উত্তরার বিডিআর মার্কেটের পার্কিং স্থান নিয়ে বিরোধ: পুরো মার্কেটকে ঘিরে আদালতে তিন মামলা, উত্তেজনা বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর উত্তরার বিডিআর মার্কেটের নির্ধারিত গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অতীতে একটি প্রভাবশালী মহল পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গা দখল করে সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। সম্প্রতি আদালতে বিচারাধীন ওই বিতর্কিত স্থানে পুনরায় ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা এর প্রতিবাদ জানান এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুধু পার্কিংয়ের জায়গা নয়, পুরো মার্কেটকে ঘিরে বর্তমানে আদালতে তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাগুলোর প্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিষয়ে স্ট্যাটাস-কো (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশনা প্রদান এবং রুল জারি করেছেন বলে জানা গেছে। আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় স্থাপনা নির্মাণ করা হলে বাজারের যানবাহন পার্কিং ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এতে ক্রেতাদের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় আইনি অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়াই জায়গাটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।

কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, “পার্কিংয়ের জায়গাটি শুধু একটি খালি স্থান নয়; এটি পুরো মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একতরফা পদক্ষেপ গ্রহণ আইন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আমরা চাই আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিষয়টির স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান হোক।”

একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। তারা বলেন, “আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আমরা চাই বাজারে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় থাকুক, যাতে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।”

সাধারণ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, “যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং আদালত স্ট্যাটাস-কো বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, তাই সকল পক্ষের উচিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ, দখলচেষ্টা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।”

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো পক্ষ একতরফাভাবে নির্মাণকাজ চালিয়ে গেলে ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এজন্য তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় এ ধরনের বিরোধ ব্যবসায়িক পরিবেশ, বিনিয়োগবান্ধব পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা প্রশাসন, বাজার কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত স্থানে কোনো ধরনের পরিবর্তন না আনা উচিত। এতে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে।”

ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, আদালতের রায় ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সকল পক্ষ শ্রদ্ধাশীল থেকে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহযোগিতা করবে এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।




বরাদ্দ ফ্ল্যাটের জন্য সংসদে ওয়াশিং মেশিন-ওভেন চাইলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য

ডেস্ক নিউজ : সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া আবাসিক ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রো ওভেন ও জানালার পর্দা সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাজেটের ওপর কথা বলছি। সম্পূরক বাজেটও এই মহান জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। মাননীয় স্পিকার, মাননীয় সংসদ সদস্যরা অনেক টাকার সম্পূরক বাজেটও পাস করেছে। কিন্তু এ সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোতে, থাকার জন্য যেটা দেওয়া হয়েছে, তার জানালা–দরজার পর্দাটি এখনো পর্যন্ত ঝোলানো হয়নি।’

স্পিকারের উদ্দেশে মিজানুর রহমান বলেন, ‘সুতরাং জোর দাবি জানাচ্ছি, আমরা শুনেছিলাম যে আমাদের এই ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রো ওভেনও দেওয়া হবে। এই পর্দা, মাইক্রো ওভেন এবং ওয়াশিং মেশিনগুলো আপনার মাধ্যমে পাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’




সংসদে ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : ‘আই হ্যাভ অ্য প্লান’ নিয়ে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বলেছেন, ‘বর্তমান কৃষি-বান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হল— একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তি নির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্য চালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।’

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ‘আই হ্যাভ অ্য প্লান’ শীর্ষক এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তার উত্তর সংসদের টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তবে রাষ্ট্রীয় কাজে ঢাকার বাইরে থাকায় প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন না।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের কৃষি নির্ভর এই বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও মেহনতি কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের জনগণ কর্তৃক সাদরে গৃহীত আপনার বহুল জনপ্রিয় স্লোগান ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ কর্মসূচির আওতায় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং উক্ত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধনে আমরা আশান্বিত হতে পারি কিনা?

এই প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান লিখিতভাবে বলেন, ‘বর্তমান কৃষি-বান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হল একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তি নির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্য চালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।’

কৃষিক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে বলেন, ‘কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিতকরণে ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্প মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানের লক্ষ্যে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে। অদ্যাবধি ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১৫৬৭.৯৬ (এক হাজার পাঁচশত সাতষট্টি কোটি ছিয়ানব্বই লাখ) কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে এবং এর ফলে সারাদেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন/পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে। ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি এবং এমওপি সার অত্যন্ত সুলভ মূল্যে সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, বিএডিসির মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

উচ্চ ফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি স্মার্ট কৃষি ও প্রিসিশন এগ্রিকালচার-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও গম সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপন করা হচ্ছে।

