যে জেলায় কোনো প্রার্থীই দেয়নি বিএনপি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি।

সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্যে একটি জেলা রয়েছে, যেখানে কাউকেই মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি।

দলটির প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, বাগেরহাটে তিনটি আসন থাকলেও কোনোটিতে প্রার্থী দেওয়া হয়নি। তালিকায় জেলার তিনটি আসনের প্রার্থীর নামের ঘরটি খালি রয়েছে।

জানা গেছে, খালি রাখা ৬৩ আসনের মধ্যে ৪০টি জোটসঙ্গীদের দেওয়ার কথা ভাবছে বিএনপি। বাকি ২৩ আসনে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কেন্দ্রীয় কমিটি। সেগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।




বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে মিশরীয় রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমি। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও মিশরের পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমসাময়িক বিষয়সহ দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপার্সনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও দলের যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারপার্সনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষ সহযোগী উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ।

সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার ও গণতান্ত্রিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।




রেকর্ড শাটডাউনে কর্মী সংকট, যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চলাচলে বিপর্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সরকারি তহবিল বন্ধ থাকায় প্রশাসনের আংশিক বা সম্পূর্ণ কার্যক্রম স্থগিত বা ‘শাটডাউনে’র কারণে দেশটি এমন অবস্থার মুখে পড়েছে।

ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানায়, বিমান নিয়ন্ত্রণকারীদের অনুপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের সংখ্যা বেড়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলমান শাটডাউনের কারণে বিমান নিয়ন্ত্রণকারীরা অত্যন্ত চাপে রয়েছেন। তাদের অনেকেই বেতন ছাড়াই কাজ করছেন, কারণ প্রায় ১৩,০০০ নিয়ন্ত্রণকারীকে ‘প্রয়োজনীয় কর্মী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যার অর্থ, ওই কর্মীদের শাটডাউন চলাকালেও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

রিয়েল-টাইম ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইট অ্যাওয়ার’ জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত তিন দিনে যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ হাজার ৭০০টিরও বেশি ফ্লাইট চলাচলে দেরির সম্মুখীন হয়েছে। এসময় ২ হাজার ২৮২টি ফ্লাইট সম্পূর্ণ বাতিল হয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্তও পরিস্থিতি উন্নত হয়নি। শিকাগো ওহেয়ার, ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, ডেনভার ও নিউইয়র্কের মতো প্রধান বিমানবন্দরে চার হাজারের বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত ও ৬০০টি বাতিল হয়েছে।

এফএএ বলছে, বর্তমানে অধিকাংশ বিমানবন্দরে কর্মীসংকট দেখা দিয়েছে। নিউইয়র্ক এলাকার বিমানবন্দরগুলোতে অনুপস্থিতির হার ৮০ শতাংশ।

এ অবস্থায় কর্মীর ঘাটতি দেখা দিলে, তখন নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিমান চলাচলের প্রবাহ কমিয়ে দেওয়া হয়। এতে সামগ্রিক ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের সংখ্যা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে, শাটডাউন অব্যাহত থাকলে বিমান চলাচল আরও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। শাটডাউন শেষ না হলে যাত্রীদের বিঘ্ন ও বিলম্ব থেকে রেহাই পাওয়া কঠিন।

ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সামাজিকমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, বিমান খাতে কর্মরতদের প্রাপ্য বেতন বুঝিয়ে দিতে এবং যাত্রীদের সমস্যা নিরসনে শাটডাউন অবশ্যই শেষ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ব্যয় সংক্রান্ত বিল পাস না হওয়ায় গত ১০ অক্টোবর থেকে শাটডাউন চলছে। যার ফলে সরকারের অনেক কার্যক্রম বন্ধ ও জরুরি সেবা বিঘ্নিত হয়ে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।




