সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশীদ আর নেই

ডেস্ক নিউজ : ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সাবেক পাঁচবারের সংসদ সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ আর নেই।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যা ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
হারুন-অর-রশিদ বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং শেষ সময়ে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

তার ইন্তেকালের বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে বিএনপি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন প্রবীণ নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য, একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী এবং দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। পরবর্তীতে তিনি ওই আসনের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে দলের যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে জেলার দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ, ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

পেশাগত জীবনে তিনি একজন আইনজীবী ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালত অঙ্গনে আইন পেশার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের কাছে একজন অভিভাবকতুল্য নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মরহুম অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদের জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।




দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অভিনেতা জোভান, জানালেন সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা

বিনোদন ডেস্ক : মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ভক্তদের এ দুঃসংবাদ দিলেন তিনি।

পোস্টে জোভান লিখেন, কিছুদিন আগে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে আমি বাইক এক্সিডেন্ট করি। আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, কিন্তু ঘটনাটি আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে।

দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লেখেন, রাস্তায় আমরা অনেক সময় ভাবি, আরেকটু স্পিডে গেলে কী হবে? বা আমি তো ভালোই চালাই। কিন্তু দুর্ঘটনা কখন, কীভাবে, কার সঙ্গে ঘটবে-তা কেউ জানে না। কয়েক সেকেন্ডের অসাবধানতা জীবন বদলে দিতে পারে।

বাইক চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে অভিনেতা বলেন, ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। কারণ আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছে আপনার পরিবার, আপনার প্রিয় মানুষগুলো।

সবশেষ গন্তব্যে একটু দেরিতে পৌঁছানো ভালো, কিন্তু নিরাপদে পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এই অভিনেতা।

অভিনেতার এই পোস্টে তার ভক্ত-অনুরাগীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মন্তব্য করছেন।

উল্লেখ্য, অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সক্রিয় ফারহান আহমেদ জোভান। বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সচেতনতামূলক বার্তা শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন তিনি।




বৈরি আবহাওয়া এড়াতে আইপিএল এগিয়ে আনতে চায় বিসিসিআই

ক্রীড়া ডেস্ক : অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টির কারণে ম্যাচ আয়োজনের জটিলতা কমাতে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) আগেভাগে শুরু করার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সংস্থার সচিব দেবজিত সাইকিয়া জানিয়েছেন, ২০২৭ মৌসুম থেকে টুর্নামেন্টের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

বর্তমানে সাধারণত মার্চের শেষ সপ্তাহে আইপিএল শুরু হয়ে মে মাসের শেষ দিকে শেষ হয়। তবে নতুন পরিকল্পনায় ১০ মার্চ থেকে ১৫ মে’র মধ্যে টুর্নামেন্ট শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে শেষ পর্যায়ের ম্যাচগুলোতে বৃষ্টি বা প্রাক-বর্ষার প্রভাব না পড়ে।

এর আগে ২০২৪ সালে ২০২৭ পর্যন্ত আইপিএলের জন্য উইন্ডো নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে আসরটি ১৪ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবহাওয়ার কারণে ম্যাচ বিঘ্নিত হওয়ায় নতুন করে সময়সূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাইকিয়া বলেন, শুধু বৃষ্টি নয়, তীব্র গরমও খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা সময়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে গেমস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক পেসার আবে কুরুভিলাকে সম্ভাব্য নতুন উইন্ডো খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে আইপিএলের ফরম্যাট ও ম্যাচ সংখ্যা নিয়েও ভবিষ্যতে আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সাইকিয়া। তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক সূচি বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় পরিবর্তন কঠিন বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।




গ্রুপ পর্বে নেইমারকে পাচ্ছে না ব্রাজিল? যা বলছেন চিকিৎসকরা

ক্রীড়া ডেস্ক : ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারকে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা। ডান পায়ের কাফে গ্রেড-২ চোটে পড়া এই ফুটবলার ধীরে ধীরে সেরে উঠলেও ম্যাচে ফেরার জন্য এখনও প্রয়োজন সময়।

দলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার আগেই জানিয়েছিলেন, এমন চোট থেকে সেরে উঠতে সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। সেই সময়সীমা মেনেই এগোচ্ছেন নেইমার। ইতোমধ্যে তিনি হালকা অনুশীলনে ফিরেছেন এবং ধাপে ধাপে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে তিনি ফিটনেসের প্রাথমিক ধাপে আছেন, যেখানে হালকা দৌড়, স্প্রিন্ট ও বলের সঙ্গে সীমিত অনুশীলন করছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, পুরোপুরি ম্যাচ ফিট হতে হলে তাকে আরও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে—যার মধ্যে রয়েছে উচ্চগতির নড়াচড়া, কৌশলগত অনুশীলন এবং দলীয় সেশনে পূর্ণ অংশগ্রহণ।

চিকিৎসকদের হিসাব অনুযায়ী, সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী ৯ দিনের মধ্যে তিনি মাঠে ফেরার ছাড়পত্র পেতে পারেন। তবে সতর্ক হিসেবে এই সময়সীমা ২৪ দিন পর্যন্ত গড়াতে পারে।