কৃষিখাতে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অফ থিংস  এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল প্রশ্ন রেখে বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে আাদেশ পৃথিবীর অন্যতম একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের মধ্যে অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর আবার লক্ষ্যে সরকার কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কিনা?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি, বিস্তৃত নদ-নদী ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় বৈশিষ্ট্যের বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপ ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, অবকাঠামো, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা পানি সম্পদ খাতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তারমধ্যে- পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন; তিস্তা মহাপরিকল্পনা; নদীভাঙন রোধ; বন্যায় সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ; এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ততা হ্রাসকরণ অন্যতম।

গত ১৩ মে ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প ১ম পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি সংরক্ষণপূর্বক পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করে পদ্মানির্ভর এলাকায় নদী সিস্টেমকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এছাড়া, দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ হ্রাস, সুন্দরবন ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা হ্রাস, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে এবং দেশের জিডিপিতে শতকরা শূন্য দশমিক ৪৫ ভাগ অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। অধিকন্তু, ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার বৃদ্ধি, সেচ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিসহ পরিবেশ প্রতিবেশ উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান।

সরকার কর্তৃক বিভিন্ন উদ্যোগ

তারেক রহমান জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও জাতীয় পর্যায়সহ সারাদেশে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট কর্তৃক জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন- প্রায় উপকূলীয় জেলাগুলোতে গ্রামীণ প্রাকৃতিক জলাধার গড়ে তোলা হবে যাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পানীয় জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।




ভিয়েতনামে মাংসের জন্য চুরি করা ৪০০-এর বেশি বিড়াল উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভিয়েতনামে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে চুরি করা ৪০০-এরও বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই সাথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিড়াল চুরির সাথে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দেশটির একটি প্রাণীকল্যাণ সংস্থা এই তথ্য জানায়।

হো চি মিন সিটি পুলিশের তথ্য অনুসারে, গত সপ্তাহে তায় নিনহ প্রদেশ ও হো চি মিন সিটির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৪০০-এর বেশি জীবিত বিড়াল এবং প্রায় ৮০টি হিমায়িত বিড়ালের দেহ উদ্ধার করে। এ ছাড়া আরও ২১টি বিড়াল আলাদা একটি জায়গা থেকে জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিড়াল চুরি ও সংগ্রহে দক্ষ এই চক্রের ৯ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা তিন বছর ধরে দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিড়াল ধরে এনে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আসছিল। প্রতি দুই-তিন দিন অন্তর তারা চুরির মালামাল সংরক্ষণ কেন্দ্রে রেখে বিক্রি করত।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, হো চি মিন সিটিতে একের পর এক পোষা প্রাণী চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে ১১ জুন পুলিশ এই চক্রের সন্ধান পায়। বর্তমানে তদন্ত চলছে। যাদের বিড়াল চুরি হয়েছে, তাদের উদ্ধার করা প্রাণী শনাক্ত করতে সরাসরি আসার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

প্রাণীকল্যাণ সংস্থা হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে প্রায় ৪০টিকে ইতিমধ্যে তাদের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে চুরি ও বন্দিদশার কারণে কয়েকটি বিড়াল পরে মারা গেছে। যেগুলো এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে, সেগুলোকে নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যা দেওয়া হচ্ছে।

ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া আইনত বৈধ। তবে বিক্রেতাদের অনুমতিপত্র নিতে হয় এবং প্রাণীগুলো কোথা থেকে আসছে তা উল্লেখ করতে হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুসারে, দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ কুকুর এবং ১০ লাখ বিড়াল মাংসের জন্য ধরা, চুরি ও পাচার হয়।

চুরির সময় কুকুর ধরতে বিষ মেশানো ফাঁদ, টেজার কিংবা লোহার চিমটি ব্যবহার করা হয়। আর বিড়ালের ক্ষেত্রে স্প্রিংযুক্ত ফাঁদের আশ্রয় নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও পোষা প্রাণীর মালিকদের মধ্যে এই প্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ছে। ২০২৩ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষ কুকুর-বিড়ালের মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

পুলিশের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে প্রাণীকল্যাণ সংস্থাগুলো।

সূত্র: বিবিসি




সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলেন ৫ অপহৃত জেলে

ডেস্ক নিউজ : সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে অপহরণের তিন দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন পাঁচ জেলে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে বনদস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত এক জেলেকে বুধবার সকালে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মুক্তিপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের হানিফ, জাকির, শাহিন ও আকুব্বর এবং রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৩০)।