যে কারণে ৭৫ শতাংশ ভারতীয় শিক্ষার্থীর ভিসা আবেদন বাতিল কানাডার

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন বাতিল করে দিচ্ছে কানাডা। জানা গেছে, পড়াশোনার জন্য আবেদনকারী প্রায় ৭৫ শতাংশ ভারতীয় শিক্ষার্থীর আবেদনই প্রত্যাখ্যান করেছে কানাডা প্রশাসন।

গেল আগস্টের তথ্য তুলে ধরে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, একসময় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য শীর্ষ গন্তব্যস্থল কানাডা হলেও এখন আবেদন সংখ্যা অনেক কম। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর দেশটির বিধিনিষেধ আর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করার কারণে আবেদনে আগ্রহ হারাচ্ছে ভিসাপ্রত্যাশীরা।

এর আগে অস্থায়ী অভিবাসন রোধ এবং শিক্ষার্থী ভিসা জালিয়াতি মোকাবেলার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে কানাডা ২০২৫ সালের প্রথম দিকে টানা দ্বিতীয় বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ছাত্র পারমিটের সংখ্যা কমায়।

সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্টে ভিসা আবেদন বাতিলের হার যেখানে ৩২ শতাংশ ছিল সেখানে চলতি বছরের আগস্টে প্রায় ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ভারতীয় আবেদনকারীর পারমিট প্রত্যাখ্যান করেছে কানাডা সরকার।

তথ্যানুযায়ী, স্টাডি পারমিটের জন্য আবেদনকারী ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৯০০, এ থেকে কমে ২০২৫ সালের আগস্টে ৪ হাজার ৫১৫-তে দাঁড়িয়েছে।

বিগত কয়েক বছর ধরে কানাডার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের শীর্ষ উৎস ছিল ভারত। অটোয়ার ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আবেদনের ক্রমবর্ধমান প্রত্যাখ্যানের হার সম্পর্কে তারা সচেতন থাকলেও, পারমিট প্রদান সম্পূর্ণরূপে কানাডার কর্তৃত্বের মধ্যে রয়েছে।

বিবৃতিতে দূতাবাস আরও জানায়, “আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই যে বিশ্বের সেরা মানের কিছু শিক্ষার্থী ভারত থেকে এসেছে এবং কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো অতীতে এই শিক্ষার্থীদের প্রতিভা এবং একাডেমিক উৎকর্ষতা থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে।”

এর আগে কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের সময় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কূটনৈতিক উত্তেজনা চলে দু’দেশের মধ্যে। ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে এরও প্রভাব পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালে প্রায় ১৫৫০টি স্টাডি পারমিটের আবেদনে জাল স্বীকৃতিপত্র পায় কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নতুন আপগ্রেড করা যাচাইকরণ ব্যবস্থা গত বছর প্রাপ্ত আবেদনগুলো থেকে ১৪ হাজারের বেশি জাল স্বীকৃতিপত্র চিহ্নিত করেছে।

বিভাগের একজন মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন, দেশটি এখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর করেছে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া এবং আবেদনকারীদের জন্য বৃদ্ধি করেছে আর্থিক প্রয়োজনীয়তা। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস




মেক্সিকোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ১৩

মেক্সিকোর রাজ্য সিনালোয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা সবাই হামলাকারী গ্রুপের সদস্য। সশস্ত্র ওই গ্রুপটি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী ওমার গারসিয়া হারফুচ জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরে (স্থানীয় সময়) এ ঘটনাটি ঘটেছে।

হারফুচ জানিয়েছেন, নয়জনকে অপহরণ করা হয়েছিল, অভিযানের মাধ্যমে তাদের মুক্ত করা হয়েছে। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়।

সিনালোয়া রাজ্যটি মাদক চোরাকারবারিদের কুখ্যাত চক্র সিনালোয়া কার্টেলের প্রভাবাধীন। কর্তৃপক্ষ অঞ্চলটিকে তাদের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করার জন্য অভিযান চালাচ্ছে। আর এসব অভিযান ঘিরে প্রায়ই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