এই হিসেবে গ্রুপ পর্বে নেইমারকে পাওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে নকআউট পর্ব বিশেষ করে শেষ ষোলো বা কোয়ার্টার ফাইনালে তাকে দেখা যেতে পারে।

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও তার কোচিং স্টাফ নেইমারের ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নন। তাই পুরোপুরি ফিট না হওয়া পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা নেই।




ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা ঠিক হয়নি: ইসরায়েলি কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা আসলেই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল কি না, তা নিয়ে খোদ ইসরায়েলের ভেতরেই তীব্র বিতর্ক ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দেশটির একজন শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, যুদ্ধের রাজনৈতিক পরিণতি যদি আগে থেকে জানা থাকত, তবে এই অভিযান শুরু করার বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক হতো। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘আই-২৪ নিউজ’-এ দেওয়া ওই কর্মকর্তার এমন বক্তব্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে ক্ষোভ ও সমালোচনা তীব্র হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এটাই ইসরায়েলের জন্য বড় কৌশলগত পরাজয়। দেশটির প্রবীণ সামরিক সাংবাদিক অ্যালন বেন ডেভিড এই চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য একটি ‘নাটকীয় ও সুদূরপ্রসারী’ ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আগামী প্রজন্মের ওপর প্রভাব ফেলবে।

তবে ঘরে-বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নস্যাৎ করা এবং ইসরায়েলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করাই ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের ওই ১২ দিনের অভিযানের মাধ্যমে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে একটি নিশ্চিত পারমাণবিক হুমকি থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে এবং এই অঞ্চলে হুমকি মোকাবিলায় তাঁর সরকার কাজ চালিয়ে যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরও সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ কমেনি। অনেকেই মনে করছেন, এই ব্যয়বহুল ও অনিষ্পন্ন যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত তেহরানকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।




জয় পেয়েও ক্ষুব্ধ ইংল্যান্ড কোচ

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে অভিষেকটা জয় দিয়েই রাঙিয়েছেন টমাস টুখেল। তবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের পরও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন তিনি। ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় নিজের খেলোয়াড়দের দেখতে না পেরে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ড কোচ।

বুধবার টেক্সাসের আরলিংটনে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শুরুর আগে ইংল্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীত ‘গড সেভ দ্য কিং’ বাজানো হচ্ছিল। সেই সময় দুই দলের বেঞ্চের সামনে অবস্থান নেওয়া ফটোগ্রাফারদের কারণে নিজের দলের খেলোয়াড়দের দেখতে পাচ্ছিলেন না টুখেল।

বিষয়টি নিয়ে ম্যাচ শেষে ফিফার কাছে অনুরোধও জানিয়েছেন জার্মান এই কোচ। তার মতে, জাতীয় সঙ্গীতের সময় খেলোয়াড়দের দেখার মুহূর্তটি ছিল বিশেষ, কিন্তু ফটোগ্রাফারদের অবস্থানের কারণে সেই অভিজ্ঞতা নষ্ট হয়েছে।

টুখেল বলেন, ‘আমি ফিফার কাছে অনুরোধ করছি, ফটোগ্রাফারদের অবস্থান পরিবর্তন করা হোক। জাতীয় সঙ্গীতের সময় আমি আমার দলকে দেখতে পারিনি। অথচ আমি এই মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’

জাতীয় সঙ্গীত চলাকালে কয়েকবার ফটোগ্রাফারদের সরে যাওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি। কিন্তু তাতে কোনো পরিবর্তন না আসায় শেষ পর্যন্ত কোচিং স্টাফদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে চোখ রাখতে হয় তাকে।

এ নিয়ে হতাশা লুকাননি ইংলিশ কোচ। তিনি বলেন, ‘আজকের মুহূর্তটি আমার জন্য খুবই বিশেষ ছিল। কিন্তু আমার সামনে মাত্র আধা মিটার দূরে প্রায় ৫০ জন ফটোগ্রাফার দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি একজন খেলোয়াড়কেও দেখতে পাইনি। এটা আমার অভিজ্ঞতাটাকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিয়েছে।’

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এল’-এর প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে আরও দুটি ম্যাচ খেলবে ইংলিশরা। আগামী মঙ্গলবার ঘানার মুখোমুখি হবে তারা। এর চার দিন পর পানামার বিপক্ষে খেলবে হ্যারি কেইনের দল।




রাত ১টার মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ রাতের মধ্যে দেশের ১৪ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান-এর দেওয়া সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ রাত ১টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে সকালের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া গোপালগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনা জেলাসহ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা প্রশমিত হতে পারে এবং সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।




পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে কমিটির বৈঠক শেষ, যা জানা গেল

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল চূড়ান্ত করতে সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির এ বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ ধারাবাহিকতার পরবর্তী বৈঠক আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগায় বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। অর্থ বিভাগের একাধিক সূত্র বলছে, ঘোষণার পর থেকেই বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন।

অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে। এখন প্রজ্ঞাপন জারি, বিধি সংশোধনসহ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত বেতন অক্টোবরের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে জমা হতে পারে।