অপহৃত জেলেদের মহাজন রামপাল উপজেলার মোস্তাফিজুর রহমান বুধবার দুপুরে জানান, গত ১৩ জুন রাতে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচর এলাকার লইট্রাখালী খালে মাছ ধরার সময় বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা জেলে বহরে হামলা চালায়। এ সময় পাঁচটি ট্রলার থেকে পাঁচ জেলেকে অপহরণ করে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি জানান, অপহরণের পর জেলেদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। বিশেষ করে শরিফুল ইসলামকে বেদম মারধর করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকা হিসেবে মোট দুই লাখ টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মুক্তিপণ পরিশোধ করা হলে মঙ্গলবার গভীর রাতে বনদস্যুরা তাদের ছেড়ে দেয়।

মুক্তি পাওয়ার পর গুরুতর আহত শরিফুল ইসলামকে বুধবার সকালে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বন কর্মকর্তা জানান, লইট্রাখালী এলাকায় পাঁচ জেলে অপহরণ এবং মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি তারা বুধবার সকালে জানতে পেরেছেন।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজীব আল রশিদ জানান, বনদস্যুদের মারধরে এক জেলে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। তবে পাঁচ জেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।




আমিই বস, ম্যাক্রোঁ-মেলোনিদের সামনে ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফ্রান্সে জি৭ শীর্ষবৈঠকে বসে নিজেকে বস ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এ সময় জি৭-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রধানরা সকলেই সেখানে ছিলেন।

বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা বিষয়ক একটি অধিবেশনের আয়োজন করা হয় ফ্রান্সে। তাতে যোগ দিতে এসে সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রনেতাদের সামনে ট্রাম্প বলেন, “আমিই বস।”

তবে কিসের প্রেক্ষিতে তার এই মন্তব্য, তা খোলসা করেননি। উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারাও কেউ তার কোনও প্রতিবাদ করেননি। বরং, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে এত দিন যে, ইউরোপের নেতারা ট্রাম্পের সমালোচনা করছিলেন, তারাও এবার সুর নরম করেছেন।

ট্রাম্পের ঘোষণার সময় অধিবেশন কক্ষে ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিরা।

১৫ জুন থেকে ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলন শুরু হয়। তা চলবে ১৭ জুন, বুধবার পর্যন্ত। ইতোমধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠক হয়েছে। জি৭ সদস্যরাষ্ট্রগুলো একটি যৌথ বিবৃতিও দিয়েছে। বুধবারের অধিবেশনের আলোচ্য বিষয় ছিল দুষ্প্রাপ্য খনিজ এবং অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধের বিষয়েও জি৭ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তার পরেই নিজেকে ‘বস‌’ বলে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। তাতে মৃত্যু হয় সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। তারপর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র হয়েছে। ওই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে গিয়েছে ইরান। সেই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালীতে পণ্য পরিবহণেও বাধা সৃষ্টি করে। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার এই আগ্রাসী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিল ইউরোপের একাধিক দেশ।

হরমুজ খোলার বিষয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প তাদের সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু ইউরোপের বেশির ভাগ শক্তিধর দেশই পিছিয়ে গিয়েছিল। ট্রাম্পও প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বারবার। জি৭ বৈঠকে তার বিপরীত চিত্র দেখা গেল। এমনকি, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎজ মঙ্গলবার ট্রাম্পকে একটি ফুটবল জার্সি উপহার দেন। জার্সির নম্বর ছিল ৪৭।

ইউরোপের এই সুর বদলের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের ইরান চুক্তিই। সময় বদলেছে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা সমঝোতার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে রবিবার। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধে আমেরিকার নীতি নিয়েও ইউরোপে ক্ষোভ ছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলাদা করে ট্রাম্পের বৈঠক না-হলেও জি৭ শীর্ষবৈঠকে তিনি ছিলেন। সেখানে অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল রাশিয়া। এই সংঘাতে আগের চেয়ে ইউক্রেনের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে বলে মেনে নিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বৈঠকের পর বলেন, ‘‘আমেরিকা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান বদলেছে। রাশিয়ার প্রতি তাদের অবস্থান কঠোর হয়েছে। আমার মতে, তা যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” সূত্র: রয়টার্স




ইরাকের গোল নায়ক আয়মেনের অবিশ্বাস্য ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক : ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে স্বপ্নের শুরুটা ভালো হয়নি ইরাকের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ১-৪ গোলে হেরেছে তারা। ম্যাচে জোড়া গোল করে আলোচনায় এসেছেন নরওয়ের তারকা আর্লিং হাল্যান্ড। তবে পরাজয়ের মধ্যেও একমাত্র গোল করে নজর কেড়েছেন ইরাকের স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেন।