রাজ্যটিতে সিনালোয়া কার্টেলের উপদলগুলোর মধ্যে আগে থেকেই আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে সংঘাত চলছে। এর মধ্যে সরকারি বাহিনীর অভিযানের কারণে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। এই রাজ্যটিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো সরকার।

প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ক্যারিবীয় সাগরে ও প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী আক্রমণ পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে এই দুই জলসীমায় মার্কিন বাহিনীর আক্রমণে অন্তত ১৫টি কথিত মাদকবাহী নৌযান ধ্বংস এবং ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: গালফ নিউজ, এফপি




ট্রাম্প-সৌদি যুবরাজ বৈঠক ১৮ নভেম্বর

আগামী ১৮ নভেম্বর হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
সোমবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

এমন এক প্রেক্ষাপটে এই সফরে যাচ্ছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, যখন সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প।

২০২০ সালে ট্রাম্প সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান এবং মরক্কোর সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। এই চুক্তির মাধ্যমে ওই দেশগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। সৌদি আরব অবশ্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পদক্ষেপ না হওয়ায় এখনও এই চুক্তিতে যোগ দিতে দ্বিধা প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত অ্যাকর্ডসে যোগ দেবে। ট্রাম্প এবং মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কেও আলোচনা করতে পারেন।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস দুই সপ্তাহ আগে জানিয়েছে, আশা করা হচ্ছে মোহাম্মদ বিন সালমানের সফরের সময় দুই দেশ এমন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ক্রাউন প্রিন্স আসার সময় কিছু স্বাক্ষরের আলোচনা চলছে। কিন্তু বিস্তারিত এখনও পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে। সৌদি আরব চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজের রক্ষা করার আনুষ্ঠানিক গ্যারান্টি এবং অধিক উন্নত অস্ত্রব্যবস্থার সুযোগ পাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের অন্যতম বড় গ্রাহক হলো সৌদি আরব। দুই দেশ দীর্ঘ দশক ধরে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সেখানে সৌদি আরব তেল সরবরাহ করে এবং ওয়াশিংটন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। মে মাসে ট্রাম্পের রিয়াদ সফরের সময়, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে প্রায় ১৪২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রপ্যাকেজ বিক্রি করার বিষয়ে সম্মত হয়। সূত্র: রয়টার্স




জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট, অধ্যাদেশ জারি

নিবন্ধিত দল জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে—এমন বিধান রেখেই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেছে সরকার।

সোমবার আইন মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশের গেজেট জারি করেছে।

এর আগে ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন করে। এরপর জোট মনোনীত প্রার্থীকে নিজ দলের প্রতীকে ভোট করা নিয়ে বিএনপি আপত্তি তুললেও জামায়াত ও এনসিপি ২০ ধারার এ সংশোধন বহাল রাখার দাবি জানায়।

এ নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই সেই বিধান রেখেই অধ্যাদেশ জারি করা হল। ফলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে একাধিক নিবন্ধিত দল জোট করলেও জোট মনোনীত প্রার্থী বড় দলের বা অন্য দলের প্রতীকে ভোট করতে পারবে না, নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একগুচ্ছ সংশোধন আনা হয়েছে আরপিওতে।

আরপিও সংশোধন হওয়ায় এর আলোকে দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা শিগগির জারি করবে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থা ইসি।




২ দিনের সরকারি সফরে পাবনা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

দুই দিনের সরকারি সফরে আগামী শনিবার (৮ নভেম্বর) পাবনা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (৩ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা যায়।

সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে পাবনায় পৌঁছবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর পাবনা সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন তিনি।

আরিফপুর কবরস্থানে পিতা-মাতার কবর জিয়ারত ও পরে রাষ্ট্রপতির নিজ বাসভবনে অবস্থান, নিকট আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎসহ সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন করবেন রাষ্ট্রপতি।

সফরের শেষ দিন আগামী রবিবার (৯ নভেম্বর) সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, পাশাপাশি পাবনা জেলা প্রশাসককে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করার কথাও উল্লেখ করা হয়।