বিশেষ সুবিধা বাতিল হচ্ছে

বর্তমানে মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা (ইনসেনটিভ) দেওয়া হচ্ছে। নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এ সুবিধা পৃথকভাবে আর বহাল থাকবে না। বরং তা নতুন মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন ব্যবস্থায় মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও বিশেষ সুবিধা বাদ দেওয়ার ফলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি হবে তুলনামূলক কম। হিসাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের কার্যকর বেতন বৃদ্ধি হবে প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তা হবে প্রায় ৪০ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন অস্থায়ী সুবিধা ও ভাতার পরিবর্তে মূল বেতন বৃদ্ধি করলে পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য অবসর-পরবর্তী সুবিধার পরিমাণও বাড়বে।

বাজেটে বড় বরাদ্দ

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায়।

এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৪ হাজার ৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ভাতার জন্য ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এদিকে জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত এই অর্থের বড় একটি অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।




নেইমার ‌‘নিরাশা’

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বকাপের মঞ্চে সেলেসাও শিবিরে নেইমারের বহুল প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন ঘিরে যখন ভক্তদের মাঝে উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই অনুশীলনে তার পারফরম্যান্স নতুন করে  ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। কাফ ইনজুরি কাটিয়ে সম্প্রতি ব্রাজিলের মূল অনুশীলন সেশনে আকস্মিকভাবে যোগ দেন সান্তোসের এই তারকা ফরোয়ার্ড। মাঠে তার ফেরা সংবাদমাধ্যমের বাড়তি নজর কাড়লেও অনুশীলনে তার নড়াচড়া এবং শারীরিক ভাষা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। মাঠে উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই আশা করেছিলেন প্রিয় তারকাকে চেনা ছন্দে দেখতে পাবেন, কিন্তু মাঠের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

অনুশীলনে নেইমারকে বেশ ধীরগতির এবং ভারী শরীরের মনে হয়েছে, যেখানে তার চিরচেনা ক্ষিপ্রতা ও ড্রিবলিংয়ের ধার ছিল অনুপস্থিত। দলের বাকি সতীর্থরা যখন গতি আর আগ্রাসী ফুটবল দিয়ে মাঠ মাতাচ্ছিলেন, তখন এই নাম্বার টেনকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ও ছন্দহীন দেখিয়েছে। মাঠের এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ স্তরের আসরে লড়াই করার জন্য তিনি কতটুকু প্রস্তুত।

ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিটি এবার ভিনিসিয়াসের বদলে নেইমারের পিঠেই উঠছে এবং দলে তার জায়গাও নিশ্চিত। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, বর্তমান ফর্মের চেয়ে তার অতীত তারকাখ্যাতিকেই এখানে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সমর্থকদের একটি বড় অংশ যেখানে জোয়াও পেদ্রোর মতো ফর্মে থাকা খেলোয়াড়কে দলে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন, সেখানে নেইমারের এমন ছন্নছাড়া রূপ তাদের হতাশ করেছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগে দলের মূল কাণ্ডারির এই অফ-ফর্ম ব্রাজিল ফুটবল দলের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: মার্কা




জনগণের ভালোবাসা বড় শক্তি, নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন দূরত্ব তৈরি না করে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, উন্নত বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য ‘এসএসএফ’ প্রতি আহ্বান জানাই।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয় সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রতিষ্ঠাকালীন এসএসএফ আর বর্তমান সময়ের এসএসএফ এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমানে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ৪০ বছর আগে সময়ের প্রয়োজনে এই বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নাম পরিবর্তন করে ‘এসএসএফ’ নামে এই বিশেষ বাহিনী যাত্রা শুরু করে।’

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজ পর্যন্ত এই বিশেষ নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন ও আছেন সবাইকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাই।

এসএসএফ এর অসাধারণ ভূমিকার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকার প্রধান থাকাকালে এবং সর্বশেষ জীবনের শেষদিনগুলোতে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার প্রধান হিসেবে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে এসএসএফে’র কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। এসএসএফে’র কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এসএসএফ’র কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।’

তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিএনপি জনগণের রায় পায়। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, সরকার প্রধানের জন্য এসএসএফ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে সড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের উপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। আপনারা সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।’

তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়ই জনসভা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিছুটা জটিল।’

এ ধরনের পরিস্থিতিতে একদিকে সরকার প্রধানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখা এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফ-কে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়। এ ধরণের পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এসএসএফে’র কর্মদক্ষতাও প্রতিভাত হয়ে ওঠে।

এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ এর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন ও পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।’

রেড বুকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালের পর এসএসএফ’এর ‘রেড বুক’ পুনরায় সংস্কার করে বর্তমানে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে। এটি এসএসএফে’র কর্মপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘এসএসএফ’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং সর্বোপরি ‘চেইন অফ কমান্ড’ এর বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।’

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসএসএফ-কে নিরাপত্তা কৌশল নিশ্চিত করতে হয়। সমন্বয় যত বেশি করা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ততবেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের বাছাই করেই এসএসএফ গঠন করা হয়। এরপর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার উপর আপনাদের দেশে বিদেশে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়।’

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফ-কে আরও কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে, দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আপনারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন, এই প্রত্যাশা করছি।’

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, এসএসএফ প্রধান এবং বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।