তবে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, জীবনের কঠিন বাস্তবতার কারণেও আলোচনায় এই ৩০ বছর বয়সী ফুটবলার। শৈশবে ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। ২০০৮ সালে, মাত্র ১২ বছর বয়সে আল-কায়েদার হামলায় নিহত হন তাঁর বাবা, তিনি ছিলেন ইরাকি সেনাবাহিনীর সদস্য। পরিবারের ওপর নেমে আসে গভীর শোক।

এর কিছুদিন পর আরও বড় আঘাত আসে, অপহরণ করা হয় তাঁর ভাইকে, যার আজও কোনো খোঁজ মেলেনি। পরপর এই দুই বিপর্যয়ে ভেঙে পড়েছিলেন আয়মেন। এমনকি একসময় ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তিনি, পরিবারের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন কাঁধে।

তবে তাঁর মা তাকে ভেঙে পড়তে দেননি। ফুটবল চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন, আর সেখান থেকেই বদলে যায় আয়মেনের জীবন। ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলেন পেশাদার ফুটবলে। ২০১৩ সালে অভিষেকের পর ইরাকসহ তিউনিশিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরক্কোর বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর এই গোল শুধু একটি ম্যাচের পরিসংখ্যান নয়, বরং ইতিহাসের অংশ। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে গোল পেল ইরাক, আর সেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন আয়মেন।




অস্ট্রেলিয়ার সামনে দাঁড়াতেই পারেননি বাংলাদেশের মেয়েরা

ক্রীড়া ডেস্ক : যে লড়াইয়ের পূর্বাভাস ছিল একতরফা, মাঠেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ নারী দল।

বুধবার (১৭ জুন) হেডিংলিতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৭৭ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৯.৩ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটাও ছিল হতাশাজনক। দলীয় ১৫ রানের মধ্যেই ফিরে যান দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুরাইয়া ফেরদৌস। দিলারা ৩ বল মোকাবিলা করে রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। আর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ফিফটি করে দলকে জেতানো জুরাইয়া এবার ৯ বলে ৮ রান করে আউট হন। শুরুতেই দুই ওপেনারের বিদায়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

একপর্যায়ে ২৭ রানে ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ নারী দলের। সেখান থেকে দলের রান ৫০ পেরোয় রিতু মনি ও অধিনায়ক নিগারের ব্যাটে। ষষ্ঠ উইকেটে জুটি বেধে ৫২ বলে ৩২ রান করেন তাঁরা। ৪৭ বলে নিগার ২৭ ও রিতু ২৬ বল খেলে ১৬ রান করেন।

বাংলাদেশ নারী দল অবশ্য শেষ পর্যন্ত অলআউট হয়নি। তবে নিগার ও রিতু ছাড়া কেউই ব্যক্তিগত সংগ্রহ দুই অঙ্কে নিতে পারেননি। রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশকে কোনো সুযোগই দেয়নি অস্ট্রেলিয়া নারী দল। ১০ বলে ১০ রান করা বেথ মনি পঞ্চম ওভারে মারুফার বলে রিতুর হাতে ক্যাচ দেন, এটুকুই। ওপেনার জর্জিয়া ভল ৩২ বলে অপরাজিত ৪৫ ও এলিস পেরি ১৫ বলে অপরাজিত ১৯ রান করে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০ জুন পাকিস্তানের বিপক্ষে পরের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ নারী দল।




কাজের চাপে অসুস্থ জেনিফার লোপেজ, ভর্তি হয়েছিল হাসপাতালে

বিনোদন ডেস্ক : তারকাখ্যাতি ও সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কঠোর পরিশ্রম এবং ত্যাগের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী জেনিফার লোপেজ। তিনি জানিয়েছেন, টানা ৯৮ দিন কোনো ছুটি ছাড়াই কাজ করার ফলে অতিরিক্ত চাপ ও মানসিক ক্লান্তিতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাকে।

৫৬ বছর বয়সী জেনিফার লোপেজ জানান, ‘এনাফ’  সিনেমার শুটিং চলাকালে তিনি একসঙ্গে চারটি সিনেমা এবং তার ‘জেএলও’ অ্যালবামের কাজ করছিলেন। দিনের দীর্ঘ সময় শুটিংয়ের পর রাতভর স্টুডিওতে গান রেকর্ড করতেন। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও চলত মিউজিক ভিডিওর শুটিং।