আবু সাঈদ হত্যা : সাক্ষী না আসায় সাক্ষ্যগ্রহণ আবারও পেছাল

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ আবারও পিছিয়েছে। সাক্ষী না আসায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে আগামী ১০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার পর এ দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। পরে আবেদন মঞ্জুর করে নতুন দিন ধার্য করেন আদালত। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান।,এ প্রসঙ্গে কনস্টেবল সুজনের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সাক্ষী না আসার অর্থ হলো মামলায় ‘রিলাক্টেন্স অব দ্য প্রসিকিউশন’ বা যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তাদের যথাসময় উপস্থিত করার দায়িত্ব। কিন্তু এটা প্রসিকিউশনের ব্যর্থতা বলে আমি মনে করি।

গত ১৩ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের কথা ছিল। তবে সাক্ষী হাজির করতে পারেনি প্রসিকিউশন।  গত ৬ অক্টোবর নবম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। ওইদিন জবানবন্দি দেন পুলিশের দুই উপপরিদর্শক। তারা হলেন- এসআই রফিক ও এসআই রায়হানুল রাজ দুলাল। দুইজনই জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে তাদের জেরা করেন পলাতক ২৪ আসামির পক্ষে চার স্টেট ডিফেন্সসহ গ্রেফতারদের আইনজীবীরা। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিম ও আবদুস সোবহান তরফদার। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর অষ্টম দিনের মতো সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়। ওইদিন জবানবন্দি দিয়েছেন তিনজন। ২২ সেপ্টেম্বর সপ্তম দিনে প্রথমে ছয় নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া সিয়াম আহসান আয়ানকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। ২১ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য দেন আয়ান। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনিই আবু সাঈদকে হাসপাতালে নিতে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসেন। নিজের সাক্ষ্যেও পুরো বর্ণনা তুলে ধরেছেন এই সাক্ষী।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর পঞ্চম দিনের মতো জেরা শেষ হয়। ওইদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরিয়ান আনিসুর রহমানকে জেরা করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দিনে পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন তিনি। একইদিন এসআই মো. তরিকুল ইসলামও জবানবন্দি দেন। ৮ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজিবুল ইসলামের জেরা শেষ করেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। ৭ সেপ্টেম্বর তিনি জবানবন্দি দেন। ওইদিন দ্বিতীয় সাক্ষী রংপুরে কর্মরত এনটিভির সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট একেএম মঈনুল হককেও জেরা করা হয়।

গত ২৮ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। একইদিন সাংবাদিক মঈনুল হকও সাক্ষ্য দেন। এ মামলার গ্রেফতার ছয় আসামি হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।

গত ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে এ মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসিসহ ২৪ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

গত ৩০ জুলাই পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত চার আইনজীবী। এর মধ্যে পাঁচজনের হয়ে লড়েন আইনজীবী সুজাত মিয়া। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মামুনুর রশীদ। এ ছাড়া শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলাম। ২৯ জুলাই তিন আসামির পক্ষে শুনানি হয়। এর মধ্যে শরিফুলের হয়ে লড়েন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। কনস্টেবল সুজনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও ইমরানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সালাহউদ্দিন রিগ্যান।

২৮ জুলাই এ মামলার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। আর ২৪ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। এ মামলায় মোট সাক্ষী ৬২ জন।




ঢাকায় মিলছে বিষধর গোখরার দেখা, কিন্তু কেন?

গত চার মাসে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জনবহুল এলাকা থেকে তিনশো’র বেশি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। মানুষের বাসার ভেতরে, গ্যারেজে এমনকি বহুতল ভবনের নয়তলায়ও সাপ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে পদ্মগোখরা, রাসেল ভাইপার, খৈয়া গোখরা, রাজ কেউটের মতো বিষধর সাপও রয়েছে।

বাংলাদেশে বর্ষাকালে সাধারণত সাপ বেশি দেখা যায়। কারণ সাপ আবাসস্থল হিসেবে যেসব গর্ত তৈরি করে তাতে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়লে সে আশ্রয়ের জন্য শুকনো স্থানের সন্ধানে উঁচু স্থান ও মানুষের বসতি বা ঘরে ঢুকে পড়ে।

