব ধরনের নির্মাণকাজ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ভবনের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযানের সময় দেখা যায়, কিছু ভবন সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় রাস্তার জায়গা দখল করেছে। এ কারণে দুটি ভবনের সীমানা প্রতিস্থ ভেঙে ফেলা হয় এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বেলাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আজকের অভিযানে মোট ৯টি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে এবং ২টি ভবনের বেআইনি সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “রাজউকের ভবন নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন রোধে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান চলবে।”

অরথায়জিং অফিসার মাসুক আহমেদ বলেন, “রাজউকের অনুমোদন ছাড়া কেউ ভবন নির্মাণ করতে পারবে না। আমরা নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং ভবিষ্যতেও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”

অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজউক জোন-৩/২ এর সহকারী অরথায়জিং অফিসার, ইঞ্জিনিয়ার পরিদর্শক মাহবুব কামাল আজম, আলী নূরসহ অন্যান্য পরিদর্শক এবং স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা।




অবসরের ১১ বছর পর কাস্টমসের সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামে অবসরে যাওয়ার এক যুগেরও বেশি সময় পর কাস্টমস বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার আহসান হাবিব ও তাঁর স্ত্রী আসমা সুলতানার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁদের বিরুদ্ধে মোট তিন কোটি টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ থেকে মামলাগুলো দায়ের করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম।

দুদকের তথ্যানুযায়ী, আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত আরও ৫৯ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী আসমা সুলতানার বিরুদ্ধে প্রায় ৩৩ লাখ টাকার সম্পদ গোপন ও ৬৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বাসিন্দা আহসান হাবিব ১৯৮০ সালে কাস্টমস বিভাগে পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ চাকরি শেষে ২০১২ সালে সহকারী কমিশনার পদে উন্নীত হয়ে ২০১৪ সালে অবসরে যান। কর্মজীবনে তিনি ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে তাঁরা দুজনই দুদকের কাছে তাঁদের সম্পদ বিবরণী জমা দেন।

দুদকের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। একই ধারায় তাঁর স্ত্রী আসমা সুলতানার বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা হয়েছে। তবে ওই মামলায় দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় আহসান হাবিবকেও সহযোগী আসামি করা হয়েছে, কারণ তিনি চাকরিরত অবস্থায় অবৈধ অর্থে স্ত্রীর নামে সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্পদ বিবরণীতে আহসান হাবিব নিজ নামে মাত্র ৯ লাখ টাকার কিছু বেশি স্থাবর সম্পদ ও ৫০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী আসমা সুলতানা দেখান প্রায় ২০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ, তবে অস্থাবর সম্পদ নেই বলে দাবি করেন। তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করলেও দুদকের তদন্তে তাঁর ব্যবসার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব মেলেনি।

চাকরিজীবনের এক দশক পরও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রেহাই মিলল না এই সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর। দুদকের তদন্তে এখন দেখা যাবে—তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা কোটি টাকার এই অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয়।




গণপূর্তের ক্ষমতাধর প্রকৌশলী ড. মঈনুল: রাজনীতির ছত্রছায়ায় দুর্নীতির সাম্রাজ্য

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশের সরকারি স্থাপনা নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তর। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতি, ঘুষ, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য আলোচিত-সমালোচিত। এই অনিয়মের পেছনে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে নাম এসেছে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মঈনুল ইসলামের।

ড. মঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি রাজনৈতিক প্রভাব, কমিশন বাণিজ্য ও ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলেই দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক শাস্তি ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকেও বেঁচে গেছেন।

কর্মজীবনের শুরু থেকেই মঈনুলের নানা বিতর্ক ছিল। ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর যখন ১৫তম ব্যাচের অন্য সহকারী প্রকৌশলীরা যোগ দেন, তিনি যোগ দেন ৯ মাস পর—১৯৯৬ সালের ১২ আগস্ট। এরপর এক সময় ২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা নয় বছর আট মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও তিনি চাকরি হারাননি। বরং আপিলের মাধ্যমে পুনর্বহাল হন—যা স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে তাকে “মিস্টার টেন পার্সেন্ট” নামে ডাকা হতো। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পে তিনি ১০ শতাংশ কমিশন নিতেন। শুধু তিনটি বড় প্রকল্প থেকেই তিনি শত কোটি টাকার বেশি সম্পদ গড়ে তুলেছেন। ঢাকায় বিলাসবহুল বাড়ি, বিদেশে ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগ—সবই তার নামে বা পরিবারের নামে আছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও দুবাইয়ে তিনি বিপুল অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ড. মঈনুল ইসলামের নাম উঠে আসে কুখ্যাত ঠিকাদার জি কে শামীমের সিন্ডিকেটের সঙ্গেও। র‌্যাবের হাতে শামীম গ্রেফতারের পর তদন্তে প্রকাশ পায়, গণপূর্তের একাধিক উচ্চপদস্থ প্রকৌশলী এই সিন্ডিকেটের অংশ ছিলেন। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন ভাগাভাগি, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ—সবকিছুতেই জড়িত ছিলেন মঈনুল। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলীরা এক মামলায় ৩১ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হন।