জানা যায়, টানা ৯৮ দিন বিরতিহীনভাবে কাজ করার পর শুটিং চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন জেনিফার। তিনি বুকে অস্বস্তি অনুভব করেন, চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে শরীর অবশ হয়ে যায়। অবস্থার অবনতি ঘটলে সহকারীর সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং মানসিক ক্লান্তির কারণেই তার এই শারীরিক অবস্থা তৈরি হয়েছিল।

পডকাস্টে জেনিফার আরও বলেন, ‘সেলেনা’ চলচ্চিত্রের পর তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ওই সময় থেকেই প্যানিক অ্যাটাকের মতো মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হতে শুরু করেন তিনি। একবার ভক্তদের ভিড়ে ঘিরে ধরার ঘটনায় তিনি তীব্র অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন।

এই অভিজ্ঞতার পর থেকেই ব্যক্তিগত জীবনকে আরও গোপন রাখার চেষ্টা করেন জেনিফার লোপেজ। অতিরিক্ত জনসমাগম ও পাপারাজ্জিদের এড়াতে এখন বেশিরভাগ সময় ঘরেই কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।




বিআইডব্লিউটিএর নৌ-সংরক্ষণ বিভাগে অনিয়মের অভিযোগ: টেন্ডার, কমিশন বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট নিয়ে প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর নৌ-সংরক্ষণ বিভাগে বিভিন্ন প্রকল্প ও ক্রয় কার্যক্রমকে ঘিরে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, কমিশন বাণিজ্য এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সক্রিয়তার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় যেসব অভিযোগ সামনে এসেছিল, সেগুলোর যথাযথ নিষ্পত্তি না হওয়ায় একই ধরনের কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বয়া বাতি, বিকন বাতি, বাঁশের মার্কা, পল্টুন স্থাপন, প্রতিস্থাপন ও স্থানান্তরসহ বিভিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া উদ্ধারকারী নৌযানগুলোর কাগুজে মেরামত, জ্বালানি তেল ক্রয় এবং নৌযানের ট্রায়ালের নামে বিপুল পরিমাণ তেল অপচয় বা আত্মসাতের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌসংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা মো. শাহাজল বদলি হলেও বিভাগের কার্যক্রমে অভিযোগের ধরণে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং পূর্ববর্তী সময়ে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

‘কমিশন ছাড়া কাজ পাওয়া কঠিন’ : বিভিন্ন ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, নৌ-সংরক্ষণ বিভাগের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে কাজ পেতে হলে কমিশন প্রদান কার্যত অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, বর্তমান পরিচালক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শাহজাহানের সময়েও ওই সিন্ডিকেটের প্রভাব বহাল রয়েছে এবং কমিশন ছাড়া কোনো কাজ অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ই-জিপি (e-GP), ওটিএম (OTM) এবং এলটিএম (LTM) পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে সুবিধা পেয়ে থাকে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় প্রকাশিত হয়নি।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ : সেবা গ্রহণকারী ও বিভাগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, পরিচালক ক্যাপ্টেন শাহজাহান নাকি কমিশন ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। এমনকি তার নির্দেশনার বাইরে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি বা প্রশাসনিকভাবে চাপে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। একাধিক সূত্রের দাবি, ভবনের ভেতরে তিনি একজন অত্যন্ত কৌশলী ও প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, সাবেক এক পরিচালকের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিয়মিত সাক্ষাতের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এমনকি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের দাবি, সাবেক ও বর্তমান প্রশাসনের মধ্যে একই এলাকার হওয়ার কারণে একটি বিশেষ সমন্বয় বা প্রভাববলয় কাজ করছে, যার কারণে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

তথ্যপ্রাপ্তিতে বাধা ?
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, পরিচালকের কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশ এবং সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে বিভাগের অনেক অনিয়ম ও অভিযোগ জনসমক্ষে আসতে পারছে না বলে তাদের দাবি। এছাড়া পরিচালকের সম্পদ, আর্থিক লেনদেন এবং জীবনযাত্রার মান নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, একটি স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালিত হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কমিশন আদায়ের ক্ষেত্রে পরিচালকের একজন পিয়ন বা ঘনিষ্ঠ সহায়কের মাধ্যমে যোগাযোগ ও লেনদেন পরিচালিত হয়।

পরিচালকের বক্তব্য :
অভিযোগের বিষয়ে বর্তমান পরিচালক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শাহজাহানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি যা করি, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন।” এর বাইরে তিনি আর কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি :
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, বিআইডব্লিউটিএর নৌ-সংরক্ষণ বিভাগের টেন্ডার প্রক্রিয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন, জ্বালানি ক্রয়, নৌযান পরিচালনা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পথও সুগম হবে বলে তারা মনে করেন।