কিন্তু ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় এ ধরণের বিষধর সাপ পাওয়ায় গবেষকদের কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, আবার কোনো কোনো গবেষক বিষয়টি স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনোম রিসার্চ সেন্টারের রিসার্চ এসোসিয়েট মো. মিজানুর রহমান বলেন, জলাশয় ও খালবিল ভরাট করে মানুষ বাসস্থান তৈরি করায় সাপের বাসস্থান সংকট তৈরি হয়েছে। তাই সাপ মানুষের বাসায় ঢুকে পড়ছে।

ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে এসব সাপগুলো উদ্ধার করছে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি সংস্থা।

এই সংস্থার আহ্বায়ক আদনান আজাদ জানিয়েছেন, গত চার মাসে ৩৫১টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে মাত্র তিনটি নির্বিষ সাপ এবং বাকিগুলো বিষধর সাপ।

ঢাকার বনশ্রী, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, বসিলা, উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর, খিলগাঁও, কচুক্ষেত, মিরপুর-২, নিকেতন, উত্তরার উত্তরখান, দক্ষিণখান থেকে এখন পর্যন্ত বিষধর সাপগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাপ পাওয়া গেছে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউকের ফ্ল্যাট প্রকল্প এলাকায়।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বনশ্রী এলাকা। এর মধ্যে নতুন করে খিলগাঁও-এ গত এক সপ্তাহ ধরে সাপ বেশি দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলেন, “উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউকের যে ফ্ল্যাট ওখানে সবচেয়ে বেশি সাপ পেয়েছি। সাততলা, নয়তলা থেকে সাপ উদ্ধার করেছি। এখানকার ১১টা বিল্ডিং থেকে সাপ উদ্ধার করেছি।”

এতো উঁচু ভবনে কিভাবে সাপ গেলো এমন প্রশ্নের জবাবে আজাদ বলেন, যেসব ভবনের উপরের ফ্ল্যাটে সাপ পাওয়া গেছে সেগুলোর প্রতিটি ভবনের গেইটের সাথে বাগান বিলাসের মতো লতানো গাছ রয়েছে, সেই গাছগুলো বেয়ে উপরে ওঠার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। সেখান থেকেই হয়তো সাপ বেয়ে উঁচু ভবনে উঠেছে।

যেসব বিষধর সাপ পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে পদ্মগোখরা সাপই সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে বলে জানান আজাদ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহসান জানান, “পদ্মগোখরা সাপ মূলত পানিপ্রেমী। নদী, জলাশয়, খাল-বিলে থাকতে পছন্দ করে। তবে, পানির নিকটস্থ ঝোপঝাড় ও গর্তেও এই সাপের দেখা মেলে। ”

গত চার মাসে ঢাকায় পাওয়া সাড়ে তিনশ সাপের সংখ্যা নিয়ে স্থানীয় অনেকের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও সাপের কামড়ের ঘটনা তেমন দেখা যায়নি। তবে কেন হঠাৎ করে এতো বিপুল সংখ্যক বিষধর সাপের দেখা মিলছে এমন প্রশ্নে চট্টগ্রামের মেডিকেল কলেজের ভেনোম রিসার্চ সেন্টারের রিসার্চ এসোসিয়েট মো. মিজানুর রহমান জানান, মানুষ সাপের আবাসস্থল ধ্বংস করায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ঢাকায় উদ্ধারকৃত সাপগুলো কোথায় রয়েছে এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আজাদ জানান, উদ্ধারকৃত সাপগুলো উদ্ধারের পর লোকালয় থেকে দূরে প্রাকৃতিক কোনো স্থানে অবমুক্ত করা হয়।

সাধারণত বনাঞ্চল যেখানে সাপ তার নিজস্ব পরিবেশ খুঁজে পায় এবং মানুষের সংস্পর্শে না আসে এমন স্থানে এসব সাপ ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।