এই সব অভিযোগ তদন্তে নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২০ সালের শেষ দিকে দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে এবং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে। দুদক তার সম্পদের উৎস যাচাই করে অনেক অভিযোগের সত্যতাও খুঁজে পায়।

ড. মঈনুলের দুর্নীতির সঙ্গে আরও যুক্ত ছিল খুলনা অঞ্চলের কিছু কর্মকর্তা। খুলনা গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঠিকাদার মাহবুব মোল্লা লিখিত অভিযোগ দেন—টেন্ডারে অনিয়ম, ঠিকাদার বাছাইয়ে পক্ষপাত ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগে। হাসপাতাল, থানা ভবনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ‘ভুতুড়ে’ মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এটি কেবল একজন কর্মকর্তার নয়, বরং একটি সাংগঠনিক দুর্নীতির চক্র—যেখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও ঠিকাদাররা মিলে “দুর্নীতির সিন্ডিকেট” গড়ে তুলেছেন। তারা সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে, প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয় এবং পরে অর্থ ভাগাভাগি করে নেয়।

ফলে জনগণের করের টাকায় চলা প্রকল্পগুলোর মান দিন দিন কমছে। সৎ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন, আর সাধারণ মানুষ ভুগছে নিম্নমানের নির্মাণকাজের ভোগান্তিতে।

একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা যখন রাজনৈতিক প্রভাবের আশ্রয়ে বছরের পর বছর দুর্নীতি চালিয়ে যেতে পারেন, তখন এটি কেবল তার ব্যক্তিগত অপরাধ নয়—বরং পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর ব্যর্থতার প্রতিফলন। প্রশ্নটা সেখানেই—কোন শক্তি এত বছর ধরে তাকে অদৃশ্যভাবে রক্ষা করেছে?




জাবি শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন জামায়াত নেতা জাহিদুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও রেজিস্টার ড. নাহরিন ইসলাম খানের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. জাহিদুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। বাদীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট আবু তালেব।

অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম বর্তমানে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী। তিনি অভিযোগ করেন, একটি টেলিভিশন টকশোতে ড. নাহরিন ইসলাম তার সম্পর্কে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত মর্যাদা ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

মামলায় বলা হয়, গত ২৫ অক্টোবর গাজী টেলিভিশনের ‘রেইনবো নেশন বনাম ধর্মীয় কার্ড’ নামের এক আলোচনায়, যা সঞ্চালনা করেন কাজী জেসিন, সেখানে ড. নাহরিন ইসলাম জামায়াত নেতা জাহিদুল ইসলামকে নিয়ে ‘মানহানিকর’ বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, বিবিসি বাংলায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের বরাতে জাহিদুল ইসলাম নাকি বলেছিলেন, “আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে গেলে তাদের স্ত্রীদের ওপর জামায়াতের হক রয়েছে”—এমন মন্তব্যের মাধ্যমে বোঝানো হয়, জামায়াত নেতারা নারীলোভী।

তবে প্রকৃতপক্ষে বিবিসি বাংলার ওই সাক্ষাৎকারে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা হয়রানির শিকার হলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে কারও ক্ষতি করা হয়নি। বরং তাদের ধারণা ছিল, আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটাররা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে উঠবে।

অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ড. নাহরিন ইসলাম সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। এতে শুধু আমার নয়, আমার দলের সম্মানও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।”

দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।




খাজনা দিতে গিয়ে প্রতারণা, রসিদে কম টাকা দেখালেন ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন

মিঠাপুকুর প্রতিনিধিঃ রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় চলছে। অভিযোগ উঠেছে—অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন মিয়া সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে রসিদে কম পরিমাণ দেখাচ্ছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই ভুক্তভোগী রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে লতিবপুর এলাকার কামরুজ্জামান অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, জমির খাজনা দিতে গেলে আল-আমিন মিয়া তার কাছে মোট ৩৩ হাজার ৭৫৯ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ২৬ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করলেও রসিদে দেখানো হয় মাত্র দুইটি পরিমাণ—একটি ১ হাজার ৫৬২ টাকা এবং আরেকটি ১ হাজার ৮৭৯ টাকা। বাকি টাকার হিসাব জানতে চাইলে কর্মকর্তা কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ তার।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তাহিয়ারপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মোকলেছুর রহমানও। তিনি জানান, খাজনা বাবদ ৬ হাজার ৮৩ টাকা পরিশোধ করলেও রসিদে লেখা হয় মাত্র ১ হাজার ৮৩ টাকা। তার অভিযোগ, “ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন নানা কৌশলে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন, কিন্তু রসিদে খুব অল্প দেখান।”

স্থানীয়রা জানান, জায়গীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুর্নীতি এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। কোনো কাজ—খারিজ, নামজারি, রেকর্ড সংশোধন বা খাজনা প্রদান—টাকা ছাড়া হয় না। অফিসে একটি দালাল চক্রও কাজ করছে বলে অভিযোগ তাদের। এই চক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ঘুষ দিতে বাধ্য করে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, “এই অফিস এখন ঘুষের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিনের অনুমতি ছাড়া কোনো ফাইল সামনে এগোয় না।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আল-আমিন মিয়া নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আমরা এখন হাতে হাতে টাকা নেই না। সব কিছু অনলাইনে হয়। আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।”

তবে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল আলম বলেন, “ঘটনাটি আগে জানা ছিল না, এখন বিষয়টি অবগত হয়েছি। জেলা প্রশাসকের কাছে যেহেতু লিখিত অভিযোগ গেছে, নির্দেশ পেলেই তদন্ত শুরু হবে।”

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল নিশ্চিত করেছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




চট্টগ্রামে এরশাদ উল্লাহ হামলার লক্ষ্য ছিলেন না: সরকার

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রামে বিএনপির ভোটের প্রচারে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্ত। এতে একজন নিহত ও ওই আসনের বিএনপির প্রার্থীসহ দুই জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, ওই হামলার লক্ষ্য এরশাদ উল্লাহ ছিলেন না। একটি ভ্রান্ত গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন।

বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতের সাংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এই খবর জানানো হয়।

সরকারের ওই বার্তা জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টা নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করে।

সব রাজনৈতিক দল ও তাদের সমর্থকদের শান্ত ও সংযম বজা রেখে ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন শান্তি, মর্যাদা ও ন্যায্যতার পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ার আহবান জানায় সরকার।

বার্তায় বলা হয়, সরকার তার অংশে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে সারা দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।




নাচোল ইউএনও কামাল হোসেন ওএসডি: মুক্তিযোদ্ধা কোটা জালিয়াতি তদন্তে করা হবে ডিএনএ পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামাল হোসেনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে দায়িত্বহীন করা হয়েছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কামাল হোসেনের ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে তার প্রকৃত বাবা-মায়ের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। দুদকের মহাপরিচালক (তদন্ত) মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার ভিত্তিতে জানা গেছে, কামাল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিতে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পেয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতা মো. আবুল কাশেম ও মোছা. হাবীয়া খাতুনের পরিবর্তে চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব ও চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা হিসেবে দেখিয়েছেন। এই কৌশলে তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকরি লাভ করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মা–বাবার পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কামাল হোসেনের ডিএনএ নমুনা তার প্রকৃত মা-বাবা এবং চাচা-চাচির ডিএনএ’র সঙ্গে মিলিয়ে দেখার আবেদন করেন। আদালতের অনুমতির পর দুদক এই পরীক্ষার অনুমোদন দেয়। দুদক সূত্র জানায়, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে এবং অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।




বাংলাদেশে পুলিশ সংস্কারে সহায়তার প্রস্তাব আয়ারল্যান্ডের

ডেস্ক নিউজঃ আয়ারল্যান্ড বাংলাদেশের চলমান পুলিশ সংস্কার প্রচেষ্টায় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভাগাভাগি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে দায়িত্বশীল ও অধিকারভিত্তিক শাসন জোরদারের প্রচেষ্টায়ও আয়ারল্যান্ড পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতে এ প্রস্তাব দেন আয়ারল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত কেভিন কেলি এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম পুলিশ অমবোডসম্যান ব্যারোনেস নুয়ালা ও’লোন।

দুই দিনের বাংলাদেশ সফরে থাকা ব্যারোনেস ও’লোন ১৯৯৮ সালের ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’র পর সাত বছর উত্তর আয়ারল্যান্ডের পুলিশ ওমবডসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঐ সময়ের দীর্ঘকালীন সংঘাতের পর পুলিশের ভূমিকা এবং জনগণের আস্থার নতুন কাঠামো গড়ে ওঠে।

ব্যারোনেস ও’লোন বলেন, ‘আয়ারল্যান্ডের সংঘাত পরবর্তী অভিজ্ঞতা, ধৈর্য, অংশগ্রহণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দীর্ঘমেয়াদি প্রকৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। আমরা এখানে টেকসই পরিবর্তনের বাস্তবসম্মত সময়সীমা সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা ভাগ করতে এসেছি।’

সাক্ষাৎকালে তার সঙ্গে ছিলেন আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ইউনিটের পরিচালক ফিয়োনুলা গিলসেনান। বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস আয়ারল্যান্ডের উদ্যোগকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের সংস্কার ও পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে সমর্থন দেওয়ার জন্য দেশটির ক্রমাগত অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও দায়বদ্ধ প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ডের সহায়তাকে উচ্চ মূল্য দেই।’

তিনি আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়া রোধে রাষ্ট্রদূত কেলির সহযোগিতাও কামনা করেন।

রাষ্ট্রদূত কেলি বাংলাদেশের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের অংশীদারিত্ব গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, উভয় দেশই শান্তি, ন্যায় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • বাসস